মুসলিম পরিবার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ছলেহ আল-উছায়মীন
অনুবাদ : ড. আব্দুল্লাহিল কাফী

(শেষ পর্ব)

প্রশ্ন : শায়খ! আপনার হাতের লেখা একটি জবাব পড়েছি। সেখানে আপনি বলেছেন, নারীরা মাহরাম পুরুষদের সামনে মুখ, মাথা, ঘাড়, হাতের দুই কব্জি এবং বাহু, দুই পা, পায়ের নলা খোলা রাখতে পারবে। দেহের বাকি অংশ তাদের সামনে আবৃত করবে। শায়খ! আপনি কি এ ফৎওয়া সাধারণভাবে কোনো প্রকার শর্তারোপ ছাড়াই দিয়েছেন? কারণ, আমরা জানি, আপনি কোনো অবস্থাতেই নারী এবং শিশুদের পোশাক খাটো হওয়াকে বৈধ বলে মনে করেন না। বিষয়টি পরিষ্কার করলে উপকৃত হব।

উত্তর : আমরা যখন বলব, এটি খোলা রাখা বৈধ- এর অর্থ এই নয় যে, তারা এর উপর ভিত্তি করে তাদের পোশাক বানাবে; বরং এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোনো নারী যদি তার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পোশাক পরে থাকে, অতঃপর কোনো কারণবশত তার পোশাক হাঁটু পর্যন্ত উঠে যায়, তাহলে মাহরাম পুরুষ এবং নারীরা ছাড়া অন্য কেউ না দেখলে তার কোনো গুনাহ হবে না।

মাহরাম পুরুষ এবং অন্য নারীদের সামনে খাটো পোশাক পরা যদি জায়েযও মনে করা হয়, তবুও আমরা তা থেকে নিষেধ এবং সতর্ক করি। কারণ, আমরা জানি, এটিকে বৈধ বলে ফৎওয়া দিলে পরবর্তীতে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে, যেমনটি অন্যান্য বিষয়ে হয়ে থাকে। মানুষ প্রথম অবস্থায় যতটুকু বৈধ, ততটুকুই করে, কিন্তু আস্তে আস্তে সীমা অতিক্রম করে এবং সুস্পষ্ট হারামের দিকে চলে যায়। রাসূল (ছা.)-এর বাণী, ‘কোনো নারী অন্য নারীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না’-এর অর্থ এই নয় যে, অন্য নারীদের সামনে শুধু নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকলেই চলবে। কোনো বিদ্বান এ কথা বলতে পারেন না; বরং এর অর্থ হলো, নারীর পুরো শরীরে পোশাক থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো কারণবশত তার বুক অথবা পায়ের নলা বের হয়ে যায়, তাহলে অন্য নারীদের সে দিকে দেখতে কোন বাধা নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাচ্চাকে দুধ পান করানোর সময় কোনো নারীর যদি স্তন বের হয়ে যায়, তাহলে আমরা অন্য নারীদেরকে বলতে পারব না, তোমাদের ঐ দিকে তাকানো হারাম। কেননা অন্য নারীদের ক্ষেত্রে স্তন লজ্জাস্থানের (عورة) অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু কোনো নারী যদি বলে, আমি শুধু পায়জামা পরে থাকব, তাহলে বলব, এটি বৈধ নয় এবং কেউ এটিকে বৈধ বলতে পারেন না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া উল্লেখ করেছেন, বাড়িতে অবস্থানকালে নারী ছাহাবীদের পোশাক ছিল হাতের কব্জি থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। আর বাইরে বের হলে তার থেকে লম্বা পোশাক পরিধান করতেন, যা উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছা.) তাদেরকে এক হাত পরিমাণ লম্বা করার অনুমতি দিয়েছেন, যাতে চলাচলের সময় পা বের না হয়ে যায়।

প্রশ্ন : কোনো কোনো শিক্ষিকা বা ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার জন্য যখন বাসে বা গাড়িতে উঠে, তখন তাদের মুখ খোলা রাখে। তাদের যুক্তি হলো, গাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থায় কেউ তাদেরকে দেখতে পায় না। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানিয়ে বাধিত করবেন। যে ড্রাইভার তাদেরকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, তার ব্যাপারেই বা কী বলবেন?

উত্তর : শিক্ষিকা হোক বা ছাত্রী হোক, গাড়িতে চড়ুক বা পায়ে হেঁটে চলুক, কোনো নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে মুখ খোলা রাখা বৈধ নয়; বরং হারাম। কিন্তু গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাদেরকে যদি কাচের ভিতর দিয়ে বাইরে থেকে দেখা না যায় এবং ড্রাইভার ও তাদের মাঝে পর্দা থাকে, তাহলে মুখ খোলা রাখতে কোনো বাধা নেই। কেননা পুরুষশূন্য ঘরে থাকার মতোই তাদের অবস্থা। তবে বাইরে থেকে যদি তাদেরকে দেখা যায় অথবা ড্রাইভার এবং তাদের মাঝে পর্দা না থাকে, তাহলে মুখ খোলা রাখা বৈধ নয়। কারণ, ড্রাইভার বা অন্য পরপুরুষ তাদেরকে দেখে ফেলতে পারে।

ড্রাইভারের বিষয়ে বলব, তার উপার্জন হারাম নয়। কেননা ঐ মহিলারা তাদের মুখ খোলা রাখার জন্য তার গাড়ি ভাড়া করেনি; বরং স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা গাড়ি ভাড়া করেছে। তবে ড্রাইভারের উচিত, তাদেরকে মুখ ঢাকার জন্য অনুরোধ করা। যদি তারা না শোনে, তাহলে কাপড় দিয়ে হোক অথবা অস্বচ্ছ কাচ দিয়ে হোক তার এবং মহিলাদের মাঝে পর্দা করে দিবে। আশা করা যায়, এভাবেই ফিতনার আশঙ্কা দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : নারীদের সালামের জবাব দেওয়ার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী? নারীরা কি পুরুষদেরকে সালাম দিতে পারবে? এক্ষেত্রে কম বয়সী এবং বেশি বয়সী নারীদের মাঝে কি পার্থক্য করা যাবে? কারণ, বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা থাকে না। বয়স্ক নারীদের সাথে মুছাফাহা করা এবং তাদের মাথায় চুমু দেয়ার হুকুমই বা কী?

উত্তর : নারী-পুরুষ পরস্পরকে সালাম দিবে না। কেননা এতে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ফোনে কথা বলার সময় প্রয়োজন অনুপাতে সালাম দিতে পারে, অথবা ঐ নারী যদি তার পরিচিত কেউ হয়, তাহলেও সালাম দিতে কোনো অসুবিধা নেই। পক্ষান্তরে বাজারে কোনো অপরিচিত নারীর সাথে দেখা হলে তাকে সালাম দিবে না। কেননা এতে ভয়ানক ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে।

মাহরাম পুরুষগণ নারীদের মাথায় এবং কপালে চুমু দিতে পারে। এমনকি পিতা তার কন্যার গালেও চুমু দিতে পারবে। আয়েশা (রা.) যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন আবুবকর (রা.) তাকে দেখতে যেয়ে তার গালে চুমু দিয়েছিলেন। তবে কন্যা ছাড়া অন্য কেউ হলে শুধুমাত্র মাথায় এবং কপালে চুমু দিবে।

পরপুরুষের সাথে নারীদের মুছাফাহা করা হারাম। কারণ, তাদেরকে দেখার থেকে তাদের সাথে মুছাফাহা করাতে বেশি ফিতনা হবে। তবে মাহরাম পুরুষগণ বয়স্ক নারীদের মাথায় চুমু দিলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু পরপুরুষদের জন্য অনুমতি নেই।

প্রশ্ন : সৎমায়ের মাথায় কি চুমু দেওয়া যায়?

উত্তর : হ্যাঁ, যাবে। কারণ, তিনি মাহরামদের অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন : সৎকন্যার সাথে কি মুছাফাহা করা যাবে?

উত্তর : যদি তার মায়ের সাথে সহবাস হয়ে থাকে এবং ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকতে পারে, তাহলে মুছাফাহা করতে কোনো বাধা নেই।

প্রশ্ন : যদি তার মায়ের সাথে সহবাসই না হয়ে থাকে, তাহলে সে কোথা থেকে আসল?

উত্তর : এই নারীর অন্য একজনের সাথে বিবাহ হয়ে একটি কন্যা সন্তান হয়েছিল। পরে তার স্বামী তাকে তালাক দিলে এই ব্যক্তি তাকে বিবাহ করে। এমতাবস্থায় তার সাথে সহবাস না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যক্তি তার আগের পক্ষের কন্যার মাহরাম সাব্যস্ত হবে না।

প্রশ্ন : সচরাচর কোনো কোনো নারীকে দেখা যায়, তারা তাদের শরীরের এবং ঊরুর চুল পরিষ্কার করার জন্য অন্য নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এক্ষণে প্রশ্ন হলো, একজন নারী কি অন্য নারীর ঊরুর দিকে তাকাতে পারে? এ কাজটি কি নারীদের জন্য খুব যরূরী?

উত্তর : না, এটি নারীদের জন্য যরূরী নয়; বরং ঊরু এবং পায়ের নলার চুল পরিষ্কার করার বিষয়টি বিতর্কিত। কারণ, চুল আল্লাহর সৃষ্টি। আর তার অনুমতি ছাড়া তার সৃষ্টিকে বিকৃত করা শয়তানের অনুপ্রেরণার ফলশ্রুতি। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ ‘আর অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দিব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে’ (নিসা, ১১৯)। চুল আল্লাহর সৃষ্টি। অতএব, তিনি যে চুল কাটার অনুমতি দিয়েছেন, শুধুমাত্র সে চুলই কাটা যাবে। যেমন, নাভির নিচের চুল, বগলের চুল, পুরুষের গোঁফ। পক্ষান্তরে যে চুল কাটার অনুমতি দেননি, সে চুল কাটা যাবে না। যেমন- ঊরু বা পায়ের নলার চুল। তবে নারীদের পায়ের নলার চুল যদি পুরুষদের মতো বেশি ঘন থাকে, তাহলে সে চুল পরিষ্কারে কোনো বাধা নেই। আর ঊরুর চুল যদি ঘন থাকে, তাহলে নারীকে নিজে নিজেই তা পরিষ্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য নারীর সহযোগিতা নেওয়া যাবে না। আর বর্তমান যুগে অন্যের সহযোগিতার তো প্রয়োজনই নেই; বরং অনেক পদার্থ রয়েছে, যার মাধ্যমে খুব সহজেই চুল পরিষ্কার করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

প্রশ্ন : যে নারী পর্দার ক্ষেত্রে অবহেলা করে, তার পরিণতি কী হবে? সে কি পরকালে আগুনে পুড়বে?

উত্তর : সৎকর্ম দ্বারা মোচন হয় না, এমন পাপ করে যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয়েছে, সে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। সে যদি শিরক বা কুফরী করে, তাহলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ

‘নিশ্চয়ই কেউ আল্লাহর সাথে শিরক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। আর যালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই’ (মায়েদাহ, ৭২)। তিনি আরও বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শিরককারীকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন’ (নিসা, ৪৮)। তবে শিরক ছাড়া অন্যান্য পাপ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

নারীদের উপর আবশ্যকীয় হলো, পরপুরুষের সামনে পুরো শরীর আবৃত করে পরিপূর্ণ পর্দা করা। মহান আল্লাহ বলেন,

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ

‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী-কন্যা ও মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না’ (আহযাব, ৫৯)।

আয়াতে বর্ণিত جلباب হচ্ছে, এক ধরনের লম্বা বিশেষ চাদর, যা সমস্ত শরীরকে আবৃত করে। মহান আল্লাহ তার রাসূল (ছা.)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন, তিনি যেন তার স্ত্রী-কন্যা ও মুমিন নারীদেরকে চাদর দিয়ে তাদের দেহ আবৃত করতে বলেন, যাতে তাদের গলা ও মুখমণ্ডলও ঢেকে যায়। পবিত্র কুরআন, ছহীহ সুন্নাহ এবং বিশুদ্ধ রায় দ্বারা প্রমাণিত যে, পরপুরুষের সামনে নারীদের মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব। যদি নারীদের উপর মাথা ও দুই পা ঢাকা আবশ্যকীয় হয়ে থাকে এবং ভিতরের সাজসজ্জা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় জোরে পা ফেলতে নিষেধ করা হয়, তাহলে মুখ ঢাকার আবশ্যকীয়তা আরও বেশি তীব্রতর। এ ব্যাপারে কোনো বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি দ্বিমত পোষণ করবেন না। কারণ, মাথার চুল বা পায়ের নখ দেখা গেলে যে ফিতনা সৃষ্টি হয়, মুখ দেখা গেলে তার থেকে বহুগুণ বেশি ফিতনা হয়। কোনো মুমিন জ্ঞানী ব্যক্তি যদি শরী‘আতের আহকাম, হিকমত ও তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন, তাহলে তার নিকট স্পষ্ট হবে যে, শরী‘আত কখনই নারীদের মাথা, ঘাড়, হাতের বাহু, পা, পায়ের নলা ঢাকাকে বাধ্যতামূলক করে তাদের হাতের কব্জি, সুন্দর মুখমণ্ডল খোলা রাখাকে বৈধ করতে পারে না; বরং এটি হিকমত পরিপন্থী।

যে ব্যক্তি মুসলিম সমাজের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করবে, যেখানে নারীদের মুখ ঢাকার বিষয়ে শিথিলতার কারণে নারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের মাথা, ঘাড়, গলা, বাহু ইত্যাদি প্রকাশ করে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার নিকট স্পষ্ট হবে যে, নারীদের মুখমণ্ডল  ঢাকাই হচ্ছে বিচক্ষণতার দাবি। মুসলিম নারীদের উচিত, আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা এবং পরপুরুষের সামনে পুরো শরীর আবৃত করে ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকা।

প্রশ্ন : নারীরা যখন চিকিৎসার জন্য পুরুষ ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য হয়, তখন ডাক্তারের সামনে শরীরের কিছু অংশ বের করা যরূরী হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে শরী‘আতের হুকুম জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : নারী ডাক্তার না থাকলে পুরুষ ডাক্তারের কাছে যেতে কোনো বাধা নেই। এমনকি ডাক্তার শরীরের যেসব অঙ্গ দেখার প্রয়োজন মনে করবেন, সেসব অঙ্গ দেখাতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো, নারীর সাথে তার মাহরাম থাকতে হবে, কোনো অবস্থাতেই ডাক্তারের সাথে একাকী থাকা যাবে না। কারণ, পুরুষ-নারীর নিভৃতে অবস্থান করা হারাম। শুধুমাত্র প্রয়োজনের জন্য পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাওয়া বৈধ বলে ফৎওয়া দিচ্ছি। খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামের মতে, সরাসরি হারাম না হওয়ায় এটি বৈধ হবে। এটি হারাম কাজে পতিত হওয়ার অসীলা বা মাধ্যম। আর হারামের অসীলা হওয়ার কারণে যে কাজকে হারাম বলা হয়, তা প্রয়োজনে করা যেতে পারে।

প্রশ্ন : যরূরী প্রয়োজনে কোনো নারী যদি পরপুরুষের সামনে মুখ খোলা রাখে, যেমন- প্রতিবেশীর স্ত্রী যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যায় এবং ঐ সময় তার স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষ অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার হুকুম কী হবে?

উত্তর : নিঃসন্দেহে নারীদের সাথে একত্রিত হওয়া এবং তাদের সাথে মুছাফাহা করা পুরুষদের জন্য হারাম। আর নারী-পুরুষ নিভৃতে অবস্থান করা আরও গর্হিত অন্যায়। কিন্তু যরূরী প্রয়োজন হলে তার হুকুম ভিন্ন। মহান আল্লাহ বলেন,

و وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ

‘যা তোমাদের জন্য তিনি হারাম করেছেন, তা তিনি বিশদভাবেই তোমাদের জন্য বিবৃত করেছেন, তবে তোমরা নিরুপায় হলে তা স্বতন্ত্র’ (আন‘আম, ১১৯)। অতএব, প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার জন্য যদি তার সাথে কথা বলতে এবং তার বাড়িতে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে অসুবিধা নেই। তবে ফিতনা থেকে দূরে থাকতে হবে। এ কারণে সে যদি তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যায়, তাহলে নির্জনতা দূর হয়ে যাবে এবং ফিতনার আশঙ্কাও থাকবে না।

প্রশ্ন : অন্ধ শিক্ষক কি স্কুলে মেয়েদের ক্লাস নিতে পারবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : অন্ধ শিক্ষক পাঠদানের উদ্দেশ্যে মেয়েদের ক্লাসে যেতে পারে। কারণ, ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে নারীরা পুরুষদের দিকে তাকাতে পারে। রাসূল (ছা.) ফাতেমা বিনতে ক্বায়েস (রা.)-কে বলেন, ‘তুমি ইবনে উম্মে মাকতূমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করো। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে প্রয়োজনবোধে তুমি তোমার পরিধানের পোশাক খুলে রাখতে পারবে’।[1]  এমনিভাবে হাবাশীরা যখন মসজিদে খেলছিল, তখন রাসূল (ছা.) আয়েশা (রা.)-কে তাদের দিকে তাকাতে অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে, যেমন- অন্ধ শিক্ষক যদি ছাত্রীদের কণ্ঠস্বর উপভোগ করে, অথবা তাদের কাউকে নিকটে এনে তার হাত ধরে, তাহলে বৈধ হবে না। এ হুকুম পুরুষদের দিকে তাকানো হারাম বলে নয়; বরং ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকার জন্য।

[1]. মুসলিম, হা/১৪৮০।