মুসলিম পরিবার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ছলেহ আল-উছায়মীন

অনুবাদ : ড. আব্দুল্লাহিল কাফী*

*  পিএইচডি, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(পর্ব-৩)

প্রশ্ন : কালো রং দ্বারা সাদা চুল রঙিন করার হুকুম কী?

উত্তর : কালো রং দ্বারা সাদা চুল রঙিন করা হারাম। কেননা রাসূল (ছা.) এরূপ করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সাদা চুলকে কোনো রং দিয়ে পরিবর্তন করে দাও; তবে কালো রং বর্জন করবে’।[1]   এছাড়া যে ব্যক্তি কালো রং দ্বারা তার সাদা চুল রঙিন করে তার ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে এটি কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং প্রত্যেক নর-নারীর এটিকে পরিহার করা উচিত। কেননা এর মাধ্যমে আল্লাহর  সৃষ্টিতে পরিবর্তন ঘটানো হয়। মহান আল্লাহ এ সাদা চুলকে সাধারণত বার্ধক্যের চিহ্ন হিসাবে প্রদান করেছেন। অতএব, কালো রং দ্বারা এটিকে পরিবর্তন করলে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে হিকমাহ অবলম্বন করেছেন, তার পরিপন্থী হবে। তবে লাল, হলুদ বা অন্যান্য রং দ্বারা রঙিন করা উচিত। রাসূল (ছা.)-এর অনুসরণ এবং তার নিষেধ থেকে বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে অধিকতর কল্যাণ সাধিত হবে।

প্রশ্ন : হাতে বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে উলকি অঙ্কনের হুকুম কী? কোনো বাচ্চা মেয়ের শরীরে উলকি অঙ্কন করলে কি তার গুনাহ হবে?

উত্তর : উলকি অঙ্কন করা হারাম এবং কাবীরা গুনাহ। রাসূল (ছা.) উলকি অঙ্কনকারী এবং তা গ্রহণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।[2]  যদি কোনো ছোট মেয়ের শরীরে উলকি অঙ্কন করা হয় এবং সে বাধা দিতে না পারে, তাহলে তার কোনো পাপ হবে না, বরং যে অঙ্কন করেছে তার পাপ হবে। কারণ, মহান আল্লাহ কারও উপর সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। এ ছোট্ট মেয়েটির কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। তবে পরবর্তীতে যদি কোনো ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়া উঠিয়ে ফেলা সম্ভব হয়, তাহলে উঠিয়ে ফেলবে।

প্রশ্ন : নারীদের ঠোঁটে লিপস্টিক এবং মুখে মেকআপ করার হুকুম কী?

উত্তর : ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এসব ক্ষেত্রে আসল হচ্ছে বৈধতা, যতক্ষণ না কুরআন-হাদীছ দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আর এটিকে উলকি অঙ্কনের সাথে তুলনা করা যাবে না। কারণ, উলকি হচ্ছে- স্থায়ীভাবে দেহের কোনো অঙ্গের রং নীল, সবুজ, কালো ইত্যাদি রঙে পরিবর্তন করা। শরী‘আতে এটি স্পষ্ট হারাম ও কাবীরা গুনাহ।

তবে লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটের যদি কোনো ক্ষতি হয়, যেমন: ঠোঁটের সিক্ততা দূর হয়ে শুকিয়ে যায় এবং ঠোঁট ফেটে যায়, তাহলে লিপস্টিক ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, ক্ষতিকারক প্রতিটি জিনিস শরী‘আতে নিষিদ্ধ।

আর মুখে মেকআপ করতে আমি নারীদেরকে নিষেধ করব। যদিও মেকআপ করে মুখের সৌন্দর্য সাময়িক বজায় থাকে, কিন্তু এর অনেক ক্ষতিকারক দিক ডাক্তারী পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, বয়স বেশি হলে তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন মেকআপ করে কোনো লাভ হয় না। অতএব, এর ক্ষতিকারক দিক বিবেচনা করে আমি আবারও নারীদেরকে তা থেকে বেঁচে থাকতে বলব।

প্রশ্ন : নারীদের হাতে মেহেদী দেওয়ার হুকুম কী? এ ব্যাপারে রাসূল (ছা.) থেকে কোনো কিছু কি বর্ণিত হয়েছে? নখ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হাতের তালুতে মেহেদী দেওয়ার হুকুম কী?

উত্তর : সৌন্দর্যের জন্য দুই হাতে মেহেদী দেওয়ার বিষয়টি নারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। নারীদেরকে যেহেতু তাদের স্বামীদের জন্য সাজসজ্জা করতে হয়, আর মেহেদী সাজসজ্জার অন্যতম একটি মাধ্যম, তাই নখ বাদ দিয়ে অথবা নখ সহ পুরো হাতে মেহেদী দেওয়া উচিত।

তবে ঋতুবতী নারী ছাড়া অন্য কারও জন্য নেইল পলিশ ব্যবহার করা বৈধ নয়। কেননা নেইল পলিশ দিলে ত্বকে ওযূর পানি পৌঁছায় না। তবে ওযূর সময় যদি উঠিয়ে ফেলে দেয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।

প্রশ্ন : কোনো কিছু ক্রয় করার জন্য দোকানদারের সাথে অথবা সেলাই করার জন্য দর্জির সাথে স্বাভাবিকভাবে (কোমল কণ্ঠে নয়) কথা বলা কি হারাম?

উত্তর : নারীদের কথা আওরাতের (عورة) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং পুরুষদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা-বার্তা বলাও তাদের জন্য অবৈধ নয়। তবে কেউ যদি নরম স্বরে, কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলে, যাতে ফিতনা সৃষ্টির আশঙ্কা হয়, তাহলে এটি হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا ‘তোমরা পর-পুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, কারণ এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। বরং তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে’ (আহযাব, ৩২)। মহান আল্লাহ এখানে বলেননি, তোমরা পুরুষের সাথে কথা বলো না; বরং বলেছেন, ‘তোমরা পর-পুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলো না’। স্বাভাবিক কথা-বার্তা তিনি নিষেধ করেননি।

অতএব, ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে পর-পুরুষের সাথে নারীর কথা-বার্তায় কোনো বাধা নেই। রাসূল (ছা.)-এর কাছে এসে মহিলা ছাহাবীগণ বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন, পুরুষ ছাহাবীগণ তাদের কথা শুনতে পেতেন। রাসূল (ছা.) সরাসরি তাদের প্রশ্নের জবাব দিতেন।

দু’টি শর্ত সাপেক্ষে নারীরা পর-পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে: ১. নারীর সাথে মাহরাম পুরুষ থাকা। ২. ফিতনার আশঙ্কা না থাকা। নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারীর সাথে কথা বলার সময় আত্মিক বা জৈবিক তৃপ্তি কামনা করা কোনো পুরুষের জন্য শোভনীয় নয়।

প্রশ্ন : পর-পুরুষের সামনে হাত খোলা রাখা কি নারীদের জন্য হারাম?

উত্তর : হাম্বালী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, নারীর দুই হাত তার মুখমণ্ডলের মতই পর-পুরুষের সামনে খোলা রাখা যাবে না। রাসূল (ছা.)-এর যুগে নারীরা এমনটিই করেছেন। তার প্রমাণ হলো, রাসূল (ছা.) ইহরাম অবস্থায় নারীদেরকে নিকাব এবং দুই হাতে মোজা পরতে নিষেধ করেছেন।[3] সুতরাং ঐ সময় নারীদের মধ্যে দুই হাতে মোজা পরার প্রচলন না থাকলে রাসূল (ছা.) তাদেরকে ইহরাম অবস্থায় মোজা পরতে নিষেধ করতেন না।

নারীদের উচিত, আল্লাহকে ভয় করা এবং পর-পুরুষের সামনে শরীরের এমন কিছু প্রকাশ না করা, যাতে ফিতনা সৃষ্টি হয়। সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ নারীগণ রাসূল (ছা.)-এর স্ত্রীদেরকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ বলেন, وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না’ (আহযাব, ৩৩)। তিনি আরও বলেন, وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ‘যখন তোমরা তাদের নিকট থেকে কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাও। এটি তোমাদের অন্তর এবং তাদের অন্তরসমূহ পবিত্র রাখার উত্তম উপায়’ (আহযাব, ৫৩)।

এখন কেউ যদি বলে, এ আয়াতগুলো রাসূল (ছা.)-এর স্ত্রীদের জন্য খাছ, তাহলে তার জবাবে আমরা বলব, অন্তর পবিত্র করা, হৃদয় পরিচ্ছন্ন করা রাসূল (ছা.)-এর স্ত্রীগণ সহ সকল নারীদের নিকট থেকে কাম্য। আর পর্দার মাধ্যমে যদি নারী-পুরুষ সকলের অন্তর পবিত্র হয়, তাহলে বুঝা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে রাসূল (ছা.)-এর স্ত্রী এবং অন্য নারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

কেউ কেউ মনে করে, পর্দা হচ্ছে মুখমণ্ডল ছাড়া শরীরের বাকী অংশ ঢেকে রাখা। কিন্তু সঠিক কথা হলো, নারীদের মুখমণ্ডল ঢাকাও অপরিহার্য। এটি শারঈ দলীল এবং বাস্তব যুক্তি দ্বারাও সাব্যস্ত। কারণ মুখমণ্ডল ফিতনা এবং জৈবিক আকাক্সক্ষা সৃষ্টির মূল মাধ্যম। কেউ এ কথা অস্বীকার করতে পারবে না যে, একজন পুরুষের প্রথম চাওয়া হচ্ছে, নারীর সুন্দর মুখমণ্ডল।

অতএব, নারীদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা, শালীনতা বজায় রাখা, ফিতনার আশঙ্কা থেকে দূরে থাকা, মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা, যাতে যে কোনো প্রকার ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকা যায়।

প্রশ্ন : অনেকেই তাদের কন্যাদেরকে খাটো ও টাইট পোশাক পরাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এসব টাইট পোশাক ছোট-বড় সকলের শরীরের উঁচু-নিচু অংশগুলো ফুটিয়ে তোলে। আপনার নিকট থেকে এদের ব্যাপারে নছীহত কামনা করছি।

উত্তর : প্রতিটি মানুষের উচিত, তার উপর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি সচেতন হওয়া। তার উচিত, আল্লাহকে ভয় করা এবং যেসব মেয়ের উপর তার অভিভাবকত্ব রয়েছে, তাদেরকে টাইট ও খাটো পোশাক পরিধানে বাধা দেওয়া। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে দুই শ্রেণির মানুষকে আমি এখনো বাস্তবে দেখিনি। এক. ঐ সমস্ত মানুষ, যাদের নিকট গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকজনকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে। দুই. ঐ সমস্ত মহিলা, যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও তাদের নগ্নতা প্রকাশ পায়, আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের উঁচু কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত-এত দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়’। [4]

এ সমস্ত টাইট পোশাক পরিহিতা নারীদেরকে উলঙ্গ বলাই শ্রেয়। কেননা পোশাক পরিধান করা সত্ত্বেও তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পায়। আর পর-পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল, হাত-পা সহ শরীরের পুরো অংশ (عورة) লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত। টাইট পোশাকের কারণে শরীরের উঁচু-নিচু অংশগুলো ফুঁটে উঠে। যে কারণে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পোশাক পরা হলেও প্রকৃত অর্থে এটি নগ্নতা। নারীদের উচিত, আল্লাহকে ভয় করা এবং শরীরের স্পর্শকাতর  অঙ্গগুলো প্রকাশ না করা। যদি কোনো যরূরী প্রয়োজনে বাজারে যেতেই হয়, তাহলে সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাকে পর্দার সাথে বের হবে। এমন পোশাক পরবে না, যাতে অন্যদের দৃষ্টি তার দিকে যায়। এমনকি সুগন্ধিও মাখবে না, যাতে পুরুষরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। রাস্তায় দাম্ভিকতার সাথে চলাচল করবে না। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘পুরুষের জন্য নারী জাতি অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে গেলাম না’।[5]

নারীদের ফিতনা খুবই মারাত্মক। খুব কম মানুষই আছে, যারা এ ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। আমাদের সকলের উচিত, ইয়াহূদী-খ্রীস্টান সহ আল্লাহর সকল শত্রুদের পথ পরিহার করা, নইলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে।

রাসূল (ছা.) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। এরপর রাসূল (ছা.) এ আয়াত পাঠ করেন, وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ ‘আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোনো জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের যুলুমের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন’ (হূদ, ১০২)।[6]  মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন, وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ ‘আমি তাদেরকে অবকাশ দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল অত্যন্ত দৃঢ়’ (আ‘রাফ, ১৮৩)।

যারা নারীদের পর্দাহীনতা এবং নারী-পুরুষের সহাবস্থানের দিকে আহ্বান করছে, তারা সুস্পষ্ট ভ্রান্তি ও অজ্ঞতার মধ্যে আছে। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছা.)-এর বিধানকে অমান্য করে চলেছে। পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে যারা এ ফিতনায় পড়েছিল, তাদের পরিণতি সম্পর্কে তারা জানে না অথবা না জানার ভান করে। আজ অবশ্য তারাও এ ফিতনা থেকে মুক্তি পেতে চায়। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব? এগুলো এমন বদাভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা প্রবল প্রচেষ্টা ছাড়া দূর করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : অনেকেই তাদের কন্যাদের উপর বেশি কড়াকড়ি করেন। এমনকি চার বছর বয়সেই ওড়না পরতে বাধ্য করেন এবং বলে থাকেন, ছোট থেকেই কাউকে কোনো কিছুর উপর গড়ে তুললে শেষ বয়স পর্যন্ত তার উপরেই অবিচল থাকে। এভাবে পরিবারের সকলকে পর্দা করতে বাধ্য করেন। এ ছোট্ট মেয়েটি, যে কোনো কিছু বুঝে না, তার উপর এমন কড়াকড়ির ব্যাপারে আপনার মতামত জানাবেন।

উত্তর : হ্যাঁ, অবশ্যই। ছোট থেকেই কাউকে কোনো কিছুর উপর গড়ে তুললে শেষ বয়স পর্যন্ত তার উপরেই অবিচল থাকে। এজন্যই রাসূল (ছা.) বালেগ না হওয়া সত্ত্বেও ছালাতে অভ্যস্ত করার জন্য সন্তানদেরকে সাত বছর বয়সেই ছালাতের আদেশ দিতে বলেছেন।

কিন্তু খুব বেশি ছোট মেয়েদের ক্ষেত্রে পর্দার হুকুম প্রযোজ্য হবে না। তার মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত-পা ঢাকা তার উপর আবশ্যকীয় নয় এবং তাকে বাধ্য করাও উচিত হবে না। কিন্তু কন্যা যখন এমন বয়সে উপনীত হবে যে, ছেলেরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তাকে দেখে জৈবিক চাহিদা সৃষ্টি হয়, তখন তার উপর পর্দা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে, যাতে করে যে কোনো প্রকার ফিতনা ও অনিষ্ট থেকে সে বাঁচতে পারে। অবশ্য এর নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। কোনো কোনো মেয়ে খুব দ্রুত যুবতী হয়, আবার অনেকে আছে এর বিপরীত।

প্রশ্ন : বাজারে দোকানদারদের সাথে কথা বলার সময় যাতে হাত দেখা না যায়, সে জন্য হাতমোজা পরার হুকুম কী?

উত্তর : পর-পুরুষের সামনে হাতমোজা পরা খুবই ভালো অভ্যাস, বরং সব মেয়েদেরই এমনটি করা উচিত। রাসূল (ছা.) ইহরাম অবস্থায় নারীদেরকে নিকাব এবং হাতমোজা পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।[7] এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঐ সময় মুসলিম নারীরা হাতমোজা পরতে অভ্যস্ত ছিলেন। নিঃসন্দেহে এটি নারীদের পূর্ণাঙ্গ পর্দার অংশ এবং ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম উপায়। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে হাতমোজা পুরুষদের নযর কাড়বে এমন আকর্ষণীয় না হয়।

 (চলবে)

[1]. মুসলিম, হা/২১০২।

[2]. বুখারী, হা/৫৯৪৭।

[3]. বুখারী, হা/১৮৩৮।

[4]. মুসলিম, হা/২১২৮।

[5].  বুখারী, হা/৫০৯৬।

[6]. বুখারী, হা/৪৬৮৬।

[7]. বুখারী, হা/১৮৩৮।