ঈমান-আক্বীদা


প্রশ্ন (১) : আল্লাহর যেমন হাত, পা, চোখ, চেহারা আছে, তেমন আল্লাহর রূহ আছে কি? কুরআন হাদীছে এরকম কোনো বর্ণনা আছে কি?

-ইলিয়াস
কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর: আল্লাহ তাআলা নিজেকে নিজে এবং রাসূল a আল্লাহকে যে সকল গুণের সাথে গুণান্বিত করেছে তার বাহিরে কোনো গুণ বর্ণনা করা ও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা নিষেধ। কেননা আল্লাহর জানানো ছাড়া মাখলুক আল্লাহ সম্পর্কে জানতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর সে বিষয়ের পেছনে ছুটো না, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই’ (আল-ইসরা, ১৭/৩৬)। আর মানুষকে ইমানহারা করার জন্য শয়তান এ সকল প্রশ্ন মানুষের অন্তরে ঢেলে দেয়। আবূ হুরায়রা c থেকে মারফূ‘সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূল a বলেছেন, ‘তোমাদের নিকট শয়তান এসে বলে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? এটা কে সৃষ্টি করেছে? এটা কে সৃষ্টি করেছে? শেষে সে বলে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? অতএব যখন সে এ স্থানে পৌঁছে যাবে, তখন আল্লাহর নিকটে আশ্রয় চায়বে এবং এ ধরনের চিন্তা করা থেকে বিরত থাকবে’ )ছহীহ বুখারী, হা/৩২৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪(। আনাস ইবনু মালেক c থেকে মারফূ‘সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূল a বলেছেন, ‘মানুষরা সর্বদায় জিজ্ঞাসা করবে এবং বলবে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? এটা কে সৃষ্টি করেছে? এমনকি বলবে, আল্লাহ তো মানুষের স্রষ্টা। তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? এসময় তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে’) ছহীহ বুখারী, হা/৭২৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪(। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ রূহশব্দটিকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, তা মূলত জিনিসগুলোর সম্মান ও মর্যাদা ‍বুঝানোর জন্য বলেছেন। আর সম্পৃক্ত করলেই বিষয়টি আল্লাহর সিফাত হয়ে যায় না। বরং অনেক সময় নাও হতে পারে। যেমন আল্লাহ কা‘বাকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, বায়তুল্লাহ আল্লাহর ঘর উঁটকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, নাক্বাতুল্লাহ আল্লাহর উঁট বান্দাকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, ইবাদুর রহমান রহমানের বান্দাকিন্তু এগুলোকে তো আল্লাহর গুণাবলি বলা যাবে না।

তবে তার দিকে তার কোনো নিজস্ব গুণাবলিকে সম্পৃক্ত করলে অবশ্য তা তার গুণাবলি হিসাবে গণ্য হবে। যেমন: ইয়াদুল্লাহ আল্লাহর হাত, ইলমুল্লাহ আল্লাহর প্রজ্ঞা, কালামুল্লাহ আল্লাহর কথা ইত্যাদি। তাই আল্লাহর রূহ আছে কি না? এমন প্রশ্ন না করাই উচিত।


প্রশ্ন (২) : ‘মুমিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ’ এবং ‘অন্তর রবের ঘর’। উক্ত বর্ণনা দুটি কি সঠিক?

-আব্দুল্লাহ
যশোর।

উত্তর: বর্ণনাটি মিথ্যা ও উদ্ভট (কাশফুল খাফা, হা/১৮৮৬; ইমাম ছাগানী, আল-মাওযূ‘আত, হা/৭০; আল-মাছনূ ফী মা‘রেফাতিল হাদীছিল মাওযূ‘ হা/২১৭, পৃ. ১৩১)| উক্ত ভিত্তিহীন বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে, আল্লাহ সব মুমিনের অন্তরে বিরাজমান। যেহেতু পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ আরশের উপর আছেন। তাই মুমিনের অন্তরকে আল্লাহর আরশ কল্পনা করা হয়েছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

(খ) অনুরূপ দ্বিতীয় বর্ণনাটিও মিথ্যা ও বাতিল (আল-মাছনূ ফী মা‘রেফাতিল হাদীছিল মাওযূ‘ হা/২১৭, পৃ. ১৩১)। উক্ত বর্ণনা দ্বারা বুঝানো হয় যে, যার অন্তর আছে তার মধ্যেই আল্লাহ আছে। সুতরাং ‘যত কল্লা তত আল্লাহ’ (নাঊযুবিল্লাহ)। এভাবে সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহর অস্তিত্ব ও উপস্থিতি সাব্যস্ত করা হয়েছে। সঠিক আক্বীদা হল, মহান আল্লাহ সপ্তম আকাশের উপরে আরশে সমুন্নত (ত্ব-হা, ৫)। তাঁর ক্ষমতা ও দৃষ্টি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত (ত্ব-হা ৪৬)।


প্রশ্ন () : আল্লাহ সর্বপ্রথম কোন প্রাণি সৃষ্টি করেছেন?

-শামীম রেজা
শিবগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর: সর্বপ্রথম আল্লাহ কোন প্রাণি সৃষ্টি করেছেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। কুরআন ও হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় না। তবে সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা কলম সৃষ্টি করেছেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৭০৭; কুবরা বায়হাক্বী, হা/১৭৭৬২)।


শিরক


প্রশ্ন (৪) : আবূ দাঊদ [৩৮৯৩] নম্বর তাবীয সংক্রান্ত হাদীছটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন। কিন্তু আরো হাদীছ সরাসরী এর বিরুদ্ধে যাচ্ছে, কারণ তাবীয শিরক এটা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। তাহলে কেন ইমাম তিরমিযী এটাকে হাসান বললেন? আর আসলেও এটা আমল যোগ্য নাকি বিভ্রান্তি?

-সাব্বির আহমাদ, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর: তাবীয ব্যবহার করা শিরক। রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলালো, সে শিরক করল’ (মুসনাদে আহমাদ, ৪/১৫৬, হা/১৭৪৫৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/৪৯২, সনদ ছহীহ)। উক্ত হাদীছে ছোট-বড়, কুরআন জানা অজানার মাঝে কোন পার্থক্য করা হয়নি। বরং ছোটদের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে হাদীছে এসেছে, রাসূল a أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ পড়ে হাসান ও হুসাইনকে ফুঁক দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭১)। তাই ছোট বাচ্চারা কুরআন পড়তে পারে না, এই অসীলায় তাদের গলায় তাবীয ঝুলানো জায়েয নয়। বরং পিতা-মাতা সূরা নাস, ফালাক্ব ও উল্লিখিত দু‘আ পড়ে বাচ্চার গায়ে ফুঁক দিবে। তিরমিযীর ৩৫২৮ নম্বরে বর্ণিত হাদীছ এবং আবূ দাউদে বর্ণিত ৩৮৯৩ নম্বর হাদীছটির ‘গলায় ঝুলানো অংশটুকু ছহীহ নয়। অনেক হাদীছ বিশারদগণ ‘বাচ্চাদের গলায় তাবীয ঝুলানো’ অংশটুকুকে দূর্বল বলেছেন (সিলসিলা ছহীহা, ১/৫২৯ পৃ.; আত-তা‘লীক্ব আলা মুসনাদে আহমাদ, ১১/২৯৬ পৃ.)। সুতরাং তিরমিযীর বর্ণিত হাদীছকে হাসান গণ্য করে তাবীয ঝুলানোকে বৈধতা দেওয়া জাতিকে ধোঁকা দেওয়া বৈ কিছুই নয়।


পবিত্রতা


 প্রশ্ন (৫) : আমাকে ওযূ করার পর পরই বা ওযূ করে ছালাত পড়ার মাঝেই বেশ কয়েকবার গ্যাস, মলবেগ আসায় বারবার ওযূ করতে হয়। ছালাতের আগেই এগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করি তারপরও এরকম ঘটে। এতে করে আমার হাত-পায়ের চামড়া ক্ষয়ে যায়, অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এরকম ৩-৪ ওয়াক্তেই ঘটে। এখন কীভাবে ছালাত পড়ব আর কয়বার ওযূ করব?

-জুনাইদ, ঢাকা।

উত্তর: ছালাতের জন্য ওযূ থাকা শর্ত। তাই ওযূ অবস্থাতেই ছালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। রাসূল a বলেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্রতা (ওযূ) ছাড়া ছালাত কবুল করেন না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৭১)। এ ছাড়াও রাসূল a বলেছেন, ‘যার ওযূ নেই তার ছালাত নেই’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৯৮; আবূ দাউদ, হা/১০১)। তাই একান্ত কর্তব্য হচ্ছে ছালাতের পূর্বে সময় নিয়ে পেশাব-পায়খানা থেকে মুক্ত হওয়া। তবে যদি ক্রমাগত বায়ু বের হতেই থাকে এবং তার পেটের উপরে কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে এক ওযূ পরবর্তি ছালাত পর্যন্ত থাকবে। যদি অন্য কোন কারণে তা ভঙ্গ না হয়। যেমনটি রক্ত জনিত কারণে মহিলাদের ক্ষেত্রে রাসূল a ছাড় দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩১; মিশকাত, হা/৫৬১, ৫৬০)। আর আল্লাহ মানুষের সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন না (আল-বাক্বারা, ২/২৮৬)।


ইবাদত- ছালাত


 প্রশ্ন (৬) : কয়েক রাকআত না পাওয়া ব্যক্তি (মাসবূক) ইমাম সাহেব একদিকে সালাম ফিরানোর পর ছুটে যাওয়া ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে তার ছালাত হবে কি?

-গাজী কাওছার আহমাদ
কেরানিগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর: ইমাম ছালাত সমাপ্ত করার পর মাসবূক (রাকআত না পাওয়া) ব্যক্তি ছুটে যাওয়া ছালাত আদায় করবে। কেননা ছালাত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সে ইমামের অনুসরণে থাকে। তাই তো মাসবুকের ছুটে যাওয়া রাক‘আতে ইমামের ভুল হলেও তাকে সাহু সিজদা দিতে হয়। আর অধিকাংশ হাদীছ দ্বারা যা বুঝা যায় যে, রাসূল a দুই সালামের মাধ্যমে ছালাত সমাপ্ত করতেন। আব্দুল্লাহ c হতে বর্ণিত, নবী করীম a প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর মুখমন্ডলের শুভ্র অংশটি পরিলক্ষিত হত এবং তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হ’ বলে সালাম ফিরাতেন (আবূ দাউদ, হা/৯৯৬; ইবনু মাজাহ, হা/৯১৪)। তাই মাসবুক ব্যক্তি ইমাম দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পর ছুটে যাওয়া ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবে। এটি অধিক হাদীছ সম্মত। তবে, এক সালামেও ছালাত সমাপ্ত হয় মর্মে কিছু ছহীহ বর্ণনা পাওয়া যায়। তাই কেউ এক সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে গেলে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে এমনটি বলা যাবে না (মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বা, হা/৩১০০; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৭০৪৬)। আল্লাহ ভালো জানেন!


প্রশ্ন (৭) : ভুল বসত ছালাতে এক রুকুন থেকে অন্য রুকুনে যাওয়ার সময় তাকবীর আগে বা পরে দিয়ে ফেললে কি সাহু সিজদা দিতে হবে? যেমন: দম নিতে গিয়ে ভুলে রুকু থেকে পুরোপুরি উঠে দাঁড়ানোর পর ‘সামি-আল্লা-হু-লিমান হামিদা’ বললে কি সালাম ফেরানোর আগে সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

-হামীম, মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর: রুকুতে যাওয়ার সময় রুকুর তাকবীর, রুকু হতে উঠার সময় উঠার তাকবীর, সিজদায় যাওয়ার সময় সিজদার তাকবীর ও সিজদা থেকে উঠার সময় উঠার তাকবীর দেওয়ার কথা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল a ছালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকু হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়েرَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ  বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো ছালাত শেষ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯২)। তবে, যেসব কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন: রাকআত কম হলে পূর্ণ করে, বেশি হলে ইত্যাদি (ছহীহ বুখারী, হা/৪৬৮; মিশকাত, হা/১০১৭)। তাকবীর, ‘সামি-আল্লা-হু-লিমান হামিদা’ আগে-পরে হওয়া তার অন্তর্ভুক্ত নয় (আশ-শারহুল মুমতি‘ ৩/৮৭)। অতএব এমনটি হলে সাহু সিজদা দিতে হবে না।


প্রশ্ন () : তাকবীরে তাহরীমা ও রাফউল ইয়াদায়েন করার সময় হাতের আঙ্গুল খোলা থাকবে না-কি পরস্পরের সাথে মিলানো থাকবে, আর হাতের তালু কী অবস্থায় থাকবে?

-মিনহায পারভেজ, হড়গ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর: অনেক মানুষ ছালাতে রফউল ইয়াদাইন করার সময় হাতের আঙ্গুলসমূহকে মিলিয়ে রাখাকে বাধ্য মনে করে মিলিয়ে রাখে আবার অনেকে একেবারে ফাঁকা করে রাখে, যার কোনোটি সঠিক নয়। বরং তাকবীরে তাহরীমা ও রফউল ইয়াদায়েন করার সময় হাতের আঙ্গুল কিবলামুখী ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে (শারহু যাদুল মুসতাক্বনে‘, ১৩/৩৮ পৃ.)। হাতের আঙ্গুল কাঁধ অথবা কানের লতি বরাবর উঠাবে। সালেম ইবনু আব্দুল্লাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ a যখন ছালাত শুরু করতেন, রুকুতে যেতেন ও রুকু থেকে উঠতেন। আর তিনি সিজদায় এমনটি করতেন না। তখন হস্তদ্বয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৫)। মালেক ইবনু হুয়ারিছ c থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a যখন রাফউল ইয়াদায়েন করতেন, তখন তাঁর হস্তদ্বয় কান বরাবর উঠাতেন এবং যখন রুকু করতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন, ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদা’। তখন অনুরুপ হাত উঠাতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯১)।


প্রশ্ন (): আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছালাত পড়লে ছালাত হবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: আয়নার সামনে ছালাত আদায়ের নিষিদ্ধতার বিষয়ে শরীআতে কোনো কিছু পাওয়া যায় না। তাছাড়া এটা ছালাত বাতিলকারী বিষয়গুলোরও অন্তর্ভূক্ত নয়। তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে করলে ছালাত হয়ে যাবে। যদিও তাতে নিজের ছবি দেখা যায়। তবে নিজের ছবির দিকে দৃষ্টি পড়লে যেহেতু কিছুটা হলেও একাগ্রতা বিনষ্ট হয়, তাই ছালাতের সময় কাপড় কিংবা কোনো কিছু দিয়ে আয়না ঢেকে রাখা ভালো। কারণ রাসূল স. কারুকাজ করা পর্দা ছালাতের জায়গার সামনে থেকে সরিয়ে ফেলার আদেশ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মিশকাত, হা/৭৫৮)।


প্রশ্ন (১০) : আমার ছোট ভাই জাহাজে চাকুরি করে। একাধারে ১০-১২ মাস জাহাজে চাকুরি করে। বন্দরে ২-৩ দিন এবং বন্দর থেকে একটু দূরে ৪-৫ দিন নোঙর করে থাকে। তারা কি মুসাফির, না-কি মুক্বীম? তাদের ছালাতের বিধান কী?

-মো: সেলিম রেজা, বাগদাদ, ইরাক্ব।

উত্তর: শরীআতের বিধান হলো- সফররত অবস্থায় মুসাফির ব্যক্তি ছালাত কছর করবে (আন-নিসা, ৪/১০১)। কছরের জন্য নির্ধারিত দূরত্বের পরিমাণ নেই। কেননা রাসূল a থেকে কছরের প্রমাণে হাদীছগুলো লক্ষ্য করলে কোনটার পরিমাণ হয় ৩ মাইল, কোনটার পরিমাণ হয় ৯ মাইল আবার কোনটার পরিমাণ হয় ৪৮ মাইল। কাজেই দূরত্ব হিসাব নয়। বরং মানুষ যখন তার প্রয়োজনীয় যাত্রাকে সফর মনে করবে তখন সে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর থেকে যেখানেই ছালাতের সময় হবে সেখানেই কছর করবে। এর জন্য কোনো নিম্ন সীমা কি উচ্চ সীমা নেই। নাফে‘ ইবনু উমার h থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু উমার h বলেন, এক যুদ্ধে তুষারের কারণে আজারবাইজানে ছয় মাস যাবৎ আটকা পড়ে থাকলাম। ইবনু উমার h বলেন, তখন আমরা দুই রাকআত করে ছালাত আদায় করতাম (সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী, হা/৫৬৮৫; মা‘রেফাতুস-সুনান ওয়াল আছার, হা/১৬৬১)। আনাস c থেকে বর্ণিত, রাসূল a–এর সাহাবীগণ রামাহুরমুয নামক স্থানে নয় মাস যাবৎ সময় ধরে কছর করেছেন (সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী, হা/৫৬৮৯)। তাই আপনার ভাই এমন পরিস্থিতিতে উভয় অবস্থায় কছর ছালাত আদায় করবে।


প্রশ্ন (১১) : আমি যখন ছালাতে উপস্থিত হই, তখন ইমাম সাহেব প্রথম রাকাআতের রুকু শেষ করে দাঁড়িয়ে গেছে। রুকু না করেই আমি ইমামের সাথে সিজদায় চলে যাই। এভাবে ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ছালাত শেষ করি। এক্ষণে আমার প্রশ্ন হল- আমার ছালাত কি চার রাকআত হলো নাকি ৩ রাকআত হলো। যদি চার রাকআত না হয়ে থাকে তাহলে, কি পূর্ণ চার রাকআত আদায় করতে হবে?

-আশফাকুর রহমান, মাদারীপুর।

উত্তর: রুকু না পেলে রাকাত গণ্য হবে না।‌مَنْ ‌أدرَكَ ‌الرَّكعَةَ ‌قَبلَ ‌أن ‌يَرفَعَ ‌الإمامُ ‌رَأسَه فقَد أَدْرَكَ السَّجدَةَ ‘যে ব্যক্তি ইমাম মাথা উত্তোলনের পূর্বে ইমামকে (রুকুতে) পেল, সে সাজদা তথা রাকআত পেল (সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী, হা/২৫৮৬ ‘সনদ জায়্যেদ’)।

আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘আমরা সিজদারত অবস্থায় তোমরা যখন ছালাতে আসবে, তখন সিজদা করবে। তবে তাকে কোনো কিছু (রাকআত) গণ্য করবে না (আবূ দাউদ, হা/৮৯৩)। অত্র হাদীছে সিজদাকে রাকআত হিসাবে গণ্য করা হয়নি। যা প্রমাণ করে যে, রুকু রাকআত হিসাবে গণ্য। অতএব আপনার ছালাত তিন রাকআত হয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় হচ্ছে যে কয় রাকআত ছুটে গেছে তা পূর্ণ করে নেওয়া। অর্থাৎ আপনার জন্য আরেক রাকআত ছালাত পড়ে সাহু সিজদা করায় যথেষ্ঠ হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৯)।


প্রশ্ন (১২) : আছরের ছালাত জামাআতের সাথে একবার হওয়ার পর মসজিদের ভিতরে দ্বিতীয় জামাআত করা যাবে কি?

-আব্দুল্লাহ
ইসলামপুর, জামালপুর।

উত্তর: শুধু আছরের ছালাত নয়। বরং জুমআর ছালাত ব্যতীত সকল ছালাত একই মসজিদে একাধিকবার জামাআত করে পড়াতে কোনো সমস্যা নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা উত্তম। আবূ সাঈদ c থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল a-এর ছালাত আদায় শেষ হওয়ার পর জনৈক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে এলো। রাসূল a বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে এই ব্যক্তির সাথে ছওয়াব উপার্জন করতে চাও? তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং তাঁর সাথে ছালাত আদায় করল (তিরমিযী, হা/২২০)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমর c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘জামা’আতে ছালাতের ফযীলত একাকী আদায়কৃত ছালাত থেকে সাতাশ’ গুণ বেশি (ছহীহ বুখারী, হা/৬১৯; মিশকাত, হা/১০৫২)। উবাই ইবনু কাব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষের একাকী ছালাত হতে দুইজনের একত্রে ছালাত আদায় করা অধিক উত্তম এবং দুইজনের একত্রে ছালাত অপেক্ষা তিনজনের একত্রে ছালাত আদায় করা আরও অধিক উত্তম। এর অধিক জামাআতে যতই লোক বেশি হবে, ততই তা মহান আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয়’ (আবূ দাউদ, হা/৫৫৪; আত-তারগীব, হা/৪১১)। অত্র হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, একই মসজিদে একাধিক জামাআত করা যায়।


প্রশ্ন (১৩) : আমি ক্বছরের দূরত্বে আছি। এমন সময় এশার জামাআত চলছে। আমি জামাআতের ২য় রাকআত পেলাম। তাহলে কীভাবে ছালাত আদায় করব? ক্বছরে জামাআতের ছালাত আদায়ের পদ্ধতি কী?

-মো. মহিদুল ইসলাম
বিসমিল্লাহ গোট ফার্ম, যশোর।

উত্তর: ক্বছর অবস্থায় জামাআতের ছালাতের নিয়ম হলো- যদি ক্বছরকারী মুকিম ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করে সে অবস্থায় তার করণীয় হবে ইমামের অনুসরণ করা তথা যদি ইমাম চার রাকআত পড়েন তাহলে চার রাকআত পড়বে দুই রাকআত পড়লে দুই রাকআত পড়বে। রাসূল a বলেছেন, ‘ইমাম বানানো হয় কেবল তার অনুসরণের জন্য। অতএব তোমরা তার বিপরীত কর না’ (বুখারী, হা/৭২২; মুসলিম, হা/৯৫৩)। তবে ক্বছরকারী যদি ইমাম হয় তাহলে, চার রাকআত বিশিষ্ট ছালাতগুলোতে তিনি দুই রাকআত পড়ে সালাম ফেরাবেন এবং মুকতাদীগণ উঠে আরো দুই রাকআত আদায় করবে। এমন অবস্থায় আপনার উচিত হবে মুকিম ব্যক্তির ন্যায় ছালাত আদায় করা। মূসা ইবনু সালামা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা ইবনু আব্বাস h-এর সহিত মক্কায় ছিলাম। এমন সময় আমি বললাম, যখন আমরা তোমাদের সহিত (মসজিদে মুকিম ইমামের পিছনে) থাকি তখন চার রাকআত ছালাত আদায় করি। আর যখন আমরা আমাদের বাহনের দিকে ফিরে যায় তখন দুই রাকআত ছালাত আদয় করি। তিনি উত্তরে বললেন, এটাই আবুল কাসেম (তথা মুহাম্মাদ) a-এর সুন্নাত (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬২)।


প্রশ্ন (১৪) : রুকু ও সিজদায় সর্বনিম্ন কতবার তাসবীহ বলা ওয়াজিব একবার নাকি তিনবার?

-মুহাম্মাদ মনির হুসাইন
ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা।

উত্তর: রুকু ও সিজদায় এক বা একাধিক তথা যতবার ইচ্ছা তাসবীহ পাঠ করা যায়। জোড়-বেজোড়ের কোনো হিসাব নেই। হুযায়ফা c বলেন, তিনি এক রাতে নবী a-কে ছালাত আদায় করতে দেখেন। এ সময় তিনি আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া ওয়াল আযমাতি পাঠ করেন। অতপর তিনি সূরা বাক্বারা পড়া শুরু করেন। তারপর তিনি রুকু করেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন যতক্ষণ প্রায় রুকু করলেন ততক্ষণ। তিনি রুকুতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আযীম, সুবহানা রব্বিয়াল আযীম’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি রুকু থেকে উঠে দাড়িয়ে থাকলেন প্রায় ততক্ষণ রুকুতে ছিলেন যতক্ষণ। এ সময় তিনি ‘লি রব্বিয়াল হামদ’ পাঠ করেন। এরপর তিনি সিজদায় যান। সিজদায় তিনি প্রায় ততক্ষণ ছিলেন দাঁড়িয়ে ছিলেন যতক্ষণ। তিনি সিজদায় ‘সুবাহানা রব্বিয়াল আলা’ পাঠ করেন’… (আবূ দাঊদ, হা/৮৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭২)। উল্লেখ্য যে, তিন, পাঁচ বা দশবার পাঠ করা মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলো যঈফ।


যাকাত


প্রশ্ন (১৫) : আমাদের বাড়ি নাই ভাড়া থাকি তবে ২ই লক্ষ টাকা জমা আছে ওই টাকার কি যাকাত প্রদান করতে হবে?

-আহমাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।

উত্তর: টাকার যাকাতের নিছাব নিরূপিত হয় রৌপ্য অথবা স্বর্ণের মূল্যমান অনুসারে। এর জন্য ব্যক্তির অন্যান্য সম্পদ থাকা জরুরী নয়। রৌপ্যের নিছাব হলো ২০০ দিরহাম তথা সাড়ে বায়ান্নো তোলা বা ভরি (আবূ দাঊদ, হা/১৫৭৪)। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭৯৬৪২.৫ টাকা (২২ ক্যারেটের মূল্য ১৫১৭ টাকা ধরে)। তাই দুই লক্ষ টাকা থাকলে রৌপ্যের মূল্যমান অনুসারে এখন আপনার উপর যাকাত দেওয়া কর্তব্য।


হালালহারাম


প্রশ্ন (১৬) : কাউকে অফিসিয়াল কোনো পেমেন্ট দেওয়ার ফলে সে যদি কিছু বকশিস দেয় সেটা নেওয়া যাবে কি?

-সাইদুর রহমান, কল্যাণপুর, ঢাকা।

উত্তর: যার পক্ষ থেকে পেমেন্ট করা হবে, কোনো কিছু বখশিস তথা উপহার-উপঢৌকন দেওয়া হলে সেটা তারই প্রাপ্য। অর্থাৎ অফিসিয়াল পেমেন্টের ক্ষেত্রে অফিসই উক্ত বখশিসের হক্বদার। কর্মচারী কিংবা সার্ভিসম্যানের জন্য উক্ত বখশিস গ্রহণ করা জায়েয নয়। আবূ হুমায়েদ আস-সাঈদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী a আয্‌দ গোত্রের এক লোককে যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করেন। তার নাম ইবনুল লুতবিয়্যাহ। তবে ইবনুস সারহ বলেছেন তার নাম ইবনুল উতবিয়্যাহ। সে কর্মস্থল থেকে মদীনাতে প্রত্যাবর্তন করে রাসূলুল্লাহ a-কে বললো, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে উপঢৌকন দেয়া হয়েছে। নবী a মিম্বারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে বললেন, কর্মচারীর কি হলো! ’আমরা তাকে দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করি। আর সে ফিরে এসে বলে, এটা আপনাদের আর এটা আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। সে তার পিতা-মাতার ঘরে বসে থেকে দেখুক তাকে কেউ উপঢৌকন দেয় কি না? তোমাদের মধ্যকার যে-ই এভাবে কোনো কিছু গ্রহণ করবে সে তা নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। যদি সেটা উট, গাভী কিংবা বকরী হয়, তা চিৎকার করবে। অতঃপর তিনি তাঁর দু’ হাত এতটা উঁচু করেন যে, ’আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি! (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩২; আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৬)।


প্রশ্ন (১৭) : মিডল্যান্ড ব্যাংকে আমার একটা একাউন্ট আছে ঐ একাউন্টে জমানো টাকার উপর প্রতি মাসে সূদ আসে। এটা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এখন আমি ঐ সূদের টাকা কি করব? কিছু সূদ মুক্ত ব্যাংকের নাম জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সাইদুল ইসলাম, ফতুল্লা, নারায়ণঞ্জ।

উত্তর: ‘আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে করেছেন হারাম’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। তিনি আরো বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর সূদের অবশিষ্ট সম্পদ ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। আর যদি তা না করো, তাহলে আল্লাহর সাথে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তওবা করো তাহলে, তোমাদের জন্য থাকবে মূলধন…’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৮-২৭৯)। সুতরাং ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোথাও টাকা রাখার নিরাপদ জায়গা থাকলে সেখানে রাখতে হবে এবং ব্যাংক একাউন্ট বাতিল করতে হবে। বাধ্য হয়ে যদি রাখতেই হয়, তাহলে মূলধন ব্যতীত সূদের টাকা ছওয়াবের নিয়্যত ছাড়াই জনকল্যাণ মূলক কাজে ব্যয় করে দিতে হবে (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১৯/২৬৮ পৃ.)। উল্লেখ্য যে, শত পার্সেন্ট সূদ মুক্ত কোনো ব্যাংক বাংলাদেশে আছে বলে আমাদের অবগতিতে নেই।


প্রশ্ন (১৮) : আমার বাবা জমি বন্ধক নেয়। আমি উনাকে বুঝিয়েছি জমি বন্ধক নেওয়া হারাম। কিন্তু বাবা এর জন্য আমাকে ধমক দেয় এবং অনেক তর্ক-বিতর্ক করে। আমার আলাদা উপার্জনের উপায় নেয়। এখন আমার বাবার উপার্জন আমার জন্য কী হালাল হবে। যদি না হয় তাহলে আমি কী করব?

-মো. রাজিয়া সুলতানা
তানোর, রাজশাহী।

উত্তর: যদি সন্তানদের সামর্থ্য থাকে তাহলে পিতার হারাম উপার্জন ভোগ করা হতে বিরত থাকবে। কেননা রাসূল a বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। আর সামর্থ্য না থাকলে পিতাকে হারাম পথ ছেড়ে সৎ পথে উপার্জন করতে নছীহত করবে ও সে পথে পিতাকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে সন্তানরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে এবং উপার্জনক্ষম না হলে তা ভোগ করতে পারে। কেননা তারা শরীআতের মুকাল্লাফ নয়। তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব পিতা-মাতার। সুতরাং এজন্য সন্তান দায়ী হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কেউ অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না’ (আন-নাজম, ৫৩/৩৮)। রাসূল a বলেন, ‘কোনো প্রাণ অপরের অপরাধের কারণে দণ্ডিত হবে না’ (নাসাঈ, হা/৪৮৪৯, ৪৮৫০, ৪৮৫১; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩০৩)।


প্রশ্ন (১৯) : বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি করা জায়েয হবে কি?

-হাবিবুর রহমান
খালিশপুর, খুলনা।

উত্তর: লোন যদি কোনো প্রকারের সূদের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাহলে, সে লোন নেওয়া যাবে না। কেননা সূদ মিশ্রিত সম্পদ হারাম। আলি c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‌‌كُلُّ ‌قَرْضٍ ‌جَرَّ مَنْفَعَةً، فَهُوَ رِبًا অর্থাৎ ‘যে ঋণ কোনো উপকার (লাভ) টেনে আনে সেটাই সূদ’ (বায়হাক্বী, হা/১০৯৩৩)। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি জেনে-শুনে এক দিরহাম সূদ গ্রহণ করলে ছত্রিশবার যেনা করার চেয়ে কঠিন পাপ হবে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২২০০৭; দারাকুৎনী, হা/২৮৮০; মিশকাত হা/২৮২৫)। অন্যত্র রাসূল a বলেন, ‘সূদের পাপের ৭০টি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হচ্ছে নিজ মাতাকে বিবাহ করা’ (অর্থাৎ মায়ের সাথে যেনা করা) (ইবনু মাজাহ, হা/২২৭৪; হাকেম, হা/২২৫৯; মিশকাত, হা/২৮২৬)।


প্রশ্ন (২০) : দেশে নিষিদ্ধ চায়না জাল তৈরি করে উপার্জিত টাকা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ জায়েয হবে কি?

-জহিরুল ইসলাম
দোহার, ঢাকা।

উত্তর: লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হওয়ায় সরকার চায়না জাল আমদানী ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। যেমন: মাছের ছোট ছোট পোনা নষ্ট হয় যার ফলে মাছ উৎপাদনে ঘাটতি হয়। সুতরাং দেশ ও পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকার যদি কোনো আইন করে এবং তা শরীআ বিরোধী না হয় তাহলে, তা নাগরীকদের জন্য মেনে চলা প্রয়োজন। কেননা মেনে চলার মাধ্যমে শান্তি-শৃংখলা বজায় থাকে। আল্লাহ পৃথিবীতে বিশৃংখলা ও বিপর্যয় ঘটাতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হওয়ার পর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৫৬, ৮৫)। সুতরাং নিষিদ্ধ চায়না জাল তৈরি করা যাবে না। এমন জিনিস বিক্রয় করলে তার মূল্য বৈধ হবে না।


প্রশ্ন (২১) : সাদা এবং সবুজ রং এর পাত্রে পানি পান করা কি নিষেধ?

-সিয়াম
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি পাত্র ছাড়া সকল প্রকারের ও রংয়ের পাত্র ব্যবহার করা জায়েয। হুযাইফা ইবনু ইয়ামান c বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ a-এর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা রেশমি কাপড় ও রেশমি বস্ত্র পরিধান করো না এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি পাত্রে পান করো না। এমনকি এসব পাত্রে খাবারও খেয়ো না। কেননা, এগুলো দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য, আর পরকালে আমাদের (ঈমানদারদের) জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪২৬)। অন্যত্র রাসূল a বলেন, ‘যে ব্যক্তি রৌপ্যের তৈরি পাত্রে কোন কিছু পান করে সে যেন তার পেটে-টগবগ করা জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩১১; ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৫)। রাসূল a মদ হারাম হওয়ার পরে ছাহাবীগণ মদ তৈরির সবুজ, কালো রংয়ের পাত্রগুলোতে নাবীয তৈরি করতো তাই তাদেরকে সেসব পাত্রে নাবীয তৈরি করতে নিষেধ করেন। সেটা পানি পান করার ক্ষেত্রে নিষেধ নয়। কেননা পরবর্তীতে পাত্রগুলো ব্যবহার করার ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হয় (ছহীহ বুখারী, কিতাবুল আশরিবা, অধ্যায়-৭)।


 যিকির-আযকার


প্রশ্ন (২২) : সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিন থেকে মুক্ত থাকবে আর সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত জিন থেকে মুক্ত থাকবে। এই হাদীছ কি ছহীহ?

-মো: মিনহাজ পারভেজ
হড়গ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর: জী; হাদীছটি ছহীহ। উবাই ইবনু কা‘ব c-এর শস্য মাড়াইয়ের স্থান থেকে শস্য কমে যাওয়ার ঘটনায় জিনটি তখন কা‘ব রা.-কে বলল, مَنْ قَالَهَا حِيْنَ يُمْسِيْ؛ أُجِيْرَ مِنَّا حَتَّى يُصْبِحَ؛ وَمَنْ قَالَهَا حِيْنَ يُصْبِحُ أُجِيْرَ مِنَّا যে ব্যক্তি তা (আয়াতুল কুরসী) সন্ধ্যায় বলবে, তাকে আমাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা হবে। আর যে ব্যক্তি তা সকালে বলবে, তাকে আমাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা হবে (ছহীহ তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৬৬২; আল মু‘জামুল কাবীর- ত্ববারানী, হা/ٰ৫৪১)।


প্রশ্ন (২৩) : আমি সকাল-বিকাল ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বাম হাতের করের মাধ্যমে গণনা করে থাকি। কেননা ডান হাত দিয়ে গাড়ি চালাই, কথা হলো এ ইবাদত কবুল হবে কি?

-এস.এম. শাহ আলম
বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর: হ্যাঁ; কবুল হবে। সকাল ও সন্ধ্যায় একশতবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পড়ার বিষয়টি হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় একশতবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে যে পরিমাণ নেকী নিয়ে উপস্থিত হবে তার চেয়ে উত্তম নেকী নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার মতোই এ দুআ পাঠ করেছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯২)। সুতরাং এবাদত গ্রহণযোগ্য। ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ পাঠ করা সুন্নাত। আয়েশা g থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম a জুতা পরা, চুল চিরুনী করা পবিত্রতা অর্জন করা ও সর্বক্ষেত্রে (অর্থাৎ উত্তম কাজ) ডান দিক থেকে করা পছন্দ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৬৬; বুলূগুল মারাম, হা/৪৪)। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বাম হাত দ্বারা তাসবীহ পাঠ করা যায়। কেননা আল্লাহ বান্দার উপর বান্দার সাধ্যের বাহিরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেননি (আল-বাক্বারা, ২/২৮৬)।


প্রশ্ন (২৪) : মানুষ রাতে ঘুমালে শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিরা দেয়। শয়তানের এই তিনটি গিরা খোলার উপায় কী?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: গ্রীবাদেশে শয়তানের তিনটি গিরা দেওয়ার বিষয়টি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। শয়তানের তিনটি গিরা খোলার উপায় হলো (১) ঘুম থেকে উঠে দুআ পড়া (২) ওযূ করা (৩) ছালাত আদায় করা। যা ছহীহ বুখারী ছাড়াও বিভিন্ন ছহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিট বাঁধে; যার প্রত্যেকটিতে লিখে “তোমার রাত দীর্ঘ হোক, তুমি ঘুমাও”। এরপর যখন সে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর যিকির (ঘুম থেকে উঠার দুআ পড়ে) করে তখন একটি বাঁধন খুলে যায়, এরপর যখন সে ওযূ করে তখন আরেকটি বাঁধন খুলে যায়, এরপর যখন সে ছালাত আদায় করে তখন তৃতীয় বাঁধনটিও খুলে যায়। যার ফলে সে আনন্দ মনে প্রফুল্ল আত্মা নিয়ে সকাল করে। নচেৎ খারাপ মন নিয়ে অলস চিত্তে সকাল করে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪২)। উল্লেখ্য যে, যিকির বলতে ঘুম থেকে উঠার দুআকে বোঝানো হয়েছে।


প্রশ্ন (২৫) : আয়াতুল কুরসি পাঠ করার পূর্বে আঊযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ বলা কি জরুরী?

-সিয়াম, জয়পুরহাট।

উত্তর: ‘আয়াতুল কুরসী’ সূরা বাক্বারার একটি আয়াত। সুতরাং তা পড়ার পূর্বে ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়তে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তোমরা কুরআন পড়বে তখন ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়’ (আন-নাহল, ১৬/৯৮)। তবে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে না। কারণ এক সূরা থেকে অন্য সূরাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ‘বিসমিল্লাহ’ অবতীর্ণ হয় )আবূ দাঊদ, হা/৭৮৮; মিশকাত, হা/২২১৮(।


প্রশ্ন (২৬) : সূরা আল-ইখলাস ৩ বার অথবা ১০ বার পড়ার কোনো ফযীলত আছে কি?

-সাইদুল ইসলাম
ফতুল্লা, নারায়ণঞ্জ।

উত্তর: জী! সূরা ইখলাছ তিনবার ও দশবার পাঠের ফযীলত ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। সূরা ইখলাছ তিনবার পাঠ করলে একবার কুরআন খতমের ছওয়াব হয়। এ মর্মে রাসূল a বলেন, ‘সূরা ইখলাছ একবার পড়লে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮১১; ছহীহ বুখারী, হা/৫০১৩; মিশকাত, হা/২১২৭)। রাসূল a বলেন, ‘যে ব্যক্তি দশবার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন’ (আহমাদ, সিলসিলা ছহীহা, হা/৫৮৯; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৭২)। এছাড়াও রাসূল a বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা ইখলাছকে পছন্দ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’ (তিরমিযী, হা/১৯০১; মিশকাত, হা/২১৩০)। উল্লেখ্য যে, সূরা ইখলাছ ৫০, ১০০, কিংবা ২০০ বার পাঠ করার ফযীলত সম্পর্কে যে সকল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলোই যঈফ’ (তিরমিযী, হা/২৮৯৮; সিলসিলা যঈফা, হা/৩০০; মিশকাত, হা/২১৫৮-৫৯)।


প্রশ্ন (২৭) : দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তা ভাবনার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট। একটা দুআ আছে “হাসবিয়া-ল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া-হুয়া রব্বুল আরশিল আজিম” এই দুআ সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার পড়ার কোনো ফযীলত আছে?

-সাইদুল ইসলাম, ফতুল্লা, নারায়ণঞ্জ।

উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি সূরা আত-তওবার শেষ আয়াত। তবে, সকাল-সন্ধ্যা ৭বার পাঠ করলে সকল চিন্তা-ভাবনার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হবেন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আবূ দাউদ, হা/৫০৮১)।


 হাদীছহাদীছের মূলনীতি, ব্যাখ্যা


প্রশ্ন (২৮) : বুখারী, মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ (রহ.) কীভাবে হাদীছের ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করেছেন? জনৈক আলেম বলেন, তাঁরা রাবীদের সৎ‌ কিংবা অসৎ, দুর্বল, হাদীছ ভুলে যাওয়া এভাবে যঈফ হাদীছ নির্ধারণ করেছেন এবং রাবীদের বিষয়ে আশপাশের লোকজনের মতামত অর্থাৎ ‌রাবী সৎ‌ না-কি, অসৎ এই বিষয়ে গবেষণা করে হাদীছ ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করেছেন, এই বক্তব্য কি সঠিক?

-মো: মিনহাজ পারভেজ
হড়গ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর: হাদীছ নির্ণয়ে জনৈক আলেম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক। মূলত এ সমস্ত বিষয়সহ আরো কিছু বিষয়কে সামনে রেখে হাদীছকে ছহীহ যঈফ নির্ণয় করা যায়। যেমন: হাদীছ মুত্তাছিল না হওয়া, রাবীর মধ্যে মিথ্যার গুণ বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি।


প্রশ্ন (২৯) : বুখারী-মুসলিম হাদীছ গ্রন্থের রাবী হলেই কি কোনো হাদীছ ছহীহ সাব্যস্ত হবে?

-ইলিয়াস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর: বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ের কোনো রাবী (বর্ণনাকারী) থাকলেই হাদীছ ছহীহ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। বরং হাদীছের সনদের সকল রাবী গ্রহণযোগ্য হতে হবে। আবার বর্ণনাকারীগণ গ্রহণযোগ্য হলেও হাদীছ দুর্বল হতে পারে। কেননা রাবী দোষ মুক্ত হওয়া ছাড়াও হাদীছ দুর্বল হওয়ার প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য অনেক কারণ রয়েছে। যেমন: তাদলীস, মুআল্লাক্ব, সনদের মাঝে এক বা একাধিক রাবী বিচ্ছিন্ন হওয়া, শায হওয়া ইত্যাদি। তাই বুখারী ও মুসলিমের রাবী হলেই হাদীছ ছহীহ হবে এমন দাবী সঠিক নয়। বরং একটি হাদীছ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত রয়েছে সব পাওয়া গেলে হাদীছ গ্রহণযোগ্য হবে। উল্লেখ্য যে, বুখারী-মুসলিমে যে সকল হাদীছ রয়েছে তার মধ্যে হাদীছ গ্রহণযোগ্য হওয়ার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকাই এই দুই গ্রন্থের সকল হাদীছ সকলের ঐক্য মতে ছহীহ।


প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলেম বলেন, রাসূল a হাদীছ লিখতে নিষেধ করেছেন, হাদীছ লেখা শুরু হয়েছে রাসূল a-এর মৃত্যুর ২০০ বছর পর, এই বক্তব্য কি সঠিক?

-মো: মিনহাজ পারভেজ
হড়গ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর: উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ রাসূল a প্রথমত কুরআনের সাথে হাদীছ মিলে যাওয়ার ভয়ে লিখতে নিষেধ করলেও পরবর্তীতে কুরআনের সাথে মিলে যাওয়ার আশঙ্কা হতে মুক্ত হলে ভুলে যাওয়ার ভয়ে লিখার অনুমতি দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয় কালে রাসূল a মানুষের উদ্দেশ্যে দাঁড়ান….. এমন সময় ইয়ামানের আবূ শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা আমাকে লিখে দিন। তখন রাসূল aও বলেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও (ছহীহ বুখারী, হা/২৩০২)। আবূ হুরায়রা c বলেন, ছাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ছাড়া এমন কেউ ছিল না যে, সে আমার হতে বেশি হাদীছ জানতো। কারণ সে লিখতো আর আমি লিখতাম না (ছহীহ বুখারী, হা/১১৩)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর c বলেন, আমি হাদীছ সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে রাসূল a হতে যাই শ্রবণ করতাম তাই লিখে ফেলতাম। এরপর কুরাইশরা আমাকে লিখতে নিষেধ করে বলে, তুমি রাসূল a হতে যা শ্রবণ করছো তাই লিখে ফেলছো? অথচ রাসূল a মানুষ হিসাবে রাগান্বিত ও খুশির অবস্থায় কথা বলেন। এরপর আমি লিখা হতে বিরত থেকে রাসূলের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম তখন তিনি তার আঙ্গুল দ্বারা তার মুখের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, তুমি লেখ। ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে। আমার মুখ হতে শুধু সত্যই বের হয়ে থাকে (আবূ দাউদ, হা/৩৬৪৬)। উক্ত হাদীছগুলো আদেশ বাচক। সুতরাং রাসূলের যুগে হাদীছ লেখা হয়নি এমন দাবী ভিত্তিহীন। তবে তা একত্রে সংকলিত আকারে ছিল না। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের কাছে একটি ছহীফা ছিল; যার নাম ছিল ‘ছাদেক্বা’ ও আলী c-এর কাছে একটি ছহীফা ছিল; যার মধ্যে মুক্তিপন, দিয়াত ইত্যাদি বিষয় লিপিবদ্ধ ছিল। এরপর খেলাফতের যুগে উমার c হাদীছ লেখার ইচ্ছা করলেও অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে লেখতে সক্ষম হননি। পরবর্তীতে সংকলন আকারে সর্বপ্রথম হাদীছ একত্রিত করেন উমার ইবনু আব্দুল আযিয (ফাতহুল বারী, ১/২৩৪)। যা ছিল ১০০ হিজরীর শেষের দিকে (ছহীহুল কুতুবুত তিসআ‘, পৃ. ২২)।


প্রশ্ন (৩১) : اللهمَّلكالحمدكماينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-আজিজুল্লাহ, মাহিগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর: হাদীছটির সনদ যঈফ। হাদীছের সনদে ছাদাক্বা ইবনু বাশীর নামে একজন রাবী আছে যাকে কেউ গ্রহনযোগ্য রাবী বলেননি (মু‘জামুল কাবীর, ত্বাবারাণী, হা/১৩২৯৭; বায়হাক্বী-শুআবুল ঈমান, হা/৪৩৮৭; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮০১ ‘হাদীছ যঈফ’)। অতএব হাদীছটি আমলযোগ্য নয়।


প্রশ্ন (৩২) : ‘দাসী তার মুনিবকে জন্ম দিবে’ হাদীছটির ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-আব্দুন নূর, সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর: হাদীছটির ব্যাখ্যা হলো- ১. দাসী যাকে প্রসব করবে সে এক সময় দাসীর মালিক হবে এবং মালিকানা সূত্রে সে তার সাথে দাসীর মতো ব্যবহার করবে (ফতওয়া ইসলামিয়া, ৪/১২১)। ২. পিতা-মাতার অবাধ্যতা বেড়ে যাবে এবং সন্তান তার মায়ের সাথে মনিব যেমন দাসীর সাথে আচরণ করে তেমন আচরণ করবে তথা সন্তান মাকে অপমান করবে, গালি দিবে, প্রহার করবে, দাসীর মতো ব্যবহার করবে। রব শব্দের মূল অর্থ হলো মালিক। এখানে শব্দটি রূপকার্থে সন্তান অর্থে ব্যবহার হয়েছে (হাশিয়াতুস-সুয়ূতী আলা সুনানিন নাসাঈ, ৮/১০০ পৃ.; শরহু সুনানু ইবনু মাজাহ, ৭ পৃ.; নুকাত আলা- ছহীহিল বুখারী, ২/২১ পৃ.)।


বৈধঅবৈধ


প্রশ্ন (৩৩) : আমার মা অসুস্থ। মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় LIFE SUPPORT-এ আছেন। LIFE SUPPORT-এ আছেন এটা বলা কি জায়েয?

-হুমায়ূন কবীর
আম্বরখানা, সদ, সিলেট।

উত্তর: ‘লাইফ সাপোর্ট’ এর অর্থ মানুষের মৃত্যুর পরও তাকে বাঁচিয়ে রাখা এমন নয়। বরং একজন রুগী বেঁচে আছে কিন্তু মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ কিংবা মস্তিষ্কের টিউমার অথবা ফুসফুসে সমস্যার কারণে কিংবা শরীরে মারাত্মক ব্যাধির সংক্রমণ কিংবা অন্য যেকোনো কারণে নিজে থেকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে না, তার ক্ষেত্রে রুগীকে শ্বাস-প্রশ্বাস তথা ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়, একেই লাইফ সাপোর্ট বলা হয়। এরপর তার অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা না গেলে হয়ত রুগীটা নিঃশ্বাস না নিতে পারার কারণে মারা যেত (ডা. সিনহা আবুল মনসুর, এন টিভি, স্বাস্থ্য প্রতিদিন, পর্ব ২৬৫৫)। তাই ‘লাইফ সাপোর্ট’ শব্দ বলা দোষণীয় কিছু নয়। উল্লেখ্য যে, এমন অবস্থায় লাইফ সার্পোটে না রেখে পরিবার-পরিজনের নিকট রাখার জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং তাকে কালিমার তালক্বীন দিতে হবে। রাসূল a বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃত্যু শয্যায় সায়িত ব্যক্তিকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ -এর তালক্বীন দাও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯১৭; ইবনু হাজাহ, হা/১৪৪৪)। তিনি আরো বলেন, ‘যার শেষ কালেমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ হবে, যে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আবূ দাউদ, হা/৩১১৬; মিশকাত, হা/১৬২১)।


প্রশ্ন (৩৪) : একটু বিনোদনের জন্য বাদ্যযন্ত্রের পরিবর্তে নাক-মুখ দ্বারা মিউজিক তৈরি করা কি জায়েয?

-নাঈম, কাহালু, বগুড়া।

উত্তর: সকল প্রকারের মিউজিক হারাম। হোক না তা ঢোল-তবলা, হারমনিয়াম, পিয়ানো কিংবা হাত-মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের মাধ্যমে। কেননা এসব কুরআনে বর্ণিত ‘লাহওয়াল হাদীছ’ তথা অনর্থক কথা-বার্তা যা স্পষ্ট হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কতক মানুষ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে অজ্ঞতাবশত অবান্তর কথাবার্তা (গান-বাজনা) ক্রয় করে আর আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদের জন্যই আছে অবমাননাকর শাস্তি (লুক্বমান, ৩১/৬)। আবূ মালেক আল-আশ’আরী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের মধ্যে কতিপয় সম্প্রদায় জন্মাবে যারা রেশমি কাতান এবং রেশমি কাপড় ব্যবহার করা, মদ্যপান করা এবং গান-বাদ্য করাকে বৈধ মনে করবে। আর অনেক সম্প্রদায় এমনও হবে যারা পর্বতের পাদদেশে বসবাস করবে। সন্ধ্যায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে বাড়ি-ঘরে প্রস্থান করবে (এমনি সময় তাদের নিকট কোন লোক তার প্রয়োজন নিয়ে আসলে তারা বলবে), আগামীকাল সকালে আমাদের কাছে এসো, কিন্তু রাতের আঁধারেই আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেবেন এবং পর্বতটিকে (তাদের ওপর) ধসিয়ে দেবেন। আর কারো কারো আকৃতিকে বানর ও শূকরে পরিবর্তিত করে দেবেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৬৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস h হতে বর্ণিত, a বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মদপান করা, জুয়া খেলা এবং ঢোল বাজানো হারাম করেছেন এবং বলেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু হারাম’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৫; আবূ দাউদ, হা/৩৬৮৫)।


প্রশ্ন (৩৫) : আমি একজন ছাত্র। আমি সালাফী মানহাজের অনুসরণ করি- আল-হামদুলিল্লাহ। আমার দাড়ি খুব লম্বা; বুকের নিচ পর্যন্ত এবং নিচের দিকে লাল হয়ে গেছে। এখন আমি কি দাড়ি কিছুটা ছেটে নিতে পারব?

-আব্দুল্লাহ, ভালুকা, ময়মনসিংহ।

উত্তর: রাসূলের কওলী (বক্তব্য) ও ফে‘লী (কর্মগত) উভয় প্রকার হাদীছ দ্বারা সাবস্ত্য যে, দাড়ি পরিপূর্ণভাবে রাখতে হবে। যা কোনো প্রকার ছাটা বা কাটা জায়েয নয়। ইবনু উমার c হতে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিপরীত কর, পরিপূর্ণভাবে দাড়ি ছাড় এবং মোচ খাট কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯)। ইমাম নববী (রহ) বলেন, এ ব্যাপারে সর্বমোট পাঁচটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অতএব দাড়ির শেষ অংশ হোক কিংবা সাইডের অংশ হোক কোনো অবস্থাতেই তা কাটা যাবে না; যা মূলত রাসূল a-এর সুন্নতের বিপরীত (ফতওয়ায়ে লাজনা আদ-দায়েমা, ৫/১৩৭; মাজমূআয়ে ফতওয়া ইবনু উছাইমীন, ১১/৮২)। আর তিরমিযীতে দাড়ির লম্বাংশ ও সাইডের অংশ কাটার ব্যাপারে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা জাল (সিলসিলা যঈফা, হা/২৮৮)। তবে, খুব সমস্যা হলে ভিন্ন কথা।


পারিবারিক বিধিবিধান


প্রশ্ন (৩৬) : যদি কোনো মহিলার স্বামী বিয়ের আট মাসের মধ্যে মারা যান তবে কি সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে এবং যদি পারে তবে কতদিন পর? উল্লেখ্য, তার শ্বশুর শাশুড়ির অনুমোদন নেওয়া লাগবে কি?

-মাহফুজ, সাতক্ষীরা।

উত্তর: যখন কোনো মহিলার স্বামী মারা যাবে এমন অবস্থায় যদি সে গর্ভবতী হয়, তাহলে সে বাচ্চা প্রসব করা পর্যন্ত অন্য কারো সাথে বিবাহ বসতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর গর্ভবতীদের সময়সীমা হলো তাদের সন্তান প্রসব করা’ (আত্ব-ত্বালাক, ৬৫/৪)। আর যদি গর্ভবতী না হয়, তাহলে সে চার মাস দশ দিন পর বিবাহ করতে পারবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অন্য জায়গায় বিবাহ হতে বিরত রাখবে’ (আল-বাক্বারা, ২/২৩৪)। এ ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির অনুমতি লাগবে না। তবে অবশ্যই বিবাহের ক্ষেত্রে তার অভিভাবক লাগবে। কারণ অভিভাবক ছাড়া বিবাহ সঠিক হয় না। রাসূল a বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হয় না’ (মুসনাদে আবী দাউদ, হা/৫২৫; মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হা/১০৪৭৩)।


প্রশ্ন (৩৭) : আমার বড় ভাইয়ের কোন ছেলে হয় না। তাই আমার একটি ছেলে বড় ভাইকে দিয়েছি। এখন আমার ছেলে আমাকে চাচা বলে এবং ভাইকে আব্বু বলে। এর শারঈ বিধান কী?

-মো. শাহ আলম
বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর: আপন পিতা-মাতার পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকে স্বীকার করে, চাচা-চাচীর আশ্রয়ে লালিত-পালিত হওয়ার কারণে সম্মানার্থে চাচাকে পিতা এবং চাচীকে মাতা বলা যায়। সাথে সাথে বাবা যেহেতু বেঁচে আছে সেহেতু বাবাকেও আব্বা বলতে হবে। নতুবা সে কষ্ট পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাক, আল্লাহর নিকট এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ (আল-আহযাব, ৩৩/৫)। তবে সার্টিফিকেট, আইডি, পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো স্থানে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে পিতা-মাতার স্থানে তাদের নাম ব্যবহার করা যাবে না। কেননা তাতে আপন পিতা-মাতার পরিচয় গোপন করা হবে এবং অন্যকে আপন পিতা-মাতা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আর তা নিষিদ্ধ। কেননা এ সময় সে কাফের হয়ে যায় (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৬১)। এবং জান্নাতও তার জন্য হারাম হয়ে যায় (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬)। অতএব, যথাযথ কতৃর্পক্ষের নিকট আবেদন করে উক্ত সার্টিফিকেট ও আইডি হতে তাদের নাম পরিবর্তন ও সংশোধন করা জরুরী। উল্লেখ্য যে, পালিত মার দুধ পান না করে থাকলে সে মা মাহরামের অন্তভুর্ক্ত নয়। এমতাবস্থায় তাকে মা বললেও তার সাথে পর্দা বজায় রেখে চলবে।


দানছাদাক্বা


প্রশ্ন (৩৮) : সিলেটে ঘটে যাওয়া বন্যায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত ঈমানদার ব্যক্তির পক্ষে কি একজন প্রকাশ্য কাফের/মুশরিক/মুরতাদ/জালিমের পক্ষ থেকে দান করা অর্থ বা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা উচিত?

-মো: মোজাহিদ হোসেন পিজন
দুমকি, পটুয়াখালী।

উত্তর: মুশরিকদের সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়। রাসূল a ও তাঁর ছাহাবীগণ এক মুশরিকা নারীর পানি দ্বারা ওযূ করে ছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৫)। রাসূল a এক ইহুদি নারীর হাদিয়াগ্রহণ করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯০)। এগুলোও এক প্রকারের সহযোগিতা।


প্রশ্ন (৩৯) : আমরা তিন গ্রামের ছেলেরা মিলে গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য একটা ক্লাব খুলেছি। আর আমরা প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিব। এখন আমাদের বলবেন কি কীভাবে আমরা এখন এই দশের টাকা কাজে লাগিয়ে একটা বড় টাকা করতে পারি? যাতে আমরা গ্রামের মানুষের পাশে এবং গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারি।

-রাকিবুল হাসান।

উত্তর: অভাবী, দুঃস্থ, অস্বচ্ছল মানুষকে সাহায্য করা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো কাজ। রাসূল a এই বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘…আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদেরকে ততক্ষণ পর্যন্ত সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করতে থাকে। যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোন পথ বা পন্থায় অনুপ্রবেশ করার সন্ধান করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার জান্নাতে প্রবেশ করার পথ সহজ করে দেন… (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৯; আবূ দাউদ, হা/২২৫)। তাই সেই লক্ষ্যে জমাকৃত অর্থ সূদ ও হারাম থেকে মুক্ত যেকোনো প্রজেক্টে কাজে লাগিয়ে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সূদমুক্তভাবে কাউকে গরু-ছাগল পালন করতে দেওয়া যেতে পারে কিংবা জমি কিনে রাখা যেতে পারে। অথবা গাছ লাগিয়ে রাখা কিংবা বিশ্বস্ত কোনো মানুষকে ব্যবসার কাজে দিয়ে সেখান থেকে মুদারাবা পদ্ধতিতে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।


প্রশ্ন (৪০) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ছাদাক্বা কবূল হবে কি?

-সালমান, চট্টগ্রাম।

উত্তর: দান একটি গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। যা ধনী-গরীব সবাই করতে পারে। ঋণ পরিশোধেযোগ্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির দান কবুল হবে না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং রাসূল a স্বচ্ছলতা-অস্বচ্ছলতা উভয় অবস্থায় সাধারণ দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল! উত্তম ছাদাক্বা কী? তিনি বললেন, ‘অর্থের প্রতি লোভ থাকাকালে সুস্থ অবস্থায় তোমার দান করা, যখন তুমি দারিদ্রের ভয় কর এবং ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখো’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫৩; মুসলিম, হা/১০৩২)। অন্য হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল a–কে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন দান সর্বোত্তম? রাসূল a বললেন, ‘গরীবের কষ্টের দান’ (আবূ দাউদ, হা/১৬৭৭; মিশকাত, হা/১৯৩৮)। তবে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি দানের চেয়ে অতিব গুরুত্বপূর্ণ। তাই যদি কারো উপর ঋণের বোঝা থাকে এবং তার নিকট ঋণ পরিশোধযোগ্য অর্থের বেশি অর্থ না থাকে বা ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে তাহলে, এমন ব্যক্তি টাল-বাহানা না করে আগে ঋণ পরিশোধ করবে। কেননা এমন ব্যক্তিকে দান না করে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘স্বচ্ছলতা ব্যতীত ছাদাক্বা নেই’ (ছহীহ বুখারী, অধ্যায়-৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১৫৫)। ইমাম বুখারী p পূর্বোক্ত হাদীছ দ্বারা অধ্যায় রচনা করে বলেন, যে ব্যক্তি ছাদাক্বা করতে চায়; অথচ সে নিজেই দরিদ্র বা তার পরিবার-পরিজন অভাবগ্রস্ত অথবা সে ঋণগ্রস্ত, এ অবস্থায় তার জন্য ছাদাক্বা করা, গোলাম আযাদ করা ও দান করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা অধিক কর্তব্য (ছহীহ বুখারী, অধ্যায়-১৭)।


রোগের চিকিৎসা


প্রশ্ন (৪১) : অনেক জায়গা থেকে শোনা যায় যে, অমুক অসুস্থ্যতার জন্য অমুক দুআ বা শব্দটি বা আল্লাহর এই গুণবাচক নামটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় (যেমন: ১০০, ১০০১, ১১০, ৫০০, ৫০১ বার ইত্যাদি) পড়তে হবে। কিন্তু কোনো দলিল পেশ করা হয় না। এমতাবস্থায় ঐ আমল করা যাবে কি?

-মো: মোজাহিদ হোসেন পিজন

দুমকি, পটুয়াখালী।

উত্তর: এমন আমল স্পষ্ট বিদআত। কারণ নবী a সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈগণ থেকে এমন আমলের অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায় না। আর শরীয়ত দ্বারা প্রমাণিত নয় এমন দুআ সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বা না করে পাঠ করা যাবে না। তাই দলীল ছাড়া কোনো দুআ বা আমল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রোগ মুক্তির জন্য ‍কুরআন-হাদীছে প্রশ্নে উল্লেখিত সংখ্যায় কোনো দুআ পাওয়া যায় না। তাই এমন ভিত্তিহীন আমল থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। বরং ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত দুআগুলো পাঠ করবে। যেমন: ১. রাসূল a সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর নিকট সুস্থতা কামনা করে দুআ করতেন,اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغتَالَ مِن تَحتِي (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৬৫৭; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৭১)। ২. রাসূল a নিজের জন্য ও অপরের জন্য সুস্থতা চেয়ে দু‘আ করতেন, أَذْهِبِ البَأسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৫০)। এছাড়াও নিজ ভাষায় ইচ্ছামতো আল্লাহর নিকট নিজ রোগ মুক্তির জন্য দুআ করা যায়। উল্লেখ্য যে, দান-ছাদাক্বা রোগ মুক্তির সহজ পথ। তাই রোগ মুক্তির জন্য বেশি বেশি দান-ছাদাক্বা করা উচিত। এ মর্মে রাসূল a বলেছেন, ‌دَاوُوا ‌مَرْضَاكُمْ ‌بِالصَّدَقَةِ অর্থাৎ ‘তোমরা ছাদাক্বার মাধ্যমে তোমাদের রুগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করো’ (কুবরা বায়হাক্বী, হা/৬৫৯৩; ছহীহ আত-তারগীব, হা/৭৪৪)।


ব্যবসা-বাণিজ্য


প্রশ্ন (৪২) : মুদ্রা ব্যবসায় শারঈ কোনো বাধা আছে কি?

-সেলিম, খুলনা সদর।

উত্তর: মুদ্রা ব্যবসা, ডলারের বিনিময়ে টাকা, টাকার বিনিময়ে রিয়াল ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ক্রয় বিক্রয় কোনো শারঈ বাধা নেই। যদি তা নগদ নগদ হাতে হাতে হয় (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৯৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৮)। তবে একই দেশীয় মুদ্রার বিনিময়ে কম বেশি দেওয়া নেওয়া চলবে না। যেহেতু তা সূদী কারবারে পরিণত হয়ে যাবে।


প্রশ্ন (৪৩) : একই জিনিস নগদে ৫০ টাকায় এবং ধারে ৬০ টাকায় বিক্রি করা বৈধ কি?

-সেলিম, খুলনা সদর।

উত্তর: এক কিস্তিতেই হোক বা একাধিক নির্দিষ্ট কিস্তিতে হোক চুক্তি করে বেশি নেওয়া দোষাবহ নয়। যেমন, যদি কোনো দোকানদার ১ কেজি সরিষার তেল নগদ দরে ৫০ টাকা এবং ধারে ৬০ টাকা হিসাবে বিক্রয় করে, আর ক্রেতাও এ চুক্তিতে রাজি হয়ে ক্রয় করে থাকে, তাহলে উভয়ের জন্য তা বৈধ। এরূপ লেনদেন ব্যবসা চুক্তি সূদের পর্যায়ভূক্ত নয়। ইক্বরিমা c হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস h বলেন, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এমন চুক্তিতে কোনো সমস্যা নেই যে, নগদ মূল্যে এত আর বাকি মূল্যে এত (মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বা, হা/২০৮২৬, ২০৮২৭)।


প্রশ্ন (৪৪) : বিধর্মীদের মেলায় ব্যবসার উদ্দেশ্যে দোকান দেওয়া যাবে কি?

-জাহাঙ্গীর আলম, সাক্ষীরা।

উত্তর: বিধর্মীদের মেলায় ব্যবসা করা বৈধ নয়। এতে বিধর্মীদের সহযোগিতা করা হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা অন্যায় ও পাপ কাজের সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (আল-মায়েদা, ২)।


প্রশ্ন (৪৫) : বেশি লাভের আশায় ব্যাকডেট দিয়ে কোনকিছু বিক্রয় করা যাবে কি?

-আসাদুজ্জামান
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর: বেশি লাভের আশায় ব্যাকডেট দিয়ে কোন কিছু বিক্রয় করা যাবে না। কেননা তা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। রাসূল a ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নিতে নিষেধ করেছেন। সাথে সাথে যে ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিবে সে তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় বলেও উল্লেখ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২; মিশকাত, হা/২৮৬০)।


প্রশ্ন (৪৬) : মুশারাকা ও মুযারাবা কোন ধরনের ব্যবসা? বিস্তারিত জানাবেন।

-আয়েশা, নোয়াখালী।

উত্তর: মুশারাকা হল অংশহারে ব্যবসা। যাতে লাভও অংশহারে বণ্টন হবে (আবূ দাঊদ, ইরওয়া, হা/১৪৬৮)। আর মুযারাবা হল একজনের অর্থ এবং অপর জনের ব্যবসা। যাতে লাভ চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন হবে (মুওয়াত্ত্বা মালেক, ইরওয়াউল গালিল, হা/১৪৭০)। ইসলামী শরী‘আতে এই দু’ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া অন্য কোন ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধ নয়। বর্তমান যুগে অনেক প্রতারণাপূর্ণ বীমা ও ব্যবসা বেরিয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকা মুমিনের কর্তব্য। কারণ রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে আমাদের সাথে প্রতারণা করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২; মিশকাত, হা/২৮৬০)।


প্রশ্ন (৪৭) : সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা বৈধ হবে কি?

-রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা।

উত্তর: সরকারের কোনো আইন ইসলামী আইন বিরোধী না হলে এবং জনকল্যাণকর হলে সে আইন মেনে চলাই কর্তব্য (আবূ দাঊদ, হা/২৬২৬; তিরমিযী, হা/৩৭০৭)। অতএব, জাতীয় রাজস্ব আয়ের মাধ্যম হিসাবে সরকারীভাবে যে ট্যাক্স ধার্য করা হয়, তা ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা ঠিক হবে না। কেননা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ মানেই জনস্বার্থ। আর জনস্বার্থের ক্ষতি করা ইসলাম অনুমোদন করে না। সাধারণভাবে একজন ঈমানদার ব্যক্তি কখনো অন্যের ক্ষতিসাধন করে আপন স্বার্থ হাছিল করতে পারে না। সুতরাং এ ধরনের অপরাধ করা হতে বিরত থাকতে হবে। তবে অনেক সময় রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিগ্রস্থ সিস্টেমের কারণে মানুষ সঠিক ট্যাক্স দিতে চাইলেও দিতে পারে না সেক্ষেত্রে এর দায়ভার রাষ্ট্রের উপর বর্তাবে। সাধ্যের বাহিরে কোনো কাজের জন্য মানুষ আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হবে না।


তারিখে ইসলাম


প্রশ্ন (৪৮) : ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন স্থানে ছাহাবী গাছ দেখা যায়। আসলে ছাহাবী গাছ বলতে কোনো গাছ আছে কি? জানতে চাই।

-ফারহাদ হোসেন
সখিপুর, শরিয়তপুর।

উত্তর: গাছ কখনো ছাহাবী হতে পারে না। ছাহাবী গাছ বলে যে কথা মানুষের মাঝে ছড়াছড়ি হয়ে আছে তা নিছক কাহিনী মাত্র। এর কোনো ভিত্তি নেই।


বিবিধ


প্রশ্ন (৪৯) : মানুষ মুখে শোনা যায় রাত ১২টার পর মসজিদের মাঝখানে ঘুমালে নাকি জিন মানুষের ক্ষতি করে, এই কথা কি সত্য?

-নোবিরুল, রঘুনাথ গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ।

উত্তর: এ কথার সত্যতার ব্যাপারে কোনো শারঈ ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। যা শুধু মানুষের মুখেই প্রচলিত রয়েছে। তবে জিনের প্রভাব রয়েছে। যা কুরআন-হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে (দুনিয়াতে) শয়তান (অর্থাৎ জিন) স্পর্শ দ্বারা বেহুশ করে দেয় (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। আবূ সাঈদ খুদরী c বলেন, একজন নতুন বিবাহিত এক তরুণ খন্দক যুদ্ধ চলাকালে প্রতিদিন দুপুরের সময় রাসূলের অনুমতি নিয়ে বাড়ি যেত। প্রতি দিনের ন্যায় একদিন অনুমতি চাইলে রাসূল a অনুমতি কালে তাকে বলেন, ‘তোমার হাতিয়ার তোমার সাথে নিয়ে নাও। কারণ তোমার উপর বনু কুরায়যার আক্রমণের আশঙ্কা করছি’। এরপর সে বাড়িতে গিয়ে দেখে যে তার স্ত্রী ঘরের দরজাতে, তখন সে রাগান্বিত হয়। তবে স্ত্রী তাকে ঘরে প্রবেশের জন্য বলে। এরপর সে ঘরে বিশাল একটি সাপ দেখে এবং বল্লম দ্বারা সেটিকে আঘাত করে এতে সাপটি তার দিকে তেড়ে আসে। এতে সে ও সাপ উভয়ই মারা যায় এবং কে আগে মারা যায় তা বুঝা যায়নি… (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩৬)। এছাড়াও রাসূল a -কে একবার জিনেরা ছাহাবীদের মধ্য হতে নিয়ে চলে যায়। এতে ছাহাবীরা রাসূল a-কে খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ার কারণে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তী দিনে রাসূল a এসে ছাহাবীদের বলেন, ‘জিনের একটি দল তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তার কাছে কুরআন শ্রবন করেছে’ (সংক্ষিপ্ত) (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৫০)।


প্রার্থনা


প্রশ্ন (৫০) : চাকুরী হইতেছে না। চাকুরী পাওয়ার কোনো আমল আছে কি?

-বায়তুল বখতিয়ার, বরিশাল।

উত্তর: চাকুরী পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দু‘আ বর্ণিত হয়নি। তবে, চাকুরী মানুষের একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। তাই মনের ইচ্ছা বা চাহিদা পূরণের জন্য নিম্নোক্ত আমলগুলো করলে আল্লাহ তার চাওয়া পূরণ করবেন ইনশা-আল্লাহ!

১. ‌لَا ‌إِلَهَ ‌إِلَّا ‌أَنْتَ ‌سُبْحَانَكَ ‌إِنِّي ‌كُنْتُ ‌مِنَ ‌الظالمينَ রাসূল a বলেন, ‘যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দুআ করলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তার দুআ কবুল করেন’ (তিরমিযী, হা/৩৫০৫; মিশকাত, হা/২২৯৬)।

২. রাতের শেষের এক তৃতীয়াংশে আল্লাহর কাছে নিজ প্রয়োজন তুলে ধরলে আল্লাহ তা পূরণ করবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮)।