মহিলারা কি মসজিদে ছালাত পড়তে পারবে?

আহমাদুল্লাহ

উপক্রমণিকা :

নারীরা মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করতে পারবে কি-না সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে প্রায়ই মতপার্থক্য প্রকাশ পায়। আর এই বিষয়ের স্পষ্ট সমাধান রাসূল (ছা.)-এর হাদীছের মধ্যেই বিদ্যমান। বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমরা কিছু হাদীছ নিয়ে আলোচনা করব এবং মাসআলাটির সমাধান করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

দলীল-১ :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا اسْتَأْذَنَكُمْ نِسَاؤُكُمْ بِاللَّيْلِ إِلَى المَسْجِدِ، فَأْذَنُوا لَهُنَّ

ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (ছা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের নারীরা রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি চায়, তখন তাদের অনুমতি প্রদান করো’।[1]

দলীল-২ :

عَنْ هِنْدَ بِنْتِ الحَارِثِ،أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخْبَرَتْهَا: أَنَّ النِّسَاءَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ إِذَا سَلَّمْنَ مِنَ المَكْتُوبَةِ، قُمْنَ وَثَبَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ صَلَّى مِنَ الرِّجَالِ مَا شَاءَ اللَّهُ، فَإِذَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ الرِّجَالُ

হিন্দ বিনতে হারেছ (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই উম্মে সালামা (রা.) তাকে জানিয়েছেন যে, নারীরা  আল্লাহর রাসূল (ছা.)-এর সময় ফরয ছালাতের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উঠে যেতেন আর আল্লাহর রাসূল (ছা.) ও তার সাথে ছালাত আদায়কারী পুরুষগণ আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা করেন অবস্থান করতেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছা.) দাঁড়াতেন, তখন পুরুষেরাও উঠে যেতেন।[2]

দলীল-৩ :

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُصَلِّي الصُّبْحَ، فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ، مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الغَلَسِ

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ছা.) যখন ফজরের ছালাত শেষ করতেন, তখন নারীরা চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের দরুন তাদেরকে (তখন) চেনা যেতো না’।[3]

দলীল-৪ :

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ قُلْتُ لِعَمْرَةَ: أَوَمُنِعْنَ؟ قَالَتْ: نَعَمْ

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, ‘যদি আল্লাহর রাসূল (ছা.) জানতেন যে, নারীরা কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাঈলের নারীদের যেমন বারণ করা হয়েছিল তেমনি এদেরকেও মসজিদে আসা নিষেধ করতেন। (রাবী বলেন) আমি আমরাহ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কি নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ।[4]

এই হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, নারীদের নিষেধাজ্ঞামূলক হুকুমটি মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে, যা আগের শরী‘আতে ছিল। এখনকার শরী‘আতে এই হুকুমটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া যদি নিষেধ করা হত, তাহলে আয়েশা (রা.) বলতেন না যে, যদি আল্লাহর রাসূল (ছা.) জানতেন যে, নারীরা কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাঈলের নারীদের যেমন বারণ করা হয়েছিল তেমনি এদেরকেও মসজিদে আসা নিষেধ করতেন। নিষেধ করেননি বলেই আয়েশা (রা.) ব্যক্তিগত মতামত পেশ করতে গিয়ে এভাবে বলেছেন।

দলীল-৫ :

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُطَوِّلَ فِيهَا، فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأَتَجَوَّزُ فِي صَلاَتِي كَرَاهِيَةَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمِّهِ»

আব্দুল্লাহ ইবনে আবু ক্বতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘আমি ছালাতে দাঁড়াই আর আমি তাতে (ছালাতের মধ্যে) দীর্ঘায়িত করতে ইচ্ছা করি। অতঃপর শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে আমি ছালাত সংক্ষিপ্ত করি এই আশঙ্কায় যে, (বাচ্চার কান্না) তার মায়ের জন্য কষ্টদায়ক হবে’।[5]  অর্থাৎ নারীরা তাদের কোলের শিশুসহ মসজিদে জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে যেতেন।

দলীল-৬ :

أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَأَدْخُلُ فِي الصَّلاَةِ وَأَنَا أُرِيدُ إِطَالَتَهَا، فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأَتَجَوَّزُ فِي صَلاَتِي مِمَّا أَعْلَمُ مِنْ شِدَّةِ وَجْدِ أُمِّهِ مِنْ بُكَائِهِ»

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছা.)  বলেছেন, ‘আমি ছালাতের মধ্যে প্রবেশ করি এবং আমি তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি। কিন্তু (পরে) শিশুর কান্না শ্রবণ করি। ফলে আমার ছালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই বিষণ্নহয়ে পড়ে তা আমি জানি।[6]

দলীল-৭ :

أَنَّ زَيْنَبَ الثَّقَفِيَّةَ، كَانَتْ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْعِشَاءَ فَلَا تَطَيَّبْ تِلْكَ اللَّيْلَةَ»

যায়নাব ছাক্বাফী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্য হতে কোনো নারী এশার ছালাতে (জামা‘আতের জন্য মসজিদে) হাযির হয়, তখন সে যেন এই রাতে সুগন্ধি না লাগায়’।[7]

 

দলীল-৮ :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ، وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلَاتٌ

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘নারীদেরকে আল্লাহর মসজিদসমূহ থেকে নিষেধ করবে না। কিন্তু তারা যেন (সুগন্ধি ব্যতীত) সাদামাটা কাপড়ে বের হয়’।[8]

দলীল-৯ :

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ : كَانَ رِجَالٌ يُصَلُّونَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَاقِدِي أُزْرِهِمْ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، كَهَيْئَةِ الصِّبْيَانِ، وَيُقَالُ لِلنِّسَاءِ : لاَ تَرْفَعْنَ رُءُوسَكُنَّ حَتَّى يَسْتَوِيَ الرِّجَالُ جُلُوسًا

সাহল ইবনে সা‘দ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, লোকেরা রাসূল (ছা.)-এর সাথে শিশুদের ন্যায় নিজেদের লুঙ্গি কাঁধে বেঁধে ছালাত আদায় করত, আর নারীদেরকে বলা হলো, পুরুষদের সোজা হয়ে বসা পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা উত্তোলন করবে না।[9]

দলীল-১০ :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ لِعُمَرَ تَشْهَدُ صَلاَةَ الصُّبْحِ وَالعِشَاءِ فِي الجَمَاعَةِ فِي المَسْجِدِ، فَقِيلَ لَهَا: لِمَ تَخْرُجِينَ وَقَدْ تَعْلَمِينَ أَنَّ عُمَرَ يَكْرَهُ ذَلِكَ وَيَغَارُ؟ قَالَتْ: وَمَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْهَانِي؟ قَالَ: يَمْنَعُهُ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ

ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ওমর (রা.)-এর একজন স্ত্রী ফজর এবং এশার ছালাতের জামা‘আতে মসজিদে হাযির হতেন। তাকে বলা হলো, আপনি কেন বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, ওমর (রা.) এটি অপসন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন? তিনি  বললেন, তাহলে আমাকে নিষেধ করতে কিসে তাকে বাধা দিচ্ছে? বলা হলো, তাকে বাধা দেয় আল্লাহর রাসূল (ছা.)-এর বাণী- ‘আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বারণ করো না’।[10]

দলীল-১১ :

النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا اسْتَأْذَنَتْ أَحَدَكُمُ امْرَأَتُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلَا يَمْنَعْهَا

নবী (ছা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কোনো নারী তার কাছে মসজিদে আসার অনুমতি চায়, তখন সে যেন তাকে নিষেধ না করে’।[11]

দলীল-১২ :

أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ إِذَا اسْتَأْذَنَّكُمْ إِلَيْهَا قَالَ: فَقَالَ بِلَالُ بْنُ عَبْدِ اللهِ: وَاللهِ لَنَمْنَعُهُنَّ، قَالَ: فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللهِ: فَسَبَّهُ سَبًّا سَيِّئًا مَا سَمِعْتُهُ سَبَّهُ مِثْلَهُ قَطُّ وَقَالَ: ” أُخْبِرُكَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَقُولُ: وَاللهِ لَنَمْنَعُهُ

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘তোমরা তোমাদের  নারীদেরকে মসজিদসমূহে যেতে বাধা দিবে না, যখন তারা তোমাদের কাছে অনুমতি চাইবে’। তিনি বললেন, বিলাল ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে বাধা দিব। তিনি বললেন, তার দিকে আব্দুল্লাহ (রা.) এগিয়ে গেলেন। তিনি তাকে এমন ভর্ৎসনা করলেন, যা আমি কখনোই শ্রবণ করিনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ছা.) হতে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো, আল্লাহর কসম! আমি তাকে বাধা দিব![12]

দলীল-১৩ :

سُئِلَ الْحَسَنُ عَنِ امْرَأَةٍ جَعَلَتْ عَلَيْهَا إِنْ أُخْرِجَ زَوْجُهَا مِنَ السِّجْنِ أَنْ تُصَلِّيَ فِي كُلِّ مَسْجِدٍ تُجْمَعُ فِيهِ الصَّلَاةُ بِالْبَصْرَةِ رَكْعَتَيْنِ، فَقَالَ الْحَسَنُ : تُصَلِّي فِي مَسْجِدِ قَوْمِهَا

হাসান  বাছরী (রহি.)-কে একজন নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যিনি তার স্বামীকে জেল হতে বের করার জন্য এই মর্মে মানত করেছিলেন যে, তিনি বাছরার প্রতিটি মসজিদে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করবেন যেখানে জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। হাসান (রহি.) বললেন, সে যেন তার গোত্রের মসজিদে ছালাত পড়ে।[13]  শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহি.) এটাকে ছহীহ বলেছেন।[14]

দলীল-১৪ :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ائْذَنُوا لِلنِّسَاءِ بِاللَّيْلِ إِلَى المَسَاجِدِ

ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘তোমরা নারীদেরকে রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি দিবে’।[15]

দলীল-১৫ :

عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِذَا أَنْسَانِي الشَّيْطَانُ شَيْئًا مِنْ صَلَاتِي، فَلْيُسَبِّحِ الرِّجَالُ، وَلْتُصَفِّقِ النِّسَاءُ

জাবের (রা.)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ছালাতে শয়তান যখন আমাকে কিছু ভুলিয়ে দিবে, তখন যেন পুরুষেরা সুবহানাল্লাহ পড়ে আর মেয়েরা হাততালি দেয়’।[16]

এসব হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, মহিলারা মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করতে পারবেন। তবে তাদের জন্য বাড়িতে ছালাত পড়াই বেশি উত্তম عَعَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ، وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ» : ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মেয়েদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিও না। তবে তাদের বাড়ি তাদের জন্য উত্তম’।[17]

এখানে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সে সময় ফিতনা ছিল না, তাই নারীদের মসজিদে যাওয়া নিরাপদ ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু ফিতনার যুগ, তাই নারীদের মসজিদে যাওয়া হারাম বা অনুচিত। এর জবাব আমরা হাদীছেই পাবো। ‘সুনানে তিরমিযী’তে আছে,

عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً خَرَجَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُرِيدُ الصَّلَاةَ، فَتَلَقَّاهَا رَجُلٌ فَتَجَلَّلَهَا، فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا

একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর যুগে ছালাত পড়ার অভিপ্রায়ে বের হলেন। একজন ব্যক্তি তাকে ধরে ফেলল এবং তাকে চাদরের ভিতরে জড়িয়ে ধরলো। অতঃপর সে (লোকটি) তার চাহিদা পূরণ করল।[18] নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহি.) ‘রজম করা’র অংশটুকু বাদে এটাকে হাসান বলেছেন; যুবায়ের আলী যাঈ (রহি.) হাসান বলেছেন।[19]

ধর্ষণের চাইতে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে? এরপরও রাসূলুল্লাহ (ছা.) নারীদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দেননি। সুতরাং আজকে ফিতনা হবে বলে যারা মসজিদে আসতে নারীদের বাধা প্রদান করেন, তারা ভুল করছেন কি-না তা ভেবে দেখার অনুরোধ রইল। তাবলীগী মহিলারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে তা‘লীমী বৈঠক করেন। তাতে কি ফিতনার আশঙ্কা নেই? মাজার-দরবারে নারী-পুরুষের ভিড়ে কি ফিতনার আশঙ্কা নেই? অবশ্যই রয়েছে। অথচ তারা এ সকল স্থানে নারীদের যেতে নিষেধ করেন না।

উপসংহার :

উপর্যুক্ত হাদীছগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, রাসূল (ছা.) মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে কখনোই বাধা দেননি বরং তাদেরকে উৎসাহিত করেছেন। অতএব তাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া আমাদের উচিত হবে না। কেননা আমরা যদি তা করি তাহলে তা হবে সুন্নাতে রাসূল (ছা.)-এর স্পষ্ট পরিপন্থী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে থাকার তাওফীক্ব দিন এবং বাতিলদের অপপ্রচার হতে আমাদের হেফাযত করুন- আমীন!

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৫।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৬।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৭।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৯।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৮।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৯।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪৩।

[8]. আবুদাঊদ, হা/৫৬৫।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬২।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/৯০০।

[11]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪২।

[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪২।

[13]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৭৬১৮।

[14]. তাহক্বীক্ব মাকালাত, ৩/২০১।

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৯৯।

[16]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৬৫৪, ‘ছহীহ লিগয়রিহী’।

[17]. সুনানে আবুদাঊদ, হা/৫৬৭, ‘ছহীহ’।

[18]. তিরমিযী, হা/১৪৫৪; মিশকাত, হা/৩৫৭২; আবুদাঊদ, হা/৪৩৭৯।

[19]. তাহক্বীক্ব মিশকাতুল মাছাবীহ, হা/৩৫৭২, ৪৩৪।