আইনের শাসনে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ

বিশ্বে আইনের শাসন সূচকে গত এক বছরে বাংলাদেশের অনেক অবনতি হয়েছে। বিশ্বের ১২৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫তম। দক্ষিণ এশিয়ার ৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে। বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচকের গত বছরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১২৬টি দেশের মধ্যে ১১২তম অবস্থানে ছিল। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০২তম। অবশ্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এ বছর একই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। নিম্বমধ্যম আয়ের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২১তম। ১২৮টি দেশের ১ লাখ ৩০ হাজার খানায় জরিপ ও চার হাজার আইনজীবীর মতামত নিয়ে ডব্লিউজেপি এই সূচক ও প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার এক হাজার ব্যক্তির ওপরে জরিপকারী সংস্থা ওআরজি কোয়েস্ট সংস্থাটির হয়ে জরিপটি করে। বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ নাগরিকের মৌলিক অধিকারের দিক থেকে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮টি দেশের মধ্যে ১২২তম। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে নিচে। অর্থাৎ ৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান সবার নিচে তথা ৬ষ্ঠ। বাংলাদেশের পরে রয়েছে তুরস্ক, ভেনেজুয়েলা, মোজাম্বিক, চীন, মিসর ও ইরান। ভালো অবস্থানে থাকা শীর্ষ তিন দেশ হচ্ছে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। আর তলানিতে রয়েছে কঙ্গো, কম্বোডিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

 

বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে

সত্তরের দশকে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। বিশ্ব এখন বাংলাদেশের ব্যাপারে মত বদলাচ্ছে। ভারতের সাথে তুলনায় বাংলাদেশ অধিকাংশ খাতে না হলেও বহু সূচকে অনেক ভালো করছে, যে সূচকগুলোর দ্বারা জীবনযাত্রার মান নির্ধারিত হয়। প্রথমত, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের দিকে যাচ্ছে আর তাদের প্রবৃদ্ধি সেখানে ৫ শতাংশে নেমে গেছে। দ্বিতীয়ত, লন্ডন আর নিউইয়র্কের নামীদামী সড়কগুলোতে গেলেই দেখা যাবে মেড ইন বাংলাদেশের কাপড়, কিন্তু লুধিয়ানা আর ত্রিপুরার তৈরি কাপড় দেখা যাবে না। বিস্ময়ের কিছু নেই যে, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রফতানী ২০১৯ অর্থবছরে দুই অঙ্কের কোঠায় চলে গেছে; যেখানে ভারত এখনও বহু পিছিয়ে। ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে জীবনযাত্রা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। শুধু তথ্যগুলো দেখলেও তা বোঝা যায়। বাংলাদেশে পুরুষ ও নারীর প্রত্যাশিত জীবনকাল ৭১ আর ৭৪ বছর। ভারতে এটা হলো ৬৭ আর ৭০ বছর। এই বড় ছবিটা খুঁটিয়ে দেখলে পার্থক্যটা আরও প্রকট হয়ে উঠবে। ভারতে প্রতি হাজারে নবজাতকের মৃত্যুর হার ২২.৭৩ জন, বাংলাদেশে এই হার ১৭.১২। শিশু মৃত্যুর হার ভারতে ২৯.৯৪ আর বাংলাদেশে ২৫.১৪। নারীদের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়স্ক নারীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ শিক্ষিত, ভারতে এই হার ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশে পরিস্থিতি শুধু ভালোই নয়, সেটা আরও ভালোর দিকে যাচ্ছে। আর ভারত আরও পিছিয়ে যাচ্ছে।