মক্কার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ফযীলত
-আব্দুল মালেক আহমাদ মাদানী*


মুসলিমদের সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থান মক্কা। মাসজিদুল হারাম এই মক্কা নগরীতেই অবস্থিত। আখেরী যামানার নবী মুহাম্মাদ a এখানেই জন্মগ্রহণ করেন এবং হেরা পর্বতে অহীপ্রাপ্ত হন। নবুঅতের ১৩টি বছর তিনি এখানেই অতিবাহিত করেন। এত সব মর্যাদার কারণে সকল মুসলিমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলো তাকে পবিত্র মক্কা নগরী ও তার ইতিহাস সম্পর্কে জানা, এই নিবন্ধে তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

নবী ইবরাহীম e স্ত্রী সারাকে সঙ্গে নিয়ে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের জন্মভূমি ইরাকের বাবেল শহর ত্যাগ করেন এবং হিজরত করে শামে গমন করেন। অতঃপর শাম থেকে মিশরে পৌঁছলে সেখানকার অত্যাচারী চরিত্রহীন লম্পট শাসক তাঁর সুন্দরী স্ত্রীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনৈতিক কর্মের বাসনা দেখাতে গিয়ে আল্লাহর গযবে নিপতিত হন। এতে শাসক ভীত হয়ে নিজের দাসী হাজেরাকে সারার খেদমতে দান করে দেন।

এই হাজেরাই হলো ইসমাঈল e-এর মা।[1] সন্তান ইসমাঈল e-এর জন্ম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাজেরার প্রতি ইবরাহীম e-এর ভালোবাসা একটু বেশি হয়ে যায়, কিন্তু সারার পক্ষে তা মেনে নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।[2] আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহীম e স্ত্রী হাজেরা ও নবজাতক শিশু ইসমাঈল eকে সঙ্গে নিয়ে জনমানবহীন ধু-ধু মরুভূমি মক্কায় গমন করেন এবং কা‘বার পার্শ্বে স্ত্রী হাজেরা ও নবজাতক শিশু ইসমাঈল eকে রেখে যান।

মূলত ইবরাহীম e মক্কায় মানবজাতির বসবাসের সূচনা করেন। যদিও কেউ কেউ বলেন, মক্কার আশেপাশে আমালিকা সম্প্রদায় বসবাস করত।[3] হাজেরা তার সন্তান ইসমাঈল e-কে নিয়ে কা‘বার পাশে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশু ইসমাঈল e-এর পায়ের আঘাত থেকে পানির আবির্ভাব ঘটে, যা যমযম কূপ হিসেবে খ্যাত। রাসূল a বলেন, ‘ইসমাঈল e-এর মা হাজেরার  উপর আল্লাহ রহম  করুন।  কেননা  তিনি  যদি যমযমকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিতেন, তাহলে তা একটি প্রবাহিত ঝরনায় পরিণত হতো’।[4]

যমযম পানি পানের ফযীলত :

উনায়স c বলেন, আমি এখানে (কা‘বায়) ৩০ দিন যাবৎ আছি। রাসূল a বললেন, ‘তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য কোনো খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি। এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কখনো ক্ষুধার কোনো দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ‘এ পানি অতিশয় বরকতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো পেট পূর্ণ করে দেয়’।[5] আয়েশা g বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ a নিজের সঙ্গে পাত্রে ও মশকে করে যমযমের পানি বহন করতেন’।[6]

একদা জুরহুম গোত্রের লোকেরা কা‘বার পাশ ‍দিয়ে অতিক্রম করার সময় যমযমের পানি দেখে হাজেরা ও ইসমাইল e-এর নিকট বলল, আমাদেরকে কি আপনাদের নিকট অবস্থান করার অনুমতি দিবেন? তিনি (হাজেরা) বললেন, হ্যাঁ। তবে পানির উপর তোমাদের কোনো অধিকার থাকবে না। তারা বলল, ঠিক আছে।[7]

অতঃপর জুরহুম গোত্রের লোকদের মাধ্যমে মক্কায় জনবসতি গড়ে উঠল। ইসমাঈল e যৌবনকালে পৌঁছলে জুরহুম গোত্রের মেয়েকে বিবাহ করেন। প্রথম স্ত্রী তালাক হলে দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং ১২ জন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বহুদিন পর ইবরাহীম e মক্কায় আসেন এবং সন্তান ইসমাঈল e-কে নিয়ে কা‘বা নির্মাণ করেন।[8] কা‘বা নির্মাণের সময় জান্নাতী পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ কা‘বাঘরের ‍দরজার পাশের ‍রুকনে স্থাপন করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, এ যাবৎ কা‘বা ১১ বার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।[9]

জুরহুম গোত্র মক্কার আমানতদারিতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে মক্কা নগরীতে যেনা-ব্যভিচার, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন রকমের ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হয়।

এদিকে ইয়ামান থেকে ছা‘লাবা ইবনু আমরের নেতৃত্বে খুযা‘আ গোত্র মক্কায় হিজরত করে আসে এবং কা‘বার পাশে বসবাসের অনুমতি চাইলে জুরহুম গোত্র প্রত্যাখ্যান করে। এতে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে জুরহুম গোত্র পরাজিত হয়ে মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়।[10]

খুযা‘আ গোত্র প্রায় ৩০০ বছর, কেউ কেউ বলেন, ৫০০ বছর মক্কা শাসন করেন। এই খুযা‘আ গোত্রের এক নেতা আমর ইবনু লুহাই আল-খুযায়ী শাম থেকে হুবাল নামক মূর্তি নিয়ে কা‘বার পাশে রেখে মক্কাবাসীদের পূজা করতে বলেন। তখন থেকেই মক্কাবাসীরা দ্বীনে হানীফ তথা ইবরাহীম e-এর তাওহীদী দ্বীন থেকে পৌত্তলিকতায় জড়িয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘আমি আমর ইবনু লুহাই আল-খুযায়ীকে তার বহির্গত নাড়িভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি, যে দ্বীনে ইবরাহীম পরিবর্তন করেছে’।[11]

একসময় খুযা‘আ গোত্র মক্কার আমানতদারিতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে কা‘বার কর্তৃত্ব নিয়ে খুযা‘আ গোত্রের সঙ্গে কুরাইশদের যুদ্ধ বাধে। অবশেষে খুযা‘আ গোত্র পরাজিত হলে কুরাইশদের নেতা কুছাই ইবনু কেলাব (রাসূলুল্লাহ a-এর ঊর্ধ্বতন চতুর্থ দাদা) কা‘বার দেখভালের পূর্ণ দায়িত্ব পান।

তার মৃত্যুর পর ছেলে আব্দুদ দার কা‘বার নেতৃত্ব পান। আব্দুদ দারের মৃত্যুর পর কা‘বার কিছু দায়িত্ব তার ছেলেদের হাতে আসে। আর কিছু দায়িত্ব আবদে মানাফ (রাসূলুল্লাহ a-এর ঊর্ধ্বতন তৃতীয় দাদা) এর সন্তানদের হাতে চলে আসে। আবদে মানাফের মৃত্যুর পর তার দুই সন্তান হাশেম (রাসূলুল্লাহ a-এর ঊর্ধ্বতন দ্বিতীয় দাদা) ও আবদে শামস কা‘বার দায়িত্ব পান।[12] 

হাশেমের মৃত্যুর পর কা‘বার দায়িত্ব পান, তার সন্তান আব্দুল মুত্তালিব (রাসূলুল্লাহ a-এর দাদা)। আব্দুল মুত্তালিবের সময় অর্থাৎ নবী করীম a-এর জন্মের প্রায় ৫০ দিন পূর্বে ইয়ামানের বাদশাহ আবরাহা কা‘বা ধ্বংসের জন্য বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কায় আসে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের ধ্বংস করে দেন।[13]

অতঃপর তার মৃত্যুর পর কা‘বার দায়িত্ব পান তার ছেলে আব্বাস (রাসূলুল্লাহ a-এর চাচা)। অতঃপর ৮ম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ a মক্কা বিজয় করলে কা‘বা ও মক্কা নগরী মুসলিমদের হাতে চলে আসে এবং রাসূলুল্লাহ a কা‘বা থেকে সকল মূর্তি অপসারণ করে পবিত্র করেন। সূচনা হয় আল্লাহ তাআলার দ্বীন ইসলামের সোনালী যুগ, আল-হামদুলিল্লাহ।

রাসূলুল্লাহ a-এর যুগ : ৮ থেকে ১১ হিজরী, ৩ বছর।

খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ : ১১ থেকে ৪০ হিজরী, মোট ৩০ বছর, মক্কা নগরী মুসলিমদের অন্যতম প্রদেশ ছিল।

উমাইয়া যুগ : ৪১ হিজরী থেকে ১৩২ হিজরী, ৯০ বছর। 

আব্বাসীয় যুগ : ১৩২ হিজরী থেকে ৬৫৬ হিজরী, ৫২৪ বছর।

মামলূকী যুগ : ৬৪৮ হিজরী থেকে ৯২৩ হিজরী, ২৭৫ বছর।

ছমানী যুগ : ৯২৩ হিজরী থেকে ১৩৪৪ হিজরী, ৪২১ বছর।

সঊদী যুগ : ১৩৪৪ ‍হিজরী থেকে বর্তমান সময় ১৪৪২ হিজরী পর্যন্ত। মোট ১৪৪২ বছর ধরে পবিত্র মক্কা নগরী অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রদেশ এবং মুসলিমদের প্রাণের কেন্দ্রস্থল হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে। উল্লেখ্য, আব্বাসী, মামলূকী ও উছমানী শাসনের সময় মক্কায় বিভিন্ন রকমের বিদআত চালু হয়।

মক্কা ও মাসজিদুল হারামের কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা : 

১. উমাইয়া শাসন ব্যবস্থায় ৬৪ হিজরীতে ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া সেনাপতি হুসাইন ইবনু নুমায়েরকে মক্কায় প্রেরণ করেন আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c-এর বায়‘আত নেওয়ার জন্য। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c তা প্রত্যাখ্যান করলে হুসাইন মক্কা নগরী অবরোধ করেন এবং মাসজিদুল হারামে মানজানিক[14] দিয়ে আক্রমণ করেন, এতে কা‘বা ও মাসজিদুল হারামের ব্যাপক ক্ষতি হয়।[15]

২. আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c কা‘বা ভেঙে ইবরাহীম e-এর ভিত্তির উপর কা‘বা পুনর্নির্মাণ করেন।[16]

৩. উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান ৭৩ হিজরীতে সেনাপতি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফকে আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c-এর বিরুদ্ধে পাঠান। হাজ্জাজ মক্কা অবরোধ করেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c-কে হত্যা করেন ও কা‘বা ভেঙে দিয়ে কুরাইশরা যেভাবে তৈরি করেছিল, তার উপর কা‘বা তৈরি করেন অর্থাৎ বর্তমান কা‘বা।[17]

৪. শী‘আ কাররামিয়া সম্প্রদায় ৩১৭ ‍হিজরীতে মাসজিদুল হারামে আক্রমণ করে শত শত মুছল্লী ও হাজীদের হত্যা করে মৃতদেহগুলোকে যমযম কূপে নিক্ষেপ করে। এমনকি ইমাম ইবনু কাছীর p বলেন, কাররামিয়াদের আমীর আবু তাহের কা‘বার দরজার সম্মুখে বসে নিজেকে এই বলে ঘোষণা করে যে, আমি আল্লাহ! আমি এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছি, আর তা ধ্বংস করে দিব (নাঊযুবিল্লাহ)। এরপর তার নির্দেশে হাজরে আসওয়াদ কা‘বা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর আল্লাহর মেহেরবানীতে ৩৩৯ হিজরীতে হাজারে আসওয়াদ মক্কাবাসীরা ফিরে পান।[18]

৫. কা‘বার চারপাশে প্রচলিত চার মাযহাবের নামে ৪৯৭ হিজরীতে চারটি মিহরাব তৈরি হয়, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্টতম বিদআত, যা মুসলিম উম্মাহকে অনৈক্যের পথে ঠেলে দেয়। এই বিদআত প্রায় ৭০০ বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।[19]

৬. অটোমান তথা উছমানী শাসনামলে ৪০০ বছর মক্কা নগরী ছিল তাদের অন্যতম বৃহৎ প্রদেশ। তাদের শাসনামলেও বিভিন্ন ধরনের বিদআত ও কুসংস্কার চালু হয়, বিশেষ করে কবর পাকা ও তার উপর গম্বুজ তৈরিকরণ।

৭. উছমানীদের পতনের পর ১৯২৫ সালে সঊদ বংশের বাদশাহ আব্দুল আযীয বিদআতীদের হাত থেকে মক্কা দখল করেন এবং সকল শিরক-বিদআতের মূলোৎপাটন করেন। বিশেষ করে কা‘বার চারপাশে যে চার মাযহাবের নামে চারটি মিহরাব ছিল, তা ভেঙে দিয়ে একটি মিহরাব রেখে তাতে এক ইমামের পিছনে সকল মুসলিমদের ছালাত আদায়ের ফরমান জারি করেন (আল-হামদুলিল্লাহ)। দীর্ঘ দিনের বিদআত অপসারিত হয়ে সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত হয়।[20]

বাদশাহ আব্দুল আযীযের মৃত্যুর পরে তাঁর বংশধর পর্যায়ক্রমে মক্কা শাসন করে আসছেন এবং মক্কা নগরী ও মাসজিদুল হারামের এত উন্নতি করেছেন, যা ইতিহাসে বিরল। 

৮. বাদশাহ খালেদের শাসনামলে ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মোতাবেক ১৪০০ হিজরীতে জুহাইমান নামক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবি করে কা‘বা আক্রমণ করে শত শত মুছল্লী হত্যা করে। অবশ্য পরবর্তীতে সে ও তার অনুসারীরা গ্রেফতার হয় এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।[21]

বাদশাহ খালেদের মৃত্যুর পর তার ভাই বাদশাহ ফাহাদ ক্ষমতায় আসেন এবং মাসজিদুল হারামের আয়তন ব্যাপক বৃদ্ধি করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভাই বাদশাহ আব্দুল্লাহ ক্ষমতায় আসেন এবং তিনি মাসজিদুল হারাম এতটা প্রশস্ত করেন, যা পূর্বের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে। একসঙ্গে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের ছালাতের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের এই খেদমত কবুল করুন।[22]

মক্কা ও মাসজিদুল হারামের ফযীলত :

১. ইসলামের অন্যতম রুকন হজ্জ, যার পূর্ণ বাস্তবায়ন, মক্কা ও মাসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হয়।[23]

২. পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত ঘর কা‘বা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ﴾ ‘নিশ্চয়ই প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও সৃষ্টিকুলের জন্য হেদায়াত’ (আলে ইমরান, ৩/৯৬)। মক্কার মাসজিদুল হারামের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত ঘরখানি পবিত্র কা‘বা আর কা‘বার চারপাশে গড়ে ওঠা আঙিনাই মাসজিদুল হারাম।

৩. পৃথিবীর সর্বপ্রথম মসজিদ মাসজিদুল হারাম, অতঃপর মাসজিদুল আক্বছা।[24]

৪. মসজিদে হারামে এক রাক‘আত ছালাত অন্য মসজিদের চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বেশি ছওয়াব হয়।[25]

৫. ছওয়াবের আশায় যে তিনটি মসজিদ সফর করা যাবে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মসজিদে হারাম, এরপর মসজিদে নববী, অতঃপর মসজিদে আক্বছা।[26]

৬. মক্কা হলো হারাম এলাকা। রাসূল a বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছেন। কোনো মানুষ তাকে সম্মানিত করেননি। সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোনো মানুষের জন্য মক্কায় রক্তপাত করা বা এর কোনো গাছ কাটা বৈধ নয়। কোনো প্রাণি শিকার করাও হারাম।[27] তবে মানুষ যা আবাদ করে বা যেসব প্রাণি লালনপালন করে, তাতে বাধা নেই।

মক্কা ও মাসজিদুল হারামে করণীয় ও বর্জনীয় :

১. কা‘বার দিকে পেশাব-পায়খানা না করা। কারণ তা হারাম।[28]

২. বিনয়-নম্রতার সঙ্গে বসবাস করা এবং কা‘বা ও মাসজিদুল হারামকে সম্মান করা। একই সঙ্গে মিনা, মুযদালিফা ও আরাফা ময়দানকেও সম্মান করা, কোনো প্রকার অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত না হওয়া।

৩. মাসজিদুল হারামে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা, তাসবীহ-তাহলীল, যিকির-আযকার করা এবং কা‘বা তাওয়াফ করা। সামর্থ্য থাকলে হজ্জ ও উমরা করা। বেশি বেশি দু‘আ করা, যেহেতু তা দু‘আ কবুলের স্থান। আল্লাহ তাআলা তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!


* বি.এ. (অনার্স), এম.এ. এবং এম.ফিল., মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; শিক্ষক, মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬৮; ফাতহুল বারী, ১৩/১৩৪-১৩৫।

[2]. আবুল ওয়ালীদ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-আযরাকী, আখবারে মক্কা, ১/৫৪; ফাতহুল বারী, ১৩/১৪১; ড. মাহদী রিযকুল্লাহ, আস-সিরাতুন নাবাবী, ১/৪৩-৪৫।

[3]. আযরাকী, আখবারে মক্কা, ১/৫৪।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬২।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৭৩।

[6]. তিরমিযী, হা/৯৬৩।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬২, ৩৩৬৩, ৩৩৬৪, ৩৩৬৫।

[8]. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/২০৮; ড. মাহদী রিযকুল্লাহ, সিরাতুন নববী, ১/৪৭।

[9]. ড. মাহদী রিযকুল্লাহ, আস-সিরাতুন নাববী, ১/৪৮-৫২।

[10]. আল-আযরাকী, আখবারে মক্কা, ১/৯০-৯৬।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৬২৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৫৬; আহমাদ, হা/৭৭১৪; ইবনু হিব্বান, হা/৭৪৯০।

[12]. আল-আযরাকী, আখবারে মক্কা, ১/১১০-১১৫।

[13]. তাফসীর ইবনু কাছীর, সূরা আল-ফীলের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

[14]. তৎকালীন সময়ে ব্যবহৃত এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র।

[15]. ‍আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২২১-২৩০।

[16]. প্রাগুক্ত।

[17]. ‍আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১১/৬৫০-৬৬০।

[18]. প্রাগুক্ত, ১১/১৬০-১৬৫।

[19]. রিহলাতু ইবনে যুবায়ের, পৃ. ৭০; তারীখে ইমারাতুল মাসজিদিল হারাম, পৃ. ২৩৩।

[20]. তারীখে ইমারাতুল মাসজিদিল হারাম, পৃ. ২৩৩।

[21]. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : তারীখে ইমারাতুল মাসজিদিল হারাম।

[22]. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : তারীখে মামলাকাতুল আরাবিয়্যা আস-সঊদিয়্যাহ এবং তারীখে ইমারাতুল মাসজিদিল হারাম।

[23]. বিস্তারিত দেখুন : হজ্জের বিধানে।

[24]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫২০।

[25]. ইবনু মাজাহ, হা/১৪০৬; আহমাদ, হা/১৪৬৯৪।

[26]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৯৭।

[27]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৩২।

[28]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৯৪।