সূদের কারবারে পুড়ছে বাংলাদেশ

ফ্রি স্টাইলে চলছে এনজিও ক্রেডিট প্রোগ্রাম। অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে ক্রেডিট প্রোগ্রামের সিংহভাগ অর্থ। ঋণের জালে আটকে পড়ছে গ্রাম-গঞ্জের বিশাল জনগোষ্ঠী। চক্রবৃদ্ধিহারে আদায় করা হচ্ছে সূদ। যার জন্য স্বনির্ভরতার বদলে মানুষ হচ্ছেন সর্বশান্ত। দারিদ্র্য বিমোচন, পলস্নী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে এনজিও’র ক্রেডিট প্রোগ্রাম চলছে না। এতে গরীব ও অসহায় মানুষ স্বনির্ভরতার বদলে ঋণগ্রস্থ হচ্ছেন। এই চিত্র যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরাসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের। ক্রেডিট প্রোগ্রামের এনজিও কার্যক্রমে সরকারী কোন তদারকি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাইক্রো-ক্রেডিট অথরিটি থেকে লাইসেন্স নিয়ে ক্রেডিট প্রোগ্রাম করে থাকে এনজিওগুলো। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে ৩/৪ শতাংশ হারে সূদ দিয়ে ক্রেডিট প্রোগ্রামের অর্থ সংগ্রহ করে এলাকাভিত্তিক ঋণ দেয় তারা। কিন্তু আদায় করে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০%। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় এনজিও’র সংখ্যা ৮ হাযার ৩শ’ ৩৬টি। যার সিংহভাগই সূদের কারবার চালাচ্ছে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর এনজিওদের রেজিস্ট্রেশন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে। কোন তদারকি করা হয় না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা এমনকি গ্রামপর্যায়ে ক্রেডিট প্রোগ্রামের এনজিও কর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। এনজিওগুলোর মধ্যে আরআরএফ, জাগরণী চক্র, শিশু নিলয়, শাপলা, লাইফ, সমাধান, বাঁচতে শেখা, বন্ধু কল্যাণ, সুশীলন, প্রত্যাশা ও সৃজনীসহ শতাধিক এনজিও মাইক্রো-ক্রেডিট অথরিটির লাইসেন্সধারী। এর বাইরেও প্রায় সব এনজিও কমবেশী নিজেদের অর্থে, ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ও বিভিন্নপন্থায় সূদের কারবার করে থাকে।

সিলিন্ডারে মরণফাঁদ

ফায়ার সার্ভিসের অনুসন্ধান বলছে, সারা দেশে যত আগুন লাগে, তার ১৮ শতাংশ ঘটে চুলার আগুন থেকে আর এর সিংহভাগই আবার গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে। গত বছর মোট ৩৪৪৯টি বা ১৮ শতাংশ অগ্নিকা- ঘটে চুলার আগুন থেকে। আর এর বেশিরভাগই আবার ঘটেছে সকালে চুলা জ্বালাতে গিয়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৫০০ জন আগুনে পোড়া রোগী বার্ন ইউনিটে ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই গ্যাসের আগুনে দগ্ধ। প্রতি মাসে আগুনে পোড়া প্রায় ১০০ রোগী মারা যাচ্ছেন। দগ্ধ বাকিরা সুস্থ হলেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। সাধারণত একটি সিলিন্ডারের আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। অথচ ২৮ বছরের পুরনো সিলিন্ডারেও বিপণন হচ্ছে এলপিজি। মূলত মেয়াদোত্তীর্ণ এসব সিলিন্ডারে গ্যাস বিপণনের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। বর্তমানে এলপি গ্যাস বাজারের ৮০ ভাগের নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তিখাতের হাতে। আলোচ্য খাতের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস সমুদ্রপথে আমদানির পর সিলিন্ডারে ভর্তি করে বিপণন করছে। বিআরটিএ সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি যানবাহনের ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পাঁচ বছর পরপর পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু সেই সময় কেউ মানছে না। দেশে মাত্র ২০ শতাংশ যানবাহনের আবার পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। বাকিগুলো এভাবেই চলে। দেশে বর্তমানে ৬০ লাখ লোক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে। এতে প্রায় ২ কোটি সিলিন্ডার প্রয়োজন। বিআরটিএ যখন যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করে, তখন তারা যদি নিজস্ব বা যৌথ উদ্যোগে সিলিন্ডারও রিটেস্ট করতে পারে, তাহলে কমে আসবে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা।