যারা কবরের ফিতনা থেকে মুক্ত

আবু তাসনীম
কামিল ২য় বর্ষ (আদব বিভাগ)
তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা
মির হাজিরবাগ, ঢাকা- ১২০৪

মৃত্যুর পর মানুষ প্রথম পরীক্ষার সম্মুখীন হবে কবরে। কবরে কেউ যদি মুক্তি পায়, তাহলে সে পরবর্তী সকল জায়গায় মুক্তি পাবে। রাসূল (ছাঃ) কবরের আযাব হতে পরিত্রাণ চাইতেন এবং তাঁর ছাহাবীগণকে কবরের আযাব থেকে পরিত্রাণ চাওয়ার নির্দেশ দিতেন। হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাঃ)  বলেন, একদা এক ইয়াহূদী মহিলা তার নিকট আসল এবং কবরের আযাবের কথা উত্থাপন করে বলল, হে আয়েশা (রাঃ)! আল্লাহ আপনাকে কবরের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। অতঃপর আয়েশা (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে কবরের শাস্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ, কবরের শাস্তি সত্য’। আয়েশা (ছাঃ) বলেন, তারপর হতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে যখনই ছালাত আদায় করতে দেখেছি, তখনই তাঁকে কবরের আযাব হতে পরিত্রাণ চাইতে দেখেছি’। যে সকল মুমিন বান্দা অধিক আমলে ছালেহ করবে এবং বড় বিপদ-মুছীবতে নিপতিত হবে, তারা কবরের আযাব ও তার ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকবে। তাদের মধ্যে কয়েকটি শ্রেণী হচ্ছে-

শহীদগণ :

যারা  আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তারাই শহীদ। শহীদদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

وَ لَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتٌ ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّ لٰكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ

‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে তোমরা মৃত বল না বরং তারা  জীবিত; কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পার না’ (বাক্বারাহ, ১৫৪)। একই মর্মে তিনি অন্যত্র বলেন,

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ – فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ ‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে মৃত ধারণা কর না; বরং তারা জীবিত, তারা তাদের প্রতিপালক হতে জীবিকা প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ হতে যা দান করেছেন, তাতেই তারা পরিতুষ্ট এবং যারা পশ্চাতে রয়েছে এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদের এ অবস্থার প্রতিও তারা সন্তুষ্ট হয় যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। তারা আল্লাহর নিকট হতে অনুগ্রহ ও নে‘মত লাভ করার কারণে আনন্দিত হয়, আর এ জন্য যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীগণের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না’ (আলে ইমরান, ১৬৯-১৭১)।

যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন, তারা কবরের আযাব ও ফিতনা থেকে মুক্ত থাকবেন। হাদীছে এসেছে,

عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ يُغْفَرُ لَهُ فِى أَوَّلِ دَفْعَةٍ وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الأَكْبَرِ وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ وَيُشَفَّعُ فِى سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ ».

মিক্বদাম ইবনে মা‘দী কারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট শহীদের জন্য ছয়টি বিশেষ পুরস্কার রয়েছে: (১) শরীরের রক্তের প্রথম ফোটা ঝরতেই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং প্রাণ বের হওয়ার পূর্বেই জান্নাতে তার জায়গাটি তাকে দেখিয়ে দেয়া হয়। (২) কবরের আযাব হতে তাকে রক্ষা করা হয়। (৩) ক্বিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা হবে। (৪) তার মাথায় সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। তাতে থাকবে একটি ইয়াকূত, যা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে উত্তম। (৫) তাকে বড় বড় চক্ষুবিশিষ্ট ৭২ জন হূর দেয়া হবে এবং (৬) তার ৭০ জন নিকটতম আত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কবুল করা হবে’।[1]  অপর একটি হাদীছে এসেছে-

عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا بَالُ الْمُؤْمِنِينَ يُفْتَنُونَ فِى قُبُورِهِمْ إِلاَّ الشَّهِيدَ قَالَ كَفَى بِبَارِقَةِ السُّيُوفِ عَلَى رَأْسِهِ فِتْنَةً.

রাশেদ ইবনে সা‘দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জনৈক ছাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! মুমিনগণ কবরের ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন হবে, কিন্তু শহীদগণ নয়। এর কারণ কী? তিনি বললেন, ‘তার মাথার উপর উজ্জ্বল তরবারির বিপদ তাকে কবরের ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে নিরাপদ রাখবে’।[2]

উল্লিখিত হাদীছ দু’টি দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরের ফিতনা ও আযাব থেকে মুক্ত থাকবেন।

পেটের পীড়ায় মৃত্যু বরণকারী :

কোন মুমিন ব্যক্তি যদি পেটের পীড়ার কারণে মারা যায়, সে কবরের আযাব থেকে মুক্ত থাকবে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ : كُنْتُ جَالِسًا مَعَ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ، وَخَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ وَهُمَا يُرِيْدَانِ اَنْ يَتْبَعَا جِنَازَةَ مَبْطُوْنٍ، فَقَالَ : اَحَدُهُمَا لِصَاحِبِه، اَلَمْ يَقُلْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : مَنْ يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ، فَلَنْ يُعَذَّبَ فِىْ قَبْرِهِ  فَقَالَ : بَلَى-

আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা সুলায়মান ইবনে ছুরাদ ও খালিদ ইবনে উরফুতা (রাঃ)-এর সাথে এক স্থানে বসা ছিলাম। তারা উভয়ে পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তাদের একজন অপরজনকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কি বলেননি যে, ‘পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে কবরে আযাব দেয়া হবে না? অন্যজন বললেন, হ্যাঁ।[3]

আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী :

আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় যারা মৃত্যুবরণ করে, তারা কবরের আযাব থেকে মুক্ত থাকবে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلٰى عَمَلِه اِلَّا الَّذِىْ مَاتَ مُرَابِطًا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ، فَاِنَّه يَنْمُوْ عَمَلُهُ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَيَاْمَنُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ –

ফাযালা ইবনে উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘প্রত্যেক মৃতব্যক্তির যাবতীয় কাজের উপর সীলমোহর করে দেয়া হয় (কাজের পরিসমাপ্তি ঘটে)। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দানরত অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার কাজের ছওয়াব বর্ধিত করতে থাকেন এবং তাকে কবরের যাবতীয় ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখেন’।[4]

উল্লিখিত ব্যক্তিরা কবরের আযাব ও ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়াও রাসূল (ছাঃ) সবসময় কবরের আযাব ও ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং উম্মতকে নির্দেশনা দিতেন। হাদীছে এসেছে,

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَدْعُوْ وَيَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ  –

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) কবরের শাস্তি হতে পরিত্রাণ চেয়ে প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কবরের শাস্তি হতে পরিত্রাণ চাই, জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে পরিত্রাণ চাই এবং দাজ্জালের ফিতনা হতে পরিত্রাণ চাই’।[5]

অপর একটি হাদীছে এসেছে, আওফ ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) একবার এক জানাযার ছালাত আদায় করলেন। আমি তাঁর দু‘আর কিছু অংশ মনে রেখেছি। তিনি তাতে বললেন,

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَاَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْاَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَاَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَاَهْلاً خَيْرًا مِنْ اَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَاَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَاَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ اَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ. قَالَ حَتَّى تَمَنَّيْتُ اَنْ اَكُوْنَ اَنَا ذَلِكَ الْمَيِّت –

‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর, তার প্রতি দয়া কর, তার প্রতি নিরাপত্তা অবতীর্ণ কর, তাকে ক্ষমা কর, তাকে সম্মানিত আতিথ্য দান কর, তার থাকার স্থানকে প্রসারিত কর, তাকে পানি, বরফ ও তুষার দ্বারা ধুয়ে দাও অর্থাৎ তার গুনাহ মাফ করে দাও। তাকে গুনাহ হতে পরিষ্কার কর, যেভাবে তুমি পরিষ্কার কর সাদা কাপড়কে ময়লা হতে। তার ঘর অপেক্ষা উত্তম ঘর তাকে দান কর, তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার তাকে দান কর, তার স্ত্রী অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, কবরের আযাব থেকে রক্ষা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও’। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তাকে কবরের ফিতনা হতে বাঁচাও এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর’। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আকাক্সক্ষা করছিলাম যে, যদি ঐ মৃতব্যক্তি আমিই হতাম।[6]  আরেকটি হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ  اَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ يَسْتَعِيْذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ، وَقَالَ : اِنَّكُمْ تُفْتَنُوْنَ فِىْ قُبُوْرِكُمْ –

আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) সর্বদা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাইতেন আর দাজ্জালের ফিতনা হতে পরিত্রাণ চাইতেন এবং বলতেন, ‘তোমাদেরকে কবরে ফিতনার মুখোমুখি করা হবে’।[7]  যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলতেন,

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اَللّٰهُمَّ اٰتِ نَفْسِىْ تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا اَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا اَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا  تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا-

‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের আযাব হতে। হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে সংযম দান করুন, একে পবিত্র করুন, তুমিই শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও প্রভু। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এমন ইলম হতে যা উপকার করে না, এমন অন্তর হতে যা ভয় করে না, এমন আত্মা হতে যা তৃপ্তি লাভ করে না এবং এমন দু‘আ হতে যা কবুল হয় না’।[8]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কবরের আযাব থেকে পরিত্রাণ চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীছে এসেছে,

عَنْ اُمَّ خَالِدٍ بِنْتَ خَالِدٍ سَعِيْدِ بْنِ الْعَاصِ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ:اسْتَجِيْرُوْا بِاللهِ  مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، فَاِنَّ عَذَابَ الْقَبْرِ حَقٌّ

উম্মু খালেদ বিনতে খালেদ ইবনে সাঈদ ইবনে আছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা কবরের আযাব সত্য’।[9]  তিনি আরও বলেন,

اِسْتَعِيْذُوْا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ اَوْ ثَلَاثًا

‘তোমরা কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর’। এ কথা তিনি দু’বার বা তিনবার বলেছেন। আরেকটি হাদীছে এসেছে,

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ  قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ  اِذَا تَشَهَّدَ اَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ مِنْ اَرْبَعٍ يَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ –

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পড়ে, সে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার নিকট জীবন-মৃত্যুর বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার নিকট দাজ্জালের সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি’।[10]

আমলে ছালেহের পাশাপাশি হাদীছে বর্ণিত এসব দু‘আ নিয়মিত পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যায়।

প্রত্যেক রাতে সূরা মূলক্ব তিলাওয়াত করলে কবরের আযাব থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এ মর্মে হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : مَنْ قَرَاَ {تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ} كُلَّ لَيْلَةٍ مَنَعَهُ اللهُ بِهَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَكُنَّا فِىْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ نُسَمِّيْهَا الْمَانِعَةَ، وَاِنَّهَا فِىْ كِتَابِ اللهِ سُوْرَةٌ مَنْ قَرَاَ بِهَا فِىْ كُلِّ لَيْلَةٍ فَقَدْ اَكْثَرَ وَاَطَابَ-

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লাযী অর্থাৎ সূরা মুলক পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহ তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্ত রাখবেন। আর আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর আমল একে (কবর আযাব) প্রতিরোধকারী বলে অভিহিত করতাম। নিশ্চয় আল্লাহর কিতাবে (কুরআনে) একটি সূরা আছে, যে ব্যক্তি রাতে তা পাঠ করল, সে অধিক করল ও উত্তম কাজ করল।[11]

সর্বোপরি কবরের কথা সবসময় স্মরণে থাকলে দুনিয়ার সব ধরনের অন্যায়, যুলুম-অত্যাচার থেকে ফিরে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়। মানুষের দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার জীবনের কর্মকাণ্ডই হবে আখিরাতের জীবনের সুখ-শান্তির মানদণ্ড। তাই দুনিয়াতে থাকতেই শাস্তি বা মুক্তির যে কোন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুনিয়াতে উত্তম আমল করতে না পারলে পরকালে শেষ বিচারের দিন ভোগান্তি, অশান্তি, দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকবে না।

[1]. তিরমিযী, হা/১৬৬৩, ‘ছহীহ’।

[2]. নাসাঈ, হা/২০৫৩।

[3]. আহমাদ, হা/১৮৩৩৬, সনদ ছহীহ।

[4]. আহমাদ, হা/২৩৯৯৬, সনদ ছহীহ।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/১৩৭৭।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭৬।

[7]. নাসাঈ, হা/২০৬৫।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭০৮১।

[9]. মু‘জামুল কাবীর, হা/২০৭৫১।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৩২।

[11]. সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০৫৪৭; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৮৯।