প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে নিজের স্ত্রী সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও তাকে যেনার অপবাদ দেয়। যদিও তার স্ত্রী এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত নন। প্রশ্ন হল, এতে কি তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে? এই অপবাদ ও মিথ্যাচারের ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য তার কী করা উচিত?

আবু তালহা

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : এতে তার স্ত্রী তালাক হবে না। কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে যেনার অপবাদ দেয় তাহলে তার সমাধানের পথ দু’টি। প্রথমত, স্বামী যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তা যদি স্বীকার করে তাহলে তাকে মিথ্যা অপবাদের কারণে ৮০ বেত্রাঘাত করা হবে (নূর, ৪)। আর যদি স্ত্রী যেনা করেছে মর্মে স্বীকৃতি দেয় তাহলে তাকে যেনার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে (নূর, ২)। দ্বিতীয়ত, সে ব্যক্তি যদি মিথ্যা অপবাদের কথা স্বীকার না করে আর স্ত্রী যদি যেনা করেছে মর্মে স্বীকৃতি না দেয় তাহলে স্বামী তার দাবির স্বপক্ষে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থিত করবে। যদি স্বামী সাক্ষী উপস্থিত করতে না পারে তাহলে উভয়ের মাঝে লি‘আনের বিধান সাব্যস্ত হবে। লি‘আন বলা হয়, প্রথমে স্বামী চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে যে, ‘আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি আমার দাবির ক্ষেত্রে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’ এবং পঞ্চম বারে বলবে, ‘আমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি তাহলে আল্লাহর অভিশাপ আমার প্রতি নেমে আসুক। অনুরূপভাবে স্ত্রীও চারবার বলবে, ‘আল্লাহর শপথ আমার স্বামী মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’। পঞ্চম বারে বলবে, ‘আমার স্বামী যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তাহলে আমার উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসুক (নূর, ৬-৯)। এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তালাক সাব্যস্ত হয়ে যাবে নতুনভাবে তালাক দেওয়ার কোন প্রয়োজন হবে না। ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে স্বীয় স্ত্রীর উপর (যেনার) অভিযোগ আনে এবং সে স্ত্রীর সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে। রাসূল (ছাঃ) উভয়কে লি‘আন করতে আদেশ দেন। আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে তারা লি‘আন করে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, বাচ্চাটি স্ত্রীর আর তিনি লি’আনকারী দু’জনকে আলাদা করে দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩৭৯, ৪৯০০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৩)। প্রশ্নোল্লিখিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি একথা প্রতীয়মান হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তাহলে তাকে ইসলামী হুকুমত এর পক্ষ থেকে ৮০ বেত্রাঘাত করতে হবে। উল্লেখ্য যে এসব হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা সরকারের দায়িত্ব (নায়লুল আওত্বার, ৭/২৯৫-২৯৬ পৃঃ)।

 

 

প্রশ্ন (২) : জনৈক হাজী ছাহেব বলেন, ‘মসজিদভিত্তিক সমাজে না থাকলে কোন ইবাদত কাজে লাগবে নাতার উক্তিটি কতটুকু শরীআত সম্মত?

-আবু সাঈদ খুদরী

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : এ উক্তির কোন ভিত্তি নেই। হাদীছে যে জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনের কথা বলা হয়েছে তার দু‘টি অর্থ। প্রথমত, ইসলামী খিলাফতের খলীফা বা মুসলিম রাষ্ট্রের বৈধ মুসলিম শাসকের বৈধ হুকুমের আনুগত্য করে জীবন-যাপন করা। দ্বিতীয়ত, যেকোন মসজিদের সাথে ৫ ওয়াক্ত ছালাতের জামা‘আতের মাধ্যমে সম্পৃক্ত থাকা। কেউ যদি ৫ ওয়াক্ত ছালাত জামা‘আতে আদায় করে তাহলে সে শারঈভাবে জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত। এই দু’ভাবে জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য যরূরী (তাফসীরে ইবনে কাছীর; সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৩ দৃষ্টব্য)।

প্রশ্নে যে সমাজের কথা বলা হয়েছে, তা যদি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক পরিচালিত, মসজিদভিত্তিক সমাজ হয় তাহলে তার সাথে সম্পৃক্ত থাকাই উচিত। তবে কেউ যদি সম্পৃক্ত না থাকে তাহলে তার ইবাদাত কবুল হবে না এমন কথার কোন ভিত্তি নাই। ইবাদাত কবুলের শর্ত হচ্ছে দু‘টি ইখলাস ও সুন্নাতের অনুসরণ। এই দু‘টি বিষয় থাকলে ইবাদাত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (৩) : সেন্ট, পারফিউম, সুগন্ধি তেল, পারফিউমযুক্ত শ্যাম্পু ইত্যাদি মেখে নারীদের জন্য মসজিদ, ঈদগাহ কিংবা বাইরে বের হওয়া কি জায়েয?

-রুকাইয়া

চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : সেন্ট, পারফিউম, সুগন্ধি তেল, পারফিউমযুক্ত শ্যাম্পু, এক কথায় সুগন্ধিযুক্ত কোনকিছুই মেখে নারীদের জন্য বাইরে বের হওয়া জায়েয নয়। এমনকি ঈদ কিংবা জুম‘আর ছালাত আদায়ের জন্যও মসজিদ কিংবা ঈদের মাঠে যেতে পারবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে বললেন,

إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْمَسْجِدَ فَلاَ تَمَسَّ

‘তোমাদের কোন মহিলা যদি মসজিদে আসে, তাহলে সে যেন আতর ব্যবহার না করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪৩; মিশকাত, হা/১০৬০)। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন মহিলা তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তার কাছ থেকে তীব্র ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, হে পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর বান্দী! তুমি কি মসজিদে যাচ্ছো? মহিলা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর মসজিদে যাওয়ার জন্য তুমি সুগন্ধি  ব্যবহার করেছো? মহিলা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও এবং গোসল কর। কারণ আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, কোন মহিলা যদি সুগন্ধির ঘ্রাণ ছড়াতে ছড়াতে মসজিদে যায়, আল্লাহ তার ছালাত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে বাড়ি ফিরে গিয়ে গোসল না করে’ (মুসনাদে আবীল ইয়ালা, হা/৬৩৮৫; জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ, ১/১৩৮ পৃঃ)। অপর বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন নারী যদি আতর বা সেন্ট ব্যবহার করে কোন মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে এবং মজলিসের লোকেরা আতরের সেন্ট পায় তাহলে সে নারী এরূপ এরূপ অর্থাৎ ব্যভিচারিনী (মুসতাদরাকে হাকেম, হা/৩৪৯৭; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪৪২৪)। তথা ব্যভিচার না করেই সে ব্যভিচারের পাপে পাপী।

প্রশ্ন (৪) : মুখে দাঁড়ি গজানোর জন্য কোন মেডিসিন, মলম বা ক্রীম ব্যবহার যাবে কি?

-আরীফুল ইসলাম

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা।

উত্তর : বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও যদি কারো মুখে দাঁড়ি না গজায় বা কিছু জায়গায় উঠে আর কিছু জায়গায় না উঠে এবং তা কোন রোগের কারণে বা হরমোনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে তাহলে দাঁড়ি গজানোর জন্য মলম বা মেডিসিন ব্যবহারে শরী‘আতে কোন বাধা নেই (মাজমুঊ‘ ফাতাওয়া ইবনে উছায়মীন, ১৫/১৭ পৃঃ)। তবে দাঁড়ি ঘন করা বা গালভর্তি দাঁড়ি গজানোর উদ্দেশ্যে দাঁড়ি চাছা বা শেভ করা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) গোফ খাটো করার ও দাঁড়ি ছেড়ে দেয়ার আদেশ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৬২৭)। আর দাঁড়ি ছাঁটা, দাঁড়ি গজানো বা দাঁড়ি ঘন হওয়ার কোন চিকিৎসা যদি মেডিকেল সাইন্সে না থাকে এবং এটা প্রমাণিত হয় যে, দাঁড়ি না গজানো বা ঘন না হওয়া কোন রোগের কারণে নয়। তাহলে যেভাবে যতটুকু দাঁড়ি গজাবে সেভাবে রেখে দেওয়াই সুন্নাহ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৪৩)।

প্রশ্ন (৫) : প্রভিডেন্ট-এর টাকা ও ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য টাকা দিয়ে ব্যবসায় করা হালাল হবে কি? উল্লেখ্য যে, পরবর্তীতে লভ্যাংশ থেকে প্রাপ্ত সূদের অংশ বিনা ছওয়াবে গরীব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দেওয়ার নিয়্যাত আছে।

-জাহিদ

লালপুর, নাটোর।

উত্তর : প্রভিডেন্ট-এর টাকা ও অন্যান্য যে কোন টাকা সূদমুক্ত হলে তা দিয়ে ব্যবসায় করা যাবে। ব্যাংকের টাকা সূদমুক্ত না হলে সে অর্থ দিয়ে ব্যবসায় বৈধ হবে না। যদিও সূদ গ্রহণ করে পরবর্তীতে তা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ কাউকে দান করা হয়। কেননা সূদ স্পষ্ট হারাম (বাক্বারাহ, ২৭৫)। তাছাড়া হালাল অর্থের সাথে অবৈধ অর্থ মিশ্রিত করলে তাও সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায়। যা করতে আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর ও সৎকর্ম কর; তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি অবগত (মুমিনূন, ৫১)।

প্রশ্ন (৬) : মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী না জাহান্নামী

-জিকু চৌধুরী

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা।

উত্তর : মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা উভয়েই জাহান্নামী। কেননা তারা মুশরিক অবস্থায় মারা গেছেন। তাছাড়া তাদের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তিনি আল্লাহর নিকট হতে কোন অনুমতিও পাননি। আবু হুরায়রা (ছাঃ) বলেন, ‘একবার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর মাতার কবর দেখতে গিয়ে নিজে কাঁদলেন এবং তার চতুষ্পার্শ্বের লোকদেরকেও কাঁদালেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তবে তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৬; মিশকাত, হা/১৭৬৩)। আনাস (ছাঃ) হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার পিতা কোথায়? তদূত্তরে বললেন, ‘তোমার পিতা জাহান্নামে’। অতঃপর সে ফিরে যাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, ‘আমার পিতা ও তোমার পিতা উভয়েই জাহান্নামে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৩; আবুদাঊদ, হা/৪৭১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২২১৩; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৫৭৮)।

 

প্রশ্ন (৭) : হাঁস-মুরগি যবেহ করার পর লোম পরিষ্কার করার জন্য আগুনে পুড়ানো যাবে কি

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম

পত্নিতলা, নওগাঁ।

উত্তর : হাঁস-মুরগি যবেহ করার পর লোম পরিষ্কারের জন্য আগুনে ঝলসানো বা পোড়ানোতে কোন নিষেধ নেই। মূলত, উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা। সুতরাং তাতে কোন দোষ বা গোনাহ হবে না। কেননা গোশত খাওয়ার পদ্ধতিই হল রান্না করা অথবা পোড়ানো। তবে জীবিত কিংবা যবেহ করার পর নিস্তব্ধ না হওয়া পর্যন্ত গরম পানিতে ডোবানো কিংবা পোড়ানো যাবে না। তাছাড়া কোন প্রাণী যদি কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর হয় তাহ’লে সেগুলোকে হত্যা করা যাবে কিন্তু আগুনে পুড়িয়ে মারা যাবে না। ইকরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার কতিপয় নাস্তিককে আলী (রাঃ)-এর নিকট আনা হল এবং তিনি তাদেরকে পুড়িয়ে ফেললেন। এ ঘটনার সংবাদ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি মন্তব্য করলেন, তার স্থলে যদি আমি হতাম, তাহলে আমি তাদেরকে জ্বালিয়ে দিতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ কথা বলে এভাবে নিষেধ করেছেন যে, ‘আল্লাহর শাস্তি দ্বারা তোমরা কাউকে শাস্তি দিও না’। অবশ্য আমি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী অনুসারে হত্যা করতাম। তিনি বলেছেন যে, ‘কেউ তার দ্বীন পরির্বতন করবে অর্থাৎ মুরতাদ হবে তাকে হত্যা কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০১৭ আবুদাঊদ, হা/৪৩৫১; তিরমিযী, হা/১৪৫৮; আহমাদ, হা/২৫৫১; মিশকাত, হা/৩৫৩৩)।

প্রশ্ন (৮) : স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শরীরে হাত পড়াতে স্বাভাবিকভাবে কাপড় ভিজে যায়। এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-জুয়েল রানা

পত্নিতলা, নওগাঁ।

উত্তর : বীর্য বের হওয়ার পূর্বে যে রস বের হয় যা দেখতে পানির মত হয় তাকে মযী বলা হয়। মযী দ্বারা কাপড় ভিজে গেলে পুরুষাঙ্গ ধৌত করে ও ওযূ করে ছালাত আদায় করবে আর গাঢ় সাদা রং এর বীর্যকে আরবীতে মানী বলা হয়। তা দ্বারা কাপড় ভিজে গেলে গোসল ফরয হবে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মযী রোগে আক্রান্ত ছিলাম। নবী করীম (ছাঃ)-এর কন্যা (ফাতেমা) আমার ঘরে থাকার কারণে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। আমি মিক্বদাদ (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলাম, সে নবী করীম (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘সে তাঁর পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং ওযূ করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৩; মিশকাত, হা/৩০২)। অপর বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মযীর কারণে ওযূ করবে এবং মনী বা বীর্যের কারণে গোসল করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৯; মিশকাত, হা/৩১১)। তবে বীর্যপাত হলে গোসল ফরয হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার একই বিধান। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘বীর্যপাত হলে গোসল প্রয়োজন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৪৩; মিশকাত, হা/৪৩১)।

 

 

প্রশ্ন (৯) : বিবাহিত যেনাকারীকে শরী‘আতের বিধানানুযায়ী রজম করা হলে পরকালে কি তাকে পুনরায় ঐ পাপের জন্য শাস্তি প্রদান করা হবে?

-জুয়েল রানা

পত্নিতলা, নওগাঁ।

উত্তর : বিবাহিত যেনাকারী হোক কিংবা যে কোন অপরাধের কারণে শরী‘আতের বিধানানুযায়ী দণ্ডে দণ্ডিত হোক পরকালে তাকে দ্বিতীয়বার শাস্তি দেওয়া হবে না। খুযায়মা বিন সাবিত প হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন অপরাধ করে এবং তার উপর ঐ অপরাধের দণ্ড কার্যকর হয়, তখন উক্ত দণ্ডই তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়’ (শারহুস সুন্নাহ, হা/২৫৯৪, সনদ হাসান; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৮৭৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৩৭১)।

প্রশ্ন (১০) : রাসূল (ছাঃ)-এর দাঁত শহীদ হয়েছিল বলে ওয়াইস কারনী তার সবগুলো দাঁত তুলে ফেলেছিলেন বলে প্রচলিত আছে? এর সত্যতা কতটুকু?

-জুয়েল রানা

পত্নিতলা, নওগাঁ।

উত্তর : ওয়াইস কারনী সম্পর্কে উক্ত বর্ণনার কোন ভিত্তি নেই। বরং ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। তার জন্ম ৫৯৪ খৃষ্টাব্দে ও মৃত্যু ৬৫৮ খৃষ্টাব্দে (মোতাবেক ৩৭ হিঃ)। তার নাম ওয়াইস কারনী বিন আখের। উপাধি খায়রুত তাবেঈন। তার সম্পর্কে যে কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে তার কোনটিতে দাঁতের কথা নেই (মানাকিবে ওয়াইস, মুসতাদরাকে হাকেম, ৩/৪৫৫-৪৫৮ পৃঃ; তিরমিযী, হা/২৪৩৮; সনদ হাসান ছহীহ; হিলয়াতুল আউলিয়া ২/৮১-৮৩ পৃঃ)। তাছাড়া শোকাহত হয়ে একজন তাবেয়ী নিজ দাঁত ভেঙ্গে ফেলবেন এমন ঘটনা অসম্ভব ও শরী‘আত পরিপন্থী। বরং তার সম্পর্কে যা জানা যায় তা এই যে, তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত তাবেঈ। তিনি নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর যামানা পেয়েছেন। কিন্তু তাঁকে দেখেননি। যুহাইর ইবনু হারব (রহিঃ) উসাইর ইবনু জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কূফার একটি প্রতিনিধিদল ওমর (রাঃ)-এর কাছে আসে। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে ওয়াইস (রাঃ)-কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। ওমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এখানে ‘কারন’ গোত্রের কোন লোক আছে কি? তখন ঐ লোকটি উঠে আসল। এরপর ওমর (রাঃ) বললেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে ইয়ামান থেকে এক ব্যক্তি আসবে, যে ওয়াইস নামে পরিচিত। ইয়ামানে তার মা ছাড়া আর কেউ নেই। তার শ্বেত রোগ হয়েছিল। সে আল্লাহর কাছে দু‘আ করার বদৌলতে আল্লাহ তার শ্বেত রোগ মুক্ত করে দেন। তবে কেবলমাত্র এক দিনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান আরোগ্য হয়নি। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার সাক্ষাত পাবে সে যেন তাকে দিয়ে তোমাদের জন্য ক্ষমার দু‘আ করিয়ে নেয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৪২; ইফাবা, হা/৬০৫৩)।

প্রশ্ন (১১) : এনজিও অফিসকে বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে কি?

-আল-আমীন

 ঘোড়াঘাট, গাইবান্ধা।

উত্তর : এনজিও বা সূদী কারবারসহ যেকোনো হারাম কাজের সাথে জড়িত কোন প্রতিষ্ঠানকে বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে না। কেননা, এসব প্রতিষ্ঠানকে বাসা ভাড়া দেওয়ার অর্থ সরাসরি অন্যায় ও পাপ কাজে সহযোগিতা করা। আর অন্যায় ও অশ্লীল কাজে সহযোগিতা করা হারাম (মায়েদাহ, ২; ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়েমা, ১৪/৪৪৪ পৃঃ)।

প্রশ্ন (১২) : বিড়ি-সিগারেট খেলে ছালাত কবুল হবে কি?

-মানিক

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

উত্তর : বিড়ি, সিগারেট, জর্দ্দা, গুল ইত্যাদি নেশাদার দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এগুলো খেলে ইবাদত কবুল হবে না। একথাই ঠিক। এই মর্মে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য পান করবে তার ৪০ দিনের ছালাত কবুল হবে না’ (ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৭৭; সিলসিলা ছহীহা, হ/৭০৯,২০৩৯)। রাসূল (ছাঃ) আরোও বলেছেন, ‘যার বেশী খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্পও হারাম (তিরমিযী, হা/১৮৬৫; আবুদাঊদ, হা/৩৬৮১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৯৩; মিশকাত, হা/৩৬৪৫)।

প্রশ্ন (১৩) : সূদী কারবারে জড়িত ব্যক্তি কুরবানী করলে তার দেওয়া গোশত খাওয়া যাবে কি?

-এরশাদ আলী

হাতিবান্দা, লালমনিরহাট।

উত্তর : সূদী কারবারে জড়িত ব্যক্তির অর্থায়ন হারাম। সুতরাং তার ক্রয়কৃত পশুর গোশতও হারাম। অতএব, তার দেওয়া কুরবানীর গোশত খাওয়া বৈধ হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সূদকে হারাম করেছেন (বাক্বারাহ, ২৭৫)। তিনি আরো বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যা জীবিকা স্বরূপ দান করেছি সেই পবিত্র বস্তুসমূহ ভক্ষণ কর’ (বাক্বারাহ, ১৭২)। তবে তার যদি অন্য কোন বৈধ উপার্জনের পথ বা ব্যবসা থাকে এবং সেই উপার্জিত টাকা দিয়ে কুরবানী করে তাহলে সেটি খাওয়া যাবে (বাক্বারাহ, ১৭২)।

প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, ‘ঐ স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সবচেয়ে বেশী বরকত পূর্ণ, যার বিবাহের দেনমোহর খুব কম এবং প্রথম সন্তান কন্যা। কথাটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

-হাসিনুর রহমান

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : উক্ত বক্তব্যের শারঈ কোন ভিত্তি নেই। তবে বিবাহে মোহর কম হলে বরকত বেশী হয় একথা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত এবং বিবাহে মোহর বেশী না করাই শরী‘আত সম্মত। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা নারীদের মোহর বেশী কর না’ (আবুদাঊদ, হা/২১০৬; ইরওয়া, হা/১৯২৭)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘মোহর কম হ’লে বরকত বেশী হয়’ (ইরওয়া, ৬/৩৫০পৃঃ)। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, তোমরা স্ত্রীদের মোহর নির্ধারণে সীমালঙ্ঘন কর না। কেননা উক্ত মোহর নির্ধারণ যদি দুনিয়াতে সম্মান এবং আল্লাহর নিকট তাক্বওয়ার বিষয় হত তাহলে নবী (ছাঃ)-ই তোমাদের চেয়ে তা নির্ধারণে অধিক অগ্রগামী হতেন। কিন্তু তিনি ১২ উকিয়্যার বেশী মোহর নির্ধারণ করে কোন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই (ছহীহ তিরমিযী, হা/১১১৪; নাসাঈ, হা/৩৩৫১; আবুদাঊদ, হা/২১০৬; মিশকাত, হা/৩২০৪)।  শায়খ আব্দুল্লাহ ফাওযান তার মিনহাতুল আল্লাম গ্রন্থে এই ১২ উকিয়্যার পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ১৭২৫ রিয়াল যা বাংলাদেশী টাকায় ৩৮৯৯৩ টাকা।

প্রশ্ন (১৫) : কোন পুরুষ অন্য কোন মহিলাকে সালাম দিতে পারবে কি?

-সুজন আলী

চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : ফিৎনার আশঙ্কা না থাকলে যেকোন পুরুষ যেকোন মহিলাকে সালাম দিতে পারে এবং মহিলাগণও অনুরূপ সালাম বিনিময় করতে পারে। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদল মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদেরকে সালাম করলেন (আবুদাঊদ হা/৫২০; তিরমিযী, হা/২৬৯৮; মিশকাত, হা/৪০০)। আবু হাশেম থেকে বর্ণিত, সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ) বলেছেন, জুম‘আর দিন আমরা খুশী হতাম। (আবু হাশেম বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তিনি বললেন, আমাদের এখানে এক বৃদ্ধা ছিল। সেই বৃদ্ধা এক প্রকার সবজির শিকড় তুলে পাতিলে রাখত এবং যবের কয়েকটি দানা তাতে ঢেলে দিয়ে খাবার তৈরি করত। আমরা জুম‘আর ছালাত শেষ করে ঐ বৃদ্ধার নিকট যেতাম এবং তাকে সালাম করতাম (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৪৯)। উম্মে হানী (রাঃ) বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং ফাতিমা (রাঃ) তাকে কাপড় দিয়ে পর্দা করছিলেন। অতঃপর আমি তাকে সালাম দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/৩১৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৬; মিশকাত, হা/৩৯৭৭)। অত্র হাদীছ সমূহ প্রমাণ করে যে, মহিলা ও পুরুষ একে অপরকে সালাম দিতে পারে। তবে ফিৎনার ভয় থাকলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (ফাৎহুল বারী, ১১/৩৪ পৃঃ)।

প্রশ্ন (১৬) : আমি বর্তমানে একটি প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মরত আছি। নিজের উপার্জিত টাকা এবং ব্যাংক থেকে নেয়া সূদের টাকায় হজ্জ করেছি। আল্লাহর কাছে আমার হজ্জ কবুল হবে কি? না হলে এখন করণীয় কী?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর : হালাল উপার্জন যেহেতু ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত (বাক্বারাহ, ১৬৮)। তাই সূদের টাকা দিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ কবুল হবে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণকে যে আদেশ করেছেন, মুমিনগণকেও সেই আদেশই করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র খাদ্য খাবেন এবং সৎ আমল করতে থাকবেন’ (মুমিনূন, ৫২)। মুমিনগণকে লক্ষ্য করে অনুরূপই বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! আমার দেয়া পবিত্র রিযিক হতে খাও’ (বাক্বারাহ, ১৭২)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) উল্লেখ করলেন, ‘এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে। তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলা-বালি। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি উভয় হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতর স্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবিকা নির্বাহ হারাম, কিভাবে তার দু‘আ কবুল হবে’ (ছহীহ মুসলিম’ হা/১০১৫; মিশকাত’ হা/২৭৬০)। সুতরাং হালাল টাকা দিয়ে পুনরায় হজ্জ করতে হবে।

প্রশ্ন (১৭) : আমি ১০ বৎসর সূদী ব্যাংকে চাকরি করেছি। আমার রক্ত-মাংস ও হাড়-হাড্ডি সূদের টাকায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত। এখন ক্ষমা ও মুক্তির কোন পথ আছে কি ?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর : সূদী অর্থায়নে গড়ে তোলা অর্থ-সম্পদ ত্যাগ করে আল্লাহর নিকটে খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে এবং নেক আমল করতে হবে। তাহলে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বল, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার, ৫৩)। তিনি আরো বলেন, ‘যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে ও সংশোধিত হয় এবং আল্লাহকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে ও আল্লাহর জন্যে তাদের দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে, মূলত তারাই মুমিনদের সঙ্গী এবং অচিরেই আল্লাহ মুমিনদেরকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করবেন’ (নিসা, ১৪৬)।

প্রশ্ন (১৮) : আমি একজন নার্স। হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় ছালাতের সময় হয়ে গেলে নার্সিং ড্রেস পরা অবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-জান্নাতুল ফেরদৌসী

সৈয়দপুর, নীলফামারী।

উত্তর : নার্সিং ড্রেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হলে তা পরিধানরত অবস্থায় ছালাত আদায় করতে পারে। তবে তার উপর বড় ওড়না বা চাদর পরিধান করতে হবে। কেননা নার্সের পোষাকে নারীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশ পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর’ (আ‘রাফ, ৩১)। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহভীতির পরিচ্ছদই সর্বোত্তম পরিচ্ছদ’ (আ‘রাফ ২৬)। তবে ছালাতের সময় মহিলাদের চেহারা ও দুই হস্ততালু ব্যতীত মাথা সহ সর্বাঙ্গ আবৃত রাখা অপরিহার্য (নূর, ৩১; আবুদাঊদ, হা/৪১০৪; মিশকাত, হা/৪৩৭২)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন (আহমাদ, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০১; আবুদাঊদ হা/৬৪৩, সনদ হাসান)।

প্রশ্ন (১৯) : ছালাতে ইমাম ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে মুক্তাদীও কি তাই বলবে। না শুধু ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে। না-কি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ দু’টাই বলবে?

-নাঈম ছিদ্দীক্বী

কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : ইমামের সাথে সাথে মুক্তাদীগণ ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ উভয়টি বলতে পারেন (আবুদাঊদ, হা/৯৭৩)। তবে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ না বলে শুধু ‘রব্বানা লাকাল হামদও…বলতে পারেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৫; মিশকাত, হা/১১৩৮, ১১৩৯)।

প্রশ্ন (২০) : আমি রামাযান মাসে জামা’আতের সাথে এশার ছালাত আদায় করে রাত ১টার পর একাকী নফল ছালাত আদায় করি। এভাবে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

রহমতুল্লাহ

পবা, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, রামাযান মাসে জামা‘আতের সাথে এশার ছালাত আদায় করে শেষ রাতে বা রাত ১টার পর একাকী নফল বা তারাবীহর ছালাত পড়তে পারে। যায়েদ ইবনু ছাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কারো আপন ঘরে নফল ছালাত আদায় করা আমার এই মসজিদে ছালাত আদায় করার অপেক্ষাও উত্তম। অবশ্য ফরয ছালাত ব্যতীত’ (আবুদাঊদ, হা/১০৪৪; মিশকাত, হা/১৩০০)। অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা (নফল) ছালাত তোমাদের ঘরেই পড়। কেননা কারো উত্তম ছালাত হচ্ছে তার ঘরের ছালাত, ফরয ছালাত ব্যতীত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮; মিশকাত, হা/১২৯৫)। তবে রামাযান মাসের প্রত্যেক রাতেও তারাবীহর ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করা জায়েয। তাবেঈ বিদ্বান আব্দুর রহমান (রহিঃ) বলেন, রামাযান মাসে এক রাতে আমি খলীফা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর সাথে মসজিদে নববীতে পৌঁছে দেখলাম, লোকেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কেউ একাকী ছালাত পড়ছে, আবার কারো পেছনে ক্ষুদ্র একদল লোক ছালাত আদায় করছে। এ দৃশ্য দেখে ওমর ফারূক (রাঃ) লোকদেরকে একজন ইমামের পেছনে একত্রিত করে দেওয়াটাকে ভাল মনে করলেন এবং তিনি তাদেরকে উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)-এর পিছনে একত্রিত করে দিলেন। অতঃপর তিনি একদিন লোকদেরকে জামা‘আতের সাথে (তারাবীহ) ছালাত আদায় করতে দেখে বললেন, ‘কতইনা সুন্দর বিদ‘আত এটি’! (نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ) অর্থাৎ পূর্বের নিয়মের চেয়ে বর্তমানে জামা‘আতে ছালাত আদায় করার নিয়মটা কতই না উত্তম (ছহীহ বুখারী, মিশকাত, হা/১৩০)। মুওয়াত্ত্বার বর্ণনায় এসেছে, ওমর (রাঃ) উবাই বিন কা‘ব ও তামীম দারী (রাঃ)-কে ১১ রাক‘আত জামা‘আত সহকারে আদায় করার হুকুম দিয়েছিলেন (মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/৩৭৯; মিশকাত, হা/১৩০২)। তাছাড়া তারাবীহর ছালাত জামা‘আতে পড়ার ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-ই উৎসাহ প্রদান করেছেন। আবু যার (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে ছিয়াম পালন করলাম কিন্তু তিনি আমাদের সাথে ছালাত (তারাবীহ) পড়লেন না। অবশেষে যখন মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকল তখন তিনি আমাদের সাথে ছালাত পড়লেন এমনকি রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তারপর ষষ্ঠ রাত্রে তিনি আমাদের সাথে ছালাত পড়লেন না। অতঃপর পঞ্চম রাতে আমাদের সাথে ছালাত পড়লেন এমনকি অর্ধরাত পর্যন্ত। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! বাকী রাতগুলো যদি আমাদের জন্য নফল করে দিতেন! (কতই না ভাল হত)। তখন তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি ইমাম ছালাত শেষ করা পর্যন্ত তার সাথে ছালাত আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত্রি ছালাত আদায় করার ছওয়াব লিখে দেয়া হবে’। অতঃপর তিনি মাসের তিন রাত অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত আমাদের সাথে ছালাত পড়লেন না। তারপর তিনি তৃতীয় রাত্রে তাঁর পরিবার ও স্ত্রীদেরসহ আমাদের সাথে ছালাত পড়লেন। এমনকি আমরা ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ফালাহ’ কী? তিনি বললেন, সাহারী (তিরমিযী, হা/৮০৬; আবুদাঊদ, হা/১৩৭৫; ইবনু আবী শায়বাহ, ২য় খ-, পৃঃ ২৮৬; ছালাতুত তারাবীহ, পৃঃ ১৪)।

 

 

 

প্রশ্ন (২১) : আমাদের ঈদগাহে ঈদের ছালাতে ভুল হলে ইমাম সাহু সিজদা দেন। এতে কেউ কেউ বলেন, ফরজ ছালাত ব্যতিত সুন্নাত ও ওয়াজিব ছালাতে সাহু সিজদা দিতে হয় না। বরং পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে। এটা কি ঠিক?

-আব্দুর রাকীব

লালপুর, নাটোর।

উত্তর : প্রশ্নোল্লেখিত মন্তব্যটি সঠিক নয়। বরং ফরয ও সুন্নাতসহ যেকোন ছালাতে যদি কোন ব্যক্তির ছালাতের কোন ওয়াজিব বিধান ছুটে যায় যেমন তাশাহহুদ, দরূদ ইত্যাদি না পড়া বা ছালাতে কম-বেশী করে ফেলা অথবা কত রাক‘আত ছালাত পড়েছে সে ব্যাপারে সন্দেহের সৃষ্টি হয় তাহলে অবশ্যই তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে (মাজমূউ‘ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৪/১পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, যদি ঈদের ছালাতের অতিরিক্ত তাকবীর সমূহের মধ্যে ভুলবশত কম-বেশী হয়ে থাকে তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে না। কেননা তা অতিরিক্ত তাকবীর (মির‘আত, হা/১৪৫৭, ২/৩৪১ পৃঃ)।

প্রশ্ন (২২) : স্বামী ও দশ বছরের একটি মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জনৈক মহিলা ফেসবুকের মাধ্যমে অন্য একটি অবিবাহিত ছেলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং তার স্বামীকে তালাক দিয়েছে। উক্ত তালাক কি কার্যকর হবে? এবং সে কি ঐ অবিবাহিত ছেলেকে বিবাহ করতে পারবে? যদি বিবাহ বৈধ না হয় তাহলে অন্য কোন পথ আছে কি বিবাহ করার?

-ফরিদুল ইসলাম

সৌদি প্রবাসী।

উত্তর : প্রথমত, ঐ ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে সে স্বামীর আমানতের খিয়ানত করেছে যা হারাম। এর জন্য তাকে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়ে তাওবা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোর্টের মাধ্যমে বা কাযীর মাধ্যমে যদি খোলা তালাক করে থাকে তাহলে এক ঋতু বা একমাস ইদ্দত পালন করে থাকে এবং অলীর অনুমতি থাকে তাহলে ছেলে অবিবাহিত হোক বা বিবাহিত হোক তার সাথে বিয়ে করতে পারবে। কেননা খোলাকারীর ইদ্দত এক হায়েয বা এক ঋতু। ছাবেত ইবনু ক্বায়েসের স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে খোলা করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার ইদ্দত এক হায়েয নির্ধারণ করেন (আবুদাঊদ, হা/২২২৯; তিরমিযী, বুলূগুল মারাম, হা/১০৬৭)। অন্য বর্ণনায় নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৩১৩০)। তিনি আরো বলেন, ‘কোন নারী অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করলে তা বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৩; মিশকাত, হা/৩১৩১)। উল্লেখ্য যে, খোলা ছাড়া মেয়েদের তালাক দেওয়ার অধিকার নেই।

প্রশ্ন (২৩) : বিতর ছালাতের শেষ রাক‘আতে সূরা ইখলাস পড়া কি বাধ্যতামূলক? নাকি ২য় রাক‘আতেও পড়া যায়?

-আরিফুল ইসলাম

পীরগাছা, রংপুর।

উত্তর : তিন রাক‘আত বিতর ছালাতে রাসূল (ছাঃ) যে সূরাগুলো পড়েছেন তা হল প্রথম রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে ‘সূরা সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ‘লা’, দ্বিতীয় রাক‘আতে ‘সূরা কাফেরূন’ এবং তৃতীয় রাকআতে ‘সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস’ (আবুদাঊদ, হা/১৪২৪; তিরমিযী, হা/৪৬৩; ইবনু মাজাহ, হা/১১৭৩; মিশকাত, হা/১২৬৯, ১২৭২)। এভাবে পড়া রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত। তবে তা ব্যধ্যতামূলক নয়। অন্য সূরা বা সূরা ইখলাছ আগে বা পরে পড়লেও কোন দোষ নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ

‘তোমরা কুরআনের মধ্য হতে যেটি সহজ সেটি পড়’ (মুযযাম্মিল, ২০)।

প্রশ্ন (২৪) : পায়ে আঘাত পাওয়ার কারণে ডাক্তার সেখানে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। এমতাবস্থায় ওযূ করব কিভাবে?

-ফরহাদ হোসেন

চাঁদমারী, পাবনা।

উত্তর : ওযূ করার সময় আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় বা ক্ষত স্থানে পট্টি থাক বা না থাক তার উপর দিয়ে ভেজা হাতে মাসাহ করে নিবে এবং অন্যান্য কার্যাবলী যথারীতি সমাধা করবে তাহলে ওযূ যথেষ্ট হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ (ছহীহ ইবনু খুজায়মাহ, হা/২৭৩; নায়লুল আওত্বার, ১/৩৮৬ পৃঃ, ‘তায়াম্মুম’ অধ্যায়)।

প্রশ্ন (২৫) : জনৈক মেয়ের সাথে আমার মাঝে মধ্যেই ফোনালাপ চলছিল। বিষয়টি অবৈধ হচ্ছে ভেবে গত ৫/৬ মাস আগে তার বাবাকে না জানিয়ে কাযী অফিসে গিয়ে বিবাহ করি। ইতিমধ্যে বুঝলাম যে, উক্ত বিবাহ শরী‘আত সম্মত হয়নি। তাই কিছু সমস্যার কারণে মেয়ের বাবাকে আরো ৩/৪ মাস পরে বিষয়টি অবহিত করিয়ে পুনঃবিবাহের প্রস্তাব দিব। এমতাবস্থায় মেয়েটির সাথে মোবাইলে কথা বলা শরী‘আত সম্মত হবে কি? বা এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?

-আব্দুল্লাহ

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : অভিভাককে বাদ দিয়ে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করা শরী‘আতে নাজায়েয। তারপরও অভিভাককে না জানিয়ে বিবাহ করা শরী‘আত সম্মত হয়নি। এক্ষেত্রে মেয়ের সাথে মেলামেশা হয়ে থাকলে তা ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত হবে। এজন্য আল্লাহর নিকটে একনিষ্টভাবে তওবা করতে হবে এবং অভিভাককের সাথে যোগাযোগ করে পুনঃবিবাহ করতে হবে। কারণ অলী ছাড়া বিবাহ করলে সে বিবাহ বাতিল হবে। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৩১৩০)। তিনি আরো বলেন, ‘কোন নারী অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করলে তা বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৩; মিশকাত, হা/৩১৩১)। বিবাহের পূর্বে মেয়ের সাথে যোগযোগ করা যাবে না। কারণ মেয়ে নিজে নিজে বিবাহ করতে পারে না।

 

প্রশ্ন (২৬) : বিবাহের ক্ষেত্রে বিধবা মহিলা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কি?

-যিয়াউর রহমান

টাঙ্গাঈল সদর, টাঙ্গাঈল।

উত্তর : বিধবা হোক বা কুমারী হোক বিবাহের ক্ষেত্রে অবশ্যই অলী লাগবে। পার্থক্য হলো বিধবা বা ত্বালাকপ্রাপ্তা মহিলার অনুমতির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে অলীকে জানাবে যে, সে বিবাহ করবে কি করবে না। পক্ষান্তরে কুমারী মহিলার অনুমতির ক্ষেত্রে তার চুপ থাকাকে প্রাধান্য দিবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘বিবাহিতা নারী নিজের ব্যাপারে তার অলী অপেক্ষা অধিক হক্বদার। কুমারী নারী হতে তার বিষয়ে তার নিজের মত গ্রহণ করা আবশ্যক আর তার মত দেওয়া হলো তার চুপ থাকা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, বিবাহিতা নারী নিজের ব্যাপারে তার অলী অপেক্ষা অধিক হক্বদার। আর কুমারীর ব্যাপারে তার মত গ্রহণ করতে হবে। আর তার মত হলো চুপ থাকা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, বিবাহিতা নারী নিজের ব্যাপারে তার অলী অপেক্ষা অধিক হক্বদার। আর কুমারীর ব্যাপারে তার পিতা তার নিকট হতে অনুমতি নিবে। আর তার অনুমতি হলো চুপ থাকা (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২১ ; মিশকাত, হা/৩১২৭)। কাজেই বিধবা মহিলা বিবাহের ক্ষেত্রে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বাবা না থাকলে দাদা, দাদা না থাকলে ভাই বা চাচা। কেউ যদি না থাকে তাহলে দেশপ্রধান অলী হবে যেটি কোর্টের বা ক্বাজীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হবে। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার অলী নেই তার অভিভাবক হবে স্থানীয় দায়িত্বশীল (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৫১; তিরমিযী, হা/১১০২; আবুদাঊদ, হা/২০৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; দারেমী, হা/২১৮৪; মিশকাত, হা/৩১৩১)।

প্রশ্ন (২৭) : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে উত্তর দিকে হয়ে মুরগী যবেহ করলে তার গোশত খাওয়া যাবে কি?

-ফিরোজ আহমাদ

সিংড়া, নাটোর।

উত্তর : ‘বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার’ বা শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ বলে যেদিকেই ফিরে হোক না কেন মুরগী বা যেকোনো হালাল প্রাণী যবেহ করলে তা খাওয়া জায়েয। যেমন শিকার করা প্রাণীর ক্ষেত্রে বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার করার ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শিকার করলে যেমন তার গোশত খাওয়া বৈধ; তেমনি যেকোনো হালাল প্রাণী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে যবেহ করলে তা খাওয়া বৈধ। সেক্ষেত্রে যেদিকেই মাথা রাখুক না কেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৭৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯২৯; মিশকাত, হা/৪০৬৪)। তবে কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাতে ফেলে যবহ করবে এবং যবহকারী ক্বিবলামুখী হবে (সুবুলুস সালাম, ৪/১৭৭; মির‘আত, ২/৩৫১)।

প্রশ্ন (২৮) : আমাদের অফিসের মসজিদে যোহরের ছালাত প্রায় শতাধিক মুছল্লীর অংশগ্রহণে একজন যোগ্যতা সম্পন্ন নির্ধারিত ইমামের পিছনে ১:১৫ টায় আদায় করা হয়। কিন্তু বর্তমানে কিছু মুছল্লী কম যোগ্যতা সম্পন্ন একজন অনির্ধারিত ইমামের পিছনে ১২:৩০ টায় একত্রিত হয়ে আউয়াল ওয়াক্তের দোহাই দিয়ে ছালাত আদায় করতে লেগেছেন। এতে করে একটা বিভাজন প্রকট হচ্ছে। প্রশ্ন হলো এ ক্ষেত্রে করণীয় কী? এবং কোন জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উত্তম হবে?

-মুস্তাফিজ, ঢাকা

উত্তর : আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায়ের ব্যাপারে নির্দেশনা এসেছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا অর্থাৎ, নিশ্চয়ই ছালাত বিশ্বাসীগণের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত (সূরা নিসা, ১০৩)। তাছাড়া ওয়াক্ত অনুযায়ী ছালাত আদায় করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন (আবুদাঊদ, হা/৪৩০, সনদ হাসান; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/৬৬৫)। তবে বিভাজনের আশঙ্কা না থাকলে আউয়াল ওয়াক্তেই ছালাত আদায় করা উত্তম হবে। আর যদি বিভাজনের আশঙ্কা থাকে তাহলে নির্ধারিত ইমামের সাথে ছালাত আদায় করবে। কেননা ১.১৫ মিনিটও আউয়াল ওয়াক্তের অন্তর্ভুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (২৯) : যে নারীর স্বামী মারা গেছে সে নারী ইদ্দত পালনকালে অলঙ্কার ব্যবহার করতে পারবে কি

-আব্দুল্লাহ

 গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত পালনের সময়সীমা হলো চার মাস দশ দিন। এ সময়ের মধ্যে সে সাজসজ্জা করা থেকে বিরত থাকবে। যেমন, লাল, হলুদ বা গেরুয়া রঙ্গের কাপড় পরিধান করা, মেহদী, সুরমা বা যেকোনো অলঙ্কার পরিধান করা ইত্যাদি। উম্মে সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে নারীর স্বামী মারা গেছে, সে (ইদ্দত পালনকালে লাল বা) হলুদ ও গেরুয়া রঙ্গের কাপড় পরিধান করবে না; অলঙ্কার পরবে না; চুলে বা হাতে খেযাব (মেহেদী) লাগাবে না এবং চোখে সুরমা লাগাবে না (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/২৩০৪; নাসাঈ, হা/৩৫৩৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৫৮১; ছহীহ জামে‘, হা/৬৫৭৭)।

প্রশ্ন (৩০) : অতিরিক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি

-হুমায়ুন কবীর

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কোনো ব্যক্তিকে কোনো কাজে নিযুক্ত করে ওভার টাইম কাজ করালে তাকে অবশ্যই অতিরিক্ত সহযোগিতা করতে হবে। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের দাস-দাসীরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনে করে দিয়েছেন। অতএব আল্লাহ তা‘আলা তার ভাইকে তার অধীনে করে দেন, তখন সে যেন নিজে যা খাবে তাকেও তাই খাওয়াবে এবং নিজে যা পরিধান করে তাকেও তাই পরিধান করাবে। আর যে কাজ তাদের সাধ্যের বাইরে তাদেরকে যেন সে কাজের কষ্ট না দেয়। একান্ত যদি তার উপর সাধ্যাতীত কাজ অর্পণ করতে হয়, তবে যেন তাকে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করে (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৬১; মিশকাত, হা/৩৩৪৫)।

প্রশ্ন (৩১) : কেউ হজ্জের নিয়তে টাকা জমাতে জমাতে ওমরাহ করার মতো টাকা জমা হয়েছে। বর্তমানে তার জন্য ওমরাহ যরূরী না-কি হজ্জ সম্পাদনের পরিমাণ টাকা জমা করে হজ্জ করা যরূরী?

-বদরুযযামান

মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি আর্থিক সামর্থ্য ও শারীরিক শক্তিসহ হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তসমূহ পাওয়া যায় তাহলে, তার ওপর হজ্জ ফরয; অন্যথা নয়। আর ওমরাহ আদায় করা ফরয নয়। বরং তা সুন্নাত ও বড় ছওয়াবের কাজ (ছহীহ বুখারী, হা/১৭৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৯; মিশকাত, হা/২৫০৮)। সুতরাং এমন ব্যক্তি যদি চায় তাহলে ওমরাহ করতে পারে। আবার চাইলে হজ্জ ফরয হওয়া পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ার পর হজ্জ আদায় করতে পারে। উল্লেখ্য যে, সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও হজ্জ আদায়ের নিয়্যতে ধুকে ধুকে অর্থ জমানোর বর্তমান প্রচলিত প্রথাটি শরী‘আত সম্মত নয়।  স্বাভাবিকভাবে টাকা জমিয়ে যখন তার সার্মথ্য হবে তখন সে হজ্জ করবে। নিজের উপর এবং সংসারের উপর কষ্ট দেয়ার কোনো প্রয়োজন নাই।

প্রশ্ন (৩২) : একটি জমি নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। এমতাবস্থায় উক্ত জমিকে ঈদগাহ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে কি

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : এমতাবস্থায় উক্ত জমিকে ঈদগাহ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। কেননা ঈদগাহ হলো ছালাতের স্থান। যাতে তা উক্ত কাজেই ব্যবহৃত হয়, তার নিশ্চয়তার জন্য ওয়াক্বফ করা আবশ্যক। মসজিদে নববীর জন্য মাটি ক্রয় করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মাতুল গোষ্ঠী বনু নাজ্জার সেটা বিনা পয়সায় আল্লাহর ওয়াস্তে দিয়ে দেন। ওমর (রাঃ) যখন খায়বারের প্রাপ্ত জমি ওয়াক্বফ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পরামর্শক্রমে বললেন, এটি বিক্রি হবে না, কাউকে দান করা যাবে না এবং এতে কেউ ওয়ারিছ হবে না। এটাই ছিল ইসলামে প্রথম ওয়াক্বফের ঘটনা (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ‘ওয়াক্বফ’ অধ্যায়, ৩/৫২৩ পৃঃ)। অতএব ভবিষ্যতে ফিৎনার হাত থেকে বাঁচার জন্য মসজিদ বা ঈদগাহের জমি লিখিতভাবে ওয়াক্বফ হওয়াই উত্তম। অন্যের মালিকানাধীন কোনো জায়গায় ঈদের ছালাত আদায় করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

প্রশ্ন (৩৩) : বিয়ের পরে মহিলারা নাকফুল না পরলে কোনো পাপ হবে কি

-তাসনীম, বগুড়া

উত্তর : বিয়ের সাথে নাকফুলের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই বিয়ের পূর্বে বা পরে যেকোনো সময়ে মেয়েরা নাকফুল পরতে পারে। না পরলেও তাতে কোনো দোষ বা পাপ হবে না। তবে বিয়ের পরে স্বামীকে খুশি করার জন্য তারা নাকফুল পরে সাজসজ্জা করতে পারে। উল্লেখ্য যে, আমাদের সমাজে স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে স্ত্রীর নাকফুল খুলে নেওয়া হয়। এই রেওয়ায অনেকটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হয়ে যায়। এটি তেমন কোনো সৌন্দর্য প্রকাশক অলংকার নয়। বরং স্বাভাবিক সৌন্দর্যের মধ্যে পড়ে, যা গ্রহণীয়। তাছাড়া এটি সামাজিক কুসংষ্কার।

প্রশ্ন (৩৪) : জামা‘আতে ছালাত আদায়ের ফযীলত কী? 

-মিলন হোসেন

রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : জামা‘আতে ছালাত আদায়ের ফযীলত সম্পর্কে একাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ঘরে অথবা বাজারে একাকী ছালাতের চেয়ে মসজিদে জামা‘আতে ছালাত আদায়ে ২৫ বা ২৭ গুণ ছওয়াব বেশী।’ তিনি বলেন, দুই জনের ছালাত একাকীর চাইতে উত্তম। …এভাবে জামা‘আত যত বড় হয়, নেকী তত বেশি হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৫, ৬৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৯, ৬৫০; মিশকাত, হা/৭০২,১০৫২; আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত, হা/১০৬৬)। অন্য হাদীছে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এশার ছালাত জামা‘আতে পড়ল, সে যেন অর্ধরাত্রি ছালাতে কাটাল এবং যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতে পড়ল, সে যেন সমস্ত রাত্রি ছালাতে অতিবাহিত করল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৬; মিশকাত, হা/৬৩০)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ৪০ দিন তাকবীরে ঊলাসহ জামা‘আতে ছালাত আদায় করল, তার জন্য দু’টি মুক্তি লেখা হয়। একটি হলো জাহান্নাম হতে মুক্তি। অপরটি হলো নিফাক্ব হতে মুক্তি (তিরমিযী, হা/২৪১; ঐ, মিশকাত, হা/১১৪৪)। অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘যখন কোনো মুছল্লী সুন্দরভাবে ওযূ করে ও স্রেফ ছালাতের উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হয়, তখন তার প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহ্র নিকটে একটি করে নেকী হয় ও একটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত হয় ও একটি করে গোনাহ ঝরে পড়ে। যতক্ষণ ঐ ব্যক্তি ছালাতরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দু‘আ করতে থাকে ও বলে যে, ‘হে আল্লাহ! তুমি তার উপরে শান্তি বর্ষণ করো’। ‘তুমি তার উপরে অনুগ্রহ করো’। যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা আরও বলতে থাকে, ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো’ ‘তুমি তার তওবা কবুল করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৯; মিশকাত, হা/৭০২; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৪; মিশকাত, হা/১০৭২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযূ করল। অতঃপর মসজিদে রওয়ানা হলো এবং জামা‘আতে যোগদান করল, আল্লাহ তাকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় পুরস্কার দিবেন, যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করেছে ও শুরু থেকে হাযির রয়েছে। তাদের নেকী থেকে তাকে মোটেই কম করা হবে না’ (আবুদাঊদ, হা/৫৬৪; মিশকাত, হা/১১৪৫)।

প্রশ্ন (৩৫) : ‘হযরত’ অর্থ কী? রাসূল (ছাঃ)-এর নামে পূর্বে ‘হযরত’ বলা যাবে কি? 

-দেলোয়ার হোসেন

সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

উত্তর : ‘হযরত’ শব্দের অর্থ উপস্থিত, মহামান্য, সম্মানিত ইত্যাদি। রাসূল (ছাঃ)-এর নামের পূর্বে ‘হযরত’ বলা যাবে না। কেননা কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহয় তার নামের পূর্বে এ জাতীয় কোনো শব্দ ব্যবহারের দলীল পাওয়া যায় না। তবে তার নামের পরে বা নাম শুনে ‘ছালাত’ ও ‘সালাম’ বা  দরূদ পড়ার জন্য আদেশ করা হয়েছে (সূরা আহযাব, ৫৬)।

প্রশ্ন (৩৬) : ‘আক্বীক্বার গোশত সন্তানের পিতা-মাতা খেতে পারে না’-মর্মে কোনো হাদীছ আছে কি? 

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : না, এ মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। বরং আক্বীক্বা পিতার যিম্মেদারী। এ গোশত নিজেরা খেতে পারে, দাওয়াত দিয়ে অন্যদেরকেও খাওয়াতে পারে (হায়াতু কিবারিল উলামা, ২য় খণ্ড, ‘আক্বীক্বা’ অনুচ্ছেদ)। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে হাদিয়াস্বরূপও বণ্টন করতে পারে এবং প্রয়োজনে তা রান্না করে খাওয়াতে পারে (বায়হাক্বী, ৯/৩০২ পৃঃ)।

 

প্রশ্ন (৩৭) : মাসিক আল-ইতিছাম ৩য় বর্ষ ৮ম সংখ্যার ৩৭ নং প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, ‘রুকূর পরে বুকে হাত বাঁধা ঠিক নয়’তাহলে হাত কোথায় রাখবে এবং তার পক্ষে সঠিক দলীল কী

-জহুরুল বিন আব্দুস ছাত্তার

নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : রুকূ থেকে উঠার পর উভয় হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দেওয়াই সুন্নাতসম্মত। কেননা রুকূর পরে পুনরায় বুকে হাত বাঁধার স্পষ্ট কোনো দলীল পাওয়া যায় না। বিখ্যাত ছাহাবী আবু হুমায়েদ সা‘য়েদী (রাঃ) যিনি ১০ জন ছাহাবীর সম্মুখে রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের নমুনা প্রদর্শন করে সত্যায়ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেখানে বলা হয়েছে-فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى حَتَّى يَعُودَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَهُ ‘তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেলেন এমনভাবে যে, মেরুদণ্ডের জোড়সমূহ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮; মিশকাত, হা/৭৯২)। ওয়ায়েল বিন হুজর ও সাহর বিন সা‘দ (ছাঃ) হতে বর্ণিত ‘ছালাতে বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখার ‘আম’ হাদীছের (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হা/৭৯৭,৭৯৮) উপরে ভিত্তি করে রুকূর আগে ও পরে ক্বওমার সময় বুকে হাত বাঁধার কথা বলা হয়। কিন্তু হাত না বাঁধার দলীল হিসাবে পেশকৃত উপরোক্ত হাদীছগুলো রুকূ পরবর্তী ‘ক্বওমা’র অবস্থা সম্পর্কে ‘খাছ’ভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া বুকে হাত বাঁধার বিষয়টি হাতের স্বাভাবিক অবস্থার পরিপন্থী। এক্ষণে মেরুদ-সহ দেহের অন্যান্য অস্থিসমূহকে স্ব স্ব জোড়ে ফিরে আসতে গেলে ক্বওমার সময় হাতকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটাই ছহীহ হাদীছসমূহের যথাযথ অনুসরণ বলে অনুমিত হয় (বিস্তারিত দ্রঃ আলবানী, ছিফাতু ছালা-তিন্নবী, পৃঃ ১২০; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃঃ ১০৭)। তবে স্মর্তব্য যে, উক্ত বিষয়টি ছালাতের মধ্যেকার সুন্নাতের পর্যায়র্ভুক্ত। অতএব এ বিষয়ে সকল প্রকার বাড়াবাড়ি হতে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রশ্ন (৩৮) : খানা-পিনা অবস্থায় কোন হাত দিয়ে পানি পান করতে হবে?

-মাহবুবুর রশীদ

 বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : খানা-পিনা অবস্থায় ডান হাত দিয়েই পানি পান করতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কিছু খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পান করে, তখন সে যেন ডান হাতে পান করে’ (ছহীহ মুসলিম হা/২০২০; মিশকাত হা/৪১৬২)। তাছাড়া বাম হাতে খানা-পিনা করার ব্যাপারে শরী‘আতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে না খায় এবং পান না করে। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় এবং পান করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০২০; মিশকাত, হা/৪১৬৩)। বিনা ওযরে রাসূলের নিষেধ অমান্য করলে তাকে গোনাহগার হতে হবে।

প্রশ্ন (৩৯) : অনেকের ধারণা ‘কুরআন মাজিদ খোলা রাখলে শয়তান পাঠ করে’এ কথার কোনো ভিত্তি আছে কি?

-আব্দুল আহাদ

আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।

উত্তর : এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। এমন ধারণা করাও ঠিক নয়।

প্রশ্ন (৪০) : আছরের ছালাতে যদি ইমামের সাথে দুই রাক‘আত পায়, তবে বাকী দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সূরা পড়তে হবে কি?

-রাজিবুল ইসলাম

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : না, বাকী দুই রাক‘আতে অন্য সূরা মিলাতে হবে না। শুধু সূরা ফাতিহা পড়লে হয়ে যাবে। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) যোহর ও আছর ছালাতের প্রথম দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠ করতেন। আর শেষের দুই রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতেহা পাঠ করতেন। আমরা মঝে মাঝে আয়াত শুনতে পারতাম (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৫১)। মাসবূক ইমামের সাথে যা পায় তা তার প্রথম।

প্রশ্ন (৪১) : ‘ছালাতুল ইশরাক’-এর সঠিক সময় কোনটি?

-নাসরিন পারভীন

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সূর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে উক্ত ছালাতের সময় শুরু হয়। প্রথম প্রহরের শুরুতে পড়লে তাকে ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’ বলে এবং কিছু পরে দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা ‘চাশতের ছালাত’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজরের ছালাত আদায়ের পর সেখানে বসেই যিকর-আযকারে মশগূল থাকল। অতঃপর সূর্যোদয়ের পর সেখানেই দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করল। সে ব্যক্তি একটি পূর্ণ হজ্জ ও ওমরাহর ন্যায় নেকী পেল’ (ছহীহ তিরমিযী, হা/৫৮৬, সনদ হাসান; মিশকাত, হা/৯৭১)। বুরায়দা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় আছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হলো প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে ছাদাক্বা করা। ছাহাবীগণ বললেন, কার শক্তি আছে এই কাজ করার, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)? তিনি বললেন, চাশতের দু’রাক‘আত ছালাতই এ জন্য যথেষ্ট’ (আবুদাঊদ, হা/৫২৪২; মিশকাত, হা/১৩১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭২০; মিশকাত, হা/১৩১১)। এই ছালাতকে ‘ছালাতুল আউয়াবীন’ও বলা হয়’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছালাতুল আওয়াবীন’-এর সময় হলো তখন, যখন (রোদের তাপে) উটের বাচ্চার ক্ষুর গরম হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৮; মিশকাত, হা/১৩১২)। উল্লেখ্য যে, মাগরিবের ছালাতের পরে ‘ছালাতুল আওয়াবীন’ নামে যে ৬ রাক‘আত ছালাত পড়ার প্রথা সমাজে চালু আছে শরী‘আতে তার কোনো ভিত্তি নেই। মূলত চাশতের সময় যে ছালাত পড়া হয় সেটাই আওয়াবীন ছালাত (ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৯; মিশকাত, হা/১৩১০)।

প্রশ্ন (৪২) : সূদী ব্যাংকের চাকুরীর বেতনও কি হারাম হবে?

-রাজিবুল ইসলাম

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।   

উত্তর : চাকুরীর ক্ষেত্রে ইসলামে মূলনীতি হলো, (১) অন্যায়কাজে সহায়তা করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘন কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)। (২) সূদের হিসাব করা হয় এমন কোনো কর্মে অংশগ্রহণ করা যাবে না। কেননা রাসূলল্লাহ (ছাঃ) যারা সূদ খায়, সূদ দেয়, সূদের হিসাব লেখে এবং সূদের বিষয়ে সাক্ষী থাকে তাদের সবার উপর লা‘নত করেছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাপের দিক দিয়ে তারা সকলেই সমান (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮। অতএব, সূদী ব্যাংকে চাকুরী করলে তার বেতনও হারাম হবে।

প্রশ্ন (৪৩) : বাড়ীর উঠানে বা চুলার আশেপাশে কুকুর পা দিয়ে মাটি খুড়েঅনেকেই বলেন, এটা বাড়ীর জন্য অমঙ্গল। এ ধারণা করা কি ঠিক?

-মাহমূদা আক্তার

পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।

উত্তর : এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কেননা এর কোনো শারঈ ভিত্তি নেই। এটা সামাজিক কুসংষ্কার।

 

প্রশ্ন (৪৪) : বিতির ছালাতে পঠিতব্য সঠিক দু‘আ কুনূত কোনটি?

-গোলাম ছামদানী

সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

উত্তর : বিতির ছালাতে পাঠিতব্য সঠিক দু‘আ কুনূত হল,

أَللهم إهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ، فَإِنَّكَ تَقْضِيْ وَلَا يُقْضَي عَلَيْكَ إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَ لَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ، وَصَلَّي اللهُ عَلٰى النَّبِيِّ.

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাহ্দিনী ফীমান হাদায়তা, ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফায়তা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা, ওয়া বা-রিক্লী ফীমা ‘আ‘ত্বায়তা, ওয়া ক্বিনী শাররা মা ক্বাযায়তা; ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়া লা ইয়ুক্বযা ‘আলায়কা, ইন্নাহূ লা ইয়াযিল্লু মাঁও ওয়া-লায়তা, ওয়া লা ইয়া‘ইযু মান্ ‘আ-দায়তা, তাবা-রকতা রব্বওয়া,  লায়তা-না, ওয়া তা‘আ ছাল্লাল্লা-হু ‘আলান্ নাবী।  অর্থ : আল্লাহ! তুমি যাদেরকে সুপথ দেখিয়েছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে সুপথ দেখাও। যাদেরকে তুমি মাফ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে মাফ করে দাও। তুমি যাদের অভিভাবক হয়েছ, তাদের মধ্যে গণ্য করে আমার অভিভাবক হয়ে যাও। তুমি আমাকে যা দান করেছ, তাতে বরকত দাও। তুমি যে ফায়ছালা করে রেখেছ, তার অনিষ্ট হতে আমাকে বাঁচাও। কেননা তুমি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাক, তোমার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, সে কোনদিন অপমানিত হয় না। আর তুমি যার সাথে দুশমনী কর, সে কোনো দিন সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও সর্বোচ্চ। আল্লাহ তাঁর নবীর উপরে রহমত বর্ষণ করুন (তিরমিযী, হা/৪৬৪; আবুদাঊদ, হা/১৪২৫; ইবনু মাজাহ, হা/১১৭৮; নাসাঈ, হা/১৭৪৫; দারেমী, হা/১৫৯৩; মিশকাত, হা/১২৭৩)।

 

 

প্রশ্ন (৪৫) : মানসিক রোগ-ব্যাধি হতে পরিত্রাণের জন্য কোন দু‘আ পড়তে হবে?

-হাফিয শিশির

 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : মানসিক রোগ-ব্যাধি হতে পরিত্রাণের জন্য নিম্বের দু‘আটি সকাল-সন্ধ্যায় বেশি বেশি পাঠ করতে হবে। তাহল,

أَللهم إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল হাম্মে ওয়াল হাযানে ওয়াল ‘আজঝে ওয়াল কাসালে ওয়াল জুবনে ওয়াল বুখলে ওয়া যালা‘ইদ দায়নে ওয়া গালাবাতির রিজালে। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা হতে, অক্ষমতা ও অলসতা হতে, ভীরুতা ও কৃপণতা হতে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের যবরদস্তি হতে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৬৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০৬; মিশকাত, হা/২৪৫৮)।

প্রশ্ন (৪৬) : আযানের সময় শ্রবণকারীরা কথা বলতে পারে কি?

-রাজিবুল ইসলাম

 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : যরূরী প্রয়োজন ছাড়া আযানের সময় কথা না বলে তার জওয়াব দেওয়াই উত্তম। কেননা এ সময় কথা-বার্তায় মাশগূল থাকলে আযানের জওয়াব প্রদানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যখন তোমরা মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তার জওয়াবে বল মুওয়াযযিন যা বলে। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়। কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর নিকট ‘অসীলা’ প্রার্থনা করো। আর তা হচ্ছে জান্নাতের একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে মাত্র একজন বান্দার জন্য উপযোগী। আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘অসীলা’ চাইবে তার জন্য আমার শাফা‘আত যরূরী হয়ে যাবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪; আবুদাঊদ, হা/৫২৩; তিরমিযী, হা/৩৬১৪; মিশকাত, হা/৬৫৭)। অপর বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি অন্তর থেকে আযানের বাক্যগুলো পাঠ করবে সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৫; মিশকাত, হা/৬৫৮)।

প্রশ্ন (৪৭) : সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের মধ্যে বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?

-আব্দুল আহাদ

আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।

উত্তর : সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের মধ্যে তেলাওয়াতের নেকী ব্যতীত বিশেষ কোনো ফযীলত নেই। তাছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফযীলত উল্লেখ করে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা অত্যন্ত যঈফ (তিরমিযী, হা/২৯২২; মিশকাত, হা/২১৫৭)।

 

প্রশ্ন (৪৮) : একজনের কর্মের জন্য অন্য কেউ ইস্তেখারা করতে পারবে কি?

-মাযহারুল ইসলাম

পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

উত্তর : একজনের কর্মের জন্য অন্য কেউ ইস্তেখারা করতে পারবে না। কেননা অন্যের জন্য ইস্তেখারা করার ব্যাপারে শরী‘আতে কোনো বিধান বর্ণিত হয়নি (লিক্বাউল বাব লি ইবনে উছায়মীন, ২২/৮৩ পৃঃ)। বরং নিজ কর্মের জন্য নিজেকেই ইস্তেখারা করতে হবে। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (ছাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদের সব কাজে ইস্তিখারাহ শিক্ষা দিতেন। যেমন পবিত্র কুরআনের সূরা আমাদের শিখাতেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরয নয় এমন দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার পর ইস্তেখারার দু’আ পড়ে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬২, ৬৩৮২, ৭৩৯০; মিশকাত হা/১৩২৩)।

প্রশ্ন (৪৯) : ডাচবাংলা ব্যাংকে স্যালারি একাউন্টে ট্যাক্স কেটেছে ৫১ টাকা এবং সূদ দিয়েছে ৫১২ টাকা। এখন আমাকে ৫১২ টাকা বের করে ফেলতে হবে না-কি ৪৬১ টাকা বের করলে সূদ মুক্ত হয়ে যাবে?

-সাদিক

 দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : যদি কোনো ব্যাংক একাউন্ট থেকে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ট্যাক্স হিসাবে কেটে নেয় তাহলে, তা তারা সিকিউরিটি অথবা ভাড়া হিসাবে কেটে থাকে। সুতরাং ট্যাক্স হিসাবে কেটে নেয়া অর্থটি সতন্ত্র বিষয়। আর তারা যা মূল অর্থের উপর সূদ, বিনিফিট বা অন্য যেকোনো উপায়ে যে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে তার সবই শরী‘আতের দৃষ্টিতে সূদ হিসাবে গণ্য। কেননা, ইসলামের দৃষ্টিতে সূদ বলা হয় ‘একই বস্তুর মধ্যে চক্রবৃদ্ধিহারে লেন-দেন করা। আবুবকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সমান সমান ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রয় করবে না। অনুরূপ রূপার বদলে রূপা সমান সমান ছাড়া (বিক্রি করবে না)। রূপার বদলে সোনা এবং সোনার বদলে রূপা যেভাবে ইচ্ছে কেনা-বেচা করতে পারো (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭০)। সুতরাং সূদ হিসাবে তারা যে অর্থ দেয় তার সবটুকু অর্থ দানের নিয়্যত ও ছওয়াবের আশা ব্যতীত সমাজের কল্যাণময় কাজে দিয়ে দিতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না (মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)।

প্রশ্ন (৫০) : ‘জাদুতে যে বিশ্বাস করবে সে কুফরী করবে’- এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটির ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-আব্দুল্লাহ আল-মামুন

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : এ মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। তবে ইসলামে জাদু নিষিদ্ধ এবং তা কাবীরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাক। আর তা হল আল্লাহর সাথে শরীক করা ও জাদু করা’ (বুখারী হা/৫৭৬৪)। তিনি আরো বলেন, তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাত যাবে না। তার এক শ্রেণীর মানুষ হল, যে জাদুতে বিশ্বাস করে (আহমাদ, মিশকাত হা/৩৬৫৬)। তবে জ্যোতিষী ও গণকের নিকট যাওয়া ও তাদের কথা বিশ্বাস করা কুফরী (মুস্তাদরাকে হাকেম হা/১৫)।