রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত বনাম
প্রচলিত ছালাত
-আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

(পর্ব-২৮)

কুনূত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিয়ে হাত উঠানো যাবে না : 

বিতর ছালাতে ক্বিরাআত শেষ করে তাকবীর দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার কোনো প্রমাণ নেই। এই আমলের ব্যাপারে যা পেশ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বিতর ছালাতে কুনূত পড়তেন আর তিনি যখন ক্বিরাআত শেষ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং দুই হাত তুলতেন অতঃপর কুনূত পড়তেন।[1]  হাদীছটি ভিত্তিহীন।[2]  এই হাদীছ দলীলযোগ্য নয়। অতএব এ আমল হতে যরূরীভাবে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদের ছহীহ হাদীছের উপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন।

বিতরের কুনূতে আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা’ বলা যাবে না :

এই দু‘আর অংশটি কুনূতে রাতেবার জন্য নয়; বরং এই দু‘আটি কুনূতে নাযেলার জন্য। সাধারণত এশার ছালাতের পর বিতর ছালাতের শেষ দিকে রুকূর আগে অথবা পরে হাত বাঁধা অবস্থায় অথবা হাত তুলে যে কুনূত পড়া হয়, তাকে কুনূতে রাতেবা বলে। আর পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের শেষ রাক‘আতে রুকূ থেকে উঠে হাত তুলে শত্রুর বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা এবং মুসলিমদের রক্ষার জন্য নেক দু‘আ করার নাম কুনূতে নাযেলা। ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা’এই দু‘আর অংশটি কুনূতে নাযেলার জন্য খাছ। এটা কুনূতে রাতেবায় পড়া যাবে না। ওবায়েদ ইবনে ওমায়ের (রাঃ) বলেন, আমি ওমর (রাঃ)-কে ফজরের ছালাতে দু‘আ কুনূত বলতে শুনেছি তিনি বলছিলেন,

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ اَللّهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَ نُؤْمِنُ بِكَ وَ نَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَ نُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَ لاَ نَكْفُرُكَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ، اَللّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ و لَكَ نُصَلِّىْ وَ نَسْجُدُ وَ إِلَيْكَ نَسْعَى وَ نَحْفِدُ نَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَ نَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّا عَذَابَكَ الْجِدَّ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ، اَللّهُمَّ عَذِّبْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِكَ.

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নুমিনু বিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু ‘আলাইক, ওয়ানুছনী ‘আলাইকাল খাইরা ওয়ালা নাকফুরুকা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়ালাকা নুছল্লী ওয়া নাসজুদ, ওয়া ইলাইকা নাসআ‘ ওয়া নাহফিদু নারজূ রহমাতাক, ওয়া নাখশা ‘আযাবাক, ইন্না ‘আযা-বাকাল জিদ্দা বিল কুফফারি মুলহিক্ব, আল্লাহুম্মা ‘আযযিব কাফারতা আহলিল কিতাবিল্লাযীনা ইয়াছুদদূনা ‘আন সাবীলিক।

অনুবাদ : ‘আমি পরম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য চাই। আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি। আমরা তোমার উপর ভরসা রাখি। আমরা তোমার ভালো প্রশংসা করি। আমরা তোমার কুফরী করি না। তারপর তিনি পড়লেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। হে আল্লাহ! একমাত্র তোমার ইবাদত করি। একমাত্র তোমার জন্য ছালাত আদায় করি। আর একমাত্র তোমার জন্য সিজদা করি। তোমার পথে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমরা তোমার পথে দৌড়িয়ে যাই। আমরা তোমার রহমতের আশা রাখি। আমরা তোমার শাস্তির ভয় করি। তোমার কঠিন শাস্তি কাফেরদের উপর পতিত হোক। হে আল্লাহ! আহলে কিতাবদের (কাফেরদের) শাস্তি দাও, যারা তোমার পথে বাধা দেয়’।[3]

اَللّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيْعَ الْحِسَابِ أَهْزِمِ الْأَحْزَابَ اَللّهُمَّ أَهْزِمْهُمْ وَ زَلْزِلْهُمْ- اَللّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَ مُجْرِىَ السَّحَابِ وَ هَازِمَ الْأَحْزَابِ أَهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা মুংযিলাল কিতাব, সারীআ‘ল হিসাব, আহযিমিল আহযাবা, আল্লহুম্মা আহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম আল্লাহুম্মা মুংযিলাল কিতাব, ওয়া মুজরিয়াস সাহাব, ওয়া হাযিমাল আহযাব, আহযিমহুম ওয়াংছুরনা আলাইহিম।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! আমাদের সাথে ষড়যন্ত্রকারী দলকে পরাস্থ করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরাস্থ করুন, তাদের ভীতি প্রদর্শন করুন। হে আল্লাহ, কিতাব অবতীর্ণকারী, বৃষ্টি বর্ষণকারী! ষড়যন্ত্রকারী দলকে পরাস্থকারী! আপনি তাদের পরাস্থ করুন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন’।[4]

اَللّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيْدَ بْنَ الْوَلِيْدِ اللّهُمَّ اَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اَللّهُمَّ اَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ اَبِىْ رَبِيْعَةَ- اَللّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلى مُضَرْ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِيْنَ كَسِنِىِّ يُوْسُفَ اَللّهُمَّ الْعَنْ فُلاَنًا وَ فُلاَنًا-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংজিল ওয়ালীদাবনাল ওয়ালীদ, আল্লাহুম্মা আংজি সালামাতাবনা হিশাম, আল্লাহুম্মা আংজি ‘আইয়াশাবনা আবী রবী‘আহ, আল্লাহুম্মাশদুদ ওয়াত্বআতাক, আলা মুযার ওয়াজ‘আলহা আলাইহিম সিনীনা কাসিন্নিয়ি ইউসুফা আল্লাহুম্মাল ‘আন ফুলানান ওয়া ফুলানা।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আপনি ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদকে রক্ষা করুন, সালাম ইবনে হিশামকে রক্ষা করুন, আইয়াশ ইবনে আবী রাবী‘আকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! মুযার বংশের উপর আপনার শাস্তিকে কঠিন করে দিন, তাদের উপর দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন, যেমন ইউসুফ (আঃ)-এর যুগে চাপিয়েছিলেন। হে আল্লাহ! আপনি অমুক অমুকের উপর অভিসম্পাত করুন’।[5]

কুনূতে রাতেবা বা বিতরের কুনূত  :

হাসান ইবনে আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন, যা আমি বিতরের কুনূতে পড়ি-

اللَّهُمَّ اهْدِنِى فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِى فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِى فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِى فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِى شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِى وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ وَ صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাহ্দিনী ফীমানহাদাইত, ওয়া ‘আফিনী ফীমান ‘আফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমাং তাওয়াল্লাইত, ওয়া বারিকলী ফীমা আ‘তাইত, ওয়াক্বিনী শাররামা ক্বাযাইত, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইউক্বযা ‘আলাইক, ইন্নাহু লাইয়াযিল্লু মাওঁ ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়াইঝঝু মান ‘আদায়ত, তাবারকতা রব্বানা ওয়াতা‘আলাইত, ওয়া ছল্লাল্লাহু আলান্নাবিইয়ি।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হেদায়াত দান করো। যাদের তুমি হেদায়াত করেছো তাদের সাথে। আমাকে মাফ করে দাও যাদের তুমি মাফ করেছো তাদের সাথে। আমার অভিভাবক হও যাদের অভিভাবক হয়েছো তাদের সাথে। তুমি যা আমাকে দান করেছো তাতে রবকত দাও। আর আমাকে ঐ অনিষ্ট হতে বাঁচাও যা তুমি নির্ধারণ করেছো। তুমি ফায়ছালা করো কিন্তু তোমার উপর কেউ ফায়ছালা করতে পারে না। তুমি যার সাথে শত্রুতা রাখো সে সম্মান লাভ করতে পারে না। নিশ্চয়ই সে অপমানিত হয় না যাকে তুমি বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছো। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময়, তুমি উচ্চ এবং নবী করীম (ছাঃ)-এর উপর রহমত অবতীর্ণ হোক’।[6]

উল্লেখ্য, উক্ত দু‘আটি মুখস্থ না থাকলে সূরা ইখলাছ পড়তে হবে মর্মে কোনো হাদীছ নেই। দু‘আ মুখস্থ না থাকলে কুনূত পড়তে হবে না।

নিয়মিত কুনূত পড়া যাবে না :

নিয়মিত কুনূত পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। ফজর ছালাতের পরে নিয়মিত কুনূত পড়া এবং কুনূতে নাযেলার স্থানে কুনূতে রাতেবা পড়া শরী‘আত বিরোধী আমল। নিয়মিত কুনূত পড়াকে ছাহাবীগণ বিদ‘আত বলতেন।

عَن أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ إِنَّكَ قَدْ صليت خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي هَهُنَا بِالْكُوفَةِ نَحْوًا مِنْ خَمْسِ سِنِينَ أَكَانُوا يَقْنُتُونَ؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ مُحْدَثٌ

আবু মালিক আশজাঈ (রাঃ) বলেন, আমি আমার আব্বাকে বললাম, আপনি তো রাসূল (ছাঃ), আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছেন। এমনকি কূফাতে আলী (রাঃ)-এর পিছনে পাঁচ বছর ছালাত আদায় করেছেন। তারা কি কুনূত পড়তেন? তিনি বললেন, হে আমার সন্তান, এটা বিদ‘আত।[7]  এই হাদীছে নিয়মিত কুনূত পড়াকে বিদ‘আত বলা হয়েছে। কাজেই নিয়মিত বিতর পড়বে। তবে মাঝেমধ্যে কুনূত ছাড়বে।

সফরের ছালাত :

সফর অবস্থায় ছালাত ক্বছর করতে হবে :

চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতকে দুই রাক‘আত করে পড়াকে ক্বছর বলে। ক্বছর আল্লাহর পক্ষ থেকে দান বা রহমত। সফরে সময়ের অভাব থাকে, ক্লান্তি বেশী হয়। কাজেই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা বিশেষ দয়া। সফরের ছালাতের স্থান এবং ওযূর ব্যবস্থা পাওয়া কঠিন হয়। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা বিশেষ রহমত। সফরে শান্তিমতো ছালাত আদায়ের মতো পরিবেশ থাকে না। এসব কারণে সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর এ বিশেষ রহমত কবুল করা উচিত। যোহর ও আছর একসাথে পড়তে হবে। যোহরের ছালাত আছরের সময় পড়বে অথবা আছরের ছালাত যোহরের সময় পড়বে। মাগরিবের সময় এশার ছালাত ক্বছর পড়বে অথবা এশার সময় মাগরিবের ছালাত পড়বে। এর নাম ক্বছর ও জমা। অনেক মানুষ রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি চরম ভালোবাসা দেখায় কিন্তু ছহীহ হাদীছে প্রমাণিত রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানে না। সফরেও ছালাত পূর্ণ পড়ে, ক্বছর পড়ে না। অথচ ক্বছর পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশি হবে। কারণ তাতে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানা হবে। এসব লোক হজ্জ করতে গিয়েও রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا ‘যখন তোমরা সফর করো, তখন তোমাদের ছালাতে ক্বছর করায় কোনো দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, কাফেররা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (নিসা, ১০১)। এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ছালাত ক্বছর করার অনুমতি দিয়েছেন।

عَن يعلى بن أُميَّة قَالَ: قلت لعمر بن الْخطاب: إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا) فَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ. قَالَ عُمَرُ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ: «صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صدقته

ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়া (রাঃ) বলেন, আমি একদা ওমর (রাঃ)-কে বললাম, তোমাদের ছালাতে ক্বছর করায় কোনো দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, কাফেররা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে। অতঃপর মানুষ এখন নিরাপদে রয়েছে। (এখন ক্বছর করতে হবে কেন?) তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যেমন আশ্চর্য হয়েছো, আমিও তেমনি এতে আশ্চর্য হয়েছিলাম। অতঃপর আমি রাসূল (ছাঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দান। আল্লাহ তোমাদের প্রদান করেছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর এ দান গ্রহণ করো’।[8]

উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে, ক্বছর ছালাত আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়াস্বরূপ। ছালাতের রাক‘আত কমিয়ে আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া করেছেন। যার কারণে রাসূল (রাঃ) আল্লাহর দয়াকে কবুল করার জন্য আদেশ করেছেন। রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশ রক্ষা করা উচিত। মুসাফির ক্বছর পড়বে এ কথাই ঠিক।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ: إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعَصْرِ وَفِي الْمَغْرِبِ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعِشَاءِ ثُمَّ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا

মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) তাবূক যুদ্ধে অবস্থান করছিলেন। যাত্রা করার পূর্বে যদি সূর্য ঢলে পড়ত, তবে তিনি যোহর ও আছর জমা করতেন। আর যদি সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে যাত্রা করতেন। তখন যোহরকে দেরী করতেন আছর পর্যন্ত। অনুরূপ করতেন মাগরিবের ক্ষেত্রে। যাত্রা করার পূর্বে যদি সূর্য ডুবে যেত, তাহলে মাগরিব ও এশা জমা করতেন। আর সূর্য ডুবার পূর্বে যদি যাত্রা করতেন, তবে মাগরিবকে দেরী করতেন এবং এশার ছালাতের জন্য অবতরণ করতেন। অতঃপর মাগরিব ও এশা জমা করতেন।[9]

উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যোহরের সময় সফর শুরু হলে যোহর ও আছর একসাথে পড়ে নিয়ে বের হবে। মাগরিবের সময় বের হলে মাগরিব এবং এশা একসাথে পড়ে নিয়ে বের হবে। সফরেও দু’টাকেই একসাথে পড়বে। আর এটা করাই হবে সুন্নাত। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন সফর অবস্থায় থাকতেন, তখন যোহর ও আছর জমা করতেন এবং এভাবেই মাগরিব ও এশা জমা করে আদায় করতেন।[10]

ক্বছরের জন্য ৪৮ মাইল নির্ধারণ করা যাবে না :

হাদীছে কোনো দূরত্বের কথা উল্লেখ নেই। কাজেই দূরত্ব নির্ধারণ করে ক্বছর ছালাত আদায় করা যাবে না। অতএব সফর হিসাবে গণ্য করা যায়, এরূপ সফরে বের হলে যখন ছালাতের সময় হবে তখন ক্বছর করবে। আনাস (রাঃ) বলতেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাক‘আত পড়েছি। আর যুল হুলায়ফায় গিয়ে আছরের ছালাত দুই রাক‘আত পড়েছি। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন তিন মাইল পথে বের হতেন অথবা নয় মাইল পথে বের হতেন তখন তিনি ক্বছর করতেন।[11]   ইবনে আব্বাস (রাঃ) ক্বছর করতেন মক্কা এবং তায়েফের মাঝে দূরত্ব পরিমাণ পথে এবং উসফান এর মাঝে দূরত্ব পরিমাণ পথে।[12]

উক্ত হাদীছসমূহ প্রমাণ করে ক্বছরের জন্য দূরত্ব নয় বরং সফরই মুখ্য বিষয়। সফর প্রমাণ হলেই ক্বছর করতে হবে আর ৪৮ মাইলের হাদীছ যঈফ।[13]

(চলবে)

[1]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৭০২১; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৭।

[2]. ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৭।

[3]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ২/২১৩;  ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।

[4].  ছহীহ বুখারী, হা/২৯৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৪২।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৮০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭৫।

[6]. তিরমিযী, হা/৪৬৪; আবুদাঊদ, হা/১৪২৫; নাসাঈ, হা/১৭৪৫; মিশকাত, হা/১২৭৩, সনদ ছহীহ।

[7]. তিরমিযী, হা/৪০২; মিশকাত, হা/১২৯২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২১৯।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫; মিশকাত, হা/১৩৩৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৫৭।

[9]. আবুদাঊদ, হা/১২০৮; মিশকাত, হা/১৩৪৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৬৬।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১১০৭; মিশকাত, হা/১৩৩৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৬১।

[11].  ছহীহ মুসলিম, বুলূগুল মারাম, হা/৪২১।

[12]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, বুলূগুল মারাম, হা/৪২৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।

[13]. ইরওয়া, হা/৫৬৫।