সওয়াল-জওয়াব



কুরআন


প্রশ্ন (১) : মোবাইলের রিংটোন হিসাবে কুরআন মাজীদের আয়াতকে ব্যবহার করা যাবে কি?

-আব্দুন নূর
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।

উত্তর : না, যাবে না। কেননা এটি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে নাযিলকৃত অতীব সম্মানিত আল্লাহর কালাম, যার অসম্মান করা জঘন্যতম অপরাধ। আর এতে কুরআন মাজীদের অবমাননা হয়। কারণ এতে আয়াত ও শব্দের যে কোনো স্থানে থামিয়ে দেওয়া হতে পারে। পবিত্র-অপবিত্র যে কোনো স্থানে এবং আগ্রহী-অনাগ্রহী যে কোনো ব্যক্তির কাছে তেলাওয়াত হতে পারে, যা অনুচিত (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৩৭; মিশকাত, হা/২৫২) এবং কুরআনের জন্য অসম্মানজনক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন, যা ছিল সুরক্ষিত কিতাবে, পূত-পবিত্রগণ ব্যতীত যাতে কেউ স্পর্শ করে না, যা বিশ্বপ্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ’ (আল-ওয়াক্বিআ, ৫৬/৭৭-৮০)।


প্রশ্ন (২) : সূরা আন-নূর এর ২৬ নং আয়াত(الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ)–এর ব্যাখ্যা ব্যাখ্যা কী?

-ওমর ফারুক
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : আয়াতের অনুবাদ : ‘দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য, সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র। এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা’ (আন-নূর, ২৪/২৬)। আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : উক্ত আয়াতটি ইফকের ঘটনায় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) -এর প্রতি অপবাদের প্রেক্ষিতে অবর্তীণ হয়েছে। অপবাদ রটানোর ঘটনায় কিছু সরলপ্রাণ মুসলিমও জড়িত হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দরিদ্র আত্মীয় মিসতাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও ছিলেন। যাকে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আর্থিক সহযোগিতা করতেন। এ ঘটনার পর তিনি তাকে সাহায্য করা

বন্ধ করে দিলে এ আয়াত অবর্তীণ হয়। এই আয়াতে أُولَئِكَ দ্বারা চরিত্রবান নারী-পুরুষ তথা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও ইফকের ঘটনায় যাদের অপবাদ দেওয়া হয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে (তাফসীর ইবনু কাছীর, সূরা আন-নূর এর ২৬ নং আয়েতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।


প্রশ্ন (৩) : অমুসলিমরা কি কুরআন স্পর্শ করতে ও পড়তে পারবে?

-শাহাদত
 আত্রাই, নওগা।

উত্তর : না, অমুসলিমরা কুরআন স্পর্শ করতে ও পড়তে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় মুশরিকরা নাপাক, সুতরাং তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয় (আত-তওবা, ৯/২৮)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না‘ (আল-ওয়াক্বিআ, ৫৬/৭৯)। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফের কর্তৃক কুরআন অসম্মানের ভয়ে কুরআন নিয়ে কাফেরদের দেশে যেতে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুর দেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৯০, ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯৪৭)।  


ঈমান-আক্বীদা


প্রশ্ন () : কিয়ামতের দিন পাপপুণ্য পরিমাপের তুলাদণ্ড বা মীযান বলে কিছু থাকবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : হ্যাঁ, থাকবে। এর প্রমাণে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মীযান স্থাপন করব’ (আল-আম্বিয়া, ২১/৪৭; আল-ক্বারিআ, ১০১/৬-৮)। আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য  মীযানের পাল্লায় ভালো ব্যহারের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছু হবে না। আল্লাহ তাআলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন (তিরমিযী, হা/২০০২; সিলসিলা ছহীহা, হা/৮৭৬)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের (পাল্লায়) অত্যান্ত ভারী, রহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলো, سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ (আমি আল্লাহ তাআলার জন্য সপ্রশংসা পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি) (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬৮২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৪)।


প্রশ্ন () : যারা কুরআন মানে কিন্তু হাদীছ মানতে চায় না, তারা কি মুসলিম?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : ভারত উপমহাদেশে আত্মপ্রকাশকারী একটি ভ্রান্ত ফেরক্বার নাম ‘আহলে কুরআন’। এরা অতীতের ভ্রান্ত ফেরক্বা খারেজী ও রাফেযীদের নতুন রূপ। তাদের মতে, কুরআনই সকল সমস্যা সমাধানের পূর্ণাঙ্গ উৎস। হাদীছ মানার কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ এই বিশ্বাস চরম গোমরাহী ছাড়া কিছুই নয়। একথা স্বীকার করার অর্থ হলো- কুরআনকেই অস্বীকার করা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করো’ (আল-হাশর, ৫৯/৭)। এখানে আল্লাহ তাআলা রাসূলের বাণীকে গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন। কুরআন ও হাদীছ দুটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ অহী। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের থেকে কোনো কথা বলতেন না, যা বলতেন সবকিছু অহী থেকেই বলতেন (আন-নাজম, ৫৩/৩-৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো ফয়ছালা দিলে কোনো মুমিন নারী-পুরুষের জন্য সে ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করার অধিকার নেই’ (আল-আহযাব, ৩৩/৩৬)।  তাছাড়া আল্লাহ হাদীছ নাযিল করেছেন কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। তাহলে হাদীছকে ছেড়ে কুরআন বুঝা সম্ভব হয় কীভাবে? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে’ (আন-নাহল, ১৬/৪৪)। যারা এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের দাবিদার কুরআন তাদের বিপক্ষেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিধায় এমন আক্বীদায় বিশ্বাস করা নিশ্চিত কুফরী। তাই যারা এই বিশ্বাস লালন করে তারা স্পষ্টত কাফের।


প্রশ্ন () : রূহ মানব দেহের কোন স্থানে অবস্থান করে?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : মানব দেহে রূহ আছে একথা কুরআন হাদীছের অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। তবে দেহের মাঝে কোথায় রূহ অবস্থান করে, তার গঠন কেমন, তার প্রকৃতি কেমন ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তৎকালীন কাফেররা মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমর্মে জিজ্ঞেস করলে মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করে বলেন, ‘আর তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি তাদেরকে বলে দিন, রূহ হচ্ছে আমার রবের আদেশ মাত্র। আর তোমাদেরকে যে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তা অতিসামান্য (আল-ইসরা, ১৭/৮৫)। এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানব দেহে রূহ অবস্থান করে তবে তা কোথায় অবস্থান করে, দেখতে কেমন ইত্যাদি বিষয়গুলো অস্পষ্ট। আর এই বিষয়টি মানুষের জ্ঞানের শক্তির ঊর্ধ্বে। আরও প্রমাণ করে যে, রূহের বিষয়টি মানুষের আয়ত্বের বাইরে।


প্রশ্ন () : ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমানকথাটা বলা যাবে কি?

-রনজু
 সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘আল্লাহ সবকিছুর উপরে ক্ষমতাবান বা শক্তিমান’। এমর্মে কুরআন মাজীদের বহু আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, إِنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ‘নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান’ (আল-বাক্বারা, ২০, ১০৬, ১০৯, ১৪৮, ২৪৯ প্রভৃতি)। এর মধ্যে শিরকের কোনো দিক পাওয়া যায় না। বিধায় এ কথা বলাতে শারঈ কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন () : কেউ দাওয়াত দিলে তা কবুল করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। কিন্তু যদি সে দাওয়াত হয় চল্লিশা, জন্মদিন কিংবা বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাহলে কি তা কবুল করা জরুরী?

-নাজনীন পারভীন
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : বর্তমান সমাজে মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে চল্লিশা, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ইত্যাদির নামে যে সব অনুষ্ঠান করা হয় তার সবই জঘন্যতম বিদআত। তাই চল্লিশা, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনৈসলামিক কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এসব দাওয়াত গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে তাদের বিদআতী কাজে সহযোগিতা করা যা করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাক্বওয়া ও কল্যাণকর কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। তাছাড়া তার পরিণামও অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, আল্লাহ তার প্রতি লা‘নত করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৯৮; মিশকাত, হা/৪০৭০)।


প্রশ্ন () : তাবলীগ জামাআতের প্রচলিত কার্যক্রম ব্যতীত কোনো মসজিদে কয়েকজন দুইচার দিন অবস্থান করে সেখানকার মানুষের মাঝে দাওয়াতী বা তাবলীগের কাজ করা যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন
ময়মনসিংহ সদর।

উত্তর : হ্যাঁ, দ্বীন শেখা বা শেখানোর জন্য, দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য বা অন্য যেকোনো শারঈ কারণে মসজিদে অবস্থান করা যায়। উক্ববা ইবনু আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (একদিন) মসজিদ প্রাঙ্গণে বসেছিলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে আসলেন ও (আমাদের) বললেন, তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন সকালে ‘বুত্বহান’ অথবা ‘আক্বীক’ বাজারে গিয়ে দু’টি বড় কুঁজওয়ালা উটনী কোনো অপরাধ সংঘটন ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই নিয়ে আসতে পছন্দ করবে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের প্রত্যেকেই এ কাজ করতে পছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন, যদি তা-ই হয় তাহলে তোমাদের কেউ কোনো মসজিদে গিয়ে সকালে আল্লাহর কিতাবের দু’টি আয়াত (মানুষকে) শিক্ষা দেয় না বা (নিজে) শিক্ষাগ্রহণ করে না কেন? অথচ এ দু’টি আয়াত শিক্ষা দেওয়া তার জন্য দু’টি উটনী অথবা তিনটি আয়াত শিক্ষা দেওয়া তার জন্য তিনটি উটনী অথবা চারটি আয়াত শিক্ষা দেওয়া তার জন্য চারটি উটনীর চেয়েও উত্তম। সারকথা, কুরআনের যে কোনো সংখ্যক আয়াত, একই সংখ্যক উটনীর চেয়ে উত্তম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৩; ইবনু আবী শায়বা, হা/৩০০৭৪; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১৪১৮; ছহীহ আল জামে‘, হা/২৬৯৭; মিশকাত, হা/২১১০)। মসজিদে অবস্থান করত ৭০ জন গরীব মুহাজির ছাহাবী। সর্বদায় মসজিদে অবস্থান করত, ঘুমাত এবং কুরআন-হাদীছের জ্ঞান চর্চা করত (মিরকাত, ২/৫৯৬, ৩/৯৫৯, হা/১২৮৯)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমার বাড়িতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে না পেয়ে খোঁজ করলেন। অবশেষে তাঁকে মসজিদে শুয়ে থাকা অবস্থায় পেলেন। তিনি দেখলেন তার গায়ে মাটি লেগে আছে। তখন তিনি তার গায়ের মাটি মুছে দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন, হে মাটির পিতা! উঠো (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪০৯)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন অবিবাহিত ছিলেন তখন তিনি মসজিদে নববীতে ঘুমাতেন। তার কোনো পরিবার-পরিজন ছিল না (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪০; নাসাঈ, হা/৭৬২)। ছাহাবীদের মধ্যে যারা আহলে ছুফফা ছিলেন, তাদের কোনো ঘর-বাড়ি না থাকায় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মসজিদে অবস্থান করার অনুমিতি প্রদান করেছিলেন (ছহীহ বুখারী ‘মসজিদে পুরুষদের নিদ্রা যাওয়া’ পরিচ্ছেদ)।


পবিত্রতা



প্রশ্ন (১০) : কয়েক মাস থেকে ১৫/১৬ দিন পরপর ঋতুস্রাব হচ্ছে এবং তার মেয়াদ থাকছে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

-রুবিনা বিনতে রফীকুল
ডিমলা, নীলফামারী।

উত্তর : এমতাবস্থায় ঋতুর প্রারম্ভের সময়গুলো লক্ষণীয়। প্রথমদিকে যে ক’দিনে ঋতুস্রাব বন্ধ হতো, এখন সে কয়েকদিনই ঋতু হিসাবে গণ্য হবে। এই দিনগুলো পার হওয়ার পর পূর্বের ন্যায় ছালাত পড়তে হবে। কেননা ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ রক্তজনিত রোগের অভিযোগ করলে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ২৩-২৪ দিন পবিত্রতা হিসাবে গণ্য করতে বলে বাকি ৬/৭ দিন ঋতু হিসাবে গণ্য করতে বললেন এবং এ কথাও বললেন, ৬/৭ দিন পর গোসল করে ছালাত আদায় করবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন রক্তপ্রদর রোগগ্রস্তা (ইস্তিহাযা) মহিলা। আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতাবস্থায় আমি কি ছালাত পরিত্যাগ করব?’ আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘না, এ তো শিরা হতে নির্গত রক্ত; হায়েয নয়। তাই যখন তোমার হায়েয আসবে তখন ছালাত ছেড়ে দিয়ো। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর ছালাত আদায় করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৩)।


প্রশ্ন (১১) : আমি রঙের কাজ করার সময় দেহের বিভিন্ন স্থানে রং লেগে থাকে। রঙের এই প্রলেপ নিয়েই ওযূ করি। উক্ত ওযূ দ্বারা ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-রবিউল হাছান রিপন
মাসকাট, ওমান।

উত্তর : ওযূ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযূর অঙ্গসমূহে পানি পৌঁছানো জরুরী। সুতরাং রঙের প্রলেপ যদি এমন হয় যে, তার কারণে ওযূর কোনো একটি বা সামন্যতম স্থানে পানি পৌঁছায়নি, তাহলে ওযূ এবং ছালাত কোনোটিই হবে না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ত্বকে পানি পৌঁছাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আনাস ইবনু মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ওযূ করে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলো কিন্তু (ওযূতে) তার পায়ে নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, ‘ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে আবার ওযূ করে এসো (আবূ দাঊদ, হা/৩৩২)।


 ইবাদতছালাত



প্রশ্ন (১২) : শুধু জুব্বা পরিধান করে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আব্দুন নূর
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, যাবে। কেননা শুধু এক কাপড়েও ছালাত আদায় করা যায়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেন, এক কাপড়ে ছালাত হবে কি? তদুত্তরে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’খানা কাপড় রয়েছে? (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৫২; আবূ দাঊদ, হা/৬২৫; মুওয়াত্ত্বা ইবনু মালেক, হা/৪৬৫)। তবে বস্ত্রের সমস্যা না থাকলে ভালো কাপড় পরে সুন্দর বেশভূষা ধারণ করে ছালাত আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনী আদম! প্রত্যেক ছালাতের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ পরবে, আহার করবে, পান করবে; কিন্তু অপচয় করবে না’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৩১)।


প্রশ্ন (১৩) : জুমআর আযানের সময় সুন্নাত পড়া যাবে কি?

-আনিসুরা খাতুন
মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : আযান চলাকালীন সুন্নাত না পড়ে বরং আযানের জওয়াব দেওয়া ও আযান শেষের দু‘আ পড়া উত্তম। আযানের জওয়াব ও দু‘আ শেষে সুন্নাত পড়বে। কারণ এ ইবাদত চলন্ত অবস্থায় রয়েছে যার উত্তর দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছেন এবং তার অনেক ফযীলতও রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনে আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তার জওয়াবে বলো মুয়াযযিন যা বলে। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়ো। কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর নিকট ‘অসীলা’ চাও। আর তা হচ্ছে জান্নাতের একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে মাত্র একজন বান্দার জন্য উপযোগী। আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘অসীলা’ চাইবে তার জন্য আমার শাফাআত যরূরী হয়ে যাবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪; মিশকাত, হা/৬৫৭; ফাতাওয়া উছায়মীন, ১২/১৯৩)। অতঃপর আযানের দু‘আ পড়ার পর তাহিয়্যাতুল মসজিদ ছালাত আদায় করে বসবে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৪; মিশকাত, হা/৭০৪; ফাতাওয়া উছায়মীন, ১২/১৯৩)।


প্রশ্ন (১৪) : বসে খুৎবা দেওয়া কি শরীআতসম্মত?

-নিয়ামুল হাসান
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : জুমআর খুৎবা দাঁড়িয়েই দিতে হবে। জাবের ইবনু সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। মাঝে একবার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বসতেন, অতঃপর (দ্বিতীয় খুৎবা দিতে) দাঁড়াতেন (নাসাঈ, হা/১৪১৭)। তবে নির্ধারিত খত্বীবের পক্ষে দাঁড়িয়ে খুৎবা দেওয়া সম্ভব না হলে অন্য কেউ খুৎবা দিবেন।


প্রশ্ন (১৫) : হানাফী ইমাম ক্বিরাআতে ভুল করে ভুল ত্বরীকায় সাহু সিজদা দেয়। তখন আমার করণীয় কী? আমি কি তাদের সাথে ভুল কাজ করব না সালাম ফিরিয়ে ছালাত শেষ করব?

-রবিউল হাছান রিপন
মাসকাট, ওমান।

উত্তর : ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণের জন্য। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৪; মিশকাত, হা/৮৫৭)। সুতরাং, ইমামের পূর্বে কোনো কাজ করা বৈধ নয়। আবূ মূসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি এখন ভারী হয়ে গেছি। অতএব, আমি যখন রুকূ করি, তোমরাও তখন রুকূ করো এবং আমি যখন মাথা উঠাই, তোমরাও তখন মাথা উঠাও। আমি যখন সিজদা করি, তোমরাও তখন সিজদা করো। আমি যেন কোনো ব্যক্তিকে আমার আগে রুকূ ও সিজদায় যেতে না দেখি (ইবনু মাজাহ, হা/৯৫২)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫০)। উল্লেখিত হাদীছসমূহ থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, ইমামের পূর্বে কোনো কাজ করলে ইমামের অনুসরণ করা হয় না। সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে ইমামের সাথে সাহু সিজদা দিয়ে তার সাথেই সালাম ফিরিয়ে ছালাত শেষ করবে। উল্লেখ্য, ছালাতে ইমামের ত্রুটি হলে তা ইমামের উপর বর্তাবে মুক্তাদীর উপর নয় (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৪; মিশকাত, হা/১১৩৩)।


প্রশ্ন (১৬) : ফজরের জামাআতের এক রাকআত পেলে দ্বিতীয় রাকআতে উঠে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে কি?

-ইমন ফারুক
মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : না, রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাতের মধ্যে চারটি স্থানে রাফউল ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তা হলো, তাকবীরে তাহরীমা, রুকূতে যাওয়া, রুকূ হতে উঠা এবং দ্বিতীয় রাকআতের পর তৃতীয় রাকআতে উঠার সময়। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  বলেন, ‘রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ছালাত শুরু করতেন, তখন তাঁর দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। অনুরূপ করতেন রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে উঠার সময়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৫; ইবনু মাজাহ, হা/৮৭৬; মিশকাত, হা/৭৯৩)। অপর বর্নণায় আছে, ‘যখন তিনি দুই রাকআত সম্পন্ন করে দাঁড়াতেন, তখনও দুই হাত উঠাতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৯; আবূ দাঊদ, হা/৭৪১; মিশকাত, হা/৭৯৪)।


প্রশ্ন (১৭) : ফজরের ছালাতের সময় যদি কেউ ঘুম হতে জাগতে না পারে, তাহলে সূর্য উঠার সময় বা সূর্য উঠার পর সে ছালাত আদায় করতে পারবে কি?

-শহীদুযযামান
ঝিকরগাছা, যশোর।

উত্তর : উক্ত ছালাত আদায় করার জন্য সূর্য উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না, বরং ঘুম ভাঙা মাত্রই ছালাত আদায় করতে হবে। যখনই ঘুম ভাঙবে বা স্মরণ হবে তখনই ক্বাযা ছালাত আদায় করে নিবে। ফরয ছালাত আদায়ের জন্য যেমন নিষিদ্ধ কোনো সময় নেই তেমনি অপেক্ষা করারও কোনো সুযোগ নেই। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো ছালাত ভুলে গেলে অথবা ছালাত না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই যেন আদায় করে নেয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮১; মিশকাত, হা/৬০৪)।


প্রশ্ন (১৮) : কোনো ঘরে যদি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ইত্যাদির মল-মূত্র থাকে এবং তা দিনের বেলায় পরিষ্কার করা হলো কিন্তু ফজর ছালাতের সময় পরিষ্কার করা সম্ভব না হয়, তাহলে ঐ ঘরে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-মিম
নরসিংদী।

উত্তর : এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে। কেননা গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি হালাল প্রাণী। আর যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল, তার মল-মূত্র পবিত্র। যেমন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ছাগলের আবাসস্থলে ছালাত আদায়ের বৈধতা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সেখানে ছালাত আদায় করো। কেননা সেটা বরকতময় প্রাণী বা বরকতময় স্থান’ (আবূ দাঊদ, হা/১৮৪, হাদীছ ছহীহ)। তাছাড়া খোদ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও মসজিদ নির্মাণের পূর্বে ছাগলের আবাসস্থলে ছালাত আদায় করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৫২৪)। আর এ কথা সবার জানা যে, ছাগলের আবাসস্থলে সাধারণত মল-মূত্র থাকেই তবে সম্ভবপর পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে।


প্রশ্ন (১৯) : ফরয ছালাতের ইক্বামত শুনে যে সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া হয় সেটা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

-শহিদুল ইসলাম
পিরুজালী, গাজীপুর।

উত্তর : উক্ত ছালাত পুনরায় পড়তে হবে। কেননা ছেড়ে দেওয়া ছালাত পূর্ণ হিসাবে গণ্য হয় না, বরং তা ক্বাযা হয়ে যায়। আর সুন্নাতের ক্বাযা আদায়েরও বিধান রয়েছে (নাসাঈ, হা/৬৬১; মিশকাত, হা/৬৮৭, সনদ ছহীহ)।


প্রশ্ন (২০) : জামাআতে ছালাত আদায়কালে দু এক রাকআত ছুটে গেলে কি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে সবগুলো দু পড়তে হবে?

-শাকিল হুসাইন
চরগগনপুর, জামালপুর।

উত্তর : জামাআতে ছালাত আদায়কালে দুই এক রাকআত ছুটে গেলে ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে সবগুলো দুআই পড়তে হবে। আলী ও মুআয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কোনো লোক যখন জামাআতের ছালাতে শরীক হওয়ার জন্য আসবে তখন ইমাম যে অবস্থায় থাকবে ও যে কাজ করবে সেও সে কাজ করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৫২২; তিরমিযী, হা/৫৯১; ছহীহ আল-জামে‘, হা/২৬১; মিশকাত, হা/১১৪২)।


প্রশ্ন (২১) : আযান হওয়ার আগে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-নাজনীন পারভীন
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : যদি ছালাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তাহলে আযান না হলেও ছালাত আদায় করা যাবে। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, ‘সে সময় তুমি কী করবে যখন তোমাদের ওপর শাসকবৃন্দ এমন হবে, যারা ছালাতের প্রতি অমনোযোগী হবে অথবা তা সঠিক সময় হতে পিছিয়ে দিবে?’ আমি বললাম, আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, ‘এ সময়ে তুমি তোমার ছালাতকে সঠিক সময়ে আদায় করে নিবে। অতঃপর তাদের সাথে যা পাও, তা আবার আদায় করবে। এ ছালাত তোমার জন্য নফল হিসাবে গণ্য হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৩১; ইবনু মাজাহ, হা/১২৫৬; তিরমিযী, হা/১৭৬; মিশকাত, হা/৬০০)।


প্রশ্ন (২২) : জামাআতে শরীক হয়ে ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়েছি হঠাৎ মনে হলো, আমাকে আরও এক রাকআত ছালাত আদায় করতে হবে প্রশ্ন হলো, এই এক রাকআত আদায় করার সময় শুরুতে কি পুনরায় ছানা পড়তে হবে?

-আব্দুল্লাহ
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : না, ছানা পড়তে হবে না। বরং বাকি ছালাত আদায় করে সাহু সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবে। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। হঠাৎ তিনি লোকদের (আগমনের) আওয়াজ শুনতে পেলেন। ছালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কী হয়েছিল? তাঁরা বললেন, আমরা ছালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘এরূপ করবে না। যখন ছালাতে আসবে ধীরস্থিরভাবে আসবে (ইমামের সাথে) যতটুকু পাবে আদায় করবে, আর যতটুকু ছুটে যায় তা (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) পূর্ণ করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৭১)।

উল্লেখ্য যে, মাসবূক ইমামের সাথে যে রাকআত পায় তা তার প্রথম রাকআত হিসাবে গণ্য (দারাকুতনী, হা/১৫১৫)। আর ছানা প্রথম রাকআতে পড়তে হয়। যেহেতু প্রথম রাকআত হয়ে গেছে সেহেতু মাসবূক বাকি ছালাত আদায় করার জন্য আর ছানা পড়বে না।


প্রশ্ন (২৩) : জুমআর দিন ইমাম সাহেব প্রথম খুৎবা দেওয়ার পর আরেকজন দ্বিতীয় খুৎবা দেন। এভাবে খুৎবা দেওয়া কি জায়েয?

-জুয়েল ইসলাম
 ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : জুমআর দুই খুৎবা একজন খত্বীব দিবেন, এটাই সুন্নাত। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারাজীবন দুই খুৎবা একাই দিয়েছেন। তবে বিশেষ কোনো কারণে বা ইমামের কোনো দুর্ঘনা ঘটলে দুই জন খত্বীব খুৎবা দিতে পারেন (আশ শারহুল মুমতে‘, ৫/২৭; মারকাযুল ফাতাওয়া, ফতওয়া নং ১৫৬৭৪৫; ইসলাম সওয়াল ওয়া জওয়াব, ফতওয়া নং ১৩৬৬৯২)।


প্রশ্ন (২৪) : আমি একজন ব্যবসায়ী। সমস্যার কারণে জামাআতে প্রায়ই অংশগ্রহণ করতে পারি না; একাকী ছালাত পড়তে হয়। এতে কি আমার গুনাহ হবে?

-নুরুল হুদা
সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : শরীআতের বিধান হলো, সব কিছু ত্যাগ করে জামাআতে ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, আমার মন চায় আযান হওয়ার পরও যারা জামাআতে আসে না, ইমামতির দায়িত্ব কাউকে দিয়ে আমি নিজে গিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে আসি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৪, ২৪২০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫১; মিশকাত, হা/১০৫৩)। তবে গ্রহণযোগ্য শারঈ কারণে জামাআতে অংশগ্রহণ করতে না পারলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেই একাকী বা জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা যেতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ তার জবাব দিলো না ওযর ব্যতীত তার ছালাত কবুল হবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/৭৯৩; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৪২৬; দারাকুত্বনী, হা/১৫৫৫; মিশকাত, হা/১০৭৭)।


 মৃত্যু-কবর-জানাযা



প্রশ্ন (২৫) : মুনাফিক্ব সরদার আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে রাসূল a কি তার জানাযা দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন এবং মহান আল্লাহ তা করতে নিষেধ করেছিলেন?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযা দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন এবং তার জানাযার ছালাতও আদায় করেন। তবে পরবর্তীতে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, মুনাফিক্ব সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র আব্দুল্লাহ (যিনি ছাহাবী ছিলেন) রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি সেটা দিয়ে আমার পিতার কাফন দিতে ইচ্ছা করেছি। আর আপনি তার জানাযা পড়াবেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের জামাটি তাকে দিলেন এবং বললেন, আমাকে খবর দিয়ো, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাকে খবর দিলেন। যখন নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিক্বের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন, আমাকে তো দুটির মধ্যে কোনো একটি করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আপনি তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা না করুন (একই কথা) আপনি যদি ৭০ বারও তাদের জন্য ক্ষমা চান আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না’ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাহলে আমি ৭০ বারের চেয়ে বেশি ক্ষমা চাইব (আত-তওবা, ৯/৮০)। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন। অতঃপর আয়াত নাযিল হলো, ‘তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আপনি কখনোই তাদের জানাযা আদায় করবেন না’ (আত-তওবা, ৯/৮৪)।


প্রশ্ন (২৬) :  কোনো হিজড়া মারা গেলে তাকে কয়টি কাপড়ে কাফন দিতে হবে? তাদের জানাযা ছালাত পড়ার নিয়ম কী?

-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : হিজড়ারা পুরুষের অন্তর্ভুক্ত। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হিজড়ারা পুরুষের অন্তর্ভুক্ত (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৬)। সুতরাং তারা মুসলিম হলে পুরুষের নিয়মেই তাদের জানাযার ছালাত পড়াতে হবে। ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, মানুষ পুরুষ হোক চাই নারী হোক সকলকেই তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন পরাতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তিনটি সাদা সূতি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে জামা ও পাগড়ি ছিল না (ছহীহ বুখারী, হা/১২৬৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৪১; মিশকাত, হা/১৬৩৫)।  সুতরাং হিজড়াদের কাফনও তিনটি কাপড় দিয়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, নারীদের পাঁচ কাপড়ে কাফন দেওয়ার হাদীছটি ‘যঈফ’ (যঈফ আবূ দাঊদ, হা/৩১৫৭)।


প্রশ্ন (২৭) : কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে তার উত্তরসূরীদের শরীআত বিরোধী কোনো অছিয়ত করে গেলে তা পালন করতে পারে কি?  

-আনোয়ার হোসেন
কাশেমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : শরীআত বিরোধী কিংবা যেকোনো পাপ কাজের অছিয়ত, মানত কিংবা কসম পূরণ করা যাবে না (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪১; মিশকাত, হা/৩৪২৮)। আবূ আব্দুর রহমান আস-সুলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টজীবের আনুগত্য চলবে না’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৯৫; মিশকাত, হা/৩৬৯৬)।


ইবাদতযিকির ও দু‘আ



প্রশ্ন (২৮) : মৃত বা জীবিত উভয় অবস্থায় মাতা-পিতার জন্য রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী ছগীরাদু‘আ পড়া যাবে কি? নাকি মৃত মাতা-পিতার জন্য পৃথক কোনো দু‘আ আছে?

-বাকী বিল্লাহ খান পলাশ
হাবেলী গোপালপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী ছগীরা’ দু‘আটি পিতা-মাতার জন্য সর্বাবস্থায় পড়া যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা উক্ত দু‘আ পিতা-মাতার জন্যই অবতীর্ণ করেছেন, চাই তারা মৃত হন বা জীবিত হন। পিতা-মাতা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তারা অপারগতায় পরমুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন। সে কারণ সন্তানকে তাদের সেবা করতে হবে এবং তাদের জন্য উক্ত দু‘আটি পড়তে হবে (বানী ইসরাঈল, ১৭/২৪)। তার মানে এই নয় যে, মৃত্যুর পরে তাদের জন্য আর এ দু‘আটি পড়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যে একটি হলো, ঐ নেক সন্তান যে তার মৃত পিতা-মাতার জন্য দু‘আ করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩১; মিশকাত, হা/২০৩)। উক্ত দু‘আর পাশাপাশি তাদের জন্য নিচের দু‘আটিও পড়া যায়। যেমন, رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ  ‘রব্বানাগফিরলী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া ওয়া লিলমুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব’ (ইবরাহীম, ১৪/৪১)। এছাড়া মৃত পিতা-মাতার জন্য জানাযায় পঠিত ‘আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ার হামহু..’ এবং ‘আল্লাহুম্মাগ ফির লি হাইয়িনা …’ দু‘আগুলোও পড়া যাবে। উক্ত দু‘আগুলো ছালাতের মধ্যে তাশাহহুদ ও দরূদ পড়ার পর সালামের পূর্বে পাঠ করা যাবে। আবার ছালাতের বাইরে অন্য সময়েও একাকী হাত তুলে উক্ত দু‘আগুলোসহ নিজ ভাষাতেও পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা চেয়ে দু‘আ করা যাবে। উল্লেখ্য, দু‘আ শেষে হাত দ্বারা মুখ মাসাহ করার হাদীছটি যঈফ (আবূ দাঊদ, হা/১৪৯২; মিশকাত, হা/২২৫৫)। তাই মুখে হাত না মুছে ছেড়ে দিবে।


প্রশ্ন (২৯) : তিরমিযীর ২৮৯৮ নং হাদীছে বলা হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে তার ৫০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে, তবে ঋণ ব্যতীত’-এ হাদীছটি কি ছহীহ?

-নিঝুম তাবাসসুম
রাজশাহী।

উত্তর : সূরা ইখলাছ পড়ার উল্লেখিত ফযীলত সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাছাড়া সূরা ইখলাছ ৫০, ১০০, কিংবা ২০০ বার পাঠ করার ফযীলত সম্পর্কে যে সকল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলোই যঈফ’ (তিরমিযী, হা/২৮৯৮; সিলসিলা যঈফা, হা/৩০০; মিশকাত, হা/২১৫৮-৫৯)। তবে সূরা ইখলাছ পাঠের অনন্য ফযীলত রয়েছে। যেমন- রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘সূরা ইখলাছ একবার পড়লে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮১১; ছহীহ বুখারী, হা/৫০১৩; মিশকাত, হা/২১২৭)। এ ছাড়া যে ব্যক্তি ১০ বার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন’ (মুসনাদে আহমাদ, সিলসিলা ছহীহা, হা/৫৮৯; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৭২)। যে ব্যক্তি সূরা ইখলাছকে পছন্দ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’ (তিরমিযী, হা/১৯০১; মিশকাত, হা/২১৩০)। সূরা ইখলাছের তাৎপর্য হলো- তাওহীদকে সঠিকভাবে বুঝা ও সে অনুযায়ী আমল করা।


প্রশ্ন (৩০) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৈনিক ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। আমরা যদি তার চেয়ে বেশি পাঠ করি তাহলে কি তা বিদআত হবে?

-নাজনীন আকতার
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : না, বিদআত হবে না। দিনে ১০০ বার ক্ষমা চাওয়া মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দ্বারা উম্মাহকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করাই হচ্ছে মূলত হাদীছ দ্বারা উদ্দেশ্য ১০০ বারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য নয়। যেমন অপর এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালোবাসে যে, সে তার আমলনামা দেখে আনন্দিত হবে, যে যেন বেশি বেশি ইস্তিগফার করে’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/২২৯৯; আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৮৩৯)। আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার আমলনামায় অধিক পরিমাণে ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ যোগ করতে পেরেছে, তার জন্য সুসংবাদ, আনন্দ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৮১৮; মিশকাত, হা/২৩৫৬)।  উল্লিখিত হাদীছ দুটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বেশি বেশি ইস্তিগফার করতে হবে এবং ইস্তিগফারকে কোনো সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা যাবে না। তাই আমাদের উচিত হবে বেশি বেশি আল্লাহর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া।


ইবাদতযাকাত-ছাদাক্বা


প্রশ্ন (৩১) : এমন একজন বিধবা মহিলা যে পর্দা করে না, ছালাত আদায় করে না, তার কোনো সন্তান নেই, এবং সে লোকের বাড়িতে কাজ করে খায়। তার একটি অঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে, এমন মহিলাকে দান করা যাবে কি?

-নাজনীন পারভীন
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য ও ঈমানের উপর শক্তিশালী করার নিয়্যতে এমন অসহায় ব্যক্তিকে দান করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ছাদাক্বা হলো, ফক্বীর, মিসকীন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তি ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (ব্যয়ের জন্য) আর মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী (আত-তওবা, ৯/৬০)।

তাছাড়া কোনো ব্যক্তির শরীর শক্তিশালী করার চেয়ে তার ঈমানকে শক্তিশালী করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, প্রশ্ন নং ৩৮৩)। তবে দানের সাথে সাথে তাকে ছালাত আদায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং পর্দা করতে আদেশ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সৎকর্ম ও আল্লাহভীরুতার কাজে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না’ (আল-মায়েদা, ৬/২)।


পারিবারিক বিধানবিবাহ-তালাক


প্রশ্ন (৩২) : অমুসলিম মেয়েকে বিবাহ করলে তার অভিভাবকের অনুমতি লাগবে কি?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : অমুসলিম থাকাবস্থায় কোনো মেয়েকে কোনো মুসলিম ছেলে বিবাহ করতে পারবে না (আল-বাক্বারা, ২/২২১)। তবে ইসলাম গ্রহণের পর বিবাহ করলে অমুসলিম পিতা মুসলিম মেয়ের অলী বা অভিভাবক হতে পারে না (আল-মুগনী, ৯/৩৭৭)। দ্বীন ভিন্ন হলে অভিভাবকত্ব বাতিল হয়ে যায়। তাই ইসলাম গ্রহণকারী কোনো মেয়েকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে তার পিতার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মুসলিম শাসক কিংবা গভর্নর বা সামাজিক কোনো দায়িত্বশীল হবেন তার অভিভাবক। মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যার কোনো অভিভাবক নেই, তার অভিভাবক হলেন দেশের শাসক’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; তিরমিযী, হা/১১০২; মিশকাত, হা/৩১৩১)।


প্রশ্ন (৩৩) : একজন বিবাহিত নারী তার দেবরের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সাথে সাথে সে তার স্বামীকে তালাক দিয়ে দেবরকে বিয়ে করে। উক্ত বিবাহ কি জায়েয হবে? না হলে তাদের যে সন্তান জন্ম হয়েছে তার বিধান কী?

-শফীকুল ইসলাম

উত্তর : নারী-পুরুষের পদস্খলনের সবচেয়ে পিচ্ছিল পথ হলো দেবর-ভাবি। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেবরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৭২)। তাই দেবর থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক বিবাহিত নারীর জন্য অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত, বিবাহিত নারী-পুরুষ যেনায় লিপ্ত হলে ইট-পাথর মেরে তাদের দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া আর অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য এলাকা থেকে বিতাড়িত করে দেওয়াই হলো শরীআতের বিধান। তৃতীয়ত, স্ত্রীর তালাক দেওয়ার অধিকার নেই। তালাক দেওয়ার অধিকার একমাত্র স্বামীর (আত-তালাক, ৬৫/১)। বিধায় তার পক্ষ থেকে তালাক দেওয়া হলে তা তালাক বলে গণ্য হবে না। এই অবস্থায় তার দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হবে (আন-নিসা, ৪/২৪)। চতুর্থত, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, তালাক হয়েছে তাহলে তিন মাসিক ইদ্দত পালন করা ব্যতীত অন্য কোথাও বিবাহ বসতে পারবে না। যদি বিবাহ হয়ে যায় তাহলে সেই বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সাথে সাথে তাদের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। পঞ্চমত, তাদের ঘরে যে সন্তান এসেছে সেটা অবৈধ সন্তান হিসাবে বিবেচিত হবে। সেই সন্তান মায়ের মীরাছ পাবে; পিতার মীরাছের হক্বদার হবে না (তিরমিযী, হা/২১১৩; মিশকাত, হা/৩০৫৪)।


প্রশ্ন (৩৪) : আপন চাচাত ভাইয়ের মেয়ের সাথে বিবাহ শরীআতসম্মত হবে কি?

-আব্দুল্লাহ
সারিয়াকান্দি, বগুড়া।

উত্তর : আপন চাচাত ভাইয়ের মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয। কুরআন মাজীদে বর্ণিত হারাম বা বিবাহ নিষিদ্ধ মহিলাদের মধ্যে উক্ত মহিলা অন্তর্ভুক্ত নয় (আন-নিসা, ৪/২৩)। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় কন্যা ফাতেমাকে তার চাচাত ভাই আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)–এর সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন।


প্রশ্ন (৩৫) : জনৈক ব্যক্তি বিয়ের পর যৌতুক হিসাবে কিছু টাকা নিয়েছিল। কিন্তু পরে বুঝতে পারে যে এটা তার অন্যায় হয়েছে। সে এখন যৌতুকের টাকা ফেরত দিতে চাই, কিন্তু তার বাবা-মা বলে টাকা পরে ফেরত দিতে, এমতাবস্থায় করণীয় কী? সে কি বাবা-মার কথা অমান্য করে টাকা ফেরত দিবে না-কি বাবা-মার কথা শুনে আরো কিছু দিন পর টাকা ফেরত দিবে?

-সবুজ
মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : বর্তমান মুসলিম সমাজে স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক গ্রহণের রীতি মূলত হিন্দুয়ানী রীতির অনুকরণ মাত্র। কেননা হিন্দু উত্তরাধিকার নীতিতে কন্যা সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির অংশ পায় না। তাই বিয়ের সময় মেয়েকে সাধ্যমতো সবকিছু দিয়ে দেয়, যা যৌতুক নামে পরিচিত। পক্ষান্তরে ইসলামী বিধানে কন্যা সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। তাই এখানে বরং স্ত্রীকেই মোহর দেওয়া স্বামীর উপর ফরয। এটা স্রেফ স্ত্রীর হক্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে নির্লোভ চিত্তে মোহর প্রদান করো। তবে যদি তারা সেখান থেকে স্বেচ্ছায় তোমাদের কিছু প্রদান করে, তাহলে তা সন্তষ্টচিত্তে গ্রহণ করো (আন-নিসা, ৪/৪)। এক্ষণে স্ত্রীকে মোহর না দিয়ে উল্টা স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক আদায় করা আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শামিল। যার পরিণাম জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই নয়। যদি কেউ এরূপ করে, তবে তাকে যৌতুক পুরোপুরি ফেরত দিয়ে অনুতপ্ত হৃদয়ে স্ত্রীর নিকট ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর নিকট খালেছ মনে তওবা না করা পর্যন্ত তার গুনাহ মাফ হবে না। সুতরাং এমন জঘন্য পাপ থেকে মুক্তি লাভের জন্য বাবা-মার কথায় তা ফেরত দিতে বিলম্ব করা যাবে না। বরং বিষয়টি তাদেরকে বুঝানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। এরপরও যদি তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তাদের আদেশ অমান্য করায় শারঈ কোনো বাধা নেই। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য নেই’ (শারহুস সুন্নাহ, হা/২৪৫৫; মিশকাত, হা/৩৬৯৬)।


প্রশ্ন (৩৬) :  ছেলেদের ক্ষেত্রে বাবার আপন ফুফু কি মাহরাম? আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে বাবার আপন চাচা কি মাহরাম?

-মাহফুজুর রহমান
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ছেলেদের ক্ষেত্রে বাবার আপন ফুফু মাহরাম। কেননা বংশীয় সম্পর্কের কারণে আল্লাহ তাআলা যে সাত শ্রেণির নারীদের মাহরামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, নিজ ফুফু তাদের অন্তর্ভুক্ত। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের বোনদের, তোমাদের ফুফুগণ, তোমাদের খালাদের, এবং তোমাদের বোনদের’ (আন-নিসা, ৪/২৩)। এ আয়াতে ফুফুগণ বলতে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন, পিতা, দাদা ও নানার বোন। সুতরাং পিতার নিজ ফুফু অর্থাৎ সম্পর্কে দাদি মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।


প্রশ্ন (৩৭) : স্বামী যদি স্ত্রীকে ছেড়ে ছয় মাস অন্য কোথাও অবস্থান করে তাহলে তাদের বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। এ কথা কি ঠিক?

-নাঈম ইসলাম
 চৌমুহনি, বগুড়া।

উত্তর : না, এ কথা ঠিক নয়। এটি একটি ভিত্তিহীন কথা। রবং উভয়ের সম্মতিতে স্বামী তার স্ত্রীকে ছেড়ে দীর্ঘদিন থাকতে পারে। তবে  উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) -এর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে ছেড়ে থাকার ব্যাপারে এরকম একটি বিবরণ পাওয়া যায় যে, একবার তিনি তাঁর মেয়ে হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন নারী তার স্বামী ছাড়া কতদিন থাকতে পারে? তিনি উত্তর দিয়ে ছিলেন ছয় মাস বা চার মাস। তারপর থেকে তিনি কোনো সৈনিককে ছয় মাসের বেশি বাহিরে থাকতে দিতেন না (মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বী, ১৪/২৪৯)। এ থেকে বুঝা যায় যে, বিশেষ প্রয়োজনে ছয় মাস স্ত্রী ছাড়া থাকা যায়। এর চেয়ে বেশি থাকলে স্ত্রীর সম্মতির প্রয়োজন আছে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমাদের উপর তোমাদের নফসের হক্ব আছে, তোমাদের স্ত্রীর হক্ব আছে, তোমরা সবার হক্ব আদায় করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১৩৯)। তাই একান্ত অসুবিধায় না পড়লে স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করার যে দায়িত্ব প্রত্যেক স্বামীর রয়েছে তা পালনার্থে সকলকে নিয়ে একত্রে বসবাস করাই উত্তম।


প্রশ্ন (৩৮) : জনৈক ব্যক্তি বিবাহিতা এক নারীর সাথে যেনা করেছে। সে কি তার (ঐ নারীর) মেয়ের সাথে বিবাহ করতে পারে?

-আব্দুর রহীম
 মিরপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : হ্যাঁ, মেয়েটিকে বিবাহ করতে পারে। কেননা মেয়েটি তাঁর জন্য মাহরাম বা বিবাহ হারাম এমন মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা যে সকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম তাদের বর্ণনা শেষান্তে মহান আল্লাহ বলেন, ‘উল্লেখিত নারীগণ ব্যতীত বাকী সকল নারীকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে’ (আন-নিসা, ৪/২৩)। সুতরাং এমন মেয়েকে বিবাহ করাতে শারঈ কোনো বাধা নেই। এ মর্মে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যে কোনো মহিলার সাথে হারাম পন্থায় সহবাসে লিপ্ত হয়, অতঃপর ওই নারীর মেয়েকে বিবাহ করে অথবা কোনো মেয়ের সাথে যেনায় লিপ্ত হয় অতঃপর তার মাকে বিবাহ করে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘কোনো হারাম কাজ অন্য কোনো হালাল কাজকে হারাম করে না’ (আল-উম্ম লিশ শাফেঈ, ৬/৩৯৮)।


হালাল-হারাম



প্রশ্ন (৩৯) : কোনো ব্যক্তি লোন নিয়ে জমি কিনে সেই জমিতে বাড়ি করলে তার কোনো ইবাদত কবুল হবে কি?

-নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক

উত্তর : না, কবুল হবে না। কেননা সূদের ভিত্তিতে লোন নেওয়া এবং তা দিয়ে বাড়ি তৈরি করা উভয়ই হারাম। মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন ও সূদকে হারাম করেছেন (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূদ গ্রহীতা, দাতা, তার লেখক ও সাক্ষ্যদাতার প্রতি লা‘নত করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; মিশকাত, হা/২৮০৭)। আর হারাম অর্থের সাথে জড়িত থাকলে আল্লাহ তার ইবাদত কবুল করেন না। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَايَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّبًا ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র বস্তু ব্যতীত গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৯৩; তিরমিযী, হা/২৯৮৯; মিশকাত, হা/২৭৬০)।


প্রশ্ন (৪০) : ইসলামে কুকুর পালন করা কি জায়েয?

-হাসানুজ্জামান
নওগাঁ।

উত্তর : তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম। উক্ত তিনটি ক্ষেত্র হলো, ১. গবাদি পশু পাহারা দেওয়ার জন্য, ২. ক্ষেত-খামার দেখাশুনার জন্য ৩. এবং শিকারের জন্য। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গৃহপালিত পশুর রক্ষক কুকুর অথবা শিকারী কুকুর অথবা কৃষি কাজের কুকুর ব্যতীত অন্য কোনো কুকুর পালন করবে তার আমল থেকে প্রতিদিন এক ক্বীরাত নেকী কমে যায়’। অপর বর্ণনায় আছে, ‘দুই ক্বীরাত নেকী কমে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৫; নাসাঈ, হা/৪২৯১)।


প্রশ্ন (৪১) : মেয়েরা কি হিজাব পরে নার্সিং-এ চাকরি করতে পারবে?

-সিয়াম
কাপাসিয়া, গাজীপুর।

উত্তর : কোনো পেশায় যদি গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে মেলামেশা না হয়, তাহলে মেয়েরা সে কাজ করাতে শরীআতে কোনো বাধা নেই। নার্সিং পেশা নারীদের সেবা প্রদানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পেশা। সুতরাং এ পেশায় যদি পরপুরুষের সাথে মেলামেশা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে পূর্ণ পর্দা মেনে তা করা যেতে পারে। কিন্তু যদি তাতে পরপুরুষের সাথে মেলামেশা হয় এবং পর্দার ব্যাঘাত ঘটে তাহলে কোনো মুসলিম নারীর জন্য সে পেশায় যাওয়া বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫৩)। তবে জরুরী কারণে কিংবা একান্ত বাধ্যগত অবস্থায় মেয়েরাও পুরুষদেরকে নার্সিং সেবা দিতে পারে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)বলেন, উহুদ যুদ্ধে আহত ছাহাবীদের সেবা করার জন্য আয়েশা বিনতে আবি বকর এবং উম্মু সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মশক ভর্তি পানি পিঠে করে বয়ে আনতেন এবং তাদের মুখে ঢেলে দিতেন আবার ফিরে যেতেন এবং মশক ভর্তি পানি এনে তাদের মুখে ঢেলে দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৮৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮১১)। তবে বর্তমানে নার্সিং পেশার যে অবস্থা তাতে তা বৈধ হবার কোনো সুযোগ নেই।


প্রশ্ন (৪২) : এ দেশের ৯৯.৯৯% আইন কুরআন-হাদীছের বিপরীত। এমতাবস্থায় আইন বিভাগে চাকরি করা যাবে কি?

-শুয়াইব
মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : এ চাকরি হতে বিরত থাকতে হবে। কেননা এতে পাপ কাজে সহযোগিতা করা লাগে এবং মানব রচিত আইন মেনে নেওয়া লাগে। অথচ তা করতে মহান আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা তাক্বওয়া ও কল্যাণকর কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)।


প্রশ্ন (৪৩) : বোর্ড পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে বিভিন্ন সংস্থা ব্যাংক এককালীন কিছু শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। এ টাকা গ্রহণ করা যাবে কি?

-আব্দুর রহমান
তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : কোনো সংস্থা বা ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করার বিষয়টি তাদের অর্থনৈতিক সোর্স এর উপর পরিপূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সেই ব্যাংক বা সংস্থাটির ইনকাম সোর্স যদি অবৈধ তথা সূদী লেনদেন, অবৈধ ব্যবসা বা কারবারী ইত্যাদি হয়ে থাকে, তাহলে সে ব্যাংক বা সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করা যাবে না। যেমন, স্ব-ঘোষিত সূদী ব্যাংক। কেননা ইহা অন্যায়ের কাজে সহযোগিতা। অন্যায়ের কাজে সহযোগিতা করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সৎ ও আল্লাহভীতির কাজে একে অপরকে তোমরা সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। তবে কোনো বৈধ ব্যবসায়ী সংস্থা বা ব্যাংক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য এমন কোনো শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করলে তা নিঃসন্দেহে গ্রহণ করা যাবে এবং তা প্রশংসনীয়। বরং এমতাবস্থায় পুরস্কার দিয়েই শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩০২)।


ব্যবসা-বাণিজ্য



প্রশ্ন (৪৪) : দ্বিগুণ লাভে বা তার বেশি মূল্যে কোনো পণ্য বিক্রয় করা যাবে কি? শারঈ দৃষ্টিতে লাভের কোনো নির্ধারিত পরিমাণ আছে কি?

-ফারিহা খাতুন
সিংড়া, নাটোর।

উত্তর : লাভের কোনো নির্ধারিত সীমা নেই। চলতি বাজার দর হচ্ছে সীমা, যা চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। কোনো পণ্যের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি নিলে যুলুম করা হবে, যা হারাম। অনেক সময় ক্রয়মূল্যের চেয়ে বিক্রয়মূল্য দ্বিগুণও হতে পারে। একদা উরওয়া ইবনু আবিল জা‘দ আল-বারেক্বী নামক জনৈক ছাহাবীকে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি দীনার প্রদান করেন একটি ছাগল ক্রয়ের জন্য। ছাহাবী তা দিয়ে দুটি ছাগল ক্রয় করেন এবং একটি বিক্রয় করেন এক দীনারে। অতঃপর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি ছাগল ও একটি দীনার ফেরত দেন। এতে খুশী হয়ে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ব্যবসায়ে বরকতের দু‘আ করেন। তাতে ফল হয়েছিল এই যে, ঐ ব্যক্তি মাটি কিনলেও তাতে লাভ হতো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৪২; আবূ দাঊদ হা/৩৩৮৪; মিশকাত, হা/২৯৩২)। কিন্তু এটি হলো সাধারণ বাজার দরের বিষয়। কিন্তু যখন ব্যবসায়ী ব্যক্তি বা সমিতি অন্যায়ভাবে মুনাফা লাভের জন্য একযোগে মূল্যবৃদ্ধি করবে, অন্যায় উদ্দেশ্যে মওজূদদারী করবে, প্রতারণামূলকভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়াবে, তখন সেটা যুলুম হবে, যা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অত্যাচার করো না এবং অত্যাচারিত হয়ো না’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৯)। উবাদা ইবনুছ ছমেত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘কারো ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৮৬৭)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২; মিশকাত, হা/২৮৬০)।


প্রশ্ন (৪৫) : আমি আমার মামাকে কিছু টাকা দিয়েছি। তিনি উক্ত টাকার সাথে নিজের কিছু টাকা দিয়ে দুটি দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। সাথে সাথে যতদিন তিনি আমার ঐ টাকা পরিশোধ করতে না পারবেন ততদিন একটি দোকানের ভাড়ার টাকা আমাকে দিবেন। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের চুক্তি বা চুক্তি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ হালাল হবে কি?

-ছিয়াম
সিলেট সদর।

উত্তর : ইসলামী শরীআতে দুই ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধ। একটির নাম ‘মুশারাকা’ (مشاركة) অর্থাৎ শরীকানা ব্যবসা। এতে লাভ অংশহারে বণ্টন হবে। অর্থাৎ যার যেমন অর্থ থাকবে, সে তেমন লভ্যাংশ পাবে (আবূ দাঊদ, হা/৪৮৩৬, সনদ ছহীহ; বুলূগুল মারাম, হা/৮৭০; নায়লুল আওতার, হা/২৩৩৪-৩৫)। অপরটির নাম ‘মুযারাবা’ (مضاربة) অর্থাৎ একজনের অর্থ এবং অপরজনের ব্যবসা। যাতে লাভ চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন হবে (দারাকুত্বনী, হা/৩০৭৭; মুওয়াত্ত্বা, হা/২৫৩৫; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৪৭২, ৫/২৯২; বুলূগুল মারাম, হা/৯০৫, মাওকূফ ছহীহ)। প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যবসাটি এ দুইটির মধ্যে কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয়। বিধায় তা জায়েয হবে না। তবে প্রদানকৃত টাকার লভ্যাংশ অনুপাতহারে গ্রহণ করলে তা জায়েয হতো। কেননা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ঋণ যা লাভ আনয়ন করে, সেটাই রিবা বা ‘সূদ’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/১২১২; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৩৯৬, ৫/২৩৫)।


অন্যান্য



প্রশ্ন (৪৬) : ‘নাফস’ ও ‘ক্বলব’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

-শাহাদত
আত্রাই, নওগাঁ

উত্তর : ‘নাফস’ দ্বারা রূহ বা আত্মাকে বুঝানো হয় এবং কখনও কখনও আত্মা এবং দেহকে বুঝানো হয় (আল-বাক্বারা, ২/৫৭)। আর ‘ক্বলব’ দ্বারা অন্তরকে বুঝানো হয় যা এক অবস্থায় থাকে না, বরং বারবার পরিবর্তিত হয় (মারকাযুল ফাতাওয়া, ফতওয়া নং ৬১০১০)।


প্রশ্ন (৪৭) : ছেলে বা মেয়েদের নাম মাহীরাখা যাবে কি?

-ফুয়াদ হাসান
গোদাগাড়ি, রাজশাহী।

উত্তর : ‘মাহী’ নাম রাখা যাবে। এ শব্দের অর্থ ‘মোচনকারী’। তবে শব্দটি দ্বারা ছেলে সন্তানের নাম রাখতে হবে, কন্যা সন্তানের নয়। কেননা শব্দটি  পুরুষ বাচক শব্দ। জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহী, আমার দ্বারা আল্লাহ কুফর ও শিরককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। আমি আল-হাশির, আর আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষে আগমনকারী)’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৫৪)।


প্রশ্ন (৪৮) : হিন্দু প্রতিবেশী ভাইকেদাদা’ বলে ডাকা যাবে কি?

-ইমরান আকন্দ
 ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : অমুসলিমদের মাঝে প্রচলিত ও ব্যবহৃত শব্দসমূহে যদি ধর্মীয় কোনো দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা শিরক মিশ্রিত না থাকে, তাহলে সেসব শব্দে তাদের সম্বোধন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। হিন্দু সমাজে সাধারণত বড় ভাইকে দাদা বলে সম্বোধন করা হয়। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগ কিংবা শিরকের কোনো ব্যাপার নেই। তাই হিন্দুদের দাদা বলে সম্বোধন করাতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এটা সামাজিক শিষ্টাচার। আর সামাজিক শিষ্টাচারে শিরক-বিদআত না থাকলে ‘দাদা’ বলে ডাকাতে কোনো সমস্যা নেই (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪)।


প্রশ্ন (৪৯) : কোনো নায়ক-নায়িকা সিনেমা করার পর ভুল বুঝতে পেরে সে পথ থেকে ফিরে এসে তওবা করল। অথচ তখনও বিভিন্ন মিডিয়ায় তার ছবিগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। যা বন্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় সে কি ক্ষমা পাবে?

-আব্দুল্লাহ
তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর :  কোনো ব্যক্তি পাপ হতে খালেছ অন্তরে তওবা করে যদি সেই পাপ ছেড়ে দেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলুন! হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলম করেছ; তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (আয-যুমার, ৩৯/৫৩)। প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে তওবা করার পূর্বে যে সকল ভিডিও নিজের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে তা ডিলেট করতে হবে। আর যা ডিলেট করা সম্ভব নয় তার জন্য সে ব্যক্তি দায়ী হবে না। কেননা সাধ্যের বাহিরে আল্লাহ বান্দার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো’ (আত-তাগাবুন, ৬৪/১৬)।


প্রশ্ন (৫০) : ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)কে অনেকেই বলে, ‘মা ফাতেমা’। এভাবে তাকে মা বলে সম্বোধন করা যাবে কি?

-আবু বকর
 নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমগ্র মুসলিম জাতির পিতৃতুল্য। আর স্ত্রীগণ তাদের মাতৃতুল্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নবী মুমিনদের নিজের চেয়েও কাছের। আর তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতৃতুল্য’ (আল-আহযাব, ৩৩/৬)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীগণ মুমিনদের মা হিসাবে তাদের ক্ষেত্রে বলা হয় ‘মা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)’। কিন্তু ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হলেন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা। সেই হিসাবে তিনি মুমিনদের বোনতুল্য। তাই তাকে ‘মা ফাতেমা’ বলা যাবে না।