ভ্যালেন্টাইনস ডে : বিশ্ব ভালোবাসা
দিবস নাকি বিশ্ব বেহায়া দিবস
মাক্বছুদুর রহমান*


ভূমিকা :

ইংরেজি ‘Love’, বাংলা ‘ভালোবাসা’ ও আরবী (مَحَبَّةٌ) ‘মাহাব্বাত’ একটি হৃদয় ঘটিত কর্ম। পানাহার, দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদি কর্মের মতো ভালোবাসা ইসলামের দৃষ্টিতে কখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আবার কখনো কঠিন নিষিদ্ধ হারাম কর্ম। এ নিষিদ্ধ কর্মের একটি হচ্ছে নারী ও পুরুষের জৈবিক ভালোবাসা তথা অবৈধ প্রণয়। সারা বিশ্বে অবৈধ প্রণয় বা ভালোবাসাকে পবিত্র (কথিত) করার জন্য, অবৈধ প্রেমে যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীকে অনুপ্রাণিত করার জন্য পৃথিবীর নৈতিক চরিত্রের শত্রু, ব্যভিচারের ঠিকাদারেরা এবং আন্তর্জাতিক বেনিয়া সাম্রাজ্যবাদীরা যেমন প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নানা প্রচার মাধ্যম, রংমহল, পার্ক, সমুদ্র সৈকত, ঝিল ও উপবন প্রভৃতি রচনা করে রেখেছে, ঠিক তেমনি রচনা করেছে অবৈধ প্রেম বৈধ করার বিভিন্ন আইন-কানুন, তৈরি করেছে প্রেম প্রকাশ করার ও ঝালিয়ে নেওয়ার মতো স্মারক দিবস। ‘ভালোবাসা দিবস’ এমনি একটি দিবস। একে ওদের ভাষায় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বলে। মূলত খ্রিষ্ট ধর্মের লোকেরা এ অনুষ্ঠান চালু ও পালন করে থাকে। কেননা এ ধর্মের মূলনীতি হলো ঈশ্বরের মর্যাদা রক্ষার জন্য যত খুশি মিথ্যা বলা। প্রয়োজন মতো যত ইচ্ছা পরিবর্তন, পরিবর্ধন করে এবং মিথ্যা বলে মানুষকে খ্রিষ্টান বানানো। পল নিজেই বলেছেন, For if the truth of God hat more abounded through my lie unto his glory; why yet am i also judged as a sinner? অর্থাৎ ‘আমার মিথ্যায় যদি ঈশ্বরের সত্য তাহার গৌরবার্থে উপচিয়া পড়ে, তবে আমিইবা এখন পাপি বলিয়া আর বিচারিত হইতেছি কেন?[1]

তবে বর্তমানে খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে মুসলিম জাতিসহ গোটা বিশ্ব আজ এ দিবসের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত। নিজেদের স্বকীয়তা-স্বাতন্ত্র্যকে ভুলে গিয়ে ধর্মীয় অনুশাসনকে উপেক্ষা করে যে সমস্ত মুসলিম ভাই-বোন আজকে প্রগতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে, তাদেরকে এ বিজাতীয় সংস্কৃতির পাপরুদ্ধ লাঞ্ছনাময় জীবন থেকে ফিরে আসার আহ্বান নিয়ে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের বর্তমান চিত্র :

অপরের প্রতি দয়া ও সহযোগিতার হাত সেই বাড়িয়ে দিতে পারে, যার অন্তর সর্বদা ভালোবাসায় টইটুম্বুর থাকে। অতএব ভালোবাসা কোনো পঙ্কিল শব্দ নয়, নয় কোনো নর্দমা থেকে উঠে আসা বা বস্তাপচা বর্ণগুচ্ছ। ভালোবাসা এক পূণ্যময় ইবাদতের নাম। ভালোবাসতে হবে প্রত্যেক সৃষ্টজীবকে, প্রতিটি মুহূর্তে। এর জন্য কোনো দিন নির্ধারণ করা, বিশেষ উপায় উদ্ভাবন করা মানব জাতির চিরশত্রু ইবলীসের দোসর ছাড়া অন্য কারও কাজ হতে পারে না।

কয়েক বছর পূর্বে এ দেশে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস-এর আমদানি করে একটি প্রগতিশীল (?) সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন। প্রতিযোগিতার বাজারে কেউ পিছিয়ে থাকতে চায় না বলে পরের বছর থেকেই অন্যান্য পত্রিকাও এ দিবসের প্রচারণায় নামে। এ দিবসটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষালয়গুলোতে।

পত্রিকান্তরে প্রকাশ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে রাজধানী ঢাকায় একটি গোলাপ বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার টাকায়! কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও পার্কে তরুণ-তরুণীরা উল্লাস পালন করে এ দিবসে। মূলত কার্ড ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিক্রেতারাই নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এ দিবসের প্রচারণায় ইন্ধন যোগায়। এ দিন যুবক-যুবতীরা যা করে তা শুধু ইসলামের দৃষ্টিতেই নয়; তথাকথিত আবহমান কালের বাঙ্গালি সংস্কৃতির আলোকেও সমর্থনযোগ্য নয়।

ভালোবাসার জন্য কোনো বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয় না, বিশেষ পাত্র বা পাত্রীরও প্রয়োজন পড়ে না, যা আমাদের উপরিউক্ত আলোচনাতেই স্পষ্ট। কিন্তু বেলেল্লাপনা, বেহায়াপনা করার জন্য বিশেষ সময়, দিবস লাগে, বিশেষ পাত্র বা পাত্রীর দরকার পড়ে। তাই ভালোবাসার কোনো দিবস পালন করা একটি ভাওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। হ্যাঁ, বেহায়াপনার জন্য দিবস হতে পারে। কারণ অশ্লীলতা চর্চাকারীরা তাদের নির্লজ্জ আচরণ সবসময় করতে পারে না, সবার সাথে করতে পারে না; এর জন্য উপলক্ষ্য দরকার, যে দিবসের আড়ালে বেলেল্লাপনা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসা দিবস পালনের ধরন ও প্রকৃতিই আমাদের বক্তব্যের বস্তুনিষ্ঠতা প্রমাণে যথেষ্ট বলে মনে করি।

তাই আমরা এ দিবসের নাম রাখতে চাই ‘বিশ্ব বেহায়া দিবস’। এখন থেকে কুইজ প্রতিযোগিতার প্রশ্ন হবে বিশ্ব বেহায়া দিবস কবে? সঠিক উত্তর হবে- ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এভাবে এ দিবসের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসের যে ইতিহাস, তা জানলে কোনো মুসলিম সন্তান এ দিবস পালনে উৎসাহী হতে পারে না। তাই আসুন, আমরা সংক্ষিপ্তভাবে এ দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য জেনে নিই। এ দিবস সম্পর্কে বেশ কিছু ঘটনা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তন্মধ্যে কয়েকটি ঘটনা আপনাদের খিদমতে নিম্নে পেশ করছি।

ভ্যালেন্টাইন দিবসের ইতিহাস :

ঘটনা-১ : ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মের আগে চতুর্থ শতকে পৌত্তলিক, মূর্তিপূজারীদের সমাজে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেবতার অর্চনা করত। পশু পাখির জন্য একজন দেবতার কল্পনা করত। জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য একজন দেবতার বিশ্বাস করত, যে দেবতার নাম ছিল লুপারকালিয়া। এ দেবতার সন্তুষ্টির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ছিল যুবতীদের নামে লটারি ইস্যু করা। যে যুবতীর নাম যে যুবকের ভাগে পড়ত, সে তার সাথে আগামী বছরের এ দিন পর্যন্ত বসবাস করত। এ দিন এলে দেবতার উদ্দ্যেশ্যে পশু জবাই করা হতো। জবাইকৃত পশুর চামড়া যুবতীর গায়ে পরিয়ে পশুটির রক্ত ও কুকুরের রক্তে রঞ্জিত চাবুক দিয়ে ছেলে-মেয়েকে আঘাত করত। তারা ভাবত এর দ্বারা নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার উপযুক্ত শাস্তি হয়। এ অনুষ্ঠানটি পালন করা হতো ১৪ ফেব্রুয়ারি। 

খ্রিষ্ট ধর্মের আবির্ভাব হলে তারা এটাকে পৌত্তলিক কুসংস্কার বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু এতে দিবসটি পালন বন্ধ হয় না। পাদ্রীরা অপারগ হয়ে এ দিবসকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, আগে এ অনুষ্ঠান হতো দেবতার নামে, এখন থেকে হবে পাদ্রীর নামে। যুবকরা ১ বছর পাদ্রীর সোহবতে থেকে আত্মশুদ্ধি করবে। এ দিনে সেই সোহবত শুরু ও শেষ হবে। ৪৭৬ সনে পোপ জোলিয়াস এ দিবসের নাম পরিবর্তন করে যাজক ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ রাখা হয়।

ঘটনা-২ : ভ্যালেন্টাইন, রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস এর আমলের লোক। সে ছিল কৃশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারক, সম্রাট ছিলেন রোমান দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রীয় বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্রাট তার মৃত্যুর আদেশ প্রদান করে। অপর বর্ণনায়, সম্রাট লক্ষ্য করেছেন অবিবাহিত যুবকরা বিবাহিত যুবকদের তুলনায় যুদ্ধের কঠিনতম মুহূর্তে ধৈর্যের পরিচয় বেশি দেয়। অনেক সময় বিবাহিতরা স্ত্রী-পুত্রের টানে যুদ্ধে যেতেও অস্বীকৃতি জানায়। তাই যুগল বন্দী তথা যে কোনো পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। গোপনে তার গির্জায় পরিণয় প্রথা চালু রাখে। এ খবর জানাজানি হলে সম্রাট তাকে জেলবন্দি করার নির্দেশ প্রদান করে। জেলের ভিতরই পরিচয় ঘটে জেলার-এর এক অন্ধ মেয়ের সাথে। সে ছিল চিকিৎসক। বন্দি অবস্থাতেই চিকিৎসা করে অন্ধ মেয়ের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেয়- বলে ইতিহাসের বর্ণনায় পাওয়া যায়। এরপর সে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেয়েটির সঙ্গে গল্প করত। এভাবে ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে সে জানায়- ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’। এর আগে মেয়েটি ৪৬ জন সদস্যসহ তার কৃশ্চিয়ান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। এরপর থেকে তার মৃত্যুর তারিখ তথা ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে নামে পালিত হতে শুরু করে।

ঘটনা-৩ : ভ্যালেন্টাইনকে ‘আতারিত’ যা রোমানদের বিশ্বাসে ব্যবসা, সাহিত্য, পরিকল্পনা ও দস্যুদের প্রভু এবং ‘জুয়াইবেতার’ যা রোমানদের সবচেয়ে বড় প্রভু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সে উত্তরে বলে, এগুলো সব মানব রচিত প্রভু, প্রকৃত প্রভু হচ্ছে, ‘ঈসা মসীহ’। ১৪ ফেব্রুয়ারি এ অপরাধে সম্রাট তার মৃত্যুর আদেশ প্রদান করে।

ঘটনা-৪ : তখন রোমের সম্রাট ক্লডিয়াসের সময় ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধু, তরুণ প্রেমিকদের গোপন পরিণয়-মন্ত্রে দীক্ষা দিত। এ অপরাধে সম্রাট ক্লডিয়াস ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাধু ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করেন। তার এ ভ্যালেন্টাইন নাম থেকেই এ দিনটির নামকরণ করা হয় ভ্যালেন্টাইন ডে, যা আজকের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

ঘটনা-৫ : ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমকদের লেসিয়াস দেবীর পবিত্র দিন। এ দিন তিনি দু’টি শিশুকে দুধ পান করিয়েছিলেন। যারা পরবর্তীতে রোম নগরীর প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিল।

ঘটনা-৬ : ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমানদের বিবাহ দেবী মহিমময়ী ‘ইউনু’-এর বিবাহের পবিত্র দিন।

ঘটনা পর্যালোচনা :

এখানে সময়ের ব্যাপারে কিছুটা তারতম্য থাকলেও দ্বিমতের ভিত্তিতে এটা বলা যেতে পারে যে, হতে পারে ২৬৯-৭০ এ দিবসের জন্ম হলেও ৪৭৬ সালের দিকে এর বুদ্ধিবৃত্তি জাগ্রত হয়। আর এটা বাস্তব যে, এখন এটা পুরো যৌবনে উপনীত হয়েছে।

আমাদের যুবসমাজকে এসব ইতিহাস জানতে হবে। খুৎবা, বক্তৃতা ও সকল গণমাধ্যমে এ দিবসের জন্মপ্রথা ও তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। বুঝাতে হবে পৌত্তলিকদের উদ্ভাবিত, খ্রিষ্টানদের সংস্কারকৃত কোনো অনুষ্ঠান মুসলিমরা উদযাপন করতে পারে না। নিজেদের স্বকীয়তা-স্বাতন্ত্র্যকে ভুলে গিয়ে, ধর্মীয় অনুশাসনকে উপেক্ষা করে তারা আজকে প্রগতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে তাদের কর্মকাণ্ডে মুসলিম জাতির উঁচু শির নত হচ্ছে। অথচ এটা বহুপূর্বে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  নিষেধ করে গেছেন। ছাহাবী আবূ ওয়াকেদ আল-লায়ছী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  খায়বার যাত্রায় মূর্তিপূজকদের একটি গাছ অতিক্রম করলেন। তাদের নিকট যে গাছটির নাম ছিল ‘যাতু আনওয়াত’। এর উপর তীর টানিয়ে রাখা হতো। এ দেখে কতক ছাহাবী রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্যও এমন একটি ‘যাতু আনওয়াত’ নির্ধারণ করে দিন। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! এ তো মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির মতো কথা। আমাদের জন্য একজন প্রভু তৈরি করে দিন, তাদের প্রভুর ন্যায়। আমি নিশ্চিত, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা পূর্ববর্তীদের আচার-অনুষ্ঠানের অন্ধানুকরণ করবে’।[2] অন্য হাদীছে ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে’।[3] আমর ইবনু শুআইব তাঁর পিতা তাঁর পিতামহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ‏.‏

‘যে ব্যক্তি আমাদের ছাড়া বিজাতীয়দের অনুসরণ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহূদী ও নাছারাদের অনুকরণ করবে না। কারণ ইয়াহূদীদের সালাম হলো আঙ্গুলির ইশারা করা আর নাছারাদের সালাম হলো হাতের তালু দ্বারা ইশারা করা’।[4]

সুতরাং আজ আমরা বিশেষ করে যুবসমাজ ইসলামী সংস্কৃতি, তাহযীব-তামাদ্দুন ছেড়ে দিয়ে বিজাতীয় কুসংস্কারে গড্ডালিকার ন্যায় যুক্ত হয়ে পড়েছি। অথচ যুবসমাজ হলো জাতির প্রাণ; দেশের ভবিষ্যৎ। যুবসমাজের নৈতিকতার পতন হওয়া মানে ঐ জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হওয়া। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা উস্কে দিয়ে শত্রুরা আমাদের ভবিষ্যতকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। যুবকদের নৈতিকতার বলকে বিচূর্ণ করে আমাদের দুর্বল করে দিতে চায়। যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক, তারা এ দিবসকে সমর্থন করে দেশ ও জাতির সর্বনাশ করতে পারেন না। যারা প্রগতিশীল, সুশীল ইত্যাদি বিশেষণে নিজেদের বিশেষিত করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ- দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তরুণ-তরুণীদের, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অশ্লীলতার পথ থেকে ফেরান। তাদের নৈতিক পতন রোধ করুন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবের নামে নীতি-নৈতিকতা ধ্বংসের প্রতিযোগিতা থেকে তাদের রক্ষা করুন।

‘ইসলামের তুমি দিয়ে কবর

মুসলিম বলে কর ফখর

মুনাফিক তুমি সেরা বেদ্বীন,

ইসলামে যারা করে যবেহ্

তুমি তাদের হও তাবে,

তুমি জুতা-বহা তারও অধীন।’

বাংলাদেশে প্রচলন :

বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। কিছু ব্যবসায়ীর মদদে এটি প্রথম চালু হয়। অপরিণামদর্শী মিডিয়া কর্মীরা এর ব্যাপক কভারেজ দেয়। আর যায় কোথায়! লুফে নেয় বাংলার তরুণ-তরুণীরা। এরপর থেকে ঈমানের ঘরে ভালোবাসার পরিবর্তে ভুলের বাসা বেঁধে দেওয়া কাজটা যথারীতি চলছে। আর এর ঠিক পিছনেই মানব জাতির আজন্ম শত্রু শয়তান এইডস নামক মরণ-পেয়ালা হাতে নিয়ে দাঁত বের করে হাসছে। মানুষ যখন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে জানত না, তখন পৃথিবীতে ভালোবাসার অভাব ছিল না। আজ পৃথিবীতে ভালোবাসার বড় অভাব। তাই দিবস পালন করে ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয়! আর হবেই না কেন! অপবিত্রতা নোংরামি আর প্রতারণার মাঝে তো আর ভালোবাসা নামক ভালো বস্তু থাকতে পারে না। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের হৃদয় থেকে ভালোবাসা উঠিয়ে নিয়েছেন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে চেনার আরও কিছু নমুনা পেশ করা আবশ্যক। দিনটি যখন আসে, তখন শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো একেবারে বেসামাল হয়ে উঠে। নিজেদের রূপ-সৌন্দর্য উজাড় করে প্রদর্শনের জন্য রাস্তায় নেমে আসে। শুধুই কি তাই! অঙ্কন পটীয়সীরা উল্কি আঁকার জন্য পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রাস্তার ধারে ধারে। তাদের সামনে তরুণীরা পিঠ, বাহু আর হস্তদ্বয় মেলে ধরে পছন্দের উল্কিটি এঁকে দেওয়ার জন্য। শরীরে উল্কি আঁকাতে যেয়ে নিজের ইযযত-আব্রু পরপুরুষকে দেখানো হয়, যা প্রকাশ্য কাবীরা গুনাহ। যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে তা আঁকা হয়, উভয়ের উপরই আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হয়। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ ‘আল্লাহ ঐ নারীর উপর লা‘নত করেন, যে পরচুলা লাগায় আর অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়। আর যে নারী উল্কি অঙ্কণ করে এবং যে তা করায়’।[5]    

মূলত যার লজ্জা নেই, তার পক্ষে এহেন কাজ নেই যা করা সম্ভব নয়। আবূ মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ ‘পূর্ববর্তী নবীদের নছীহত থেকে মানুষ যা লাভ করেছে, তার একটা হলো, যদি তুমি লজ্জাই না করো, তবে যা ইচ্ছে তাই করো’।[6]

ভালোবাসা দিবসে পশ্চিমা দেশ :

‘ভালোবাসা দিবস’-কে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবী উন্মাতাল হয়ে উঠে। বাজার ছেয়ে যায় নানাবিধ উপহারে। পার্ক ও হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো সাজানো হয় নতুন সাজে। পৃথিবীর প্রায় সব বড় শহরেই ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-কে ঘিরে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। হৈ চৈ, উন্মাদনা, ঝলমলে উপহারসামগ্রী, প্রেমিক যুগলের চোখে-মুখে থাকে বিরাট উত্তেজনা। হিংসা-হানাহানির যুগে ভালোবাসার এই দিনকে (!) প্রেমিক যুগল তাই উপেক্ষা করে সব চোখ রাঙানি। বছরের এ দিনটিকে তারা বেছে নিয়েছে হৃদয়ের গোপন কথার কলি ফোটাতে। এ দিনে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন এমনকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উপহার বিনিময় হয়। উপহারসামগ্রীর মধ্যে থাকে খাদ্য-দ্রব্য, ফুল, বই ছবি, ‘Be my valentine’ (আমার ভ্যালেন্টাইন হও), প্রেমের কবিতা, গান, শোক লেখা কার্ড প্রভৃতি। গ্রীটিং কার্ডে, উৎসব স্থলে অথবা অন্য স্থানে প্রেমদেব (cupid)-এর ছবি বা মূর্তি স্থাপিত হয়। সেটা হলো একটি ডানাওয়ালা শিশু, তার হাতে ধনুক এবং সে প্রেমিকার হৃদয়ের প্রতি তীর নিশান লাগিয়ে আছে। এ দিন স্কুল, কলেজ আর ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ক্লাসরুম সাজায় ও অনুষ্ঠান করে। ১৮শ শতাব্দী থেকেই শুরু হয়েছে ছাপানো কার্ড প্রেরণ। এসব কার্ডে ভালো-মন্দ কথা, ভয়-ভীতি আর হতাশার কথাও থাকত। ১৮শ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যেসব কার্ড ভ্যালেন্টাইন ডে-তে বিনিময় হতো, তাতে অপমানজনক কবিতাও থাকত।

ভালোবাসা দিবসে বাংলাদেশ :

পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এখন ঐ অপসংস্কৃতির মাতাল ঢেউ লেগেছে। ভালোবাসায় মাতোয়ারা থাকে ভালোবাসা দিবসে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলো। পার্ক, রেস্তোরাঁ, ভার্সিটির করিডোর, টিএসসি, ওয়াটার ফ্রন্ট, ঢাবির চারুকলার বকুলতলা, আশুলিয়া- সর্বত্র থাকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের তুমুল ভিড়। ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’ উপলক্ষ্যে অনেক তরুণ দম্পতিও হাযির হয় প্রেমকুঞ্জগুলোতে। ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ উদযাপন উপলক্ষ্যে দেশের নামী-দামী হোটেলের হলরুমে বসে তারুণ্যের মিলন মেলা। ‘ভালোবাসা দিবস’-কে স্বাগত জানাতে হোটেল কর্তৃপক্ষ হলরুমকে সাজান বর্ণাঢ্য সাজে। নানা রঙের বেলুন আর অসংখ্য ফুলে স্বপ্নিল করা হয় হলরুমের অভ্যন্তর। জম্পেশ অনুষ্ঠানের সূচিতে থাকে লাইভ ব্যান্ড কনসার্ট, ডেলিশাস ডিনার এবং উদ্দাম নাচ। আগতদের সিংহভাগই অংশ নেয় সে নাচে। ঘড়ির কাঁটা যখন গিয়ে ঠেকে রাত দুটার ঘরে, তখন শেষ হয় প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলের ‘ভালোবাসা দিবস’ বরণের অনুষ্ঠান। ঢাবির টিএসসি এলাকায় প্রতি বছর এ দিবসে বিকেল বেলা অনুষ্ঠিত হয় ভালোবাসা র‌্যালি। এতে বেশ কিছু খ্যাতিমান দম্পতির সাথে প্রচুর সংখ্যক তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকা, কিশোর-কিশোরী যোগ দেয়। প্রেমের কবিতা আবৃত্তি, প্রেম সংগীত, দাম্পত্য এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদির স্মৃতি চারণে অংশ নেয় তারা। এক শ্রেণির তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী এমনকি বুড়ো-বুড়িরা পর্যন্ত নাচতে শুরু করে! তারা পাঁচতারা হোটেলে, পার্কে, উদ্যানে, লেক পাড়ে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসে ভালোবাসা বিলাতে ও কথিত রোমান্স নামক অশ্লীলতার প্রদর্শন করতে। অশ্লীলতা, নোংরামি ও বেহায়াপনা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, গত কয়েক বছর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিচু মন মানসিকতার শিক্ষার্থী ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘের’ ব্যানারে মিছিল করে, যার স্লোগান ছিল ‘কেউ পাবে, কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না’ প্রেমের ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।[7]

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রকৃত অবস্থা :

পাশ্চাত্য সভ্যতার অনেক ভালো দিক রয়েছে। তারা জাগতিকভাবে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। তবে অশ্লীলতার প্রসারে যে অবক্ষয় তাদের স্পর্শ করেছে, তা তার সকল অর্জনকে কলঙ্কিত করেছে এবং সার্বিক ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করেছে। ‘ভালোবাসা’ উন্মুক্ত করে পথে-ঘাটে ‘সহজলভ্য’ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাদের নিজেদের ঘর-সংসারে ভালোবাসা নেই! তাদের ভালোবাসা জীবনজ্বালা আর জীবন জটিলতার নাম; মা-বাবা, ভাই-বোন হারাবার নাম; নৈতিকতার বন্ধন মুক্ত হওয়ার নাম। তাদের ভালোবাসার পরিণতি ‘ধরো ছাড়ো’ আর ‘ছাড়ো ধরো’ নতুন নতুন সঙ্গী।

তাদের এ ধরা-ছাড়ার বেলেল্লাপনা চলতে থাকে জীবনব্যাপী। ফলে কেউই আর পরিবার গঠনের মতো কঠিন ঝামেলায় (!) যেতে চাচ্ছে না। পরিবার গঠন করলেও পরিবার টিকছে না। বিবাহ বিচ্ছেদের হার খুবই ভয়ংকর। ১৯৭০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০% মানুষ পারিবারিক জীবনযাপন করতেন। অথচ ২০০০ সালে সে দেশের প্রায় ৫০% মানুষ কোনো রকম পারিবারিক বন্ধন ছাড়াই একবারে পৃথক ও একক জীবনযাপন করেন। বাকী ৫০% যারা পরিবার গঠন করেছেন, তাদেরও প্রায় তিন ভাগের এক ভাগের কোনো সন্তানসন্ততি নেই। এর ফলে তাদের মাঝে সহিংসতা, স্বার্থপরতা ও হিংস্রতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ দিবসের সর্বনিকৃষ্ট কাজ :

এ দিবসের দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে যুবক-যুবতীরা একত্রিত হয়। মিলনাকাঙ্ক্ষী অসংখ্য যুগলের সবচেয়ে বেশি সময় চুম্বনাবদ্ধ হয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আবার কোথাও কোথাও চুম্বনাবদ্ধ হয়ে ৫ মিনিট অতিবাহিত করে ঐ দিনের অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকে। নেশায় বুদ হওয়াও নতুন কোনো সংবাদ নয়। তারা এত কাছাকাছি আসে যে, একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যায়। শয়তান তাদের অন্য জগতে নিয়ে যায়। নেশার মধ্যেও এ ঘটনা ঘটে আর নেশা ছাড়াও ঘটে থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বান্দার কল্যাণের জন্য বলেন, وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ’ (বনী ইসরাঈল, ১৭/৩২)। অথচ আমরা একবারও খেয়াল করছি না, ভালোবাসার নামে আমরা এসব কী করছি? কোথায় নিয়ে যাচ্ছি প্রিয়জনদের? এ ভালোবাসার কী পরিণাম অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য?

পরিশেষে বলব, যখন এ পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক মানুষ না খেয়ে থাকে, যখন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কান্ডারি শিশুরা ক্ষুধায়, অপুষ্টিতে ভুগে মারা যায়, তখন আমরা অবৈধ বিনোদনের নামে এ সমস্ত নোংরা অনুষ্ঠান উদযাপন করে অজস্র অর্থ নষ্ট করি কোন মানবিকতায়? অতএব, যে কোনো মূল্যে এ সমস্ত অপসংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এ সমস্ত নছীহতগুলো মেনে চলার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!


* শিক্ষক, মাদ্রাসা ইশাআতুল ইসলাম আস-সালাফিয়্যাহ্, রাণীবাজার, রাজশাহী।

[1]. বাইবেল, রোমান, ৩/৭।

[2]. জামে‘ আত-তিরমিযী, হা/২১৮০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৮৯৭, মিশকাত, হা/৫৪০৮।

[3]. আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১।

[4]. জামে‘ আত-তিরমিযী, হা/২৬৯৫, হাসান ছহীহ।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৩৬, ৫৯৪০, ৫৯৪২, ৫৯৪৭; ছহীহ মুসলিম, ৩৭/৩৩, হা/২১২৪।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৬১২০, ৩৪৮৩; মিশকাত, হা/৫০৭২।

[7]. দৈনিক যুগান্তর, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০।