প্রজেক্টর নিয়ে কিছু কথা
সাঈদুর রহমান*



—কী চাচা, চেহারা এমন বিদঘুটে হয়ে আছে কেন? যেন আলকাতরা লেপটে দেওয়া হয়েছে আপনার চেহারায়! চিন্তা ও বিষণ্নতার ছাপ পরিস্ফুটিত হচ্ছে। আপনার চেহারার চিরচেনা সজীবতা ম্লান হয়ে গেল কেন? হাস্যোজ্জ্বলভাব কোথায় হারিয়ে গেল? বুঝতে পেরেছি, চাচির সাথে ঝগড়া হয়েছে। ঝগড়া তো হবার কথাই; কারণ তারুণ্যের বাসন্তী হাওয়া আপনার থেকে বিদায় নিয়ে পৌষি হাওয়া বইতে শুরু করেছে! এখন আর চাচির আপনাকে ভালো লাগে না। কথা বলছেন না কেন, অসুখ-বিসুখ হলো নাকি?

—তোমার মশকরা ও সাহিত্যিক ভাষা ঢাকায় গিয়ে বলো, আমাদের মতো মূর্খ মানুষের সাথে বলে লাভ নেই। যত প্যাঁচ হলো হুজুরদের মাঝে। এজন্যই লোকমুখে কিংবদন্তি হয়ে আছে, ‘দু’হুজুর এক লেপের নিচে ঘুমোতে পারে না’।

—কী হয়েছে চাচা, একটু খুলে বলুন তো?

—গতকাল এক হুজুর থেকে শুনলাম, মহিলারা প্রজেক্টরের মাধ্যমে বক্তার চেহারা দেখে ওয়ায-নছীহত শুনতে পারবে; এটা তাদের জন্য বৈধ আছে। আজ আরেক বক্তা থেকে শুনলাম, চেহারা দেখা না-কি যাবে না; দেখা না-কি অবৈধ। আমরা সাধারণ মানুষ কোন পথে চলব? মাঝে মাঝে মনে চাই ভিন্ন গ্ৰহে বসবাস করি!

—এতক্ষণে বুঝতে পারলাম আপনার মনোক্ষুণ্ন হওয়ার কারণ কী। চাচা আপনার হাতে কি সময় আছে? মানে আমি বলতে চাচ্ছি এই বিষয়টি আপনার কাছে সুস্পষ্ট করব।

—তোমার কথা আর কী শুনব, পুঁচকে বাচ্চা তুমি!

—তারপরও একটু চেষ্টা করতাম আপনি বললে।

—ঠিক আছে বলো, আমি এখন একটু ফ্রি আছি। শুনি, কী তোমার জাদুমাখা কথা।

—বিরক্ত হবেন না কিন্তু, একদম বসে বসে শুনবেন।

—আচ্ছা, বলো না!

—পৃথিবীর বুকে যা কিছু আছে সব আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে যা কিছু আবিষ্কৃত হচ্ছে বা হবে, সবকিছুই আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তিনি বলেন, وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ‘আল্লাহ তোমাদের ও তোমরা যা কিছু কর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন’ (আছ-ছাফফাত, ৩৭/৯৬)। আল্লাহ আরও বলেন, وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ‘তোমাদের অজানা আরো অনেক কিছু তিনি সৃষ্টি করবেন’ (আন-নাহল, ১৬/৮)। মানুষের একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো, ‘কৌতূহল প্রবণতা’, অজানা বিষয় জানার সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এই প্রবণতা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে। আধুনিক যুগে একটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে, এর নাম হলো ‘প্রজেক্টর’। কিন্তু সমস্যা হলো এই ‘প্রজেক্টর’ নিয়ে বিদ্বানদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু বিদ্বান বলেছেন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলারা বক্তার চেহারা দেখে ওয়ায-নছীহত শুনতে পারবে। আর কিছু বিদ্বান বলেছেন, পারবে না। চাচা! আপনার কাছে দু’দলের দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করে সঠিক মত জানানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। যারা বলেছেন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলারা বক্তার চেহারা দেখে ওয়ায-নছীহত শুনতে পারবে না, তাদের দলীল— আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ

‘(হে নবী) মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে ও লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নারীদের চক্ষু অবনত রাখতে আদেশ করেছেন। অতএব, নারীরা পর পুরুষের চেহারা দেখতে পারবে না, চাই তা প্রত্যক্ষভাবে হোক বা প্রজেক্টরের মাধ্যমে।

عَنْ نَبْهَانَ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَمَيْمُونَةُ قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ أَقْبَلَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ بَعْدَ مَا أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ احْتَجِبَا مِنْهُ‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ هُوَ أَعْمَى لاَ يُبْصِرُنَا وَلاَ يَعْرِفُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ‏أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  ও মায়মূনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা দু’জন তাঁর নিকটে অবস্থানরত থাকতেই ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট এলেন। এটা পর্দার নির্দেশ অবতীর্ণ হওয়ার পরের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা উভয়ে তার থেকে পর্দা করো’। আমি (উম্মু সালামা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো অন্ধ মানুষ, তিনি তো আমাদের দেখতেও পারছেন না, চিনতেও পারছেন না! রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরাও কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না?[1] এই হাদীছে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় স্ত্রীদ্বয়কে অন্ধ ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, মহিলারা পুরুষদের দেখতে পারবে না। চাচা! জেনে রাখুন একটি কথা, এই হাদীছটি কিন্তু দুর্বল!

—তাই না-কি?

—হ্যাঁ। মুহাদ্দিছদের একটি বড় দল এই হাদীছকে দুর্বল বলেছেন।

—ঠিক আছে, তারপর বলতে থাকো।

—এখন উল্লেখ করব ওই সমস্ত বিদ্বানদের দলীল, যারা বলে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলারা বক্তার চেহারা দেখে ওয়ায-নছীহত শুনতে পারবে।

عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلَهُ بِشَعِيرٍ فَتَسَخَّطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَىْءٍ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهَا ‏ لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ‏ وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ إِنَّ تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ وَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلاَ يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قَالَتْ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ ‏.‏ فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ ‏.

‏ফাতেমা বিনতে ক্বায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  থেকে বর্ণিত,
আবূ আমর ইবনু হাফছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অনুপস্থিত থাকা অবস্থাতেই তাকে চূড়ান্ত তালাক দেন। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তার নিকট সামান্য কিছু যব (খোরাকি) পাঠালেন। এতে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  রাগান্বিত হলেন। প্রতিনিধি লোকটি বলল, আল্লাহর শপথ! আপনার জন্য আমাদের উপর কোনো পাওনা নেই। অতঃপর ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত

হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, ‘তার থেকে তুমি খোরাকি পাওয়ার অধিকারিণী নও। তিনি তাকে উম্মু শারীকের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, তার ঘরে তো আমার ছাহাবীদের আসা-যাওয়ার একটা ভিড় থাকে। তুমি বরং ইবনু উম্মে মাকতূমের ঘরে অবস্থান করো। কারণ সে অন্ধ মানুষ। তোমার পোশাক বদলাতে কোনোরূপ অসুবিধা হবে না। তোমার ইদ্দাতকাল শেষ হলে আমাকে জানাবে’। ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  বলেন, আমার ইদ্দতকাল শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম, মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান ও আবূ জাহম উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘এই যে আবূ জাহম, তার কাঁধ থেকে লাঠি কখনো নিচে নামায় না (অর্থাৎ সে স্ত্রীকে মারধর করে) আর মুআবিয়া! তার তো কোনো সম্পদই নেই। তুমি বরং উসামা ইবনু যায়েদকে বিয়ে করো’। ফাতেমা বলেন, প্রথমে আমি তাঁর এ প্রস্তাবকে অপছন্দ করি। কিন্তু তিনি পুনরায় বললেন, ‘তুমি উসামা ইবনু যায়েদকে বিয়ে করো’। সুতরাং আমি তাকে বিয়ে করলাম। মহান আল্লাহ আমাদের এ দাম্পত্য জীবনের মধ্যে যে বরকত দান করেছেন, তাতে আমি অন্যের ঈর্ষার পাত্র হয়েছি।[2] এ হাদীছের মাঝে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমা বিনতে ক্বায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) -কে অন্ধ ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)–এর গৃহে ইদ্দত পালন করতে বলেছেন। এমনিভাবে তিনি একথাও বলেছেন যে, তুমি কাপড় বদলাতে গেলেও সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এখান থেকে এ বিষয়টি সহজেই অনুমেয় যে, ফাতেমা বিনতে ক্বায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  অন্ধ ছাহাবীকে বিভিন্ন সময় দেখতেন।

 أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَوْمًا عَلَى باب حُجْرَتِي وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ فِي الْمَسْجِدِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ، أَنْظُرُ إِلَى لَعِبِهِمْ‏.‏

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  বলেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার ঘরের দরজায় দেখলাম। তখন হাবশার লোকেরা মসজিদে (বর্শা দ্বারা) খেলা করছিল। আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রাখছিলেন। আমি ওদের খেলা অবলোকন করছিলাম।[3] এই হাদীছ একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ মহিলারা পুরুষদের দেখার ব্যাপারে। এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। আর ওই সময় তিনি ১৬ বছরের পূর্ণ যুবতী ছিলেন। এ হাদীছের উপর ভিত্তি করে মোল্লা আলী কারী হানাফী ও জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মহিলারা কামভাব ব্যতিরেকে পুরুষদের দেখতে পারবে’।[4] হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারীতে বলেন, ‘কামভাব ব্যতিরেকে মহিলারা অপরিচিত পুরুষের দিকে তাকাতে পারবে’।[5] রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মহিলারা মসজিদে ছালাত আদায় করতে যেত। আর এ কথা সহজেই অনুমেয় যে তারা পুরুষদের দেখতে পেত। এমনিভাবে মহিলাদের মুখাবয়ব ঢেকে রাখতে আদেশ করা হয়েছে; কিন্তু পুরুষদের তো আদেশ করা হয়নি। এখান থেকেও বুঝা যাচ্ছে, মহিলারা পুরুষদের চেহারা দেখতে পারবে আর পুরুষরা মহিলাদের চেহারা দেখতে পারবে না। কারণ পুরুষরা তো সাধারণত খোলামেলা চলাফেরা করে। তবে তারা বলেছেন, কোনো মহিলা যদি কামভাব নিয়ে বক্তার আলোচনা শুনে, তাহলে ওই মহিলার জন্য বক্তার চেহারা দেখা বৈধ নয়। এই মহিলার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত আয়াত প্রযোজ্য হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ

‘(হে নবী) মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে ও লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)

—চাচা, এই দুটি মতের মাঝে দ্বিতীয় মতটিই আমি মনে করি গ্ৰহণযোগ্য। অর্থাৎ কামভাব ব্যতিরেকে মহিলারা বক্তার চেহারা দেখে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ওয়ায-নছীহত শুনতে পারবে।

—ভাতিজা, তোমার কথাগুলো খুব ভালো লাগল। সব হুজুর শুধু এক পক্ষের প্রমাণ উপস্থাপন করে। তুমি উভয় পক্ষের প্রমাণ উপস্থাপন করে সুন্দর একটি ফয়সালা দিয়েছো। আল্লাহ তোমার জ্ঞানে সমৃদ্ধি দান করুন, জাতির কল্যাণে তোমাকে কবুল করুন। বর্তমান সমাজে মানুষ দিশেহারা হয়ে পাপ কাজের পেছনে ছুটছে। মূর্খতার বশবর্তী হয়ে হাজারো অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তুমি এই পথভোলা জাতিকে সঠিক দিশা দিবে। তাদের অন্তরে জ্ঞানের ফল্গুধারা বইয়ে দিবে। দৃঢ়তার সাথে বিদআতীদের মুখোশ উন্মোচন করবে। আল্লাহ তোমার সহায় হোন— আমীন!


 

* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, বীরহাটাব-হাটাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

[1]. তিরমিযী, হা/২৭৭৮, হাদীছ দুর্বল।

[2]. আবূ দাঊদ, হা/২২৮৪, হাদীছ ছহীহ।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৫৪।

[4]. মিরকাত, ৬/২৬০।

[5]. ফাতহুল বারী, ৪/৫১, হা/১২৯৯।