রামাযান পরবর্তী আমলসমূহ
ইবনু আকবার*



পবিত্র রামাযান মাসের পরে শাওয়াল মাস। রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করা প্রত্যেক বালেগ, সুস্থ, মুক্বীম, বিবেকবান মুসলিমের জন্য ফরয। এই ফরয ছিয়াম পালন করলে দায়মোচন হবে এবং ফযীলতও অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ। তবে শাওয়াল মাসের ছিয়ামসহ অন্যান্য মাস ও দিনের ছিয়াম পালন করা নফল। আর প্রত্যেক নফলের ফযীলত বা ছওয়াব রয়েছে।

শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল ছিয়ামের ফযীলত :

শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল ছিয়াম পালন করলে পূর্ণ এক বছর ছিয়াম পালনের ছওয়াব হবে। তবে শর্ত হলো এর পূর্বে রামাযান মাসের পূর্ণ ছিয়াম পালন করতে হবে। আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ ‘যে রামাযান মাসের ছিয়াম রাখবে। অতঃপর শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করবে। সে পূর্ণ এক বছর ছিয়াম পালনের ছওয়াব পাবে’।[1] এই হাদীছ থেকে আমরা বুঝতে পারি :

(১) রামাযানের ছিয়াম অপরিহার্য অথচ ফযীলতপূর্ণ।

(২) শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়ামের দিন-তারিখ অনির্দিষ্ট। মাসের প্রথম বা মধ্য বা শেষ যেকোনো দিন ছিয়াম রাখা যাবে। তাতেই উক্ত এক বছরের ফযীলত অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ। মাসের শুরু থেকে ছিয়াম রাখতে হবে মর্মে বক্তব্য দলীলহীন। এ ব্যাপারে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

قال أصحابنا والأفضل أن تصام الستة متوالية عقب يوم الفطر فان فرقها أو أخرها عن أوائل شوال إلى أواخره حصلت فضيلة المتابعة لأنه يصدق أنه أتبعه ستا من شوال.

‘আমাদের সাথীগণ বলেন, ঈদুল ফিত্বরের পরের দিন থেকে ধারাবাহিকভাবে শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম পালন করা ফযীলতপূর্ণ। যদি কেউ বিচ্ছিন্নভাবে ছিয়াম রাখে বা দেরি করে শাওয়াল মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোনো দিন ছিয়াম রাখে, তাহলে রামাযান মাসের অনুগামী হওয়ার ফযীলত অর্জিত হবে। কারণ সে রামাযানের পরে শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম রেখেছে’।[2] আল্লামা ছানআনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শাওয়াল মাসের শুরু থেকে ছিয়াম রাখা উত্তম মর্মে কোনো দলীল নেই। যখন কেউ শাওয়ালের যেকোনো দিন উক্ত ছিয়াম পালন করবে সে রামাযানের পরে ছয়টি ছিয়াম রেখেছে’।[3] আবুল আব্বাস আহমাদ আল-কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

(ثم أتبعه ستًّا من شوال) ليس فيه دليل على أنها تكون متصلة بيوم من الفطر بل لو أوقعها في وسط شوال أو آخره لصلح تناول هذا اللفظ له لأن (ثم) للتراخي وكل صوم يقع في شوال فهو متبع لرمضان وإن كان هنالك مهلة وقد دل على صحة هذا قوله في حديث النسائي (وستة بعد الفطر) ولذلك نقول إن الأجر المذكور حاصل لصائمها مجموعة أوقعها أو مفترقة لأن كل يوم بعشر مطلقًا والله تعالى أعلم.

‘(অতঃপর শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়ামকে রামাযানের অনুগামী করবে) হাদীছের এই অংশে কোনো দলীল নেই যে, উক্ত ছিয়াম ঈদুল ফিত্বরের পরের দিন থেকে লাগাতারভাবে পালন করতে হবে। বরং যদি উক্ত ছিয়াম শাওয়াল মাসের মধ্যে বা শেষে সংঘটিত হয়, তাহলেও তার জন্য এই শব্দের ব্যবহার ঠিক হয়েছে। কেননা ثم শব্দটি দেরি করার অর্থ দেয় (বিরতি দিয়ে বুঝায়) এবং প্রত্যেক ছিয়াম যা শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়, তা রামাযান মাসের অনুগামী। যদিও সেখানে অন্য কিছু হওয়ার সুযোগ আছে। আর একথার সত্যতা প্রমাণে নাসাঈর একটি হাদীছে এসেছে— (এবং ঈদুল ফিত্বরের পর ছয়টি ছিয়াম) এ কারণে আমরা বলব, অবশ্যই ছিয়াম পালনকারীর উল্লেখিত ছওয়াব অর্জিত হবে সেগুলো অবিচ্ছিন্নভাবে পালন করা হোক বা বিচ্ছিন্নভাবে পালন করা হোক। কারণ সাধারণভাবে প্রত্যেক দিন সমান ১০ দিন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত’।[4]

(৩) ধারাবাহিকভাবে ছয়টি ছিয়াম রাখা যাবে এবং বিরতি দিয়েও রাখা যাবে। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফল ছিয়াম কখনো লাগাতার রেখেছেন আবার কখনো ধারাবহিকভাবে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে নবী দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর এক দিন পরপর ছিয়াম রাখাকে উত্তম বলেছেন।

(৪) ‘ছিয়ামুদ দাহর’ দ্বারা এক বছর উদ্দেশ্য। (৫) এক বছর ছিয়াম রাখার ছওয়াব পাওয়া যাবে মাত্র ৩৬ দিন ছিয়াম পালন করলে। রামাযান মাসের ৩০ দিন এবং শাওয়াল মাসের ৬ দিন। মোট ৩৬ দিন।

(৬) ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছ বলছে, যখন রামাযান মাস শেষ হয়, তখন কল্যাণের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। কল্যাণের দরজা খোলা রাখা হয়। কাজেই তুমি শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম রাখো। যদি তুমি রামাযান মাসের ছিয়াম রাখার পর শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম রাখ, তাহলে তুমি যেন পূর্ণ এক বছর ছিয়াম রাখলে। এরপর ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যান্য মাসের নফল ছিয়ামগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন কল্যাণের দরজা খোলা থাকার প্রমাণস্বরূপ’।[5]

ছয়টি ছিয়াম দ্বারা এক বছর ছিয়ামের সমপরিমাণ ছওয়াব : ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَسِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ كَانَ تَمَامَ السَّنَةِ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا

‘যে রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করে এবং ঈদুল ফিত্বরের পর ছয়টি ছিয়াম রাখে, তার এই ছিয়ামগুলো পূর্ণ এক বছর ছিয়াম পালনের সমপরিমাণ। (আল্লাহর বাণী) ‘যে একটি পুণ্য কাজ সম্পাদন করবে, সে অনুরূপ দশটি পুণ্যের অধিকারী হবে’।[6] ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন,

جَعَلَ اللهُ الْحَسَنَةَ بِعَشْرٍ فَشَهْرٌ بِعَشْرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةِ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ تَمَامَ السُّنَّةِ

‘মহান আল্লাহ কারো একটি পুণ্য কাজকে ১০ দিয়ে গুণ করবেন। সে হিসাবে রামাযান মাসের ৩০ দিন সমান ১০ মাস। (৩০×১০=৩০০ দিন) এবং ঈদুল ফিত্বরের পর শাওয়াল মাসের ছয় দিনের ছিয়াম সমান ২ মাস (৬×১০=৬০)। সব মিলে এক বছর (৩০০+৬০=৩৬০ দিন, ১ বছর)’।[7]

আল্লাহর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফল ছিয়াম লাগাতার রাখতেন : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ

‘রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে ছিয়াম রাখতেন, যাতে আমরা মনে মনে বলতাম তিনি আর ছিয়াম ছাড়বেন না এবং এমনভাবে ছিয়াম ছাড়তেন, যাতে আমরা মনে মনে বলতাম, তিনি আর ছিয়াম রাখবেন না’।[8] এই হাদীছটি প্রমাণ করে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফল ছিয়াম লাগাতার রাখতেন অর্থাৎ দৈনিক রাখতেন। অতএব, বুঝা যায় যে, শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম লাগাতার রাখা যাবে।

এক দিন পরপর ছিয়াম রাখা : একদিন পরপর ছিয়াম রাখা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যা দাঊদ (আলাইহিস সালাম) করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন,

أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ

‘দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর ছিয়াম পালনপদ্ধতি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি এক দিন ছিয়াম রাখতেন এবং এক দিন রাখতেন না। আর দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর ছালাতের পদ্ধতি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি অর্ধরাত ঘুমাতেন এবং এক-তৃতীয়াংশ ছালাত পড়তেন, আবার এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন’।[9] আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

أَفْضَلُ الصِّيَامِ صِيَامُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

‘নবী দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর ছিয়াম পালনপদ্ধতি সর্বোত্তম। দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এক দিন ছিয়াম রাখতেন, তো এক দিন বাদ দিতেন’।[10] হাফেয ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, يَقْتَضِي ثُبُوتَ الْأَفْضَلِيَّة مُطْلَقًا ‘রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী ফয়সালা দিচ্ছে, সমস্ত (নফল) ছিয়ামের ক্ষেত্রেই এই উৎকৃষ্টতা সাব্যস্ত’।[11]

উক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে, যেসব নফল ছিয়াম অনির্দিষ্ট, সেগুলো নবী দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর পদ্ধতিতে আদায় করা উত্তম বা প্রিয়। তাই শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম এক দিন পরপর আদায় করলে বা আরো বিরতি দিয়ে আদায় করলে উত্তম হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

প্রত্যেক মাসের তিন দিনের ছিয়াম এক বছরের সমান : আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا الْيَوْمُ بِعَشَرَةٍ

‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিনটি করে ছিয়াম পালন করে, তার জন্য সেটি এক বছরের ছিয়াম হিসাবে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এ কথার সত্যায়নস্বরূপ আয়াত অবর্তীণ করেছেন— ‘যে একটি পুণ্য কাজ সম্পাদন করবে, সে অনুরূপ দশটি পুণ্যের অধিকারী হবে। তাই এক দিন সমান ১০ দিন’।[12]

বুঝা যাচ্ছে, এক দিন ছিয়াম রাখলে ১০ দিন ছিয়াম রাখা সাব্যস্ত হবে। তাহলে তিন দিন ছিয়াম রাখলে ৩০ দিন ছিয়াম রাখা হবে। তাই প্রত্যেক মাসে তিনটি করে ছিয়াম রাখলে পূর্ণমাস ছিয়াম পালন করা সাব্যস্ত হবে। এভাবেই পূর্ণ এক বছর ছিয়াম পালনের ছওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ। রামাযান মাসে তো সারা মাস ছিয়াম পালন করতেই হবে।

প্রত্যেক মাসে তিন দিন ছিয়াম এক বছরের সমান, তবে সাথে রামাযানের ছিয়াম শর্তযুক্ত : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

ثَلاثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ

‘প্রত্যেক মাসের তিনটি ছিয়াম এবং এক রামাযান থেকে অন্য রামাযানের ছিয়াম, সারা বছর ছিয়াম রাখার সমান’।[13] আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,

شَهْرُ الصَّبْرِ وَثَلاَثَةُ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ

‘ধৈর্যের মাস (রামাযান) এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়াম হিসাবে গণ্য’।[14]

উপর্যুক্ত হাদীছদ্বয় থেকে প্রমাণিত হয়, প্রত্যেক মাসে তিন দিন করে ছিয়াম রাখলে পূর্ণ এক বছরের ছিয়াম রাখার সমান হবে বা পূর্ণ এক বছর ছিয়াম রাখার ছওয়াব হবে। কিন্তু রামাযান মাসের ফরয ছিয়াম অবশ্যই রাখতে হবে, নচেৎ নয়।

মাসের তিনটি ছিয়াম, যা এক বছরের সমান : মাসের তিনটি ছিয়াম, যা এক বছরের সমান— চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে তা রাখা উত্তম। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا صُمْتَ مِنْ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

‘হে আবূ যার! যখন মাসের তিনটি ছিয়াম রাখবে— তা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে’।[15] তবে সম্ভব না হলে মাসের যেকোনো দিনে তা রাখা যায়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ كَانَ

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক মাসে তিনটি ছিয়াম পালন করতেন। মুআয বলেন, আমি বললাম, তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসের কোন দিন এই ছিয়াম রাখতেন? আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, মাসের যে কোনো দিন তিনি ছিয়াম রাখতেন, এতে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো পরোয়া করতেন না’।[16]

হাফেয ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছগুলো উল্লেখ করে বলেন,

وَقَالَ الرُّويَانِيُّ صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ مُسْتَحَبٌّ فَإِنْ اتَّفَقَتْ أَيَّامُ الْبِيضِ كَانَ أَحَبَّ . وَفِي كَلَامِ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ أنَّ اسْتِحْبَابَ صِيَامِ أَيَّامِ الْبِيضِ غَيْرُ اسْتِحْبَابِ صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامِ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

‘রুইয়ানী বলেন, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের ছিয়াম মুস্তাহাব। যদি ছিয়াম তিনটি আইয়ামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখা হয়, তাহলে তা হবে অতি উত্তম। আর বহু বিদ্বানের বক্তব্য হলো, আইয়ামে বীযের (১৩, ১৪ ও ১৫) ছিয়াম এবং প্রত্যেক মাসের তিনটি মুস্তাহাব ছিয়াম পৃথক পৃথক ছিয়াম।[17]

মাসের তিনটি ছিয়াম রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দিনগুলোতে পালন করতেন : ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كَانَ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ مِنْ أَوَّلِ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسِ الَّذِي يَلِيهِ ثُمَّ الْخَمِيسِ الَّذِي يَلِيهِ

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক মাসের তিনটি ছিয়াম রাখতেন। মাসের প্রথম সোমবার, তার পরের বৃহস্পতিবার, অতঃপর তার পরের বৃহস্পতিবার’।[18]

মহান আল্লাহ যেন আমাদের বেশি বেশি নফল ছিয়াম পালন করার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন!


* চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৩; তিরমিযী, হা/৭৫৯; আহমাদ, হা/২৩৫৬১।

[2]. শারহু মুসলিম, ৮/৫৬।

[3]. সুবুলুস সালাম, ৩/৩৫৪।

[4]. মুফহিম, ৫/২৩।

[5]. আরবাঈন, ৭/৬৪।

[6]. ইবনু মাজাহ, হা/১৭১৫; বায়হাক্বী, হা/৮৬৯৪, হাদীছ ছহীহ।

[7]. নাসাঈ, হা/২৮৬১; আহমাদ, হা/২২৪১২, (নাসাঈর শব্দ), হাদীছ ছহীহ।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৬।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯।

[10]. নাসাঈ, হা/২৩৮৮-২৩৮৯, হাদীছ ছহীহ।

[11]. ফাতহুল বারী, ৬/২৪৮।

[12]. ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৮; তিরমিযী, হা/৭৬২, হাদীছ ছহীহ।

[13]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; আবূ দাঊদ, হা/২৪২৫।

[14]. নাসাঈ, হা/২৪০৮; ইবনু খুযায়মা, হা/২১২৬; আহমাদ, হা/৭৫৬৭, হাদীছ ছহীহ।

[15]. তিরমিযী, হা/৭৬১; বায়হাক্বী, হা/৮৭০৭, হাসান ছহীহ।

[16]. ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৯, হাদীছ ছহীহ।

[17]. ফাতহুল বারী, ৬/২৫৫।

[18]. নাসাঈ, হা/২৪১৪, হাদীছ ছহীহ।