ঈমান-আকীদা


প্রশ্ন (১) : প্রচলিত আছে যে, আল্লাহ তাআলার দুই হাতই ডান হাত। কিন্তু একটি হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহর ডান ও বাম হাত আছে। তাহলে কোনটি সঠিক?

-আব্দুর রশীদ
ঢাকা।

উত্তর: মহান আল্লাহর হাতের বিষয়ে ছহীহ হাদীছে ডান ও বাম উভয় হাতের কথাই এসেছে। তবে মহান আল্লাহর বাম হাত শুধুমাত্র নামের দিক থেকেই বাম হাত। কিন্তু সম্মান মর্যাদা ও বরকতের দিক থেকে তার উভয় হাতই ডান হাত। রাসূল a বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী পেঁচিয়ে নিবেন। তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে ডান হাতে ধরে বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় শক্তিশালী লোকেরা! কোথায় অহংকারীরা? এরপর তিনি বাম হাতে গোটা পৃথিবী গুটিয়ে নিবেন এবং বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় অত্যাচারী লোকেরা, কোথায় বড়ত্ব প্রদর্শনকারীরা?’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৮৮; মিশকাত, হা/৫৫২৩)। অত্র হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর ডান ও বাম হাত রয়েছে। আবার অন্য হাদীছে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর দুই হাতই ডান হাত। যেমন রাসূল a বলেন, ‘ন্যায়বিচারকগণ (ক্বিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিকটে নূরের মিম্বর সমূহে মহিমান্বিত দয়ালু (আল্লাহ)-এর ডানপার্শ্বে উপবিষ্ট থাকবেন। আর তার উভয় হাতই ডান হাত (অর্থাৎ সমান মহিমান্বিত)। (সেই ন্যায়পরায়ণ হচ্ছে) ঐসব লোক, যারা তাদের শাসনকার্যে, তাদের পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব সমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৭; মিশকাত, হা/৩৬৯০)। উভয় হাদীছের মধ্যে সামঞ্জস্য হচ্ছে আল্লাহ তাআলার ডান হাত ও বাম হাত থাকলেও তা সৃষ্টির কোন কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সৃষ্টিজীবের ক্ষেত্রে বাম হাত সাধারণত দুর্বল বা অপরিষ্কার কাজগুলো করে থাকে, কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে তেমনটি নয়। অর্থাৎ সম্মান-মর্যাদা, ক্ষমতা ও দোষ-ত্রুটির ক্ষেত্রে সৃষ্টজীবের হাতের সাথে তাঁর হাত তুলনীয় নয় বরং তার উভয় হাত বরকতময় ও সম্মানিত। তার উভয় হাত তেমন যেমন তার শানে মানায়। (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ১/১৬৫, মাউসুআতুল আলবানী ফিল আকীদা, ৬/২৯২-২৯৩)। অতএব উক্ত হাদীছদ্বয়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।


প্রশ্ন () : জিন জাতির কি বংশ বিস্তার হয়? তাদেরও কি সন্তানসন্ততি আছে?

– নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,  নওগাঁ।

উত্তর : হ্যাঁ, জিন জাতিরও বংশ বিস্তার হয় এবং তাদেরও সন্তান-সন্ততি আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, আমরা যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলীস ছাড়া তারা সবাই সিজদা করলো। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু। যালেমদের বিনিময় কত নিকৃষ্ট’ (সূরা আল-কাহাফ, ১৮/৫০)। এই আয়াত স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, জিনদের বংশধর আছে, তাদেরও বংশ বিস্তার হয় এবং তাদেরও সন্তান-সন্ততি আছে। তবে কীভাবে বংশ বিস্তার হয় সে সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে কোনো বর্ণনা আসেনি।


প্রশ্ন () : বড় শিরক করে মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কিন্তু কেউ যদি না জেনে ছোট শিরক করে মারা যায় তাহলে কি সে জাহান্নামে শাস্তির পর জান্নাতে প্রবেশ করবে, না-কি সেও চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে?

– মো. মিনহাজ পারভেজ
হড়গ্ৰাম, রাজশাহী।

উত্তর : ছোট শিরক কবীরা গুণাহ হলেও সেটি ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না। তাই কবীরা গুণাহগার ব্যক্তি যেমন চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়, ঠিক তেমনই ছোট শিরককারী ব্যক্তিও চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়। বরং সে একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন’ (সূরা আন-নিসা, ৪/৪৮)। এখানে যেই শিরকের গুণাহকে ক্ষমা করা হবে না সেটি আসলে বড় শিরক। কিন্তু ছোট শিরক আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। আল্লাহ তাকে চাইলে ক্ষমা করবেন আর চাইলে তাকে আযাব দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সুতরাং ছোট শিরককারী ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়।


প্রশ্ন () : কোনো ব্যক্তির আমলনামাতে নেকী ও গুণাহের পরিমাণ সমান সমান হয়ে গেলে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, না-কি জাহান্নামে প্রবেশ করবে?

– মোসা. আফছানা
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : যাদের নেকী ও গুণাহের পরিমাণ সমান হবে তারা আরাফ নামক স্থানে ততদিন অবস্থান করবে যতদিন আল্লাহ তাআলা চাইবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাদের উভয়ের মধ্যে পর্দা থাকবে। আর আরাফে কিছু লোক থাকবে, যারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনবে। আর তারা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, তোমাদের উপর সালাম। তারা তখনো জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা করে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামীদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না’ (সূরা আল-আরাফ, ৭/৪৬-৪৭)। আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী আরাফে অবস্থান করার পরে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দিবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এরাই কি তারা, যাদের সম্বন্ধে তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ তোমাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? (এদেরকেই বলা হবে) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না’ (সূরা আল-আরাফ, ৭/৪৯)। সুতরাং যাদের নেকী ও গুনাহের পরিমাণ সমান হবে তারা আরাফে অবস্থান করার পরে এক পর্যায়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


প্রশ্ন () : কুরআনের কপি যদি অনেক পুরাতন হয় এবং তা থেকে যদি পৃষ্ঠা খুলে যায়, তাহলে সেগুলোর জন্য করণীয় কী?

– মো. আহসানুল্লাহ
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : প্রথমত যতটা সম্ভব কুরআনের সেই পৃষ্ঠাগুলো ঠিক করে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি সেটি করা সম্ভব না হয়, সেগুলোকে ভালোভাবে পুড়িয়ে ফেলবে। কেননা উছমান c হাফসা g-এর নিকটে সংরক্ষিত কুরআনের কপি এনে আরো কয়েকটি কপি তৈরি করালেন। তারপর সেগুলোকে বিভিন্ন স্থানে পাঠালেন। আর আলাদা আলাদা বা একত্রিত কুরআনের যে কপিসমূহ রয়েছে তা জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৮৭)।


প্রশ্ন () : জনৈক আলেম বলেছেন, যে ব্যক্তি শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করে তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্ত রাখা হয়। এই কথার কেনো ভিত্তি আছে কি?

– মো. আহসানুল্লাহ
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : হ্যা, এই সম্পর্কে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যেটি হাসান (ছহীহুল জামে‘, হা/৫৭৭৩)। আদুল্লাহ ইবনু আমর c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘জুমআর দিনে অথবা জুমআর রাতে কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরের ফিতনা হতে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন’ (তিরমিযী, হা/১০৭৪)।


প্রশ্ন (৭) : কবরের আযাবের বিষয়টি কি কুরআন দ্বারা প্রমাণিত?

-মোখলেছুর রহমান, পাবনা।

উত্তর : হ্যাঁ, কবরের আযাবের বিষয়টি কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। (১) আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী আপনি যদি অত্যাচারীদের (কাফের-মুশরিকদের) দেখতেন, যখন তারা মৃত্যুকষ্টে পতিত হয়, ফেরেশতারা তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে, তোমরা তোমাদের আত্মা বের করে দাও। ফেরেশতাগণ এ সময় বলেন, আজ হতে তোমাদেরকে প্রতিফল স্বরূপ অপমানজনক শাস্তি দেয়া হবে’ (আল আনআম, ৬/৯৩)। এখানে কবরের শাস্তিকে অপমানজনক বলা হয়েছে। (২) আল্লাহ বলেন, ‘অবশেষে ফেরাউনের সম্প্রদায়কে আল্লাহর কঠোর শাস্তি ঘিরে ধরে। আর আগুনকে তাদের সামনে সকালে ও সন্ধ্যায় পেশ করা হয়’ (মুমিন, ৪০/৪৫-৪৬)। অর্থাৎ কবরে সকাল-সন্ধ্যা তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি পেশ করা হয়। (৩) আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা জালেম আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন। আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন’ (ইবরাহীম, ১৪/২৭)। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘কবরে মুসলিমকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দিবে, “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ আল্লাহর বাণীতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাণীটি হলো এই, যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪৬৯৯)।


প্রশ্ন (৮) : জনৈক বক্তা বলেছেন যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজেই জান্নাতীদেরকে সূরা আর-রহমান তেলাওয়াত করে শুনাবেন। এটি কি সঠিক বক্তব্য?

-মাহফুজুর রহমান
শিবগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : এ মর্মে কোনো ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি। বরং এবিষয়ে কিছু বর্ণনা এসেছে যেগুলোর সবই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফা, হা/১২৪৮, ৩২৮২)। সুতরাং এধরনের গায়েবী বিষয় কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দলীল ছাড়া কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যাবে না।


শিরক


প্রশ্ন (৯) : সন্তান পেটে আসলে অনেক মহিলা কোমরে বিভিন্ন ধরনের কাঠি বাধে যাতে সন্তান নষ্ট না হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো, এগুলো কি শরীআতসম্মত?

-মিজানুর রহমান, কুষ্টিয়া।

উত্তর : সন্তান নষ্ট না হওয়ার জন্য পেটে এধরনের কাঠি ব্যবহার করা শিরক। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ c তার স্ত্রীর শরীরে একটি সূতা দেখতে পেয়ে তা ছিড়ে ফেলার পরে বলেছিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি, জাদু, তাবীজ ও অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্ক-এর অন্তর্ভুক্ত (ইবনু মাজাহ, হা/৩৫৩০; আবুদাঊদ, হা/৩৮৮৩)। নবী a বলেছেন, ‘যে লোক কোনো কিছু ঝুলিয়ে রাখে (তাবীজ-তুমার) তাকে তার উপরই সোপর্দ করা হয়’ (তিরমিযী, হা/২০৭২)। সুতরাং অবশ্যই এধরনের কাঠি বেধে রাখা পরিহার করতে হবে।


বিদআত


প্রশ্ন (১০) : জনৈক ইমাম নিয়মিতভাবে ফজরের ফরয ছালাতের পর মুছল্লীদের সাথে নিয়ে উচৈঃস্বরে সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াত করেন। এই আমল কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

-আব্দুস সামাদ
আয়কর বিভাগ, রাজশাহী।

উত্তর : ফজরের ছালাতের পরে নিয়মিতভাবে উচৈঃস্বরে ও নিম্নস্বরে কোনোভাবেই সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াতের ব্যাপারে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোনো বর্ণনা আসেনি। সুতরাং এই আমল করা বিদআত, যা বর্জনীয়। রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি এমন আমল করে যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তাহলে সেটি বর্জনীয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।

উল্লেখ্য যে, ফজরের ছালাত পরে সূরা হাশর পড়ার প্রমাণে যে হাদীছ আছে তা নিতান্তই যঈফ (তিরমিযী, হা/২৯২২)।


প্রশ্ন (১১) : ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা যাবে কি?

-আব্দুর রহীম
পবা, রাজশাহী।

উত্তর :  কবর যিযারত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাসূল a বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের আখেরাতকে স্মরণ করাবে’ (ছহীহুল জামে, হা/৩৫৭৭)। তবে কবর যিযারত করার জন্য জুমআ ও দুই ঈদের দিনকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া বিদআত হবে। কেননা এই দুই দিনে খাছ করে দু‘আ করার পক্ষে রাসূল a ও ছাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ নেই। রাসূল a বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা শরীআতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। তবে যেকোনো দিনে, যেকোনো সময়ে কবর যিয়ারত করা যায় (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৫৫; মিশকাত, হা/১৭৬৭)।


প্রশ্ন (১২) : ফরয ছালাতের পর বিভিন্ন দু‘আর সাথে সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব, নাস ইত্যাদি পড়ার পর বুকে ফুঁ দিয়ে এবং হাতে ফুঁ দিয়ে গোটা শরীর মাসাহ করা কি ঠিক?

-আলমগীর হোসেন, পাবনা।

উত্তর:  ফরয ছালাতের পর যিকির, তাসবীহ ও আয়াতুল কুরসীসহ বিভিন্ন সূরা পড়ার কথা হাদীছে স্পষ্ট এসেছে। কিন্তু সেগুলো পড়ে শরীর মাসাহ করার বিষয়ে কোনো ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। তাই এগুলো পরিহার করা কর্তব্য। তবে রুকইয়া তথা ঝাড়ফুঁকের উদ্দেশ্যে যদি কেউ করে থাকে তাহলে তাতে বাধা নেই (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৩৯, ৫৭৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯২)।


ছালাত


প্রশ্ন (১৩) : চার রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে ইমাম প্রথম বৈঠক না করে তৃতীয় রাকআতে দাঁড়িয়ে যায়। এমতাবস্থায় ইমাম তৃতীয় রাকআত পড়ে বৈঠক করবে, না-কি চার রাকআত পড়ে শেষে সহো সিজদা দিবে?

-আব্দুস সামাদ
নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : চার রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে প্রথম বৈঠক না করেই যদি ইমাম দাড়িয়ে যায়, তাহলে ছালাত পূর্ণ করে নিতে হবে এবং সালাম ফিরানোর আগে দুটি সহো সিজদা দিতে হবে।  আব্দুল্লাহ ইবনু বুহাইনাহ c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী a তাঁদেরকে নিয়ে যোহরের ছালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথমে দুই রাকআত আদায়ের পর (প্রথম বৈঠকে) না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণও তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। ছালাতের শেষদিকে মুক্তাদীগণ সালামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নবী a  বসাবস্থায় তাকবীর দিলেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দুইটি সিজদা করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন (ছহীহ বুখারী, হা/৮২৯, ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭০)।


প্রশ্ন (১৪) : ছালাতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ পরে মনে পড়ল আমার ওযূ ছিল না। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

– আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : ছালাতের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শর্ত হলো পবিত্রতা। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক অথবা ভূলবশতই হোক, পবিত্রতাবিহীন ছালাত আদায় করলে সেই ছালাত বাতিল বলে গণ্য হবে। তাকে আবার পুনরায় সেই ছালাত আদায় করতে হবে। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হলে পুনরায় ওযু না করা পর্যন্ত মহান আল্লাহ তার ছালাত কবূল করবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৫৪)। ইবনু উমার h   বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি যে, পবিত্রতা ছাড়া ছালাত কবুল হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৪)। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত এমন পরিস্থিতিতে মনে হওয়ার সাথে সাথে ছালাত ছেড়ে দিতে হবে। তারপর ওযূ করে আবার পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে।


প্রশ্ন (১৫) : আমি প্রায়ই ফজরের ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করতে না পেরে বাসায় শুধু ফরয ২ রাকআত ছালাত আদায় করি। ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে যখন এ ছালাত আদায় করি তখন প্রায় সূর্য উঠার কিছু সময় আগে এবং পরে হয়। এতে কি আমার কোনো পাপ হবে?

– আশাদুল হক
প্রাণি বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

উত্তর : এমন অভ্যাস শরীআতে কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং শরীআতের বিধান হলো, সব কিছু ত্যাগ করে জামাআতে ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূল a বলেছেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর ছালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর ছালাতের আযান দেওয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা ছালাতে হাযির হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৪, ২৪২০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫১; মিশকাত, হা/১০৫৩)। ইবনু আব্বাস h  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ তার জবাব দিলো না ওযর ব্যতীত তার ছালাত কবুল হবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/৭৯৩; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৪২৬)। হাদীছে এটি মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল a বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী ছালাত হলো, ইশা ও ফজরের ছালাত। তারা যদি জানত যে, এই দুই ছালাতে কী প্রতিদান আছে তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও হাযির হতো’ (ইবনু মাজাহ, হা/৭৯৭, নাসাঈ, হা/৮৪৩)। সুতরাং নিয়মিতভাবে প্রশ্নে উল্লিখিত সময়ে ছালাত আদায় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এমন সময়ে নিয়মিতভাবে ছালাত আদায়কারী ব্যক্তি অবশ্যই পাপী হবে।


প্রশ্ন (১৬) : জামাআতে ছালাত আদায়ের সময় ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে, তখন পিছনের মুছাল্লীরাও কি তাই বলবে?

-মুহাম্মাদ রিপন হোসেন
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর : জামাআতে ছালাত আদায়ের সময় ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে, তখন পিছনের মুছাল্লীরা বলবে ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন তিনি রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন তোমরা বলবে ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। আর তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৪, ছহীহ মুসলিম, হা/৪১১)। তবে মুক্তাদীগণও ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতে পারে। নবী a বলেছেন, ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৪)। হাদীছের এই অংশ প্রমাণ করে যে, মুক্তাদীগণও ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতে পারে।


প্রশ্ন (১৭) : বাড়িতে বা অন্যখানে একাকী ছালাত আদায় করলে আযান ইক্বামত ছাড়া ছালাত কবুল হবে কি?

-হুমাউন কবীর
বগুড়া।

উত্তর : আযান ও ইক্বামত ছাড়া ছালাত কবুল হলেও একাকী ছালাত আদায়কারীর জন্য আযান ও ইক্বামত দেওয়াই সুন্নাত। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান p হতে বর্ণিত, তাকে তার পিতা সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সাঈদ খুদরী c তাঁকে বললেন, আমি দেখছি তুমি ছাগল চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালোবাস। তাই তুমি যখন ছাগল নিয়ে থাক, বা বন-জঙ্গলে থাক এবং ছালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চকন্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন, ইনসান বা যে কোনো বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়াযযিনের আওয়াজ শুনবে, সে ক্বিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সাঈদ c বলেন, একথা আমি আল্লাহর রাসূল a-এর নিকট শুনেছি (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৯)। সুতরাং আযান ও ইক্বামত দিয়েই ছালাত আদায় করতে হবে।


প্রশ্ন (১৮) : হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, যোহরের পূর্বে রাসূল a চার রাকআত ছালাত আদায় করতেন। আবার ফরয ছালাতের পরেও চার রাকআত পড়ার কথা আছে। প্রশ্ন হলো উক্ত চার রাকআত ছালাত দুই দুই রাকআত করে আদায় করতে হবে না-কি এক সালামেই চার রাকআত আদায় করতে হবে?

–শামীম হোসেন
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর :  যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত সুন্নাত দুই রাকআত করে পড়াই উত্তম। উল্লেখ্য, এক সালামে চার রাকআত ছালাত আদায় করা মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবু দাঊদ, হা/১২৭০)।


প্রশ্ন (১৯) : বিতর ছালাতের পরে নির্দিষ্ট কোনো দু‘আ আছে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর :  হ্যাঁ, বিতর ছালাতের পরে নির্দিষ্টভাবে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া যায়। তা হলো, سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ ‘সুবহানাল মালিক্বিল কুদ্দূস’। এটি তিনবার পড়বে। তবে তৃতীয়বার পড়বে একটু উচ্চৈঃস্বরে। উবাই ইবনে কাব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a যখন বিতর ছালাতের সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন, ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দূস’ (আবুদাঊদ, হা/১৪৩০; নাসাঈ, হা/১১৬৯; মিশকাত, হা/১২৭৪)। নাসাঈর অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ a যখন (বিতরের) সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার বলতেন, ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দূস’ এবং তৃতীয়বার স্বর উঁচু করতেন (নাসাঈ, হা/১৭৩২; মিশকাত, হা/১২৭৫)।


প্রশ্ন (২০) : বিতর ছালাতে কি প্রতিদিন হাত তুলে দুআ কুনূত করা যাবে, না-কি এটি বিদআত বলে গণ্য হবে?

-ফযলে রাব্বী, রাজশাহী।

উত্তর :  দু‘আ কুনূত হাত তুলে পড়া যায় (বায়হাক্বী, ২/২১১-২১২; মির‘আত, ৪/৩০০; তুহফা, ২/৫৬৬-৬৭)। আবার হাত না তুলে রুকূর পূর্বে ক্বিরাআতের সাথেও পড়া যায় (ইরওয়াউল গালীল, ২/৭১ পৃ.)। হাসান ইবনু আলী c  বলেন, রাসূল a আমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন যা আমি বিতর ছালাতে পাঠ করি (আবু দাঊদ, হা/১৪২৫)। বিতর ছালাতে দুআ কুনূত পড়া সুন্নাত। তবে তা নিয়মিত রাসূল a পড়েছেন এ মর্মে কোনো হাদীছ পাওয়া যায় না। বরং আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ c নিজে নিয়মিত পড়তেন মর্মে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। যার সনদটি মুনকাতি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অপর পক্ষে নিয়মিত না পড়ার ব্যাপারে আলী, উমার ও উবাই ইবনু কা‘ব n সহ অনেকের হতে আছার বর্ণিত হয়েছে (তুহফাতুল আহওয়াযী, ২/৪৬২) । বিধায় নিয়মিত না পড়ে মাঝে মাঝে ছাড়াই শ্রেয় হবে। ওয়াল্লাহু আ‘লাম।


প্রশ্ন (২১) : একই ইমাম ঈদের জামাআতে একাধিক বার ইমামতি করতে পারে কি?  ছাহাবায়ে কেরামের জীবনে এরূপ কোনো আমল আছে কি?

-মীযানুর রহমান
 গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর:  একই ইমাম একই ঈদের ছালাত একাধিক বার পড়িয়েছেন মর্মে রাসূল a ও তার ছাহাবীগণের কোনো আমল পাওয়া যায় না। তবে একই ছালাত একাধিকবার পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত। মুআয ইবনু জাবাল c রাসূলুল্লাহ aএর পিছনে ইশার ছালাত পড়তেন এবং নিজ সম্প্রদায়ে গিয়ে আবার তাদের ইমামতি করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৬৫; মিশকাত, হা/১১৫০)। এক্ষণে ইমামের অভাবে যদি এরূপ করতে হয়, তাহলে তা শরীআতে জায়েয হবে। কেননা ছালাতুল খওফে রাসূল একদলকে নিয়ে একবার ইমামতি করেছেন। আরেক দলকে নিয়ে তিনি আবার ইমামতি করেছেন (নাসাঈ, হা/১৫৫২)।


জানাযা


প্রশ্ন (২২) : জানাযা পড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যোগ্য কে? মৃতের আত্মীয়স্বজন, না-কি এলাকার ইমাম? একজন আলেম বলেছেন, মসজিদের ইমামই বেশি হক্বদার। তার কথা কি ঠিক?

– মো. আহসানুল্লাহ
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : অছীয়তকৃত ব্যক্তি মৃতব্যক্তির জানাযা পড়ানোর বেশী হক্বদার। তারপর আমীর বা তার প্রতিনিধি বা মসজিদের ইমাম মৃতব্যক্তির জানাযা পড়ানোর ক্ষেত্রে বেশী হক্বদার (আল মুগনী, ৩/৪০৭)। রাসূল a বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিজস্ব প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামতি করবে না কিংবা তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়িতে তার বিছানায় বসবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭৩)। হাসান ইবনু আলী c মৃত্যুবরণ করলে হুসাইন ইবনু আলী c মদীনার আমীর সাঈদ ইবনুল আসকে হাসান c-এর জানাযার ইমামতি করার জন্য বললেন। তারপর হুসাইন c বললেন, এটি যদি সুন্নাত না হতো, তাহলে কখনোই আমি পিছনে থাকতাম না (মুসতাদরাক হাকেম, হা/৪৭৯৯)। এই বিষয়ে এর চেয়ে বড় দলীল আর নেই। কেননা হাসান c-এর জানাযাতে অনেক ছাহাবী উপস্থিত ছিলেন (আত-তালখীছুল হাবীর লি ইবনু হাজার, ২/২৮৮)। আর যেহেতু জানাযার ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করতে হয়, তাই অন্যান্য ছালাতের মতো এই ছালাতের ইমামতি করাতে ইমামই বেশী হক্বদার (আল মুগনী, ৩/৪০৭)।


হজ্জ


প্রশ্ন (২৩) : কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোনো ব্যক্তির ওপর হজ্জ ফরয হবে?

-দুলাল হোসেন
কুমিল্লা

উত্তর : যদি কোনো ব্যক্তির নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, দৈহিক সক্ষমতা থাকে এবং আর্থিকভাবে কা‘বা ঘরে যাওয়া ও আসার সমপরিমাণ সম্পদ থাকে এবং এ সময়ে পরিবার পরিজনের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে তার ওপর হজ্জ ফরয (আলে ইমরান, ৩/৯৭)। অনেকের উপর হজ্জ ফরয হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে অলসতা করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে, সে যেন দ্রুত সেটা সম্পাদন করে’ (আবুদাঊদ, হা/১৭৩২, মিশকাত, হা/২৫২৩)


প্রশ্ন (২৪) : আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু হজ্জে যেতে অক্ষম এমন ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ করা যাবে কি?

-আব্দুল্লাহ কাওছার
শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর:  হ্যাঁ, এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করা যাবে। আবূ রাযীন উক্বায়লী c হতে বর্ণিত, একদা তিনি নবী করীম a-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল a! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, হজ্জ ও উমরা করতে সক্ষম নয় এবং বাহনে বসতে পারেন না। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও উমরা করো’ (তিরমিযী, হা/৯৩০; আবূ দাঊদ, হা/১৮১০; নাসাঈ, হা/২৬২১; মিশকাত, হা/২৫২৮)। তবে হজ্জ আদায়কারীকে নিজের হজ্জ পূর্বে আদায় করতে হবে। ইবনু আব্বাস h হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ a জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, আমি শুবরোমার পক্ষ হতে হজ্জের নিয়্যত করছি। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘শুবরোমা কে? সে বলল, আমার এক ভাই অথবা বলল, আমার এক আত্মীয়। তখন রাসূলুল্লাহ a জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি নিজের হজ্জ করেছো? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তুমি প্রথমে নিজের হজ্জ করো অতঃপর শুবরোমার হজ্জ করবে’ (মুসনাদুশ শাফেঈ, হা/১০০০; আবূ দাঊদ, হা/১৮১১; ইবনু মাজাহ, হা/২৯০৩)। তবে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে শুধু উমরা করা যাবে না এবং এক হজ্জের সাথে একাধিক উমরাও করা যাবে না।


প্রশ্ন (২৫) : ঈদুল আযহার দিন ছালাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত ছিয়াম থাকা ও কুরবানীর কলিজা দ্বারা ইফতারী করা কি সুন্নাত?

-মিলন হুসাইন
রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর:  ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈদুল ফিতরে খেয়ে ঈদের মাঠে যাওয়া এবং ঈদুল আযহাতে ঈদের মাঠ থেকে এসে খাওয়া সুন্নাত (তিরমিযী, হা/৫৪২; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫৬; মিশকাত, হা/১৪৪০)। কেননা রাসূল a স্বীয় কুরবানীর গোশত হতে খেতেন (আহমাদ, হা/২৩০৩৪)। অপর বর্ণনায় আছে, ‘…তিনি ঈদুল আযহার দিন খেতেন না (পশু) যবেহ না করা পর্যন্ত’ (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/১৪২৬; বায়হাক্বী, হা/৫৯৫৪; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৮৪৫, সনদ ছহীহ)। অবশ্য কুরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া উত্তম। বিদায় হজ্জের দিন তিনি ১০০টি উটের প্রতিটি থেকে একটু করে অংশ নিয়ে এক পাত্রে রান্না করে সেখান থেকে গোশত খেয়েছিলেন ও ঝোল পান করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩০৭৪; মিশকাত, হা/২৫৫৫)। তবে কলিজা খাওয়া মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল (সুবুলুস সালাম, ১/৪২৮; তা‘লীক্ব আলবানী, ২/২০০)। উল্লেখ্য যে, ঈদুল আযহার দিন না খেয়ে থাকাকে ছিয়াম বলা এবং ঈদগাহ থেকে এসে খাওয়াকে ইফতারী বলার কোনো প্রমাণ শরীআতে পাওয়া যায় না।


প্রশ্ন (২৬) : যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ফযীলত কী?

-নাজিউর রহমান
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।

উত্তর:  যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের নেক আমল মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং এর ফযীলত জিহাদের চেয়েও বেশি। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস h হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘(বছরের) যে কোনো দিনের সৎ আমলের চেয়ে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল মহান আল্লাহর নিকটে অধিকতর প্রিয়’। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল a! আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও কি? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও। তবে সেই ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে তার জানমাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কোনো একটিও নিয়ে ফিরে আসেনি (অর্থাৎ শহীদ হয়ে গেছে)’ (আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৮; তিরমিযী, হ/৭৫৭; ইবনু মাজাহ, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/১৪৬০, সনদ ছহীহ)।


কুরবানী সংক্রান্ত বিধান


প্রশ্ন (২৭) : কুরবানী করা ওয়াজিব না-কি সুন্নাত?

-আব্দুল মালেক, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানী ওয়াজিব বা ফরয নয়; বরং সক্ষম ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেসবের উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে’ (আল-হাজ্জ, ২২/৩৪)। উম্মু সালামাহ g হতে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে অর্থাৎ না কাটে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭)। এই হাদীছে কুরবানীকে রাসূল a কুরবানীদাতার ইচ্ছাধীন করেছেন। সুতরাং এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, কুরবানী করা সুন্নাত। মানুষ ফরয মনে করবে এই ভয়ে আবূবকর এবং ওমর h মাঝে মধ্যে কুরবানী করতেন না (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/১৯৫০৬-৭)। অতএব কুরবানী করা সুন্নাত।


প্রশ্ন (২৮) : যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা উচিত নয়। এই বিধান কি শুধু কুরবানীদাতার জন্য না-কি পরিবারের সকল সদস্যের জন্য?

-সাব্বির হোসেন
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : এ বিধান পরিবারের সবার উপর প্রযোজ্য নয়; বরং তা শুধু কুরবানীদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উম্মু সালামা g থেকে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘যখন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে, আর তোমাদের কেউ যদি কুরবানী করার মনস্থ করে, তাহলে সে যেন চুল কিংবা নখ না কাটে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; মিশকাত, হা/১৪৫৯)। হাদীছে উল্লেখিত বিষয়টি শুধু কুরবানীদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরিবারের সকলের জন্য নয়। কাজেই পরিবারের অন্য সদস্যগণ আদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়।


প্রশ্ন (২৯) : কুরবানীর নিয়্যতে ক্রয়কৃত পশু ত্রুটিযুক্ত হলে সেই পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

-আহমাদ
কাটাখালী, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত সুস্থ পশু যদি রোগাক্রান্ত কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায়, তাহলে উক্ত পশু দিয়ে কুরবানী করতে শারঈ কোনো বাধা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের c থেকে বর্ণিত, তার কাছে হজ্জের কুরবানীর পশুসমূহের মধ্যে একটি কানা পশু নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন, যদি পশুটি তোমাদের কেনার পরে কানা হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা তা কুরবানীতে চালিয়ে দাও। আর যদি তোমাদের কেনার আগে থেকেই কানা হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে অন্য একটি কুরবানী দাও’ (বায়হাক্বী, সুনানে ছুগরা, হা/১৭৭৪)। ইমাম নববী p বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ (আল-মাজমূ‘, ৮/৩৬৩)।


প্রশ্ন (৩০) : ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম, শিং ও খুর  উপস্থিত হবে। একথা কি ঠিক?

-আসাদুজ্জামান
বগুড়া।

উত্তর:  উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফ তিরমিযী, হা/১৪৯৩; সিলসিলা যঈফা, হা/৫২৬, ২/১৪; যঈফ তারগীব, হা/৬৭১, ১/১৭০)। এছাড়া উক্ত হাদীছ কুরআনের আয়াতের বিরোধী। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিকটে কুরবানীর গোশত ও রক্ত পৌঁছে না; বরং তোমাদের তাক্বওয়া তাঁর নিকট পৌঁছে’ (আল-হজ্জ, ২২/৩৭)।


প্রশ্ন (৩১) : কুরবানীর চামড়ার টাকা মসজিদ ও মাদরাসায় দেওয়া যাবে কি?

-আবূ তাহের
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

উত্তর :  কুরবানীর চামড়ার টাকা মসজিদে দেওয়া যাবে না। কেননা  রাসূল a আলী c-কে কুরবানীর চামড়া ফকীর-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করার আদেশ করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩১৭)। কিন্তু তিনি তাকে মসজিদে দেওয়ার আদেশ করেননি। তবে মাদরাসা ‘ফী সাবীলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত হিসাবে চামড়া ও যাকাত-ওশরের টাকা সেখানে প্রদান করা যায় (ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃ. ৪৪২, ফতওয়া নং ৩৮৬; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১৮/২৫২-২৫৩)।


প্রশ্ন (৩২) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বা করা যাবে কি?

-এহসানুল হক্ব
পলিখাঁপুর, দিনাজপুর।

উত্তর :  না, একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বা করা যাবে না। কেননা রাসূল a এবং ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এ ধরনের আমলের অস্তিত্ব ছিল না (নায়লুল আওত্বার, ৬/২৬৮, ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায়; মিরআত, ২/৩৫১ ও ৫/৭৫)। কুরবানী ও আক্বীক্বা দুটি পৃথক বিষয়। পৃথকভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।


প্রশ্ন (৩৩) : কুরবানীর গোশত সমানভাবে তিন ভাগে ভাগ করা কি জরুরী? কুরআন-হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মিলন হুসাইন
রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কুরবানীর গোশত সমানভাবে তিন ভাগে ভাগ করার বিষয়টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং তা নিজে খাবে এবং আত্মীয়-স্বজন ও ফকীর-মিসকীনকে খাওয়াবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘…তা হতে তোমরা নিজেরা খাও এবং হতদরিদ্রদের খাওয়াও’ (আল-হজ্জ, ২২/২৮)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘…তোমরা তা থেকে খাও এবং মিসকীন ও ফক্বীরকে খাওয়াও’ (আল-হজ্জ, ২২/৩৬)। রাসূল a প্রথমদিকে তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত জমা রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ছাহাবীগণ বললেন, আপনি তো তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন? তখন রাসূল a বললেন, ‘গ্রাম থেকে অনেক অভাবী লোক আসার কারণে আমি সেই বছরে নিষেধ করেছিলাম। এখন যেহেতু সেই পরিস্থিতি নেই, অতএব তোমরা খাও, জমা রাখ এবং দান করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭১)। পূর্বোক্ত আয়াতদ্বয়ে নিজে খাওয়া এবং দুই শ্রেণির মানুষকে খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। আর হাদীছে পরিস্থিতি অনুযায়ী দান করতে বলা হয়েছে। অতএব, এলাকায় অভাবী লোকের সংখ্যা বেশি হলে নিজে খাওয়ার তুলনায় দান করতে হবে বেশি। আর অভাবীর সংখ্যা কম হলে নিজের ইচ্ছামতো খাওয়া বা দান করা যেতে পারে। তবে তিন ভাগ না করলে মানুষ গোনাহগার হবে বিষয়টি এমন নয়।


প্রশ্ন (৩৪) : প্রতিবেশীকে কুরবানীর গরুর গোশত দিয়ে সমপরিমাণ অথবা কম কিংবা বেশি করে ছাগলের গোশত নেওয়া যাবে কি?

-ছিদ্দীক্ব
 চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর।

উত্তর : এরূপ পরিমাণভিত্তিক লেনদেনের ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের কোনো আমল পাওয়া যায় না। তাই কুরবানীর গোশতের ক্ষেত্রে এই ধরনের লেনদেন করা উচিত নয়। তবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজনের নিকট থেকে হাদিয়াস্বরূপ কিছু নেওয়া এবং তাদেরকে কিছু দেওয়া যায়। রাসূল a বলেছেন, ‘হাদিয়া দাও, মহব্বত বাড়বে’ (আল আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৯৪; মিশকাত, হা/৪৬৯৩)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘রাসূল a হাদিয়া নিতেন এবং তার বদলা দিতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮৫; মিশকাত, হা/১৮২৬)।


প্রশ্ন (৩৫) : কুরবানীর পশু যবেহকারীকে পারিশ্রমিক হিসাবে গোশত দেওয়া যাবে কি?

-রকীবুল ইসলাম
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানীর গোশত থেকে কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছু দেওয়া যাবে না। আলী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a তাকে তার কুরবানীর পশুর পাশে দাঁড়াতে, এদের গোশত, চামড়া ও পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে এবং তা হতে কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছু না দিতে নির্দেশ দেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৭১৭)। তবে যবেহকারী কুরবানীর গোশত পাওয়ার হক্বদার হলে হক্বদার হিসাবে কিছু দেওয়া যেতে পারে (মুগনী, ১১/১০)। তবে তাকে তার পারিশ্রমিক দিতে হবে (ইবনু মাজাহ, হা/২৪৪৩; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৪৯৮; মিশকাত, হা/২৯৮৭)।


প্রশ্ন (৩৬) : টাকা ধার নিয়ে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল আলিম
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর:  কুরবানী আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। বছরে মাত্র একবার কুরবানী দেওয়ার সুযোগ আসে। তাই যথাসাধ্য কুরবানী দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। ঋণ করা ব্যতীত কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে এবং মাসিক বেতন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অল্প সময়ে ঋণ পরিশোধ করার উপায় থাকলে ঋণ করে কুরবানী করাতে শারঈ কোনো বাধা নেই (মাজমূঊল ফাতাওয়া লি-ইবনে তায়মিয়া, ২৬/৩০৫; ফাতাওয়া বিন বায, ১/৩৭)।


প্রশ্ন (৩৭) : সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কুরবানী করেনি, তাদেরকে গোশত দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল হামীদ
তালা, সাতক্ষীরা।

উত্তর:  হ্যাঁ, যাবে। কেননা সামর্থ্য থাকলেই কুরবানী করা জরুরী নয়। বরং কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। কোনো সময় কেউ ছেড়ে দিলে গোনাহগার হবে না। আবূ বকর ও উমার h সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো কুরবানী করেননি (ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৩৯, ৪/৩৫৪; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ৪/১৭৭)। আবূ মাসঊদ আনছারী c বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকার পরও আমি কুরবানী দিই না এই আশঙ্কায় যে, আমার প্রতিবেশীগণ হয়ত মনে করবে কুরবানী দেওয়া আমার জন্য জরুরী’ (ইরওয়াউল গালীল, ৪/৩৫৫)। তাই তাদেরকে হাদিয়াস্বরূপ কুরবানীর গোশত দেওয়াতে কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন (৩৮) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুছ ছামাদ
ডুমুরিয়া, খুলনা।

উত্তর :  মৃত ব্যক্তির নামে পৃথক কুরবানী দেওয়া শরীআতসম্মত নয়। কেননা তা রাসূল a-এর কথা, কর্ম বা সম্মতি কোনোটির দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। রাসূল aএর জীবদ্দশাতেই ফাতেমা g ছাড়া তার সকল সন্তান, দুই স্ত্রী খাদীজা ও যায়নাব বিনতে খুযায়মা g এবং চাচা হামযা c প্রমুখ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অথচ তিনি তাদের কারও পক্ষ থেকেই কুরবানী করেননি। তাছাড়া রাসূল aএর জীবদ্দশায় কোনো ছাহাবী কাছের কিংবা দূরের কোনো মৃতের নামে কুরবানী করেছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায় না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া শায়খ উছায়মীন, ১৭/২৬৭)। সুতরাং মৃতব্যক্তির নামে কুরবানী করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন (৩৯) : একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি পশু কুরবানী করতে পারে?

-তানভীরুল ইসলাম
 মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানীই যথেষ্ট। আত্বা ইবনু ইয়াসার বলেন, আমি আবূ আইয়ূব আনছারী c-কে জিজ্ঞস করলাম, রাসূল aএর যুগে কীভাবে কুরবানী হতো? তিনি বললেন, একজনে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী করত। সেটা থেকে তারা খেত  এবং মানুষকে খাওয়াত। অবশেষে মানুষেরা গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তা তুমি নিজেই দেখতে পাচ্ছ (তিরমিযী, হা/১৫০৫)। তবে সামর্থ্য অনুপাতে একাধিক পশু কুরবানী করতে পারে। আনাস c হতে বর্ণিত, নবী a  শিংওয়ালা সাদা-কালো রঙের দুটি ভেড়া কুরবানী করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৬৪, ৫৫৬৫)। অপর বর্ণনায় আছে, রাসূল a একসাথে ১০০টি উট কুরবানী করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; ইবনু মাজাহ, হা/৩০৭৪)।


প্রশ্ন (৪০) : মহিলারা কি কুরবানীর পশু যবেহ করতে পারবে?

-আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কুষ্টিয়া।

উত্তর : মহিলারা কুরবানীর পশুসহ যেকোনো হালাল পশু যবেহ করতে পারবে। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক c হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তার কতকগুলো ছাগল বা ভেড়া ছিল, যা সাল নামক স্থানে চরে বেড়াতো। একদিন আমাদের এক দাসী দেখল যে, আমাদের ছাগল বা ভেড়ার মধ্যে একটি ছাগল মারা যাচ্ছে। তখন সে একটি পাথর ভেঙ্গে তা দিয়ে ছাগলটাকে যবেহ করে দিল। কা‘ব তাদেরকে বললেন, তোমরা এটা খেয়ো না, যে পর্যন্ত না আমি নবী a-কে জিজ্ঞেস করে আসি অথবা কাউকে নবী a-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠাই। তিনি নিজেই নবী a-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন অথবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি a তা খাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, এ কথাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগল যে, দাসী হয়েও সে ছাগলটাকে যবেহ করল। (ছহীহ বুখারী, হা/২৩০৪; মিশকাত হা/৪০৭২)। অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, মহিলারাও পশু যবেহ করতে পারবে।


প্রশ্ন (৪১) : কুরবানীর জন্য একটি পশুতে সর্বোচ্চ কত জন অংশগ্রহণ করতে পারে? 

-রাকিব হাসান
কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

উত্তর : প্রত্যেক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে কুরবানী হওয়াই ভালো। কারণ রাসূল a বলেছেন, ‘হে লোক সকল! প্রত্যেক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে কুরবানী দেওয়া কর্তব্য’ (আবূ দাঊদ, হা/২৭৮৮; মিশকাত, হা/১৪৭৮)। আত্বা ইবনু ইয়াসার বলেন, আমি আবূ আইয়ূব আনছারী c-কে জিজ্ঞস করলাম, রাসূল aএর যুগে কীভাবে কুরবানী হতো? তিনি বললেন, একজনে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী করত। সেটা থেকে তারা খেত  এবং মানুষকে খাওয়াতো। অবশেষে মানুষেরা গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তা তুমি নিজেই দেখতে পাচ্ছ (তিরমিযী, হা/১৫০৫)। তবে একটি উট ও গরুতে সাত জন শরীক হতে পারে। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ c বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে’ (আবূ দাঊদ, হা/২৮০৮; তিরমিযী, হা/৯০৪; মিশকাত, হা/১৪৫৮)। তবে উটে দশ জনও শরীক হওয়া যায় (ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩১, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, হাদীছগুলোতে সফরের কথা উল্লেখ থাকলেও হাদীছগুলোর আমল সফরের সাথে খাছ নয়। সফরে হোক আর মুক্বীম অবস্থায় হোক গরুতে সাতজন ও উটে দশজন অংশগ্রহণ করতে পারে।


প্রশ্ন (৪২) : একটি গরু বা উটে সাতজনের কম সংখ্যক লোক শরীক হয়ে কি কুরবানী দিতে পারবে?

-মাহফুজর রহমান
পাবনা।

উত্তর : কুরবানীর ক্ষেত্রে উত্তম হলো, প্রত্যেক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে কুরবানী দেওয়া। কারণ রাসূল a বলেছেন, ‘হে লোক সকল! প্রত্যেক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে কুরবানী দেওয়া কর্তব্য’ (আবূ দাঊদ, হা/২৭৮৮; মিশকাত, হা/১৪৭৮)। তবে একটি গরুতে সাতজন অংশগ্রহণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি নয়। জাবের c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ a-এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট বা গরু সাতজনে মিলে কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন (ছহীহ মুসমি, হা/১৩১৮)। সাত ভাগের কমে কুরবানী দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সীমাবদ্ধতা পাওয়া যায় না। রাসূল a বিদায় হজ্জের দিন একশতের বেশি উট কুরবানী করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩১৭)। সাতভাগে কুরবানীর ব্যাপারে যেমন হাদীছ পাওয়া যায় তেমন এক ব্যক্তি একটি গরু কুরবানী দেওয়ার ব্যাপারেও হাদীছ পাওয়া যায় (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩১৯)। উটে সাতভাগের যেমন দলীল পাওয়া যায় তেমন দশভাগেরও দলীল পাওয়া যায় (ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/২৫৫৩)। তবে কমেও কুরবানী দেওয়া যেতে পারে (আল-ইনসাফ ফি মা‘রেফাতির রাজেহ মিনাল খিলাফ, ৪/৭৬ পৃ.)।


প্রশ্ন (৪৩) : সবচেয়ে উত্তম কুরবানী কোনটি, উট, গরু নাকি ছাগল?

-আতাউর রহমান
বগুড়া।

উত্তর : কুরবানীর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কুরবানী হলো পুরো একটি উট কুরবানী দেওয়া, তারপর গরু, তারপর ছাগল, তারপর উট বা গরু ভাগ দেওয়া। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমুআর দিন প্রথম পর্যায়ে জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং ছালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮১, ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫০)।


হালাল হারাম


প্রশ্ন (৪৪) : স্মাটফোনে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলা যায়। ইসলামী শরীআতে এগুলো কি হালাল?

-আরিফুল ইসলাম, রাজশাহী।

উত্তর : না, এসব গেমস হালাল নয়, তাই এগুলো খেলা যাবে না। কেননা এতে যথেষ্ট সময় অপচয় হয়। আর যে খেলায় সময়ের অপচয় হয়, দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে না এবং আল্লাহর যিকির ও ছালাত হতে বিরত রাখে তা শয়তানের কাজ (আল-মায়েদা, ৫/৯১)। আর মোবাইলে গেমস খেলাও এমনি, কাজেই তা অবৈধ। বুরায়দা c হতে বর্ণিত, নবী a  বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দাবা খেলল, সে যেন তার হাতকে শূকরের রক্ত-গোশত দ্বারা রঞ্জিত করল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬০; মিশকাত, হা/৪৫০০)। উল্লেখ্য যে, হাদীছে বর্ণিত শব্দ ‘নারদেশীর’ দাবার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যেসব খেলাধুলায় সময়ের অপচয় হয় তার সবগুলো নারদেশীরের অন্তর্ভুক্ত যা স্পষ্ট হারাম। তাছাড়া তিনটি খেলা ছাড়া সকল প্রকারের খেলা যা লোকেরা খেলে থাকে তা অন্যায় ও বাতিল- ১. ধনুকের সাহায্যে তীর নিক্ষেপ করা। ২. ঘোড়ার প্রশিক্ষণ ও ৩. স্ত্রীর সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করা। এগুলো শরীআতে বৈধ ও স্বীকৃত (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৩৮; দারেমী, হা/২৪০৫ তিরমিযী, হা/১৮৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২৮১১; মিশকাত, হা/৩৮৭২)।


প্রশ্ন (৪৫) : স্বামী-স্ত্রী যতবার মিলন করবে ততবার কি ফরয গোসল করতে হবে? যদি করতেই হয় তাহলে শীতকালে কী করতে হবে?

– সাঈদ হোসেন
সাতক্ষীরা।

উত্তর : স্বামী স্ত্রী একাধিকবার মিলন করলেও শেষে একবার গোসল করলেই সেটি যথেষ্ট হবে। আনাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a একই গোসলেই তার সকল স্ত্রীর কাছে যেতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৯)। তবে একাধিকবার মিলন করতে চাইলে দুই মিলনের মাঝে ওযূ করা মুস্তাহাব। আবূ সাঈদ খুদরী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে তারপর আবার মিলিত হবার ইচ্ছা করবে সে যেন ওযূ করে নেয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৮)।


প্রশ্ন (৪৬) : জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে পূর্বে অনেক গীবত করা হয়েছে তবে তিনি এখন বেঁচে নেই তার ব্যাপারে গীবত করার কারণে উক্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য বর্তমানে করণীয় কী?

-রবীউল ইসলাম
 চাঁদমারী, পাবনা।

উত্তর :  গীবত বান্দার সাথে জড়িত পাপ। বান্দার সাথে জড়িত পাপ বান্দার কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হয়। আবু হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি কারও প্রতি জুলুম করে থাকে সম্মান কিংবা অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে, তাহলে সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তা মীমাংসা করে নেয়, সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন কোনো দীনার বা দিরহাম (স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রা) থাকবে না…’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৫৮০)। এখন যার গীবত করা হয়েছে, সে যদি মারা যায় তাহলে চেষ্টা করতে হবে, যার কাছে তার গীবত করা হয়েছে সে ব্যক্তির কাছে ওই মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করবে। তার নামে দান করবে ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। আশা করা যায়, এসব পদ্ধতি অবলম্বন করলে ক্ষমা হতে পারে।


প্রশ্ন (৪৭) : টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা অহংকারের লক্ষণ। প্রশ্ন হলো, কেউ যদি অহংকার না করে টাখনুর নিচে কাপড় পরে তাহলে কী সমস্যা আছে?

– আসাদুল্লাহ, নওগাঁ।

উত্তর : অহংকারের উদ্দেশ্য হোক বা না হোক পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হারাম। নবী a বলেছেন, পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নীচে থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭)। নবী a বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির সাথে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে’। রাবী বলেন, একথাগুলো রাসূলুল্লাহ a তিনবার বললেন। আবু যার c বলেন, হে আল্লাহর রাসূল a! তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা? তিনি বললেন, ‘টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী, কিছু দান করে অনুগ্রহ প্রকাশকারী এবং মিথ্যা কসম করে পণ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬; মিশকাত, হা/২৭৯৫)। পূর্ববর্তী যুগে কোনো এক ব্যক্তিকে টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানের জন্য আল্লাহ তাআলা তাকে মাটির নীচে দাবিয়ে দিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৮৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২০৮৮; মিশকাত, হা/৪৩১৩)। সুতরাং অহংকারবশতই হোক অথবা অংহকার ছাড়াই হোক সর্বাবস্থায় টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন (৪৮):  আমাদের এলাকাতে পাঁচ বছরের অথবা দশ বছরের জন্য আগাম চুক্তিতে আম বাগান বর্গা দেওয়া হয়, যেখানে যিনি বর্গা নিচ্ছেন তিনিই সেই বাগানের দেখাশোনা করা, সেচ দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলো করে থাকেন। এখন প্রশ্ন হলো, এভাবে আগাম চুক্তিতে আম বাগান বর্গা দেওয়া কি জায়েয?  

-আমিনুল হক, রাজশাহী।

উত্তর: এভাবে বাগান বর্গা দেওয়া বৈধ নয়। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার h হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বিক্রয়কারী ও ক্রেতাকে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতদিন পর্যন্ত গাছের ফল (খাবার বা কাজে লাগানোর) উপযুক্ত না হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২১৯৪, ছহীহ মুমলিম, হা/১৫৯৪)। কারণ এতে ধোঁকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি সম্পদের মালিকানা অর্জনের পূর্বেই তা বিক্রি করার আওতাভুক্ত যেগুলো ইসলামী শরীআতে জায়েয নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩)। সুতরাং রাসূল a বলেন, ‘বলো তো, আল্লাহ তাআলা যদি ফল নষ্ট করে দেন, তবে কিসের বিনিময়ে তোমার ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে’? (বুখারী, হা/২২০৮; মুসলিম, হা/১৫৫৫) । সুতরাং এধরনের বাগান বর্গা দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন (৪৯) : বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাততালি দেওয়ার বিধান কী?

-ইউসুফ
দেবীদ্বার, কুমিল্লা।

উত্তর:  হাত তালি দেওয়া একটি জাহেলী প্রথা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাবাগৃহে তাদের ছালাত বলতে ছিল শুধু শিস দেওয়া ও হাততালি দেওয়া’ (আনফাল, ৮/৩৫)। সুতরাং শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রেই নয়; বরং ইবাদতের বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা কিংবা আনন্দদায়ক কোনোকিছু দেখে হাততালি দেওয়া জায়েয নয়। কারণ এতে জাহেলী যুগের মুশরিক ও বর্তমান যুগের অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হয়। যা বর্জন করা আবশ্যক। কেননা রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫১১৫; আবুদাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭)।


মীরাছ


প্রশ্ন (৫০) : এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে মারা গেছেন। তার কোনো পুত্র সন্তান নেই। আর তার ভাই বোন আছে। এখন মৃত ব্যক্তির সম্পদ কীভাবে বণ্টন করা হবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : এক্ষেত্রে মেয়েরা মৃতের সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুইভাগ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক (আন-নিসা, ৪/১১)। আর যেহেতু মৃতের সন্তান রয়েছে, তাই স্ত্রী পাবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ’ (সূরা আন-নিসা, ৪/১২)। আর বাকী সম্পদ মৃতের ভাই-বোনেরা আছাবা হিসেবে পাবে। তাদের মাঝে পুরুষের জন্য মেয়ের দ্বিগুণ এভাবে ভাগ করতে হবে।