সওয়াল-জওয়াব

ঈমান-আক্বীদা



প্রশ্ন (১) : অমুসলিম ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার পূর্বে যে সকল ভালো কাজ করেছে পরকালে কি সে তার নেকী পাবে?  

-আক্বীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : অমুসলিম অবস্থায় কেউ যদি দান-খয়রাত, দাস মুক্তকরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাসহ সামাজিক কোনো সৎকর্ম করে, তাহলে ইসলাম গ্রহণ করার পর তার নেকী সে পাবে। উরওয়া ইবনুয যুবায়র বলেন, হাকীম ইবনু হেযাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলী যুগে যে সকল ভালো কাজ করেছিলাম যেমন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, দাস আযাদ করা এবং দান-ছাদাক্বা করা- এ সবের ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়? আমি কি এগুলোর ছওয়াব পাব? তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘পূর্বে তুমি যে সকল সৎকর্ম করেছ, তার সবকিছু নিয়েই তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২২০; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩)। অন্য বর্ণনায় আছে, জাহিলী যুগে তিনি ১০০ জন দাস আযাদ করেছিলেন এবং ১০০ লোককে ব্যবহারের জন্য বাহন দান করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৩৮)।


প্রশ্ন (২) : কাফেরদের পাপ কর্মানুযায়ী কি তাদের জন্য জাহান্নামের স্তর ভিন্ন হবে?

-মাজিদুল ইসলাম
ফতুল্লা, নারায়াণগঞ্জ।

উত্তর : ঈমানদারগণ যদি পাপের কারণে জাহান্নামে যায়, তাহলে সে তার অপরাধ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভ করে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে কাফেরেরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তারা কখনো তা থেকে মুক্তি লাভ করবে না। মুমিনদের মতো তাদেরও পাপ অনুযায়ী জাহান্নামের শাস্তিও কম-বেশি ও প্রকার ভিন্ন ভিন্ন হবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (চিরস্থায়ী) জাহান্নামীদের মধ্য হতে সবচেয়ে হালকা শাস্তি হবে আবূ তালেবের। তাকে দুটি আগুনের জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে, এ দুটি জুতার কারণে তার মগজ পর্যন্ত উথলাতে থাকবে (ছহীহ মুসলিম, হা/২১২; মিশকাত, হা/৫৬৬৮)। আবূ তালেব কাফের ছিল আর তার শাস্তি সবচেয়ে কম হবে মর্মে ছহীহ রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কাফেরদের শাস্তিও কম-বেশি হবে।


প্রশ্ন (৩) : সংবিধানের নিয়মে ‘ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী রাষ্ট্রপতির নিকটে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারে’। এরূপ প্রাণভিক্ষা চাওয়া কি শরীআত সম্মত?

-ফরিদুল ইসলাম
 বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হলে কেউ ক্ষমা করতেও পারবে না এবং কেউ ক্ষমা চাইতেও পারবে না। উসামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক জন মহিলার চুরির শাস্তি ক্ষমার ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সুপারিশ করলে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথাকে অস্বীকার করে বলেন, উসামা! তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করছ? (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৭৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৮৮)। তবে সামাজিকভাবে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে রাষ্ট্রপতি বা কোনো দায়িত্বশীল ক্ষমা করে দিতে পারে। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো মানুষের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারে না। কেননা হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ (আল-বাক্বারা, ২/২৫৮)।

 



পবিত্রতাওযূ-গোসল

প্রশ্ন (৪) : মোবাইল অ্যাপসে কুরআন পড়লে কি ওযূ করা লাগবে?

-নাঈমুল ইসলাম
লালমাই, কুমিল্লা।

উত্তর : না, ওযূ করা লাগবে না। সাথে সাথে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য ওযূ করা শর্ত নয়। বরং ওযূ ছাড়াও কুরআন তেলাওয়াত করা যায়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭৩; সুবুলুস সালাম, ১/১০২, হা/৭২)।


প্রশ্ন (৫) : নাভির নিচের লোম পরিষ্কারের জন্য ভিট (veet) ব্যবহার করা যাবে কি?

-আব্দু্ল্লাহ
রাজবাড়ী সদর।

উত্তর : হ্যাঁ, যাবে। কেননা ক্ষৌরকার্য সম্পাদনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিষ্কার করা। আর তা যে কোনো মাধ্যমে হোক না কেন। তবে চেঁছে ফেলা সুন্নাত। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ইসলামের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাচঁটি। যথা : খাৎনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা ও বগলের লোম উপড়ে ফেলা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯১; মিশকাত, হা/৪৪২০)।

 



ইবাদতছালাত

প্রশ্ন (৬) : প্রথম সিজদা থেকে উঠার পর শুধু রাব্বিগফিরলীদুআ পড়া যাবে কি

-আব্দুর রশিদ রাসেল
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, পড়া যাবে। হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই সিজদার মাঝখানে বসে বলতেন, رَبِّ اغْفِرْ لِيْ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ উচ্চারণ : রব্বিগফিরলী রব্বিগফিরলী। অর্থাৎ, হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন (নাসাঈ, হা/১০৬৯, ১১৪৫; আবূ দাঊদ, হা/৮৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৬৬; দারেমী, হা/১৩২৪; ইরওয়াউল গালীল, হা/৩৩৫)।


প্রশ্ন (৭) : বিতর ছালাতের পর অন্য কোনো ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আহমাদ আলী
 মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : বিতর ছালাত রাতের শেষ ছালাত হলেও তার পরে নফল ছালাত আদায় করা যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পরেও দুই রাকআত ছালাত আদায় করতেন (তিরমিযী, হা/৪৭১; ইবনু মাজাহ, হা/১১৯৫; মিশকাত, হা/১২৮৪)।


প্রশ্ন (৮) : অনেক মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য পৃথক জায়নামাযের ব্যবস্থা থাকে। আবার অনেকেই নিজ নিজ জায়নামায বিছিয়ে ছালাত আদায় করে। এতে বিশেষ কোনো নেকী আছে কি?

-আব্দুস সামাদ
আয়কর বিভাগ, রাজশাহী।

উত্তর : জায়নামায বিছিয়ে ছালাত আদায় করাতে পৃথক কোনো নেকী নেই। বরং ব্যক্তিগতভাবে জায়নামায ব্যবহার করলে তাতে অনেক অসুবিধা রয়েছে। যেমন, অন্যরা তার পায়ে পা মিলাতে সংকোচবোধ করবে; ব্যক্তির মধ্যে অহংকার আসবে ইত্যাদি। তা ছাড়া জায়নামায বিছিয়ে হোক বা জায়নামায ছাড়া হোক মসজিদে কারো জন্য কোনো জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখা ঠিক নয়। বরং যিনি আগে আসবেন, তিনি প্রথম কাতারে দাঁড়াবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩৮; মিশকাত, হা/১০৯০)। তবে বিচক্ষণ ও দ্বীনি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিগণই ইমামের নিকটবর্তী ও পিছনে দাঁড়াবেন। অতঃপর অন্যরা দাঁড়াবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩২; মিশকাত, হা/১০৮৮-৮৯) যাতে করে তারা ইমামের ভুলের ক্ষেত্রে তাকে সতর্ক করতে পারেন এবং প্রয়োজনে ইমামের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/২২৯)। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সকল মুছল্লীর জন্য মসজিদে কার্পেট বিছানোতে শারঈ কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন (৯) : জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে রজব তারিখ মিরাজের রাত্রিতে যখন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করা হয়, তখন যোহর, আছর ও এশা দুই রাকআত করে আদায়ের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে উক্ত ছালাতকে চার রাকআতে উন্নীত করার আদেশ দেয়া হয়। এ ঘটনার কোনো সত্যতা আছে কি?

-ফয়সাল
রামগতি, লক্ষীপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, এ বিষয়ে স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ আছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছালাত ফরয করা হয়েছিল দুই দুই রাকআত করে। অতঃপর নবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হিজরত করলেন। তখন তা চার রাকআত করে ফরয করা হলো এবং সফরের ছালাতকে পূর্বের অবস্থায় বহাল রেখে দেওয়া হলো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৯৩৫)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কায় ছালাত ফরয করা হয়েছিল দুই দুই রাকআত করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করলেন, তখন প্রতি দুই রাকআতের সাথে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে দিলেন, মাগরিব ব্যতীত, কারণ তা দিনের বিতর। আর ফজর ব্যতীত, কারণ এতে দীর্ঘ ক্বিরাআত করতে হয়’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮৪, এই হাদীছটির সূত্র দূর্বল হলেও অর্থগতভাবে তা ছহীহ)।


প্রশ্ন (১০) : দুআ কুনূত পাঠের পূর্বে কি বিসমিল্লাহ পড়তে হবে?

-আব্দুর রহমান
রামনগর, দিনাজপুর।

উত্তর : না, দু‘আ কুনূত পাঠের পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে না। কেননা এর পক্ষে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।


প্রশ্ন (১১) : চার রাকআতবিশিষ্ট ছালাতের প্রথম বৈঠকে ধীরস্থিরভাবে তাশাহুদ পড়ার পরেও অনেক সময় দেখি ইমাম সাহেবের তাশাহুদ পড়া শেষ হচ্ছে না। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

-ফজলে আহমাদ
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ধীরস্থিরভাবে ছালাত আদায় করতে হবে। এটিই শরীআতের বিধান। ইমামের পূর্বে মুক্তাদীর তাশাহুদসহ যে কোনো দু‘আ পড়া শেষ হলেও ইমামের অনুসরণ বা ইক্তেদা করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘ইমামকে নির্ধারণ করা হয়েছে তার অনুসরণ ও অনুকরণ করার জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৪; মিশকাত, হা/১১৩৯)। তবে এ সময়ে দরূদ পড়তে পারে।


প্রশ্ন (১২) : যারা প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় যাতায়াত করে তারা কি ঢাকায় অবস্থানকালে ছালাত ক্বছর করবে?

রওশন আলী
বাঘা রাজশাহী।

উত্তর : এমতাবস্থায় তারা ছালাত ক্বছর করবে। কেননা যে কোনো প্রয়োজনে মানুষ সফরে বের হলে ছালাত ক্বছর করতে পারে। আল্লাহ তাআল বলেন, ‘যখন তোমরা সফর করো, তখন তোমাদের ছালাতে ক্বছর করলে কোনো দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (আন-নিসা, ৪/১০১)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাকআত পড়েছি। আর যুল হুলাইফা গিয়ে আছরের ছালাত দুই রাকআত পড়েছি (ছহীহ বুখারী, হা/১০৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯০; মিশকাত, হা/১৩৩৩)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটানা ১৯ দিন ক্বছর করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৪০০, ১০৮১; তিরমিযী, হা/৫৪৯; মিশকাত, হা/১৩৩৭)। অর্থাৎ, যতদিন তিনি অবস্থান করেছেন ততদিন ক্বছর করেছেন, তাই স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত ছালাত ক্বছর ও জমা করে পড়া যাবে। অনেক ছাহাবী দীর্ঘ দিন সফরে থাকলেও ক্বছর করতেন (মিরকাত, ৩/২২১; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/২১৩-১৪)।


প্রশ্ন (১৩) : হানাফী ইমামের পিছনে রাফঊল ইয়াদাঈন করা হলে কি ইমামকে পরিপূর্ণ অনুসরণের খেলাফ হবে?

-জামিল হোসেন
পুরাতন কসবা, যশোর।

উত্তর : ছালাতে ইমামের অনুসরণ করতে হবে একথা ঠিক। তবে ইমাম যদি রাফঊল ঈয়াদায়েনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতের প্রতি আমল না করে কিংবা তা অবজ্ঞা করে তাহলে এ ক্ষেত্রে মুক্তাদী তার অনুসরণ করতে বাধ্য নন। বরং মুক্তাদী রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করত রাফঊল ইয়াদায়েন করেই ছালাত সম্পন্ন করবে। এতে তার পেছনে ছালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে। কেননা রাফঊল ইয়াদায়েন শরীআতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এর প্রমাণে চার শতাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (সিফরুস সাআদাত, পৃ. ১৫), যা প্রায় ৫০ জন ছাহাবী দ্বারা প্রমাণিত। যাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি স্বেচ্ছায় তা উপেক্ষা করে তাহলে সে সুন্নাতকে অমান্য করল (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/১৯৭; সিলসিলা ছহীহা, হা/২১৩০)। উল্লেখ্য যে, ছালাতে রাফঊল ইয়াদায়েনের জন্য ১০টি করে নেকী বেশি হয় (সিলসিলা ছহীহা, হা/৩২৮৬)। তবে রাফঊল ইয়াদায়েন না করার জন্য ইমাম গুনাহগার হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘ইমাম যদি ঠিক করে তাহলে তোমরা নেকী পাবে। আর যদি ভুল করে তাহলেও তোমরা নেকী পাবে। কিন্তু ইমামের গুনাহ হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৪; মিশকাত, হা/১১৩৩)।


প্রশ্ন (১৪) : কোনো মুছল্লীর দু‘আ কুনূত জানা না থাকলে জামাআতে ইমাম যখন কুনূত পড়বেন তখন তার করণীয় কী?

-ইমরুজ হোসেন
ঠাকুরগাঁও সদর।

উত্তর : যার দু‘আ কুনূত মুখস্থ নেই সে তা মুখস্থ করার চেষ্টা করবে। তবে বিতর পড়লেই যে দু‘আ কুনূত পড়তে হবে একথা ঠিক নয়। কেননা দু‘আ কুনূত ছাড়াও বিতর ছালাত পড়া যায়। তাছাড়া নিয়মিত দু‘আ কুনূত পড়া বিদআত। আবূ মালেক আল-আশজাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর, উমার, উছমান এবং এখানে কূফায় প্রায় পাঁচ বৎসরকাল আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হে বৎস! এটা নতুন আবিষ্কৃত (তিরমিযী, হা/৪০২; নাসাঈ, হা/১০৮০; ইবনু মাজাহ, হা/১২৪১; মিশকাত, হা/১২৯২)।


প্রশ্ন (১৫) : চার রাকআত ছালাতের নিয়তে দাঁড়িয়ে যদি ভুলক্রমে দুই রাকআত শেষে সালাম ফিরানো হয়, তাহলে কি ঐ ছালাত পুনরায় শুরু থেকে পড়তে হবে?

-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : না, ঐ ছালাত পুনরায় শুরু থেকে পড়তে হবে না। বরং যে দুই রাকআত ছুটে গেছে ঐ দুই রাকআত পূর্ণ করবে। অর্থাৎ পরে দুই রাকআত যথাযথ আদায় শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা দিবে। আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (এক দিন) রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে দুই রাকআত ছালাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় রাকআতে) তিনি না বসে উঠে দাঁড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল। তিনি ছালাত শেষ করলে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাত প্রায় শেষ করলে আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে দুটি সিজদা করলেন। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭০; ছহীহ বুখারী, হা/১২২৪)।


প্রশ্ন (১৬) : ছালাতের কোনো এক রাকআতে সিজদার সংখ্যা একটি হলো নাকি দুটি হলো এমন সন্দেহ হলে করণীয় কী?

-মুহাম্মদ বিল্লাল
ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর : ছালাতে সিজদা কম হয়েছে বলে সন্দেহ হলে সিজদা করে নিতে হবে। তারপর শেষে সাহু সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবে। কেননা রুকূ-সিজদা ছুটে গেলে রাকআত বাতিল হয়ে যায় (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৫৩৯; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৫৩৭)। সিজদা আদায় করার ক্ষেত্রে মুছল্লী তার ইয়াক্বীন তথা নিশ্চিত জ্ঞানের উপর নির্ভর করবে। ইয়াক্বীন হচ্ছে- ছোট সংখ্যাটি হিসাব করা। তাই সে শুধু একটি সিজদা দিয়েছে ধরে নিয়ে দ্বিতীয় সিজদাটি আদায় করবে। এরপর সালাম ফিরানোর আগে সাহু সিজদা দিবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭১; মিশকাত, হা/১০১৫)। তবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরে যদি সিজদা ছুটে গেছে বলে সন্দেহ হয় বা সালাম ফিরিয়ে দিয়ে থাকে তাহলে ঐ স্থানে আরেক রাকআত পড়ে নিয়ে সাহু সিজদা দিবে (শাইখ বিন বাযের ফতোয়াসমগ্র, ১১/৩০)।

 



ইবাদতছিয়াম

প্রশ্ন (১৭) : আইয়্যামে তাশরীক তথা জিলহজ্জ মাসের ১৩ তারিখ ছিয়াম পালন নিষিদ্ধ। তাহলে ঐ মাসে আইয়্যামে বীযের ছিয়াম পালনের বিধান কী?

-নাছির উদ্দীন
মান্দা, নওগাঁ।     

উত্তর : ১৩, ১৪ ও ১৫-ই যিলহজ্জ ছিয়াম পালন করা উত্তম। তবে যে কোনো দিনও তা পালন করা যায়। মুআযা (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) -কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ছিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করি, মাসের কোন কোন দিনে ছিয়াম রাখতেন? তিনি বললেন, তিনি নির্দ্ধিধায় যে কোনো তিন দিন ছিয়াম রাখতেন (আবূ দাঊদ, হা/২৪৫৩)। সুতরাং আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত ছিয়াম পালন করবে।

 



ইবাদতযাকাত

প্রশ্ন (১৮) : আমার একটি বাড়ি আছে। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে। কখনো এমন হয় যে, কোনো কোনো ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে পারে না এবং এক সাথে ৬-১২ মাসের ভাড়া বকেয়া করে ফেলে। এমতাবস্থায় আমি কি এসব ভাড়াটিয়াদের বকেয়া ভাড়াকে আমার যাকাত হিসাবে দেখিয়ে তার ঋণের বোঝা কমাতে পারব? এ ক্ষেত্রে তাকে জানানো কি আবশ্যক যে তাকে যাকাতের অর্থ প্রদান করা হলো বা বকেয়া ভাড়া সমন্বয় করা হলো?

-কিয়া এম মিরাজ
সাভার, ঢাকা।

উত্তর : এমতাবস্থায় দেখতে হবে যে, সে নিঃস্ব কি-না। যদি নিঃস্ব হয়, তাহলে মাসিক ভাড়া ছেড়ে দিতে পারে। এমন কাজের বিনিময়ে সে জান্নাত লাভ করবে। হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে জনৈক ব্যক্তি ছিল। ফেরেশতা তার নিকট তার জান ক্ববয করার জন্য এসেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কি কোনো ভালো কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জানা নেই। তাকে বলা হলো, একটু চিন্তা করে দেখো। সে বলল, এ জিনিসটি ব্যতীত আমার আর কিছুই জানা নেই যে, দুনিয়াতে আমি মানুষের সঙ্গে ব্যবসা করতাম অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা করতাম। আদায় না করতে পারলে আমি সচ্ছল লোককে সময় দিতাম আর অভাবী লোককে ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫১)। তবে যাকাত হিসাবে দিলে তাকে জানিয়ে দেয়াই ভালো। কেননা যাকাত সবাই খেতে চায় না এবং তা সবার জন্য খাওয়া জায়েযও নয়। আত্বা ইবনু ইয়াসার (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ধনীর জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয়। তবে পাঁচ শ্রেণির ধনীর জন্য তা জায়েয। ১. আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি ২. যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী ৩. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ৪. কোনো ধনী ব্যক্তির দরিদ্রের প্রাপ্ত যাকাতের মাল নিজ অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা এবং ৫. মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত হতে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দেওয়া (আবু দাঊদ, হা/১৬৩৬)।


প্রশ্ন (১৯) : যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা কি গরীব নিকটাত্মীয়কে দেওয়া যাবে

-জাহাঙ্গীর আলম
গাজীপুর সদর।

উত্তর : আত্মীয়-স্বজন যদি নিঃস্ব হয় এবং ওশর-যাকাতের হক্বদার হয়, তাহলে তাদেরকে যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া যাবে। একদা এক আনছারী মহিলা এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী যয়নাব বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে জিজ্ঞেস করেন যে, তাদের স্বামীদের প্রতি এবং স্বামীদের পোষ্য ইয়াতীমদের প্রতি যাকাত দিলে এটা তাদের পক্ষে যথেষ্ট হবে কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তাদের জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছে। আত্মীয়তার নেকী এবং দানের নেকী’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০০; মিশকাত, হা/১৯৩৪)। কারণ আল্লাহ তাআলা আট শ্রেণির লোককে দেওয়ার আদেশ করেননি; বরং আট শ্রেণির লোক এই সম্পদের হক্বদার বলে উল্লেখ করেছেন (আত-তওবাহ, ৯/৬০)। অতএব যখন যেখানে যতজন হক্বদার থাকবে, তাদের হক্বের পরিমাণ বিবেচনা করে প্রদান করতে হবে। সবাইকে সমান দেওয়াও আবশ্যক নয়। প্রয়োজনে কোনো হক্বদারকে বাদ দিয়ে গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্যকে সম্পূর্ণ মাল দেওয়া যেতে পারে।

 



ইবাদতযিকির ও দু‘আ

প্রশ্ন (২০) : আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নাররব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান্নারদুআ দুটি সিজদায় পড়া যাবে কি?

-শাহাজান ফারুক
 পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, দু‘আ দুটি সিজদায় পড়া যাবে। তবে ‘রব্বানা আ-তিনা…… এর পূর্বে ‘আল্লা-হুম্মা’ শব্দটি যোগ করে বলবে। কেননা এটি কুরআনী দু‘আ বা আয়াত। আর রুকূ-সিজদায় কুরআনী দু‘আ পড়া জায়েয নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৭৯; মিশকাত, হা/৮৭৩, নায়লুল আওতার, ৩/১০৯)। তবে শুরুতে ‘আল্লাহুম্মা’ যুক্ত করলে তখন দু‘আটি হাদীছী দু‘আ বলে গণ্য হবে এবং সিজদায় তা পড়া যাবে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৫২২)।


প্রশ্ন (২১) : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ এই কালেমাকে যিকির হিসাবে পড়া যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : যিকিরের ক্ষেত্রে শুধু ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলবে। কারণ যিকির শুধু আল্লাহর হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হয় না। বরং তাঁর হয় আনুগত্য। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (তিরমিযী, হা/৩৩৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮০০; মুসতাদারাকে হাকেম, হা/১৮৩৪; শুআবূল ঈমান, হা/৪০৬১; ইবনু হিব্বান, হা/৮৪৬, সিলসিলা ছহীহা, হা/১৪৯৭, সনদ হাসান; মিশকাত, হা/২৩০৬)। আর এ পর্যন্তই যে একটি পূর্ণ কালেমা (বা কালেমা তাইয়্যেবা) তা আরও একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা মুমূর্ষ ব্যক্তিকে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’র তালক্বীন দাও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯১৬-১৭; মিশকাত, হা/১৬১৬)। মুআয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত পক্ষে কোনো ইলাহ নেই), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (আবূ দাঊদ, হা/৩১১৬, ; মুসতাদরাকে হাকেম, হা/১২৯৯; ইরওয়াঊল গালীল, হা/৬৮৭; ছহীহ আল-জামে‘ আছ-ছগীর, হা/৬৪৮০)।


প্রশ্ন (২২) : অনেকেই বলেন, হজ্জের সময় আরাফার রাতে মুজদালিফায় যদি কেউ বান্দার হক্ব নষ্ট করার কারণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে তিনি তা ক্ষমা করে দিবেন, এমনকি বিনিময়ে তিনি তাকে আরো অনেক বেশি নেকী দিবেন। এ কথা কি সত্য?

আব্দুর রহীম
পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : না এমন পাপ ক্ষমা হবে না। কারণ পাপ দুই প্রকার। ১. আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ ও ২. বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ। আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। তবে বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ আল্লাহ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ বান্দা ক্ষমা না করে। যেমন, ঋণের পাপ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৮৬; মিশকাত, হা/২৯১২)। আরাফার ময়দানে আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কিত সকল পাপ চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন। কেননা আল্লাহ তাআলা এই দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষকে ক্ষমা করে থাকেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৫৪)। কিন্তু বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ বান্দার কাছেই ক্ষমা নিতে হবে। বান্দা যদি ক্ষমা করে, তাহলে আল্লাহও ক্ষমা করবেন (কুরতুবী, ১৮/২০)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ চেয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোনো দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট হতে নেওয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯; মিশকাত, হা/৫১২৬)।


প্রশ্ন (২৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি দরূদ পাঠের ক্ষেত্রে দরূদে ইবরাহীমব্যতীত অন্য কোনো দরূদ আছে কি?

-রাশিদুল ইসলাম আওলাদ
 হাতিবান্ধা, লালমণিরহাট।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি দরূদ পাঠের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম দরূদ হলো, ‘দরূদে ইবরাহীম’ যা বিভিন্ন শব্দে উল্লেখ হয়েছে। আর এ দরূদটিই পড়া উচিত। যেমন, (১)أَللهم صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- أَللهم بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ. উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লায়তা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রক্তা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/৪০৬; মিশকাত, হা/৯১৯)। (২) اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ছল্লি আলা-মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আযওয়া-জিহী ওয়া যুররিইয়্যাতিহী, কামা- ছল্লায়তা আলা- আ-লি ইবরহীমা, ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আযওয়া-জিহী ওয়া যুররিইয়্যাতিহী কামা- বা-রকতা আলা- আ-লি ইবরহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬৯; আবুদাঊদ, হা/৯৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৬৬১)। তবে অন্যভাবেও দরূদ দেখা যায়। যেমন, صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ উচ্চারণ : ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ছহীহ বুখারী, হা/৭৮)। ছাহাবীগণ নবীর নাম উল্লেখ করলে এ শব্দ/বাক্য ব্যবহার করতেন। তবে ছালাতের মধ্যে ‘দরূদে ইবরাহীম’-ই পড়তে হবে।


প্রশ্ন (২৪) : সকাল-সন্ধ্যায় পঠিতব্য যিকির ও দুআসমূহ আমল করার জন্য নির্ধারিত সময় কতক্ষণ?

-আব্দুর রহমান
রামনগর, দিনাজপুর।

উত্তর : না, এজন্য পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছসমূহে কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রভুকে সকাল-সন্ধ্যায় আপন মনে অত্যন্ত বিনীত ও ভীত সন্ত্রস্তভাবে স্মরণ করুন, উচ্চ শব্দে নয়’ (আল-আ‘রাফ, ৭/২০৫)। তবে বিভিন্ন হাদীছের বর্ণনালোকে বলা যায় যে, ‘সুবহা-নাল্ল-হী ওয়া বিহামদিহী’ দু‘আটি একশতবার পড়তে যত সময় লাগে বা তার চেয়েও অধিক সময়ব্যাপী সকাল-সন্ধ্যায় দু‘আ পাঠ করা যায়। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশতবার ‘সুবহা-নাল্ল-হী ওয়া বিহামদিহী’ বলবে কিয়ামতের দিন এর  অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে এই বাক্য উক্ত ব্যক্তির চেয়ে অধিকবার বলবে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯২, তিরমিযী, হা/৩৪৬৯; আহমাদ, হা/৮৮৫৫; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৬৫৩, ছহীহ আল-জামে‘, হা/৬৪২৫; মিশকাত, হা/২২৯৭)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি একশতবার উক্ত বাক্য বলবে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার ন্যায় বেশি হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯১; মিশকাত, হা/২২৯৬)। উল্লেখ্য যে, সন্ধ্যার যিকিরের সময় হলো সূর্য ডোবার পূর্ব পর্যন্ত, সূর্যাস্তের পরে নয়।


প্রশ্ন (২৫) : জনৈক আলেম বলেছেন, কয়েকজন মিলে ৪,৪৪৪ বার দরূদে নারিয়া পাঠ করা অনেক ফযীলতের কাজ। এ কথার শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

-মারুফ হোসেন
মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : এমন দরূদ ও তার ফযীলতের শারঈ কোনো ভিত্তি নেই; বরং তা মিথ্যা ও বানোয়াট। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দরূদে নারিয়া’ কী জিনিস তা আমি জানি না। তবে দরূদটি যদি ঐ দরূদ এবং তার অনুকূলে হয় যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিখিয়েছেন, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য। মানুষ দরূদ পাঠ করবে সেভাবে যেভাবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয এবং নফল ছালাতে পাঠ করেছেন। যদি ঐ দরূদে অতিরিক্ত গুণ বর্ণনা করা হয় যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি অথবা উম্মতের জন্য বিধান করেননি, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।


প্রশ্ন (২৬) : বিচার দিবসে সূরা মুলকের সুপারিশ পাওয়ার জন্য সেটা কি প্রতিদিন রাতে শুধু ঘুমানোর সময়ই পড়তে হবে না-কি রাতের যে কোনো সময়ই পড়া যাবে

-আব্দুর রহমান
রামনগর, দিনাজপুর।

উত্তর : সূরা মুলক প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে তেলাওয়াত করাই উত্তম। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা সিজদা ও মুলক না পড়ে নিদ্রা যেতেন না (তিরমিযী, হা/২৮৯২; দারেমী, হা/৩৪১১, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২১৫৫)। তবে সূরা মুলকের মাধ্যমে কবরের শাস্তি হবে না- মর্মে যখন সূরাটি পড়ার কথা এসেছে, তখন রাতের কথা এসেছে (তিরমিযী, হা/২৮৯০; মিশকাত, হা/২১৫৪; উল্লেখ্য যে, হাদীছটির প্রথমাংশ যঈফ)। তবে যতক্ষণ ক্ষমা না হবে, ততক্ষণ সূরা মুলক সুপারিশ করতে থাকবে- মর্মে যখন হাদীছ এসেছে, তখন সময়ের কথা উল্লেখ হয়নি (তিরমিযী, হা/২৮৯১; মিশকাত, হা/২১৫৩)।


প্রশ্ন (২৭) : কারো সালামের জওয়াব দিয়ে পুনরায় কি তাকে সালাম দেওয়া যাবে? বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদেরকে যেমনটি করতে দেখা যায়

-ফযলে মাহমুদ
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর :  কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেয়াই জরুরী। তবে উত্তর দিয়ে আবার সালাম দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বরং এ আমল অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরীআতে এমন কিছুর নবউদ্ভাবন করল, যে ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।

 



ইবাদত মসজিদ-মুছল্লা

প্রশ্ন (২৮) : মসজিদের সামনে কবর। কিন্তু উভয়ের মাঝে কোনো প্রাচীর নেই। এখন করণীয় কী?

-আব্দুল্লাহ আল-আমীন
 বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : এমতাবস্থায় উভয়ের মাঝে প্রাচীর দিয়ে কবরস্থানকে মসজিদ থেকে আলাদা করতে হবে। কেননা মসজিদের সামনে কবর থাকলে ছালাত পড়া যাবে না। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা কবরের উপরে বসো না এবং সেখানে ছালাত আদয় করো না (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২; মিশকাত, হা/১৬৯৮)। এমনকি পাশে কবর থাকলেও ছালাত হবে না (মুসনাদে বাযযার, হা/৪৪১, ৪৪২; আহকামুল জানায়িয, হা/২৭০)। উল্লেখ্য যে, মসজিদের সামনের কবর যদি মসজিদের পরে হয় তাহলে তা উঠিয়ে কবরস্থানে বা অন্য কোথাও স্থানান্তর করতে হবে (ফাতাওয়া নূরে আলাদ্দারব লি ইবনি উছায়মীন, ইজতিনাবুন নাজাসাত, ১৭/১২৯)। আর না হলে মসজিদ ও কবরের মাঝখানে প্রাচীর দিয়ে কবর ও মসজিদের মধ্যে ব্যবধান করলে তাতে ছালাত আদায় করা যাবে (ফাতাওয়া আল-মুনাজ্জিদ, পৃ. ৩)।


প্রশ্ন (২৯) : কবুতর পোষার জন্য মসজিদের ছাদের ‍উপর ছোট ঘর নির্মাণ করা যাবে কি?

-আব্দুল কুদ্দুস
রাণীরবন্দর, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : কবুতর পোষার জন্য মসজিদের ছাদের ‍উপর ঘর নির্মাণ করা যাবে না। কারণ কবুতর উপরে থাকলে মসজিদ অপরিষ্কার হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহল্লায় মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করতে ও তা পরিষ্কার রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহল্লায় মসজিদ গড়ে তোলার, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ও এতে সুগন্ধি ছড়াবার হুকুম দিয়েছেন (আবূ দাঊদ, হা/৪৫৫; তিরমিযী, হা/৫৯৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৫৮)। জনৈক ব্যক্তি মসজিদে পেশাব করলে রাসূলুল্লাহ তা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/২৯৩)। তাছাড়া দুনিয়াবী কোনো কাজে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থে মসজিদকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। তাছাড়া এটা মসজিদের আদবের খেলাফ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহর ইবাদত সম্পাদনের জন্য…’ (আল-জিন, ৭২/১৮)।

 



মৃত্যু-কবর-জানাযা

প্রশ্ন (৩০) : কবরস্থানে গাছ লাগানো ও তা কাটা যাবে কি?

-রবিউল ইসলাম
 বোদা, পঞ্চগড়।

উত্তর : কবরস্থানের যে অংশে কবর রয়েছে সেখানে ফসলাদী আবাদ করা ও গাছ লাগানো ঠিক নয়। বরং কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ সেখান থেকে দূর করা উচিত। কেননা কবরস্থানে গাছগাছালি থাকলে মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সেখানে যাতায়াত করবে। ফলে কবরস্থানের মান-মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরস্থানের উপর বসতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২; মিশকাত, হা/১৬৯৮)। তবে যে স্থানে কবর হয়নি অথবা কবর থাকার কোনো চিহ্নও পাওয়া যায় না, এমন জায়গায় কবরস্থানের উন্নতির জন্য আবাদ করা যেতে পারে।


প্রশ্ন (৩১) : কবরে মাটি দেওয়ার সময় কি শুধু ডান হাত দিয়ে দিতে হবে? নাকি উভয় হাত দিয়ে দেওয়া যাবে?

-আব্দুল্লাহ
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

উত্তর : উভয় হাত দিয়েই কবরে মাটি দেওয়া সুন্নাত। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একটি জানাযার ছালাত আদায় করালেন। তারপর তিনি তার কবরের কাছে এলেন এবং কবরে তার মাথা বরাবর তিন অঞ্জলি মাটি রাখলেন (ইবনু মাজাহ, হা/১৫৬৫; মিশকাত, হা/১৭২০)।


প্রশ্ন (৩২) : মৃত ব্যক্তিকে গালিগালাজ করা তার মন্দ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : মানুষ মারা যাওয়ার পর সে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পেয়ে যায়, বিধায় তাকে গালিগালাজ করা কিংবা তার দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা জায়েয নয়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা মৃতদের গালি দিয়ো না। কারণ তারা তাদের কৃতকর্মের কাছে পৌঁছে গেছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৯৩; মিশকাত, হা/১৬৬৪)। তবে মৃত ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও মাল আত্মসাৎ করে থাকে বা কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার স্বার্থে তার কৃত অন্যায়ের কথা প্রকাশ করাতে শারঈ কোনো বাধা নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ লাশকে সামনে রেখে তার ঋণের কথা জিজ্ঞাসা করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৯; মিশকাত, হা/২৯০৯)।

 



হাদীছতাহক্বীক্ব

প্রশ্ন (৩৩) : ইমাম ত্বহাবী তার শারহু মুশকিলুল আছারগ্রন্থে ‘সুরাইয়া’ নামক একটি তারকা সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। যার মূল কথা হলো, উক্ত তারকাটি উদয় হলে মানুষের উপর থেকে রোগ-ব্যাধি দূর হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো, এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

-হৃদয় সরকার
দিনাজপুর।

উত্তর : এই মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১/৪৩; মাউসূআতু আত্বরাফীল হাদীছ, ১/৬০১১৫)।

 



পারিবারিক বিধানসম্পর্ক

প্রশ্ন (৩৪) : শারঈ কোনো কারণ ছাড়া স্বামীর কথায় মা-বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে কি?

-তামান্না
মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : না, শারঈ কোনো কারণ ছাড়া স্বামীর কথায় পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা মহাপাপের কাজ। যা করতে নবী কারীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন ও বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৫৫; আবূ দাঊদ, হা/১৬৯৬; তিরমিযী, হা/১৯০৯; মিশকাত, হা/৪৯৪২)। তাছাড়া স্ত্রী কোনো পাপের কাজের ক্ষেত্রে স্বামীর নিদের্শ পালন করতে বাধ্য নয়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনছারী মহিলা তার মেয়েকে বিয়ে দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, তার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করাই। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না, তা করো না। কারণ আল্লাহ তাআলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লা‘নত বর্ষণ করেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে (ছহীহ বুখারী, হা/৫২০৫)। তবে আল্লাহর নাফরমানী না হলে এমন সময় পিতা-মাতা কষ্ট পেলেও স্বামীর কথাই মেনে চলতে হবে (তিরমিযী, হা/১১৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৫৩; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪১৬১; মিশকাত, হা/৩২৫৫)।

 



পারিবারিক বিধানবিবাহ-তালাক

প্রশ্ন (৩৫) : স্বামী মারা যাওয়ার পর দেবরকে বিবাহ করা যাবে কি?  

-আনোয়ার হোসেন
 কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : স্বামী মারা যাওয়ার পর দেবরকে বিবাহ করতে পারে। কারণ যে ১৪ জন্য নারীকে বিবাহ করা হারাম ভাবী তার অন্তর্ভুক্ত নয় (আন-নিসা, ৪/২৩)। তবে অবশ্যই উক্ত মহিলাকে শোক পালনের জন্য শরীআত নির্ধারিত সময় তথা ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। (আল-বাক্বারা, ২/২৩৪; ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৩৪-৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৮৬, মিশকাত, হা/৩৩৩০)।


প্রশ্ন (৩৬) : তিন বছর আগে মেয়ের পরিবারের অমতে আমাদের বিবাহ হয় এবং একটি সন্তানও হয়েছে। তবে বর্তমানে উভয়ের পরিবার তা মেনে নিয়েছে। এমতাবস্থায় পূর্বের বিবাহ বহাল থাকবে নাকি নতুন করে বিবাহ পড়াতে হবে ও মোহর নির্ধারণ করতে হবে? আর সন্তানটির ব্যাপারে হুকুম কী?

-রবিউল ইসলাম
পীরগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর : বিবাহ ছহীহ হওয়ার জন্য মেয়ের অবিভাবকের অনুমতি আবশ্যক। যদি কেউ মেয়ের অবিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোনো মেয়েকে বিবাহ করে, তাহলে সে বিবাহ বাতিল হিসাবে গণ্য হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে নারীকে তার অভিভাবক বিবাহ দেয়নি তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; তিরমিযী, হা/১১০২)। যেহেতু মেয়ের অবিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ বৈধ নয় সেহেতু যদি কেউ উক্ত বিবাহের উপর ভিত্তি করে সংসার করে, তাহলে তা যেনা হিসাবে বিবেচিত হবে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যদি ঘটেই যায় তাহলে অবিভাবকের উচিত তাদেরকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে বিবাহ পড়ানো। প্রশ্নোল্লিখিত পরিস্থিতিতে যেহেতু বিবাহ হয়নি, তাই নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে অবিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে নতুনভাবে বিবাহ পড়াতে হবে এবং উক্ত সন্তান অবৈধ সন্তান হিসাবে বিবেচিত হবে।


প্রশ্ন (৩৭) : এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ১৫ বছর পূর্বে এক তালাক দিয়ে ঘরসংসার করতে থাকেতার বছর পরে আবার এক তালাক দেয়বর্তমানে তাকে তৃতীয়বারের মতো আবার তালাক দেয়কিন্তু তারা পুনরায় ঘরসংসার করতে চাইলে জনৈক আলেম তাদেরকে নতুন বিয়ে করার জন্য ফতওয়া দেন বিয়ে কি ইসলাম সমর্থন করে?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : তৃতীয় তালাক দেওয়ার পর উক্ত স্ত্রীর সাথে ঘর-সংসার করার সুযোগ থাকে না। তবে কোনো প্রকার পূর্ব চুক্তি ছাড়াই যদি উক্ত মহিলার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে আবার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘(ফেরতযোগ্য) তালাক হলো দু’বার পর্যন্ত। তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে।  …তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোনো স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোনো পাপ নেই’ (আল-বাক্বারা, ২/২২৯-২৩০)।


প্রশ্ন (৩৮) : উভয়ের অভিভাবকের অজান্তে কাজী অফিসে দুজন অপরিচিত সাক্ষীর মাধ্যমে ছেলেমেয়ের বিবাহ হয়। একটি সন্তান হওয়ার পরে ছেলে মেয়েকে প্রথমে এক তালাক দেয় এবং তারপর কিছুদিন ঘরসংসার করার পরে আবার একসাথে দুই তালাক দেয়। উক্ত বিবাহ তালাক কি বৈধ হবে? যদি না হয় তাহলে সন্তানটির ব্যাপারে করণীয় কী?

-শেখ মানিক হোসেন
মানিকদিয়া, মেহেরপুর।

উত্তর : প্রথমত, উক্ত বিবাহ বৈধ হয়নি। সুতরাং তালাক কার্যকর হওয়ার প্রশ্নেই আসে না। কেননা মেয়ের অবিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ কার্যকর হয় না। যেহেতু প্রশ্নোল্লিখিত বিবাহটি অবিভাবকের অজান্তে হয়েছে তাই উক্ত বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোনো মহিলা বিয়ে করলে তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল’ (আবূ দাউদ, হা/২০৮৩; তিরমিযী, হা/১১০২; মিশকাত, হা/৩১৩১)। এখানে তারা উভয়েই শাস্তিপ্রাপ্তদের স্থলাভিষিক্ত। তবে এ মহাপাপের জন্য তাদেরকে তওবা করতে হবে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের উক্ত সন্তান জারজ সন্তান বলে গণ্য হবে এবং সে পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না। তবে মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ৩/৩৭২)। মাতৃ পরিচয় নিয়ে মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকবে (ফাতাওয়া লাজনা আদ-দায়েমা, ২০/৩৮৭)। রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি স্বাধীন মহিলার সাথে যেনা করলে এবং অবৈধভাবে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তান নিজেও উত্তরাধিকারী হবে না এবং ঐ সন্তানের সম্পদেও (মা ব্যতীত) অন্য কেউ উত্তরাধিকারী হবে না’ (তিরমিযী, হা/২১১৩; মিশকাত, হা/৩০৫৪)।

 



পারিবারিক বিধানআক্বীক্বা

প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক ব্যক্তি তার পূর্ব নিয়ত অনুযায়ী সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে গরু যবেহ করে আক্বীক্বা দিয়েছেন। এটা কি শরীআত সম্মত হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে এখন করণীয় কী?

-হাবিবুর রহমান
ময়মনসিংহ সদর।

উত্তর : না, উক্ত আক্বীক্বা শরীআত সম্মত হয়নি। কেননা গরু দিয়ে আক্বীক্বা করা যাবে না। বরং ছাগল তথা খাসী বা বকরী দিয়ে আক্বীক্বা করাই যথেষ্ট। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘ছাগ হোক বা ছাগী হোক, ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি আক্বীক্বা দিতে হয়’ (নাসাঈ, হা/৪২১৮; তিরমিযী, হা/১৫১৬; আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৫; মিশকাত, হা/৪১৫২, ৪১৫৬; ইরওয়া, হা/১১৬৬)। ত্বাবারানীতে উট, গরু বা ছাগল দিয়ে আক্বীক্বা করা সম্পর্কে যে হাদীছ এসেছে, তা মাওযূ‘ অর্থাৎ জাল (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৬৮)। তাছাড়া এ বিষয়ে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোনো আমল নেই। গরু দিয়ে কোনো ব্যক্তির আক্বীক্বা করা হয়ে থাকলে বর্তমানে তাকে আর নতুন করে আক্বীক্বা করা লাগবে না। কেননা জন্মের সপ্তম দিনের পরে আক্বীক্বা চলে না। ৭ দিনের পরে ১৪ ও ২১ দিনে আক্বীক্বা দেওয়ার ব্যাপারে বায়হাক্বী, ত্বাবারানী, হাকেমে বুরায়দা ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীছকে শায়খ আলবানী ‘যঈফ’ বলেছেন (ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৭০)। জীবনে একদিন হলেও আক্বীক্বা দিতে হবে মর্মে বর্ণনাটিও সঠিক নয় (আল্লামা ছানআনী, সুবুলুস সালাম, ৪/৯৭)।

 



ব্যবসা-বাণিজ্য

প্রশ্ন (৪০) : ফিলিয়েইট মার্কেটিং বৈধ কি?

-মনিরুযযামান শুভ
দিনাজপুর সদর।

উত্তর : এফিলিয়েইট মার্কেটিংকে অনেকে এ্যাসোসিয়েট মার্কেটিং, আবার কেউবা রেফারেল মার্কেটিং বলে থাকেন। বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারে এই প্রকার মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই মার্কেটিংয়ের সারমর্ম হচ্ছে SOPS বা Selling Other People’s Stuff. (অন্যের পণ্য বিক্রয় করা বা দালালী করা) অর্থাৎ এফিলিয়েইট তার সাইটে বিক্রেতার সাইট বা পণ্যের লিংক প্রদান করে থাকে। ক্রেতা বা কাস্টমার সেই লিংকে ক্লিক করে সহজেই বিক্রেতার সাইটে চলে যায় এবং পণ্য ক্রয় করে। বিনিময়ে বিক্রেতা এফিলিয়েইট সাইটকে শতকরা কিছু টাকা বা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (কমিশন) প্রদান করে। এ সকল পদ্ধতিতে কমিশন বা বেতন অনির্দিষ্ট বা অনিশ্চত। উক্ত ব্যবসার কিছু পদ্ধতি জায়েয হলেও বেশির ভাগ স্থানে তা ইসলমী অর্থনীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং তাতে ধোঁকা ও হারামে পতিত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। পদ্ধতিভেদে শরীআতের বিভিন্ন বিধান রয়েছে যা দীর্ঘ আলোচনা সাপেক্ষ। তবে নিম্নে তার মৌলিক কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো যা উক্ত পদ্ধতিগুলোর সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১. মূল সাইটে হালাল-হারাম অনেক পণ্য থাকে, কেউ নিজ সাইটে হালাল পণ্যের লিংক রেফার করলেও দ্বিতীয়জনের কাছে হারাম পণ্যের লিংক চলে যায়। তাই হারামের পথ দেখানোর কারণে সে ক্রেতার সমান পাপী হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৭; সুনানে দারেমী, হা/৫২১)। ২. বর্ধিত মূল্যে বিক্রয় (মুসলিম, হা/১৬০৫; ইবনে মাজাহ, হা/২১৫৫; মিশকাত, হা/২৮৯২)। ৩. হারামে নিপতিত হওয়ার সন্দেহ। ইসলাম সন্দেহযুক্ত বিষয়কে সমর্থন করে না। (তিরমিযী, হা/২৫১৮; মিশকাত, হা/২৭৭৩)। ৪. শ্রমবিহীন বিনিময় এবং বিনিময়বিহীন শ্রম, যা ইসলামী আইন বহির্ভূত।


প্রশ্ন (৪১) :  আমি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করি। যারা পাসপোর্ট বা স্ট্যাম্প সাইজের ছবি প্রিন্ট করে নিতে চায় তাদেরকে সেটা প্রিন্ট করে দেওয়া কি বৈধ হবে

-ফাইযুল ইসলাম
সাহেব বাজার, রাজশাহী।

উত্তর : ছবি অঙ্কন করা, বিনা প্রয়োজনে ছবি প্রিন্ট করা, স্মৃতিস্বরূপ অ্যালবামে কিংবা ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখা চরম গর্হিত পাপ। ক্বিয়ামতের দিন এদেরকে কঠিনতর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। ঐ সময় ঘরে একটি পর্দা ঝুলানো ছিল, তাতে কিছু চিত্র অঙ্কিত ছিল। এটা দেখে রাগে তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর পর্দাটি টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হবে ঐ সকল লোকেরা, যারা এই চিত্রগুলো অঙ্কন করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১০৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৭)। তবে যেসব ক্ষেত্রে ছবি তোলা একান্ত জরুরী, সেসব ক্ষেত্রে ছবির উপরে কোনো প্রকার এডিটিং না করে ছবি প্রিন্ট করলে পাপ হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে যেসব ক্ষেত্রে তোমরা নিরুপায়, তা ব্যতীত’ (আল-আনআম, ৬/১১৯)। তবে রূযী উপার্জনের জন্য এ মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা ভালো (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৩২)। কেননা যা পছন্দনীয় নয় ও দৃষ্টিকটু তা পরিহার করাই উচিত।


প্রশ্ন (৪২) : আমি কম্পিউটারের ব্যবসা করতাম, আর অডিও ভিডিও গান এবং ছায়াছবি দিয়ে মেমোরিতে লোড করতাম। পরে এ ব্যবসা করা হারাম জানতে পেরে তা ছেড়ে দিয়েছি। তবে ঐ ব্যবসার টাকা দিয়ে যে পরিধেয় জামা, কাপড়সহ নানা বস্তু ক্রয় করেছিলাম তাও কি পরিহার করতে হবে?

-রাকিব হাসান
হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : হারাম উপার্জন দিয়ে ক্রয়কৃত খাদ্য-খাবার ও পোশাক-পরিচ্ছদ শরীরে থাকলে কোনো ইবাদত কবুল হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ যদি ‘হাক্কুল ইবাদ তথা মানুষের পাওনা’ না হয় তাহলে আল্লাহর কাছে খালেছ অন্তরে তওবা করলে এবং পুনরায় সেই পাপে ফিরে না যাওয়ার অঙ্গীকার করলে উক্ত সম্পদ দিয়ে ক্রয়কৃত পোশাক-পরিচ্ছদ পরিহার করা জরুরী নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ করেছেন এবং সূদকে করেছেন হারাম। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তাহলে পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তারই থাকবে এবং তার বিষয়টি আল্লাহর যিম্মায় থাকবে। পক্ষান্তরে যারা পুনরায় সূদের কারবারে ফিরে যাবে, তারাই জাহান্নামে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)।

 



হালাল-হারাম

প্রশ্ন (৪৩) : মোবাইল বা অনলাইনে যে কোনো ধরনের গেমস খেলা যাবে কি?

-রবীউল ইসলাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : না, খেলা যাবে না। কেননা এতে যথেষ্ট সময় অপচয় হয়। আর যে খেলায় সময়ের অপচয় হয়, দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে না এবং আল্লাহর যিকির ও ছালাত হতে বিরত রাখে তা হারাম (আল-মায়িদাহ, ৫/৯১; ফাতাওয়া সওয়াল ওয়া জওয়াব, ১/১৩৬৬)। আর মোবাইলে গেম খেলাও এমনি, কাজেই তা অবৈধ। বুরায়দা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেন, যে ব্যক্তি দাবা (পাশা/শতরঞ্জ) খেলল, সে যেন তার হাতকে শূকরের রক্ত-গোশত দ্বারা রঞ্জিত করল (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬০; মিশকাত, হা/৪৫০০)। তাছাড়া তিনটি খেলা ছাড়া সকল প্রকারের খেলা যা লোকেরা খেলে থাকে তা অন্যায় ও বাতিল। ১. ধনুকের সাহায্যে তীর নিক্ষেপ করা। ২. ঘোড়ার প্রশিক্ষণ ও ৩. স্ত্রীর সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করা। এগুলো শরীআতে বৈধ ও স্বীকৃত (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৩৮; দারেমী, হা/২৪০৫ তিরমিযী, হা/১৮৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২৮১১; মিশকাত, হা/৩৮৭২)।


প্রশ্ন (৪৪) : শরীরের কোনো স্থানে কেটে গেলে সেই ক্ষত স্থানের রক্ত কি খাওয়া যাবে?

-শাকিব হোসাইন
খানসামা, দিনাজপুর।

উত্তর : না, শরীরের ক্ষতস্থান হতে নির্গত রক্ত পান করা যাবে না। কেননা তা পান করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশত এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে….’ (আল-মায়েদাহ, ৫/৩; আল-বাক্বারা, ২/১৭৩)।


প্রশ্ন (৪৫) : ছাদাক্বার মাল গ্রহণকারী কোনো অভাবী ব্যক্তি যদি তার বিবাহে উক্ত মাল থেকে খরচ করে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে তাহলে কি ধনী ব্যক্তিরা তা খেতে পারবে?

-আক্বীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : এমতাবস্থায় খেতে পারে। কেননা ছাদাক্বার মালের স্থান পরিবর্তন হলে হুকুমও পরিবর্তন হয়ে যায়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাড়িতে প্রবেশ করলেন, তখন চুলায় একটি পাতিলে গোশত রান্না হচ্ছিল। অতঃপর তার সামনে রুটি ও বাড়িতে থাকা তরকারি পরিবেশন করা হলো। তখন তিনি বললেন, গোশতের পাতিল দেখছি না যে? বলা হলো, এগুলো বারীরাকে ছাদাক্বা করা হয়েছে। আর আপনি তো ছাদাক্বা খান না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘এটা তার জন্য ছাদাক্বা, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া’ (ছহীহ  বুখারী, হা/৫০৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৪)। তাই ছাদাক্বার মাল নিয়ে বিবাহের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে সেই অনুষ্ঠানে ধনীদের খেতে কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন (৪৬) : আমি পেশায় একজন নার্স। মাঝেমধ্যে কোনো কোনো রোগী আমার প্রতি খুশি হয়ে ২০০/১০০ টাকা হাদিয়া দেন। আবার কখনো খাবারও খেতে দেন। এটা গ্রহণ করা বৈধ হবে কি?

-সালমা খাতুন
অভয়নগর, যশোর।

উত্তর : উক্ত পেশা যদি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তা হয় তাহলে কিছুই গ্রহণ করা যাবে না ও খাওয়া যাবে না। আবূ হুমায়দ আস-সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)আযদ গোত্রের ইবনুল লুতবিয়্যা নামক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার জন্য কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হলে যাকাত উসূল করে মদীনায় ফিরে এসে সে বলল, এ পরিমাণ সম্পদ তোমাদের আর এ পরিমাণ সম্পদ হাদিয়া হিসাবে আমাকে দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের উদ্দেশে হামদ ও ছানা পড়ে খুৎবা দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের কাউকে আমি আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্বে নিয়োগ দেই। আরম এসে সে বলে, এটা তোমাদের জন্য, আর এটা আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তো সে ব্যক্তি তার পিতা অথবা মাতার বাড়িতে বসে রইল না কেন? তখন সে দেখত কেউ তাকে তার বাড়িতেই তুহফা পৌঁছে দিয়ে যেত কিনা? (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৭৪; ছহীহ  মুসলিম, হা/১৮৩২; আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৬; মিশকাত, হা/১৭৭৯)।


প্রশ্ন (৪৭) : আমেরিকা ও কানাডার অনেক প্রবাসী ড্রাইভার তাদের গাড়ীর গ্যারান্টির মেয়াদ ঠিক রাখার জন্য কিছুদিন পরপর মাইলেজ কমিয়ে দেন। কেননা এ সকল দেশে পাঁচ বছরের মধ্যে যদি গাড়ীর মাইলেজ ৬০,০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে তাহলে উক্ত গ্যারান্টির মেয়াদ বাতিল হয়ে যায়। তাই গাড়ীর মাইলেজ ৮০,০০০ কিলোমিটার হয়ে থাকলে তা কমিয়ে দিয়ে ৪০,০০০ কিলোমিটার করে থাকেন। এভাবে যারা জীবিকা নির্বাহ করে তাদের উপার্জন কি বৈধ হবে?

-হোসাইন
কুইবেক, কানাডা।

উত্তর : না, উক্ত উপার্জন বৈধ হবে না। কেননা এভাবে গাড়ীর মাইলেজ কমিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এক প্রকার চুরি ও প্রতারণা, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا ‘আর যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪; মিশকাত, হা/৩৫২০)।

 



হালাল-হারামপোশাক

প্রশ্ন (৪৮) : পুরুষের জন্য লাল ও হলুদ রঙের কাপড়, টুপি ও পাগড়ি পরিধানের বিধান কী?   

-হাসিবুল ইসলাম
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর : পোশাকের বিষয়ে মূলনীতি হলো নারীর জন্য সকল রঙের পোশাক জায়েয। কিন্তু পুরুষের বিষয়ে কিছু কিছু রঙের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যথা- ১. লাল রং। ২. উসফুর রং মিশ্রিত কাপড়, যা কিছুটা হলুদ রঙের নিকটবর্তী। ৩. যাফরান রং মিশ্রিত। তন্মধ্যে লাল রঙের বিষয়ে প্রাধান্যপ্রাপ্ত হুকুম হলো, অমিশ্রিত নিছক লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম, কেননা তাতে নারী ও অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৬; আবূ দাঊদ হা/৩৫৭৪; নাসাঈ, হা/৫২৮৩)। একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে দুটি লাল রঙের কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি আসলো এবং সালাম দিল, কিন্তু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সালামের উত্তর দিলেন না (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৭৪, তিরমিযী, হা/২৭৩১)। তবে যদি অন্য রঙের সাথে লাল রং মিশ্রিত হয়, তাহলে তা পরিধান করা বৈধ হবে (ছহীহ বুখারী হা/৫৪০০; ছহীহ মুসলিম হা/৪৩০৮)।

উসফুর রং যেহেতু হলদেটে হয় সেহেতু হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করা থেকেও বিরত থাকা উচিত। যাফরান রং মিশ্রিত কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ ও হারাম। উল্লেখ্য যে, উল্লেখিত রংগুলো ব্যতীত সাদা, কালো, সবুজসহ সকল রঙের পোশাক পুরুষের জন্য বৈধ।

 



অপরাধ-দণ্ডবিধি

প্রশ্ন (৪৯) : উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার এক ছেলেকে মদ পানের অপরাধে ৫০ বেত্রাঘাত করেনএরপর ছেলেটি মারা গেলে বাকি ৩০ বেত্রাঘাত তার কবরে মারেনএ ঘটনার কোনো দলীল আছে কি?

-মোহাম্মদ সায়েম
গাইবান্ধা সদর।

উত্তর : উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার এক ছেলেকে মদ পানের অপরাধে বেত্রাঘাত করেছিলেন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ। তবে, ৫০টি বেত মারার কারণে মারা গেলে মৃত্যুর পর কবরে ৩০টি বেত্রাঘাত করেছিলেন একথা মিথ্যা (সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী, হা/১৭৯৫৩; জামেঊল আহাদীছ, হা/৩০২৪৮; কানযুল উম্মাল, হা/৩৬০১৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হা/১৭০৪৭)।

 



ইতিহাস-যুদ্ধ-জিহাদ

প্রশ্ন (৫০) : শহীদী মৃত্যুযন্ত্রণা না-কি শরীরে চিমটি কাটার চেয়েও কম কষ্টের’-কথাটি কি সঠিক?

-সাঈদ হোসেন
কলারোয়া,  সাতক্ষীরা।

উত্তর : হ্যাঁ, কথাটি সঠিক। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘শহীদ ব্যক্তি মৃত্যুর কষ্ট ততটুকু অনুভব করে, তোমাদের কাউকে একবার চিমটি কাটলে সে যতটুকু কষ্ট অনুভব করে’ (নাসাঈ, হা/৩১৬১; দারামী, হা/২৪৭৫; তিরমিযী, হা/১৬৬৮, ইমাম তিরমিযী হাদীছটিকে হাসান গারীব বলেছেন)।