ইতালির সব কারাগারে মসজিদ হবে

ইতালি সরকার ও ইউনিয়ন অব ইসলামিক কমিটিজ অ্যান্ড অর্গানাইজেশন ইন ইতালির (ইউসিওআইআই) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার অধীনে ইমামগণ কারাগারের মুসলিম বন্দীদের ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা প্রদান ও ছালাতের ইমামতি করার সুযোগ পাবেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতে কর্তৃক এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনাকে অনেকেই ইতালিতে ধর্ম হিসাবে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের অগ্রগতি হিসাবেই দেখছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুসলিমরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। ইতালির ৬০ হাজার বন্দীর মধ্যে ১০ হাজারই বিদেশি। তাদের বেশির ভাগই মরক্কো, তিউনিশিয়া ও রোমানিয়ার নাগরিক। ইতালির বন্দীদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার জন মুসলিম। তাদের জন্য ৯৭ জন ধর্মীয় শিক্ষক রয়েছেন। বন্দীদের মধ্যে ৪৪ জনের দাবী, তারা জেলেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ইতালির মাত্র কয়েকটি জেলে মুসলিম বন্দীদের প্রার্থনার জায়গা রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইতালির কয়েকটি কারাগারে মুসলিম বন্দীদের ছালাতের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে একত্রে জামা‘আতের সঙ্গে ছালাত আদায়ের সুযোগ ছিল না। তবে রামাযানের মতো বিশেষ সময়ে কর্তৃপক্ষ জামা‘আতে ছালাত আদায়ের অনুমতি দেয়।

স্পেনের সব মসজিদেই ছালাত আদায় করা যাবে

করোনা ভাইরাসের মধ্যে স্পেনের মুসলিমরা দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আযান ও ছালাতের সুযোগ পেলেন। এটা তাদের জন্য একটি বড় সুখবর। স্পেন সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে সব মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে। তবে কিছু নিয়ম মানতে হবে। স্পেনের মুসলিমরা মসজিদের দরজা খুলে দেয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। অবশেষে সীমিত পরিসরে হলেও এ দেশের মুসলিমদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে মসজিদগুলো। স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির ৭০ ভাগ অঞ্চলে খুলবে দ্বিতীয় ধাপে। আর সে কারণেই দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠী সীমিত পরিসরে অনুমতি পেয়েছেন মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায়ের। গত ৫ জুন দেশটির দ্বিতীয় বৃহৎ শহর ও পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় বিভিন্ন মসজিদে সরকারের নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান করেই আদায় হয়েছে জুম‘আর ছালাত। সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। শহরটির বেশির ভাগ মসজিদে ওযূখানা বন্ধ রাখা হয়েছিল, সবাইকে বাসা থেকে ওযূ করে আসার কথা বলা হয় আগেই। মসজিদগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই স্যানিটাইজিং করে নিজস্ব জায়নামায ও মাস্ক ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হবে।