মুসলিম পরিবার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ছলেহ আল-উছায়মীন

অনুবাদ : ড. আব্দুল্লাহিল কাফী

 

প্রশ্ন : নারীরা রূপসজ্জার জন্য যেসব সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো, কৃত্রিম চুলসৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এসব চুল ব্যবহারের হুকুম কী?

উত্তর : রূপসজ্জার জন্য কৃত্রিম চুল ব্যবহার বৈধ নয়। কেননা এর মাধ্যমে নারীর মাথা বাস্তবের থেকে বেশি লম্বা দেখায়। রাসূল (ছাঃ) পরচুলা ব্যবহারকারী এবং এ পেশাধারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।[1]  কিন্তু নারীর মাথায় যদি বাস্তবেই চুল না থাকে, তাহলে খুঁত ঢাকার জন্য কৃত্রিম চুল ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কেননা খুঁত দূর করা শরী‘আতে বৈধ। এ কারণে রাসূল (ছাঃ) কোনো এক যুদ্ধে একজন ছাহাবীর নাক কাটা পড়লে তাকে স্বর্ণের নাক বানিয়ে নিতে বলেন। এমনিভাবে কারও নাক বাঁকা হলে সোজা করে নিতে পারে। যদি কোনো কালো দাগ থাকে, তাহলে সে দাগ দূর করতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে খুঁত দূর করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হলে বৈধ হবে না। যেমন: উল্কি অঙ্কন, ভ্রুরুর চুল উৎপাটন ইত্যাদি। স্বামী অনুমতি দিলেও কৃত্রিম চুল ব্যবহার করা হারাম। কারণ, মহান আল্লাহ যেটিকে হারাম করেছেন, সেটিতে অন্য কারও অনুমতি বা সন্তুষ্টির মূল্য নেই।

প্রশ্ন : অনেক নারীকে তাদের ভ্রুর চুল উঠিয়ে ফেলতে অথবা ছেঁটে হালকা করতে দেখা যায়সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে এরূপ করার হুকুম কী?

উত্তর : উক্ত মাসআলাটির দু’টি দিক রয়েছে: প্রথমত, যদি সম্পূর্ণ উপড়িয়ে ফেলে, তাহলে সেটি হারাম এবং কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, ভ্রুর চুল উৎপাটনকারীকে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ) অভিশাপ দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, যদি হালকা করার জন্য ছাঁটে, তাহলে সে অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা সে বিষয়ে বিদ্বানদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উত্তম হলো, না ছাঁটা।

তবে যদি কোনো নারীর অস্বাভাবিক কোনো জায়গায় চুল গজায়, যেমন: কোনো নারীর যদি গোঁফ অথবা দাড়ি গজায়, তাহলে সেটি উৎপাটন করতে কোনো বাধা নেই। কারণ, দাড়ি বা গোঁফ নারীদের জন্য স্বাভাবিক নয়, বরং তাদের সৌন্দর্য বিকৃত করে।

ভ্রু সাধারণত পাতলা হয়, আবার ঘনও হয়। সুতরাং যে জিনিসটি সচরাচর দেখা যায়, সেটিতে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়। কারণ, মানুষ এটিকে খুঁত হিসাবে বিবেচনা করে না, বরং থাকা না থাকা উভয়টি সৌন্দর্য বলে গণ্য করে। অতএব ভ্রু ঘন হওয়া এমন কোনো খুঁত না যে, মানুষকে তা উপড়ে ফেলতে হবে।

প্রশ্ন : নারীরা রূপসজ্জার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে, তার মধ্যে একটি হলো, মাথায় খোপা ব্যবহার করা, যাতে চুলগুলো মাথার উপরে সুন্দরভাবে বাঁধা থাকেশরীআতের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী?

উত্তর : চুল যদি মাথার উপরে উঁচু করে বাঁধা থাকে, তাহলে শরী‘আতে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে দুই শ্রেণির মানুষকে আমি এখনো বাস্তবে দেখিনি। এক. ঐ সমস্ত মানুষ, যাদের নিকট গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকজনকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে। দুই. ঐ সমস্ত মহিলা, যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও তাদের নগ্নতা প্রকাশ পায়, আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের উঁচু কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত-এত দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়’।[2]   অতএব, চুল যদি মাথার উপরে উঁচু হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিষেধ। আর যদি ঘাড়ের উপরে ঝুলানো থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে এভাবে বাজারে বের হওয়া যাবে না। কারণ, তখন এটি নিষিদ্ধ সৌন্দর্য প্রদর্শনের (تبرج) অন্তর্ভুক্ত হবে। এ অবস্থায় বোরখার অন্তরালে চুলের আলামত প্রকাশিত হয়। যে কারণে এটি সৌন্দর্য প্রদর্শন ও ফিতনা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন : ইদানীং দেখা যাচ্ছে, নারীরা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে কাঁধ পর্যন্ত চুল রাখছে, উঁচু হিল পরছে এবং বিভিন্ন রূপসজ্জা সামগ্রী ব্যবহার করছেশরীআতের দৃষ্টিতে এগুলোর হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই

উত্তর : নারীরা যদি এমনভাবে চুল ছোট করে, যাতে পুরুষদের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তাহলে এটি হারাম এবং কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, পুরুষের বেশধারী নারীকে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ) অভিশাপ দিয়েছেন।[3]  তবে যদি পুরুষদের সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়, তাহলে এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের তিনটি মত রয়েছে। কেউ বৈধ বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন, হারাম। আবার অনেকেই মাকরূহ বলেছেন। অবশ্য হাম্বলী মাযহাবে মাকরূহ হিসাবেই প্রসিদ্ধ।

প্রকৃতপক্ষে বাইরের দেশ থেকে আসা প্রত্যেক রীতিকে গ্রহণ করা আমাদের জন্য উচিত নয়। আমরা অল্প কিছুদিন পূর্বেই দেখেছি, নারীরা তাদের ঘন ও লম্বা চুল নিয়ে প্রতিযোগিতা করতো। কিন্তু আজকে তাদের কী এমন হলো যে, তারা চুল ছোট করার প্রতি ঝুঁকে পড়ছে? অথচ এটি আমাদের বাইরের দেশ থেকে আসা একটি রীতি। আমি সব নতুন বিষয় গ্রহণ করতে নিষেধ করছি না, বরং যেগুলোর মাধ্যমে মুসলিম সমাজে অমুসলিমদের রীতি-নীতি ছড়িয়ে পড়বে, সেগুলো থেকে নিষেধ করছি।

কোনো নারী যদি অস্বাভাবিক উঁচু হিল পরে এবং সবার মাঝে নিজেকে প্রদর্শন করে তাদের দৃষ্টি তার দিকে ফিরায়, তাহলে এটি বৈধ নয়। কারণ মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى ‘তোমরা জাহেলী যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না’ (আহযাব, ৩৩)। সুতরাং কোনো নারী যদি সাজসজ্জা করে নিজেকে প্রদর্শন করে অন্য নারীদের মাঝে নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে চায়, তাহলে সেটি হারাম এবং কোনো অবস্থাতেই এটি করা তার জন্য বৈধ নয়। কোনো ক্ষতি বা ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে যে কোনো রূপসজ্জা সামগ্রী ব্যবহার করাতে কোনো বাধা নেই।

প্রশ্ন : নারীদের চোখে সুরমা লাগানোর হুকুম কী?

উত্তর : দু’টি উদ্দেশ্যে সুরমা লাগানো হয়। প্রথমত, চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি, চোখের ছানি দূর করা এবং চোখকে পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যে সুরমা ব্যবহার করলে তাতে কোনো দোষ নেই, বরং এটি করা উচিত। কারণ, রাসূল (ছাঃ) তাঁর দু’চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন। দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে চোখে সুরমা লাগানো। এটি নারীদের নিকট থেকে কাম্য। কারণ, তাদের উচিত তাদের স্বামীদের জন্য সাজসজ্জা করা।

আর পুরুষদের সুরমা লাগানোর বিষয়ে আমি আরেকটু গবেষণা করতে চাই, আপাতত কিছু বলবো না। তবে এটুকু বলা যায়, যুবকদের ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা থাকায় তাদের সুরমা না লাগানোই উচিত। পক্ষান্তরে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ফিতনার কোনো আশঙ্কা না থাকায় তাদের সুরমা ব্যবহারে কোনো আপত্তি নেই।

প্রশ্ন : স্বামীর সামনে সাজসজ্জার জন্য একজন নারী কি আধুনিক মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করতে পারে? আর মেকআপ করে তার পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য মুসলিম নারীর সামনে আসতে পারবে কি?

উত্তর : সাধ্যানুযায়ী একজন নারী তার স্বামীর জন্য শারঈ পরিসীমার মধ্যে সাজসজ্জা করবে। কারণ, নারী যতই রূপসজ্জা করবে, তার প্রতি স্বামীর ভালোবাসা ততই বৃদ্ধি পাবে এবং উভয়ের বন্ধন অটুট হবে। এটি শরী‘আতের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। মেকআপ করে যদি তাকে সুন্দর লাগে এবং তার কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে প্রসাধনী ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। কিন্তু আমি শুনেছি, মেকআপ করলে নাকি মুখের ত্বকের অনেক ক্ষতি হয়। যার ফলে বার্ধক্যের আগেই ত্বকের বিশ্রী পরিবর্তন ঘটে। আমি নারীদেরকে অনুরোধ করবো, তারা যেন ডাক্তারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। যদি ক্ষতি প্রমাণিত হয়, তাহলে মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করা হারাম, নয়তো নূন্যতম হলেও মাকরূহ। কারণ, যে বস্তু মানুষের চেহারাকে বিকৃত ও বীভৎস করে, তা হারাম অথবা মাকরূহ।

আমি এ সুযোগে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তা হচ্ছে, নারীরা হাত-পায়ের নখে যে নেইল পলিশ ব্যবহার করে, ছালাত পড়ার সময় এটির ব্যবহার জায়েয নয়। এর রয়েছে এক ধরনের প্রলেপ বা স্তর, যেটি পবিত্র হতে গেলে ত্বকে পানি পৌঁছাতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। আর যেসব জিনিস ত্বকে পানি পৌঁছাতে অন্তরায় সৃষ্টি করে, ওযূ ও ফরয গোসলকারীর জন্য তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ ‘তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও’ (মায়েদাহ, ৬)। অতএব, যে নারীর নখে নেইল পলিশ লাগানো, তার ত্বকে পানি পৌঁছবে না। ফলে সে তার হাত ধুয়েছে বলে গণ্য হবে না। এতে করে তার ওযূ বা গোসলের একটি ফরয ছুটে গেলো। কিন্তু যে নারীর ছালাত নেই, তার নেইল পলিশ ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। তবে এটি যদি অমুসলিম নারীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়, তাহলে মুসলিম নারীদের জন্য তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। কারণ, তাতে অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন হবে।

আমি শুনেছি, কেউ কেউ এটিকে পায়ের মোজার সাথে তুলনা করেছেন এবং মুক্বীম অবস্থায় একদিন একরাত ও মুসাফির অবস্থায় তিনদিন ব্যবহার করা যাবে বলে ফৎওয়া দিয়েছেন। কিন্তু এ ফৎওয়া সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, মানুষের শরীর আচ্ছাদিত করে এমন সবকিছুকে পায়ের মোজার সাথে তুলনা করা যাবে না। মানুষের তীব্র প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে ইসলামী শরী‘আতে মোজার উপর মাসাহ করার বিধান এসেছে। যেহেতু মানুষের পায়ে মাটি, পাথর, শীতলতা ইত্যাদি স্পর্শ করে, তাই পা গরম রাখা ও ঢাকা প্রয়োজন হয়। সেকারণে শরী‘আতে শুধুমাত্র দু’পায়ে মোজার উপর মাসাহ করার বিধান আছে। আবার পাগড়ীর সাথে এর তুলনা করাও সঠিক নয়। কারণ, পাগড়ী থাকে মাথায়। আর মাথার বিধান প্রথম থেকেই মূলত হালকা। যার ফলে মাথা মাসাহ করতে হয় এবং মুখ ধুতে হয়। এ কারণে রাসূল (ছাঃ) নারীদেরকে হাতমোজার উপর মাসাহ করতে অনুমতি দেননি। অথচ হাতমোজা দু’হাতকে আবৃত রাখে।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে মুগীরাহ ইবনে শু‘বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (ছাঃ) কোনো এক সফরে ওযূ করছিলেন। তখন তার শরীরে ছিল শামী জুব্বা। তিনি জুব্বার আস্তিন হতে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন সংকীর্ণ হওয়ার ফলে তিনি নিচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন।[4]  উক্ত হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে এমন সবকিছুকে পাগড়ী ও পায়ের মোজার সাথে তুলনা করা যাবে না। প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিত, হক্ব জানার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা এবং যে কোনো বিষয়ে ফৎওয়া দেওয়ার আগে একবার এই চিন্তা করা যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন। কারণ, তার প্রণীত শরী‘আতের বিষয়ে সে কথা বলছে।

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য ফুলপ্যান্ট এবং অন্যান্য টাইট পোশাক পরিধান করার হুকুম কী?

উত্তর : মহিলাদের জন্য ফুলপ্যান্ট এবং অন্যান্য টাইট পোশাক পরিধান করা মোটেই সঙ্গত নয়। বিশেষ করে বেগানা পুরুষের সামনে এমন পোশাক পরিধান করা নিঃসন্দেহে হারাম। কেননা এ অবস্থায় বড় ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ، مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا ‘জাহান্নামীদের মধ্যে দুই শ্রেনির মানুষকে আমি এখনো বাস্তবে দেখিনি। এক. ঐ সমস্ত মানুষ, যাদের নিকট গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকজনকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে। দুই. ঐ সমস্ত মহিলা, যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও তাদের নগ্নতা প্রকাশ পায়, আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের উঁচু কুঁজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত-এত দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়’। হাদীছে বর্ণিত كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ এর ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, তারা হচ্ছে ঐ সমস্ত মহিলা, যারা পোশাক পরিধান করে ঠিকই, কিন্তু সে পোশাক টাইট অথবা পাতলা অথবা খাটো হওয়ার কারণে তাদের দেহ সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত হয় না। অতএব মহিলাদের উচিত, যে কোনো প্রকার টাইট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকা।

প্রশ্ন : জিন্সনামে এক প্রকার শক্ত ও মোটা কাপড় রয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনে বাচ্চাদের পোশাক বানানো হয়কিন্তু সমস্যা হলো, অমুসলিমরা জিন্সের কাপড় দিয়ে টাইট ফুলপ্যান্ট তৈরি করে, যা সচরাচর দেখা যায়এখন প্রশ্ন হলো, জিন্সের কাপড় মোটা ও উৎকৃষ্ট হওয়ায় আমরা যদি এর দ্বারা বিভিন্ন আকৃতিতে (টাইট ফুলপ্যান্ট ছাড়া) পোশাক তৈরি করে পরিধান করি, তাহলে কি তা অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত হবে?

উত্তর : সাদৃশ্য অবলম্বন হলো, অমুসলিমদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে নিজেদের জীবন ধারণ করা। অতএব এ কাপড় দিয়ে যদি অমুসলিমদের অনুরূপ পোশাক বানানো হয়, তাহলে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হবে। পক্ষান্তরে ভিন্ন ডিজাইনে পোশাক তৈরি করা হলে সে পোশাক পরিধানে কোনো বাধা নেই। কেননা এ পোশাক অমুসলিমদের পোশাকের আকৃতিতে বানানো নয়।

(চলবে)

[1]. বুখারী, হা/৫৯৪৭।

[2]. মুসলিম, হা/২১২৮।

[3]. বুখারী, হা/৫৮৮৫।

[4].  বুখারী, হা/৩৬৩।