যবান হেফাযতের গুরুত্ব ও ফযীলত
-উসমান বিন আব্দুল আলিম*


আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। প্রতিটি মানবশরীরের প্রতিটি অঙ্গ আল্লাহ প্রদত্ত অগণিত নিয়ামতের অন্যতম। যেমন : চোখ, নাক, জিহ্বা, হাত, পা, মাথা, ব্রেন, কান  ইত্যাদি। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ‘তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে চাইলে তা গুণে শেষ করতে পারবে না’ (ইবরাহীম, ১৪/৩৪)

এই অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে জিহ্বা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, জিহ্বা বা বাকশক্তি আল্লাহ তাআলার বড় নেয়ামত ও মহাদান। বান্দার বহুবিধ কল্যাণ এতে নিহিত রয়েছে। বহুমুখী প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে তিনি বান্দাকে এ নেয়ামত দান করেছেন। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে এসব প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়। যবানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হলে অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। কোনো কিছুই যবানের বিকল্প হতে পারে না। মনের ভাব, দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনা, আনন্দ-উল্লাস ইত্যাদি প্রকাশে এই জিহ্বা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বলতে গেলে যবান সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মুখপাত্র। বোবার মনে কত দুঃখ-কষ্ট, কত আনন্দ-বেদনা চাপা পড়ে থাকে,  কাউকে সে জানাতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ধাপে যার বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যে বাকশক্তি হারিয়েছে সেই উপলদ্ধি করতে পারে, যবান কত বড় নেয়ামত!

আবার এই যবান মানুষের জন্য জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার  মাধ্যম। অর্থাৎ এই যবানের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ জান্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত হয়। আবার এর অপব্যবহারের ফলে মানুষ জাহান্নামের উপযোগী হয়। অনুরূপভাবে যবান মানুষকে কখনো সম্মানের পাত্র বানায়, আবার কখনো লাঞ্ছনার শিকার হওয়ায়।

অপরপক্ষকে মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, গালিগালাজ, কর্কশ ভাষা, মানুষকে আল্লাহর অসন্তোষ, ক্রোধ ও জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। কুরআন ও হাদীছে যবানের হেফাযত করার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যবানের হেফাযত, সঠিক ব্যবহার, অপব্যবহার থেকে বিরত থাকা, ফযীলত ইত্যাদি সম্পর্কে। আমি সেখান থেকে বাছাইকৃত কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। 

যবান হেফাযতের গুরুত্ব :

যবান হেফাযতের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে আল্লাহ ও শেষ দিবসকে বিশ্বাস করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে’।[1] একবার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রিয় ছাহাবী উক্ববা ইবনু আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তিনটি অছিয়ত করলেন। এর প্রথমটি ছিল, ‘তুমি তোমার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো’।[2] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘সেই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই। ভূপৃষ্ঠে সবকিছুর চেয়ে জিহ্বাই সবচেয়ে বেশি বন্দিত্ব ও  নিয়ন্ত্রণের মুখাপেক্ষী’।[3]

যবানের অপব্যবহার :

(১) গালিগালাজ করা : অধিকাংশ মানুষ নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা যে কোনো কারণে ছোট-বড়, সাধারণ মানুষ, আলেম-ওলামা ইত্যাদির গালিগালাজ করাটাকে স্বীয় অভ্যাসে পরিণত করেছে। অথচ হাদীছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,  নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘দুইজন লোক একে অপরকে গালি দেওয়ার শাস্তি প্রথম গালি প্রদানকারীর উপর এসে পড়ে, যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্যাতিত ব্যক্তি (দ্বিতীয় ব্যক্তি) সীমালংঘন করে’।[4] অপর এক বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া গুনাহর কাজ এবং তাকে হত্যা করা কুফরি কাজ’।[5]

(২) মিথ্যা বলে মানুষকে হাসানো : আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, ‘ধ্বংস ওর! যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে। ধ্বংস ওর! ধ্বংস ওর জন্য’।[6]

(৩) অন্যকে লা‘নত করা : কারো কারো মাঝে কথায় কথায় লা‘নত বা বদদু‘আ দেওয়ার বদাভ্যাস থাকে। বিশেষভাবে নারীদের মাঝে এ স্বভাব রয়েছে। অনেক সময় তারা আপনজন এমনকি নিজ সন্তানকেও বদদু‘আ দিয়ে থাকে। হতে পারে তখন দু‘আ কবুলের মুহূর্ত ছিল। ফলে খাল কেটে কুমির আনার মতো অবস্থা হয়। বদদু‘আটা লেগে যায়। এটা খুবই গর্হিত কাজ। যবানের মারাত্মক অপব্যবহার। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, ‘তোমরা একে অপরকে লা‘নত করো না; বলো না, তোমার উপর আল্লাহর লা‘নত হোক, তোমার উপর আল্লাহর গযব পড়ুক, তুমি জাহান্নামে যাও’।[7]

(৪) অন্যের গীবত করা : যবানের অপব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো, গীবত বা পরনিন্দা করা। অথচ কুরআন-হাদীছে এগুলো থেকে শক্তভাবে বারণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটাই কবীরা গুনাহ। পাশাপাশি যবানের অপব্যবহারেরও শামিল।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একে অপরের গীবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দ করে থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু (আল-হুজুরাত, ৪৯/১২)।  রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ‘গীবত (পরনিন্দা) যেনার (ব্যভিচার) চেয়ে জগন্য অপরাধ’।[8]

(৫) মিথ্যা কথা বলা : আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা মিথ্যা বলে, তখন এর দুর্গন্ধে ফেরেশতারা তার নিকট থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়’।[9]

(৬) শোনা কথা বলে বেড়ানো : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, তাই বলে বেড়ায়’।[10]

(৭) ভালো-মন্দ বিচার না করেই কোনো কথা বলা :  আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, ‘বান্দা যখন ভালো-মন্দ বিচার না করেই কোনো কথা বলে, তখন সে নিজেকে এই কারণে জাহান্নামের এত গভীরে নিয়ে যায়, যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের সমান’।[11]

(৮) দ্বি-মুখী আচরণ : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘দ্বিমুখী চরিত্রের লোকেরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে’।[12] 

(৯) কথা দ্বারা অন্যকে কষ্ট দেওয়া : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে একজন নারী সম্পর্কে বলা হলো, সে খুব নফল ছালাত পড়ে, ছিয়াম রাখে এবং অনেক দান-ছাদাক্বা করে। কিন্তু তার মুখের ভাষা প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে জাহান্নামী। ঐ ব্যক্তি আরেকজন নারী সম্পর্কে বলল, যার নফল ছালাত, নফল ছিয়াম ও দান-ছাদাক্বার ক্ষেত্রে তেমন প্রসিদ্ধি নেই। কখনো হয়তো সামান্য পনিরের টুকরা ছাদাক্বা করে। তবে সে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। কেউ তার মুখের ভাষায় কষ্ট পায় না। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে জান্নাতী।[13] 

যবানের অপব্যবহারের পরিণাম :

যবানের অপব্যবহারের কারণে মানুষ যেমন সামাজিক অশান্তিতে থাকে তেমনি পরকালে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। দীর্ঘ এক হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কথার কারণেও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? (মুখের কথার কারণেও কি জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে?) তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উরুতে মৃদু আঘাত করে বললেন, হে মুআয! তুমি এ বিষয়টি বুঝ না! আরে, মানুষকে তো তার যবানের কারণেই মুখের উপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যে আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করে, সে যেন ভালো কথা বলে বা অন্তত মন্দ কথা থেকে বিরত থাকে। তোমরা ভালো কথা বলো, লাভবান হবে। মন্দকাজ থেকে বিরত থাকো, নিরাপদে থাকবে।[14] অন্য এক হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘বান্দা চিন্তা-ভাবনা ছাড়া এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে (পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব পরিমাণ) জাহান্নামের অতলে নিক্ষিপ্ত হবে’।[15]

বহুক্ষেত্রে যবানের অপব্যবহার গভীর সম্পর্ককেও তছনছ করে দেয়। নিবিড় বন্ধুত্বের মাঝেও ফাটল ধরায়। দীর্ঘদিনের আত্মীয়তার সম্পর্ককে মুহূর্তে শেষ করে দেয়। হৃদয়কে জর্জরিত করে। অন্তরকে ক্ষত-বিক্ষত করে, যা কখনোও মানুষ ভুলতে পারে না। কারণ, যবানের আঘাতের ঘা শুকায় না। কবি বলেছেন, ‘বর্শার ফলার আঘাতের উপশম হয়। তবে যবানের আঘাতের কোনো উপশম নেই’।[16]

যবানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা :

রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যবানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। কত পূত-পবিত্র তাঁর যবান! যে যবান আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার কাছে অহি পৌঁছায় এবং আল্লাহর কালামের ব্যাখ্যা দান করে। এ যবানের পবিত্রতা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘সে তার নিজ খেয়াল-খুশি থেকে কিছু বলে না’। এ তো অহি, যা তার কাছে পাঠানো হয়’ (আন-নাযম, ৫৩/৩-৪)। তা সত্ত্বেও রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিনয়ের সাথে কাতর কণ্ঠে  আল্লাহর কাছে যবানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আমার কান, চোখ, যবান, হৃদয় এবং লজ্জাস্থানের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই’।[17] সুতরাং আমাদেরও উচিত যবানের সঠিক ব্যবহারের প্রতি সচেতন ও যত্নবান হওয়া এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। আর পাশাপাশি নিজের যবানকে (এর অপব্যবহারের গুনাহ থেকে বাঁচতে চাইলে) নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম মাধ্যমগুলো হলো, খারাপ লোকদের মজলিস পরিত্যাগ করা, আড্ডাবাজি ছেড়ে দেওয়া, চুপচাপ থাকা, বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা ইত্যাদি। 

এক হাদীছে এসেছে, জান্নাতীগণ জান্নাতে যাওয়ার পর কোনো জিনিসের জন্য আফসোস করবে না একটি মাত্র জিনিস ব্যতীত,  তা হলো- আল্লাহ তাআলার যিকির। অর্থাৎ, জান্নাতীগণ জানাতে গিয়ে যখন দুনিয়াতে কৃত  আল্লাহর যিকিরের ছওয়াব দেখবে, তখন তাদের মনে আফসোস থাকবে, যদি দুনিয়াতে একটা মুহূর্তও আমরা বিনা যিকিরে না কাটাতাম, তাহলে কতই না ছওয়াবের মালিক হতে পারতাম!  

যবান হেফাযতের ফযীলত :

(১) নাজাত পাওয়া যায় : উক্ববা ইবনু আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! নাজাত কিসে? তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি তোমার যবানকে হেফাযত করো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য যথেষ্ট হয়, তুমি তোমার ভুলের জন্য কান্না করো’।[18]

(২) সর্বোত্তম আমল : আবূ মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, ছাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ইসলামে কোন কাজ সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন, যার জিহ্বা এবং হাত হতে অপর মুসলিম নিরাপদ থাকে।[19]

(৩) পাক্কা ঈমানদার হওয়া যায় :  আনাস ইবনু মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান পরিপক্ক হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দিল (অন্তর) স্থির না হবে। আর দিল (অন্তর) স্থির হয় না যবান স্থির হওয়া ব্যতীত। যে ব্যক্তি থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।[20]

(৪) জান্নাত পাওয়া যায় : সুলায়মান ইবনু দাঊদ (আলাইহিস সালাম) বলেন, কথা বলা যদি হয় রূপার মতো, তাহলে চুপ থাকা হবে স্বর্ণের মতো। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দুই চোলায়ের মাঝে যা আছে অর্থাৎ জিহ্বা এবং তার দুই পায়ের মাঝে যা আছে অর্থাৎ লজ্জাস্থান হিফাযতের যিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হব’।[21]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উপরিউক্ত আয়াত এবং হাদীছসমূহের ওপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। যবানের অপব্যবহার পরিত্যাগ করে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ নিজ যবান হেফাযত করার তাওফীক্ব দান করুন এবং সর্বদা যিকিরে মশগূল থাকার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!


* মুহাদ্দিছ, দারুল উলূম মোহাম্মদপুর কওমি মাদ্রাসা, চাটমোহর, পাবনা।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৮।

[2]. জামে‘ তিরমিযী, হা/২৪০৬।

[3]. আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/৮৭৪৪।

[4]. তিরমিযী, হা/১৯৮১।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৭।

[6]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২০০২১।

[7]. জামে‘ তিরমিযী, হা/১৯৭৬।

[8]. মিশকাত, হা/৪৮৭৪।

[9].  সুনানে তিরমিযী, হা/১৯৭২।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৭৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৮৮।

[12]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৪১৯; সুনানে তিরমিযী, হা/১৯৭৪।

[13]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৩৮৩; শু‘আবুল ঈমান, হা/৯৫৪৬।

[14]. মুসতাদরাক হাকেম, হা/৭৭৭৪।  

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৭৭।

[16]. শরহে জামে‘, ‘কালেমা’-এর আলোচনায় দ্রষ্টব্য।

[17]. সুনানে আবূ দাঊদ, হা/১৫৫১; জামে‘ তিরমিযী, হা/৪৯২।

[18]. তিরমিযী, হা/২৪০৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৭২; আত-তারগীব, হা/২৭৪১।

[19]. ছহীহ বুখারী, হা/১০।

[20]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩০৭১; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৮৪১; আত-তারগীব, হা/২৫৫৪।

[21]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৬।