আক্বীদা


প্রশ্ন () : মানুষদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ উত্তম নাকি ফেরেশতাগণ উত্তম?

-রাশেদুজ্জামান, ফরিদপুর।

উত্তর : এই মাসআলাতে আলেমগণের মাঝে মতভেদ আছে। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো, পরিণতির দিক দিয়ে সৎকর্মশীল মানুষ ফেরেশতাগণের চেয়ে উত্তম। কেননা তারা যে প্রতিদান পাবে তা ফেরেশতাগণ পাবে না। এমনকি জান্নাতের দরজাতে ফেরেশতাগণই এই সৎকর্মশীল মানুষদেরকে সালাম দিবেন। তারা বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; আর আখেরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম (আর-রাদ, ১৩/২৪)। আর সূচনার দিক দিয়ে ফেরেশতাগণ মানুষের চেয়ে উত্তম। কেননা তাদেরকে নূর থেকে তৈরি করে আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য তাদেরকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা অমান্য করে না তা, যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদেশপ্ৰাপ্ত হয় তাই করে (আত-তাহরীম, ৬৬/৬)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার-বশে তার ইবাদত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না।  তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্তও হয় না’ (আল-আম্বিয়া, ২১/১৯-২০)। অতএব সূচনার দিক থেকে ফেরেশতাগণ শ্রেষ্ঠ আর পরিণতির দিক থেকে সৎকর্মশীল মানুষই ফেরেশতাগণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ (মাজমূউ ফাতাওয়া, ইবনু তায়মিয়্যাহ, ৪/৩৪৩)।


প্রশ্ন (২) : কুরআন নিয়ে কসম করা যাবে কি?

-সোহেল রানা, বগুড়া।

উত্তর : আল্লাহ তাআলা বা তার কোনো গুণবাচক নাম বা তার কোনো ছিফাত ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর নামে কসম করা জায়েয নয়। রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি কসম করতেই চায়, তাহলে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭৯, ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪৬)। রাসূল a আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করলো, সে কুফরী করল অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী, হা/১৫৩৫)। আর কুরআন সৃষ্টি নয়, বরং কুরআন হলো আল্লাহর কালাম বা কথা। কথা বলা আল্লাহর একটি গুণ। তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। সুতরাং কুরআন যেহেতু আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহর কালাম তার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু কুরআন নিয়ে কসম করা জায়েয (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ১৫৭ পৃ.)।


প্রশ্ন (৩) : রিযিক ও বিবাহ কি লাওহে মাহফূযে লিখা আছে?

-আলী হোসেন, দিনাজপুর।

উত্তর : হ্যা, বিবাহ ও রিযিক লাওহে মাহফূযে লিখিত আছে। আল্লাহ তাআলা যেদিন কলম সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মাখলূক্ব সৃষ্টি হবে, তার সবই লাওহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ তাআলা কলম সৃষ্টি করে বললেন, লেখো’। কলম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি কী লিখব? আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সবই লিখো’। সে সময় ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে, কলম সব কিছুই লিখে ফেলল (মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৭৫৭)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘ভ্রুণ মাতৃগর্ভে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন এবং লিখে দেন তার রিযিক, বয়স, আমল ও তিনি সৌভাগ্যবান নাকি দুর্ভাগা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৫৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৬)। আর রিযিক যেভাবে লিপিবদ্ধ আছে, বিবাহ করাও সেভাবে নির্ধারিত আছে। এই পৃথিবীতে কে কার স্বামী বা স্ত্রী হবে, তাও নির্দিষ্ট রয়েছে। কেননা আসমান-যমীনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নয়।


প্রশ্ন (৪) : সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় কোনো মহিলা মারা গেলে তিনি কি শহীদের মর্যাদা পাবে?

-মাসুম মাহমুদ, নরসিংদী।

উত্তর : হ্যাঁ, এমন মহিলা শহীদের মর্যাদা পাবে। রাসূল a একদা ছাহাবীগণকে বললেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যে কাদেরকে শহীদ হিসাবে গণ্য করবে? ছাহাবীগণ বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে নিহত হয় সেই শহীদ। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদের সংখ্যা কম হয়ে যাবে। (আরো শহীদ আছে, তারা হলো) আল্লাহ তাআলার রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, প্লেগ রোগে নিহত ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় নিহত ব্যক্তি শহীদ ও প্রসব বেদনায় নিহত মহিলা শহীদ’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৭৭২; ইবনু মাজাহ, হা/২৮০৪)। উক্ত হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই উম্মতের যে সকল মহিলা সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করে, সে শহীদের মর্যাদা পাবে।


প্রশ্ন (৫) : কোনো মানুষ মৃত্যুর পর তার আত্মা ৪০ দিন পর্যন্ত বাড়িতে আসা যাওয়া করে এবং তার পরিবারের মানুষের কার্যকলাপ দেখে। এ ধারনা কি সঠিক?

-মো. সোহেল রানা, জয়পুরহাট।

উত্তর : কোনো মানুষ মৃত্যুর পর তার আত্মা ৪০ দিন নয়, বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোনো বাড়িতে বা দুনিয়াতে আসতে পারবে না। এটি মানুষের ভুল ধারণা। পাপী লোকদের রূহ বা আত্মা সিজ্জীন নামক যায়গায় অবস্থান করবে। আর ঈমানদার মানুষের আত্মা ইল্লিয়্যীন নামক জায়গায় অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কখনোই নয়, অপরাধীদের আমলনামা সিজ্জীনে রয়েছে’ (মুতাফফিফীন, ৮৩/৮)। আর ঈমানদারের আমলনামা রয়েছে ইল্লিয়্যীনে’ (মুতাফফিফীন, ৮৩/২০)। যাদের সৎকাজের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই ওরা যারা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, জাহান্নামে তারা চিরস্থায়ী হবে’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১০২-১০৩)। এই দুই আয়াত প্রমাণ করে যে, আত্মা কোনো বাড়িতে বা দুনিয়ায় আসবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার h হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মারা যায় (কবরে) তাকে সকাল-সন্ধ্যায় তার (ভবিষ্যৎ) অবস্থান দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তার অবস্থান জান্নাত। আর যদি জাহান্নামী হয় তবে তার অবস্হান জাহান্নামে দেখানো হয়। আর তাকে বলা হয় এটাই তোমার প্রকৃত অবস্হান। অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তোমাকে উঠিয়ে সেখানে প্রেরণ করবেন’ (বুখারী, হা/১৩৭৯ মুসলিম, হা/২৮৬৬ মিশকাত, হা/১২৭)। উপরের আয়াত ও হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যে, আত্মা দুনিয়াতে ফেরত আসে না। বরং এটি মানুষের ভুল ধারনা।


প্রশ্ন (৬) : নাপাক অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা যাবে কি?

-শাহাবুর রহমান, ঝিনাইদহ।

উত্তর : সর্বদা ওযূ অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করাই উত্তম (আবূ দাঊদ, হা/১৭)। তবে ছোট ও বড় নাপাক ব্যক্তি এবং ঋতুবতী মহিলারাও কুরআন স্পর্শ করতে পারবে। আর রাসূল a বলেছেন যে, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবে না’ (দারেমী, হা/২২৯১৭)। এখানে পবিত্র ব্যক্তি দিয়ে উদ্দেশ্য হলো মুমিন ব্যক্তি। কেননা রাসূল a আবূ হুরায়রা c-কে বলেছিলেন, ‘মুমিন ব্যক্তি অপবিত্র হয় না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৮৫, ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭১)। সুতরাং মুমিন ব্যক্তি ওযূ অবস্থাতেই থাক অথবা নাপাক অবস্থাতেই থাক সর্বাবস্থায় সে কুরআন স্পর্শ করতে পারবে (নাইলুল আওতার, ১/২৫৯)।


প্রশ্ন (৭) : নাবালক শিশু মারা গেলে তাদের রূহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোথায় থাকবে? কবরে তাদেরকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কিভাবে রাখা হবে?

-রাসেল ইসলাম, পাংশা, রাজবাড়ি।

উত্তর : মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তাদের রূহগুলো আলামে বারযাখে অবস্থান করে। তাই নাবালক শিশু মারা গেলেও তাদের রূহ আলামে বারযাখে অবস্থান করবে। তবে তাদেরকে কবরে না রেখে ইবরাহীম e-এর তত্বাবধায়নে রাখা হবে। সামূরা ইবনু জুনদুব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘… বাগানে যে দীর্ঘাকৃতির লোকটিকে দেখেছিলেন, তিনি ছিলেন ইবরাহীম e। আর তাঁর চারপাশে যে বালকগুলো ছিল তারা এ সমস্ত শিশু যারা দ্বীনে ফিতরাতের (ইসলামের) উপর মৃত্যুবরণ করেছে’। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুসলিমদের কেউ কেউ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর মুশরিকদের সন্তান? জবাবে রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তারাও সেখানে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৭; মিশকাত, হা/৪৬২৫)।


বিদআত


প্রশ্ন (৮) : সমাজে প্রচলিত আছে যে, নতুন বাড়িতে উঠার সময় কুরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করা হয় এবং আশেপাশের লোকদেরকে দাওয়াত করা হয়। এটি কি শরীআতসম্মত?

-সাবিকুল ইসলাম, নাটোর।

উত্তর : না, এমনটি করা শরীআতসম্মত নয়। রাসূল a ও ছাহাবীগণের থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, তারা বাড়ি উদ্বোধনের সময় দলবদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করেছেন। আর রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি এমন কোনো আমল করে যাতে আামদের নির্দেশনা নেই, তাহলে সেটি বর্জনীয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। তবে কোনো পরহেযগার ব্যক্তির মাধ্যমে অথবা নিজে বরকতের আশায় দুই রাকআত ছালাত আদায় করতে পারে। আনাস ইবনু মালেক c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ইয়াতীম রাসূল a-এর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলাম। আর আমার মা আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৭; মিশকাত, হা/১১০৮)।


পবিত্রতা


প্রশ্ন (৯) : ওযূর পরে নারীদের জরায়ু দিয়ে বাতাস বের হলে তাতে ওযূ ভঙ্গ হবে কি?

-আলামিন হোসেন, পাবনা।

উত্তর : ওযূর পর জরায়ুর রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হলে তাতে ওযূ ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি কোনো অপবিত্র স্থান থেকে বের হয় না। তাছাড়া হাদীছে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো দলীল নেই। আর আসল বা মূল হলো পবিত্রতা। তাই ছহীহ দলীল ছাড়া ওযূ ভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে হুকুম দেয়া যাবে না  (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ৫/২৮০; মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ১১/১৯৭; ফাতহুল আল্লাম, ১/৩১২)


প্রশ্ন (১০) : অনেক সময় কাপড় এবং চাদরে বীর্য লেগে যায়। এটি কি ধৌত করতে হবে নাকি শুকিয়ে গেলেই যথেষ্ট হবে?

-এমদাদুল হক, ফেনী।

উত্তর : বীর্য শুকনো থাকলে নখ দিয়ে খুচিয়ে তুলে দিলেই তা যথেষ্ট হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯০)। আর ভেজা হলে কাপড় থেকে ধুয়ে ফেলবে। চিহ্ন দেখা না গেলে পানি ছিটিয়ে দিবে। এটাই যথেষ্ট হবে। একদিন জনৈক ব্যক্তি আয়েশা g-এর ঘরে মেহমান হলো। আয়েশা g দেখলেন, ভোরে সে তার কাপড় ধৌত করছে (অর্থাৎ রাত্রে তার স্বপ্নদোষ হয়েছিল) তা দেখে আয়েশা g বললেন, মূলত তোমার পক্ষে এটুকুই যথেষ্ট হতো যে, তুমি বীর্য দেখে থাকলে কেবলমাত্র সে স্থানটি ধুয়ে নিতে। আর যদি তা না দেখে থাক, তাহলে জায়গাটিতে পানি ছিটিয়ে নিতে পারতে। কেননা এমনও হয়েছে আমি নিজে রাসূলুল্লাহ a-এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য রগড়িয়ে ফেলেছি, আর তিনি সে কাপড় পরেই ছালাত আদায় করেছেন (মুসলিম, হা/২৮৮, বূ দাঊদ, হা/৩৭১)


প্রশ্ন (১১) : সহবাস করার সময় শরীরে যে কাপড় থাকে সেই কাপড় পরে কি ছালাত আদায় করা যাবে?

-আব্দুল কাইয়্যুম, নীলফামারী।

উত্তর : হ্যাঁ, সহবাসকালীন শরীরে থাকা পোশাক পরে ছালাত আদায় করা যাবে। সহবাসে কেবল গোসল করা ফরয হলেও কাপড় ধোয়া ফরয নয়। কেননা সহবাসের কারণে কাপড় নাপাক হয় না। এমনকি কাপড়ে বীর্য লেগে গেলেও কাপড় নাপাক হয় না। বরং কাপড়ে বীর্য লেগে গেলে উক্ত স্থান ধুয়ে বা ঘষে বীর্য তুলে ফেলবে এবং তাতেই ছালাত আদায় করা যাবে। কারণ সাধারণভাবে বীর্য নাপাক নয়। আয়েশা g বলেন, বীর্য দেখলে কেবলমাত্র সে স্থানটি ধুয়ে ফেলবে। আর না দেখা গেলে স্থানটিতে কেবল পানি ছিটিয়ে দিবে। কেননা আমি রাসূল a-এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য ঘষা দিয়ে তুলে ফেলেছি এবং তিনি সেই কাপড়েই ছালাত আদায় করেছেন (মুসলিম, হা/২৮৮)। যদি তা অপবিত্র হতো, তাহলে ধুয়ে ফেলা আবশ্যক হতো (মাজমূউ ফাতাওয়া, ইবনু তায়মিয়্যাহ, ২১/৬০৪-৬০৫)


প্রশ্ন (১২) : পায়ুপথ দিয়ে কৃমি বের হলে ওযূ নষ্ট হবে কি?

-মাহির ফয়ছাল, দিনাজপুর।

উত্তর :  হ্যাঁ, পায়ুপথ দিয়ে পাথর, কৃমি এবং চুলসহ যা কিছু বের হবে তাতে ওযূ নষ্ট হয়ে যাবে (আল-মুগনী, ১/২৩০)। পায়ুপথ দিয়ে বের হওয়া কৃমি, পাথল, চুল, গোশতের টুকরা বা অনুরূপ সবই অপবিত্র হিসেবে গণ্য করা হবে। রাসূল a বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু অনুভব করে তারপর তার সন্দেহ দেখা দেয় যে, পেট থেকে কিছু বের হলো কি-না তখন সে যেন মসজিদ থেকে কখনো বের না হয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে (বায়ু বের হবার) কোনো শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায়’ (বুখারী, হা/১৩৭; মুসলিম, হা/৩৬২; মিশকাত, হা/৩০৬)। অর্থাৎ বায়ু বের হওয়ার কারণে যখন ওযূ নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে কৃমি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হওয়া অধিক যৌক্তিক (তা‘লীক্বাত ‘আলাল কাফী লি ইবনে কুদামাহ ইবনু উছায়মীন, ১/১২৮)।


ছালাত


প্রশ্ন (১৩) : মাঝে মধ্যে কোনো কারণে মসজিদে জামাআতে ছালাত আদায় করা হয় না। আর বাড়িতে ছালাত আদায় করার সময় আমার স্ত্রী চায় যে, আমরা দুজনে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করি। এখন প্রশ্ন হলো, স্বামী-স্ত্রী জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করতে পারবে কি?

-জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর : প্রথমত, মসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথেই ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা যারা জামাআতে ছালাত আদায় করতে আসে না, রাসূল a তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৪)। তবে যদি ওযরের কারণে জামাআতে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী জামাআত করে ছালাত আদায় করতে পারবে। তবে স্বামী-স্ত্রী এক কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাআতে ছালাত আদায় করতে পারবে না। বরং নারীকে পিছনেই দাঁড়াতে হবে। আনাস ইবনু মালেক c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ইয়াতীম রাসূল a-এর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলাম। আর আমার মা আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৭; মিশকাত, হা/১১০৮)।


প্রশ্ন (১৪) : কোনো ব্যক্তি যদি চার ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে কিন্তু এক ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে না তাহলে কি সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে?

-ছিয়াম, টাঙ্গাইল।

উত্তর : কোনো ব্যক্তি যদি চার ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে কিন্তু এক ওয়াক্ত ছালাত আদায় না করে তাহলে সে দুটি বিধানের যেকোনো একটার আওতাধীনে পড়বে। এক.  ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত ছেড়ে দিলে বা অস্বীকার করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। বুরায়দা c বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘আমাদের এবং তাদের (অমুসলিমদের মাঝে) অঙ্গীকার হলো ছালাত। যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করল সে কুফরী করল’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৯৮৭; তিরমিযী, হা/২৬২১; নাসাঈ, হা/৪৬৩)। আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক p হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ a-এর কোনো ছাহাবী ছালাত ছাড়া অন্য কোনো আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরী কাজ বলে মনে করতেন না (তিরমিযী, হা/২৬২২)। দুই. কিন্তু অলসতার কারণে পড়ে না তাহলে সেক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হচ্ছে। সে কাবীরা গুনাহ করছে যার শাস্তি দুনিয়াতে হত্যা এবং পরকালে জাহান্নাম। আর ছালাত ছেড়ে দেওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে সে কাফেরও হয়ে যেতে পারে। তবে পরকালে তার বিষয়টি মহান আল্লাহর দয়ার উপর ন্যাস্ত থাকবে। যদি তিনি কালেমার বরকতে মুসলিম হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তি দেওয়ার পর ক্ষমা করে দিতে চান তাহলে সে জান্নাতে আসতে পারবে। ওয়াল্লাহু আ‘লামু বিছ-ছাওয়াব।


প্রশ্ন (১৫) : সমাজে প্রচলিত আছে যে, যদি দুই রাকআত ছালাত আদায় করে সহবাস করা হয় এবং তাতে যদি সন্তান হয়, তাহলে সেই সন্তান সৎ হয়। এটি কথা কি সঠিক?

-আতাউর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর : সহবাসের আগে দুই রাকআত ছালাতের বিষয়ে কিছু আছার বর্ণিত হলেও কোনোটিই নির্ভরযোগ্য নয়। সুতরাং নিয়মিত এমনটি করা যাবে না। বরং সহবাসের দু‘আ পড়ে সহবাস করলেই সন্তান সৎ হবে। ইবনু আব্বাস h হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে, আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখো। অতঃপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের ভাগ্যে কোনো সন্তান থাকলে শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪১)।


প্রশ্ন (১৬) : রাসূল a সফরে এবং বাড়িতে সর্বদাই ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত ও বিতরের ছালাত আদায় করতেন। এখন প্রশ্ন হলো, কেউ যদি সেই ছালাত ছেড়ে দেয় তাহলে কি তার গুনাহ হবে?

-পারভেজ ইসলাম, ফেনী।

উত্তর : সুন্নাত ছালাত আদায়ের ফযীলত অনেক। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সুন্নাত ও নফল ইবাদতের প্রতি আগ্রহী হওয়া। উম্মু হাবীবাহ g থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি, ‘দিন ও রাতে যে ব্যক্তি মোট বারো রাকআত (সুন্নাত) ছালাত আদায় করে তার বিনিময়ে জান্নাতে ঐ ব্যক্তির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। এ সুন্নাতগুলো হলো, যোহরের (ফরযের) পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরিবের (ফরযের) পর দুই রাকআত, ইশার (ফরযের) পর দুই রাকআত এবং ফজরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকআত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৮; তিরমিযী, হা/৪১৪)। আবার ক্বিয়ামতের দিন ফরয ইবাদতের ঘাটতি হলে আল্লাহর হুকুমে নফল ইবাদতের নেকী দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে (আবূ দাঊদ, হা/৮৬৪; তিরমিযী, হা/৪১৩)। তবে অবজ্ঞা না করে অলসতা বা কোনো কারণ বশত সুন্নাত ছেড়ে দিলে সমস্যা নেই। আর কোনো ব্যক্তি নফল ছালাত ছাড়ার কারণে গুনাহগার হয় না। তবে অবশ্যই তিনি বড় ধরনের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হবেন।


প্রশ্ন (১৭) : প্রাণির ছবিযুক্ত পোশাক পরে ছালাত আদায় করলে কি সেই ছালাত ছহীহ হবে?

-আশিকুর রহমান, পাবনা।

উত্তর : প্রথমত মানুষ বা যেকোনো প্রাণির ছবিযুক্ত কোনো পোশাক পরিধান করা জায়েয নেই। কেননা রাসূল a বলেছেন, ‘ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যেখানে ছবি বা কুকুর রয়েছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৬)। ছোট বড় সকল মুসলিমের জন্য এ ধরনের পোশাক পরিধান করা অবৈধ। আর প্রাণির ছবিযুক্ত পোশাক পরে ছালাত আদায় করাও জায়েয নয় (আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ৬১৮১)।


প্রশ্ন (১৮) : জনৈক ব্যক্তি তিন ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে। তার যুক্তি হলো, কুরআনে তিন ওয়াক্ত ছালাতের কথা আছে। সুতরাং তিন ওয়াক্ত ছালাতই আদায় করতে হবে। এখন এই ব্যক্তি মুসলিম নাকি কাফের?

-জাহিদুর রহমান, ঢাকা।

উত্তর : ইসলামের স্তম্ভগুলোর অন্যতম একটি হলো ছালাত যা রাসূল a-এর নবুয়ত পাওয়ার পরেই ফরয করা হয়েছিল। আর মেরাজের রাতে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৩২০৭)। উক্ত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত হলো- ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা (বূ দাঊদ, হা/৩৯৩)। এছাড়াও একাধিক ছহীহ দ্বারা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। এক্ষণে কেউ যদি কুরআন ও হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত ফরয বিধান অস্বীকার করে তিন ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে এবং দুই ওয়াক্ত ছেড়ে দেয় তাহলে সে কাফের হিসাবে গণ্য হবে (তিরমিযী, হা/২৬২২)


প্রশ্ন (১৯) : দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি যদি নফল ছালাত বসে আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কি কবুল হবে?

-রবিউল আলম, কুড়িগ্রাম।

উত্তর : দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তির জন্য নফল ছালাত দাঁড়িয়ে আদায় করাই উত্তম। তবে কেউ বসে আদায় করলেও তার ছালাত ছহীহ হবে। সেক্ষেত্রে সে দাঁড়িয়ে আদায়কারীর অর্ধেক নেকী পাবে (ছহীহ বুখারী, হা/১১১৫)। পক্ষান্তরে ফরয ছালাতে দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তিকে দাঁড়িয়েই আদায় করতে হবে। কেননা ফরয ছালাতে দাঁড়ানো ছালাতের অন্যতম রুকন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করো’ (আলবাক্বারা, ২/২৩৮)। সুতরাং দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি কোনো ওযর ছাড়াই বসে ফরয ছালাত আদায় করলে তার সেই ছালাত বাতিল হবে।


প্রশ্ন (২০) : একই মসজিদে একাধিকবার জুমআর জামাআত করা যাবে কি?

-আহসান হাবীব, যশোর।

উত্তর : একই মসজিদে একাধিকবার জুমআর জামাআত করা জায়েয নয়। আর রাসূল a ও ছাহাবীগণের থেকে এর কোনো প্রমাণ নেই। বরং মসজিদ সম্প্রসারণ করবে এবং একটি বড় জামাআতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। জুমআর জামাআত না পেলে পরে যোহরের ছালাত জামাআতে বা একাকী আদায় করবে। অতএব একই মসজিদে একাধিকবার জুমআ আদায় করা জায়েয নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ৮/২৬২)


প্রশ্ন (২১) : ছালাতের সময় সামনে কোন স্বচ্ছ কাঁচ থাকলে তাতে যদি ছায়া দেখা যায়, তাহলে সেই কাঁচের সামনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-শহীদুল্লাহ, রংপুর।

উত্তর:  সাধারণভাবে কোনো স্থানে ছবি-মূর্তি থাকলে সেখানে ছালাত আদায় করা যাবে না। কেননা যে ঘরে ছবি-মূর্তি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৪৯; মিশকাত, হা/৪৪৮৯)। আর সামনে রক্ষিত কাঁচে ছায়া দেখা গেলে তার সামনে ছালাত আদায় করা যাবে না। কেননা তাতে মনোযোগ নষ্ট হবে। আনাস c হতে বর্ণিত, আয়েশা g-এর নিকট একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের এক দিকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। নবী a বললেন, ‘আমার সামনে থেকে তোমার এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ ছালাত আদায়ের সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪)।


প্রশ্ন (২২) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে দুই রাকআত ছালাত আদায় না করে বসে পড়লে কোনো গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত৷ তার এ বক্তব্য সঠিক কি-না?

-নাঈম, বগুড়া।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশ করে ছালাত আদায় না করে বসে পড়লে রাসূল a-এর আদেশকে অমান্য করা হবে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে অবজ্ঞা করা হবে। রাসূল a বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে, সে যেন দুই রাকআত ছালাত আদায় করার আগে না বসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৩)। একদা রাসূল a জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে ঢুকে বসে পড়ল। রাসূল a তাকে বললেন, ‘তুমি কি ছালাত আদায় করেছো? সে বলল, না, তিনি বললেন, ‘দাড়াও, দুই রাকআত ছালাত আদায় করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯৩০)। সুতরাং মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকআত ছালাত আদায় করেই বসতে হবে।


প্রশ্ন (২৩) : শিক্ষার্থীদের যদি ছালাতের জন্য পরীক্ষার হল থেকে বের হতে না দেওয়া হয় আর পরীক্ষা শেষ করার আগেই ছালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করে এমন অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর করণীয় কী?

– সিয়াম, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : এমন অবস্থায় একজন শিক্ষার্থী যোহরের ছালাত আছরের সাথে মিলিয়ে পড়ে নিবে। ইবনু আব্বাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ও বৃষ্টি-বাদল ছাড়া যোহর ও আছর ছালাত, মাগরিব ও এশার ছালাত মদীনায় জমা করে পড়েছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৭০৫)।


প্রশ্ন (২৪) : আমি ঢাকায় থাকি, বছরে ৩ থেকে ৪ বার গ্রামের বাড়িতে আসি। আমার প্রশ্ন হলো গ্রামে থাকা অবস্থায় আমি কি কছর ছালাত আদায় করব?

-মাহমুদুল হাসান মামুন, আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর :কছর  ছালাতের জন্য শর্ত হলো মুসাফির অবস্থায় থাকা। তাই কেউ যদি প্রবাস বা বাহির হতে নিজ বাড়িতে আসে তাহলে সে ছালাত কছর করতে পারবে না। তবে যদি তার অন্য জায়গায় নিজস্ব বাড়ি থাকে এরপর তার পিতা-মাতার বাড়িতে কিংবা নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ ক্ষেত্রে সফরের দূরত্ব পরিমাণ হয়ে গেলে কছর করতে পারে। ইবনু আব্বাস h-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমরা তো খুরাসানের যু্দ্ধে দীর্ঘদিন অবস্থান করি এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, তুমি দুই রাকআত ছালাত আদায় করবে যদিও সেখানে দশ বছর অবস্থান করো’ (মাজমূউ ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়্যা, ১৫/৩২৬)


প্রশ্ন (২৫) : জামাআতে ছালাত আদায় করার সময় ইমাম দুইদিকে সালাম ফিরানোর পর মুছল্লী সালাম ফিরাবে নাকি ইমাম একদিকে সালাম ফিরানোর পর মুছল্লীও একদিকে সালাম ফিরাবে?

– পারভেজ, লক্ষীপুর।

উত্তর : জামাআতে ছালাত আদায় করার সময় ঈমামের সালামের পিছে পিছে ডানে ও বামে মুক্তাদী সালাম ফিরাবে। আবু হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ a বলেছেন, ‘ইমাম এজন্য নির্ধারিত হয়েছেন যেন তার অনুসরণ করা হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৯৭৩, ৫১১; নাসাঈ, হা/৯২১; ইবনু মাজাহ, হা/৮৪৬; মিশকাত, হা/৮৫৭)। অর্থাৎ ইমামের আগে বা সাথে সাথে বলা যাবে না। উল্লেখ্য যে, ইমামের সাথে মুক্তাদীর চার অবস্থা রয়েছে। সেগুলো হলো- ১. ইমামের আগে বেড়ে কিছু করা, এটা হারাম। ২. ইমামের সাথে সাথে রুকূ-সিজদা ইত্যাদি করা, এটি করাও হারাম। কোনো কোনো বিদ্বান বলেছেন, এটা হারাম নয় বরং এটা মাকরূহ। তবে এটা যদি তাকবীরে তাহরীমার সময়ে হয়, তবে তার ছালাত হবে না। পুনরায় ছালাত আদায় করা তার উপর ওয়াজিব। ৩. ইমামের অনুসরণ করা অর্থৎ ইমামের পরপর দেরী না করে তার অনুসরণ করা। এটা হচ্ছে সুন্নাত পদ্ধতি। ৪. ইমামের পিছনে অতিরিক্ত দেরী করে ইমামের অনুসরণ করা। এটা সুন্নাত বহির্ভুত কাজ।


জানাযা


প্রশ্ন (২৬) : শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে মারা গেলে তার জানাযা পড়তে হবে কি?

-নিযামুল হাসান
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কোনো সন্তান মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করলে তার জানাযা দিতে হবে না। জাবের c থেকে বর্ণিত, নবী করীম a বলেছেন, ‘শিশু সন্তানের জানাযা দিতে হবে না, সে উত্তরাধিকারী হবে না, তাকে উত্তরাধিকারী বানানো হবে না যতক্ষণ না সে চিৎকার করে’ (তিরমিযী, হা/১০৩২, মিশকাত, হা/১৬৯১)।


যাকাত


প্রশ্ন (২৭) : যাকাতের টাকা দিয়ে ইসলামী বইপত্র কিনে মসজিদে দান করা যাবে কি?

-মুহাম্মাদ সামিন, ঢাকা।

উত্তর : যাকাতের সম্পদ মসজিদের কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। কেননা যাকাতের যেই আটটি খাতের কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে মসজিদ সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যাকাত শুধু উক্ত খাতগুলোতেই প্রদান করতে হবে (আততওবা, ৯/৬০)। সুতরাং মসজিদ বা মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন মসজিদ ও লাইব্রেরী ইত্যাদি খাতে যাকাত প্রদান করা যাবে না।


প্রশ্ন (২৮) : আমি অল্প কিছু ধান করেছি লিজ হিসাবে, আমার প্রশ্ন হলো, কতটুকু পরিমাণ ধান হলে আমাকে উশর দিতে হবে, আর আমি কি লিজের ধান বাদ দিয়ে উশর বের করব নাকি পুরো ধান মেপে উশর বের করব?

-নাজমুল ইসলাম
শার্শা, যশোর।

উত্তর : শস্যের যাকাতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ a মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আবূ সাঈদ খুদরী c থেকে বর্ণিত, নবী করীম a বলেছেন, ‘পাঁচ ওসাকের কম উৎপন্ন ফসলে যাকাত নাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৪)। উল্লেখ্য যে, পাঁচ ওসাক সমান ১৮ মন ৩০ কেজি। সুতরাং এই পরিমাণ শস্য উৎপন্ন হলে যাকাত আদায় করতে হবে। যদি আসমানের পানি, ঝর্ণার পানি, নালার পানি দ্বারা জমিন সিঞ্চিত হয়, তাহলে দশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। আর সেচ দিয়ে আবাদ করলে বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। সালেম ইবনু আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম a বলেছেন, ‘আসমানের পানি, ঝর্ণার পানি ও নালার পানি দ্বারা সিঞ্চিত জমির ফসলে দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে এবং সেচ দ্বারা সিঞ্চিত জমির ফসলে বিশ ভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৩; তিরমিযী, হা/৬৪০)।


প্রশ্ন (২৯) : উশরের ধান গরীব হিন্দুদেরকে দেওয়া যাবে কি?

-মো. জিল্লুর রহমান
সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : যাকাতের সম্পদ আট শ্রেণির মানুষের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া যায়। তার এক শ্রেণির মানুষ হলো বিধর্মী। তাদের মন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যাকাতের মাল দেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকাত পাবে ফকীর-মিসকীন, যাকাত আদায়কারী, ইসলামের প্রতি যাদের হৃদয় আকৃষ্ট হবে তারা, গোলাম আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি, আল্লাহর পথে, মুসাফির। এটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত বিধান’ (আত-তওবা, ৯/৬০)।


প্রশ্ন (৩০) : সেচ্ছায় যদি কোনো হিন্দু মসজিদে দান করে তাহলে কি তা গ্রহণ করা যাবে ?

– মোঃ রবিউল ইসলাম
   লালপুর, নাটোর।

উত্তর : সেচ্ছায় যদি কোনো হিন্দু মসজিদে দান করে তাহলে তার দান গ্রহণ করা যাবে। আবু হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র বস্তু ব্যতীত তিনি কোনো কিছু কবুল করেন না’ (মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অবৈধ সম্পদ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা জায়েয নয়। কারণ মসজিদ আল্লাহর জন্য (আল-জিন, ৭২/১৮)। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, অমুসলিমদের সম্পদ বৈধ নাকি অবৈধ? একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অমুসলিমদের সম্পদ বৈধ। যেমন আনাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম a-কে জনৈক মুশরিক একটি রেশমী জুব্বা উপহার দিয়েছিলেন (বুখারী, ১/৩৫৬, মুশরিকদের উপঢৌকন অধ্যায়)। রাসূলুল্লাহ a ইয়াহূদীদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছিলেন  (ছহীহ বুখারী, হা/২৬১৭)। একদা রাসূলুল্লাহ a একদল নওমুসলিম খ্রিষ্টানকে তাদের পূর্বের গীর্জার স্থানকে মসজিদে পরিণত করার নির্দেশ দেন এবং সেখানে ছালাত আদায় করতে বলেন (নাসাঈ, হা/৭০১; মিশকাত, হা/৭১৬)। ইবনু আব্বাস c মূর্তিমুক্ত গীর্জায় ছালাত আদায় করতেন (বুখারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬২)। সুতরাং উল্লেখিত বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হিন্দুর সম্পদ মসজিদে লাগানো যায়।


বিবাহ ও তালাক


প্রশ্ন (৩১) : তালাক দেয়ার জন্য মানুষকে সাক্ষী রেখে তাদের সামনে তালাক দিতে হবে নাকি মনে মনে তালাক দিলে তালাক হবে, কোনটি সটিক?

-হাম্মাদ রেজা, মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : মুখে উচ্চারণ না করে যদি মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে, তাহলে সেটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা রাসূল a বলেছেন, ‘কথা বা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের জন্য তাদের মনের কল্পনাগুলোকে মাফ করে দিয়েছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৬৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭)। আর যদি মুখে উচ্চারণ করে, তাহলে স্ত্রী না জানলেও সেটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে (ফাতওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ২০/২১১)।


প্রশ্ন (৩২) : আমি একজন মুসলিম ঘরের সন্তান। আমি এক হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করে ইসলামের পথে আনতে চাই। সেক্ষেত্র আমি কি হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করতে পারব?

– রুবায়েত হাসান
চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : একজন মুসলিম পুরুষ একজন অমুসলিম মেয়েকে বিবাহ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুশরিকা নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। মূলত, মুমিন ক্রীতদাসী মুশরিকা নারী হতে উত্তম। ওদেরকে তোমাদের যতই ভালো লাগুক না কেন (আল-বাক্বারা, ২/২২১)। তবে যদি অমুসলিম মেয়ে মুসলিম হয়ে যায়, তাহলে তাকে বিবাহ করতে পারবে।


প্রশ্ন (৩৩) : এক বিবাহিতা মহিলা এক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তাকেই বিবাহ করে। কিন্তু তার আগের স্বামী তাকে তালাক দেয়নি। এখন তার পরের স্বামীর ঘরে দুইটি সন্তানও হয়েছে। এমতাবস্থায় কী করণীয়?

– আলমগীর হোসেন, বগুড়া।

উত্তর : যেহেতু আগের স্বামী থেকে তালাক হয়নি, তাই সেই মহিলা আগের স্বামীর স্ত্রী হিসেবেই আছে। আর কারো স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাকে বিবাহ করলে সেটি বিবাহ হিসাবে গণ্য হবে না। বরং সহবাস করলে তা ব্যভিচার হিসাবে গণ্য হবে। আল্লাহ বলেন, ‘…সকল বিবাহিতা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ’ (আন-নিসা, ৪/২৪)। আর ব্যভিচার করা কাবীরা গুনাহ (আল-ইসরা, ১৭/৩২)। সুতরাং এমতাবস্থায় সেই মহিলার সাথে সংসার করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আর এই পাপের কারণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।


হাদীছের তাহকীক


প্রশ্ন (৩৪) : সালাবা c-এর সম্পর্কে একটা কাহিনি শুনি যে, এক বেগানা নারীর দিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার চোখ পড়ে যায়। এর ফলে তিনি নিজের পাপের কথা ভেবে কাঁদতে কাঁদতে পাহাড়ে চলে যান। অনেক দিন পরে মুহাম্মদ a তাকে খুজতে যান। পরে তাকে খুজে পান এবং সে রাসূলের কোলে মাথা রেখে মারা যান এই ঘটনা কি সত্য?

-হাসিবুল হাসান ইমন
খিলগাঁও, ঢাকা ১২১৯।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি সত্য নয় (তানযীহুশ শারীআহ, ২/২৮৩; আল-মাওযূআত লি ইবনিল যাওযী, ৩/৩৪৭)।


প্রশ্ন (৩৫) : শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী p তাঁর তামামুল মিন্নাহকিতাবে নাকি ৩টি শর্তে যঈফ হাদীছের উপর আমল করা বৈধ বলেছেন, কথাটি কতটুকু সত্য? এবং ফাযায়েলে আমলের ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ মানা প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু তাইমিয়া p-এর মতামত জানতে চাই।

-আবু হুরায়রা সিফাত
মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : শায়খ আলবানী p তিনটি শর্তে যঈফ হাদীছের উপর আমল করা বৈধ বলেছেন (তামামুল মিন্নাহ, ৩৬ পৃ.)ইমাম ইবনু তাইমিয়া p ফাযায়েলে আমলের ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ মানার বিষয়ে চারটি শর্ত আরোপ করেছেন- (১) হাদীছটি ফাযায়েলে আমল সম্পর্কিত হতে হবে (২) হাদীছটি মারাত্মক পর্যায়ের দুর্বল হওয়া যাবে না (৩) আমলটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে (৪) আমলের সময় দৃঢ় বিশ্বাস না রেখে সতর্কতা স্বরূপ করা হবে।


প্রশ্ন (৩৬) : কোনো মুসলিম ভাইকে সাহায্য করার জন্য কোথাও যাওয়া আমার কাছে মসজিদে নববীতে দশ বছর ইতিকাফ করার চেয়ে প্রিয়। এই হাদীছের রেফারেন্স ও তাহকীক জানতে চাই?

-রাজিব রেজা, নেত্রকোনা।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীছটি যঈফ (শুআবুল ঈমান, ৩/৪২৪; তারীখে বাগদাদ, ৪/৩৪৭)


 হালাল হারাম


প্রশ্ন (৩৭) : আমার জন্মগতভাবে ডান হাতে সমস্যা থাকায় আমি সকল কাজে বাম হাত ব্যবহার করি যেমন খাওয়া, পানি পান করা, লেখা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বাম হাতে খাদ্যগ্রহণ ও পানি পান করলে আমার গুনাহ হবে কি?

-আব্দুল্লাহ আল গালিব, মেহেরপুর।

উত্তর : সাধারণভাবে খাবার খাওয়া, পানাহার ইত্যাদি কাজে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। উমার ইবনে আবী সালামাহ c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে নবী a এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। একদা খাবার পাত্রে আমার হাত ছুটাছুটি করছিল। নবী a আমাকে বললেন, ‘ওহে বালক! বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে এক তরফ থেকে খাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২০২২)। সালামা ইবনে আকওয়া c হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a-এর নিকটে একটি লোক তার বাম হাত দ্বারা আহার করল। (এ দেখে) তিনি বললেন, ‘তুমি ডান হাত দ্বারা খাও’। সে বলল, আমি পারব না! তিনি বদ-দু‘আ দিয়ে বললেন, ‘তুমি যেন না পারো’। ওর অহংকারই ওকে (কথা মানতে) বাধা দিয়েছিল। তারপর থেকে সে আর তার হাত মুখে তুলতে পারেনি (ছহীহ মুসলিম, হা/২০২১)। তবে জন্মগতভাবে ডান হাতের সমস্যা থাকার কারণে বাম হাত দিয়ে খাওয়া, পানি পান করা, লিখা ইত্যাদি করলে কোনো গুনাহ হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না। সে ভালো যা করেছে সে তার ছওয়াব পাবে এবং স্বীয় মন্দ কৃতকর্মের প্রতিদান তার ওপরই বর্তাবে’ (আল বাকারা, ২/২৮৬)।


প্রশ্ন (৩৮) : টেলিভিশন ঠিক করে যে টাকা নেয় সেটা কি হালাল নাকি হারাম। কারণ সেই টেলিভিশন দিয়ে হয়তো অনেকে খারাপ ভিডিও দেখে।

– মো. সাদ্দাম হোসেন
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

উত্তর : টেলিভিশন ঠিক করে উপার্জন করা জায়েয হওয়াতে সন্দেহ রয়েছে। কেননা সাধারণত তার ব্যবহার মাধ্যম অবৈধ লক্ষ করা যায়। কেননা তাতে অশ্লীল কর্মকাণ্ড, গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে যা সম্পূর্ণভাবে হারাম। তবে টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র যা কল্যাণকর কাজেও ব্যবহার করা যায়। দ্বীন সম্পর্কে জানা, বক্তব্য শোনা ইত্যাদি। কাজেই তাকে ভালো কাজের মাধ্যমও বলা যায়। সুতরাং এটি যদি কল্যাণের উদ্দেশ্যে মেরামত করে থাকে তাহলে তাতে নেকী পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নেক কাজ ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে। এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর’ (আল-মায়েদা, ৫/২)।


প্রশ্ন (৩৯) : জাত উন্নয়নের জন্য গরু, ছাগল এর কৃত্রিম প্রজনন কি জায়েজ ?

-জয়নুল আবেদীন, গাইবান্ধা।

উত্তর : জাত উন্নয়নের জন্য গরু, ছাগল এর কৃত্রিম প্রজনন করা জায়েয। পুরুষ ছাগলের বীর্য মাদি ছাগলের যৌনাঙ্গে প্রবেশ করাকে কৃত্তিম প্রজনন বলে। এটা করা হয় মাল বা গরু, ছাগল বেশী করা এবং জাত উন্নয়নের জন্য। আর এতে ইসলামে কোনো বাধা নাই। ইসলামী বিধানগুলো মানুষ ও জিনের জন্য, সেখানে পশু-প্রাণি আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, এভাবে আল্লাহ তার আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর’ (আল-বাকারা, ২/২১৯)। সুতরাং তাদের জাত উন্নয়নে যেকোনো পন্থা অবলম্বন করা যায়।


প্রশ্ন (৪০) : আল-মুক্বীত নাম রাখে যাবে কি? যদি না রাখা যায় তাহলে এমতাবস্থায় কী করণীয়? কারণ আমার সার্টিফিকেটে আল-মুক্বীত নাম লেখা আছে।

– রফিকুল ইসলাম
নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : আল-মুক্বীত নাম রাখা যাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামগুলোর একটি নাম হলো আল-মুক্বীত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ভাল সুপারিশ করবে, তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্যও তা থেকে একটি অংশ থাকবে। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের হেফাযতকারী’ (আন-নিসা, ৪/৮৫)। আল-মুক্বীতের অর্থ হলো হেফাযতকারী, হিসাবগ্রহণকারী এবং পর্যবেক্ষণকারী। যদি কেউ এই নাম রাখতে চায়, তাহলে আব্দুল মুক্বীত রাখতে হবে। এখন আপনার করণীয় হলো, এই নাম পরিবর্তন করে আব্দুল মুক্বীত নাম রাখা।


প্রশ্ন (৪১) : ইসলামী শরীআতে সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহারের বিধান কী? বিশেষ করে অমুসলিম দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যাপারে।

 -রুনা খাতুন
কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এ সাবান বা শ্যাম্পু শুকরের চর্বি দ্বারা তৈরী নয়, তাহলে ব্যবহার করা যাবে। এতে কোনো সমস্যা নাই। রাসূল a বলেছেন, ‘হালালও স্পষ্ট আর হারামও স্পষ্ট’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২)। আর শুকর খাওয়া হারাম এবং তার হাড়-হাডিড, রক্ত, মাংস ও চর্বি সবই নাপাক। আর নাপাক জিনিস দ্বারা কাপড়-চোপড়, শরীর ইত্যাদি পরিষ্কার হতে পারে, কিন্তু পাক হতে পারে না। তাই এসব জিনিস ব্যবহারের পূর্বে পাকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। বিশেষ করে অমুসলিম দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার কাপড় পাক-পরিষ্কার করুন’ (আল-মুদ্দাছিছর, ৭৪/৪)।  জাবের c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a আমাদের নিকট আসলেন সাক্ষাৎ করার জন্য। অতঃপর তিনি এলোমেলো কেশ বিশিষ্ট একজন লোককে দেখে বললেন, এ লোক কি এমন কিছু পায় না যার দ্বারা সে তার মাথা পরিপাটি করে রাখবে? আর ময়লাযুক্ত কাপড় পরিহিত একজনকে দেখতে পেয়ে বললেন, এ লোক কি এমন কিছু পায় না যার দ্বারা সে তার কাপড় ধৌত করবে? (আবূ দাঊদ, হা/৪০৬২; মিশকাত, হা/৪৩৫১)। এ হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিজেকে সর্বদায় ছিমছাম ও পরিপাটি রাখতে হবে। শরীর ও কাপড় পরিষ্কার রাখতে হবে। তা পবিত্র ও পরিষ্কারক যে কোনো জিনিস দ্বারা হোক না কেন, সাবান হোক, শ্যাম্পু হোক ইত্যাদি পাক হলেই হবে।


প্রশ্ন (৪২) : আমার বন্ধু একটা সূদী ব্যাংক থেকে শিক্ষাবৃত্তি পায়। বৃত্তির টাকাটা হালাল হবে কিনা?

-নিশাত মাহমুদ
দিনাজপুর।

উত্তর : হালাল হবে না। কেননা সূদের টাকা হারাম। আর মহান আল্লাহ হালাল ভক্ষণ করার আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে রাসূলগণ! আপনারা হালাল ভক্ষণ করুন…’ (মুমিনূন, ২৩/৫১)। সূদী প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রচারণা জোরদার করে। আর তাদের এ বৃত্তি গ্রহণ তাদের প্রচারনায় সহযোগিতা করার নামান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাপের কাজে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ সূদ নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং দান বর্ধিত করেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৬)। সুতরাং কোনো ছাত্র অভাবী হলে তার জন্য ছাদাক্বা ও যাকাতের টাকা গ্রহণ করাই বেশি উত্তম। যাকাত ও ছাদাক্বার টাকা খাওয়া হারাম নয়। এ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরী।


প্রশ্ন (৪৩) : মোবাইলে টাকা রিচার্জ করলে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায় তা কি জায়েজ না হারাম?

-মো. জিল্লুর রহমান
মিরপুর-১২, ঢাকা।

উত্তর : যদি কোনো সূদী প্রতিষ্ঠান ক্যাশব্যাক দেয়, তাহলে তা নেওয়া জায়েয হবে না। যেমন ধরুন, বিকাশ থেকে রবিতে ১১৫ টাকা রিচার্জ করলে ১১ টাকা বিকাশ একাউন্টে ক্যাশব্যাক। এমনটি গ্রহণ করা জায়েয হবে না। কেননা বিষয়টি অস্পষ্ট। আর এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করো এবং স্পষ্ট বিষয় গ্রহণ করো’ (নাসাঈ, হা/৫৭১১; মিশকাত, হা/২৭২৩)। তবে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার থেকে পণ্য ক্রয় করার কারণে যদি ক্যাশব্যাক দেয়, তাহলে সেটা নেওয়া জায়েয আছে। কেননা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিক্রেতা ইচ্ছা করে পণ্যের মূল্য কমিয়ে বিক্রি করলে উদারতা হবে অথবা ক্রেতা কিছু মূল্য বেশি দিয়ে ক্রয় করলে উদারতা হয়। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন যে নম্রতার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করে ও পাওনা ফিরিয়ে চায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০৭৬)।


প্রশ্ন (৪৪) : কোনো মুসলিম যদি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করে তাহলে তার ইনকাম কি হালাল হবে?

-শাহরিয়ার আহমেদ
ময়মনসিংহ।

উত্তর : যে কোনো চাকরি করে ইনকাম করা বৈধ। তবে তা হারামের কোনো জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। তাই আল্লাহ কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে রিযিক অন্বেষণ করো এবং তারই ইবাদত করো’ (আল-আনকাবুত, ১৭)। রাসূল a বলেছেন, ‘যাতে তোমার উপকার হয় তাতে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করো এবং অক্ষমতা প্রকাশ করো না (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৪১৬৮)।


প্রশ্ন (৪৫) : ইসলামে সন্তান দত্তক নেয়ার বিধান কী?

-আলমগীর হোসেন, যশোর।

উত্তর : পালক সন্তানের ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশনা হলো, ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাকো; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জানো, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই এবং তোমাদের বন্ধু’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫)। অতএব যে সন্তানকে লালনপালন করা হবে তাকে তার প্রকৃত বাবা মায়ের দিকেই সম্পৃক্ত করতে হবে, পালনকারীকে বাবা মা বানানো কোনোভাবেই শরীআতসম্মত নয়।


 প্রশ্ন (৪৬) : আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, অনেকেই সার্টিফিকেটে তাদের বয়স কমিয়ে নেয় যাতে তারা সরকারি চাকরীর জন্য বেশী বয়স পায়। এখন প্রশ্ন হলো, ইচ্ছা করে এমন কাজ করলে সেটি কি বৈধ হবে?

-আনছার আলী, নীলফামারী।

উত্তর : ইচ্ছাকৃতভাবে জন্মতারিখ পরিবর্তন করা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত যা ইসলামী শরীআতে জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২)। সুতরাং এধরনের কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন (৪৭) : স্বামী মারা গেলে স্ত্রী কোথায় ইদ্দত পালন করবে?

-আব্দুল্লাহ ওমর, পাবনা।

উত্তর : স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে তার স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করতে হবে। যায়নাব বিনতু কাব ইবনু উজরাহ p সূত্রে বর্ণিত, আবূ সাঈদ খুদরী c-এর বোন ফুরাইআহ বিনতু মালিক ইবনু সিনান তাকে জানিয়েছে যে, তিনি বনু খুদরায় তার পিতার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট এসে অনুমতি চাইলেন। তার স্বামী তার কয়েকটি পলাতক গোলামের সন্ধানে গিয়েছিলেন। অবশেষে তিনি আল-কাদূম সীমায় পৌঁছে তাদের দেখতে পেলেন। এরপর গোলামরা তাকে হত্যা করে ফেলে। তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট অনুমতি চাইলেন, আমি আমার পিত্রালয়ে ফিরে যেতে চাই। তিনি আমার জন্য তার মালিকানাধীন বাসস্থান অথবা খোরপোষ রেখে যাননি। মহিলা বললেন, রাসূলুল্লাহ a বললেন, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে হুজরা অথবা মসজিদ পর্যন্ত গেলে তিনি আমাকে ডাকলেন বা কাউকে দিয়ে ডাকালেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি কি বলেছিলে? তখন আমি আমার স্বামীর ঘটনাটি পুনরাবৃত্তি করি। তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি ইদ্দাত শেষ হওয়া পর্যন্ত তোমার (স্বামীর) ঘরেই অবস্থান করো’। মহিলাটি বললেন, আমি সেখানে চার মাস দশ দিন অতিবাহিত করলাম। উছমান ইবনু আফফান c তার যুগে আমার নিকট লোক পাঠিয়ে আমার ঘটনাটি জানতে চাইলে আমি তাকে অবহিত করি। তিনি তা অনুসরণ করলেন এবং সেই অনুযায়ী বিধান জারি করলেন (আবূ দাঊদ, হা/২৩০০)। তবে উক্ত বাড়ি যদি তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাজনক না হয় কিংবা তাকে দেখাশুনা করার মতো কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকে, তাহলে বাবার বাড়িতে বা যেখানে তার জন্য নিরাপদ সেখানে গিয়ে ইদ্দত পালন করতে পারে (ইবনু মাজাহ, হা/২০৩২-৩৪)।


মীরাছ


প্রশ্ন (৪৮) : আমার বড় বোন দুইটি মেয়ে রেখে অনেক বছর আগে মারা গেছে। বোনের মেয়ে এখন সাবালিকা এবং দুই জনই বিবাহিতা। ওদের বাবা আবার বিবাহ করেছে। এখন ওই বোনের মেয়েরা কি ওদের নানা বাড়ির সম্পত্তি পাবে?

-মো. মুখতার হোসেন।
মৌলভীবাজার।

উত্তর : তারা তাদের নানার বাড়ির সম্পদ ওয়ারিশ সূত্রে পাবে না। কারণ তারা আসহাবুল ফুরূযদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তাদের নানা তাদের জন্য অছিয়ত করলে তারা তাদের নানার বাড়ি হতে সম্পদ পাবে। রাসূল a বলেছেন, ‘উত্তরাধিকারের জন্য কোনো অছিয়ত নেই’ (আবূ দাঊদ, হা/২৮৭০; নাসাঈ, হা/৩৬৪১)। এই হাদীছে বুঝা যায় যে, নাতি-নাতনিদের জন্য অছিয়ত করা যাবে। কারণ তারা উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর অছিয়তের সর্বোচ্চ সীমা হলো এক-তৃতীয়াংশ। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছের অসুস্থতার সময় নবী a তার কাছে প্রবেশ করলে তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার পুরো সম্পদের ব্যাপারে অছিয়ত করতে পারি কি? তিনি বললেন, ‘না’। তিনি আবার বললেন, অর্ধেক। তিনি বললেন, ‘না’। আবার বললেন, এক-তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, ‘এক-তৃতীয়াংশ’। ‘আর এক-তৃতীয়াংশই তো অনেক’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৯৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৮)।


অন্যান্য


প্রশ্ন (৪৯) : কী কারণে আশূরায়ে মুহাররম এত গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত জানতে চাই?

 -ওমর ফারুক, রাজশাহী।

উত্তর : আশূরায়ে মুহাররমের গুরুত্বের মৌলিক কারণ হলো, এদিনে মহান আল্লাহ মূসা e ও তাঁর ক্বওমকে অত্যাচারী বাদশাহ ফেরাঊনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং তাকে ও তার লোকদেরকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। ইবনু আব্বাস h বর্ণনা করেন, নবী a যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন দেখতে পেলেন ইয়াহূদীগণ ‘আশূরা’ দিবসে ছওম পালন করে। তাদেরকে ছিয়াম পালনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলল, এদিনই আল্লাহ তাআলা মূসা e ও বনী ইসরাঈলকে ফেরাঊনের উপর বিজয় দান করেছিলেন। তাই আমরা ঐ দিনের সম্মানার্থে ছওম পালন করে থাকি। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তোমাদের চাইতে আমরা মূসা e-এর অধিক নিকটবর্তী’। এরপর তিনি ছিয়াম পালনের আদেশ দেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৯৪৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩০)। দ্বিতীয়ত, নাজাতে মূসার শুকরিয়া স্বরূপ এদিন ও তার পূর্বে একদিন ছিয়াম পালন করলে তা আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (ছাগীরা) গুনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হয়। আবূ ক্বাতাদা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘আর আশূরার ছিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাব ‘ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪)।

উল্লেখ্য যে, হুসাইনের শাহাদাত বরণের সাথে আশুরায়ে মুহাররমের দূরতম কোনো সর্ম্পক নেই (ইবনু হাজার আসক্বালানী, দারুল ইছাবা, ১/৩৩১ পৃ.)।


প্রশ্ন (৫০) : মুহাররমের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম পালন করলে ৫০ বছরের নফল ছিয়ামের নেকী লেখা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-আব্দুল্লাহ, পাবনা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে শুধু ৯ ও ১০ তারিখে ছিয়াম পালন করার ফযীলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ» ” ‘আর আশূরার দিনের ছিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমার প্রত্যাশা, আল্লাহ এর দ্বারা আগের বছরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮০৩; মিশকাত, হা/২০৪৪)। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘রামাযান মাসের ছিয়ামের পরে উত্তম ছিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররম মাসের আশূরার ছিয়াম। আর ফরয ছালাতের পরে সর্বোত্তম ছালাত হলো রাতের ছালাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৩; মিশকাত, হা/২০৩৯)। উল্লেখ্য যে, মুহাররম মাসের ফযীলত সম্পর্কে অসংখ্য জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা রয়েছে। এগুলো থেকে সাবধান থাকা আবশ্যক।