বান্দার ভাবনা আল্লাহর সমাধান
-নাহরিন বানু এশা*


আমি বলি : আমি ব্যর্থ, অসার, ফালতু।

আল্লাহ বলেন : বিশ্বাসীরা সফল হয়, যারা নিজেদের ছালাতে বিনয়-নম্র, যারা অসার কথাবর্তা থেকে বিরত থাকে, যারা যাকাত প্রদানে সক্রিয়, যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে (আল-মুমিনূন, ২৩/১-৫)

আমি বলি : আমার জীবনে অনেক কষ্ট।

আল্লাহ বলেন : নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে (আলাম নাশরহ, ৯৪/৫)

আমি বলি : আমাকে কেউ সাহয্য করে না।

আল্লাহ বলেন : মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব (আর-রূম, ৩০/৪৭)

আমি বলি : আমি দেখতে খুবই কুৎসিত।

আল্লাহ বলেন : আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি, সুন্দরতম আকৃতিতে (আত-তীন, ৯৫/৪)

আমি বলি : আমার সাথে কেউ নেই, আমি একা।

আল্লাহ বলেন : ভয় করো না, আমি মুমিনদের সাথে আছি। আর আমি দেখছি ও শুনছি (ত্বো-হা, ২০/৪৬)

আমি বলি : হায়, এই দুঃখভরা জীবনে আমাকে কেউ একটুখানি সাহায্য করবে?

আল্লাহ বলেন : তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য কামনা করো, নিশ্চয় তা কঠিন কাজ; তবে বিনয়ীদের জন্য তা কঠিন নয় (আল-বাক্বারা, ২/৪৫)

আমি বলি : এত আত্মীয়স্বজন, এত বন্ধুবান্ধব কেউ একটু মনে করে না।

আল্লাহ বলেন : কাজেই তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং তোমরা আমারই প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না। হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন (আল-বাক্বারা, ২/১৫২-১৫৩)

আমি বলি : আমার পাপ অনেক বেশি, ডুবেই গেছি।

আল্লাহ বলেন : আমি তওবাকারীদের ভালোবাসি (আল-বাক্বারা, ২/২২২)

আমি বলি : আমি সবসময় অসুস্থ থাকি।

আল্লাহ বলেন : আমি কুরআনকে রোগের নিরাময় হিসেবে পাঠিয়েছি (আল-ইসরা, ১৭/৮২)

আমি বলি : আমার পাপ ক্ষমা হওয়ার মতো নয়।

আল্লাহ বলেন : কিন্তু যারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে আর সত্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, এদের তওবাই আমি কবুল করি। আমি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু (আল-বাক্বারা, ২/১৬০)

আমি বলি : সবসময় ছালাত পড়ি, মাঝে মধ্যে দু’একদিন ব্যস্ততার কারণে মিস হলে কিছু হবে না। সবসময় পর্দা করি, মাঝে মাঝে বিয়ে-শাদী অনুষ্ঠানে সাজগোজ করলে কী আর হবে! সূদ তো একেবারেই খাই না, কিন্তু ব্যাংকে যে ডি.পি.এস. আছে, বীমা আছে- এগুলো তো একটু-আধটু চলেই।

আল্লাহ বলেন : নিশ্চয় যারা কুফরী করে আর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, এদের উপরে আল্লাহর ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা‘নত (আল-বাক্বারা, ২/১৬১)

আমি বলি : আমার সবচেয়ে বড় ও ক্ষতিকর শত্রু সম্পর্কে জানা দরকার।

আল্লাহ বলেন : হে মানবজাতি পৃথিবীতে যা হালাল ও পবিত্র খাদ্যদ্রব্য আছে, তা থেকে তোমরা আহার করো আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। মূলত সে তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কর্ম এবং আল্লাহ সম্পর্কে যে বিষয়ে তোমরা অবহিত নও, সে বিষয়ে কথা বলার নির্দেশ দেয় (আল-বাক্বারা, ২/১৬৮-১৬৯)

আমি বলি : এই জাঁকজমক জীবন, বিলাসবহুল চলাফেরা, পিকনিকের আমোদ-উল্লাস, গান-বাজনা, মুভি দেখা, হৈ-হুল্লোড় ভরা জীবন কতই না সুন্দর, কতই না মজাদার!

আল্লাহ বলেন : তবে কি তোমরা আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুত পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাসতো আখেরাতের তুলনায় কিছুই নয়, অতি সামান্য (আত-তাওবাহ, ৯/৩৮)। আল্লাহ আরো বলেন, আর তারাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্তপথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে আযাব ক্রয় করেছে। আগুনের ব্যাপারে তারা কতই না ধৈর্যশীল (আল-বাক্বারা, ২/১৭৫)

আমি বলি : এত আত্মীয়স্বজন এত বন্ধুবান্ধব তবুও মনের ব্যথা-বেদনা শোনার কেউ নেউ।

আল্লাহ বলেন : আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, বলুন— আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। সুতরাং তারা আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি বিশ্বাস রাখুক। যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে (আল-বাক্বারা, ২/১৮৬)

আমি বলি : জীবনের এত কষ্ট, এত দুঃখ, এত ব্যথা আর নিতে পারছি না। মন বলছে, এই জীবন শেষ করে দেই।

আল্লাহ বলেন : মুসলিম না হয়ে তোমরা কখনও মৃত্যুবরণ করো না (আল-বাক্বারা, ২/১৩২)

আমি বলি : আমার কপালে কি ভালো কোনো সংবাদ নেই?

আল্লাহ বলেন : আর আমি তোমাদেরকে অবশ্যই ভয়ভীতি, ক্ষুধা, জানমালের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন (আল-বাক্বারা, ২/১৫৫)

আমি বলি : ইস! এমনটা হলে কত ভালো হতো। আবার কখনও বলি, হায়! হায়! এমনটা কেন হলো, এটা তো আমি চাইনি।

আল্লাহ বলেন : হতে পারে তোমরা যা পছন্দ কর না, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যা তোমরা পছন্দ কর, তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না (আল-বাক্বারা, ২/২১৬)

আমি বলি : ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে বা ছেলে সরকারি চাকরি করে, উপরি ইনকাম বেশ ভালো, দেখতে সেই সুন্দর, স্মার্ট, হ্যান্ডসাম, একেবারে রাজপুত্র।

আল্লাহ বলেন : ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক মহিলাদের বিবাহ করবে না। মুশরিক রমণী যদিও তোমাদের মুগ্ধ করে তথাপি মুমিন কৃতদাসী তদাপেক্ষা উত্তম। আর ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে নারীদের বিবাহ দিয়ো না। মুশরিক পুরুষ যদিও তোমাদের মুগ্ধ করে তথাপি মুমিন দাস তদাপেক্ষা উত্তম। তারা অগ্নির দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তোমাদের জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন স্বীয় অনুগ্রহে (আল-বাক্বারা, ২/২২১)। (উল্লেখ্য সূদী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী এবং হারাম উপার্জনকারীর ও ভক্ষণকারীর ইবাদত কবুল হয় না)।

আমি বলি : কাকে ঋণ দিলে বেশি লাভ পাব?

আল্লাহ বলেন : এমন কে আছে, আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে। তারপর তিনি তাকে তা বহু গুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আর আল্লাহই সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন (আল-বাক্বারা, ২/২৪৫)

আমি বলি : এত দিয়েও কোনো নাম নেই।

আল্লাহ বলেন : যে দানের পর কষ্ট দেওয়া হয়, তার চেয়ে ভালো কথা বলা ও ক্ষমা প্রদর্শন করাই উত্তম (আল-বাক্বারা, ২/২৬৩)

আমি বলি : আমার সবচাইতে ভালো বন্ধু কে?

আল্লাহ বলেন : যিনি কিতাব নাযিল করেছেন, তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের সাথে বন্ধুত্ব করেন (আল-আ‘রাফ, ৭/১৯৬)

আমি বলি : শয়তানের ওসওয়াসা থেকে বাঁচি কীভাবে?

আল্লাহ বলেন : বলুন, হে আমার রব! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার পানাহ চাই। বলুন, হে আমার রব! আমি তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই (আল-মুমিনূন, ২৩/৯৭-৯৮)

আমি বলি : ফুলে ও ফলের গাছে ঘেরা সুন্দর একটা বাড়ি হতো আমার যেখানে রঙবেরঙের পাখি ও প্রজাপতির মেলা বসত।

আল্লাহ বলেন : যে ব্যক্তি দুনিয়ার পুরস্কার চাইবে, সে জেনে রাখুক আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়েরই পুরস্কার আছে। আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা (আন-নিসা, ৪/১৩৪)

আমি বলি : এত দুঃখ-বেদনা, এত অশান্তি কী করি?

আল্লাহ বলেন : আর আল্লাহ যদি আপনাকে কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত আর কেউ তা অপসারণকারী নেই, আর তিনি যদি আপনার কল্যাণ করেন, তবে তিনিই সর্বশক্তিমান (আল-আনআম, ৬/১৭)

আমি বলি : আমার কেউ নেই।

আল্লাহ বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট (আত-তালাক, ৬৫/৩)