রাসূল (ছাঃ) কেন ভাল কাজে ডান এবং

নিকৃষ্ট কাজে বাম হাত ব্যবহার করলেন?

-আব্দুর রহমান বিন ফরীদুল ইসলাম

ছানাবিয়্যাহ শেষ বর্ষ, মাদরাসা দারুল হাদীছ সালাফিইয়াহ,

পাঁচরুখী, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ।

ভূমিকা :

পবিত্র ধর্ম ইসলাম বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার নিকটে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্মই হলো ইসলাম। এই ইসলামেই রয়েছে মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ এবং মুক্তি। সুতরাং এই পবিত্র ধর্মের বিষয়বস্তুকেও মান্য করা পৃথিবীর সকল প্রকার মানুষের জন্য কল্যাণকর। আর এই কল্যাণ ও মুক্তির পথ দেখানোর জন্যই আল্লাহ তা‘আলা মানব বিজ্ঞানী আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন। জীবন চলার ক্ষেত্রে ছোট-খাঁটো বিষয়েও আমরা তাকে অনুসরণ করব।

সুধী পাঠক! একটি কথা চিন্তা করুন, ডান হাত, ডান পা এবং বাম হাত, বাম পা সবগুলোই তো আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন! কিন্তু কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জাগে না যে, কেন রাসূল (ছাঃ) ডান হাত দিয়ে খেলেন? বাম হাত দিয়েও তো তিনি খেতে পারতেন, কিন্তু কেন তিনি বাম পা দিয়ে টয়টেলে প্রবেশ করলেন? ডান পা দিয়েও তো প্রবেশ করতে পারতেন। তিনি ভালো কাজের জন্য ডান এবং নিকৃষ্ট কাজের জন্য বাম হাতকে কেন বেছে নিলেন? এসব বিষয় নিয়েই আমরা এখানে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

ডান হাত বা ডান দিক ব্যবহারের গুরুত্ব :

আসুন! আমরা ডান হাত বা ডান দিকে ব্যবহারের গুরুত্ব জেনে নিই,

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْيُمْنَى لِطُهُورِهِ وَطَعَامِهِ، وَكَانَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى لِخَلَائِهِ، وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى».

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) এর ডান হাত ছিল পবিত্রতা অর্জন ও খাদ্য গ্রহণের জন্য আর  তার বাম হাত ছিল শৌচ ও অন্যান্য নিকৃষ্ট বা কষ্টদায়ক কাজের জন্য।[1]

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ওযূ-গোসলের পবিত্রতা অর্জনের সময়, চুল আঁচড়ানোর সময় এবং জুতা পরার সময় ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন। [2]عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لَيُحِبُّ التَّيَمُّنَ فِى طُهُورِهِ إِذَا تَطَهَّرَ وَفِى تَرَجُّلِهِ إِذَا تَرَجَّلَ وَفِى انْتِعَالِهِ إِذَا انْتَعَلَ.

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم قَالَ لِيَأْكُلْ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ وَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ وَلْيَأْخُذْ بِيَمِينِهِ وَلْيُعْطِ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ وَيُعْطِى بِشِمَالِهِ وَيَأْخُذُ بِشِمَالِهِ.

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে যেন ডান হাতে আহার করে, ডান হাতে পান করে, ডান হাতে গ্রহণ করে এবং ডান হাতে প্রদান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায়, বাম হাতে পান করে, বাম হাতে প্রদান করে এবং বাম হাতে গ্রহণ করে’।[3]

إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشِمَالِهِ فَقَالَ كُلْ بِيَمِينِكَ . قَالَ لاَ أَسْتَطِيعُ قَالَ  لاَ اسْتَطَعْتَ . مَا مَنَعَهُ إِلاَّ الْكِبْرُ. قَالَ فَمَا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ.

ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনে আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক লোক রাসূল (ছাঃ) এর নিকট বাম হাতে খাদ্য গ্রহণ করছিল। তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার ডান হাতে খাও’। সে বলল, আমি পারব না। রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি যেন নাই পারো’। শুধুমাত্র অহমিকাই তাকে বারণ করেছে। সালামাহ (রাঃ) বলেন, সে আর কখনও তার ডান হাত মুখের নিকট উঠাতে পারেনি।[4]

ডান-বাম ব্যবহারের উপর বুখারী, মুসলিম, আবুদাঊদসহ অন্যান্য কিতাবে রাসূল (ছাঃ) থেকে অনেক ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যা এত স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।[5]

সুধী পাঠক! উপরে উল্লেখিত যে হাদীছগুলো আমরা পড়লাম, তাতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল (ছাঃ) যে কোনো কাজ ডান হাতে বা ডান দিকে দিয়ে শুরু করতেন। তিনি ডানকে পসন্দ করতেন। দ্বীনী ভাই আমার! আখিরাতের পাথেয় অর্জন করা খুবই সহজ। যে কোনো কাজ নবী (ছাঃ) এর ত্বরীকায় করলে সেটা ইবাদত হয়ে যাবে। আপনি যদি বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে তিন ঢোকে পানি পান করেন, তাহলে পানি পান করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। বাথরুমে বাম পা দিয়ে প্রবেশের সময় দু‘আ পড়লেন তো সেটা ইবাদত হয়ে গেল, ছওয়াব অর্জন হলো। আলহামদুলিল্লাহ।

এইরূপ ছোট ছোট সুন্নাতের কথা বলতে গেলেই তারা বলে উঠে, ধুর মিয়া! মানুষ এখন মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছে আর আপনি আছেন ডান আর বাম নিয়ে। এজন্যই তো আজ মুসলিমদের এত অবনতি। নাঊযুবিল্লাহ। এভাবে কথা বললে রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাহকে অবজ্ঞা করা হয়।

প্রিয় মুসলিম ভাই! কোনো সুন্নাতই অপ্রয়োজনীয় নয়। চাই সেটা ছোট হোক অথবা বড় হোক। ইসলামের ইমারত হলো সুন্নাত। ছোট ছোট সুন্নাতের ভিতরে মুক্তি আছে বড় বড় ক্ষতি থেকে, সাথে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি। আর ফরয তো ইসলামে দাখিল হওয়ার দরজা। দুনিয়ার অনেক উন্নতি হয়েছে, হতে দিন। দেখবেন, দুনিয়ার যতই উন্নতি হোক না কেন দুনিয়া উন্নত হয়ে সুন্নাতের কোলেই গিয়ে মাথা রাখবে। মানুষ সুন্নাতকে না চিনলেও এখন দুনিয়া চিনবে রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাতকে।

বাস্তবতার আলোকে ডানের ব্যবহার :

গাড়ির ডান দিকে ড্রাইভার এবং পিকআপ :

সম্মানিত দ্বীনী ভাই! আপনি লক্ষ্য করবেন গাড়ির দিকে, পিকআপ ঘুরানো সেটা কিন্তু ডান দিকেই আছে এবং ড্রাইভার গাড়ির ডান দিকে থেকে গাড়ি পরিচালনা করে থাকে। অনুরূপভাবে মোটর সাইকেলেরও ডান দিকে পিকআপ ঘুরানো আছে। আর যদি তা বাম দিকে থাকত তাহলে তিনি মোটর সাইকেল কন্ট্রোল করতে পারতেন না।

ডান হাতে তাসবীহ ও অন্যান্য গণনা করা :

আপনি লক্ষ্য করবেন, মানুষেরা ছালাত শেষে এবং বিভিন্ন সময় ডান হাতেই তাসবীহ গণনা করে থাকে, বাম হাতে কিন্তু নয়। আর এমনিতেই মানুষেরা সাধারণত গণনার কাজ ডান হাতে করে থাকে, এতে অনেক সুবিধা এবং তাড়াতাড়ি গণনা করা হয়। কিন্তু এই হিসাব যদি আপনি বাম হাতে করেন, তাহলে অসুবিধা হবে এবং তাড়াতাড়িও হবে না। বিশ্বাস না হলে একবার প্র্যাকটিস করে দেখুন।

ডান হাতে চুল আঁচড়ানো :

প্রায় সব মানুষই ডান হাতে চুল আঁচড়ায়। ডান হাতে চুল আঁচড়ানোতে সুবিধা এবং আঁচড়ানোও অনেক সুন্দর হয়। কিন্তু বাম হাত দিয়ে চুল আঁচড়ানোতে সুবিধা হয় না বরং চুলগুলো আরো এলোমেলো হয়ে যায়। একবার না হয় পরীক্ষা করুন।

ডান হাতে মোবাইল টাচ :

অধিকাংশ মানুষ ডান হাতে বাটনওয়ালা মোবাইল চাপে। কেননা এতে সুবিধা হয়। কিন্তু আপনি যতি বাটনওয়ালা মোবাইল বাম হাতে চাপেন তাহলে খুব একটা সুবিধা হবে না। একটা নাম্বার তাড়াতাড়ি উঠাতে পারবেন না। আপনি লক্ষ্য করবেন লোকজন টাচ ফোন ব্যবহার করার সময় বাম হাতে রেখে ডান হাত দিয়ে টাচ করে, কেননা এতে সুবিধা হয়।

ডান হাতে লেখা :

কোনো কিছু লেখার সময় মানুষ ডান হাতেই লিখে। কেননা এতে লেখা সুন্দর এবং তাড়াতাড়ি হয়। তবে যারা বামহাতি তারা ব্যতীত। বাম হাত দিয়ে লিখলে লেখা সুন্দর হয় না, তাড়াতাড়িও হয় না। পরীক্ষার হলে আপনি যদি বাম হাত দিয়ে লিখেন তাহলে দেখবেন পাঁচটি প্রশ্নে উত্তর দিতে পারবেন না। একটার উত্তর দিতে না দিতেই পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবে। এটাই বাস্তব।

ডান হাতে মুছাফাহা করা :

আপনি মুছাফাহার বিষয়টি খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করবেন যে, মুসলিম, ইয়াহূদী, খ্রীস্টান, কাফের, মুশরিক সকলেই যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাত করে, তখন তারা ডান হাতে মুছাফাহা করে। কেননা সকলেই এই কাজটি ডান হাতে হওয়াটাই বেশি পসন্দ করে।

ডান হাতে কাউকে কিছু দেওয়া :

একজন মানুষ যখন কাউকে কিছু দিতে চায়, তখন সে তার ডান হাতেই দেয়। যেমন, একজন ছাত্র তাঁর প্রিয় বন্ধুকে যখন কিছু উপহার দিতে চায়, তখন সে অবশ্যই ডান হাতেই দিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে বাম হাতে দেওয়াটা উভয়ই অপসন্দ করবে।

ডান হাতে আমলনামা প্রদান :

প্রিয় মুসলিম ভাই! এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে, ক্বিয়ামতের সেই কঠিন মুহূর্তে যাদেরকে ডান হাতে বা ডান দিক হতে আমলনামা দেওয়া হবে, তাঁরা অবশ্যই সফলকাম হবে। আর যাদেরকে বাম দিক হতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা অবশ্যই ধ্বংস হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  َصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ ‘আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল’ (ওয়াক্বিয়া, ৪১)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ‘আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল’ (ওয়াক্বিয়া, ২৭)।

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,  فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ ‘তখন ডান দিকের একটি দল হবে, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল’ (ওয়াক্বিয়া, ৮)। আল্লাহ তা‘আল বলেন, َأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ ‘আর বাম দিকের একটি দল হবে, কত দুর্ভাগ্য বাম দিকের দলটি’ (ওয়াক্বিয়া, ৯)।

ডান কাতে শয়ন করুন, সুন্দর স্বপ্ন দেখুন :

বারা ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) বারা (রাঃ) কে বলেন, ‘যখন তুমি শয়ন তথা শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন ছালাতের ওযূ করে ডান কাতে শয়ন করবে’।[6]

সুধী পাঠক! আপনি ডান কাতে শয়ন করবেন। কেননা এটা রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাত। যারা বাম পাশ হয়ে ঘুমায়, তারা বেশি দুঃস্বপ্ন দেখে আর ডান পাশ হয়ে ঘুমালে স্বপ্ন বেশি মনে থাকে এবং নিরাপত্তার অনুভূতি জেগে ওঠে। রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাত পালন করে ঘুমিয়ে পড়ুন। সুন্দর স্বপ্ন দেখুন। স্বপ্নে কাটুক আপনার রাত।

মেডিকেল রিপোর্ট :

কিছু মানুষ বাম কাতে ঘুমানোর উপকারিতা বলে থাকে। তারা বলে পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু গলায় উঠে আসার সম্ভাবনা কমে বাম কাতে ঘুমালে। আর ডান কাতে ঘুমালে বাড়ে। কারণ পাকস্থলী আর অন্ননালীর একটা বাঁক আছে। কিন্তু কিছু মেডিকেল রিপোর্ট আছে আর তা হলো অন্ননালী আর পাকস্থলীর মাঝে একটা গোশতের টুকরা আছে, সুস্থ মানুষের এই পেশীর গেট চাপে বন্ধ থাকে। তার মানে সুস্থ মানুষ ডান কাতে ঘুমালে উল্টোপথে খাবার উঠে আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে আসতে পারে, যাদের এই গেটের ফাংশনে সমস্যা আছে। পেশী দুর্বলতার কারণে এই গেট বন্ধ থাকে। বরং বামকাতে ঘুমালে যে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে তা হল পাকস্থলী থাকে বামে এবং ডানে থাকে লিভার। যা অনেক ওযনদার। যদি আপনি বাম কাতে ঘুমান, তাহলে লিভারের ওযন এসে পড়ে পাকস্থলীর উপরে। ফলে সুস্থ মানুষের খাবার উঠে আসার সম্ভাবনা আছে। এজন্য রাসূল (ছাঃ) যেভাবে ঘুমাতেন ঠিক সেভাবেই আমাদের ঘুমানো উচিত। কেননা এতে অনেক কল্যাণ আছে।

একটি দুঃখের বিষয় :

বর্তমান সময়ে কোন ইয়াহূদী, খ্রীস্টান গবেষণা করে যদি বিজ্ঞানের আলোকে তথ্য দেয়, তাহলে আমরা তা সাথে সাথে গ্রহণ করি। যেমন কেউ যদি বুকের ভরে ঘুমায় তাহলে সে হার্ট-এ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করতে পারে। অনুরূপ ভাবে কেউ যদি বাম কাতে ঘুমায় তাহলে তার দেহের ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানের এজাতীয় কিছু তথ্য শোনা মাত্রই আমরা তা গ্রহণ করি। যা মানুষ অনুসরণ করলে কল্যাণ থাকলেও এতে কোন ছওয়াব হবে না।

সুতরাং রাসূল (ছাঃ)  যখন কোন আদেশ-নিষেধ করেন তখনই আমাদের তা মেনে নিতে হবে। তাহলে এতে রাসূল (ছাঃ) কে ভালবাসা, অনুসরণ, ছওয়াব লাভ, মুক্তি সবগুলোই অর্জন হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আফসোস! আমরা রাসূল (ছাঃ) এর কথাকে উপেক্ষা করে বিজ্ঞানের কথাকে মান্য করি।

বামপন্থা :

টয়লেটে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করার সুবিধাটা হলো এই যে, যদি আপনার কোনো কারণে বাম পা স্লিপ করে, তাহলে অধিক সক্রিয় ডান পা দিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি ডান পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করেন আর যদি পা স্লিপ করে পড়ে যান তাহলে কম সক্রিয় বাম পা দিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতেও পারেন, আবার নাও পারেন। সুতরাং রাসূল (ছাঃ) যেখানে যেভাবে চলতে বলেছেন সেখানে সেভাবেই আমাদের চলতে হবে।

ডান হাত বা ডান দিক ব্যবহারের উপকারিতা : 

(১) রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাহকে অনুসরণ করা হয়।

(২) শয়তানের কর্মকা- থেকে বিরত থাকা যায়।

(৩) বিভিন্ন কাজ-কর্ম করতে অনেক সুবিধা হয়।

(৪) বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে বেঁচে থাকা যায়।

(৫) অহংকারী আচরণ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এটা ছাড়াও অনেক উপকার রয়েছে।

বাম হাতের কিছু অপকারিতা :

(১) রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাতের বরখেলাপ।

(২) বাম ব্যবহার করা শয়তানী আচরণ। তবে কিছু স্থান ব্যতীত।

(৩) অহংকারীদের আচরণ।

(৪) কাজ-কর্ম করতে সুবিধা হয় না।

(৫) বাম হাত ব্যবহার করলে বিভিন্ন রোগ-বালাই আক্রমণ করতে পারে। এছাড়াও বাম হাত ব্যবহারের অনেক অপকারিতা আছে।

বর্তমান স্টাইল :

কিছু মানুষ চা খায় বাম হাতে অথচ চা হালাল। আর ডান হাত দিয়ে সিগারেট টানে অথচ সিগারেট হারাম অর্থাৎ আপনি বিভিন্ন দোকানে লক্ষ্য করবেন, যখন মানুষেরা চা খায় তখন তারা বাম হাতে চা খায়, ডান হাতে সিগারেট আর নাক দিয়ে কিছু ধোঁয়া এবং মুখ গোল করে কিছু ধোঁয়া ছাড়ে আর বলে এটাই নাকি স্টাইল। এসব লোকজন বিভিন্ন রোগে ভুগছে। কারণ এক দিকে রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাতের বরখেলাফ, আর একদিকে হারাম ভক্ষণ। নাঊযুবিল্লাহ।

রাসূল (ছাঃ) যে সকল কাজ ডান হাত বা ডান দিক দিয়ে করতেন :

(১) রাসূল (ছাঃ) ডান হাতে খেতেন।[7]

(২) তিনি ডান দিক হতে পবিত্রতা অর্জন করতেন।[8]

(৩) তিনি ডান দিক হতে জুতা পরতেন।[9]

(৪) তিনি ডান হাত দিয়ে চুল আঁচড়াতেন।[10]

(৫) তিনি ডান দিক হতে ওযূ করতেন বা শুরু করতেন। এটা ছাড়াও অনেক কাজ-কর্ম আছে যেগুলোতে তিনি ডান হাত বা ডান দিক ব্যবহার করতে ভালবাসতেন।[11]

বাম হাতের ব্যবহার :

বাম হাতের ব্যবহার যে ইসলামে নেই তা নয় বরং বাম হাতও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। নিম্নে কিছু বাম হাতের কার্যাবলি উল্লেখ করা হল:

(১) রাসূল (ছাঃ) বাম হাতে শৌচ কাজ করতেন।

(২) তিনি বাম হাত নিকৃষ্ট বা কষ্টদায়ক কাজের জন্য ব্যবহার করতেন।

বাম হাতের ব্যবহার আরও অনেক রয়েছে। সুতরাং রাসূল (ছাঃ) যে কাজের জন্য বাম হাত ব্যবহার করতেন, সেই কাজের জন্য আপনিও বাম হাত ব্যবহার করুন।

উপসংহার :

আমার মত একজন নগন্য মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা ডান-বাম ব্যবহারের উপর ক্ষুদ্রাকারে লেখার তাওফীক্ব দান করেছেন বলে তার দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এর মধ্যে যা কিছু ভালো ও কল্যাণকর তা সবই আল্লাহ্র রহমত ও তাওফীক্বের কারণে। আর যা কিছু ভুলভ্রান্তি আছে তা সবই আমার অযোগ্যতা। আমি আল্লাহর দরবারে সকল ভুল ও অন্যায় থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তার দরবারে দু‘আ করি, তিনি দয়া করে এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করে এটাকে আমার, আমার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, প্রিয়জন এবং পাঠক-পাঠিকাদের নাজাতের অসীলা বানিয়ে দেন- আমীন!

[1]. আবুদাঊদ,হা/33; মিশকাত হা/348

[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩৯; তিরমিযী, হা/৬০৩।

[3].  ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৯০; তিরমিযী, হা/১৮০০।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩৮৭; মিশকাত, হা/৫৯০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৫৪০।

[5]. দ্রষ্টব্য: ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১৫, ৬৩১৪, ৬৩১০।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১১, আ.প্র হা/৫৮৬৬, ই.ফা. হা/৫৭৫৯। |

৭. আবুদাঊদ, হা/৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২৬।

৮. আবুদাঊদ, হা/৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২৬।

৯. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮, ৪২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৪-৫০৫।

১০. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮, ৪২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৪-৫০৫।

১১ ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮, ৪২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৪-৫০৫।