লোক দেখানো আমলের ভয়াবহ পরিণতি

রিয়াযুল ইসলাম বিন হাবীবুর রহমান
ছাত্র, আল-জামিআহ আস-সালাফিয়্যাহ
ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হচ্ছে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর কাছে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে প্রদত্ত নে‘মত সমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, দুনিয়াতে তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য কাফেরদের সাথে লড়াই করেছি। এমনকি শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তোমাকে যেন বীর-বাহাদুর বলা হয়, সেজন্য তুমি লড়াই করেছ। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে। তখন তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর সে ব্যক্তিকে বিচারের জন্য উপস্থিত করা হবে, সে নিজে দ্বীনি ইলম শিক্ষা করেছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। তাকে আল্লাহর কাছে হাযির করা হবে এবং তাকে নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সমস্ত নে‘মতের শুকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে কুরআন তেলাওয়াত করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়। বরং তুমি এজন্য ইলম শিক্ষা করেছ যেন তোমাকে বিদ্বান বলা হয় এবং ক্বারীও বলা হয়। তারপর তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহর দরবারের উপস্থিত করা হবে, যাকে আল্লাহ বিপুল ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে তার নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং সেও তা স্মরণ করবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, এই সমস্ত নে‘মতের শুকরিয়ার জন্য তুমি কি আমল করেছ। উত্তরে সে বলবে, যে সমস্ত ক্ষেত্রে ধন-সম্পদ ব্যয় করলে তুমি খুশি হবে, সেখানে ব্যয় করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে দান করেছিলে, যাতে তোমাকে বলা হয় যে, তুমি একজন দানবীর। তারপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দেশ মোতাবেক তাকে উপুড় করে টানতে টানতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯০৫; মিশকাত, হা/২০৫)।

শিক্ষা :

লোক দেখানো আমলের পরিণতি খুবই ভয়াবহ। কাজেই প্রতিটি কাজ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই করতে হবে। তা না হলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

 

একজন খুনীর তওবা ও জান্নাত লাভ

তামিম ইকবাল
ছাত্র, আল-জামিআহ আস-সালাফিয়্যাহ,
ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘বানী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে নিরানব্বইটি মানুষ হত্যা করেছিল। অতঃপর বের হয়ে একজন পাদ্রীকে জিজ্ঞেস করল, আমার তওবা কবুল হবার আশা আছে কি? পাদ্রী বলল, না। তখন সে পাদ্রীকেও হত্যা করল। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। এক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হলো এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেল। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেল। মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফেরেশতামণ্ডলী তার রূহকে নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। আল্লাহ সামনের ভূমিকে আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও এবং পশ্চাতে ফেলে আসা স্থানকে (যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর ফেরেশতাদের উভয় দলকে নির্দেশ দিলেন, তোমরা এখান থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ করো। পরিমাপ করা হলো, দেখা গেল যে, মৃত লোকটি সামনের দিকে এক বিঘত বেশি এগিয়ে আছে। কাজেই তাকে ক্ষমা করা হলো (বুখারী, হা/৩৪৭০; মুসলিম, হা/২৭৬৬; মিশকাত, হা/২৩২৭)।

শিক্ষা : 

(১) পাপী যদি পাহাড় পরিমাণ পাপ করে তবুও সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন। যেমন তিনি বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু’ (সূরা যুমার, ৫৩)। তিনি আরও বলেন, ‘তিনিই তাঁর বান্দার তওবা কবুল করেন ও পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা করো তিনি তা জানেন’ (শুরা, ২৫)।

(২) অজ্ঞ ব্যক্তি কোনো সমস্যায় পড়লে কুরআন-সুন্নাহ হতে অভিজ্ঞ কোনো আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করে তার সমস্যার সমাধান করে নিবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা জানো তাহলে সুস্পষ্ট দলীলসহ জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করো’ (নাহল, ৪৪)।

(৩) কোনো বিষয়ে যথাযথভাবে না জেনে সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।