রিফাত হত্যা মামলা : আদালতের নযীরবিহীন রায় ও জনমনে সংশয়
-জুয়েল রানা*

ভূমিকা :

সামাজিক অস্থিরতা হঠাৎ করেই যেন প্রবলরূপ ধারণ করেছে। পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়জনিত একের পর এক বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ। হত্যা, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও আত্মহননের মিছিলে বেরিয়ে পড়ছে নৈতিকতার বিপর্যয় এবং অধঃপতনের ভয়ানক চিত্র। প্রতিদিনই ঘটছে নানা নৃশংস ঘটনা। বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড তার মধ্যে একটি।

রিফাত হত্যার গোড়ার কথা :
গত ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে একটি হত্যাকাণ্ড নযর কেড়েছিল সারাদেশের মানুষের। সেটি হলো- কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনীর হাতে খুন হতে হয় শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ)-কে। সরাসরি সেই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীসহ তাদের অনুসারীরা। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এ সময় রিফাতকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রিফাতকে বরগুনা সদর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই দিন বিকালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রিফাত শরীফ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

রিফাতের বাবার হত্যা মামলা দায়ের :
ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। এ সময় মিন্নিকে সাক্ষী করা হয়। মামলাটিতে ক্রম অনুযায়ী আসামি করা হয়-সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড), মো. রিফাত ফরাজী, মো. রিশান ফরাজী, চন্দন, মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান, মো. হাসান, রিফাত, অলি ও টিকটক হৃদয়।

পুলিশি কার্যক্রম ও কথিত ক্রসফায়ার :
রিফাত শরীফের ওপর হামলার দিন সন্ধ্যায় এক কিশোরকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পুলিশ এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতার শুরু করে। পর্যায়ক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি ও পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় একে একে সব আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ২০১৯ সালের ২ জুলাই ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

পুলিশি প্রতিবেদন ও আদালতের চার্জ গঠন :
রিফাত হত্যাকাণ্ডে দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকালে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দু’টি তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুক যুদ্ধে(?) নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই চার্জশিট মোতাবেক চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মামলার প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, ডাক্তার ও সিআইডি কর্মকর্তাসহ ৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন। একই ঘটনায় পুলিশের দেওয়া আরেকটি চার্জশিট অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচার চলছে বরগুনা শিশু আদালতে।

নিহত রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলন :
রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় পুত্রবধূ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত উল্লেখ করে তাকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। এ সময় তিনি মিন্নির জড়িত থাকার ১০টি কারণ উল্লেখ করেন। কারণগুলো হলো: (১) নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের ঘটনা সে ও তার পরিবার কৌশলে গোপন করে গেছে। (২) বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় শরী‘আহ বহির্ভূতভাবে মিন্নি রিফাতকে বিয়ে করেছে। (৩) রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করে এবং নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। (৪) এরই ধারাবাহিকতায় মিন্নি ঘটনার আগের দিন ২৫ জুন, ২০১৯ সকাল ৯টায় এবং সন্ধ্যায় নয়নের বাসায় যায়। (৫) মিন্নি অন্যান্য দিনে রিফাতকে ছাড়া কলেজে গেলেও ঘটনার দিন রিফাতকে কলেজে ডেকে নিয়ে যায়। (৬) রিফাত ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে মোটরসাইকেলে কলেজ থেকে মিন্নিকে নিয়ে আসার জন্য গেলে মিন্নি মোটরসাইকেল পর্যন্ত এলেও চক্রান্তকারীদের উপস্থিতি না দেখে কালক্ষেপণের জন্য পুনরায় কলেজের দিকে ফিরে যাচ্ছিল এবং রিফাত মিন্নিকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছিল। (৭) মিডিয়ায় প্রকাশিত নতুন ভিডিও ফুটেজে তার প্রিয় ছেলেকে রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী ও অন্যরা জাপটে ধরে যখন মারপিট করতে করতে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন মিন্নি অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে পেছনে পেছনে হাঁটছিল, যা একজন স্ত্রীর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই স্বাভাবিক আচরণ ছিল না। (৮) স্বামীকে কোপানোর সময় মিন্নি আসামিকে জাপটে ধরেছে কিন্তু আসামি নয়নসহ অন্যান্য আসামিদের কেউ একটি বারের জন্যও মিন্নির ওপর চড়াও হয়নি এবং কোনোভাবেই মিন্নি আক্রান্ত হয়নি। (৯) যখন রিফাত শরীফ আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় একা একা রিকশায় হাসপাতালে যাচ্ছিল, তখন মিন্নি তার ব্যাগ ও স্যান্ডেল গোছানোর কাজেই ব্যস্ত ছিল এবং আসামিদের একজন রাস্তা থেকে ব্যাগ তুলে মিন্নির হাতে দিচ্ছিল। (১০) তাছাড়া তার প্রিয় ছেলে রিফাত শরীফকে অ্যাম্বুলেন্সে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মিন্নি রিফাতের সঙ্গে বরিশালে যায়নি।

মিন্নির পাল্টা সংবাদ সম্মেলন :
গত ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকায় নিজস্ব বাসভবনে শ্বশুরের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। এ সময় সে বলে, ‘০০৭ গ্রুপ বরগুনায় যারা সৃষ্টি করেছেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থশালী। তাই তারা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকার জন্য আমার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে রিফাত হত্যার বিচারকে অন্যদিকে প্রবাহিত করছে। আমি মনে করি, খুনিদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’। এ সময় সে তার শ্বশুরের করা সংবাদ সম্মেলনকে ভিত্তিহীন দাবি করেন।

মিন্নির গ্রেফতার, যামিন ও মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা :
গত ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০ টার দিকে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম মিন্নিকে বরগুনা পৌর শহরের মাইঠা এলাকার তার বাবার বাড়ি থেকে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। এ সময় তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরকেও সঙ্গে নিয়ে আসা হয়। তবে বেলা ১১ টার পর মিন্নির  কাছ থেকে তার বাবাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। রাতে বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

নিম্ন আদালতে কয়েক দফা যামিন আবেদন করে প্রত্যাখাত হওয়ার পর উচ্চ আদালতে যামিন আবেদন করে মিন্নি। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির দু’টি শর্তে যামিন মঞ্জুর করেন। শর্ত দু’টি হলো: মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না ও তাকে তার বাবার যিম্মায় থাকতে হবে। যামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি গণমাধ্যমে কথা বললে তার যামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। গত বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত মিন্নি যামিনে ছিল। রায় ঘোষণার দিন সকালেই মিন্নি বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতে তার বাবার সাথে মোটরসাইকেলে করে হাযির হয়েছিল। তবে মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ার পর তাকে আদালত থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও রায়ের  তারিখ নির্ধারণ :
সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক খণ্ডন করেন চলতি বছরের গত ১৬ সেপ্টেম্বর। এই দিনই আদালতের বিচারক রিফাত হত্যা মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

আদালতের নযীরবিহীন রায় ও বাদী-বিবাদীর প্রতিক্রিয়া :
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ রিফাত শরীফ হত্যার মামলায় মিন্নিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায়ে অপর চার আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা যে মামলা করেছিলেন, সেখানে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ছিল এক নম্বর সাক্ষী। কিন্তু পুলিশের তদন্তের পর স্বামীর হত্যা মামলার সাক্ষী থেকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে চার্জশিটে ৭ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়। এখন তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলো। তাই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। মিন্নি ছাড়াও এই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বাদী-বিবাদী দুই পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে রায় নিয়ে যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তাতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির প্রসঙ্গই প্রাধান্য পেয়েছে।

হাইকোর্টে খালাস চেয়ে মিন্নির আবেদন :
গত ৪ অক্টোবর, ২০২০ মিন্নিসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী, রায়ের কপি হাইকোর্টে আসার পর আসামিরা সাত দিনের মধ্যে আপিল আবেদন করতে পারবেন। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই গত মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা বরগুনার বহুল আলোচিত সেই রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় খালাস চেয়ে আবেদন করেছেন।

জনগণের সংশয় ও প্রত্যাশা :
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রাশেদ সিনহা হত্যার বিচার হওয়া নিয়ে জনমনে প্রবল সংশয় রয়েছে। একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে কেন পুলিশ নৃশংসভাবে হত্যা করল, এই প্রশ্নের উত্তর খোলাসা করা যায়নি। তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত গুলি করা, গলায় বুট দিয়ে চেপে ধরে চরম ঘৃণা প্রকাশ কেন পুলিশ সদস্যরা করলেন, ভবিষ্যতের জন্য তা জানা যরূরী। অনুরূপ বহুল আলোচিত এই রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ অন্যান্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড আদৌ কার্যকর হবে কি না সেটা নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপসংহার :
আজ আমরা এতটাই চারিত্রিক অবক্ষয়ে জর্জরিত যে, বিবেকের যেন মৃত্যু ঘটেছে। যেদিকে তাকাই শুধু অস্থিরতা। এসব আমাদের চারিত্রিক অবক্ষয় আর সামাজিক সংকটের চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই সবার অজান্তে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অসাম্য বিস্তার লাভ করেছে ভয়াবহ আকারে। আসলে লোভ, ন্যায়বিচার, বৈষম্য, নৈতিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে আত্মহত্যা, ধর্ষণ, খুন, ইভটিজিং, অ্যাসিড সন্ত্রাস, হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে।

 

* খত্বীব, গছাহার বেগপাড়া জামে মসজিদ, গছাহার (১২ নং আলোকডিহি), চিরিরবন্দর, দিনাজপুর; সহকারী শিক্ষক, আলহাজ্ব শাহ্ মাহতাব-রওশন ব্রাইট স্টার স্কুল, উত্তর পলাশবাড়ী, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।