মুসলিম পরিবার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ছলেহ আল-উছায়মীন
অনুবাদ : ড. আব্দুল্লাহিল কাফী
পি-এইচ. ডি., মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(পর্ব-৪)

প্রশ্ন : ফক্বীহগণ শরী‘আতের বিভিন্ন মাসআলায় মতভেদ করেছেন। তন্মধ্যে নারীদের পর্দা সংক্রান্ত মাসআলাটি অন্যতম। বাহ্যিক দৃষ্টিতে পর্দা সংক্রান্ত বিভিন্ন বর্ণনার পারস্পরিক বৈপরীত্যের দরুন এ মতভেদের সৃষ্টি। আসলে শারঈ পর্দা বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : শারঈ পর্দা হচ্ছে, শরীরের যেসব অঙ্গ পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করা হারাম, সেসব অঙ্গ ভালোভাবে ঢেকে রাখা। মুখমণ্ডল ঢাকা তার মধ্যে অন্যতম। কারণ, মুখমণ্ডল ফিতনা এবং জৈবিক আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টির কেন্দ্র। অতএব, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে মুখ ঢেকে রাখা নারীদের উপর ওয়াজিব। যারা শারঈ পর্দা বলতে মাথা, ঘাড়, গলা, পা, পায়ের নলা ও বাহু ঢেকে রাখা মনে করেন এবং মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখাকে বৈধ বলে মত প্রকাশ করেন, আমি তাদের কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। কারও অজানা নেই যে, মুখমণ্ডলই হচ্ছে জৈবিক আকাঙ্ক্ষা এবং ফিতনা সৃষ্টির মূল কেন্দ্র। কোন বিবেকে আমরা বলি, শরী‘আত মেয়েদের পা খোলা রাখা হারাম করেছে, আর মুখমণ্ডল খোলা রাখা বৈধ করেছে? এটি মহান আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ সামঞ্জস্যশীল পবিত্র শরী‘আতের বিধান হতে পারে না। যার সামান্যতম জ্ঞান আছে সেও জানে, পা খোলা রাখলে যে ফিতনা সৃষ্টি হতে পারে, মুখমণ্ডল খোলা রাখলে তার থেকে নিঃসন্দেহে বেশি হবে। সে এটাও জানে, পুরুষদের জৈবিক আকাঙ্ক্ষা  সৃষ্টির মূল কেন্দ্র মেয়েদের মুখমণ্ড । এ কারণে বিবাহের প্রস্তাবকারী ছেলেকে যদি বলা হয়, তুমি যে মেয়েটিকে বিবাহ করতে চাচ্ছ, তার মুখমণ্ড  তেমন সুন্দর না, তবে তার পা দু’টি খুবই সুন্দর, তাহলে সে ছেলে ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে আগ্রহী হবে না। পক্ষান্তরে যদি তাকে বলা হয়, মেয়েটির মুখমণ্ড  অনেক সুন্দর, তবে তার হাত/পা/পায়ের নলা তেমন একটা সুন্দর না, তবুও সে ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে আগ্রহী হবে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, নারীদের মুখমণ্ড  ঢেকে রাখা কত যরূরী বিষয়!

পবিত্র কুরআন, ছহীহ সুন্নাহ, ছাহাবায়ে কেরাম এবং বিজ্ঞ ইমামগণ ও খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে মুখমণ্ডসহ শরীরের পুরো অংশ ঢেকে রাখা নারীদের উপর আবশ্যকীয়। তবে এতসব দলীল-প্রমাণ এখানে উল্লেখ করার সময় নেই। আমি আপনাদেরকে এ বিষয়ে আমার ছোট্ট পুস্তিকাটি পড়ার অনুরোধ করছি। বইটি আকারে ছোট হলেও এর ফায়দা অনেক ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন : যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পর্দা করতে বাধা দেয়, তাকে কী বলবেন?

উত্তর : তার প্রতি আমার অনুরোধ, সে যেন তার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তারই শুকরিয়া আদায় করে। কারণ, আল্লাহ তাকে এমন একজন সতী নারী স্ত্রী হিসাবে দান করেছেন, যে নিজের সতীত্বকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে চায়। আল্লাহ তা‘আলা তার মুমিন বান্দাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন নিজেদেরকে এবং পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। তিনি বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা অমান্য করে না তা, যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদেশপ্রাপ্ত হয়, তা-ই করে’ (তাহরীম, ৬)। রাসূল (ছা.) পরিবারের বিষয়ে পুরুষদের দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘পুরুষ ব্যক্তি তার পরিবারের দায়িত্বশীল এবং সে এই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’।[1]   

মহান আল্লাহ এবং তার রাসূল (ছা.)-এর এ সমস্ত নির্দেশের পর ঐ ব্যক্তি কীভাবে তার স্ত্রীকে শারঈ পোশাক বাদ দিয়ে হারাম পোশাক পরতে বাধ্য করে? অথচ এ পোশাক তার স্ত্রী এবং অন্যদের জন্যও ফিতনার কারণ হবে। অতএব, সে যেন তার নিজের এবং স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং সার্বক্ষণিক তার শুকরিয়া আদায় করে এ মর্মে যে, তিনি একজন সতী নারীকে তার স্ত্রী হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।

আর তার স্ত্রীর ব্যাপারে আমরা বলব,  আল্লাহর  অবাধ্যতায় স্বামীর আনুগত্য চলবে না। কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য করা হারাম।

প্রশ্ন : কোনো কোনো নারীকে একটি কথা পুনরাবৃত্তি করতে দেখা যায়, যেটি তারা আলেমদের কাছ থেকে শুনেছে বলে দাবি করে। সেটি হচ্ছে, যে নারী বাড়িতে থাকা অবস্থায় তার হাতের কনুই প্রকাশ করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার কনুই আগুনে পুড়বে। সাধারণত কিছু নারীর জামার হাতা সামান্য লম্বা হয়, আবার অনেকের কনুই পর্যন্ত থাকে। এর হুকুম জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : ক্বিয়ামতের দিন কনুই পুড়ে যাওয়ার যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবে স্বামী এবং মাহরাম পুরুষ ছাড়া পরপুরুষদের সামনে হাতের কনুই প্রকাশ করা হারাম। নারীদের উচিত, শালীনতা বজায় রাখা, সাধ্যমত পর্দা করা এবং দুই হাতের কনুই ঢেকে রাখা। তবে বাড়িতে যদি স্বামী এবং মাহরাম ছাড়া অন্য কোনো পরপুরুষ না থাকে, তাহলে কনুই প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই। যে নারীর জামার হাতা কনুই পর্যন্ত আছে, আমি তাকে বলব, তোমার এই জামা এভাবেই থাকুক, অসুবিধা নেই। তোমার স্বামী এবং অন্যান্য মাহরাম পুরুষের সামনে এটি পরতে পার। কিন্তু তোমার বাড়িতে যদি বেগানা পুরুষ থাকে, যেমন: স্বামীর ভাই বা অন্য কেউ, তাহলে নতুন আরেকটা জামা বানাও এবং সেটির হাতা কব্জি পর্যন্ত করবে। যে জামার হাতা কনুই পর্যন্ত, সে জামা পরে বাইরে বের হওয়া কোনো নারীর উচিত নয়; বরং বোরখাসহ ফুল হাতা ঢিলেঢালা জামা পরে বাজারে বের হবে।

প্রশ্ন : সাজসজ্জা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে সাথে সাথে স্কুলে চলে যাওয়া কি একজন নারীর জন্য বৈধ?
আরেকটি

প্রশ্ন, একজন মুসলিম নারীর জন্য অন্যান্য নারীর সামনে কোনো ধরনের রূপসজ্জা প্রকাশ করা হারাম?

উত্তর : নারীদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে বাজারে বের হওয়া হারাম। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘কোনো নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো মজলিসের নিকট দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে এইরূপ, এইরূপ। অর্থাৎ সে ব্যভিচারিণী’।[2]  কেননা সুগন্ধি ব্যবহার করে বাজারে বের হলে ফিতনার আশঙ্কা থাকে।

তবে যাদের সামনে সুগন্ধি মেখে যাওয়া বৈধ, তাদের সাথে যদি সুগন্ধি মেখে গাড়িতে উঠে সরাসরি কর্মস্থলে চলে যায় এবং আশেপাশে কোনো পরপুরুষ না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এক্ষেত্রে ভয়ের কোনো কারণ নেই। সে বাড়িতে যেমন, গাড়িতেও তেমন। তবে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় যদি পরপুরুষদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে হয়, তাহলে সুগন্ধি ব্যবহার করা বৈধ হবে না। উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রী বা কন্যাকে বেগানা ড্রাইভারের সাথে গাড়িতে একাকী চড়তে দেওয়া অনুচিত। কেননা এটি স্পষ্ট নির্জনতা, যা থেকে রাসূল (ছা.) নিষেধ করেছেন।

দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বলব, কোনো নারী যদি অন্যান্য নারীর সামনে প্রচলিত রীতি-নীতির বাইরে সাজসজ্জা না করে, তবে তা বৈধ। তবে যদি তার পোশাক খুবই পাতলা হয় এবং এতে তার ত্বক স্পষ্ট বুঝা যায় অথবা তার পোশাক এমন টাইট হয়, যাতে তার স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো প্রকাশ পায়, তাহলে এটি হারাম। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে দুই শ্রেণির মানুষকে আমি এখনো বাস্তবে দেখিনি। ১. ঐ সমস্ত মানুষ, যাদের নিকট গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকজনকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে। ২. ঐ সমস্ত মহিলা, যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও তাদের নগ্নতা প্রকাশ পায়, আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের উঁচু কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এতো এতো দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়’।[3]

প্রশ্ন : কোনো কোনো অঞ্চলে একসাথে একাধিক পরিবার বসবাসের রীতি চালু আছে। যেমন: দুই বা ততোধিক ভাই তাদের পরিবারসহ এক বাড়িতেই বসবাস করে। এমতাবস্থায় মেয়েরা তাদের দেবর বা ভাসুরদের সামনে মুখ খোলা রাখে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : একসাথে একাধিক পরিবার বসবাস করলেও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে মেয়েদেরকে পর্দা করতে হবে। স্বামীর ভাইদের সামনেও মুখ খোলা রাখা যাবে না। কেননা পর্দার ক্ষেত্রে স্বামীর ভাই এবং রাস্তার লোকজনের জন্য একই হুকুম প্রযোজ্য হবে। স্বামী কাজের জন্য বাইরে চলে গেলে তার ভাইয়ের সাথে একাকী বাসায় থাকা যাবে না। এ সমস্যা অনেক পরিবারেই দেখা যায়। যেমন: দুই ভাই একই বাসায় থাকে। তাদের একজন বিবাহিত, আরেকজন অবিবাহিত। এ অবস্থায় অবিবাহিত ভাইয়ের কাছে স্ত্রীকে রেখে কাজের বা পড়াশুনার জন্য বাইরে যাওয়া বৈধ হবে না। কেননা রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ যেন অন্য নারীর সঙ্গে নিভৃতে অবস্থান না করে’।[4]  তিনি আরও বলেন, ‘মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাকো’। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর  রাসূল! দেবরের ব্যাপারে কী হুকুম? তিনি বললেন, ‘দেবর হচ্ছে মৃত্যুতুল্য’।[5]  

এভাবে একত্রে বসবাসের ফলে প্রায় যেনা-ব্যভিচার ঘটার খবর পাওয়া যায়। দেখা যায়, স্বামী তার স্ত্রী এবং ভাইকে বাসায় রেখে কাজে চলে যায়। এদিকে শয়তান তাদের দু’জনকে অশ্লীলতার প্রতি উৎসাহ দিতে থাকে। তখন ঐ ব্যক্তি তার ভাবীর সাথে অপকর্মে লিপ্ত হয়। প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে অপকর্মের থেকে এটি বেশি মারাত্মক এবং নোংরামি।

যাহোক, আমি আবারো আপনাদেরকে বলব, ভাই যতই পরহেযগার এবং বিশ্বস্ত হোক না কেন, তার সাথে স্ত্রীকে বাসায় রেখে কাজে চলে যাওয়া কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখবেন! শয়তান মানুষের রগে রগে চলাচল করে এবং মানুষের জৈবিক চাহিদার নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই, বিশেষ করে যুবকদের।

প্রশ্ন : কিন্তু এভাবে দুই ভাই যদি একত্রে বসবাস করে, তাহলে কি আমরা বিবাহিত ভাইকে বলব, তুমি যখন কাজে বের হবে, তখন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বের হবে?

উত্তর : না; বরং বাড়িটিকে দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া যায়। দুই দিকে দুই ভাই আলাদা আলাদাভাবে থাকবে। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশদ্বার থাকবে। স্বামী যখন কাজের জন্য বের হবে, তখন দরজায় তালা দিয়ে তার সাথে চাবি নিয়ে চলে যাবে। ফলে স্ত্রী বাড়ির একদিকে থাকবে, ভাই আলাদাভাবে অন্য দিকে থাকবে।

প্রশ্ন : কিন্তু তার অবিবাহিত ভাই যদি তাকে বলে, ভাই! তুমি এমন করছো কেন? তুমি কি আমাকে বিশ্বাস কর না?

উত্তর : তাকে বলবে, আমি তোমার ভালোর জন্যই এটি করেছি। কারণ, শয়তান মানুষের রগে রগে চলাচল করে। সে তোমাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাছাড়া তোমার কুপ্রবৃত্তিও তোমার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। যার ফলে তোমার বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাবে এবং জৈবিক চাহিদা মিটাতে অপকর্মে লিপ্ত হতে পারো। আমি তোমার হেফাযতের জন্যই বাড়ি আলাদা করেছি। এটি তোমার-আমার উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। একথা বলার পর তোমার ভাই যদি ক্ষিপ্ত হয়, তাহলে সে ক্ষিপ্ত হোক। এতে তোমার কোনো কিছু করার নেই। আমি আল্লাহর  নিকট দায়মুক্ত হওয়ার জন্য তোমাদেরকে এ কথাগুলো বললাম। তোমরা আল্লাহর  নিকট তোমাদের কর্মের জন্য জবাবদিহিতা করবে।

কোনো নারীর জন্য তার দেবরের সামনে মুখ খোলা রাখা বৈধ নয়। কারণ দেবর মাহরাম পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এক্ষেত্রে সে রাস্তার অন্য পুরুষদের মতোই।

প্রশ্ন : সম্প্রতি নারীদের মধ্যে ‘নিকাব’ নামক একটি নতুন সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে, যা সকলের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। আসলে নিকাব পরিধান করা কোনো সমস্যা নয়; বরং নিকাব পরিধানের পদ্ধতিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোপূর্বে নারীরা যখন নিকাব পরিধান করতো, তখন তাদের দুই চোখ ছাড়া কোনো কিছুই দেখা যেত না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই পরিসর বৃদ্ধি পেয়ে দুই চোখের সাথে মুখের একটি অংশও দেখা যাচ্ছে, যেটি ফিতনা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারীরা যখন নিকাব পরিধানের সময় চোখে সুরমা লাগায়, তখন বিষয়টি আরও মারাত্মক হয়। তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা বলে, আপনি নাকি এভাবে নিকাব পরিধানকে বৈধ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। আশা করি বিস্তারিত আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কর করবেন।

উত্তর : সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, রাসূল (ছা.)-এর যুগে নারীদের মধ্যে নিকাব পরিধানের প্রচলন ছিল। রাসূল (ছা.) মুহরিমাহ[6] নারী সম্পর্কে বলেন, ‘নিকাব পরিধান করবে না’।[7] এ হাদীছ থেকে বুঝা যায়, সে যুগে নারীদের মাঝে নিকাব পরার প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে নিকাব পরা বৈধ বলে ফৎওয়া দিতে পারছি না। কেননা বৈধ বলে ফৎওয়া দিলে নারীরা এমনভাবে নিকাব পরা আরম্ভ করবে, যেটি শরী‘আত কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ কারণে কাছের হোক বা দূরের হোক কোনো নারীকেই আমি নিকাব পরা বৈধ বলে ফৎওয়া দিইনি; বরং এটির বিরোধিতাই করে আসছি। নারীদের উচিত, আল্লাহকে ভয় করা এবং নিকাব পরিধান থেকে দূরে থাকা। কেননা এটি অন্যায়ের দুয়ার উন্মুক্ত করবে, যা পরবর্তীতে বন্ধ করা যাবে না।[8]

(চলবে)

[1]. বুখারী, হা/৮৯৩।

[2]. আবুদাঊদ, হা/৪১৭৩; তিরমিযী, হা/২৭৮৬।

[3]. মুসলিম, হা/২১২৮।

[4]. বুখারী, হা/৩০০৬।

[5]. বুখারী, হা/৫২৩২।

[6]. যে নারী হজ্জ বা ওমরার জন্য ইহরাম বাঁধে। অর্থাৎ হজ্জ বা ওমরার নিয়্যত করে।

[7]. বুখারী, হা/১৮৩৮।

[8]. নিকাব পরিধান করতে নিষেধের অর্থ এই নয় যে, নারীরা মুখ খোলা রাখবে; বরং শায়েখের উদ্দেশ্য হলো, নিকাব ব্যবহার করলে পুরোপুরি মুখ ঢাকা হয় না। তাই এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, যাতে পরিপূর্ণভাবে পর্দা করা হয়।–অনুবাদক।