বায়তুল মাক্বদিসের ফযীলত ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
আব্দুল মালেক আহমাদ মাদানী*


নাম, উৎপত্তি ও ইতিহাস :

মাসজিদুল আক্বছা মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ও সম্মানিত স্থান। মুসলিমদের প্রথম ক্বেবলা। হাজারো নবী-রাসূল v-এর আগমনের পুণ্যভূমি। সকল মুসলিমের প্রাণের কেন্দ্রস্থল বায়তুল মাক্বদিস। নিম্নে এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

মাসজিদুল আক্বছা অর্থ দূরবর্তী মসজিদ। আবূ যার c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল a! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরি করা হয়েছে? তিনি a বললেন, ‘মাসজিদে হারাম’। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘মাসজিদে আক্বছা’। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরির) মাঝে কত বছর ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, ‘৪০ বছর’।[1]

অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, আদম e কা‘বাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর মাসজিদুল আক্বছা তৈরি করেন। অথবা নবী ইবরাহীম e কা‘বাঘর পুনঃসংস্কারের ৪০ বছর পর মাসজিদুল আক্বছা‍তৈরি করেন।[2]

ইবরাহীম e-এর পুত্র ইসহাক্ব e এখানেই বসবাস করতেন। পরবর্তীতে ইসহাক্ব e-এর পুত্র ইয়াকূব e ও তাঁর ১২ পুত্র বসবাস করতেন। অতঃপর তাঁর ১২ সন্তান থেকে ১২টি গোত্রের আবির্ভাব ঘটে, তারা সকলেই বানী ইসরাঈল তথা ইয়াকূব e-এর সন্তান। উল্লেখ্য, নবী ইয়াকূব e-এর নামই হচ্ছে ইসরাঈল।

অতঃপর নবী সুলায়মান e মাসজিদুল আক্বছা পুনঃসংস্কার করেন খ্রিষ্টপূর্ব ১০০৪ সালে। অনেকে মনে করেন সুলায়মান e প্রথম মাসজিদুল আক্বছা তৈরি করেছেন, কিন্তু এটা ভুল তথ্য। কারণ ইবরাহীম e আর সুলায়মান e-এর মাঝে প্রায় ১০০০ বছর পার্থক্য।

রাসূল a বলেন, ‘সুলায়মান ইবনু দাঊদ e যখন বায়তুল মাক্বদিস নির্মাণ করলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে তিনটি বস্তু চাইলেন, তা হলো— তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন এমন ফয়সালা যা তাঁর ফয়সালার মোতাবেক হয়। তা তাকে প্রদান করা হলো। তিনি আল্লাহর নিকট চাইলেন এমন বিশাল রাজ্য, যার অধিকারী তার পরবর্তী আর কেউ হবে না। তাও তাঁকে দেওয়া হলো। আর যখন তিনি মসজিদ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন, যে ব্যক্তি তাতে শুধু ছালাতের জন্য আগমন করবে, তাকে যেন পাপমুক্ত করে ঐ দিনের মতো করে দেন, যেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল’।[3]

নবী সুলায়মান e-এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বানী ইসরাঈল তথা ইয়াহূদীদের মধ্যে বিচ্যুতি এবং তাদের হুকুমত ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিভক্তি দেখা দেয়। তাছাড়া তারা অগণিত নাফরমানীতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তাদের কাছে প্রেরিত অসংখ্য নবী-রাসূলকে তারা হত্যা করে। দাঊদ ও সুলায়মান v ১০১০-৯৩১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত বায়তুল মাক্বদিস শাসন করেছেন। সুলায়মান e খ্রিষ্টপূর্ব ৯৩১ সালে ইন্তেকাল করেন।

বর্তমান বিকৃত তাওরাতের রাজন্যবর্গ ও শাসকদের প্রথম পুস্তিকায় সুলায়মান e-এর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়েছে এভাবে যে, তিনি মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী বর্জন করে মূর্তিপূজা করতেন (নাঊযুবিল্লাহ)।[4]

আর একারণেই ইয়াহূদীরা আল্লাহর গযবে পতিত হয় এবং বায়তুল মাক্বদিসের মতো পবিত্র ভূমি থেকে তারা উচ্ছেদ হয়। নিম্নে বায়তুল মাক্বদিস ও ইয়াহূদীদের উপর বিভিন্ন জাতির আধিপত্যের ইতিহাস তুলে ধরা হলো।-

১. আরামীয়দের আধিপত্য : নবী সুলায়মান e-এর মৃত্যুর কিছুদিন পর (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৭৪ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৮৫৩ সালের মধ্যে) আরামীয় সেনাবাহিনী বায়তুল মাক্বদিসে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং সেখানকার সকল ইয়াহূদী নেতাকে হত্যা করে সমস্ত ধনসম্পদ লুণ্ঠন করে।[5]

২. আশুরীয়দের আধিপত্য : ৮৫৯-৮২৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ইয়াহূদীদের উপর আশুরীয়দের আধিপত্যের সূত্রপাত ঘটে।

৩. ব্যাবেলীয়দের আধিপত্য : বাদশাহ বুখতে নাছর, যিনি শাম ও ফিলিস্তীনকে নিজ শাসনাধীনে আনার জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯৭ সালে প্রথমবার এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬ সালে দ্বিতীয়বার সেখানে আক্রমণ করেছিলেন। বিপুল সংখ্যক ইয়াহূদীদের হত্যা করেন এবং বন্দিদেরকে বাবেলের (ব্যাবিলনের) খাবূর নদীর কাছে নাইবূর এলাকায় নির্বাসিত করেন।[6]

৪. ইরানীদের আধিপত্য : পারস্য-সম্রাট সাইরাস বাবেল নগরী ও রাজ্য দখল করেন খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩৯ সালে, বুখতে নাছরের বন্দিদেরকে এবং যেসব ইয়াহূদী বাবেলে বসবাস করত, তাদেরকে আল-কুদসে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং তাদের উপাসনালয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করার অনুমতি দেন। তিনিই প্রথম ইরানী শাসক, যে কি-না ইয়াহূদীদের লালনপালন করেন।[7]

৫. গ্রীকদের আধিপত্য : গ্রীক সম্রাট ইস্কান্দার আলেকজান্ডার খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩১ সালে মিশর, শাম ও ফিলিস্তীনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইরানীদের উৎখাত করেন। এতে ইয়াহূদীরাও গ্রীকদের অধীনে চলে আসে।[8]

৬. রোমকদের আধিপত্য : রোম সম্রাট বোম্বেই খ্রিষ্টপূর্ব ৬৪ সালে সিরিয়া দখল করেন।[9] পরের বছর তিনি আল-কুদস দখল করেন। ইঞ্জীলসমূহের বিবরণ অনুসারে রোম সম্রাট দ্বিতীয় হেরোডিস খ্রিষ্টপূর্ব ৪ সাল থেকে ৩৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইয়াহূদীদের শাসন করেন এবং তার যুগেই ঈসা e জন্মগ্রহণ করেন।[10]

৭. রোমান সম্রাট তিতুস এর আধিপত্য : রোমান সম্রাট তিতুস ৭০ খ্রিষ্টাব্দে আল-কুদসে আক্রমণ করে সেখানকার হাজার হাজার ইয়াহূদীকে হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করেন। ঠিক এসময় ইয়াহূদীরা মদীনায় হিজরত করে।[11]

৮. রোমান সম্রাট হাদরিয়ান এর আধিপত্য : রোমান সম্রাট হাদরিয়ান ১৩২ থেকে ১৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বায়তুল মাক্বদিস থেকে ইয়াহূদীদের উচ্ছেদ করেন।[12] সবশেষে আবার রোমান সম্রাট হেরাক্লিয়াস ইয়াহূদীদেরকে শাস্তি দেন এবং আল-কুদসে যে ইয়াহূদী ছিল, তাদের সেখান থেকে বহিষ্কার করেন। আর এভাবে খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে এ শহর ইয়াহূদীদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

ইয়াহূদী জাতি নিজেদের আল্লাহ কর্তৃক নির্বাচিত জাতি হিসাবে গণ্য করে। নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে, অন্যান্য জাতিকে হীন, এমনকি চতুষ্পদ জন্তু বলে গণ্য করে। অথচ তাদের মধ্যে জগতের সকল নিকৃষ্ট ও জঘন্য কার্যকলাপ বিদ্যমান। তারা সেই আদিকাল থেকেই পৃথিবীর বুকে নানান অশান্তি, যুদ্ধবিগ্রহ বাধাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইয়াহূদী এমন একটি জাতি, যাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহুসংখ্যক নবী ও রাসূল হত্যার ইতিহাস। তারা নবী ইয়াহইয়া e-কে হত্যা করেছে, নবী যাকারিয়া e-কে করাত দিয়ে চিরে দুই টুকরা করে ফেলেছে। ঈসা e-কেও হত্যার দাবি করেছিল। ইয়াহূদীরা পবিত্র ও সচ্চরিত্রা নারী মারইয়াম (আ.)-এর ওপর ব্যভিচারের জঘন্য অপবাদ আরোপ করেছিল।

উল্লিখিত সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইয়াহূদীরা আল্লাহর নানাবিধ নাফরমানী ও নবী-রাসূলদের হত্যা করার কারণে তাদের উপর লা‘নত বর্ষিত হয়েছিল। যার কারণে তারা আর তাদের বসতবাড়ি এবং বায়তুল মাক্বদিস ফিরে পায়নি।

ইসলামী যুগ : শেষ নবী মুহাম্মাদ a মদীনায় হিজরতের এক বছর পূর্বে রাতের বেলায় মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আক্বছায় সফর করেন, যাকে ইসরা বলা হয়। অতঃপর সেখানে রাসূল a সকল নবী-রাসূলদের নিয়ে ইমামতি করে ছালাত আদায় করেন। ছালাত শেষে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন, যাকে মে‘রাজ বলা হয়।[13] বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের প্রথম ক্বেবলা ছিল, যা থেকে হিজরতের ১৭ মাস পর কা‘বার দিকে ক্বেবলা পরিবর্তন হয়।[14]

খুলাফায়ে রাশেদার যুগ : দ্বিতীয় খলীফা উমার ইবনুল খাত্ত্বাব c ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে অর্থাৎ হিজরী ১৮ সালে যখন আল-কুদস ও ফিলিস্তীন জয় করেন, তখন খ্রিষ্টানরা খলীফার কাছে শর্তারোপ করেছিল যে, কোনো ইয়াহূদী যেন সেখানে বসবাস না করে এবং তিনিও তাদের ইচ্ছার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং এ বিষয়টি তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে লিপিবদ্ধ করেন। তখন থেকে ১৩৪৩ হিজরী অর্থাৎ ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পাশ্চাত্যের হাতে তুর্কী উছমানী খিলাফতের পতন না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল মাক্বদিস ইয়াহূদীমুক্ত ছিল। প্রায় দেড় হাজার বছর ইয়াহূদীরা ‍বায়তুল মাক্বদিসে বসবাসের সুযোগ পায়নি। উল্লেখ্য, উমার c-এর যুগে ১৮ থেকে ৪০ হিজরী পর্যন্ত মোট ২২ বছর বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের অন্যতম প্রদেশ ছিল (আল-হামদুলিল্লাহ)

উমাইয়া (৪১-১৩২ হিজরী) শাসনামলের ৯০ বছর : এই ৯০ বছর পুরোটা সময় জুড়েই বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের হাতে ছিল। উমাইয়া শাসনামলে বায়তুল মাক্বদিসে উল্লেখযোগ্য কর্ম হলো বর্তমান স্থাপনাটি, যা উমাইয়া যুগে তৈরি। উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালেক ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। সেই সঙ্গে তিনি কুব্বাতুছ ছখরা নির্মাণ করেন।[15]

আব্বাসীয় (১৩২-৬৫৬ হিজরী) শাসনামলের ৫২৪ বছর : আব্বাসীয় শাসনামলের ৫২৪ বছরের মধ্য ৩৬০ বছর বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের দখলেই ছিল। অতঃপর আব্বাসীয় শাসনামলের শেষের দিকে ৪৯২ হিজরী মোতাবেক ১০৯৯ সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা বায়তুল মাক্বদিস দখল করে নেয় এবং হাজার হাজার মুসলিমকে হত্যা করে। আর এর পিছনে তৎকালীন মিথ্যা ফাতেমী দাবিদার মিশরের শীআ শাসকগোষ্ঠী ক্রুসেডারদের আহ্বান করে এবং ফিলিস্তীন দখলের আমন্ত্রণ জানায়। এর ফলে অতি সহজেই খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা বায়তুল মাক্বদিস দখল করে নেয়।

মুসলিম বীর গাজী ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী p ভালোভাবেই শীআদের নেফাক্বী আর সুন্নীদের হত্যার ইতিহাস জানতেন। তাই তিনি দেখলেন বায়তুল মাক্বদিস উদ্ধার করতে হলে আগে শীআদের উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ তারাই ক্রুসেডারদের উৎসাহ প্রদান করছে। অবশেষে ৫৬৭ হিজরী মোতাবেক ১১৭১ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের মাটি থেকে তিনি শীআদের উৎখাত করেন। অতঃপর ৫৮৩ হিজরী মোতাবেক ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সিপাহসালার সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী p হিত্তীন প্রান্তরে ক্রুসেডারদের পরাজিত করে পুনরায় জেরুজালেম শহর ও বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের অধিকারে নিয়ে আসেন (আলহামদুলিল্লাহ)[16]

মামলূকী (৬৪৮-৯২৩ হিজরী) শাসনামলের ২৭৫ বছর : এই ২৭৫ বছর পুরোটাই বায়তুল মাক্বদিস সুন্নী মামলূকী মুসলিমদের হাতেই ছিল, যদিও তারা খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের সঙ্গে জিহাদরত অবস্থায় ছিলেন।[17]

ছমানীয় (৯২৩-১৩৪৪ হিজরী) শাসনামলের ৪০০ বছর : এই ৪০০ বছর প্রায় পুরোটাই বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের দখলে ছিল। অটোমান বা উছমানীয় শাসনের শেষদিকে ১৯১৭ সালে ‍ইংরেজরা ফিলিস্তীনে অনুপ্রবেশ করে এবং ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াহূদীরা ফিলিস্তীনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ফিলিস্তীনের পবিত্র ভূমিতে ইয়াহূদী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দাঙ্গা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। এসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যায়ভাবে মুসলিমদের ফিলিস্তীন ভূমিকে মুসলিম ও ইয়াহূদীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। ফলে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে জায়ানিস্ট অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র ইসরাঈল ১৯৬৭ সালে মাসজিদুল আক্বছা জবরদখল করে নেয় এবং জায়ানিস্ট ইসরাঈল একের পর এক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা দখল করে ইয়াহূদী বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে। বর্তমানে তারা সাধারণ ফিলিস্তীনীদের হত্যা, গুম, অপহরণ, গণগ্রেফতার চালিয়েই যাচ্ছে। হে আল্লাহ! তুমি ইয়াহূদীদের ধ্বংস করো এবং ফিলিস্তীন ও বায়তুল মাক্বদিস মুসলিমদের হাতে ফিরিয়ে দাও।

বায়তুল মাক্বদিসের ফযীলত :

১. ইসলামের প্রথম ক্বেবলা। ইসলামী শরীআতে সফর করা যায় এমন তিনটি মসজিদের একটি হলো বায়তুল মাক্বদিস।[18]

২. বায়তুল মাক্বদিসে ছালাত আদায় করলে ৫০০ গুণ বেশি ছওয়াব হয়।[19]

৩. প্রিয়নবী মুহাম্মাদ a-এর মে‘রাজ গমনের সময় তিনি এই মসজিদে সকল নবী–রাসূলের ইমামতি করে ছালাত আদায় করেন।[20]

৪. অসংখ্য নবী–রাসূলের স্মৃতিবিজড়িত অহী অবতরণের স্থান।

৫. এখানেই হাশর-নাশর হবে এবং ঈসা e আসমান থেকে অবতরণ করবেন ও ইয়াহূদীদের হত্যা করবেন।[21]

বায়তুল মাক্বদিস ফিরে পেতে আমাদের করণীয় :

১. মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, বিশেষ করে ফিলিস্তীনী ভাইদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

২. কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর অনুসারী হতে হবে এবং সালাফদের মানহাজ অনুযায়ী চলতে হবে। শীআদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

৩. শক্তি অর্জন করতে হবে। পূর্ণশক্তি কিংবা শত্রুর মোকাবিলা করার মতো শক্তি হলে শারঈ জিহাদের নীতিমালা অনুযায়ী শারঈ আমীরের নেতৃত্বে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে জিহাদের মাধ্যমে বায়তুল মাক্বদিস উদ্ধার করার চেষ্টায় ঝাপিয়ে পড়লে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

৪. বেশি বেশি করে দু‘আ করা, বিশেষ করে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা।

আল্লাহ মুসলিমদের পবিত্র স্থান বায়তুল মাক্বদিস শত্রুমুক্ত করুন। আমীন!


* পি.এইচ.ডি গবেষক, কিং খালেদ ইউনিভার্সিটি, সঊদী আরব।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬৬।

[2]. তাফসীরে কুরতুবী, ৪/১৩৮; ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, (নবীদের ঘটনা), ৬/৪০০-৪১০।

[3]. নাসাঈ, হা/৬৯৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৪০৮, হাদীছটি ছহীহ।

[4]. রাজন্যবর্গ ও শাসকদের ১ম পুস্তিকা, ইসসাহ, ১১ : ১-২ ।

[5]. প্রাগুক্ত, অধ্যায় ২৪ : ৩ এবং অধ্যায় ১২ : ১৭-১৮ ।

[6]. প্রাগুক্ত, অধ্যায় ২৪ : ১-৬।

[7]. আযরার পুস্তিকা, অধ্যায় ৬ : ৩-৭, অধ্যায় ১ : ৭-১১ ।

[8]. দানিয়ালের পুস্তিকা, অধ্যায় ১১ : ৫।

[9]. মথির ইঞ্জীল, পৃ. ২।

[10]. মারকোসের ইঞ্জীল, ৬ : ১৬-২৮।

[11]. আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়া আছ-ছহীহা, ১/২২৭।

[12]. প্রাগুক্ত।

[13]. সূরা আল-ইসরা, ১৭/১-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

[14]. আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়াহ আছ-ছহীহা, ১/২৫৭।

[15]. আল-আনিসুল জালীল বি তারীখিল কুদুস, ১/২৭২-২৭৫।

[16]. ইবনুল আছীর, আল-কামেল ফিত-তারীখ, ১০/৩৭; ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী ওয়াল কাযাউ আলাল ফাতেমিইয়্যীন, পৃ. ১৬৩-২০৩।

[17]. আবুল ফেদা ইসমাঈল ইবনু আলী, মুখতাছার ফী আখবারিল বাশার, বিস্তারিত ৩য় খণ্ড।

[18]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৮৯, ৪৪৯২।

[19]. বায়হাক্বী, হা/১৭৭৩; আল-জামে আছ-ছহীহ, হা/৪২১১, হাদীছ হাসান। অনেকে উক্ত হাদীছের সনদকে দুর্বল বলেছেন।

[20]. সূরা আল-ইসরা, ১৭/১-এর ব্যাখ্যা, তাফসীরে ইবনু কাছীর।

[21]. মুসনাদে বাযযার, হা/৩৯৬; আল-জামে আছ-ছহীহ, হা/৩৭২৬, হাদীছ ছহীহ।