সওয়াল-জওয়াব



ঈমান-আক্বীদা ভ্রান্ত দল ও মতবাদ


প্রশ্ন (১) : জনৈক শায়েখের আলোচনায় জানতে পারলাম ইমাম হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যার সাথে ইয়াযীদের কোনো হাত ছিল না। কথাটি কতটুকু সত্য?

-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : খলীফা ইয়াযীদের শাসনামলে ৬১ হিজরীর ১০ মুহাররম ইরাকের কারবালা নামক স্থানে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করা হয়। শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে একমত যে, নিশ্চয় ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যার নির্দেশ দেননি। তিনি ওবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদকে কেবল ইরাক দখল করা হতে বাধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন’ (মাজমূউ ফাতাওয়া, ৩/৪১১)। তিনি আরো বলেন, ‘হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী-পুত্রগণ যখন ইয়াযীদের নিকট পৌঁছলেন, তখন তিনি তাদের অনেক সম্মান করেছেন এবং নিরাপত্তার সাথে তাদেরকে পুনরায় মদীনায় পৌঁছে দিয়েছেন’ (প্রাগুক্ত)। ইতিহাসগ্রন্থ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যার ব্যাপারে প্রকৃত দোষী দুই জন। ওবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ ও সীমার। কারণ কূফাবাসীর বায়আত গ্রহণের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে যখন তিনি তথায় আগমন করেন এবং তার সাথে বেঈমানী করত তারা তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়, তখন ওবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ কূফার গভর্নর ছিল এবং সে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। আর সীমার সরাসরি হত্যাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/২১৪)। ইতিহাস থেকে প্রমাণিত হয়, হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যার ব্যাপারে তিনি বিন্দুমাত্র দায়ী ছিলেন না, এ কথা সত্য। তাই ইয়াযীদকে গালাগালি করা উচিত নয়।


প্রশ্ন () : ‘খাতামুন নাবীয়্যিনবলা হয়েছে, কিন্তু খাতামুর রাসূলবলা হয়নি কেন? তাহলে কি রাসূলের আগমন আজও চলমান?

-আব্দুস সাকী আহমাদ
দারুসা, রাজশাহী।

উত্তর : না, রাসূলের আগমন চলমান নেই। বরং মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে নবুঅত ও রিসালাত উভয়ের সমাপ্তি ঘটেছে। কেননা তিনিই ছিলেন সর্বশেষ নবী ও সর্বশেষ রাসূল। কেননা নবী হওয়া ছাড়া রাসূল হওয়া যায় না। এই জন্য প্রত্যেক রাসূলই নবী ছিলেন। কিন্তু সব নবী রাসূল ছিলেন না। যেহেতু কোনো নবী আসবেন না, সেহেতু স্বভাবতই কোনো রাসূলও আর আসবেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞানী’ (আল-আহযাব, ৩৩/৪০)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আমার পরে ৩০ জন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, যারা প্রত্যেকেই নিজেকে ‘আল্লাহর নবী’ বলে দাবী করবে। অথচ আমিই শেষ নবী। আমার পরে কোনো নবী নেই’ (আবূ দাঊদ, হা/৪২৫২; মিশকাত, হা/৫৪০৬)।


প্রশ্ন () : জনৈক হিন্দু তার মৃত্যুর দুই দিন পূর্বে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে ও পূর্বের কৃতকর্মের জন্য তওবা করে। তার তওবা কি কবুল হবে?

-আলিফ আহমাদ

উত্তর : হ্যাঁ, তার তওবা কবুল হবে। কেননা কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। আমর ইবনুল ‘আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দিকে আপনার হাত প্রসারিত করে দিন, আমি আপনার কাছে ইসলাম গ্রহণের বায়আত করব। তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করে দিলেন, কিন্তু আমি আমার হাত টেনে নিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমার কী হলো, হে আমর? আমি বললাম, আমার কিছু শর্ত আছে। তিনি বললেন, কী শর্ত? আমি বললাম, আমি চাই আমার (পূর্বের কৃত) গুনাহ যেন মাফ করে দেওয়া হয়। তখন তিনি বললেন, ‘আমর! তুমি কি জানো না ‘ইসলাম গ্রহণ’ পূর্বেকার সকল গুনাহ বিনাশ করে দেয়। হিজরত সে সকল গুনাহ মাফ করে দেয়, যা হিজরতের পূর্বে করা হয়েছে। এমনিভাবে হজ্জও তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? (ছহীহ মুসলিম, হা/১২১; মিশকাত, হা/২৮)।


প্রশ্ন () : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পৃষ্ঠদেশে যে মোহরে নবুঅত ছিল, সেটা কি কোনো চিহ্ন?

-আবূ রায়হান
ভেলাজান, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : মোহরে নবুঅত হলো রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবী হওয়ার সত্যতার প্রমাণ। এর আকৃতি ছহীহ মুসলিমে এসেছে, জাবের ইবনু সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কাঁধের পাশে মোহর নবুঅত দেখেছি কবুতরের ডিমের সমান, যা শরীরের মতোই (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৪৪)। অপর বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে রুটি ও গোশত অথবা ছারীদ খেতে খেতে তাকে দেখেছি। …এক পর্যায়ে আমি ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে মোহরে নবুঅতের দিকে তাকালাম। দেখলাম তা রয়েছে দুই কাঁধের মাঝে, বাম কাঁধের একটু উপর দিকে। মুষ্টিবদ্ধ হাতের আঙ্গুলের ফুলে উঠা গোড়াগুলোর মতো উঁচু। তার চতুর্পাশ্বে ছিল ছোট ছোট তিল (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৪৬)। তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে, তাতে গুচ্ছ গুচ্ছ চুল ছিল (শামায়েলে তিরমিযী, হা/২০)। ফলকথা, মোহরে নবুঅত ছিল কবুতরের ডিমের আকৃতির গোশতের পিণ্ড, যা দেখতে শরীরের মতোই ছিল। তার চতুর্পাশ্বে ছোট ছোট তিল ছিল, সেগুলোতে গুচ্ছ গুচ্ছ চুল ছিল। ওয়াল্লাহু আ‘লাম।


কুরআন ফযীলত



প্রশ্ন () : কুরআন খতমের নিয়্যতে নিয়মিত ১/২ পৃষ্ঠা তেলাওয়াত করি। পাশাপাশি ফযীলতের সূরাগুলোও দিনে-রাতে বেশি বেশি তেলাওয়াত করি। এভাবে তেলাওয়াত করা কি বিদআত হবে?

-কুদরত-ই-এলাহী
লালপুর, নটোর।

উত্তর : এভাবে কুরআন তেলাওয়াত করলে বিদআত হবে না। বরং ফযীলতপূর্ণ আয়াতগুলো মাঝে মাঝে পাঠ করার জন্য নির্দেশনা আছে। যেগুলো নির্ধারিত সময়ে পড়াই উত্তম। যেমন, (ক) সূরা মূলক রাতে পড়লে কবরের আযাব মাফ হয় (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৮৯, সনদ ছহীহ)। (খ) সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত রাতে পড়লে শয়তান কোনো ক্ষতি করতে পারে না (ছহীহ বুখারী, হা/২৩১১, ৫০০৯)। (গ) ফরয ছালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পড়লে তার ফলাফল জান্নাত (নাসাঈ, আল-কুবরা হা/৯৯২৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৭২)। (ঘ) বিপদাপদের সময় নাস, ফালাক্ব, ইখলাছ ইত্যাদি পড়া যায় (আবূ দাঊদ, হা/৫০৮২; নাসাঈ, হা/৫৪২৮; তিরমিযী, হা/৩৫৭৫; মিশকাত, হা/২১৬৩)। তবে স্বাভাবিকভাবে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য এক মাস, দশ দিন, বা সাত দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কুরআন মুখস্থ করেছি এবং তা প্রতি রাতে সম্পূর্ণ তেলাওয়াত করি। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আমার আশঙ্কা যে, তুমি দীর্ঘজীবী হবে এবং বার্ধক্যে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তুমি এক মাস অন্তর কুরআন খতম করো। আমি বললাম, আমাকে আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা উপকৃত হতে দিন। তিনি বলেন, তাহলে তুমি দশ দিন অন্তর কুরআন খতম করো। আমি বললাম, আপনি আমাকে আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা উপকৃত হতে দিন। তিনি বলেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর খতম করো। আমি বললাম, আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা আমাকে উপকৃত হতে দিন। তখন তিনি তা অস্বীকার করেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫১-১১৫২; তিরমিযী, হা/২৯৪৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৩৪৬)।


প্রশ্ন () : কুরআন মাজীদ পুরাতন পড়ার অনুপোযোগী হলে করণীয় কী?

-নাজনীন পারভীন
জয়পুরহাট।

উত্তর : কুরআন মাজীদ পুরাতন ও পড়ার অনুপযোগী হলে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। কুরআন ও হাদীছ অতীব পবিত্র ও সম্মানের বস্তু। এগুলোর ছিন্ন পাতা বা কিতাব কোনোভাবে যাতে অসম্মানিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই সম্ভবত ছাহাবায়ে কেরাম এগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মূল কুরায়শী ভাষা আরবীতে কুরআন নাযিল হয়েছিল। পরে অন্য উপভাষাতেও কুরআন পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাতে শব্দ ও মর্মগত বিপত্তি দেখা দিলে ৩য় খলীফা উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুরআনের মূল কুরায়শী কপি রেখে বাকী সব কপি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে কেবল সেই কুরআনই সর্বত্র পঠিত হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৮৭-৪৯৮৮; মিশকাত হা/২২২১)।


পবিত্রতা ওযূ-গোসল



প্রশ্ন (৭) : ওযূ করার পর যদি দৃষ্টিগোচর হয় যে, শরীরের কোনো স্থানে নাপাকী লেগে আছে তাহলে কি পুনরায় ওযূ করতে হবে?

-আকীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ওযূ করার পর কোনো অঙ্গে নাপাকী লেগে থাকলে ওযূ ভঙ্গ হয় না। বরং তা ধুয়ে পরিষ্কার করাই যথেষ্ট হবে। আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেন, সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভালো করে ধুয়ে ফেলবে। অতঃপর সেই কাপড়ে ছালাত আদায় করবে। আবুস সামহ হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘মেয়ে শিশুদের প্রস্রাব ধুতে হয়। আর ছেলে শিশুদের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৭৬; নাসাঈ, হা/৩০৪; মিশকাত, হা/৫০২, সনদ ছহীহ)।


প্রশ্ন () : ঋতুবতী অবস্থায় কোনো মহিলা মারা গেলে তাকে কয়টি গোসল দিতে হবে?

-আকীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ঋতুবতী মহিলা বা অন্য যে কোনো ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় মারা গেলে তাকে সাধারণ মৃতের গোসলের ন্যায় একটি গোসল দিতে হবে। তবে অপবিত্র অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী শহীদের গোসল দিতে হবে না (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/৩৩৩)।


প্রশ্ন () : ওযূর পরে উটের গোশত খেলে পুনরায় ওযূ করতে হয়। এর মৌলিক কোনো কারণ আছে কি?

-শাকিল হোসাইন
চরগগনপুর, জামালপুর সদর।

উত্তর : জাবের ইবনু সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি উটের গোশত খেয়ে ওযূ করব? রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হ্যাঁ, উটের গোশত খেয়ে ওযূ করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৬০; মিশকাত, হা/৩০৫)। কিন্তু উটের গোশত খেলে কেন ওযূ করতে হয় এই ব্যাপারে মতের ভিন্নতা রয়েছে। ইমাম আলাউদ্দীন মারদাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এর কোনো কারণ নেই। বরং বিষয়টি তাআব্বুদী তথা ইবাদতধর্মী ব্যাপার। ওযূর আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাই করতে হবে (আল-ইনছাফ, ১/৩৫৫)। অপরদিকে কেউ কেউ বিষয়টিকে তাআল্লুলী বা কারণভিত্তিক বলে মত দিয়েছেন। তাদের মতে ওযূর আদেশ দেওয়ার কারণ হলো, উটের মধ্যে শয়তানী প্রবৃত্তি আছে (আবূ দাঊদ, হা/১৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৬৯)। তাই ওযূর মাধ্যমে শয়তানী প্রবৃত্তি ও শয়তানী শক্তিকে বিনাশ করে দিতে হবে। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) এমনই মত ব্যক্ত করেছেন (শারহু উমদাতিল ফিক্বহ, ১/১৮৫; মাজমূআতুল ফাতাওয়া, ২০/৫২৩)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উটের গোশত শিরা-উপশিরায় প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে এবং রক্ত গরম করে দেয়। আর ওযূ তা ঠান্ডা করতে সাহায্য করে (এ‘লামুল মুওয়াক্কিঈন, ২/৪০)। কোনো কোনো বিদ্বান মনে করেন যে, এখানে ওযূ দ্বারা হাত-মুখ ধৌত করা উদ্দেশ্য, শারঈ ওযূ নয়। সর্বোপরি, ওযূ করা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ। তাই কোনো হিকমত না জানা গেলেও তার প্রতি আমল করা জরুরী (আল-আহযাব, ৩৩/৩৬)।


ইবাদত ছালাত



প্রশ্ন (১০) : ইমাম সাহেব তাবীয বিক্রি করে ও নবীকে হাযিরনাযির বলে বিশ্বাস করেন তার পিছনে কি ছালাত আদায় করা যাবে?

ইকরামুল হক, মুর্শিদাবাদ, ভারত;
ও গোলাম নূর, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : তাদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। কেননা তাবীয ব্যবহার করা শিরক। আর তা বিক্রয় করাও শিরকের কাছে সহযোগিতা করার শামিল। অথচ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি তাবীয-ক্ববয লটকালো সে শিরক করল (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪৫৮)। তাছাড়া রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হাযির-নাযির বলে বিশ্বাস করা আক্বীদাগত মারাত্মক ভুল। হাযির-নাযির অর্থ তিনি সব জায়গায় উপস্থিত থাকতে পারে এবং সবকিছু দেখতে পারে। অথচ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুবরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় তোমার মৃত্যু হবে এবং ওদেরও মৃত্যু হবে’ (আয-যুমার, ৩৯/৩০)। যদি তিনি যখন যেখানে ইচ্ছা হতে পারতেন, তাহলে মুমিনদের পক্ষ থেকে যে দরূদ পাঠ করা হয়, তা পৌঁছানোর দায়িত্বে ফেরেশতাদের পালন করতে হতো না। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমাদের দরূদ ফেরেশতাদের মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছানো হয় (নাসাঈ, হা/১২৮২; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৮৫৩; দারেমী, হা/২৮১৬; মিশকাত, হা/৯২৪)।


প্রশ্ন (১১) : তারাবীহর ছালাত সর্বনিম্ন দুই রাকআত পড়া যাবে কি?

মিনহাজ পারভেজ
হড়গ্ৰাম, রাজশাহী।

উত্তর : তারাবীহর ছালাত সর্বনিম্ন দুই রাকআত পড়া যাবে না। বরং তারাবীহর ছালাত আট রাকআতই পড়তে হবে, যা একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রামাযানের রাতের ছালাত কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, তিনি রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাকআতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে (২+২) চার রাকআত পড়তেন। তুমি (আবূ সালামা) তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকআত (বিতর) পড়তেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০১৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৮; ফাতহুল বারী, ৪/৩১৮)। তবে কেউ যদি রাতে দুই রাকআত ছালাত আদায় করে তাহলে তাকে রাতে ইবাদতকারী হিসাবে গণ্য করা হবে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি তার পরিবারকে রাতে জাগায় এবং দুজন একসাথে দুই রাকআত ছালাত আদায় করে অথবা একাই দুই রাকআত ছালাত আদায় করে তাহলে তাদের জন্য রাতে ইবাদতকারীদের মতো ছওয়াব দেওয়া হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/১৩০৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৩৩৫; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৬২৬; মিশকাত, হা/১২৩৮)।


প্রশ্ন (১২) : পিছনের কাতারে কোনো মুছল্লী ছালাত আদায় করলে তার সামনের কাতার দিয়ে চলে যাওয়া যাবে কি?

-আব্দুস সামাদ
নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : জরুরী প্রয়োজনে ছালাতরত মুছল্লীর সামনে সিজদা পরিমাণ জায়গার বাইরে দিয়ে যেতে পারে। যেমন পেশাব-পায়খানার চাপ সৃষ্টি হলে, সাপ-বিচ্ছুর ভয় থাকলে ইত্যাদি। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন কেউ কিছুর আড়াল দিয়ে ছালাত শুরু করে, আর কেউ তার ভেতর দিয়ে চলাচল করতে চায় তাকে বাধা দিবে। সে বাধা অমান্য করলে তার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কারণ চলাচলকারী (মানুষের আকৃতিতে) শয়তান (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৫; আবূ দাঊদ, হা/৭০০; মিশকাত, হা/৭৭৭)। তবে স্বাভাবিক কোনো অবস্থায় যাওয়া উচিত নয়। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ছালাত আদায়কারী ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি যদি জানত যে, এতে কী পরিমাণ গুনাহ হয়, তাহলে সে তার সামনে দিয়ে যাতায়াত অপেক্ষা ৪০ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকেই উত্তম মনে করত। বর্ণনাকারী আবূ নাযর বলেন, ঊর্ধ্বতন রাবী ৪০ দিন, মাস না-কি বছর বলেছেন তা আমার মনে নেই (ছহীহ বুখারী, হা/৫১০; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৭; মিশকাত, হা/৭৭৬)। উল্লেখ্য যে, জামাআত চলাকালে সকল মুছল্লীর সুতরা হলো ইমাম। তাই ইমামের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে না। কিন্তু ইমামের পিছনে থাকা মুছল্লীদের সামনে দিয়ে যাওয়াতে শারঈ কোনো বাধা নেই। কারণ ইমামের সুতরাই মুছল্লীদের সুতরা হিসাবে গণ্য। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বার আমি একটি মাদি গাধার উপর আরোহণ করে এলাম। তখন আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছি। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় অন্যান্য লোকজনসহ কোনো দেয়ালের আড়াল ছাড়া ছালাত আদায় করছিলেন। আমি কাতারের এক পাশের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। এরপর গাধাটাকে চরাবার জন্য ছেড়ে দিয়ে আমি কাতারে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এই কাজে কেউই কোনো আপত্তি জানালো না (ছহীহ বুখারী, হা/৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৪; মিশকাত, হা/৭৮০)।


প্রশ্ন (১৩) : সাহু সিজদা তেলাওয়াতে সিজদার মধ্যে পার্থক্য কী? সাহু সিজদা কয়টি দিতে হয়?

-নাজনীন পারভীন
জয়পুরহাট।

উত্তর : ছালাতে ভুলক্রমে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে শেষ বৈঠকের তাশাহহুদ শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে অথবা পরে দুটি ‘সাহু সিজদা’ দিতে হয়। রাকআতের গণনায় ভুল হলে বা সন্দেহ হলে বা কম-বেশি হয়ে গেলে বা ১ম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে ইত্যাদি কারণে এবং মুক্তাদীগণের মাধ্যমে ভুল সংশোধিত হলে ‘সাহু সিজদা’ আবশ্যক হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের ছালাত পাঁচ রাকআত আদায় করলে তাকে বলা হলো ছালাতের রাকআত কি বেশি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কী হলো! তারা বললেন, আপনি পাঁচ রাকআত ছালাত পড়েছেন। অতঃপর তিনি সালামের পরে দুটি সিজদা করলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪০১; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭২; মিশকাত হা/১০১৬)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ওয়াজিব তরক হলে ‘সাহু সিজদা’ ওয়াজিব হবে এবং সুন্নাত তরক হলে ‘সাহু সিজদা’ সুন্নাত হবে (আস-সায়লুল জারার ১/২৭৪)।

পক্ষান্তরে তেলাওয়াতে সিজদা হলো, পবিত্র কুরআনে এমন কতগুলো আয়াত রয়েছে যেগুলো তেলাওয়াত করলে বা শুনলে মুমিন পাঠক ও শ্রোতা সকলকে একটি সিজদা করতে হয়। তবে কেউ যদি এই সিজদা না করে তাহলে সে গুনাহগার হবে না। কারণ এটি ফরয সিজদা নয়। করলে নেকী আছে, না করলে গুনাহ নেই। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সূরা নাজমের মধ্যে সিজদা করলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানব সবাই সিজদা করল (ছহীহ বুখারী, হা/১০৭১; বুলূগুল মারাম, হা/৩৪১)। উল্লেখ্য যে, তেলাওয়াতে সিজদার জন্য ওযূ বা ক্বিবলা শর্ত নয়। বরং যে কোনো দিকে মুখ করে এই সিজদা দেওয়া যায়। একই আয়াত বারবার পড়লে তেলাওয়াত শেষে একবার সিজদা করলেই যথেষ্ট হবে। স্থান পরিবর্তন হলে আর সিজদা করতে হয় না বা ক্বাযাও আদায় করতে হয় না।


প্রশ্ন (১৪) : জামাআতে ছালাতের ইক্বামত দেওয়ার সময় ইক্বামতের শব্দগুলো দুই দুই বার করে বলে। এমতাবস্থায় উক্ত জামাআত ছেড়ে একাকী ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-নাজনীন পারভীন
জয়পুরহাট।

উত্তর : ইক্বামত এক বার করে বলাই উত্তম এবং এর প্রতি আমল করাই উচিত। কেননা এর পক্ষেই বেশি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। বরং আবূ মাহযূরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছাড়া যে সমস্ত ছাহাবী উক্ত মর্মে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তারা সকলেই একবারের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া অনুধাবন করার বিষয় হলো, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিযুক্ত মুআয়াযযিন ছিলেন বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আর তিনি তাকে এক বার করে ইক্বামত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৫, ৬০৬, ৬০৭; মিশকাত, হা/৬৪১)। তবে ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ’ দুই বার ছিল’ (আবূ দাঊদ, হা/৫১০; মিশকাত, হা/৬৪৩)। তাহলে কোন আমলটি গ্রহণ করা উত্তম? উল্লেখ্য, ইক্বামতের শব্দগুলো এক বার করে বলা যাবে না বলে যে বর্ণনা প্রচলিত আছে, তা জাল (তাযকিরাতুল মাওযূআত, পৃ. ৩৫)। তবে প্রশ্নোল্লিখিত অবস্থায় উক্ত জামাআত ছেড়ে অন্যত্র ছালাতের জন্য যাওয়া ঠিক হবে না। বরং উক্ত জামাআতেই ছালাত আদায় করবে। কেননা ইক্বামতের শব্দগুলো জোড়া জোড়াও বলা যায়। এর পক্ষেও হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, আবূ মাহযূরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত একটি হাদীছ ইমাম আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন, তাতে দুই বার করে ইক্বামতের কালেমা উল্লেখ রয়েছে (আবূ দাঊদ, হা/৫০১ ও ৫০২; নাসাঈ, হা/৬৩৩)।


 প্রশ্ন (১৫) : ইমামের পিছনে প্রথম কাতার থেকে শুরু করে শেষ কাতার পর্যন্ত ডান দিকে পুরুষ এবং বাম দিকে মহিলাদের ছালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যদিও বাইরে পুরো বারান্দা ফাঁকা রয়েছেএভাবে মহিলাদের ছালাতের ব্যবস্থা করা যাবে কি?

-মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগা।

উত্তর : ইমামকে মধ্যস্থানে রেখে ডান দিকে পুরুষ এবং বাম দিকে মহিলারা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করার পদ্ধতি জায়েয নয়। তবে এক্ষেত্রে দুই পদ্ধতিতে ছালাত জায়েয। তা হলো, (এক) ইমামের পিছনে পুরুষরা দাঁড়াবে, পুরুষদের কাতার শেষ হলে তাদের পিছনে মহিলারা দাঁড়াবে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘পুরুষদের জন্য প্রথম লাইন উত্তম এবং শেষের লাইন মন্দ। মহিলাদের জন্য শেষের লাইন উত্তম এবং প্রথম লাইন মন্দ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪০; মিশকাত, হা/১০৯২)। (দুই) ইমামের পিছনে পুরুষরা দাঁড়াবে আর মহিলারা পুরুষদের কোনো এক পাশে (ডানে অথবা বামে) পৃথকভাবে পর্দার অন্তরালে দাঁড়াবে এবং পুরুষ ইমামের অনুসরণ করবে। হাসান বছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইমাম ও তোমার মাঝে নদীর অন্তরাল থাকলেও ছালাত আদায় করতে অসুবিধা নেই’। আবু মিজলায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি ইমামের তাকবীর শোনা যায় তাহলে ইমাম ও মুক্তাদীর মধ্যে রাস্তা বা দেয়াল থাকলেও অনুসরণ করা যায়’ (ছহীহ বুখারী, ‘ইমাম ও মুক্তাদীর মাঝে প্রাচীর বা অন্তরাল’ অধ্যায়)।


প্রশ্ন (১৬) : জামাআতে ছালাত আদায়ের সময় সামনের কাতার থেকে কাউকে পিছনের কাতারে টেনে নেওয়া যাবে কি?

-আনিছুর রহমান
জয়পুরহাট সদর।

উত্তর : না, সামনের কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে সেখান থেকে কাউকে টেনে নিবে না এবং কাতারের মাঝেও ঢুকে যাবে না। বরং একাই পিছনের কাতারে ছালাত আদায় করবে (ইরওয়াউল গালীল, হা/৫৪১; ২/৩২৫ পৃ.)। উল্লেখ্য যে, পূর্ণ কাতার থেকে টেনে নেওয়ার যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা দুর্বল (ত্বাবারানী আল-মুজামুল কাবীর, হা/৩৯৪; ইরওয়াঊল গালীল, হা/৫৪১)। আরও উল্লেখ্য যে, ‘কাতারে একাকী দাঁড়ালে ছালাত হবে না’ মর্মে তিরমিযীতে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ হলো, সামনের কাতার ফাঁকা থাকা অবস্থায় কেউ যদি একাকী দাঁড়ায় তাহলে তার ছালাত হবে না (বিস্তারিত আলেচানা দ্র: ইরওয়াউল গালীল, হা/৫৪১; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৩২-৪৩৩)।


প্রশ্ন (১৭) : সফরে থাকা অবস্থায় মুক্বীমদের জামাআত পেলে তাদের সাথে ফরয ছালাত পূর্ণ আদায় করব, না-কি ক্বছর আদায় করব?

-নিয়ামুল হাসান
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : সফরে থাকা অবস্থায় মুক্বীমের সাথে ছালাত আদায় করলে ফরয ছালাত পূর্ণই আদায় করবে। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মুসাফির মুক্বীম ইমামের সাথে দু’রাকআত পেলে তাকে তাদের মতোই পূর্ণাঙ্গ ছালাত আদায় করতে হবে (সুনানে বায়হাক্বী, হা/৫২৯১; ইরওয়াউল গালীল, হা/৫৭১)। তবে একাকী কিংবা অন্যান্য মুসাফিরদের সাথে আদায় করলে ক্কছর করবে। ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললাম, (ব্যাপার কী) আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেররা তোমাদেরকে বিপদে ফেলবে মর্মে যদি ভয় কর, তাহলে তোমরা ক্বছর করতে পার’ (আন-নিসা, ৪/১০১)। এখন তো মানুষ সম্পূর্ণ নিরাপদ। (তথাপি আমরা ক্বছর করি কেন?) উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনি যেরূপ আশ্চর্যবোধ করছেন আমিও আপনার ন্যায় আশ্চর্যবোধ করতাম। একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটা জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দান। সুতরাং তোমরা তার দান গ্রহণ করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৬; মিশকাত হা/১৩৩৫)।


প্রশ্ন (১৮) : হাফ হাতাবিশিষ্ট কাপড়ে ছালাত আদায় করলে কি নেকী বা ফযীলত কম হবে?

-শোয়াইব
ময়মনসিংহ।

উত্তর : উত্তম, মার্জিত ও সুন্দর পোশাক পরিধান করেই ছালাত আদায় করবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক ছালাতের সময় সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করো (আল-আ‘রাফ, ৭/৩১)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআর দিনে উত্তম পোশাক পরে মসজিদে আসার কথা বলছেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৩; ইবনু মাজাহ, হা/১০৯৭; মিশকাত, হা/১৩৮৭, সনদ হাসান)। ছালাতে কাঁধ ঢেকে রাখা জরুরী। তাই হাফ হাতাবিশিষ্ট কাপড়ে ছালাত আদায় করলে ছালাত হয়ে যাবে। এতে নেকী কম-বেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন ছালাত আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোনো অংশ নেই (ছহীহ বুখারী, হা/৭৫৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৫১৬; মিশকাত, হা/৭৬৬)।


ইবাদতছিয়াম



প্রশ্ন (১৯) : ছিয়াম অবস্থায়কোভিড১৯ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে কি?

-গোলাম মোস্তফা
বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : ‘কোভিড-১৯’ ভ্যাকসিন যদি খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়; খাদ্যের চাহিদা মেটায় বা পাকস্থলীতে পৌঁছে শরীরে শক্তি যোগায়, তাহলে ছিয়াম অবস্থায় তা গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এ জাতীয় ভ্যাকসিন, টিকা বা ইনজেকশন খাদ্য-পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কতিপয় ছাহাবীকে দাওয়াত দিলাম। খাওয়ার পূর্বমুহূর্তে জনৈক ছাহাবী (নফল) ছিয়ামরত থাকায় খাবারে অংশ গ্রহণ করলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ছিয়াম ভঙ্গ করে খাবার গ্রহণ করতে বললেন এবং ইচ্ছা করলে পরবর্তীতে এটার ক্বাযা আদায় করার জন্য বললেন (বায়হাক্বী, ৪/৪৬২, হা/৮৩৬২, ‘নফল ছিয়াম ক্বাযা করা ঐচ্ছিক’ অনুচ্ছেদ; সনদ হাসান, নায়লুল আওত্বার, ২/২৫৯, ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। যেহেতু অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারদের স্পষ্ট বক্তব্য হতে প্রমাণিত হয়েছে যে, উক্ত ভ্যাকসিন মানব দেহের মাংস পেশীতে পুশ করা হয়, যা পাকস্থলীতে পৌঁছে না। সুতরাং ছিয়ামরত অবস্থায় রোগমুক্তির জন্য এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে।


ইবাদত হজ্জ-উমরা



প্রশ্ন (২০) : যারা হজ্জ করতে যায় তাদেরকে আমাদের সমাজের অনেক মানুষ বলে যে, আমার সালামটা রাসূলের কবরে পৌঁছে দিবেন। প্রশ্ন হলো, এভাবে কি রাসূলের কবরে সালাম পৌঁছানো যাবে কি?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পরে কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর নিকটে সালাম পৌঁছানোর কোনো বিধান বা প্রমাণ নেই। বরং দুনিয়ার যেখান থেকেই সালাম দেওয়া হোক সেটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফেরেশতা রয়েছে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা আমার কবরকে বার বার আসা-যাওয়ার জায়গা বানিয়ো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো! কেননা তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তোমাদের দরূদ আমার নিকটে পৌঁছে দেওয়া হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৪২)। তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয় দুনিয়াতে সদা ভ্রাম্যমাণ কিছু ফেরেশতা রয়েছে, যারা আমার উম্মতের সালাম আমার নিকটে পৌঁছে দেয়’ (নাসাঈ, হা/১২৮২)। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় কবরে শুয়ে আছেন এবং তাঁকে সালাম দিলে সালামের জবাব দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলমে বারযাখের সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনোভাবেই দুনিয়ার জীবনের সাথে বারযাখী জীবনকে তুলনা করা যাবে না। কারণ তা সম্পূর্ণরূপে মানুষের জ্ঞানের বাইরে। আরও উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের নিকটে গিয়ে দরূদ পাঠ করলে তিনি শুনতে পান মর্মে বায়হাক্বী বর্ণিত হাদীছটি জাল (সিলসিলা যঈফা, হা/২০৩; যঈফুল জামে‘, হা/৫৬৮২)। আর কারো মাধ্যমে সালাম পাঠানোর বিষয়টি মূলত জীবিত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন, উসামা ইবনু যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈকা কন্যা (যয়নাব) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবে, যা কিছু আল্লাহ নিয়ে যান, যা কিছু তিনি দান করেন, সবকিছুই তারই অধিকারে। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্যধারণ করে এবং ছওয়াবের অপেক্ষায় থাকে (ছহীহ বুখারী, হা/১২৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৯২৩; নাসাঈ, হা/১৮৬৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৫৮৮)।


ইবাদত যিকির ও দু‘আ



প্রশ্ন (২১) : ‘ইয়া নূরু ইয়া বাসিরু এই বাক্য পড়ে ঘুমালে যা চাইবে তাই পাবেএ কথার শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

-ফারুক ইসলাম
নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : এ ধরনের যিকিরের কোনো ভিত্তি নেই। বরং তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বরং ঘুমানোর সময় সুন্নাত হলো দু‘আ পড়া। হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে ঘুমানোর সময় গালের নিচে হাত রাখতেন আর বলতেন, أَللهم بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়াঅর্থ : হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরি ও বাঁচি। অর্থাৎ তোমার নামে আমি শয়ন করছি এবং তোমারই দয়ায় আমি পুনরায় জাগ্রত হব (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১৪; মিশকাত, হা/২৩৮২)।


প্রশ্ন (২২) : ছগীরা গুনাহ মাফ হওয়ার আমলসমূহ কী কী?

-মুনজিলা বিনতে আব্দুল মজীদ
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : ছগীরা গুনাহ ক্ষমা হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা বেশ কিছু আমল প্রমাণিত হয়। যেমন, ক. পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত। খ. জুমআর ছালাত (এক জুমআ হতে অপর জুমআর ছালাত এর মাঝের ছগীরা গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরুপ)। গ. রামাযানের ছিয়াম (এক রামাযান হতে অপর রামাযানের ছিয়াম পুরো এক বছরের ছগীরা গুনাহের কাফফারাস্বরূপ) (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩)। ঘ. ৩৩ বার سُبْحَانَ (আল্লাহ পরম পবিত্র), ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلهِ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৩ বার اَللهُ أَكْبرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) এবং ১০০ বার পূরণের জন্য একবারلاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ (লাইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহূ লাশারীকা লাহু লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলাকুল্লি শাইয়িং ক্বদীর) পাঠ করা। (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৯৭; মিশকাত, হা/৯৬৭)। ঙ. অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে ওযূ করা, মসজিদে আসার জন্য বেশি বেশি পদচারণা করা, এক ছালাত হতে অপর ছালাতের জন্য প্রতিক্ষা করা (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫১; মিশকাত, ২৮২)। চ. আরাফার দিনে ছিয়াম পালন করা (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪)। ছ. ফরয হজ্জ পালন করা (ছহীহ বুখারী, হা/১৮১৯; নাসাঈ, হা/২৬২৭)। জ. পাপ কাজ ঘটে গেলে সাথে সাথে ভালো আমল করা (হূদ, ১১/১১৪)। উল্লেখ্য যে, কাবীরা-ছগীরা সকল গুনাহ তওবা করলে ক্ষমা হয়ে যায় (আয-যুমার, ৩৯/৫৩)। অতএব আমাদের উচিত পাপ ছোট হোক বা বড় হোক, পাপ সংঘটিত হয়ে গেলে সাথে সাথে তওবা করা।


প্রশ্ন (২৩) : কোন দু পড়লে কী কাজ করলে শয়তান আমাদেরকে ধোঁকায় ফেলতে পারবে না আমাদের থেকে দূরে পালাবে?

-ফারুক ইসলাম
নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য নিম্নোক্ত দু’আগুলো পড়া যায়। যেমন,

(1) أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ.

উচ্চারণ : ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। (আন-নাহল, ১৬/৯৮; তিরমিযী, হা/২৪৫; মিশকাত, হা/৮৪৪)।

(2) أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ ‏

উচ্চারণ : ঊযুবিল্লা-হিস সামীইল আলীম মিনাশ শায়ত্ব-নির রজীম মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী ওয়া নাফছিহী পড়া যায় (আবূ দাঊদ, হা/৭৭৫, সনদ ছহীহ)।

(3) أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ.

উচ্চারণ : ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিং কুল্লি শাইত্ব-নিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিং কুল্লি আইনিল লা-ম্মাহ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭১; মিশকাত, হা/১৫৩৫)।

আর শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য নিম্নোক্ত আমলগুলোও করা যায়। যেমন, সকাল-সন্ধ্যায় সূরা নাস, ফালাক্ব, ইখলাছ পাঠ করা (আবু দাঊদ, হা/৫০৮২; নাসাঈ হা/৫৪২৮; তিরমিযী হা/৩৫৭৫; মিশকাত হা/২১৬৩)। রাতে আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমিয়ে যাওয়া (ছহীহ বুখারী, হা/২৩১১)। সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা (ছহীহ বুখারী, হা/৫০০৯)।


প্রশ্ন (২৪) : ফজর ছালাতের সুন্নাত শেষে ২১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ঋণমুক্ত সম্পদশালী হওয়া যায় এবং বন্ধ্যত্বসহ নানান সমস্যা দূরীভুত হয়। এমন আমল কি শরীআতসম্মত?

-মিযানুর রহমান
 গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : না, এমন আমল শরীআতসম্মত নয়। কেননা নির্দিষ্টভাবে ফজর ছালাতের পর ২১ বার করে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।


ইবাদত মসজিদ-মুছাল্লা



প্রশ্ন (২৫) : পুরাতন মসজিদ বদলি করার জন্য অন্য স্থানে নতুন করে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। এখন পুরাতন মসজিদের স্থানে বসতবাড়ি স্থাপন বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে কি? আর পুরাতন মসজিদের কোনো মাটি নতুন মসজিদে দিতে হবে কি?

-হারুনুর রশীদ
হরিনাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ।

উত্তর : শারঈ কারণবশত মসজিদ স্থানান্তর করলে পূর্বের জায়গা বিক্রি করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ নতুন মসজিদে ব্যয় করা যাবে। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে কূফার দায়িত্বশীল ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। একদা মসজিদ হতে বায়তুল মাল চুরি হলে সে ঘটনা উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জানানো হয়। তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে মসজিদ স্থানান্তরিত হয় এবং পূর্বের স্থান খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয় (ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়্যা, ৩১/২১৭)। একদা ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি মসজিদে স্থান সংকুলান না হয় এবং স্থানটি সংকীর্ণ হওয়ার কারণে তার চাইতে প্রশস্ত স্থানে মসজিদ স্থানান্তর করা হয়, অথবা মসজিদটি জীর্ণ ও বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঐ মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে অন্যত্র নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তা ব্যয় করতে হবে, যা আগের চাইতে অধিক কল্যাণকর হয়। এক্ষেত্রে ‘মাছলাহাত’-কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, ‘প্রয়োজন’-কে নয়, যা অনেক সময় নিষিদ্ধ বস্তুকে বৈধ করে। অতএব বাধ্য না হলেও অধিকতর কল্যাণ বিবেচনায় মসজিদ স্থানান্তর করা যাবে। যেমন সংকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকা থেকে মসজিদ সরিয়ে খোলা ও প্রশস্ত এবং রাস্তা সংলগ্ন স্থানে পুনঃস্থাপন করা। সেক্ষেত্রে পুরানো মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে নতুন মসজিদে লাগাবে। কারণ এর মধ্যেই ওয়াকফকারীর জন্য অধিক নেকী রয়েছে। এমতাবস্থায় বিক্রীত জমিতে যেকোনো বৈধ স্থাপনা করা যাবে (ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়্যা, ৩১/২১৬, ২২৪, ২২৭, ২৩৩)।


প্রশ্ন (২৬) : একই ব্যক্তি মসজিদের ইমাম, মুআযিযন ও খাদেমের কাজ করতে পারবে কি?

-আযীযুল ইসলাম
দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদের গুরু দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সক্ষম হলে একাই করতে পারে। তবে কাজের সুবিধার্থে পৃথক পৃথক দায়িত্বশীল থাকা ভালো। তাতে কাজগুলো সুন্দর ও সুচারু হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে তাঁর মসজিদে যেমন একাধিক মুআযিযন ছিল, তেমনি ইমাম ও মুআযিযন পৃথক ছিল। বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাহারীর আযান দিতেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ফজরের আযান দিতেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘বেলাল যখন আযান দেয়, তখন তোমরা খাও এবং পান করো, যতক্ষণ আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম আযান না দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯২; মিশকাত হা/৬৮০২)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইমাম হচ্ছেন যিম্মাদার এবং মুআযিযন (ওয়াক্তের) আমানাতদার। ‘হে আল্লাহ! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুআযিযনদের ক্ষমা করে দিন’ (আবূ দাঊদ, হা/৫১৭; তিরমিযী, হা/২০৭)। বিবরণগুলো প্রমাণ করে যে, মসজিদের ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য পৃথক পৃথক দায়িত্বশীল রাখা যেতে পারে।


মৃত্যু-কবর-জানাযা



প্রশ্ন (২৭) : অনিয়মিত ছালাত আদায়কারীর জানাযা কি একজন আলেম পড়াতে পারে?

-আকবর হুসাইন
যশোর।

উত্তর : যে ব্যক্তি ঈমান রাখে অথচ অলসতা ও ব্যস্ততার অজুহাতে ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত তরক করে কিংবা উদাসীনভাবে ছালাত আদায় করে ও তার প্রকৃত হেফাযত করে না, এমন ব্যক্তির জানাযা দেওয়া যায়। তবে তার জানাযা কোনো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও পরহেযগার আলেমগণ পড়াবেন না। বরং সাধারণ লোকেরা পড়বেন (বুলূগুল মারাম, হা/৫৪২-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।


ব্যাবসাবাণিজ্য ব্যাবসা, সূদী কারবার



প্রশ্ন (২৮) : বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো কি বৈধ?

-হাফিজুর রহমান
সিঙ্গাপুর।

উত্তর : হুন্ডি ব্যাবসা বলতে বুঝায়, কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ অন্য কোনো ব্যক্তিকে বা হুন্ডি-ব্যাবসায়িকে প্রদান করা (ব্যাংকের মাধ্যমে নয়) যাতে সে নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয় আর পরিশ্রমের বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে। বর্তমানে ব্যাংক সেবা বাস্তবায়িত হওয়ার পর অনেক দেশ হুন্ডি ব্যাবসাকে অবৈধ অর্থ চালান হিসাবে আইন করেছে। সাধার‌ণত সরকারি ট্যাক্স থেকে বাঁচার জন্য প্রবাসীরা স্বল্প খরচে দেশে টাকা পাঠিয়ে থাকে যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাই এমন ব্যাবসা না করাই উচিত। কেননা সরকারের কোনো আইন যদি গুনাহের না হয়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের জন্য মানা জরুরী। যেহেতু রাষ্ট্রীয় আইনে হুন্ডি ব্যাবসা নিষিদ্ধ। তাই এ থেকে বিরত থাকাই উচিত। নতুবা তা রাষ্ট্রের সাথে ধোঁকা হবে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১)। তাছাড়াও এই হুন্ডির মাধ্যমে বড় বড় চোরাচালান হয়ে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম।


হালাল-হারাম খাদ্য-পানীয়, পোশাক



প্রশ্ন (২৯) : আমার ফুপা এবং ফুপু সূদের সাথে জড়িত। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন এবং খাবার পাঠানো হয়। তাদের দেওয়া খাবার বা জামা-কাপড় পরিধান করলে ইবাদত কবুল হবে কি?

-নাহিদা আফরিন
চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : কেউ স্বেচ্ছায় কোনো জিনিস দিলে তা গ্রহণ করা উত্তম (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৬৩-৬৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৪৫; মিশকাত, হা/১৮৪৫)। তবে জেনে-শুনে উক্ত হারাম উপার্জন থেকে প্রদান করা উপঢৌকন গ্রহণ করলে ও তাদের পাঠানো খাবার ভক্ষণ করলে গুনাহগার হবে এবং ইবাদত কবুল হবে না। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। তাছাড়া এতে অন্যায়ের সমর্থন করা হবে, যা করতে মহান আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অন্যায় ও পাপ কাজে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)।


হালাল-হারাম প্রসাধনী-সৌন্দর্য



প্রশ্ন (৩০) : ছেলেরা বিয়ের সময় কিংবা অন্য কোনো সময় হাতে মেহেদী লাগাতে পারে কি?

-আখতার শেখ
মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : না, ছেলেরা বিয়ে বা অন্য যে কোনো সময় হাতে মেহেদী লাগাতে পারে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, পুরুষের খুশবু হলো যার রং গোপন থাকবে আর সুগন্ধি প্রকাশ পাবে। আর মহিলাদের খুশবু হলো যার রং প্রকাশ পাবে এবং সুগন্ধি গোপন থাকবে (তিরমিযী, হা/২৭৮৭; নাসাঈ, হা/৫১১৭-১৮; মিশকাত, হা/৪৪৪৩, সনদ ছহীহ)। সুতরাং হাতে মেহেদী লাগানো মেয়েদের সজ্জা, যা পুরুষের জন্য হারাম। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘মহিলার বেশধারণকারী পুরুষ এবং পুরুষের বেশধারণকারিণী মহিলার উপর আল্লাহ তাআলা লা‘নত করেছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫; মিশকাত, হা/৪৪২৯)।


হালাল-হারাম চাকরি



প্রশ্ন (৩১) : সরকারি চাকরিজীবীদের জিপিএফ ফান্ড থেকে অর্জিত ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা কি বৈধ?

-মুনজিলা বিনতে আব্দুল মজীদ
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : জিপিএফ এর পূর্ণরূপ হলো জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট সম্পূর্ণরূপে সূদ, যা হালাল নয়। এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫% এবং ঐচ্ছিকভাবে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। এই অর্থকে চক্রবৃদ্ধিহারে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয়, যা স্পষ্ট সূদ। তাই এই সূদ থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী। উল্লেখ্য যে, অনেকেই বলে থাকেন, এটা যেহেতু বাধ্যতামূলকভাবে কেটে রেখে দেওয়া হয় এবং হাতে আসার আগ পর্যন্ত কর্মচারী উক্ত টাকার মালিকই হতে পারে না, তাই এই টাকা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সূদ বলে গণ্য হবে না। বরং যখন কর্মচারী উক্ত টাকার মালিক হয়ে যাবে, তারপরে যদি সূদের কাজে লাগায়, তাহলে তখন তা সূদ বলে গণ্য হবে। এই বক্তব্য কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। কারণ- ১. সরকারিভাবে ৫% প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখা বাধ্যতামূলক। বাকী ২০% ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছায় রাখতে পারে ২. অবসর গ্রহণকালে টাকা ফেরত দেওয়ার সময় কত টাকা মূলধন এবং কত টাকা সূদ, তা বলে দেওয়া হয়। তাই ব্যক্তি চাইলে উক্ত সূদ থেকে বাঁচতে পারে ৩. সর্বোপরি কর্মচারী চাইলে তার একাউন্টকে পুরোপুরি সূদমুক্ত রাখার আবেদনও করতে পারে। বিধায় ইচ্ছা করলে সে সূদের একটি টাকাও ভক্ষণ করতে বাধ্য নয়। তাই কোনো যুক্তিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সূদকে হালাল বলার উপায় নেই।


পারিবারিক বিধান সম্পর্ক



প্রশ্ন (৩২) : মেয়ে নেই এমন এক ভদ্র লোক ও তার স্ত্রী আমাদের বিবাহের পূর্বে আমার স্বামীকে যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন, ভালোবাসতেন এবং তাকে জামাই বলে সম্বোধন করে আসছেন। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে আমাকেও তাদেরকে বাবামা বলে সম্বোধন করতে হয়। এভাবে তাদেরকে বাবামা বলে সম্বোধন করা যাবে কি? কেননা আমি জানি নিজ পিতামাতা ব্যতীত কাউকে বাবামা বলে ডাকা জায়েয নয়। এক্ষেত্রে করণীয় কী?

-মাজেদা বেগম
কুলাঘাট, লালমণিরহাট।

উত্তর : নিজের পিতা-মাতা ব্যতীত অন্য কাউকে সম্মান ও শ্রদ্ধার খাতিরে মা-বাবা সম্বোধন করা দোষাবহ নয়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘আমি তো তোমাদের পিতার সমতুল্য। আমি তোমাদের শিখিয়ে দেই…’ (আবূ দাঊদ, হা/৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৩০১)। তবে কোনোভাবেই নিজ পিতা-মাতাকে অস্বীকার করার মানসিকতা রাখা যাবে না (বুখারী, হা/৩৫০৮; মুসলিম, হা/৬১)। উল্লেখ্য যে, এমতাবস্থায় কাউকে পিতা বলে সম্বোধন করলেও তার সাথে পর্দা বজায় রাখতে হবে।


প্রশ্ন (৩৩) : একজন গরীব মহিলা সন্তান নষ্ট করতে চাইলে জনৈক ব্যক্তি সন্তান বাবদ সকল খরচ বহন করে তাকে দত্তক নেয়। এখন সন্তানটির আইডিকার্ড তৈরি করতে কোন পিতা-মাতার নাম দিবে? আসল পিতা-মাতাকে খুঁজে পেতে কষ্টসাধ্য। এখন করণীয় কী?

-আলমগীর হোসেন
গুরুদাশপুর, নাটোর।

উত্তর : শরীআতের বিধান অনুযায়ী সন্তান তার পিতা-মাতার নামেই পরিচিত হবে। পিতা-মাতার পরিচয় জানা না গেলে তার লালন-পালনকারীরা হবে তার দ্বীনী ভাই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সংগত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ পরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোনো বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫)। উল্লেখ্য যে, জেনেশুনে নিজ পিতা-মাতাকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে পিতা-মাতা হিসাবে ডাকা যাবে না এবং সার্টিফিকেট, আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে পিতা-মাতার স্থানে তাদের নাম ব্যবহার করা যাবে না। কেননা তাতে আপন পিতা-মাতার পরিচয় গোপন করা হবে এবং অন্যকে আপন পিতা-মাতা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যার ফলাফল জাহান্নাম। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে অন্যকে পিতা-মাতা বলে, তার জন্য জান্নাত হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩; মিশকাত, হা/৩৩১৪)। অন্যত্র রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যের সাথে যে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ (তিরমিযী, হা/২১২১)। এমতাবস্থায় সে সকল ছেলে-মেয়েদের পিতা-মাতাকে পাওয়া যায় না তাদের আইডি বা পরিচয়পত্রে তাদের লালন-পালনকারীদেরকে অভিভাবক হিসাবে পরিচয় দেবে।


প্রশ্ন (৩৪) : স্বামীর উপার্জন কত, তা স্ত্রী জানে না; আর তিনিও স্ত্রীকে জানান নাএমতাবস্থায় স্ত্রী যদি তার উপার্জন সম্পর্কে জানতে চায় আর স্বামী যদি সঠিক হিসাব না দেয়, তাহলে কি স্বামী পাপী হবে?

-ফরিদুল ইসলাম।
যশোর সদর।

উত্তর : স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব হলো তার ভরণপোষণ থেকে শুরু করে সকল বৈধ চাহিদা সামর্থ্য অনুযায়ী পূরণ করা। অর্থাৎ স্বামী যা আহার করবে, যে মানের পরিধান করবে, যে মানের ঘরে বসবাস করবে স্ত্রীকেও তা প্রদান করবে। স্বামীর উপার্জন কত তা স্ত্রীকে জানানো জরুরী নয়। তবে যদি কোনো প্রয়োজনে জানাতে হয় তাহলে সঠিক তথ্য জানানো উচিত। অবশ্য সত্য তথ্য জানানোর ফলে যদি সংসারে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে সঠিক তথ্য গোপন রেখে কৌশলগত পথ অবলম্বন করাতে শারঈ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। উম্মু কুলসুম বিনতে উক্ববা ইবনু আবী মুআয়ত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, ‘সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে আপস-মীমাংসা করে দেয়। সে কল্যাণের জন্যই বলে এবং কল্যাণের জন্যই চোগলখোরি করে (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৫ ; মিশকাত, হা/৫০৩১)। ইবনু শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আমি শুনিনি। ১. যুদ্ধক্ষেত্রে, ২. লোকদের মাঝে আপস-মীমাংসার জন্য এবং ৩. স্ত্রী-স্বামী পরস্পরের নিকট (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৫; আবূ দাঊদ, হা/৪৯২১; মিশকাত, হা/৫০৩১-৩৩)। উল্লেখ্য যে, স্ত্রী যদি স্বামীর উপার্জন হালাল না-কি হারাম সে সম্পর্কে জানতে চায় আর স্বামী যদি তা প্রকাশ না করে হারাম পথে উপার্জন করতে থাকে তাহলে স্বামীই পাপী হবে, স্ত্রী নয়।


পারিবারিক বিধান বিবাহতালাক



প্রশ্ন (৩৫) : আমার বিয়ে হয়েছে হানাফী পরিবারের এক মেয়ের সাথে। বিয়ের দিন বিয়ে পড়ানো নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়। অর্থাৎ নিয়মানুযায়ী মেয়ের বাবাকে বিয়ে পড়াতে হবে। কিন্তু তাতে মেয়ের নানা, মামা, খালুরা নারায৷ অনেক চেষ্টা করে বুঝিয়েও তাদের মানাতে পারিনি। তারপর এক রকম বাধ্য হয়েই আমার চাচা মেয়ের বাবার সম্মতিক্রমে তার উপস্থিতিতে সাক্ষীসমেত আমার বিয়ে পড়ান। এখন বিয়েটা কি সম্পূর্ণ হয়েছ, না-কি মেয়ের বাবাকেই পড়াতে হবে?

-মুস্তাকিম বিল্লাহ
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : বিবাহ পড়ানোর সুন্নাতী পদ্ধতি হলো, প্রথমে বিবাহের খুৎবা হবে। অতঃপর মেয়ের সম্মতিক্রমে দু’জন সাক্ষীর সামনে মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বলবে, আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম। আর ছেলে বলবে, আমি কবুল করলাম। তবে প্রশ্নোল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী উক্ত বিবাহ বৈধ হবে। কেননা মেয়ের বাবাকেই বিবাহ পড়াতে হবে এমনটি শর্ত নয়, বরং তার অনুমতিই যথেষ্ট। তার অনুমতি থাকলে অন্য কেউ বিবাহ পড়াতে পারে। কিন্তু তার সম্মতি না থাকলে সে বিবাহ যেই পড়াক না কেন তা বাতিল বলে গণ্য হবে (তিরমিযী, হা/১১০১; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১; আহমাদ, হা/১৯৭৪৬)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘যে কোনো নারী তার ওলীর (অভিভাবকের) অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে; তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল’ (আবূ দাঊদ, হা/৩০৮৩; তিরমিযী, হা/১১০২; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৪০)।


প্রশ্ন (৩৬) : জন্মের সময় মা অসুস্থ থাকায় যে শিশু (একবার) তার মামীর দুধ পান করেছে, সে কি তার মামাতো বোনকে বিবাহ করতে পারবে?

-আব্দুল্লাহ
 তালা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এমতাবস্থায় মামাতে বোনকে বিবাহ করা যাবে না। কেননা সে তার দুধ বোন। আর দুধ বোনের সাথে বিবাহ হলে সে বিবাহকে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)হারাম করেছেন। উক্ববা ইবনু হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, তিনি উম্মু ইয়াহ্ইয়া বিনতে আবূ ইহাবকে বিবাহ করলেন। তিনি বলেন, তখন কালো বর্ণের এক দাসী এসে বলল, আমি তো তোমাদের দু’জনকে দুধপান করিয়েছি। সে কথা আমি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি আমার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমি সরে গেলাম। বিষয়টি আবার তার নিকট উত্থাপন করলাম। তিনি তখন বললেন, এ বিয়ে হয় কী করে? সে তো দাবি করছে যে, তোমাদের দু’জনকেই সে দুধ পান করিয়েছে। অতঃপর তিনি তাকে (উক্ববাকে) তার (উম্মু ইহাবের) সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে বললেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫৯)।


প্রশ্ন (৩৭) : আমাদের সমাজে কোনো মেয়ের বিয়ে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ২০ কেজি খাগড়ায়/বাতাসা দিতে হয়। সমাজের ৮৪টি পরিবারের সবাইকে যে কোনো একদিন দুপুরে ভাত, মাছ, আলুঘন্ট ও ডাল দিয়ে খেতে দিতে হয়। যদি কোনো ছেলে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে তাহলে তাকেও ঐ নিয়ম মানতে হয়। সমাজে প্রচলিত এই প্রথার শারঈ কোনো অনুমোদন আছে কি?

-মতীউর রহমান
নওগাঁ।

উত্তর : প্রথমত, ইসলামে বিয়ে উপলক্ষ্যে অলীমা অনুষ্ঠান ব্যতীত কোনো প্রকারের অনুষ্ঠান বা আয়োজন করা বৈধ্য নয়। বর্তমানে বিয়েকে উপলক্ষ্য করে অলীমা অনুষ্ঠান ব্যতীত গায়ে হলুদের নামে নষ্টামি, বরপক্ষ মেয়ের বাড়িতে জোরপূর্বক লোক চুক্তি করে খাবার আয়োজন করানো, অপ্রয়োজনীয় আলোকশয্যা, শোডাউন ইত্যাদির সবই ইসলাম পরিপন্থী গর্হিত কাজ। তাই এসব অবশ্যই বর্জন করতে হবে। তবে বর-কনেকে সাজানোর জন্য রং বা হলুদ দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৫৫)। এ ক্ষেত্রে কোনো অপচয় করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, অলীমা অনুষ্ঠান ছেলের পক্ষ হতে তার সামর্থ্য অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে; মেয়ের পক্ষ হতে নয়। আরো সহজভাবে বলতে গেলে বিয়েতে মোহর থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ ছেলে পক্ষকে বহন করতে হবে। বিয়েতে মেয়ে পক্ষের কোনো খরচ করার বিধান ইসলামে নেই। চাপিয়ে দিয়ে তো আরো নয়। প্রশ্নোল্লিখিত বিবরণে মেয়ে পক্ষ ২০ কেজি খাগড়ায় প্রদান, ৮৪টি পরিবারকে দুপুরে খাদ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতাসহ আরো যে সকল সামাজিক প্রথার প্রচলন রয়েছে তার সবই ইসলাম বিরোধী এবং অবশ্যই তা যুলম। সুতরাং এগুলোর সবকিছুই একান্ত বর্জনীয়।


পারিবারিক বিধান মোহরানা



প্রশ্ন (৩৮) : আমার বিয়ের মোহরানা এক লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আমি এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। এমতাবস্থায় যদি আমি মারা যাই তবে কি পাপ হবে?

-মাহফুজ বিন আব্দুল গফুর
গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : মোহর মোটা অংকের নির্ধারণ হওয়া শর্ত নয়। বরং মোহর নির্ধারিত হবে স্বামীর সামর্থ্যানুযায়ী। সুতরাং সামার্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ স্বেচ্ছায় স্ত্রীর মোহর পরিশোধ না করে তাহলে অবশ্যই তার পাপ হবে। কেননা স্ত্রীর যৌনাঙ্গ স্বামীর জন্য বৈধ হওয়ার এটিই একমাত্র মাধ্যম। তাছাড়া মোহর স্ত্রীর হক্ব, যা অবধারিতভাবে আদায় বা পরিশোধ করতে হবে। এমর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খুশী মনে স্ত্রীর মোহর আদায় করে দাও’ (আন-নিসা, ৪/৪)। উক্ববা ইবনু আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘শর্তসমূহের মধ্যে যা পূরণ করার বেশি দাবি রাখে তা হলো সেই শর্ত যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছো’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭২১; আবূ দাঊদ, হা/২১৩৯; তিরমিযী, হা/১১২৭; মিশকাত, হা/৩১৪৩)। সুতরাং প্রশ্নেল্লিখিত অবস্থায় স্বামী নিজেই স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। তিনি মারা গেলে তার অর্থ-সম্পদ থেকে পরিশোধ করবে। নইলে তার উত্তরাধিকারীরা তা পরিশোধ করবে। কোনোটাই বাস্তবায়ন না হলে বিচারের মাঠে তার নেকী দিয়ে স্ত্রীর মোহর পূর্ণ করা হবে। এমতাবস্থায় স্ত্রীর কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তারা খুশী মনে মোহরানার কিছু অংশ তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়, তাহলে তোমরা তা ভোগ করো’ (আন-নিসা, ৪/৪)।


পারিবারিক বিধান মীরাছ বণ্টন



প্রশ্ন (৩৯) : আমার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। আমি জীবদ্দশায় আমার টাকাপয়সা এই দুই ছেলেমেয়েকে ভাগ করে দিতে পারব কি? পারলে কীভাবে ভাগ করে দিব?

-সামসুদা বেগম
খুলনা সদর।

উত্তর : মালিকের জীবদ্দশায় ওয়ারিছদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দেওয়া উচিত নয়। কারণ- ১. মৃত্যুর পরেই মীরাছ বণ্টন করা আল্লাহর বিধান (আন-নিসা, ৪/৭)। ২. হয়তো তার নতুনভাবে সন্তান হতে পারে। তখন সে সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। ৩. সন্তানদের কেউ হয়তো পিতার পূর্বেই মারা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সে মীরাছের হক্বদার না হওয়া সত্ত্বেও সে সম্পদ পেয়ে যাচ্ছে। ৪. সম্পদ ভাগ করে দেওয়ার পর অসুস্থতা কিংবা দান-ছাদাক্বা করার জন্য তার নিজেরই হয়তো সেই সম্পদের প্রয়োজন হতে পারে। ৫. সম্পদ পেয়ে সন্তানরা হয়তো পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে অবহেলা করতে পারে। এছাড়াও আরো বহুবিধ সমস্যা দাঁড়াতে পারে। তাই আল্লাহর বিধান মেনে নিয়ে ধন-সম্পদ নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াই উচিত (ইসলাম সওয়াল ওয়া জওয়াব, ফতওয়া নং ১৯২০৩৩)। তবে কেউ চাইলে অংশহারে সম্পদ বণ্টন কেরে যেতে পারে। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পিতা তাকে একটি গোলাম দান করলে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পিতাকে বলেন, ‘তুমি কি তোমার প্রত্যেক সন্তানকে এমন গোলাম দিয়েছো?’ (বুখারী, হা/২৫৮৬; মুসলিম, হা/১৬২৩)। কিন্তু তা মীরাছ হিসাবে নয়, বরং দান হিসাবে ধর্তব্য হবে। কারণ মৃত্যুর পরই তার নাম মীরাছ হয় (আন-নিসা, ৪/৭)।


প্রশ্ন (৪০) : দাদার আগে পিতা মারা গেলে নাতিনাতনিরা দাদার সম্পদের ভাগ না পাওয়ার কারণ কী?

-রাশিদুল ইসলাম আওলাদ
হাতিবান্ধা, লালমণিরহাট।

উত্তর : প্রতিটি মানুষের একথা জেনে রাখা জরুরী যে, আল্লাহর প্রতিটি বিধানের পিছনে রয়েছে সামগ্রিক কল্যাণ ও অসীম প্রজ্ঞা। কখনো আমরা ব্যাপারটা বুঝতে পারি, কখনো তা বুঝতে পারি না। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধানকে অবনত মস্তকে মেনে নিতে প্রত্যেক মুসলিম বাধ্য (আল-আহযাব, ৩৩/৩৬)। মীরাছের ক্ষেত্রে শরীআতের মূলনীতি হলো ‘জীবিত নিকটবর্তী ওয়ারিছগণ মীরাছের হক্বদার হবে’। তাই দাদার আগে পিতা মারা গেলে চাচাদের উপস্থিতিতে নাতি-নাতনিরা মীরাছের হক্বদার হয় না। এমতাবস্থায় শরীআতের একটি বিধান হলো, মালিকের পক্ষ থেকে এক-তৃতীয়াংশ অছিয়ত করত পারে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে মুসলিম ব্যক্তির অছিয়ত করার মতো কিছু সম্পদ রয়েছে, সে ব্যক্তির জন্য তার নিজের কাছে অছিয়তনামা লিখে না রেখে দুই রাত্রিও অতিবাহিত করার অধিকার তার নেই (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৭; মিশকাত, হা/৩০৭০)।


প্রশ্ন (৪১) : আমরা জানি পিতার আগে ছেলে মারা গেলে নাতিনাতনিরা দাদার সম্পদের ভাগ পায় না। কিন্তু যদি ছেলের স্ত্রী থাকে তাহলে সে কি সম্পদ পাবে?

-কামরুল হাসান
লালপুর, নাটোর।

উত্তর : পুত্রবধূ তার শ্বশুরের সম্পদের ওয়ারিছ হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ১৬/৫০২)।


আদব-আখলাক



প্রশ্ন (৪২) : ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্ধারিত বয়স শর্ত থাকে। বেশি বয়স হলে ভর্তির সুযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে বয়স কমানো যাবে কি?

-রহমাতুল্লাহ
রাজশাহী।

উত্তর : বয়স কমানোর জন্য কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে না। কেননা মিথ্যা বলা বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া মহাপাপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকো’ (আল-হজ্জ, ২২/৩০)। মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যাচার বর্জন করো। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে ধাবিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়…’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৭; আবূ দাঊদ, হা/৪৯৮৯; মিশকাত, হা/৪৮২৪)। তাছাড়া এভাবে বয়স কমানো প্রতারণার শামিল, যা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করল, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩২; মিশকাত, হা/২৮৬০; আবূ দাঊদ, হা/৪৩৫২)। উল্লেখ্য যে, তিনটি স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও মিথ্যা বলা বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া ঠিক নয়। তাহলো- (১) মীমাংসার জন্য (২) যুদ্ধক্ষেত্রে (৩) স্ত্রী-স্বামী পরস্পরের নিকট (আবূ দাঊদ হা/৪৯২১; মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত, হা/৫০৩১ ও ৫০৩৩)।


প্রশ্ন (৪৩) : ‘সম্রাট শান উদ্দীননাম রাখা যাবে কি?

-রাশেদ
পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : সম্রাট শান উদ্দীন-এর অর্থ রাজাধিরাজ। বিধায় এ নাম রাখা যাবে না। কেননা যে সকল শব্দ বা নামের অর্থ রাজাধিরাজ তা দ্বারা মানুষের নাম রাখা নিষিদ্ধ। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সমীপে সবচেয়ে খারাপ নাম ঐ ব্যক্তির হবে যাকে ‘মালিকুল আমলাক’ তথা ‘রাজাধিরাজ’ বলা হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৬২০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৪৩; মিশকাত, হা/৪৭৫৫)।


প্রশ্ন (৪৪) : মিসওয়াক দাঁড়িয়ে করব, না-কি বসে করব?

-ইমরান হুসাইন
 ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : দাঁড়িয়ে কিংবা বসে মিসওয়াক করার ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। সুতরাং উভয় অবস্থায় মিসওয়াক করার বৈধতা রয়েছে। হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রাতে (ছালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৫; ইবনু মাজাহ, হা/২৮৬; আবূ দাঊদ, হা/৫৫)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞেস করা হয় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন গৃহে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম কোন কাজটি করতেন? তিনি বললেন, তাঁর প্রথম কাজ ছিল মিসওয়াক করা (আবূ দাঊদ, হা/৫১; মুসলিম, হা/২৫২; নাসঈ, হা/৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯)। হাদীছদ্বয়ে মিসওয়াক করার কথা বলা হয়েছে তবে কোনো পদ্ধতির কথা বলা হয়নি। অতএব মিসওয়াককারী তার সুবিধাজনক অবস্থায় মিসওয়াক করবে।


প্রশ্ন (৪৫) : যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হবে, না-কি বসে পান করতে হবে?

-ওয়াজেদ আলী
  ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : যমযমের পানি আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে পান করেছেন। বসে পান করার কোনো দলীল পওয়া যায় না। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যমযমের পানি পান করিয়েছি। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৬৩৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২০২৭; মিশকাত, হা/৪২৬৮)।


প্রশ্ন (৪৬) : ছেলে সন্তানের নাম আন-নাফী সোহান এবং আল-কাফী রুহান রাখা হয়েছে। নাম দু’টি রাখা যাবে কি?

-বোরজাহান আলী
মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ‘আন-নাফী’ আরবী শব্দ, যার অর্থ পরম উপকারকারী। এটি আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম। তাই ‘আন-নাফী’ নাম না রেখে ‘আব্দুন নাফী’ রাখা ভালো। তবে শুধু নাফে‘ নাম রাখা যায়। কিন্তু ‘সোহান’ কোনো আরবী শব্দ নয়। এ নাম রাখা যাবে না। অনুরূপ ‘আল-কাফী’ আরবী শব্দের অর্থ অমুখাপেক্ষী, প্রয়োজনমুক্ত, উপযোগী। তাই শুধু ‘আল-কাফী’ নাম না রেখে ‘আব্দুল কাফী’ বা ‘আব্দুল্লাহিল কাফী’ নাম রাখা ভালো। কিন্তু ‘রুহান’ কোনো অর্থপূর্ণ আরবী শব্দ নয়। এ নাম রাখা যাবে না।


আখিরাত হাউযে কাওছার



প্রশ্ন (৪৭) : হাউযে কাওছার কীসের তৈরি এবং এর আয়তন কত?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ

উত্তর : হাউয অর্থ চৌবাচ্চা বা পানি জমা হওয়ার স্থান। আর কাওছার অর্থ প্রচুর পরিমাণ, দানবীর নেতা, অফুরন্ত নে‘মত। এখানে হাউযে কাওছার হলো, জান্নাতের একটি ঝরনা। এটি প্রশস্ত গম্মুজ ও অনেক সারাইখানাবিশিষ্ট মণি-মুক্তা দ্বারা তৈরি। আনাস ইবনু মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি জান্নাতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় এক ঝরনার কাছে এলে দেখি যে তার দু’ধারে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিবরীল! এটা কী? তিনি বললেন, এটা ঐ কাওছার যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন। তার ঘ্রাণে অথবা মাটিতে ছিল উত্তম মানের মিশক-এর সুগন্ধি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৮১; তিরমিযী, হা/৩৩৬০)।

হাউযে কাওছারের চতুর্দিকের আয়তন প্রায় এক মাসের পথ। যার দূরত্ব ইয়ামান দেশের আদান হতে সিরিয়ার হাওযের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের পরিমাণ। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমার হাউযের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমান। তার পানি দুধের চেয়ে সাদা, তার ঘ্রাণ মিশক-এর চেয়ে বেশি সুগন্ধযুক্ত এবং তার পানপাত্রগুলো হবে আকাশের তারকার মতো অগণিত। তাত্থেকে যে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৭৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৯২; মিশকাত, হা/৫৫৬৭)। আবূ সাল্লাম বলেন, ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইয়ামান দেশের আদান হতে সিরিয়ার হাওযের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের পরিমাণ। এর পানির রং দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি এবং পানপাত্রের সংখ্যা হবে আকাশের তারকার সমসংখ্যক। যে ব্যক্তি তা হতে এক ঢোক পানি পান করবে, সে আর কখনো পিপাসিত হবে না। সর্বপ্রথম এর পানি পানের সৌভাগ্য অর্জন করবে দরিদ্র মুহাজিরগণ, যাদের মাথার চুল উশকোখুশকো, পোশাক ধূলিমলিন, যারা ধনীর দুলালীদের বিয়ে করেননি এবং যাদের জন্য বন্ধ দরজা খোলা হতো না’ (তিরমিযী, হা/২৪৪৪; মিশকাত, হা/৫৫৯২)।


আখিরাত জান্নাতজাহান্নাম



প্রশ্ন (৪৮) : জাহান্নামের সাপ বিচ্ছুর আকার আকৃতি কেমন হবে?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : জাহান্নামের সাপের আকৃতি হবে বড় ধরনের উটের মতো এবং বিচ্ছুর আকৃতি হবে খচ্চরের মতো বিরাট। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যারা জাহান্নামী হবে তাদের শাস্তির জন্য উপকরণ হিসাবে সেখানে রাখা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আগুনের সাপ। সেই সাপের আকৃতি হলো বড় ধরনের উটের মতো। আর এই সাপ যদি একবার কোনো দোযখীকে দংশন করে তাহলে তার বিষক্রিয়া থাকবে বহু দিন পর্যন্ত এবং ক্ষত জায়গা হতে রক্ত বাহির হবে দীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত। তারপরে এই সাপের ন্যায় বড় ধরনের বিচ্ছুও জাহান্নামে থাকবে প্রচুর পরিমাণে। তাদের আকৃতি হবে খচ্চরের মতো বিরাট। এরাও একবার দংশন করলে তাদের বিষক্রিয়াও থাকবে ৪০ বছর পর্যন্ত (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৬৭৬; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৭৪৭১; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৪২৯)। অপর এক বর্ণনায় আছে, জাহান্নামের সাপ হবে অত্যন্ত বিষাক্ত ও টাকমাথাবিশিষ্ট। তার দু’চোখের উপর দু’টি কালো দাগ থাকবে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অথচ সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদকে টেকোমাথা বিষাক্ত সাপে রূপান্তরিত করা হবে। যার দু’চোখে দু’টি কালো বিন্দু থাকবে। কিয়ামতের দিন ঐ সাপ তার গলা পেঁচিয়ে ধরবে এবং তার দু’চোয়াল কামড়ে ধরে বলতে থাকবে, আমি তোমার সঞ্চিত ধন। আমি তোমার সঞ্চিত ধন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪০৩; মিশকাত হা/১৭৭৪)।


প্রশ্ন (৪৯) : সন্তান শৈশবকালে মারা গেলে সে তার পিতামাতাকে জান্নাতে নিয়ে যায়। কিন্তু যে শিশুর পিতামাতা নেশাখোর সে কি তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে?

-মাহফূজ
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : মানুষ তার কর্মানুযায়ী জান্নাতে অথবা জাহান্নামে যাবে। তবে মানুষের শিশু সন্তানের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ যে সকল পিতা-মাতার সন্তান শৈশবকালে মারা গেছে তাদের জন্য ঐ শিশু জান্নাতের প্রজাপতি তুল্য। তাদের মাঝে কেউ তার পিতার সাথে মিলিত হবে, অথবা পিতা-মাতা দু’জনের সাথে মিলিত হবে। অতঃপর তারা তাদের পরিধানের কাপড় বা কাপড়ের আঁচল ধরে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৩৫; মিশকাত, হা/১৭৫২)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তবে কসম পুরা করার জন্য (ক্ষণিকের জন্য হলেও) প্রবেশ করানো হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১২৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৩২; তিরমিযী, হা/১০৬০; নাসাঈ, হা/১৮৭৫; মিশকাত, হা/১৭২৯)। উক্ত হাদীছগুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, মুসলিম পিতা-মাতা পাপী হলেও শিশু সন্তানের কারণে জান্নাতে যেতে পারে।


প্রশ্ন (৫০) : জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন ছাহাবীকে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কেন বা কোন কারণে ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ হিসাবে জান্নাতের সুসংবাদ বা সার্টিফিকেট দিয়েছেন?

-আব্দুস সাকী আহমাদ
দারুশা, রাজশাহী।

উত্তর : নির্দিষ্ট কোনো একটি আমলের কারণে নয়, বরং তাদের ব্যাপক আমলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে অন্যান্য কিছু ছাহাবী তাদের ব্যাপক নেক আমল ছাড়াও নির্দিষ্ট কোনো আমলের কারণে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ওযূর পর দু’রাক‘আত ‘তাহিয়্যাতুল ওযূ’-র ছালাত আদায় করার জন্য জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৫৮; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪৬৪; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৬; মিশকাত হা/১৩২২)।