প্রশ্ন (১) : যদি কোনো শিশু রামাযান মাসের শেষ দিন অথবা ঈদের দিন সকালে জন্মগ্রহণ করে, তবে কি তার ফিৎরা দিতে হবে?

-মেহেদী হাসান

বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : কোনো শিশু যদি রামাযান মাসের শেষ দিনে অথবা ঈদের দিন সূর্য উঠার পূর্বে অথবা ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার ফিৎরা দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) প্রত্যেক মুসলিম দাস ও স্বাধীন ব্যক্তি, নর-নারী ছোট-বড় সকল এর উপর ‘এক ছা‘’ খেজুর বা ‘এক ছা‘ যব’ ফরয করেছেন। তিনি লোকদের ঈদের ছালাতে যাওয়ার পূর্বেই তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, হা/১৫০৩-৫; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৮১৫-১৮১৬)। উল্লেখিত হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে যে,  কোনো শিশু যদি ঈদের ছালাতের পূর্বে জন্মগ্রহণ করে তার উপরও ফিৎরা দেওয়া ফরয, যা তার অভিভাবক আদায় করবে।

 

প্রশ্ন (২) : ছিয়াম এমন একটি ইবাদত যার নেকী ক্বিয়ামতের দিনেও অন্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। কথাটা কি সঠিক? কোনো হক্ব নষ্টকারীর যদি এমন নেকী থাকে তাহলে তার হক্বদারকে কীভাবে নেকী দেওয়া হবে?

-মুজাহিদুল ইসলাম

সোনাইমুড়ি, নোয়াখালী, চট্রগ্রাম।

উত্তর : কথাটি সঠিক নয়। ছিয়ামের নেকীও অত্যাচারিত, নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে দিয়ে দেওয়া হবে। কোন পর্যায়ে নেকী দিয়ে দেওয়া হবে তা নিম্নোক্ত হাদীছে উল্লেখিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? ছাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নেই সেই নিঃস্ব লোক। তখন তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো নিঃস্ব যে ক্বিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম ও যাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের ধন-সম্পদ খেয়েছে,  অমুক লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেকী হতে তাকে দিয়ে দেওয়া হবে, যখন তার সমস্ত নেকী শেষ হয়ে যাবে অবশেষে তাকে তার পাপের কারণে জাহান্নামের নিক্ষেপ করা হবে’ (তিরমিযী, হা/২৪১৮)। উক্ত হাদীছে ছিয়াম শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, তাই পাওনাদার থাকলে ছিয়ামের নেকীও চলে যাবে।

 

প্রশ্ন (৩) : ইতিকাফে বসার সময় কখন? মাগরিবের পর না-কি ফজরের পর?

-রিয়াজুল ইসলাম বিন হাবীবুর রহমান

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : বিশ রামাযান অতিবাহিত হওয়ার পর মাগরিবের পর ই‘তিকাফে প্রবেশ করবে। কারণ শেষ দশক আরম্ভ হয় বিশ রামাযানের সূর্য ডুবার পর হতে (মুসলিম, হা/১১৭২; ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ২০/১২০ পৃঃ)। আর ২১ তারিখ ফজর পর হতে ই‘তিকাফকারী সম্পূর্ণ একাকী ইবাদতে মশগূল থাকবে। (মুসলিম, মিশকাত, হা/২১০৪; ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ২০/১৭০ পৃঃ দ্রষ্টব্য)।

 

প্রশ্ন (৪) : অসুস্থতার কারণে ফরয ছিয়াম পালন করতে পারছে না। এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। দরিদ্রতার কারণে প্রতিদিন ফিদইয়া দিতেও অক্ষম। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

-জু্ইঁ

ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : উল্লেখিত বিবরণ অনুযায়ী, শরী‘আতের বিধান হলো অসুস্থ ব্যক্তি ছিয়াম পালনে সক্ষম না হলে বা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে প্রতিদিন একটা মিসকীনকে সোয়া এক কেজি খাদ্য প্রদান করবে (দারাকুৎনী, হা/২৪০৬, সনদ ছহীহ; ইরওয়া, হা/৯১২)। যদি ফিৎরা না দিতে পারে তাহলে তার ওয়ারিছগণ বা নিকটাত্মীয়রা দিবে। সেটিও সম্ভব না হলে আশা করা যায় কোনো সমস্যা হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সাধ্যের বাইরে কোনো বান্দাকে কিছু চাপিয়ে দেন না (বাক্বারাহ, ২৮৬)।

 

প্রশ্ন (৫) : ঈদগাহের মাঠ পাকা করা যাবে কি?

-শোয়াইব

কাতলাসেন, ময়মনসিংহ।

উত্তর : ঈদের ছালাত মসজিদে নববীর সামনে খোলা মাঠে রাসূল (ছাঃ) আদায় করছেন এবং এটি সুন্নাত (বুখারী, হা/৯৫৬; তাহক্বীক মিশকাত, হা/১৪২৬)। ঈদের মাঠ পাকা করা, সামিয়ানা টাঙ্গানো, সাজ-সজ্জা করা, ঈদের মাঠের প্রবেশ পথে গেট তৈরি করা বা সাজানো দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত বা বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে আমার (এ দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করলো যা এর মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, হা/২৬৯৭; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪০)।

 

প্রশ্ন (৬) : তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ কি একই ছালাত? যদি একটি আদায় করা হয় তাহলে অন্যটি আদায় করতে হবে কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

-যাকির হোসেন

পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের আমল থেকে বুঝা যায় না যে তারা তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের ছালাত ভিন্ন ভিন্নভাবে আদায় করেছেন। যার কারণে হাদীছ বিশারদগণ একই হাদীছ তাহাজ্জুদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং তারাবীহ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী (রহিঃ) তারাবীহর ছালাতের আলোচনায় অধ্যায় রচনা করেছেন ‘রামাযানে ক্বিয়াম করার ফযীলত সম্পর্কে’ (বুখারী, ৩১/১ অধ্যায়)। সুতরাং তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই ছালাত। বিস্তারিত বুখারীর হাদীছগুলোতে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী, হা/২০১২-২০১৩)। এতএব একটি আদায় করলে অপরটি আদায় করতে হবে না।

প্রশ্ন (৭) : একাকী তারাবীহর ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-ইমামা আক্তার রিভা

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : তারাবীহর ছালাত একাকী আদায় করা যাবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) তিনদিন ব্যতীত সারা জীবন একাকীই তারাবীহর ছালাত আদায় করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬১)। অবশ্য একাকী পড়তে আগ্রহীদের জন্য শেষ রাতেই তা পড়া উত্তম। তবে যারা শেষ রাতে পড়তে সক্ষম নয়, তাদের জন্য তা এশার ছালাতের পর জামা‘আতবদ্ধভাবে পড়াই উত্তম (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৫)।

 

প্রশ্ন (৮) : ঈদের খুৎবা একটি নাকি দুটি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : ঈদের খুৎবা একটি। রাসূল (ছাঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার ছালাত শেষে দাঁড়িয়ে একটি খুৎবা দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ঈদের ছালাতে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বলেলেন, হ্যাঁ, ছিলাম। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ঈদের ছালাতের আযান ও ইক্বামতের কথা উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন, তাদের ওয়ায নছীহত করলেন, দান-খায়রাত করার জন্য উৎসাহিত করলেন… (বুখারী, হা/৯৬৩-৯৭৮; মুসলিম, হা/৮৮৫; মিশকাত, হা/১৪২৯)। এতে প্রমাণ করে যে, ঈদের খুৎবা একটি। দুই খুৎবা দেওয়ার প্রমাণে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে সেটি যঈফ (যঈফ ইবনু মাজাহ, হা/১২৮৯; মিরআত, ৫ম খণ্ড, ২৭ পৃঃ)। যারা দুই খুৎবা দেন তারা জুম‘আর খুৎবার উপর ক্বিয়াস করে দিয়ে থাকেন। কিন্তু যেহেতু জুম‘আ ও ঈদ সম্পূর্ণ আলাদা দু’টি বিষয় এবং এর পদ্ধতিগত অনেক পার্থক্য রয়েছে, তাই একটিকে আরেকটির উপর ক্বিয়াস করা ঠিক নয়।

 

প্রশ্ন (৯) : রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে ইতিকাফকারী এবং কিছু মুছল্লী এশার ফরয ছালাত আদায় করে মসজিদেই শুয়ে থাকেন। তারাবীহর জামাআত চলাকালীন তাদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, রাসূল (ছাঃ) বেজোড় রাত্রিতে দীর্ঘ করে তারাবীহ ছালাত আদায় করতেন। প্রশ্ন হলো, এভাবে ইচ্ছে করে দলবদ্ধভাবে জামাআত ছেড়ে দিয়ে তারাবীহ ছালাত আদায় করা কতটুকু শরীআত সম্মত

-আব্দুস সোবহান

কালাই, জয়পুরহাট।

উত্তর : লায়লাতুল ক্বদরের রাত্রি জাগরণের উদ্দেশ্য দীর্ঘক্ষণ ধরে রাত্রিকালীন ছালাত আদায় করা শরী‘আতসম্মত (বুখারী, হা/২০১৩; মুসলিম, হা/৭১৮)। কারও অসুবিধা হলে একাকী ছালাত আদায় করবে, কুরআন তেলাওয়াত ও যিকির-আযকারের মাধ্যমে রাত্রি অতিবাহিত করবে। জামা‘আত চলাকালীন সময়ে ই‘তিকাফকারী তার নির্দিষ্ট জায়গায় ইবাদতে মশগূল থাকবে। আর অন্য মুছল্লীগণ মসজিদে শুয়ে না থেকে বাসায় চলে গিয়ে ছালাত আদায় করবে।

প্রশ্ন (১০) : রামাযান মাসে কখন সাহারীর সময় ও আযান হয়েছে তা বুঝতে পারিনি। ঘুম থেকে উঠে শুনি ফজরের আযান হচ্ছে। এ সময় সাহারী খাওয়া যাবে কি?

-শাকির হাসান

খানসামা, দিনাজপুর।

উত্তর : ফজর উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত সাহারী খাওয়ার সময়। রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘বেলাল (রাঃ) রাত্রে আযান দিলে তোমরা সাহারী খাও, যতক্ষণ আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রাঃ) ফজরের আযান না দেয় (বুখারী, হা/১৯১৯; মুসলিম, হা/২৫৯০; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/৬২৯)। ফজরের আযান আরম্ভ হয়ে গেলে সাহারী বা অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। তবে ফজরের আযান শুরু হওয়ার আগে যদি খেতে আরম্ভ করে তাহলে আযান হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ করতে পারবে। আযানের সময় কিংবা পরে জাগ্রত হলে কিছু না খেয়ে ছিয়ামের নিয়্যত করে ছিয়াম পালন করবে (মুসলিম, হা/১১৫০; মিশকাত, হা/২০৭৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘খাদ্য বা পানির পাত্র হাতে থাকা অবস্থায় তোমাদের কেউ আযান শুনলে সে যেন  প্রয়োজন পূরণ না করা পর্যন্ত পাত্র না রেখে দেয়’ (আবুদাঊদ, হা/২৩৫০; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৯৮৮)।

 

প্রশ্ন (১১) : রামাযান মাসের প্রথম দশদিন রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশদিন নাজাতের। কথাটি কি ঠিক?

-শাকির হাসান

খানসামা, দিনাজপুর।

উত্তর : রমাযান মাসের প্রথম দশদিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় দশদিন জাহান্নাম থেকে নাজাত, মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ এবং একাধিক ছহীহ হাদীছ বিরোধী।  যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘রামাযান মাস আসলে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯)। অন্য আরেকটি হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘রামাযানের প্রথম রাত থেকেই একজন আহ্বানকারী বলতে থাকেন, কল্যাণকামী অগ্রসর হও, অকল্যাণকামী পিছু হটো। আর এভাবে রামাযানের প্রতি রাতেই আল্লাহ তা‘আলা কিছু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন (ইবনে মাজাহ, হা/১৬৪২; তিরমিযী, হা/৬৮২; মিশকাত, হা/১৯৬০)। উক্ত হাদীছদ্বয় ছাড়া অন্যান্য ফযীলত সংক্রান্ত হাদীছেও রামাযান মাসকে এভাবে ভাগ করা হয়নি। সুতরাং পুরো রামাযানই রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস।

 

প্রশ্ন (১২) : বর্তমানে একটা ভয়াবহ ব্যাধি করোনা ভাইরাসপ্রশ্ন হলো, এত্থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য কি দুআ পড়া যেতে পারে?

-আইয়ুব আলী

দুবাই।

উত্তর : যেকোন বালা-মুছীবত পৃথিবীবাসীর জন্য  আল্লাহর  পক্ষ থেকে এসে থাকে মানুষের পাপের ফলস্বরূপ অথবা পরীক্ষাস্বরূপ (রূম, ৪১; বাকারা, ১৫৫)। তাই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রথমত, আল্লাহর  দিকে ফিরে যেতে হবে এবং ভুল-ত্রুটি ও পাপ থেকে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, কুরআন-হাদীছে বর্ণিত দু‘আর মাধ্যমে বিপদ-আপদ ও অসুখ-বিসুখ থেকে আল্লাহর  কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এ ধরনের কয়েকটি দু‘আ হলো : ১. ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যোলেমীন’। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার নবী যুন-নূন (ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকা কালে যে দু‘আ করেছিলেন তা হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনাজ যোলেমীন’ অর্থ: ‘তুমি ব্যতীত কোনো মা‘বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত’ (আম্বিয়া, ৮৭)। কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে কখনো এ দু‘আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তার দু’আ কবুল করেন (তিরমিযী, হা/৩৫০৫; মিশকাত, হা/২২৯২)।

২. আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযূ বিকা মিনাল বারাছি, ওয়াল যুনূনী, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম’। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুষ্ঠ, ধবল, পাগলামি ও সর্বপ্রকার খারাপ রোগ থেকে পরিত্রাণ চাই’ (আবুদাঊদ, হা/১৫৫৪; মিশকাত, হা/২৪৭০)। ৩. ‘বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়ার্যুরু মা‘আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরযি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।’ আবান ইবনে ওছমান (রহিঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে, ‘আল্লাহর  নামে যার নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী’। সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো আকষ্মিক বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো আকষ্মিক বিপদ আসবে না।

কিন্তু আবান (রহিঃ) পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। তখন যে লোকটি তার থেকে হাদীছ শুনেছিল, তার দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান (রহিঃ) তাকে বললেন, তোমার কী হয়েছে? তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো কেন? বিশ্বাস করো, আল্লাহর  কসম! আমি ওছমান (রাঃ)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি। আর ওছমান পও নবী (ছাঃ)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছিলাম, সেদিন রাগের বশে আমি এই দু‘আ পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম (আবুদাঊদ, হা/৫০৮৮; তিরমিযী, হা/৩৩৮৮; মিশকাত, হা/২৩৯১)।

 

প্রশ্ন (১৩) : ঈদের মাঠে মিম্বার নিয়ে যাওয়া যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : ঈদের খুৎবা মিম্বারের উপর থেকে দেওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) থেকে শুরু করে চার খলীফার যুগ পর্যন্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে ঈদের খুৎবা দেওয়া হত। মারওয়ান যখন মদীনার গভর্নর হলেন তখন তিনি সর্বপ্রথম ঈদের মাঠে মিম্বার স্থাপন করার নিয়ম চালু করেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদের মাঠে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হলো ছালাত। আর ছালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা সবাই নিজ নিজ কাতারে বসে থাকত। তিনি তাঁদের নছীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোনো সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোনো বিষয়ে নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারী করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মদীনার আমীর হলেন, তখন ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের উদ্দেশ্যে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ঈদের মাঠে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বার দেখতে পেলাম, সেটি কাছীর ইবনে সালত তৈরি করেছিলেন…. (ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬)। উক্ত হাদীছ বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম বুখারী (রহিঃ) অধ্যায়ের নামকরণ করেন ‘মিম্বার ছাড়াই ঈদের মাঠে গমন প্রসঙ্গে’। সুতরাং নবী ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের উপর আমল করত মিম্বার ছাড়াই ঈদের মাঠে খুৎবা দিতে হবে।

 

প্রশ্ন (১৪) : ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সাহারী না খেয়ে ছিয়াম রাখা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : সাহারী খেয়ে ছিয়াম পালন করাই উত্তম। কেননা রাসূল (রাঃ) সাহারী খেতে বলেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯২৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯৫; মিশকাত, হা/১৯৮২)। তবে সাহারী না খেলেও ছিয়াম হয়ে যাবে। কারণ সাহারী খাওয়া সুন্নাত, আবশ্যক নয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন নবী (ছাঃ) আমার কাছে এসে বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, ‘তাহলে আমি ছিয়াম রেখে দিলাম’। আরেকদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর  রাসূল! আমাদেরকে ‘হায়স’ (ঘি বা পনির মিশ্রিত খেজুর) হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, ‘নিয়ে এসো দেখি। অবশ্য আমি সকালে ছিয়ামের নিয়্যত করেছিলাম। তারপর তিনি তা খেয়ে নিলেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৪; নাসাঈ, হা/২৩২৬; মিশকাত, হা/২০৭৬)। সাহারী খাওয়া যদি আবশ্যক হত, তাহলে তিনি সাহারী না খেয়ে ছিয়াম রাখতেন না।

 

প্রশ্ন (১৫) : ছিয়াম অবস্থায় কফ বা থুথু গিলে ফেলা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় মুখের অভ্যন্তরে সৃষ্ট লালা, থুথু, কফ ইত্যাদি গিলে ফেললে ছিয়ামের ক্ষতি হবে না। ছিয়াম ভঙ্গ হয় বাইরে থেকে কোনো কিছু প্রবেশ করার কারণে। ভিতরের জিনিস ভিতরে গেলে ছিয়াম ভাঙে না। এই মর্মে ইমাম বুখারী (রহিঃ) আত্বা থেকে একটি আছার উল্লেখ করেছেন, যেখানে আত্বা বলেন, থুথু গিলে ফেলার কারণে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (ছহীহ বুখারী, ছিয়াম পালনকারীর গোসল সংক্রান্ত’ অধ্যায়)।

 

প্রশ্ন (১৬) : অনেকেই বলে তারাবীহ না পড়লে ছিয়াম পালন করে লাভ নেই। একথা কি ঠিক?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : তারাবীহর ছালাত অতি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রামাযানের রাতে ঈমানসহ পূণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০০৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৯; মিশকাত, হা/১২৯৬)। কিন্তু তারাবীহর ছালাত না পড়লে ছিয়াম হবে না কিংবা ছিয়াম রেখে লাভ নেই, এ কথা ঠিক নয়। কারণ তারাবীহ ও ছিয়াম পৃথক দু’টি ইবাদত। একটি বিশুদ্ধ হওয়ার সাথে অপরটির কোনো সম্পর্ক নেই।

 

প্রশ্ন (১৭) : তারাবীহর ছালাত কি নিয়মিত জামাআতের সাথে আদায় করা যায়?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : সারা মাস নিয়মিত জামা‘আতের সাথে তারাবীহর ছালাত আদায় করা যায়। ওমর ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) তারাবীহর ছালাত সারা মাস জামা‘আতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০১০; মিশকাত, হা/১৩০১)। উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ) তিনদিন জামা‘আতে তারাবীহর ছালাত আদায় করেছিলেন বলে এখন তিনদিনের বেশি জামা‘আতে তারাবীহর ছালাত আদায় করা যাবে না বলে যে ধারণা চালু আছে, তা নিতান্তই ভুল। রাসূল (ছাঃ) তিনদিনের বেশি পড়েননি, তার কারণ ছিল ছাহাবীদের প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে তিনি তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। ছহীহ বুখারীতে স্পষ্ট এসেছে, ‘চতুর্থ রাতে মসজিদে মুছল্লীগণের স্থান সঙ্কুলান হচ্ছিল না। (তিনি সে রাতে বের হলেন না) অবশেষে তিনি ফজরের ছালাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের ছালাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। অতঃপর আল্লাহর  প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, ‘এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার নিকট গোপন ছিল না। কিন্তু আমার আশঙ্কা ছিল, সেটা তোমাদের জন্য ফরয করে দেওয়া হবে, আর তোমরা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬১)।

 

প্রশ্ন (১৮) : প্রচলিত আছে যে, সমাজের কেউ ইতিকাফ না করলে উক্ত সমাজের সকলেই পাপী হয় কথাটির কোনো শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : ই‘তিকাফ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত এবং আল্লাহর  নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম (বুখারী, হা/২০২৬; মুসলিম, হা/১১৭২)। তাই মানুষের উচিত ই‘তিকাফ করায় অভ্যস্ত হওয়া। কিন্তু মহল্লার কেউ না করলে সবাই পাপী হবে অর্থাৎ সেটা ‘ফরযে কিফায়াহ’ এমন দাবী সঠিক নয়। এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

 

প্রশ্ন (১৯) : রামাযান মাসে কি কোনো মুসলিম মাইয়্যেতের কবরের শাস্তি বন্ধ থাকে?

-সোহরাব হুসাইন

কড়িয়াইল, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : রামাযান মাসে কবরস্থ ব্যক্তির শাস্তি বন্ধ থাকা সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে রামাযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর অর্থ এটা নয় যে, রামাযান মাসে কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবে। বরং এর অর্থ হলো, মুমিন বান্দাদের বেশি বেশি সৎ কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা। আর মানুষ এ মাসে স্বাভাবিকভাবেই অসৎ কর্ম থেকে বিরত থাকে, বিধায় জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় (শারহু রিয়াযুছ ছালেহীন, ১/১৩৯৯)। অনুরূপভাবে রামাযান মাসে কেউ মারা গেলে তার কবরের আযাব হয় না, এই মর্মে কোনো বর্ণনা নেই। তবে রামাযান কিংবা অন্য যে কোনো সময়ে কেউ যদি আল্লাহর  কাছে প্রতিদান পাবার আশায় ছিয়াম রাখা অবস্থায় মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৬৪৫)। অন্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর  সন্তুষ্টির আশায় একদিন ছিয়াম রাখল এবং ছিয়ামের মাধ্যমেই তার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩৭২)। বুঝা যাচ্ছে, এই প্রতিদান রামাযান মাসের জন্য নয়। বরং তা রামাযানের ছিয়ামসহ যেকোনো সময়ের ছিয়ামের মতো একটি সৎ আমল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কারণে।

 

প্রশ্ন (২০) : ছহীহ হাদীছে এসেছে যে, ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘সফরে রাত্রি জাগরণ কষ্টসাধ্য ও কঠিন ব্যাপার। অতএব, তোমাদের কেউ যখন প্রথম রাত্রে বিতর পড়বে, তখন যেন বিতরের পরে দুই রাকআত নফল পড়ে নেয়। অতঃপর যদি শেষ রাতে উঠতে পারে তাহলে তাহাজ্জুদের বাকী ছালাত পড়ে নিবে। আর যদি শেষ রাতে উঠতে না পারে তাহলে প্রথম রাতের দুই রাকআত নফল ছালাতই তার তাহাজ্জুদের ছালাতের জন্য যথেষ্ট হবে’ (দারেমী, হা/১৫৯৪, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/১২৮৬)। প্রশ্ন হলো, এমতাবস্থায় কেউ পুনরায় রাতে উঠতে সক্ষম হয় তাহলে কি তাকে বিতরসহ পূর্ণ ৮ রাকআত তাহাজ্জুদ পড়তে হবে? না ৬ রাকআত পড়তে হবে?

-হুসাইন

শোলাকিয়া, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : এমতাবস্থায় রাতে জাগতে পারলে ৮ রাক‘আতই পড়বে। রাতের প্রথমভাগে যে দুই রাক‘আত পড়া হয়েছিল সে দুই রাক‘আত রাতের নফল ছালাত বলে গণ্য হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাতের পরও দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন (তিরমিযী, হা/৪৭৩, ইবনে মাজাহ, হা/১২৫১, মিশকাত, হা/১২৮৪)। উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে বিতর ছালাতের পরে দুই রাকা‘আত নফল ছালাত আদায় করা যায়। তবে পুনরায় বিতর পড়তে হবে না। অনেকেই পুনরায় বিতর পড়ে বিতরকে জোড়া বানিয়ে নেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক রাতে দুইবার বিতর নেই’ (আবুদাঊদ, হা/১৪৩৯; নাসাঈ, হা/১৬৭৯; তিরমিযী, হা/৪৭০)। আর এভাবে জোড়া করে পুনরায় বিতর দিয়ে রাত শেষ করতে গেলে এক রাতে তিন বিতর হয়ে যায়।

 

 

 

প্রশ্ন (২১) : মালাকুল মউত মূসা (আঃ)-এর জান ক্ববয করতে চাইলে তিনি তাকে থাপ্পড় মারেন ফলে তার চোখ কানা হয়ে যায়। এ ঘটনা কি সত্য? যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানেও কি তার চোখ কানা হয়ে আছে?

-মনিরুল ইসলাম

পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : এই ঘটনা সত্য। আর মালাকুল মউত যখন এই অবস্থায় আল্লাহর  কাছে ফিরে যান, তখন আল্লাহ তা‘আলা তার চোখটি তাৎক্ষণিক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন (মুসলিম,  হা/২৩৭২; নাসাঈ, হা/২০৮৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৯০৪)।

 

প্রশ্ন (২২): একজন ছালাত আদায়কারীর কতটুকু সম্মুখ দিয়ে চলাচল করা যাবে?

-রাজু আহমাদ

রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী।

উত্তর : ছালাতে সুতরা গ্রহণ করা সুন্নাত (আবুদাঊদ, হা/৬৯৮; ইবনে মাজাহ, হা/৯৫৪)। আর সুতরা পরবর্তী স্থানে চলাচলের জন্য বৈধ। তবে ছালাত আদায়কারী যদি সুতরা গ্রহণ না করে, তাহলে উক্ত অবস্থায় তার সিজদার জায়গা থেকে এক ছাগল চলাচলের জায়গা বাদ দিয়ে, তৎপরবর্তী স্থান দিয়ে চলাচল করা যাবে (বুখারী, হা/৪৯৬; মুসলিম, হা/৫০৮)।

 

প্রশ্ন (২৩) : মসজিদের জমি কোনো ব্যক্তির নামে থাকলে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ।

উত্তর : এ অবস্থায় জমিদাতার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা না থাকলে ছালাত আদায় জায়েয হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার জন্য (আল্লাহ তা‘আলা) সমস্ত যমীনকে সিজদার যোগ্য ও পবিত্রতার উপকরণ করে দিয়েছেন (বুখারী, হা/৩৩৫; মুসলিম, হা/৫২১)। সাথে সাথে জেনে রাখা উচিত হবে যে, তিনটি শর্ত সাপেক্ষে একটি মসজিদকে আমরা মসজিদ বলতে পারি, আর তা হলো: ১. ব্যক্তি মালিকানাধীন অবস্থা থেকে বেরিয়ে ওয়াকফকৃত জমি হতে হবে। ২. সকলের ছালাত আদায়ের জন্য সদা উন্মুক্ত হতে হবে। ৩. স্থায়ীভাবে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত প্রতিষ্ঠিত হতে হবে (ইসলাম প্রশ্ন উত্তর কম. প্রশ্ন নং: ১৭০৮০০, তত্ত্বাবধানে শায়খ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ)।

 

প্রশ্ন (২৪) : জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি হারাম, নাকি গর্ভে সন্তান ধারণের পর তা নষ্ট করা হারাম?

-আতাউর রহমান

কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : খাদ্য প্রদানের ভয়ে বা সুখী সংসারের আশায় জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ বা গর্ভের সন্তান ধারণের পর তা নষ্ট করা উভয়ই হারাম (ইসরা, ৩১; আন‘আম, ১৫১; বুখারী, হা/৪৭৬১; মুসলিম, হা/৮৬)। তবে শারিরীক কোনো সমস্যা থাকলে অথবা উল্লেখিত বিষয়গুলো উদ্দেশ্য না হলে, সাময়িকভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে (বুখারী, হা/৫২০৮; মুসলিম, হা/১৪৪০)। উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো আলেমের মতে, মাতৃগর্ভের সন্তানের রূহ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত তথা চার মাস বয়স পর্যন্ত  গর্ভপাত করা বৈধ (ফাতহুল ক্বাদীর, ৩৮০/৩)।

 

প্রশ্ন (২৫) : অন্যের বেশি বেশি ইবাদত করতে দেখে নিজেও তা করলে বা তার প্রতি হিংসা করলে পাপ হবে কি?

-সাদিয়া, ফেনী

উত্তর : অন্যের বেশি বেশি ইবাদত করতে দেখে নিজে তা করা বা তার চেয়ে বেশি করার চেষ্টা করতে হবে (বুখারী, হা/৫০২৬; মুসলিম, হা/৮১৫)। কেননা এটা হিংসা নয়, বরং ঈর্ষা। সাথে সাথে খেয়াল রাখতে হবে ইবাদত করতে গিয়ে যেন সেটা লোক দেখানো উদ্দেশ্য না হয়।

 

প্রশ্ন (২৬) : গোসলের পূর্বে ওযূ করে নিয়ে গোসলের সময় লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে কি পুনরায় ওযূ করা লাগবে?

-হাসিনুর রহমান

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : গোসলের পূর্বে ওযূ করে গোসলের সময় কাপড়ের উপর দিয়ে অথবা উত্তেজনা ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযূ ভাঙ্গবে না (ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১১২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৪১৭)। তবে উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করলে সর্বাবস্থায় ওযূ ভেঙ্গে যাবে (আবুদাউদ, হা/১৫৬; তিরমিযী, হা/৮০)।

 

প্রশ্ন (২৭) : মাইয়্যেত পুরুষ হলে নারীরা এবং নারী হলে পুরুষরা দেখতে পারে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম, জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁ

ও মোত্তালিব, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : জীবিত অবস্থায় যে সকল মাহরাম পুরুষরা দেখা জায়েয ছিল, মৃত্যুর পরও সে সকল মাহরাম পুরুষরা দেখতে পারে। কারণ মৃত্যুর পরে ভিন্ন কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে এ রকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে পুরুষ পুরুষকে দেখতে পারে এবং মহিলা মহিলাকে দেখতে পারে (বুখারী, হা/১২৫৪, ১২৪১) । উল্লেখ্য যে, মৃত্যুর পরে বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মর্মে কথাটি ঠিক নয়। বরং মৃত স্বামীকে স্ত্রী অথবা মৃত স্ত্রীকে স্বামী গোসল দিতে পারে।

 

প্রশ্ন (২৮) : ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা মারা যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন

উত্তর : ইসলামে মানুষের জন্য ক্ষতিকর প্রাণীকে প্রয়োজন অনুযায়ী মেরে ফেলা জায়েয আছে (মুসলিম, হা/২২৩৮)। কোনো জীবন্ত প্রাণীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ আগুন দ্বারা কোনো প্রাণীকে শাস্তি দিতে পারবে না (বুখারী, হা/৩০১৬; আবুদাঊদ, হা/২৬৭৫)। তবে ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা মারা এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার ভিতরে পার্থক্য রয়েছে। ইলেকট্রিক ব্যাটের মাধ্যমে মশা বা মাছিকে নিষ্প্রাণ করা হয়; পুড়িয়ে ফেলা হয় না। তার প্রমাণ হচ্ছে, উক্ত ব্যাটের স্পর্শে কোনো কাগজ বা অন্য কিছু পুড়ে যায় না। তাছাড়া এটা মশা-মাছির উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য বিষ ব্যবহারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে একটি নিরাপদ মাধ্যম ।

 

প্রশ্ন (২৯) : টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা কি শরীআত সম্মত?

-নাজনীন পারভীন

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সভা-সমাবেশকে আমরা তখনই ইসলামী বা শরী‘আত সম্মত বলব, যখন তা শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল প্রকার বিদ‘আতী কর্মকাণ্ড ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত হবে। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাকে বিচার করি, তাহলে দেখব সেখানে জাল-যঈফ হাদীছের উপর আমল করা ও জন সম্মুখে পেশ করা হয় এবং  বিদ‘আতী কর্মকাণ্ড আছে। যেমন- আখেরী মুনাজাত, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় (মুসলিম, হা/১৭১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৭২)। সাথে সাথে বহু কুসংস্কারও আছে। যেমন- অনেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাকে মক্কার হজ্জের সাথে তুলনা করেন এবং সামর্থ্যবান মুসলিম কমপক্ষে জীবনে একবার মক্কায় হজ্জ করতে না গিয়ে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, যা ভ্রান্ত বিশ্বাস ও নিতান্তই কুফরী কর্মকাণ্ড।

 

প্রশ্ন (৩০) : মহিলারা হায়েয অবস্থায় সূরা মুখস্থ পড়তে পারে কি?

-নাজনীন পারভীন

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: মহিলারা হায়েয অবস্থায় সূরা মুখস্থ পড়তে পারবে। আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ) হায়েয অবস্থায় সব করতে বলেছিলেন; ছালাত ও তাওয়াফ ব্যতীত (মুসলিম, হা/১২১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮৫০)। কেননা হায়েযের এই দিনগুলোতে কুরআন না পড়ার কারণে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্পষ্টতই রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ পরিপন্থী (বুখারী, হা/৫০৩১; মুসলিম, হা/ ৭৯০)। আর তাই এই অবস্থায় ঋতুবতী মহিলা ছেলে-মেয়েদেরকে মুখস্থ থেকে কুরআন শিক্ষাও দিতে পারবেন।

 

প্রশ্ন (৩১) : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে শহীদ হবে কি?

-মাহবূব আলম বিন আব্দুর রহমান

চিচিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে, শ্বাসতন্ত্র  করোনা নামক এক অতি ক্ষুদ্র জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অকার্যকর ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে অনাকাক্সিক্ষত পীড়াদায়ক একটি মৃত্যু। যা আল্লাহর  পথে যুদ্ধ করে শাহাদাত অর্জন ছাড়া যে সমস্ত কারণে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করা যায় তার একটি। তাই আল্লাহ তা‘আলা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী মুমিন ব্যক্তিকে শহীদের মর্যাদা দিবেন বলে আমরা আশাবাদী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শ্বাসতন্ত্রে ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে মারা যাবে, সে শহীদ (আবুদাউদ, হা/৩১১১; ইবনে মাজাহ, হা/২৮০৩)।

প্রশ্ন (৩২) : সামার্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের চিকিৎসা খরচ বহন করতে কৃপণতা করেন, তাহলে তার ব্যাপারে শরীআতের হুকুম কী?

-আব্দুল্লাহ

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : সামর্থ্যবান পরিবার প্রধানের উপর স্বীয় পরিবারের সকল সদস্যের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যয়ভার বহন করা ওয়াজিব (তালাক, ৬; বাক্বারাহ, ২৩৩)। তাই উক্ত ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালনে কৃপণতা করলে নিঃসন্দেহে গুনাহগার হবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, একজন ব্যক্তি পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে খানা-পিনার ক্ষেত্রে তার উপর নির্ভরকারী ব্যক্তিদেরকে যথাযথ দেখাশুনা করবে না (মুসলিম, হা/৯৯৬; আবুদাঊদ, হা/১৬৯২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৪৯৫)। তবে অনেক সময় পরিবারের কোনো সদস্য অপ্রয়োজনীয় খরচকে প্রয়োজনীয় বলে কিছু দাবি করতে পারে, আর সে ক্ষেত্রে পরিবার প্রধানকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কেননা উহা অপচয় আর অপচয় করা হারাম (ইসরা, ২৬; বুখারী, হা/১৪৭৭; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৫৬০)।

 

প্রশ্ন (৩৩) : হাইওয়ে রোডের পরিত্যক্ত জায়গায় পাঞ্জেগানা মসজিদে ওয়াক্তিয়া ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-মহসিন হুসাইন

ময়মনসিংহ।

উত্তর : হাইওয়ে রোডের পরিত্যক্ত সরকারী জায়গায় পাঞ্জেগানা মসজিদে ওয়াক্তিয়া ছালাত আদায় করা যাবে (বুখারী, হা/৩৩৫; মুসলিম, হা/৫২১)। তবে খেয়াল রাখতে হবে, হাইওয়ে রোডের পাশে হওয়ার কারণে যেন মানুষের কষ্ট ও রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা না থাকে (মুসলিম, হা/৩৫; তিরমিযী, হা/ ২৬১৪; আল-মুগনী, ৩৩১/৮)।

 

প্রশ্ন (৩৪) : মসজিদের ভিতরে জুতা রাখার ব্যাপারে কোনো হাদীছ বা প্রমান আছে কী?

-সুলাইমান

কড়িয়াইল, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : মসজিদের ভিতরে  জুতা রাখার ব্যাপারে সরাসরি কোনো ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জুতা পরে ছালাত আদায়ের নির্দেশ আছে রাসূল (ছাঃ) থেকে (মুসতাদরাক, হা/৯৫৫; আবুদাউদ, হা/৬৫২; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২১৮৬)। তাই চুরি হওয়ার ভয় থাকলে মুছল্লীদের কষ্ট না দিয়ে পরিষ্কার জুতা মসজিদের ভিতরে রাখা যাবে।

 

প্রশ্ন (৩৫) : মেয়েরা কি মায়ের সম্পত্তিতে অংশ বেশি পাবে?

-আব্দুর রহমান

লালপুর, নাটোর।

উত্তর : মেয়ে মায়ের সম্পদে ভাইয়ের সমান বা বেশি পাবে মর্মে সমাজে প্রচলিত কথাটি সঠিক নয়। বরং ভাই-বোন পিতা মাতার সম্পদ কুরআনে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী পাবে। আর তা হলো, মেয়ে যদি একা হয়, তাহলে পিতা বা মাতার সম্পদে তার প্রাপ্য হচ্ছে অর্ধেক (নিসা, ১১)। আর মেয়ের সাথে যদি একাধিক সহোদর বোন থাকে, তাহলে তাদের সকলের প্রাপ্য হচ্ছে সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ (নিসা, ১১)। তবে মেয়ের সাথে যদি এক বা একাধিক ছেলে ভাই থাকে, তাহলে  এক মেয়ের প্রাপ্য হচ্ছে তার একজন ভায়ের প্রাপ্য অংশের অর্ধেক (নিসা, ১১)।

 

প্রশ্ন (৩৬) : রাসূল (ছাঃ) বিশিষ্ট ছাহাবী আব্দুর রহমান বিন আউফ প-এর গায়ে বিবাহোত্তর হলুদ রংয়ের দাগ দেখেছিলেন।  তাহলে কি নতুন বরকে হলুদ মাখার প্রমাণে কোনো হাদীছ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সোহেল রানা

মিরের চর, সুন্দরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : বিবাহতে হলুদ মাখতে হবে, এটা শারঈ কোনো যরূরী বিধান নয়। আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাঃ) নববিবাহিতা স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করার কারণে তার অজানতেই এই হলুদ রংটি গায়ে লেগে যায় (বুখারী,  হা/৬৩৮৬; মুসলিম, হা/১৪২৭)। তবে কেউ মাখতে চাইলে মাখতে পারে। কিন্তু অবশ্যই হয় তাকে নিজে মাখতে হবে আর নারী হলে অবশ্যই মাহরাম নারী হতে হবে। যেমন ছেলের মা-খালা ছেলের গায়ে হলুদ মাখাতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে গায়ে হলুদের নামে যে আনুষ্ঠানিকতা চলে এবং পাশাপাশি বেহায়াপনার যে প্রচলন আছে, তা নিতান্তই শরী‘আত বিরোধী কাজ (ইসলাম প্রশ্ন উত্তর কম. প্রশ্ন নং: ১৩৫৬৭২, তত্ত্বাবধানে শায়খ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ)।

 

প্রশ্ন (৩৭) : স্ত্রীর ভাইয়ের কথায় কষ্ট পেয়ে সে কথা স্ত্রীর নিকটে গল্প করা কি গীবত হবে?

আশিকুর রহমান

নবীনগর, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : স্ত্রীর ভাইয়ের কটু কথায় কষ্ট পেয়ে সে কথা স্ত্রীর নিকটে বলা গীবত, যা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন (হুজুরাত, ১২)। তবে স্ত্রীর ভাই বা অন্য কোনো আত্মীয়ের কল্যাণের উদ্দেশ্যে বলতে পারে। কেননা ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত করা যায়, তার একটি হচ্ছে অন্যায়কারীকে শুদ্ধ করার জন্য (রিয়াযুছ ছালেহীন, ৪৫০-৪৫১)।

 

প্রশ্ন (৩৮) : একজন বিবাহিত পুরুষ তার বিবাহের আগে ও পরে একাধিক বিবাহিত ও অবিবাহিত নারীর সাথে মেলামেশা করেছে। এখন সে অনুতপ্ত। তার কি মাপ পাবার কোনো উপায় আছে?

আশিকুর রহমান

নবীনগর, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : এটা অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ। তাই এই মর্মে ইসলামের চূড়ান্ত বিধান হচ্ছে, যদি কোনো অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে একশ’ বেত্রাঘাত করতে হবে এবং পুরোপুরি এক বছর দেশান্তর করতে হবে (নূর, ২; বুখারী, হা/১৬৯০)। আর যদি কোনো বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা ব্যবিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হবে (বুখারী, হা/৬৮৭৮; মুসলিম, হা/১৬৭৬)। আর এই বিধান ক্বায়েম করবে ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক। তবে উল্লেখিত ব্যক্তিকে এই অবস্থায় একনিষ্ঠ তওবা ও বেশি বেশি ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর  কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে (ফুরক্বান, ৬৮-৭১)। আর আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তার এই তওবা কবুল করে ক্ষমা করে দিতে পারেন।

 

প্রশ্ন (৩৯) : জামাআতের সময় সামনের কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে পিছনের কাতারে একাকী দাঁড়ানো যাবে কি?

-আসাদুযযামান

নীলফামারী।

উত্তর : ফরয ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে কাতারবদ্ধ হওয়া ওয়াজিব (আবুদাঊদ, হা/৬৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮০০৫)। তবে কেউ যদি সামনের কাতার পূর্ণ হওয়ার পরে আসে এবং তার সাথে অন্য কেউ না থাকে তাহলে সে কাতারের পিছনে একাকী ছালাত আদায় করবে (বুখারী, হা/৭৮৩; আবুদাউদ, হা/৬৮৩)। উল্লেখ্য যে,  কাতার পূর্ণ হওয়ার কারণে সামনে থেকে কাউকে টেনে নিবে এই মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ।

 

প্রশ্ন (৪০) : আমি ওমান প্রবাসী। আমি দিনের ছালাতগুলো ওয়াক্ত মতো আদায় করতে পারি না। সুতরাং সেগুলো কি রাতে আদায় করতে পারব? পারলে কোনটি আগে আদায় করব? আর সুন্নাত বা নফলগুলো কি করব?

-নাজির ইসলাম

ওমান প্রবাসী।

উত্তর : সুস্থ-মুক্বীম নর-নারীর জন্য কাজের অজুহাতে ফরয ছালাত দেরীতে আদায় করা  বৈধ নয় (নূর, ৩৭-৩৮)। তাই কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে কাজের ফাঁকে আপনাকে অবশ্যই ফরয ছালাত সময়মত আদায় করতে হবে। তা সম্ভব না হলে আপনাকে বিকল্প কাজ খুঁজতে হবে।  আর সাথে সাথে সুন্নাত ছালাতগুলো সাধ্যমত আদায় করার চেষ্টা করবেন।

 

প্রশ্ন (৪১) : দীর্ঘ দিন যাবৎ আমার ভাইয়ের প্রতি জিনেরা আঁছর করার কারণে তার দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। এখন জিনদের দাবি হলো বাড়ীর সামনে একটি মসজিদ তৈরি করতে হবে এবং সোনা মসজিদ তোহাখানায় ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারে জনগণকে একটি খাসি খাওয়াতে হবে। এটা করা কি শরীআত সম্মত হবে

-বাদরুল ইসলাম

বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর: এটা নিঃসন্দেহে শরী‘আত সম্মত নয় বরং বড় শিরক। কেননা একজন মুসলিমের সমস্ত ইবাদত তথা ছালাত-ছওম, হজ্জ-যাকাত, দো‘আ, তাওক্কুল বা ভরসা, ভয়-ভীতি, কুরবানী ইত্যাদি সবকিছুই হবে একমাত্র আল্লাহর  জন্য (আন‘আম, ১৬২; কাওছার, ২)। তাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও খুশি করার জন্য মসজিদ নির্মাণ করা এবং খাসি জবাই করা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তা‘আলা বিচারের মাঠে কখনো ক্ষমা করবেন না (নিসা, ১১৬)। আর এই ধরনের জিনের আঁছর থেকে রক্ষার জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর শেখানো সুন্নাতী দো‘আই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ (বুখারী, হা/২৩১১,৫০১৯,১৬৯; মুসলিম, হা/২৬৯১)।

 

(৪২) রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে গেলে এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখলে উক্ত ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি?

-আব্দুস সাত্তার

বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ)ও কখনো কখনো অপবিত্র অবস্থায় ফজর করতেন। অতঃপর ছিয়াম রাখতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বপ্নদোষ ব্যতীত স্ত্রী সহবাসের কারণে অপবিত্র অবস্থায় সকাল পর্যন্ত থেকেছেন এবং ছিয়াম পালন করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৩১, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘অপবিত্র অবস্থায় ছিয়াম পালনকারীর সকাল হওয়া’ অনুচ্ছেদ-২২)।

 

(৪৩) মৃত ব্যক্তির নামে ইফতার মাহফিল ও ইফতারির ব্যবস্থা করলে তা খাওয়া যাবে কি

-সুলাইমান

ডিমলা, নীলফামারী।

উত্তর : মৃত পিতা-মাতার নামে আমাদের সমাজে যে ইফতার মাহফিল ও ইফতারির ব্যবস্থা করার প্রথা চালু আছে তা শরী‘আত সম্মত নয়। মৃত পিতা-মাতার নামে টাকা-পয়সা দান করতে হবে। আয়েশা ম বলেন, ‘জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলল, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা যে, তিনি কথা বলার সুযোগ পেলে দান করে যেতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি, তবে কি তিনি নেকী পাবেন? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৪; মিশকাত, হা/১৯৫০)। তবে কেউ যদি মৃত পিতা-মাতার নামে ইফতারির ব্যবস্থা করতেই চান তাহলে তা করবে অসহায় ফকীর-মিসকীনদের জন্য। কেননা মৃত ব্যক্তির নামে যেটা প্রদান করা হয়, তা ছাদাক্বাহ। আর ছাদাক্বাহ সবাই খেতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর ছাদাক্বাহ (যাকাত) ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯; মিশকাত, হা/১৭৭২)।

 

(৪৪) যে দেশে সূর্য উঠে না ও ডুবে না বা ছয় মাস রাত, ছয় মাস দিন সেখানে কীভাবে ছিয়াম পালন করতে হবে?

-ফযলে রাব্বী

গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা।

উত্তর : পাশের দেশের সময় অনুযায়ী ছিয়াম পালন করতে হবে। পাশের দেশেরও এমন অবস্থা হলে, তাদের দেশের স্বাভাবিক সময়ে যখন সাধারণত দিন থাকে তখনকার সময় ধরে ছিয়াম রাখবে ও ছালাত পড়বে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ দিন থাকবে। তার একদিন হবে এক বছরের ন্যায়। একদিন হবে এক মাসের ন্যায়। এক দিন হবে এক সপ্তাহের ন্যায়। অন্যান্য দিনগুলো হবে স্বাভাবিক দিনের ন্যায়। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ)! যেদিন হবে এক বছরের ন্যায় সেদিন কি একদিনের ছালাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, না! বরং তোমরা স্বাভাবিক সময়ের দিন আন্দাজ করে সেই হিসাব অনুযায়ী ছালাত আদায় করবে (মুসলিম, হা/২৯৩৮)।

 

(৪৫) করোনা ভাইরাসের কারণে ঈদের ছালাত মাঠে আদায় না করা গেলে করণীয় কী?

উত্তর : ঈদের ছালাত জামা‘আতসহ মাঠে আদায় করাই সুন্নাত। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে নববীর মতো স্থানকে ত্যাগ করে হেঁটে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে খোলা ময়দানে ঈদের ছালাত আদায় করতেন (যাদুল মা‘আদ, ১/৪২৫ পৃঃ; ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬, ‘মিম্বার না নিয়ে ঈদের মাঠে গমন’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৬)। তবে সরকারী নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে আদায় করা না গেলে নিজ বাড়ীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের ছালাতের মতোই ১২ তাকবীরসহ ঈদের দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করবে (বুখারী, ‘যার ঈদের ছালাত ছুটে গেছে এবং যারা বাড়ীতে ও গ্রামে আছে তাদের ঈদের ছালাত’ অধ্যায়)।

 

(৪৬) মহিলাদের জন্য কি ঈদের মাঠে যাওয়া যরূরী?

-মুনতাসিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।

উত্তর : মহিলাদের জন্যও ঈদের মাঠে যাওয়া যরূরী। কেননা তাদেরকে ঈদের মাঠে যাওয়ার জন্য রাসূল (ছাঃ) জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। উম্মে আতিয়া (রাঃ) বলেন, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো, আমরা যেন ঋতুবতী ও পর্দানশীল মহিলাদেরও দুই ঈদের দিনে (ঈদগাহে) বের করি, যাতে তারা মুসলিমদের জামা‘আতে এবং তাদের দো‘আয় শামিল হতে পারে। কিন্তু ঋতুবতীগণ যেন তাদের ছালাতের স্থান হতে একদিকে সরে বসে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ)! আমাদের কারও (শরীর ঢাকবার) বড় চাদর নেই। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তার সাথী তাকে আপন চাদর দিবে (বুখারী, হা/৩৫১; মুসলিম, হা/৮৯০; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪৩১)।

উপরিউক্ত হাদীছদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলারা চাদর না থাকলে চাদর ধার করে হলেও ঈদের মাঠে যাবে। ঋতুবতী মহিলাগণ ছালাত আদায় করবে না। বরং খুৎবা ও তাকবীরে শরীক হবে।

 

(৪৭) ছিয়াম সম্পর্কিত ফিদইয়া, কাফফারা ও ক্বাযা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর : শুধুমাত্র দিনের বেলা স্ত্রী মিলন করলে এক ছিয়াম সমান কাফফারা হিসাবে ষাট দিন ছিয়াম বা ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১১১; মিশকাত, হা/২০০৪; ফিক্বহুস সুন্নাহ, পৃঃ ৫৯৫)।

যার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নাই এমন স্থায়ীভাবে অসুস্থ ব্যক্তি ও ছিয়াম পালন করতে পারছে না এমন বৃদ্ধ ব্যক্তি প্রতি ছিয়াম সমান একজন মিসকীনকে সোয়া কেজি চাল দিবে (বাক্বারাহ, ১৮৪)।

স্বাভাবিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি ও হায়েযা নারী পরবর্তীতে ছুটে যাওয়া ছিয়ামগুলো ক্বাযা আদায় করে নিবে (বাক্বারাহ, ১৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৫; মিশকাত, হা/২০৩২)।

দুগ্ধদানকারিণী ও গর্ভবতী নারীর জন্য দু‘টি রাস্তা খোলা রয়েছে- তারা চাইলে পরে ছুটে যাওয়া ছিয়ামগুলোর ক্বাযা করতে পারে অথবা প্রতিদিন সমান ফিদইয়াস্বরূপ একজন মিসকীনকে সোয়া কেজি চাল দিবে (আবুদাউদ, হা/২৩১৭)।

উপরে উল্লেখিতের বাইরে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছিয়াম ছেড়ে দিলে তাওবা করবে ও পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে। তার জন্য ফিদইয়া বা কাফফারা নাই।

 

(৪৮) ইফতারের পূর্বমুহূর্তে দুআ কবুল হয়’- এমর্মে কোনো ছহীহ হাদীছ আছে কি?

-আব্দুল আউয়াল

মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফ ইবনে মাজাহ, হা/১৭৫৩)। তবে ছুহবে ছাদিক্ব থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরো সময়টাই ছিয়াম পালনকারীর জন্য দু‘আ কবুলের সময় (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৭৯৭)। তাই ছিয়াম পালনকারী সারাদিনই আল্লাহর  কাছে দু‘আ করতে পারবে।

 

(৪৯) মানুষকে জাগানোর জন্য সাহারীর সময় মাইকে আযান দেওয়া, গজল গাওয়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, বক্তব্য দেওয়া ও সাইরেন বাজানো যাবে কি

-হোসাইন আহমাদ

শাহজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : সাহারীর সময় মানুষকে জাগানোর নামে মাইকে গজল গাওয়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, বক্তব্য দেওয়া ও সাইরেন বাজানো ইত্যাদির শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো সবই বিদ‘আতী কার্যক্রম (ফাতহুল বারী, হা/৬২২-৬২৩-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ ২/১২৩ পৃঃ)।

রাসূল (ছাঃ)-এর সময়ে সাহরীর জন্য আযান দেয়া হত। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় বেলাল গভীর রাতে আযান দেয় অতএব তোমরা খাও ও পান করো যতক্ষণ না উম্মে মাকতূম আযান দেয় (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৪৮)। অতএব বিদা‘আতী পন্থা পরিত্যাগ করে সুন্নাতের উপর আমল করতে হবে।

 

(৫০) মহিলারা ইতিকাফ করতে পারবে কি?

– সাফিউল্লাহ বিন আব্দুছ ছাত্তার

ইসলামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : হ্যাঁ, মহিলারা ই’তিকাফ করতে পারে। তবে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে এবং মসজিদে পর্দার ব্যবস্থা ও ফিতনার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন ইন্তেকাল করলেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২; মিশকাত, হা/২০৯৭)। উল্লেখ্য যে, নারী পুরুষ সবার ক্ষেত্রে ই’তিকাফ মসজিদেই হতে হবে (বাক্বারাহ, ১৮৭)।