বাংলাদেশ সংবাদ



শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের উপর প্রাণনাশক হামলার প্রতিবাদে ‘মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ’


সালাফী মানহাজের বিজ্ঞ ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের উপর সিলেটে বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে আজ ১৭/০২/২০২১ ইং রোজ বুধবার, বেলা ১১.০০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে শান্তিপূর্ণ ‘মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। জাতির কাণ্ডারী উলামায়ে দ্বীনের উপর এহেন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে  শিক্ষক, ছাত্র, আলেম সমাজসহ সকল শ্রেণি ও পেশার সচেতন ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণে মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট  এলাকা প্রতিবাদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে। সভা সঞ্চালনা করেন আল জামি‘আহ  আস সালাফিয়্যাহ-এর সিনিয়র শিক্ষক ইন্তাজ আলি খাঁ। সভায় উপস্থিত জনতার মাঝে বক্তব্য পেশ করেন ভাইস প্রিন্সিপাল মোস্তফা মাদানী, সিনিয়র মুহাদ্দিছ নজরুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর; মাসিক আল-ইতিছামের গবেষণা সহকারী আব্দুল বারী; নিবরাস ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সহ-সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক; উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আল-আমীন; ফারেগ শিক্ষার্থী হাবীবুল্লাহ ও আব্দুল্লাহ রাসেল প্রমূখ।

সভায় বক্তাগণ শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফকে সালাফী মানহাজের সহজ-সরল ও উদার মনের অধিকারী, বিজ্ঞ ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি ১৯৯০ সাল থেকে তৃণমূল পর্যায়ে মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা দিয়ে আসছেন, কোথাও তিনি কাউকে কটাক্ষ করে বা কোনো মাযহাবের বদনাম করে কথা বলেন না। তিনি সদা শান্তির কথা বলেন, তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মুখে ও কলমে কঠোর ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আক্রমণকারীদের ক্ষমা করে দিয়ে যে বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তা বর্তমান সকলের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়।

বক্তাগণ তার উপর এহেন বর্বরোচিত হামলার  তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং কোনো আলেমে দ্বীনের উপর এরূপ ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে ব্যাপারে আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, আলেম সমাজের সাথে এরূপ হামলার ঘটনা রাষ্ট্রের শান্তি ও  শৃঙ্খলার জন্য  ‍হুমকিস্বরূপ বলে আমরা মনে করি।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজ যেন তাদের অনুসারীগণকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং মতভিন্নতা থাকলেও কোনো মুসলিমের উপর হাত উঠানো যে কত ভয়াবহ অপরাধ সে বিষয়ে সচেতন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ফুলতলী পীরের অনুসারী আঞ্জুমান তালামীযে ইসলাম নামক যে সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে তারা যদি সত্যিকারভাবে উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না থাকে, তাহলে তাদেরকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করত উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদানের আহ্বান জানান।

তারা আরো বলেন, দেশে উলামা-মাশায়েখসহ সকল নাগরিকের  জান-মালের নিরাপত্তা বিধান কল্পে সরকার ও প্রশাসনের সতর্কদৃষ্টি  এবং দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন। পরিশেষে উপস্থিত জনতা, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও প্রশাসনের নানা স্তরের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের জিডিপি বাড়ছে


কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সামান্য হলেও বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে শূন্য দশমিক পাঁচ (০.৫) শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জিডিপি বাড়লেও ২০১৯ সালের পঞ্জিকা বছরের তুলনায় তা অনেক কমেছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল আট দশমিক চার শতাংশ। যেখানে ভারতের জিডিপি নয় দশমিক ছয় শতাংশ এবং পাকিস্তানের দুই দশমিক সাত শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে চার দশমিক তিন শতাংশ, ভারতের কমে হয়েছে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশ, পাকিস্তানের এক দশমিক দুই শতাংশ, ভুটানের শূন্য শতাংশ, নেপালের শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরে অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ দশমিক এক শতাংশ, ভারতের সাত শতাংশ, পাকিস্তানের শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, ভুটানের তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ, মালদ্বীপের নয় দশমিক নয় শতাংশ, আফগানিস্তানের চার দশমিক চার শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার তিন দশমিক এক শতাংশ।