মেহমান ও মেজবানের শিষ্টাচারসমূহ
 অনুবাদ : মাহবূবুর রহমান মাদানী


[১ শাওয়াল, ১৪৪৩ হি. মোতাবেক ২ মে, ২০২২। পবিত্র হারামে মাক্কীর (কা‘বা) ‘ঈদুল ফিত্বর’-এর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ . ছালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ t উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক শায়খ মাহবূবুর রহমান মাদানী। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুৎবা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা সকল কিছুকে সৃষ্টিকারী আল্লাহর জন্য। ‘আল্লাহু আকবার’ আল্লাহ মহান, যিনি সকল প্রাণীর রিযিক্বদাতা। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যার রহমতের এবং ক্ষমার প্রত্যাশা করা যায়। ‘আল্লাহু আকবার’ আল্লাহ মহান। তিনি কত কল্যাণ ঢেলে দিয়েছেন এবং কত অপ্রীতিকর জিনিস দূর করেছেন। তিনিই প্রথম বা আদি, তাঁর পূর্বে কিছুই নেই। তিনিই সর্বশেষ, তাঁর পর কিছুই নেই। তিনিই সবার ওপরে, তাঁর ওপরে কিছুই নেই। তিনি নিকটে, তাঁর চেয়ে নিকটে আর কেউ নেই। আল্লাহর বাণী,﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾ ‘কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সব শোনেন, সব দেখেন’ (আশ-শূরা, ৪২/১১)। অন্য আয়াতে এসেছে,﴿لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ﴾ ‘তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তাঁর সত্তা ছাড়া সকল কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান দেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁরই, আর তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তি হবে’ (আল-ক্বাছাছ, ২৮/৮৮)। আর আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক; তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি মৃত্যু দান করেন এবং জীবন দান করেন। তিনি হাসান, তিনি কাঁদান। তিনি সম্পদশালী করেন আর তিনি সম্পদ সংকুচিত করেন। তিনি সুখী করেন, তিনি দুঃখী করেন। তাঁর নেয়ামতসমূহ অবারিতভাবে অবতীর্ণ হয়। আল্লাহর বাণী, ﴿اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى﴾ ‘আল্লাহ, তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, সুন্দর নামসমূহ তাঁরই’ (ত্বো-হা, ২০/০৮)

আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ a তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি হেদায়াত, আলো ও সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন। তিনি সদাচারণ, ন্যায়নিষ্ঠতা  ও  আল্লাহভীতির  আদেশ  দিয়েছেন।

তিনি সর্বশেষ নবী। যে ব্যক্তি তাঁর উপরে একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন। অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, তাঁর পুতপবিত্র পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল ছাহাবী, তাবেঈ এবং ন্যায়নিষ্ঠভাবে যারা তাদের অনুসরণ করবেন, তাদের প্রতি।

 الله أكبر، الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد، الله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرةً وأصيلًا.

অতঃপর, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সকলকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি। অতএব আল্লাহকে ভয় করুন। আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন! আমলকে সুন্দর করুন। আপনাদেরকে যেন দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা ধোঁকায় না ফেলে। বাকী জীবনকে কাজে লাগান। আপনাদের সমসাময়িক যে সমস্ত লোক চলে গেছেন তাদের থেকে উপদেশ গ্রহণ করুন। মৃত্যু আপনাদের সবাইকে গ্রাস করবে। কবর আপনাদের সাথে আলিঙ্গন করবে। কিয়ামত আপনাদেরকে একত্রিত করবে। আর মহান আল্লাহ আপনাদের মাঝে ফয়সালা করবেন।

রামাযান মাস চলে যাওয়াতে ব্যথিত হবেন না। অচিরেই তা প্রত্যাবর্তন করবে। আপনারা আশা রাখুন। তবে ব্যথিত হবেন যদি এমন হয় যে, এই মর্যাদাপূর্ণ মাস ফিরে আসবে অথচ আপনাদের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে প্রস্থানকারীদের খাতায়। পরপারে যাত্রার পূর্বেই নিজ আত্মার উপর সদয় হোন। জেনে রাখুন! জীবনে এখনো একটি ‍রুকূ বা এক ফোঁটা অশ্রু ঝরানোর সুযোগ আছে। পবিত্র যবানের দু‘আ, অবিচল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল এবং আল্লাহ অভিমুখী হৃদয়ের বিনয়-নম্রতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে আপনাদের (প্রতিটি) আমল যেন হয় জীবনের শেষ আমল। (একদিন আপনার জন্য) অশ্রু প্রবাহিত করা হবে, এক সময় কান্নাও শেষ হয়ে যাবে, (আাপনাকে রাখা হবে এমন এক ঘরে) যার প্রতিটি কোণ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এটি এমন এক সময় যার প্রতিটি ঘণ্টা ও মিনিট হিসাব করা আছে। অতএব, ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করুন। মহান আল্লাহ বলেন,﴿فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ﴾ ‘কাজেই তোমরা সৎকর্মে অগ্রগামী হও, তোমাদের সকলকেই আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিলে, সে সম্বন্ধে তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করবেন’ (আল-ময়েদা, ৫/৪৯)

বন্ধুগণ, عيدُكم مباركٌ، وتقبَّل اللهُ منا ومنكم ‘আপনাদের ঈদ হোক বরকতময়। মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের থেকে সৎ আমলসমূহ কবুল করুন’। এই বরকতময় ঈদ আগমন করেছে আর আমরা বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছি।

হে মুসলিমগণ, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। জেনে রাখুন! এই মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুন নাবাবী শরীফ, মুসলিমদের মাসজিদসমূহ এবং ঈদের ময়দানসমূহ মুছল্লী, তাকবীর পাঠকারী এবং ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-এর ধ্বনি উচ্চারণকারী দ্বারা ভরপুর।

হে মুসলিম সম্প্রদায়! সংকটপূর্ণ এমন কিছু দৃশ্যপট (করোনাকালীন সময়) অতিক্রান্ত হয়েছে যা মুসলিমদেরকে তাদের মাসজিদে যেতে বাঁধা দিয়েছে, মসজিদে মুছল্লী উপস্থিত না হওয়ার জন্য কোনো অশ্রু বিসর্জন দেওয়া হয়েছে, ইবাদতকারীদের সামনে মসজিদসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মাতাফ বা তাওয়াফ করার জায়গায় কোনো তাওয়াফকারী ছিল না, সাঈ করার জায়গায় কোনো সাঈকারী ছিল না!

হে আল্লাহর বান্দা! তবে এখন প্রফুল্লচিত্তে সামনে অগ্রসর হোন। আল্লাহরই জন্য সমস্ত প্রশংসা যে, এখন আল্লাহর নিদর্শনাবলি এবং ছালাতসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, কাতারসমূহ প্রাচীর সদৃশ্য হয়েছে, কাঁধ ও পাসমূহ বরাবর-সমান্তরাল করা হয়েছে।

عيدُكم مباركٌ، وتقبَّل اللهُ منا ومنكم ‘আপনাদের ঈদ হোক বরকতময়। মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের থেকে ভালো কাজগুলো গ্রহণ করুন’। আমাদের ওপর আল্লাহ প্রদত্ত এই নেয়ামতের জন্য আমরা নিজেদেরকে এবং আপনাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। কাজেই উক্ত নেয়ামতের মূল্যায়ন ও কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আল্লাহ বিপদ দূর করেছেন, কাজেই তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

হে মুসলিম সম্প্রদায়! মহান এই সন্ধিক্ষণে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানানোর অন্যতম প্রকাশ হলো— মুসলিমদের পরস্পরে অধিক পরিমাণে যোগাযোগ রক্ষা করা, নিকটাত্মীয় ও পরিচিতদের মাঝে পারস্পরিক সাক্ষাৎ বিনিময় করা।

হে মুসলিমগণ! আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন। উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) আগন্তুক বা অতিথি এবং মেযবানের কিছু ভালো শিষ্টাচার ও কর্মনীতি উল্লেখ করেছেন। এসব শিষ্টাচারগুলো গ্রহণ করলে যিয়ারত আল্লাহর ইচ্ছায় ফলপ্রসূ হবে এবং এগুলো পারস্পরিক নৈকট্য, ঘনিষ্টতা, ভালোবাসা, হৃদ্যতা ও সম্পর্ক মযবূত করার ক্ষেত্রে সহায়ক উপকরণ হিসেবে গণ্য হবে। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, مَنْ عَادَ مَرِيضًا أَوْ زَارَ أَخًا لَهُ فِي اللَّهِ نَادَاهُ مُنَادٍ أَنْ طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الجَنَّةِ مَنْزِلًا ‘যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা কোনো দ্বীনি ভাইকে দেখতে যায়, তখন একজন ঘোষক (আল্লাহর ফেরেশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেন, কল্যাণময় হোক তোমার জীবন, কল্যাণময় তোমার এই পথ চলা এবং জান্নাতে তোমার একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট নির্ধারিত হোক’।[1] হাদীছে কুদসীতে মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ، وَالْمُتَجَالِسِينَ فِيَّ، وَالْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ، وَالْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ﴾ ‘আমার ভালোবাসা সেই সমস্ত লোকের জন্য ওয়াজিব হয়েছে, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে, আমারই জন্য পরস্পরে বৈঠকে বসে, আমারই জন্য পরস্পরে সাক্ষাৎ করে এবং আমারই জন্য একে অন্যের জন্য খরচ করে’।

হে মুসলিম সম্প্রদায়! অতঃপর বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে যিয়ারতের আদব হলো :

(১) বাড়িওয়লার উচিত যিয়ারতকারী আসলে প্রফুল্লতা প্রকাশ করা, সুন্দরভাবে স্বাগত ও অভিনন্দন জানানো এবং তার জন্য যথাসাধ্য উদারতা দেখানো।

(২) পণ্য-সামগ্রী, খাবার-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে গর্ব-অহমিকা, বাড়াবাড়ি, কৃত্রিমতা ও ওঁৎ পেতে থাকার স্বভাব থেকে দূরে থাকা। বিশেষত নিকটতম আত্মীয়ের ক্ষেত্রে। কারণ এসব স্বভাব যিয়ারতের মূল লক্ষ্যকেই ভণ্ডুল করে দেয়।

(৩) বাড়িওয়লার উচিত যিয়ারতকারী বাড়ি ত্যাগ করা পর্যন্ত তার সাথে সঙ্গ দেওয়া। শা‘বী p বলেন, যিয়ারতকারীর যিয়ারতের পূর্ণতা হলো, বাড়ির গেট পর্যন্ত তুমি তার সাথে যাবে এবং তার বাহনের রেকাব ধরবে।

হে মুসলিম ভ্রাতৃমণ্ডলী! আর যিয়ারতকারী তথা মেহমানের সাথে সংশ্লিষ্ট আদব হলো :

(১) বেশি বেশি কথোপকথন, টেলিফোন, পত্র প্রেরণ অথবা অতিমাত্রায় দরজায় কড়াঘাত করা প্রভৃতির মাধ্যমে যিয়ারতে আগ্রহের জন্য পীড়াপীড়ি করবে না।

(২) বিশ্রামের সময় অথবা ব্যস্ততার সময় অথবা কর্মের সময় যিয়ারত করা সমীচীন নয়। যিয়ারতের জন্য উত্তম সময় নির্ধারণ জরুরী।

(৩) অতিথি উত্তম চরিত্রে অলংকৃত হবে। যেমন— মেযবানের সাথে ভালো আচরণ করা, নম্রতার সাথে কথা বলা, হাসি-খুশি ভাব প্রকাশ করা, বক্ষ প্রশস্ত রাখা এবং সাক্ষাতের সময় হাস্যোজ্জ্বল থাকা, বাড়িওয়ালাকে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে বেশি কিছু জিজ্ঞেস না করা। আবূ লাইস আস-সমরকন্দী p বলেন, মেহমানের ওপর চারটি জিনিস ফরয— (ক) মেযবান যেখানে বসাবে সেখানেই বসবে, (খ) মেযবান উপস্থিত যা কিছু উপস্থাপন করে তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে, (গ) বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া উঠবে না, (ঘ) যখন সে বের হবে তখন মেযবানের জন্য দু‘আ করবে।

(৪) মেযবানকে নির্দিষ্ট কোনো খাদ্যের জন্য প্রস্তাব না দেওয়া।

(৫) মেযবানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

(৬) তার সামনে যে খাবার-পানীয় বা অন্য কিছু পেশ করা হয়, তা তুচ্ছ জ্ঞান করবে না, দোষ ধরবে না বা সেটাকে হেয় জ্ঞান করবে না। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, حَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ، أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ‘কোনো ব্যক্তির মন্দ প্রমাণিত হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার অপর মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে’।[2]

হে মুসলিম সম্প্রদায়! আপনাদের দ্বীনী ভাইয়ের অধিকার সংরক্ষণ, জামাআতবদ্ধ ও সৌহার্দপূর্ণ জীবনযাপনে আগ্রহী হোন। ভালোবাসা ও অঙ্গীকার রক্ষা এবং গোপনীয় বিষয়কে দাবিয়ে রাখার ব্যাপারে একনিষ্ঠ হোন।

আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই।

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ – فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ﴾

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না, অনুমতি প্রার্থনা এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেওয়া ব্যতীত। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হয়তো তোমরা উপদেশ করবে। সেখানে যদি তোমরা কাউকে না পাও, তাহলে তাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ফিরে যাও, তাহলে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য বেশি পবিত্র। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সবচেয়ে সম্যক অবগত’ (আন-নূর, ২৪/২৭-২৮)

الله أكبر، الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد، الله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرةً وأصيلًا.

দ্বিতীয় খুৎবা

আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা। যাদের উপাসনা করা হয়, তন্মধ্যে তিনেই উপাসনা পাওয়ার অধিকতর হক্বদার। ‘আল্লাহু আকবার’। যাদের নিকট কিছু চাওয়া যায়, তন্মেধ্যে তিনি অধিক দানশীল । সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই। যারা মানুষকে দান করেন, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রশস্ত। আর আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ a তাঁর বান্দা ও রাসূল। অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার, তাঁর সকল ছাহাবীর প্রতি, যারা কাফেরদের ওপর ছিলেন কঠিন আর মুমিনদের ওপর ছিলেন বিনম্র। আরও দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাবেঈন এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের প্রতি।

الله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرةً وأصيلًا.

হে মুসলিমগণ! অনুগ্রহপ্রার্থীর ঈদই হলো প্রকৃত ঈদ। গর্ব-অহমিকা বা চাকচিক্যময় পোশাক দিয়ে প্রকৃত ঈদ হয় না। শুকরিয়া আদায়কারীর ঈদ হলো প্রকৃত ঈদ। অহংকারীদের ঈদ প্রকৃত ঈদ নয়। আনন্দ, পরস্পরকে ক্ষমা ও মার্জনা করার পোশাকই হলো ঈদের সর্বোত্তম পোশাক। ঈদ হলো পরস্পর আন্তরিক হওয়ার এবং অন্তরের সন্ধিস্থাপনের মূল্যবান যোগসূত্র। ঈদ হলো শত্রুতা-দুশমনীর উপকরণসমূহ দূরিকরণের মাধ্যম।

হে প্রিয় ভ্রাতৃমণ্ডলী! রামাযানের পর কল্যাণের লক্ষণ হলো, আনুগত্যের ওপর বান্দার অটল-অবিচল থাকা। রামাযানের পর শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম পালনের জন্য রাসূল a আপনাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন। আর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি রামাযানের ছিয়ামের পর উক্ত ছয়টি ছিয়াম পালন করবে, সে যেন সারা বছর ছওম পালন করল। আল্লাহ আমাদের থেকে এবং আপনাদের থেকে ছিয়াম, ক্বিয়াম, সমস্ত আনুগত্য ও সৎ আমলগুলো কবুল করুন। রাসূলের উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন।

﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী নবীর উপর দরূদ প্রেরণ করেন। (অতএব) হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করো’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫৬)

এরপর শাইখ রাসূল a, তাঁর পরিবার, চার খালীফা ও ছাহাবীদের উপর দরূদ এবং সালাম পাঠের পর নিজেদের ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দু‘আ করে খুৎবা শেষ করেন।


[1]. তিরমিযী, হা/২০০৮; ইবনু মাজাহ, হা/৪২১৩, হাদীছ হাসান।

[2]. ইবনু মাজাহ, হা/৪২১৩, হাদীছ ছহীহ।