ঈমান-আক্বীদা


প্রশ্ন () : আমরা কিভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারি?

-আব্দুল্লাহ, নওগাঁ।

উত্তর: আল্লাহর পরিচয় লাভ করার অনেক উপায় রয়েছে। তার মধ্যে কতিপয় উপায় নিম্নে উল্লেখ করা হলো- ১. সৃষ্টিজগৎ দেখা ও তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে আছে নিদর্শন’ (আয-যারিয়াত, ৫১/২০)। তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বজগতে ও তাদের নিজেদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, এটি (কুরআন) সত্য; তোমার রবের জন্য এটাই যথেষ্ট নয় কি যে, তিনি সকল বিষয়ে সাক্ষী?’ (ফুসসিলাত, ৪১/৫৩)। ২. নিজের শরীর নিয়ে গবেষণা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর (নিদর্শন আছে) তোমাদের মাঝেও, তোমরা কি দেখ না?’ (আয-যারিয়াত, ৫১/২১)। বেশি বেশি প্রার্থনা করা। কারণ আল্লাহ তাওফীক্ব দান না করলে আল্লাহকে চেনা অসম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর সহায়তা ছাড়া আমার কোন তওফীক নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাই’ (হূদ, ১১/৮৮)। ৩. বিভিন্ন প্রাণি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি উটের প্রতি লক্ষ করে না তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আসমানের দিকে, কিভাবে তা ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? পাহাড়ের দিকে, কিভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর ভূ-তলের দিকে, কিভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে?’ (আল-গাশিয়াহ, ৮৮/১৭-২০)। এছাড়াও নেককার-মুত্তাক্বী ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করা। কেননা তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর সঠিক ব্যাখ্যা ও পরিচয় লাভ করা যায়।


প্রশ্ন () : ‘নবীগণ তাঁদের কবরের মধ্যে জীবিত, তাঁরা ছালাত আদায় করেন’। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: হাদীছটি ছহীহ। হাদীছটি মুসনাদে বাযযার ৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা ৩৪২৫ নম্বরসহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে, কবরের জীবনকে দুনিয়ার জীবনের সাথে তুলনা করা যাবে না। এক্ষেত্রে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সালাফদের আক্বীদা হচ্ছে- ১. নবীগণ মৃত্যুবরণ করেছেন একথাই চুড়ান্ত। মহান আল্লাহ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি মরণশীল, তারাও মরণশীল’ (আয-যুমার, ৩০)। আল্লাহ বলেছেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’ (আলে ইমরান, ৩/১৮৫; আল-আম্বিয়া, ২১/৩৫)। (হাদীছ) ৩. আবূ বকর c বলেছেন, فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ ‘নিশ্চয় মুহাম্মাদ মারা গিয়েছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৬৮)। ৪. আয়েশা g বলেছেন, مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘নবী a মারা গিয়েছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৪৬)। ২. নবীগণের শরীর মাটিতে খায় না। আওস ইবনু আওস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‌إِنَّ ‌اللَّهَ ‌حَرَّمَ ‌عَلَى ‌الْأَرْضِ ‌أَنْ ‌تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবীগণের শরীর ভক্ষণ করাকে জমিনের উপর হারাম করে দিয়েছেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৬৩৬; সুনানুস সুগরা লিল বায়হাক্বী, হা/৬০৫)। তবে যেসব বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি সালামের জবাব দিয়ে থাকেন, ছালাত আদায় করে থাকেন তার অর্থ হল, আত্মার জগতে তাঁকে ছালাত আদায়ের, সালামের উত্তর দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয় (আবূ দাঊদ, হা/২০৪১; মিশকাত, হা/৯২৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৪৬৪)।


প্রশ্ন (৩) : যারা বলে যে, ছাহাবীগণের মধ্যেও বিদআত ছিল; তাদের কথা কি ঠিক?

-মো. নুরুল ইসলাম

পুঠিয়া, নাটোর।

উত্তর: ছাহাবীগণের মধ্যে কেউ বিদআতী ছিলেন একথা আদৌও ঠিক নয়। বরং তারা ছিলেন শরীআতে ইনছাফের ব্যাপারে সর্বোচ্চে এবং সত্যের মাপ-কাঠি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছিল; অতপর তিনি তাদের অন্তরে কী ছিল তা জেনে নিয়েছেন, ফলে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করলেন নিকটবর্তী বিজয় দিয়ে’ (আল ফাতহ, ৪৮/১৮)। আবূ সাঈদ আল খুদরী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘তোমরা আমার ছাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। কেননা তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর পথে খরচ করে, তবুও তাঁদের মর্যাদার এক মুদ কিংবা অর্ধ মুদ (যব গম খরচ)-এর সমান ছওয়াব অর্জন করতে পারবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৪০)। আব্দুল্লাহ c রাসূলুল্লাহ a হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (অর্থাৎ ছাহাবীগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ- তাবিঈগণ। তারপর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট (অর্থাৎ তাবি তাবিঈন) (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫১)। যেসকল বিষয়ে সাহাবীগণের মতের মধ্যে ইখতেলাফ দেখা যায় তা তাদের ইজতেহাদী বিষয়। আর ইজতেহাদ শরীআতে দোষনীয় নয়।


প্রশ্ন (৪) : আক্বীদাগত বিদআতী কি কাফের-মুশরিকদের মত চিরস্থায়ী জাহান্নামী?

-আব্দু্ল্লাহ, দিনাজপুর।

উত্তর: বিদআত বলতেই মূলত পথভ্রষ্টতাকে বুঝানো হয় (ইবনু মাজাহ, হা/৪২)। আর আক্বীদাগত বিদআত কখনো কখনো মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন: জাহমিয়াদের আক্বীদা; আল্লাহর সিফাতকে আস্বীকার করা এবং কুরআন মানুষের ‍সৃষ্ট বলে বিশ্বাস করা; যার মাধ্যমে আল্লাহর স্পষ্ট আয়াতকে অস্বীকার করা হয় (আল-মায়েদা, ৬৪; আল-বাক্বারা, ২৫৫)। আর যে আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে এবং তওবা ব্যতিরেকে উক্ত অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নাম হবে। কারণ সে কাফের। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা কুফুরী করে এবং কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাদের উপর আল্লাহর, তার ফেরেশতার এবং সকল মানুষদের পক্ষ হতে লানত। তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে এবং তাদের থেকে শাস্তি কমানো হবে না এবং তাদের দিকে দৃষ্টিও দেওয়া হবে না’ (আল-বাক্বারা, ১৬১-১৬২)।


প্রশ্ন () : কিছু কিছু পীরপন্থী লোকেরা ছালাত-ছিয়াম অস্বীকার করে কুরআন ৯০ পারা মানে। তাদের সাথে দেখা হলে আমি সালাম দেয় না। এটা কি ঠিক করছি?

-মো. শাহ আলম, বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : যারা ছালাত-ছিয়াম অস্বীকার করে এবং কুরআন ৯০ পারা মনে করে তারা মুসলিম নয় বরং তারা মুরতাদ। আর মুরতাদকে সালাম দেওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তার চেয়ে কে বড় যালেম হতে পারে যে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে এবং সত্যকে অস্বীকার করে, যখন সত্য তার নিকট আসে। কাফেরদের জন্য জাহান্নাম কি আবাসস্থল হবে না’ (আয-যুমার, ৩৯/৩২)। আর কোনো অমুসলিমকে আগে সালাম দেওয়া যাবে না। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘ইয়াহুদী ও নাছারাদের আগে সালাম প্রদান করবে না। রাস্তায় তাদের সাথে দেখা হলে সংকীর্ণ রাস্তায় যেতে বাধ্য করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৬৭; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৪১১)।


প্রশ্ন (৬) : কালো জাদু কি সত্য, একজন মুসলিম হিসেবে এগুলো সম্পর্কে আমাদের আক্বীদা কেমন হওয়া উচিত, বিস্তারিত জানতে চাই?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: সব যাদুই যাদু হিসেবে গণ্য। কোনো যাদুকে কালো নামে পৃথক করা যাবে না। যাদু-টোনা, বশীকরণ, বান মারা তাবিজ করা বা কুফুরী শক্তি প্রয়োগ করাকে কালো যাদু বা ব্ল্যাক মাজিক বলা হয়। এসব হচ্ছে শয়তানের কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলত সুলাইমান কুফুরী করেনি বরং শয়তানরাই কুফুরি করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত’ (আল বাকারা, ২/১০২)। আবূ মূসা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতে যাবে না। ১. মদ্যপানকারী ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ৩. যাদুকে বিশ্বাসকারী (মুসতাদরাক আলা আস-ছহীহাইন, হা/৭২৩৪)। সাতটি বড় বড় ধ্বংসাত্মক পাপের মধ্যে যাদু একটি। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে দূরে থাকো। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কি কি? তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সাথে কাওকে শরীক করা, যাদু করা…’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯)। সুতরাং এসব কাজ থেকে দূরে থাকা ফরয। উল্লেখ্য যে, মানুষের প্রতি কালো যাদুর প্রভাব পড়ে থাকে। যেমন রাসূল a-কে ইহুদী লাবিদ ইবনুল আসাম যাদু করে ছিল। যার প্রভাবে তিনি অনেক বিষয় ভুলে যেতেন। যার প্রেক্ষিতে সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস নাযিল হয়ে ছিল (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৯৫)। যাদুর ব্যাপারে আমাদের আক্বীদা হচ্ছে: মহান আল্লাহ বলেন, ‘…অথচ তারা তার মাধ্যমে কারো কোন ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া (আল বাকারা, ২/১০২)।


প্রশ্ন () : হে আল্লাহ তোমার পবিত্রতার কসম, তোমার ইজ্জতের কসম, তোমার সম্মানের কসম, তোমার গুণাবলীর কসম, কাবা গৃহের রবের কসম, হে আল্লাহ তোমার পবিত্র কুরআনকে সামনে রেখে, তোমার কুরআনকে সাক্ষী রেখে, আমার সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করে বলছি, এখন থেকে আমি তুমি যা অপছন্দ করো তা আমি করবো না। প্রশ্ন হলো- নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে, শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে, নফসের ধোঁকা, যৌবনের ধোঁকা থেকে বাঁচতে। এই ভাবে কসম করা বা আল্লাহকে কথা দেয়া যাবে কি?

-মোহাম্মাদ হাসান বিন ইবরাহীম

গাংগনী, মেহেরপুর।

উত্তর: শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য কসমের পথ অবলম্বন না করে তাক্বওয়ার পথ অবলম্বন করা অধিক উত্তম। কেননা তাক্বওয়া তথা আল্লাহভীতি মানুষের কাজকর্মকে সঠিক করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ (সঠিক) করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল’ (আল আহযাব, ৩৩/৭১)। এ মর্মে আরো অসংখ্যক আয়াত রয়েছে। তবে, ভালোকাজের সংকল্প করাও একটি ভালো কাজ। আর ভালোকাজের কসম করলে তা পুরণ করা জরুরি। তাই কেউ চাইলে পাপ কাজ বর্জনের জন্য আল্লাহর জাতি নাম ও গুণবাচক নামে কসম করতে পারে। যদি কসমের উপর টিকে থাকতে না পারে তাহলে তার জন্য কাফফারা প্রদান করতে হবে। ইমরান ইবনু হুসাইন c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পাপের ব্যাপারে মানত করলে সে মানত পূরণ করতে নেই। আর বান্দা যার মালিক নয় সে বস্তুর মানতও পূরণযোগ্য নয়’। ইবনু হুজর p-এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে মানত সংঘটিত হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪১; ইবনু মাজাহ, হা/২১২৫)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী a বলেন, ‘কোন বিষয়ে কসম করার পর অন্য বিষয় যদি তা থেকে ভাল দেখে তবে, সে তার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে এবং ঐ (উত্তম) কাজটি করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫)। কসমের কাফফারা হলো- ১. দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য দান ২. অথবা তাদেরকে পরিধেয় বস্ত্র প্রদান করা ৩. অথবা সামর্থ না থাকলে, তিনদিন ছিয়াম পালন করা (আল-মায়েদা, ৫/৮৯)। উল্লেখ্য যে, প্রশ্নোল্লিখিত কসমের বাক্যগুলোর মধ্যে ‘কুরআনকে সামনে, কুরআনকে সাক্ষী রেখে’ চলবে না। কেননা আল্লাহর জাত ও গুনাবলি বাদ দিয়ে এমন বাক্য দ্বারা কসম করা শিরক।


প্রশ্ন (৮) : আবহাওয়া অফিসের প্রচারিত আগাম সংবাদ বিশ্বাস করা যাবে কি?

-আব্দুল খালেক, নাটোর।

উত্তর: আবহাওয়া অফিসের আগাম সংবাদ বিশ্বাস করা যায়। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে (১) আলামত দেখার পরে বলবে (২) বলার সময় ‘হতে পারে’ এমন শব্দ উচ্চারণ করবে (৩) ‘নিশ্চিত হবে বা ঘটবে’ এমনটি বলা হতে বিরত থাকবে।


প্রশ্ন (৯) : নবী a-এর কবরের মাটি নাকি আল্লাহর আরশ থেকেও শ্রেষ্ঠ একথা কি সত্য?

-সাইফুল ইসলাম সিয়াম

আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

উত্তর: এসব ভিত্তিহীন এবং শরীআতকে বিকৃত করার অপকৌশল। কুরআন হাদীছে এর কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এমন বিষয় প্রচার-প্রসার করা থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরি।


পবিত্রতা


প্রশ্ন (১০) : কোনো মেয়ে ঋতু থেকে এমন সময় পবিত্র হয়েছে যে, সে ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত। এমতাবস্থায় সে তায়াম্মুম করে ছালাত পড়তে পারবে কি? এক্ষেত্রে কি তাকে সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে?

-আব্দুল মালেক

উত্তর: পানি ব্যবহারে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তাহলে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও… (আন-নিসা, ৪/৪৩)। জাবের c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কোনো এক সফরে বের হলাম। অতঃপর আমাদের কোনো এক ব্যক্তির মাথায় পাথর লেগে জখম হয়ে যায়। অতঃপর তার স্বপ্নদোষ হয়। সে তার সাথীদের জিজ্ঞাসা করে, আমি কি তায়াম্মুম করতে পারি? তারা বলেন, যেহেতু আপনি পানি ব্যবহারে সক্ষম, তাই আপনাকে তায়াম্মুম করার অনুমতি দেয়া যায় না। অতঃপর লোকটি গোসল করল এবং মৃত্যুবরণ করল। সফর হতে ফেরার পর রাসূলুল্লাহ a-কে আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত করালাম। তিনি বললেন, তার সাথীরা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুক!.. (আবূ দাঊদ, হা/৩৩৬; মিশকাত, হা/৫৩১)। বাড়িতে হলে সুগদ্ধি ব্যবহার করতে পারে। আয়েশা g হতে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা আল্লাহর রাসূল a-কে হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাকে গোসলের নিয়ম বলে দিলেন যে, মিস্কের সুগন্ধিযুক্ত একখন্ড কাপড় নিয়ে তা দিয়ে ভালোভাবে পাক-পবিত্রতা অর্জন করবে। মহিলা বললেন, কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? আল্লাহর রাসূল a বললেন, তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন কর। মহিলা (তৃতীয়বার) বললেন, কিভাবে? আল্লাহর রাসূল a বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে তুমি পবিত্রতা অর্জন কর। আয়েশা g বলেন, তখন আমি তাকে টেনে আমার নিকট নিয়ে আসলাম এবং বললাম, তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন বিশেষভাবে মুছে ফেল (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৮)।


ইবাদত-ছালাত


প্রশ্ন (১১) : ছালাতের মধ্যে অতিরিক্ত হাই আসে এতে ছালাতের কোনো সমস্যা হবে কি?

-মাহাদী, নরসিংদী।

উত্তর: হাই আসার কারণে ছালাতের কোনো ক্ষতি হবে না। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। সুতরাং তোমাদের কারও যখন হাই আসে তখন যেন সে তা প্রতিরোধ করে। কারণ কেউ যখন ‘হা’ বলে তখন শয়তান হাসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩১১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৪)। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল a বলেছেন, ‘হাঁচি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাই তুললে সে যেন মুখের উপর হাত রাখে (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭২৯৪)। সুতরাং ছালাতে হাই আসলে যথাসাধ্য তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। সক্ষম না হলে, হাই উঠার সময় মুখে হাত দিবে (আল-আযকার ‘নববী’,)।


প্রশ্ন (১২) : আমাদের মসজিদটি হানাফী হিসেবে স্বীকৃত। মসজিদের কমেটি বলেছে যে, ছালাত জামাআতে পড়ার সময় হানাফীদের মতো পড়তে হবে। আর অন্য সুন্নাত-নফলে রাফউল ইয়াদায়েন করবে বাধা নেই। এতে মসজিদে যাওয়া বাদ দিয়ে বাড়িতে ছালাত পড়ছি। প্রশ্ন হলোসুন্নাত বাদ দিয়ে মসজিদে জামাআতে বেশি ছওয়াব, না-কি সুন্নাত মেনে বাড়িতে বেশি ছওয়াব?

-মো. শাহ আলম

বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর: জামাআতে ছালাত আদায় করাই উত্তম। জামাআতে ছালাত আদায় করার ফযীলত অনেক। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘একাকী ছালাত আদায় করার চেয়ে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করার ফযীলত সাতাশ গুণ বেশি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫০; ছহীহ আত-তারগীব, হা/৪০৩)। এতে কোনো পাপ হলে ইমামের হবে। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল a বলেছেন, ‘তারা তোমাদের ইমামতি করে। যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তাহলে তার ছওয়াব তোমরা পাবে। আর যদি তারা ভুল করে, তাহলে তোমাদের জন্য ছওয়াব আছে, আর ভুলত্রুটির দায়িত্ব তাদের (ইমামের) উপরই বর্তাবে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬২)। তবে ছালাত দেরীতে আদায় করলে, বাড়িতে আদায় করে নিবে। আবূ যার c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a আমাকে বললেন, ‘সে সময় তুমি কী করবে যখন তোমাদের উপর শাসকবৃন্দ এমন হবে, যারা ছালাতের প্রতি অমনোযোগী হবে অথবা তা সঠিক সময় হতে পিছিয়ে দিবে?’ আমি বললাম, আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, ‘এ সময়ে তুমি তোমার ছালাতকে সঠিক সময়ে আদায় করে নিবে। অতঃপর তাদের সাথে যা পাও, তা আবার আদায় করবে। এ ছালাত তোমার জন্য নফল হিসাবে গণ্য হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৩১; ইবনু মাজাহ, হা/১২৫৬; তিরমিযী, হা/১৭৬)।


প্রশ্ন (১৩) : ওয়াক্তিয়া মসজিদে আযান না দিয়ে ছালাত আদায় করে থাকি, এটা কি ঠিক হচ্ছে?

-মো. শাহ আলম

বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর: আযান হলো ইসলামের একটি সৌন্দর্য ও নিদর্শন। এতে অনেক ফযিলত রয়েছে। একাকী হলেও আযান দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা এতে আযানের ফযিলত হাছিল হয়। মুআবিয়া c বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মুয়াযিযনদের গর্দান বেশি উচু হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৭; ইবনু মাজাহ, হা/৭২৫)। অন্য হাদীছে রয়েছে- মুআযিযনের আওয়ায যতদূর যাবে তার মাঝের সকল শুকনো, তরতাজা জড়বস্তু এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য সাক্ষ্য দিবে (তারগীব, হা/২৩৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৩৫১)। তাই একাকী ছালাত আদায় করুক কিংবা জামাআতে আযান ও ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা ছালাতের জন্য আযান ও ইক্বামত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। আনাস c থেকে বর্ণিত, একদা তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন তখন মানুষেরা ছালাত আদায় করে নিয়েছে। তিনি একজন ব্যক্তিকে (আযান ও ইক্বামত দেওয়ার) আদেশ করলেন। অতপর লোকটি আযান এবং ইক্বামত দিলেন (মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, ২২৯৮; তামামুল মিন্না ‘আলবানী’, ১৫০ পৃ. ‘হাদীছ ছহীহ’)।


প্রশ্ন (১৪) : আমি প্রবাসে কাজ করি। কাজের চাপে আছর ছালাত সময় মত পড়তে পারি না মাগরিবের সময় পড়ি। এটা কি শরীয়তসম্মত হবে?

-মোহাম্মাদ রফিক

মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর: মুসলিম নর-নারীর জন্য কাজের অজুহাতে ফরয ছালাত দেরীতে আদায় করা বৈধ নয়। কেননা যথা সময়ে ছালাত আদায় করা ফরয। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয’ (আন-নিসা, ৪/১০৩)। ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে ছালাত আদায় করা সর্বোত্তম আমল (তিরমিযী, হা/১৭০)। তাই কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে কাজের ফাঁকে আপনাকে অবশ্যই ফরয ছালাত সময়মত আদায় করতে হবে। তা সম্ভব না হলে আপনাকে বিকল্প কাজ খুঁজতে হবে। আল্লাহ বরকত দান করবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং ছালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। যাতে তারা যে কাজ করে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করে’ (আন-নূর, ২৪/৩৭-৩৮)।


পারিবারিক বিধান- বিবাহ-তালাক


প্রশ্ন (১৫) : পিতা-মাতার কথা মতো স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর: স্ত্রী শরীয়তসম্মতভাবে জীবন-জাপন না করার কারণে যদি পিতা-মাতা স্ত্রীকে তালাক্ব দিতে বলে তাহলে, পিতা-মাতার কথা অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। আর যদি স্ত্রীর ভাল গুণাগুণ থাকার পরও পিতা-মাতা তালাক দিতে বলে, তাহলে তাদের পরামর্শ দিতে হবে। কেননা পিতা-মাতার আনুগত্য করা সন্তানের উপর জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক হুকুম জারি করেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না, আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’ (আল-ইসরা, ১৭/২৩)।  তিনি অনত বলেন, ‘তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে…’ (আন-নিসা, ৪/৩৬)। মু’আয c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a আমাকে দশটি বিষয়ে ওয়াছিয়্যাত বা উপদেশ দিয়েছেন। তিনি a বলেছেন, (১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। (২) পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না, যদি মাতা-পিতা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন বা ধন সম্পদ ছেড়ে দেয়ার হুকুমও দেয়…’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২২০৭৫; মিশকাত, হা/৬১)। অন্যথায় তাদেরকে বোঝাতে হবে। তাদের সাথে কোনোরূপ খারাপ আচরণ করা যাবে না।


প্রশ্ন (১৬) : আপন ভাগ্নীর মেয়েকে বিবাহ করা যাবে কি? দলিলসহ জানতে চাই।

-আলী, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর: আপন  ভাগ্নীর মেয়েকে বিবাহ করা যাবে না। কেননা আপন ভাগ্নী যেমন হারাম অনরূপ ভাগ্নীর মেয়ে তার মেয়ের মেয়ে (নিম্ন স্তরের সকল ভাগ্নী) হারাম। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে ১. তোমাদের মাতাদেরকে, ২. তোমাদের মেয়েদেরকে, ৩. তোমাদের বোনদেরকে, ৪. তোমাদের ফুফুদেরকে, ৫. তোমাদের খালাদেরকে, ৬. ভাতিজীদেরকে, ৭. ভাগ্নীদেরকে…’ (আন-নিসা, ৪/২৩)। অত্র আয়াত দ্বারা স্পষ্টত বোঝা যায় যে, ভাগ্নীদেরকে বলতে নিম্নোস্তরের সকল ভাগ্নীদেরকে বিবাহ করাকে হারাম করা হয়েছে।


প্রশ্ন (১৭) : বিবাহ সম্পাদনের সঠিক পদ্ধতি কী?

-মাহমুদুল হাসান

চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর: বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হলো, প্রথমে খুৎবা দেওয়া। অতঃপর কিছু কথার মাধ্যমে বিবাহ বাস্তবায়ন করা। নবী a খুৎবার মধ্যে সূরা আলে ইমরানের ১০২ নং আয়াত, আন-নিসার ১ নং আয়াত ও আল-আহযাবের ৭০-৭১ নং আয়াত পাঠ করতেন। অতঃপর বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কথা বলতেন (দারেমী, হা/২২০২; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯২; আবূ দাঊদ, হা/২১১৮; নাসাঈ, হা/১৪০৪; মিশকাত, হা/৩১৪৯)। কাজেই খুৎবা পড়ার পর মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বা তাদের উপস্থিতিতে অন্য কেউ বরের সামনে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বলবেন, আমার মেয়ে ওমুক এতো নগদ ও এতো বাকী মোহরের বিনিময়ে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে রাযী তুমি তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করো। তখন সে মেয়ের ওলী ও দুজন সাক্ষীকে শুনিয়ে বলবে, ‘ক্বাবিলতু’ (আমি গ্রহণ করলাম)। এরূপ তিনবার হওয়া ভালো। কারণ রাসূল a গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনবার বলতেন (ছহীহ বুখারী, মিশকাত, হা/৩০৮)। অতপর ওলীসহ অন্যরা তাদের মঙ্গলের জন্য নিম্নের দু‘আ পাঠ করবে। আবূ হুরায়রা c বলেন, নবী করীম a কোনো ব্যক্তির বিবাহ সম্পাদনকালে বলতেন,بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيَنَكُمَا فِىْ خَيْرٍ،   

উচ্চারণ : বা-রাকাল্লুহ লাকা ওয়া বা-রাকা আলাইকুমা ওয়া জামাআ বায়নাকুমা ফী খয়রিন। অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন ও তোমাদের উভয়কে বরকত দান করুন। তিনি তোমাদের উভয়ের মাঝে দাম্পত্য মিলন কল্যাণমণ্ডিত করুন’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৯৫৭; তিরমিযী, হা/১০৯১; আবূ দাঊদ, হা/২১৩০; ইবনু মাজাহ, হা/১৯০৫; মিশকাত হা/২৪৪৫)।

উল্লেখ্য যে, বিবাহের খুৎবা দাঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া কনের কাছে গিয়ে বিবাহ পড়ানো বা তার জবানবন্দী গ্রহণেরও কোনো প্রমাণ নেই। বরং কনের অনুমতি অবিভাবক নিবে। সমাজে প্রচলিত এ সকল প্রথা মানব রচিত। যার কোনো শারঈ ভিত্তি নেই। বিয়ের খুৎবা নিম্নরূপ:

إِنَّ الْحَمْدَ لِلهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّآتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِىَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوْتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ. يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيْراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوْا اللهَ الَّذِىْ تَسَاءَلُوْنَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْباً. يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلاً سَدِيْدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللهَ وَرَسُوْلَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا

(ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯২; আবূ দাঊদ, হা/২১১৮; নাসাঈ, হা/১৪০৪; দারেমী, হা/২২০২; মিশকাত, হা/৩১৪৯; আলে ইমরান, ৩/১০২; আন-নিসা, ৪/১; আল-আহযাব, ৩৩/৭০-৭১)| উল্লেখ্য যে, বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো ১. মেয়ের ওলী বা অভিভাবকের অনুমতি (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৩১৩০)। ২. কন্যার সম্মতি বা অনুমতি (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১৯; মিশকাত, হা/৩১২৬)। ৩. স্বামীর গ্রহণ এবং ৪. দু’জন সাক্ষী।


প্রশ্ন (১৮) : নিজ চাচার মৃত্যুর পর ভাতিজা চাচিকে বিবাহ করতে পারবে কি?

-তানভীর

ধুরইল মৃধাপাড়া, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর: চাচি মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ শরীআতে যাদেরকে বিবাহ করা একজন পুরুষের জন্য হারাম তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় (আন-নিসা, ৪/২৩)। সুতরাং চাচার মৃত্যু অথবা কোনো কারণে চাচির সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে ইদ্দত পালন শেষে ভাতিজা চাচিকে বিবাহ করতে পারে। ইবনু আব্বাস h বলেন, ‘বংশীয় কারণে সাত জন এবং বৈবাহিক কারণে সাত জন নারীকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে। অতপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করেন, ‘তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু’ (ছহীহ বুখারী, ‘কিতাবুন নিকাহ’ অধ্যায়-২৫; মিশকাত, হা/৩১৮১)।


প্রশ্ন (১৯) : একজন ছেলে এক মেয়েকে আল্লাহর নামে কসম করে বলেছিল তাকেই বিবাহ করবে। পরবর্তীতে মেয়েটি দ্বীনদার নয় জানতে পেরে ছেলেটি তাকে বিবাহ করতে অসম্মতি প্রকাশ করে। এই কসমের কারণে কি ছেলেটির উপর মেয়েটিকে বিবাহ করা আবশ্যক?

-মো. মেহেদী হাসান

ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী।

উত্তর: বিবাহের পূর্বে মেয়েদের সাথে সম্পর্ক রাখা হারাম। অবৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রে কসম করলে সে কসম যেমন পূরণযোগ্য নয় তেমনি কোনো বৈধ বিষয়ের কসম করার পর যদি তার চেয়ে উত্তম কিছু পাওয়া যায় তাহলে, পূর্বের কসমকৃত বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে উত্তমটি গ্রহণ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে কসম ভঙ্গের কারণে কাফফারা প্রদান করবে। ইমরান ইবনু হুসাইন c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পাপের ব্যাপারে মানত করলে সে মানত পূরণ করতে নেই। আর বান্দা যার মালিক নয় সে বস্তুর মানতও পূরণযোগ্য নয়’। ইবনু হুজর p-এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে মানত সংঘটিত হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪১; ইবনু মাজাহ, হা/২১২৫)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী a বলেন, ‘কোন বিষয়ে কসম করার পর অন্য বিষয় যদি তা থেকে ভাল দেখে তবে, সে তার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে এবং ঐ (উত্তম) কাজটি করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫)। যেহেতু মেয়ে দ্বীনদার নয় তা জানা গেছে তাই এই মেয়েকে বিবাহ করতে না চাইলে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে দ্বীনদার কোনো মেয়েকে বিবাহ করবে। কারণ রাসূল a বলেছেন মেয়েদের চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বিবাহ করতে। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী a বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে শাদী করা হয়। তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৮০২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৬)।


প্রশ্ন (২০) : গত ১০/০৯/২০২২ ইং তারিখে আমার স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া হয়। আমি তাকে বিভিন্নভাবে শান্ত করার চেষ্টা করি কিন্তু কিছুতেই সে শান্ত হয় না। এক পর্যায়ে আমি তাকে এক তালাক প্রদান করিকিছুক্ষণ পর সে রাগান্বিত হয়ে আমাকে বাকি দুই তালাক দেওয়ার জন্য জোর করে। ফলে আমি তাকে তিনবার তালাক তালাক তালাক বলি। পরবর্তীতে আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারি এবং বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। তাতে জানতে পারি যে, এভাবে তালাক দিলে এক তালাক হয়। তাই আমরা পরের দিন থেকে সংসার করতে থাকি। প্রশ্ন হলোআমাদের মাঝে কয় তালাক হয়েছে এবং আমাদের সংসার জীবন শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

-আব্দুর রহমান

মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর: প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্ত্রী এক তালাক হয়েছে। কেননা একসাথে এক তালাকের বেশি তালাক কার্যকর হয় না। তালাকের সঠিক পদ্ধতি হলো স্ত্রী পবিত্র থাকাবস্থায় শুধু এক তালাক দিয়ে রেখে দেওয়া। তিন কুরু (মোটামুটি তিন মাস) অতিক্রান্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী বিচ্ছিন্ন (বায়েন) হয়ে যাবে। তখন উক্ত মহিলা অন্য কোথাও বিয়ে বসতে পারে। আবার স্বামী চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু যদি কেউ একসঙ্গে তিন তালাক দিয়ে ফেলে, তাহলে তা তিন তালাক বলে গণ্য হবে না। বরং এক তালাক বলেই গণ্য হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস h থেকে বর্ণিত, আবু রুকানা নামে একজন লোক তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। তখন নবী a তার স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, এটা এক তালাক হয়েছে (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৮৭ হাদীছ ছহীহ; বায়হাকী, হা/১৪৭৬৪)। তাই কেউ যদি স্ত্রীকে একসাথে দুই বা তিন তালাক দিয়ে দেয় তাহলে, সেটা এক তালাক বলে গণ্য হবে। আর উক্ত স্বামী তার স্ত্রীকে মোটামুটি তিন মাসের মধ্যে নতুনভাবে বিবাহ পড়ানো ছাড়াই ফিরিয়ে নিতে পারবে। যদি তিন মাস অতিক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে, নতুনভাবে মোহরানা ধার্য করে বিবাহ পড়ানোর মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যেহেতু স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক প্রদান করেছেন সেহেতু তা এক তালাক হিসাবে গণ্য। আর তিন মাস অতিক্রম হওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছেন এবং সংসার করছেন তাই আপনাদের সংসার জীবন শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। এর জন্য নতুন করে বিবাহ পড়ানোর প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যে, সমাজে প্রচলিত চুক্তিভিত্তিক ‘হালালা বা হিল্লা’ পদ্ধতি সম্পূর্ণ শরীয়ত পরীপন্থী হারাম কাজ। উক্ববা ইবনু আমের c বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের ভাড়াটে পাঁঠা সম্পর্কে জানাবো না? সেই পাঁঠা হলো হিল্লাকারী। আর আল্লাহ হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়কে অভিশাপ করেছেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৯৩৬)। তাই এমন পথ অবলম্বন করা হতে বিরত থাকা বাঞ্চনীয়।


প্রশ্ন (২১) : মাসিক অবস্থায় তালাক দিলে তালাক হবে কি?

-আব্দুল্লাহ

 কুমিল্লা।

উত্তর: যেকোনো অবস্থায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়। এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময়সীমা নেই। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘তিনটি বিষয় এমন রয়েছে, যার দৃঢ় ইচ্ছাও চূড়ান্ত। আবার হাসি-তামাশাও চূড়ান্ত। বিবাহ, তালাক ও রজ্আত তথা তালাক প্রত্যাহার’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৩৯, হাদীছ হাসান)। তাই মাসিক, গর্ভবতী কিংবা যেকোনো অবস্থাতে তালাক দিলে তালাক হয়ে যাবে।


প্রশ্ন (২২) : কেউ যদি স্ত্রীকে তালাক দেয় যে, তুমি যখন বাচ্চা প্রসব করবে তখন তুমি তালাক। এই নারীর তালাক কখন কার্যকর হবে আর তার দ্দত কী হবে?

-নাজমুল হক্ব

নওগাঁ।

উত্তর: বিদ্যমান স্ত্রীকে কেউ যদি কোনো শর্তযুক্ত করে তালাক দেয়, তাহলে শর্ত পূরণ হওয়ার সাথে সাথে তালাক পতিত হয়ে যাবে। তাই বাচ্চা প্রসব হওয়ার সাথে সাথে এক তালাক পতিত হবে। তার ইদ্দত শুরু হবে বাচ্চা প্রসবের দিন থেকে। এর পরে তিন হায়েয বা ৯০ দিনের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে না নিলে সে বায়েন হয়ে যাবে। তখন নতুন বিবাহ ছাড়া তাকে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।


জানাযা-মৃত্যু, কাফন-দাফন


প্রশ্ন (২৩) : মাইয়্যেতকে গোসল দেওয়ার পর গোসল দানকারীর জন্য গোসল করা কি জরুরী?

-জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও

আক্বীমুল ইসলাম।

উত্তর: জরুরী নয়। ইবনু উমার c বলেন, আমরা মাইয়্যেতকে গোসল দিতাম। আমাদের মধ্যে কেউ গোসল দেওয়ার পর নিজে গোসল করতো। আর কেউ গোসল করতো না (বায়হাক্বী, হা/১৫২১; দারাকুত্বনী, হা/১৮৪২)। তবে গোসল করা ভালো। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী করীম a বলেছেন, ‘মাইয়্যেতকে গোসল দেওয়ার পর গোসর করতে হবে। আর মাইয়্যেতকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার পর ওযূ করতে হবে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৬৭৫)।


প্রশ্ন (২৪) : যখন মানুষের রূহ কবজ করা হয় আমরা দুনিয়ার মানুষ বুঝতে পারি যে, তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু একজন মৃত মানুষ কিভাবে বুঝবে যে, সে মৃত্যুবরণ করেছে?

-শামীম মিঁয়া

রাজবাড়ী, ঢাকা।

উত্তর: প্রত্যেক মৃত মানুষই তার মৃত্যুর ব্যাপারে বুঝতে পারে। যা স্পষ্ট হাদীছ দ্বারাই প্রমানিত। বারা ইবনু বাযেব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,… মু’মিন বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের দিকে যখন ফিরে চলে (মৃত্যুর কাছাকাছি হয়) তখন আসমান থেকে খুবই আলোকোজ্জ্বল চেহারার কিছু ফেরেশতাগণ তার কাছে যান। তাঁদের চেহারা যেন দীপ্ত সূর্য। তাঁদের সাথে (জান্নাতের রেশমী কাপড়ের) কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির দূর সীমায় বসবে। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন, তার মাথার কাছে বসবেন ও বলবেন, হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর মাগফেরাত ও তার সন্তুষ্টির কাছে পৌঁছবার জন্য দেহ থেকে বেরিয়ে আসো। রাসূল a বলেন, এ কথা শুনে মু’মিন বান্দার রূহ তার দেহ হতে এভাবে বেরিয়ে আসে যেমন মশক হতে পানির ফোঁটা বেয়ে পড়ে….। রাসূল a বলেন, কাফের ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন শেষ করে যখন আখেরাতে পদার্পণ করবে, আসমান থেকে ’আযাবের ফেরেশতাগণ নাযিল হবেন। তাদের চেহারা নিকষ কালো…। এছাড়াও তাকে জান্নাত জাহান্নাম দেখানোর ব্যাপারে বলা হয়েছে (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৫৩৪; মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বা, হা/১২৪৩২)। জান কবযের সময় মৃত ব্যক্তি রূহ এর দিকে তাকিয়ে থাকে (ছহীহ মুসলিম, হা/৯২০)।


দান-ছাদাক্বা


প্রশ্ন (২৫) : ইয়াতীমদের কোনো প্রতিষ্ঠানে ইয়াতীমদের জন্য যে অর্থ দান করা হয় সে অর্থ থেকে যে খাবার প্রস্তুত করা হয় বা ক্রয় করা হয় সে খাবার থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কি খেতে পারবেন?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: ইয়াতীমদের যা দেওয়া হয় তা সাধারণত যাকাত কিংবা ছাদাক্বা হয়ে থাকে। যা সামর্থবান ব্যক্তি ভোগ করতে পারবে না। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা তো নিজেদের পেটে কেবল অগ্নিই ভক্ষণ করে, তারা শীঘ্রই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে’ (আন-নিসা, ৪/১০)। তবে ইয়াতীমদের যারা শিক্ষক কিংবা দেখাশুনার দায়িত্বে থাকে তারা ক্ষেতে পারে। কেননা ইয়াতীমদের জন্য তা ছাদাক্বা হলেও শিক্ষকগণের জন্য তা হাদিয়া। ‘আয়েশা g হতে বর্ণিত, তিনি বারীরা নাম্নী দাসীকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে কিনতে চাইল। তার মালিকরা বারীরার ‘ওয়ালা’ (অভিভাবকত্বের অধিকার)-এর শর্তারোপ করতে চাইল। ‘আয়েশা g (বিষয়টি সম্পর্কে) নবী a-এর কাছে উল্লেখ করলেন। নবী a তাঁকে বললেন, তুমি তাকে ক্রয় কর। কারণ যে (তাকে) আযাদ করবে ‘‘ওয়ালা’ (অভিভাবকত্ব) তারই। ‘আয়েশা g বলেন, নবী a-এর কাছে একটু গোশত হাযির করা হলো। আমি বললাম, এটা বারীরাকে ছাদাক্বাস্বরূপ দেয়া হয়েছে। নবী a বললেন, ‘এটা বারীরার জন্য ছাদাক্বা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া (উপহার)’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৫)।


প্রশ্ন (২৬) : যদি কেউ মৃত ব্যক্তির নামে দান করে তাহলে কি শুধু মৃত ব্যক্তিই উপকৃত হবে, না-কি যে দান করছে সেও উপকৃত হবে? আর সম্পর্কে কেউ না এমন মৃত ব্যক্তির জন্য দান করলে কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসবে?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: জী; যে দান করেছে এবং যার জন্য দান করা হয়েছে উভয়ই উপকৃত হবে। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী কারীম a-কে এসে বলল, আমার পিতা ওছীয়ত না করেই অনেক সম্পদ রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব আমি যদি এখন তার পক্ষ হতে দানকরী তাহলে কি তার উপকার হবে? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩০; নাসাঈ, হা/৩৬৫২; ইবনু মাজাহ, হা/২৮২০)। ইমাম নববী p অত্র হাদীছ দ্বারাই দানের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির উপকার হওয়া এবং দানকারীর উপকার হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। যে ব্যাপারে সকল আলেমরাই ঐক্যমত হয়েছেন (শারহুন নববী লি ছহীহ মুসলিম, ৪/১৬৭; ইসলাম ওয়ায়িব, ফতওয়া নং- ৫২৮৯৭)। আর সর্ম্পকে কেউ না এমন ব্যক্তির পক্ষ হতেও যদি দান করা হয় তবুও মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবে। সালামা ইবনু আক্বওয়া c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা নবী a-এর নিকটে বসা ছিলাম, এমন সময় একটি জানাযা নিয়ে আসা হলো এবং বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযার ছালাত আদায় করুন। তিনি বললেন, সে কি কোনো কিছু রেখে গিয়েছে? তারা বলল, না…। তিনি বললেন, তার উপর কি কোনো ঋণ রয়েছে? তারা বলল, ‍তিন দিনার। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সাথীর উপর জানাযা পড়! তখন আবূ ক্বাতাদা c বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযা পড়ুন, তার ঋনের দায়িত্ব আমার উপর…। তখন তিনি তার জানাযার ছালাত পড়লেন (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৫৭৫)।


হালাল-হারাম


প্রশ্ন (২৭) : গনরোভ ফল খাওয়া কি হালাল?

-সজিবুল ইসলাম

গুরুদাসপুর জেলা নাটোর।

উত্তর: গনরোভ ফল নামে কোনো ফল আছে বলে আমাদের জানা নেই। কোনো অভিধানেও পাওয়া যায় না। তবে, ইহা যদি রুচিশীল ফল হয় এবং এর মাঝে কোনো ক্ষতিকর বিষয় না থাকে তাহলে, এমন নামের ফল খাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল উত্তম রিযিক দিয়েছেন, তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা তারই ইবাদত করে থাক’ (আন-নাহল, ১৬/১১৪)। এই ফল দ্বারা যদি সমাজে প্রচলিত আদম ও হাওয়া e–এর গন্দম ফল বলে খাওয়া যাবে না এমনটি উদ্দেশ্য হয় তাহলে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা সেটি কী ফল ছিল তা স্পষ্ট নয়। মহান আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না’ (আল-বাকারা, ২/৩৬)। ইবনু কাছীর p কোন ফল খেতে আদম ও হাওয়া e–কে নিষেধ করা হয়ে ছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন, তা কোন ফল ছিল তা নির্দিষ্ট করে আমাদের জানা নেই (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১১৭-১১৮ পৃ.)।


প্রশ্ন (২৮) : আমার স্বামী পর্তুগাল প্রবাসী। সে একটি রেস্তোরায় কাজ করে। সেখানে অন্য খাবারের পাশাপাশি শুকরের গোশত বিক্রি করা হয়। এমতাবস্থায় তার এই উপার্জন কি হালাল হবে? উল্লেখ্য যে, সেখানে সে অন্য কোনো কাজ পাচ্ছে না এবং তার উপর অনেক ঋণ রয়েছে। সেখানে কাজ না করলে অনাহারে থাকতে হবে।

-জান্নাতুল ফায়েজা

রেইসকোর্স, কুমিল্লা।

উত্তর: এমন রেস্টুরেন্টে কাজ করা জায়েয নয়। শুকরের গোশত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং যা গায়রুল্লাহর নামে যবেহ করা হয়েছে’ (আল-বাকারা, ২/১৭৩)। আর যে বস্তু খাওয়া-পান করা হারাম, তার ক্রয়-বিক্রয় এবং তাতে সহযোগিতা করাও হারাম। ইবনু আব্বাস c থেকে বর্ণিত, রাসূল a মদ সম্পর্কে বলেন, إِنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا ‌حَرَّمَ ‌بَيْعَهَا ‘যিনি তা পান করা হারাম করেছেন তিনি তা বিক্রি করাও হারাম করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৯)। তাই অনতিবিলম্বে সে চাকুরি ছেড়ে দিতে হবে। আল্লাহর জমিন প্রশস্ত। তার উপর যথাযথ তাওয়াক্কুল করে হারাম থেকে বিরত হলে অবশ্যই তিনি রিযিক্বের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেন,﴿وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (٢) ‌وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ﴾ ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক্ব দেন, যা সে কল্পনাও করেনি। আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান’ (আত-ত্বলাক, ৬৫/২-৩)।


প্রশ্ন (২৯) : সরকারী অডিট এবং কাস্টমস অফিসে চাকুরী করা যাবে কি? এখানে বৈধ বিষয়ের কাজ করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব অফিসে সূদের হিসাব করতে হয়। যেহেতু হালাল-হারাম মিশ্রিত তাই সার্বিক বিচারে এই সমস্ত বিভাগে চাকুরি করা কি জায়েয আছে?

-মো. আসিফ ইকবাল

মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর: সূদ হারাম এবং ভয়াবহ গুনাহ। সূদ খাওয়া আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সূদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাক। যদি তোমরা না ছেড়ে দাও, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে দাও। তবে যদি তওবা করো, তবে তোমরা নিজেদের মূলধন তোমাদেরেই থাকবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না’ (আল বাকারা, ২/২৭৮-২৭৯)। এ ছাড়া রাসূল a সূদের সম্পৃক্ত চার প্রকারের লোককে অভিসম্পাত করেছেন। জাবের c হতে বর্ণিত, ‘সূদ গ্রহীতা, সূদ দাতা, সূদের লেখক ও সাক্ষীদ্বয়কে রাসূল a অভিসম্পাত করেছেন আর বলেছেন, (পাপের ক্ষেত্রে) তারা সকলেই সমান’ (মুসলিম, হা/১৯৯৮)। তাই সূদ মিশ্রিত কোনো চাকুরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হয়। আর ইসলামে হারাম কাজে সহযোগিতা করা নিষেধ।  আল্লাহ বলেন, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না’ (আল মায়েদা, ৫/২)। তবে এক্ষেত্রে যদি সূদ বা সংশ্লিষ্ট সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকা যায়, তাহলে এই সেক্টরে চাকুরী করাতে কোনো অসুবিধা নেই।


প্রশ্ন (৩০) : চাকুরির মেয়াদকাল ৩ বছরের বেশি হলে কর্মকর্তাদের জমাকৃত টাকার ১০০% সাথে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় ১০০% অর্থ প্রদান করে, এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হলো- প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় অর্থ গ্রহণ করা কি শরীআতসম্মত হবে?

-উমার ফারুক

সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

উত্তর: প্রথমত যে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন তা হলো প্রতিষ্ঠানটি কি শরীআতসম্মত ভাবে পরিচালিত হয়, না কি তা হারাম ও সূদের সাথে সম্পর্কিত অছে। যদি হারাম ও সূদের সাথে সম্পর্কিত থাকে তাহলে তাতে চাকুরি করা ও তার প্রদেয় অর্থ গ্রহণ করা কোনোটিই বৈধ হবে না। কারণ এ ব্যাপারে রাসূল a ব্যাপক কঠোরতা আরোপ করেছেন। (১) তিনি বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার শরীর হারাম দ্বারা তৈরি হয়েছে’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/২৬০৯; মিশকাত, হা/২৭৮৭)। (২) তিনি বলেছেন, ‘সূদখোর ব্যক্তি মৃত্যুর পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত রক্তের লাল নদীতে সাঁতার কাটতে থাকবে এবং তার উপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে (সংক্ষিপ্ত) (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০১৭৭)। আর যদি শরীআতম্মতভাবে পরিচালিত হয় এবং আপনার জমাকৃত টাকার সাথে সূদ ব্যতিরেকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে ১০০% টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তা হালাল। আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র তথা হালাল বস্তু হতে ভক্ষণ কর’ (আল-বাক্বারা, ২/৫৭)।


বৈধঅবৈধ


প্রশ্ন (৩১) : ইসলামের জমি লিজ দেওয়া-নেওয়া কি জায়েয?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: ইসলামে জমি লিজ (খায়খালাসি/ঠিকা) পদ্ধতি জায়েয। তবে বন্ধক পদ্ধতি হারাম। হানযালা c বলেন, আমি রাফে‘ ইবনু খাদীজ c-কে বললাম, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া যাবে কি? তিনি বললেন, এতে কোন আপত্তি নেই (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৪৬ ও ২৩৪৭)। ৩৪৬ পৃ.)।


প্রশ্ন (৩২) : বর্তমানে কেউ ১০ জন হাজী সংগ্রহ করে দিতে পারলে সে বিনা খরচে হজ্বে যেতে পারে। এভাবে হজ্বে যাওয়া যাবে কি? হাজী সংগ্রহের বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ করা কি জায়েয?

-জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও

আক্বীমুল ইসলাম।

উত্তর: হজ্জের এ পদ্ধতি ঠিক নয়। কেননা ১. এভাবে হজ্জ করার ব্যবস্থা হওয়ায় যারা হজ্জে যাচ্ছে তাদের টাকা বেশি খরচ হয়। ২. এতে প্রতারণার সম্ভবনা থাকে। ৩. এভাবে হজ্জে যাওয়ার বিষয়টি শরীআতে স্পষ্ট নয়। অতএব যেখানে ঘুষের মতো লেন-দেন হয়, প্রতারণার সম্ভবনা থাকে, মালিকানা স্পষ্ট হয় না সে মাধ্যমে হজ্জ না করাই উত্তম।


প্রশ্ন (৩৩) : হিন্দু ড্রাইভার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিসের চাকুরিজীবিরা পূজা উপলক্ষে বোনাস (অতিরিক্ত টাকা) চেয়ে থাকে। মুসলমান হিসেবে এটা দেওয়া কি আমাদের জন্য বৈধ হবে?

-আবু বকর

সাহেব বাজার, বোয়ালিয়া, রাজশাহী।

উত্তর: বির্ধমী কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু পূজা বা অন্য কোনো পাপ কাজকে কেন্দ্র করে তাদেরকে বোনাস দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কেননা এর মাধ্যমে শিরকের মতো অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা কর, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। তবে, পাপ কাজ ব্যতীত কল্যাণের উদ্দেশ্যে তাদেরকে সহযোগিতা করা যায় এবং তাদেরকে হাদিয়া দেওয়া ও তাদের থেকে হাদিয়া গ্রহণ করা যায়। ইবনু উমার c থেকে বর্ণিত, উমার c একটি লাল বর্ণের রেশমী চাদর দেখে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি তা খরিদ করতেন তবে জুমআর দিন এবং আপনার নিকট বাইরের প্রতিনিধি দল এলে তা পড়তেন। তিনি বলেন, ‘হে উমার! যার পরকাল বলতে কিছু নেই সে এটা পরবে। পরে অনুরূপ কিছু লাল বর্ণের রেশমী চাদর নবী a-কে উপঢৌকন দেয়া হয়। তিনি তা থেকে একটা চাদর উমার c-কে উপহার পাঠান। উমার c রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এটা পাঠিয়েছেন, অথচ আপনি ইতিপূর্বে এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা আমি শুনেছি। রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘তোমার পরিধানের জন্য এটা আমি তোমাকে দেইনি। অবশ্য আমি এজন্য তোমাকে এটা দিয়েছি যে, তা বিক্রয় করবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। অতএব উমার c তার এক বৈপিত্রেয় মুশরিক ভাইকে তা উপহার স্বরূপ দিয়ে দেন (আল আদাবুল মুফরাদ, ৩১, ৭১)। আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী a-এর জন্য একটি সাদা খচ্চর ও চাদর হাদিয়া দিলেন (ছহীহ বুখারী, ১৪১১)। রাসূল a এক ইহুদী নারীর হাদিয়া গ্রহন করেছিলেন (ছহীহ বুখারী হা/২৪৭৪; ছহীহ মুসিলম হা/২১৯০)।


দু‘আ- ‍যিকির-আযকার


প্রশ্ন (৩৪) : বই দেখে দেখে কি নির্দিষ্ট সময়ের দুআ পাঠ করা যাবে, যেমন: ফরজ ছালাতের পরের দুআ, সকাল-সন্ধ্যার দুআ ইত্যাদি?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: মুখস্থ করে পড়াই উত্তম। কেননা এর মাধ্যমে দুআ পড়ার প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া যায়। আর সর্বত্র বই সঙ্গে রাখা সম্ভব হয় না ফলে নিয়মিত পড়া সম্ভব হয় না। খুশূ-খুযূসহকারে পড়া যায় না ইত্যাদি। তবে নিতান্তই অপারগ হলে সাধারণভাবে দেখে দেখে পড়াতে কোনো সমস্যা নেই। (মাজমু ফাতাওয়া ইবনু বায, ২৬/১৩৭)। উল্লেখ্য যে, দেখে পড়ুক কিংবা মুখস্থ অবশ্যই তা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত দুআ হতে হবে। সুতরাং বিশুদ্ধ দুআর বই থেকে পড়তে হবে।


বিদআত


প্রশ্ন (৩৫) : বিদআতী আলেম থেকে কি ইলম নেওয়া যাবে? তাদের পরিচয় কী?

-নূরুল হুদা

প্রবাসী, মালেশিয়া।

উত্তর: বিদআতী আলেম থেকে ইলম নেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে ইলম গ্রহণ করতে হবে। নচেৎ নিজেও তার বিদআতী মনোভাবের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন p বলেন, নিশ্চয় এই জ্ঞান হচ্ছে দ্বীন। সুতরাং তোমরা লক্ষ করো তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো (ছহীহ মুসলিম, ১/১১ পৃ.)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট যখন কোনো ফাসেক কোনো সংবাদ নিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা যাচাই-বাছাই করে দেখো। যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো জাতির ক্ষতি করে না ফেলো। (যদি করে ফেলো) তাহলে তোমাদের কৃত কর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হবে’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/৬)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করল, সে যেন তার স্থান জাহান্নাম বানিয়ে নিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩)। বিদআতী আলেমদের পরিচয়: যার মধ্যে বিদআত পরিলক্ষিত হবে সেই বিদআতী। নিম্নে কিছু বিদআতের নমুনা তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে আমরা বিদআতী বা বিদআতী আলেম চিহ্নিত করব। মিলাদ মাহফিল করা, জোরে নিয়্যত বলা, মৃত ব্যক্তির শোকে মাতম করা, চল্লিশা করা, বরকত হাছিলের উদ্দেশ্যে কবরের পাশে ছালাত আদায় করা, মৃত ব্যক্তির ওছিলায় দুআ করা ইত্যাদি।


প্রশ্ন (৩৬) : মীলাদুন্নবীকে কেন্দ্র করে ১২ রবিউল আওয়ালের দিন ছিয়াম রাখা যাবে কি?

-মুকাররাম বিল্লাহ

গাজীপুর।

উত্তর: না, ছিয়াম রাখা যাবে না। মিলাদুন্নবী এবং মিলাদুন্নবীকে কেন্দ্র করে ছিয়াম রাখাসহ যা কিছু করা হয় তার সবকিছুই বিদআত। কেননা, নবী করীম a-এর জন্মদিন পালন করার রীতি ইসলামে নেই। যদি থাকতো, তাহলে নবী করীম a নিজেই তার জীবদ্দশায় তা পালন করার আদেশ করে যেতেন এবং ছাহাবায়ে কেরাম তা আগ্রহ-উদ্দীপনা নিয়ে পালন করতেন। যেহেতু এর কোনো নযির ইসলামে নেই, সেহেতু তা একটি টাটকা বিদআত। শরীআত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতি বহির্ভূত কোনো আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের কর্মগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় পরিণত করব’ (আল-ফুরক্বান, ২৫/২৩)। আয়েশা g থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার প্রতি আমার কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৭১)।


অন্যান্য


প্রশ্ন (৩৭) : মেয়েরা কি সুগন্ধি তেল মাথায় ব্যবহার করতে পারবে? যেমন 7OIL

-রাজিব হোসেন

পাংশা, রাজবাড়ী।

উত্তর: মহিলাদের খুশবু বা সুগন্ধি হলো যার রং প্রকাশ পাবে এবং ঘ্রাণ গোপন থাকবে। আর পুরুষের খুশবু হল যার রং গোপন থাকবে আর ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে (তিরমিযী, হা/২৭৮৭; নাসাঈ, হা/৫১১৭-১৮; মিশকাত, হা/৪৪৪৩, সনদ ছহীহ)। আবূ মূসা আশ‘আরী c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘যে নারী আতর ব্যবহার করে মানুষের পাশ অতিক্রম করল, যেন তারা তার আতরের ঘ্রাণ পায়, সে নারী ব্যভিচারিণী’ (নাসাঈ, হা/৫১২৬; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৬৮১)। অত্র হাদীছদ্বয় প্রমাণ করে নারীরা সাধারণত সুগন্ধিপূর্ণ জিনিস ব্যবহার করতে পারবে না। বরং তা পুরুষরা ব্যবহার করবে। তবে নারীরা বাড়ীতে ব্যবহার করলে তাতে দোষের কিছু নেই। কেননা পুরুষদেরকে জুমআর ছালাতে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহারের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে ‘যদিও তার স্ত্রীর সুগন্ধি থেকে হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৪৬; আবু দাঊদ, হা/৩৪৪)। অত্র হাদীছ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলের যুগে বাড়ীতে মহিলাদের সুগন্ধি থাকত। তবে যদি বাড়ীতে মাহরাম নয় এমন কেউ থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করতে পারবে না। সেই সাথে সুগন্ধময় কোন কিছু ব্যবহার করে বাড়ীর বাইরে যেতে পারবে না। অতএব 7oil তেলসহ অন্য তেল যদি সুগন্ধি ছড়ায় তাহলে, তা ব্যবহার করে মহিলারা বাহিরে যেতে পারবে না।


প্রশ্ন (৩৮) : ওশর কিভাবে দিব বা আদায় করব?

-মো: সেলিম রেজা

বাগদাদ, ইরাক্ব।

উত্তর: ফসল যেদিন কেটে আনার পর প্রস্তুত হয়ে যাবে সেদিন সম্পূর্ণ ফসলের ওশর দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তার ফল থেকে আহার কর, যখন তা ফলদান করে এবং ফল কাটার দিনেই তার হক দিয়ে দাও’ (আল-আনআম, ৬/১৪১)। ফসল যদি আকাশ, ঝর্ণা কিংবা কূপের পানি দ্বারা উৎপাদিত হয়, তাহলে এক-দশমাংশ ওশর দিতে হবে। আর যদি সেচ প্রক্রিয়া বা বিভিন্ন খরচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তাহলে ‘নিছফে ওশর’ বা বিশ ভাগের একভাগ ওশর দিতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘যে স্থান আকাশের অথবা প্রবাহিত কূপের পানিতে সিক্ত হয় অথবা যা নালার পানিতে তরতাজা হয়, তাতে ওশর (দশভাগের একভাগ) আদায় করতে হবে। আর যে সব ফসল সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় তাতে নিছফে ওশর (বিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করতে হবে। (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৩; মিশকাত, হা/১৭৪৭; বুলূগুল মারাম, হা/৬১৫)। উল্লেখ্য, উৎপাদিত ফসল কেজির মাপে ১৮ মণ ৩০ কেজি হলে তার উপর যাকাত ফরয হয়। অর্থাৎ নিছাব পূর্ণ হয়।


প্রশ্ন (৩৯) : কেউ যদি শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মায়ের গায়ে হাত উঠায়, এর পর অনুতপ্ত হয়ে মায়ের কাছে পা ধরে ক্ষমা চাই এবং মা তাকে ক্ষমা করে দেয়, তাহলে সেই সন্তান পরকালে কি জাহান্নামে যাবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, পাপমুক্ত কাজে তাদের আনুগত্য করা জরুরি। তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল’ (আল ইসরা, ১৭/২৩)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ a-এর কাছে এলো এবং সে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাধিক ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৪৮)। তবে কেউ যদি শয়তানের ধোঁকার বশীভূত হয়ে পিতা-মাতার সাথে অন্যায় কোনো আচরণ করে বসে এবং পিতা-মাতার নিকট ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং তারা ক্ষমা করে দেয়, তাহলে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে এই অপরাধের জন্য পাকড়াও করবেন না। ইনশা-আল্লাহ!


প্রশ্ন (৪০) : কেউ যদি কসম করে বলে যে, আমি জীবনে একটা হরফও পড়বো না। তাহলে কি সে জীবনে কখনো একটি হরফও পড়তে পারবে না? এক্ষেত্রে করনীয় কী?

-আব্দুল আওয়াল

রঘুনাথগঞ্জ , মুরশিদাবাদ।

উত্তর: এমন কসম পুরণ করা জায়েয নয়। কেননা তা কোনো ভালো কাজের কসম নয়। এক্ষেত্রে কসম ভঙ্গ করে কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে। ইমরান ইবনু হুসাইন c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পাপের ব্যাপারে মানত করলে সে মানত পূরণ করতে নেই। আর বান্দা যার মালিক নয় সে বস্তুর মানতও পূরণযোগ্য নয়’। ইবনু হুজর p-এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে মানত সংঘটিত হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪১; ইবনু মাজাহ, হা/২১২৫)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী a বলেন, ‘কোন বিষয়ে কসম করার পর অন্য বিষয় যদি তা থেকে ভাল দেখে তবে, সে তার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে এবং ঐ (উত্তম) কাজটি করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫)। কসমের কাফফারা হলো- ১. দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য দান ২. অথবা তাদেরকে পরিধেয় বস্ত্র প্রদান করা ৩. অথবা সামর্থ না থাকলে, তিনদিন ছিয়াম পালন করা (আল-মায়েদা, ৫/৮৯)।


প্রশ্ন (৪১) : কোন পুরুষ বা মহিলা মাহরাম ছাড়া অন্য কোন মহিলা বা পুরুষে সাথে হোয়াটসআপ, মেসেঞ্জার, ইমো ইত্যাদিতে ভিডিও বা অডিও নয় শুধু মেসেজের মাধ্যমে কথা বলতে পারবে কি?

-আব্দুল মজিদ

রাজপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর: ফেসবুক, ইমো, টুইটারসহ যেকোনো উপায়ে, পরোক্ষ এবং অপরোক্ষ কোনোভাবেই বেগানা যুবক যুবতীর মাঝে নিষ্কাম বন্ধুত্বও অসম্ভব। কারো দ্বারা বিরলভাবে সম্বব হলেও শরীআতে তা হারাম। তাদের আপোসে পত্রালাপ ও রসালাপ বৈধ নয়। ইনগেইজমেন্ট (বাগদান) হয়ে গেলেও বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেমন তাদের মাঝে দেখা সাক্ষাৎ হারাম তেমনি চিঠি, মেসেজের মাধ্যমে কথা বলা, হৃদয়ের আদান প্রদানও হারাম। যেহেতু তাতে ফিতনার আশষ্কা রয়েছে। আর ফিতনা ও দাজ্জাল থেকে পাকা মুমিনকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪৩১, ৪৪১; আবূ দাঊদ, হা/৪৩১৯)। ইবনু মাসউদ c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় শিরায় চলাচল করে (ছহীহ বুখারী, হা/৩১০৭)। এমর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে আকর্ষণধর্মী ভঙ্গিতে কথা বল না, যাতে যাদের মাঝে যৌনলিপ্সা আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে, জাহেলি যুগের মেয়েদের মত নিজেদের প্রকাশ করো না…’ (আল আহযাব, ৩৩/৩২-৩৩)। অন্য হাদীছে রাসূল a বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ যেনো কোনো (বেগানা) নারীর সাথে মাহরাম ব্যতীত এককিত্তে না থাকে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৩৫)। উমার c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘কোন পুরুষ অপর মোহরাম তথা বিবাহ বৈধ এমন) নারীর সাথে নিঃসঙ্গে দেখা হলেই শয়তান সেখানে তৃতীয় জন হিসাবে উপস্থিত হয়’ (তিরমিযী, হা/১১৭১; মিশকাত, হা/৩১১৮)।


প্রশ্ন (৪২) : বর্তমানে অনেককে দেখা যাচ্ছে যে, তারা তাদের নিজের পরীক্ষার প্র‍্যাকটিক্যাল খাতা অন্যজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করিয়ে নিয়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা দিচ্ছে। এমন কর্ম কী উভয়ের জন্য বৈধ?

-রনি ইসলাম

বাউসা, রাজশাহী।

উত্তর: এমন জাতীয় কর্মসমূহ উভয়ের জন্যই বৈধ হবে না। কারণ তাতে ধোঁকা বিদ্যমান। আর ধোঁকা দেওয়া শরীআতে হারাম। রাসূল a বলেছেন, ‘যে আমাদের ধোঁকা দিবে সে আমার দলভূক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১; ইবনু মাজাহ, হা/২২২৪)। অতএব তাদের ‍উচিত হবে এমনসব কর্মাবলী হতে বিরত থাকা এবং নিজের প্র্যাকটিকাল খাতা নিজেই লিখে জমা দেওয়া।


প্রশ্ন (৪৩) : আহলেহাদীছ মানহাজের দাওয়াত দেওয়া হলে এক শ্রেণির লোক মেকিদরদ দেখিয়ে বলে, যে এলাকায় এক মাযহাবের ওপর আমল আছে সে এলাকার লোকেরা সেই মাযহাব অনুযায়ী আমল করবে; সেখানে নতুন কিছুর দাওয়াত দেওয়া মানে বিচ্ছিন্নতা ও ফেৎনা সৃষ্টি করা। তাদের একথা কতটুকু শরীআতসম্মত এবং এক্ষেত্রে আমার করনীয় কী?

-সাইফুল ইসলাম সিয়াম

সাভার, ঢাকা।

উত্তর: হক্ব কথা বললে সমাজে ফিতনা হবে মনে করে হক্ব কথা বলা যাবে না একথা নিতান্তই হাস্যকর। বরং হক্ব কথা বলে যেতে হবে। হক্ব বললেই বাতিল পালাবে। এর নাম ফিতনা নয়। বরং মিথ্যা প্রচার করাই ফেতনা। আবূ সাঈদ খুদরী c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘সর্বোত্তম জিহাদ হল অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪০১১; আবূ দাউদ, হা/৪৩৪৪)। আবূ যার c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a আমাকে বলেছেন, ‘তুমি সত্য বলবে যদিও তা তিক্ত হয়’ (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৬১, ৪৪৯; বুলূগূল মারাম, হা/৮৯২)। রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করলো যার ব্যাপারে আমার নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। অত্র হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলের প্রদর্শিত পন্থা ব্যতিরেকে অন্য কোনো আমলই করা যাবে না। আর এক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে, তাদেরকে উত্তম কৌশলে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে জ্ঞান-বুদ্ধি আর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান জানাও। আর লোকদের সাথে বিতর্ক কর এমন পন্থায় যা অতি উত্তম’ (আন-নাহল, ১৬/১২৫)। এ ছাড়াও তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আমার থেকে অন্যের কাছে পৌঁছে দাও যদিও একটি আয়াতও হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১; তিরমিযী, হা/২৮৮১)।


প্রশ্ন (৪৪) : আমার প্রশ্ন হল- অনলাইনে সার্ভে করে ইনকাম করলে তা হালাল হবে কি? অর্থা আমি বাংলাদেশের নাগরিক আমার লোকেশন বাংলাদেশ, কিন্তু ঐ কাজটা করতে গেলে আমার লোকেশন, নাম-পরিচয় এবং আমার দেশ সবকিছু (HIDE) লুকিয়ে কাজ করতে হয়। ধরুন; আমাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছু প্রশ্ন করল আমি অস্ট্রেলিয়ার লোকেশন এবং এড্রেস নিয়ে ঐ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, এর বিনিময়ে তারা আমাকে ডলার দিচ্ছে, এমন উপার্জন হালাল হবে নাকি হারাম হবে?

-আব্দুল মালেক

কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।

উত্তর: উপার্জন করার জন্য শর্ত হলো তা হালাল পন্থায় হওয়া। আর আপনি যে পন্থায় উপার্জন করছেন তার ভিতরে স্পষ্ট ধোঁকা রয়েছে। যেমন: (১) নিজের নাম গোপন রাখা (২) নিজের দেশ ব্যতিরেকে অন্য দেশের লোকেশন দেওয়া। (৩) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা ইত্যাদি। যা ইসলামে হারাম। আর এ ব্যাপারে রাসূল a বলেছেন, ‘যে আমাদের ধোঁকা দিবে সে আমাদের দলভূক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১; ইবনু মাজাহ, হা/২২২৪)। এছাড়াও তিনি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধোঁকা দিতে সর্ম্পূণভাবে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩; আবূ দাউদ, হা/৩৩৭৬)। উক্ত হাদীছদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ধোঁকাপূর্ণ উপার্জন বৈধ নয়। তাই আপনার উচিত হবে ধোঁকাপূর্ণ উপার্জন পরিহার করে সৎ পন্থায় উপার্জন করার চেষ্টা করা।


প্রশ্ন (৪৫) : আমার মামার মেয়ে শিশুকালে আমার মায়ের দুধপান করেছে কিন্তু আমার মায়ের পরিষ্কার মনে পড়ছে না সে কতবার দুধপান করেছে তবে আমার মা বলছেন, সম্ভবত দুই থেকে তিনবার পান করেছে। এমতাবস্থায় মামার মেয়েকে আমি বিবাহ করতে পারবো কি? উত্তরদানে বাধিত করবেন।

-নাসির হোসেন খান

ওয়েস্টবেঙ্গল, ভারত।

উত্তর: রাযাআত বা স্তন্যপান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হলো সর্বনিম্ন তা পাঁচ ঢোক হওয়া। আয়েশা g হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরআনে দশ বার দুগ্ধপানের মাধ্যমে হারাম হওয়ার বিষয়টি অবর্তীন হয়েছিল তবে পরবর্তীতে পাচঁবারের মাধ্যমে তা রহিত করে দেওয়া হয়। এরপর নবী a মৃত্যুবরণ করলে বিষয়টি এভাবেই থেকে যায় (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৫২; আবূ দাউদ, হা/২০৬২)। এছাড়াও তিনি বলেছেন, এক বা দুই চুষক দুগ্ধপান করানোর মাধ্যমে হারাম সাব্যস্ত হয় না (ইবনু মাজাহ, হা/১৯৪০; ইবনু হিব্বান, হা/৪২২৮)। দুগ্ধপান করানোর সময়সীমা হলো দুই বছর। যে সময়ে দুগ্ধপান করালে হারাম সাব্যস্ত হয়। আর দুধপান করানোর ক্ষেত্রে একবার বলতে যা বুঝায় তা হলো, শিশু স্থনে মুখ দিয়ে দুধ ঢোকে ঢোকে পান করা। এরপর আবার যদি সে গলাধঃকরণ করে তাহলে তা দ্বিতীয়বার বলে গন্য হবে। আর এমন ভাবেই পাঁচবার গলাধঃকরণ দুগ্ধপান হয়ে গেলেই হারাম সাব্যস্ত হয়ে যাবে। অতএব যদি আপনার মাতার এমনভাবে পাঁচবার গলাধঃকরণ হয়ে থাকে তাহলে হারাম সাব্যস্ত হবে নচেৎ আপনার জন্য বিবাহ করা হালাল হবে।


প্রশ্ন (৪৬) : আমি একজন ভাইয়ের রিকমেন্ডেশনে ড. শহিদ আব্দুল্লাহ আজ্জাম এর দুই খন্ডের ‘তাফসীরে সূরা তওবা’ নামক বইটি কিনে ছিলাম। প্রশ্ন হচ্ছেউনি কি হক্বের পথে ছিলেন? উনার এই বইটি কি পড়া যাবে?

 -মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান

পলাশ, নরসিংদী।

উত্তর: এই তাফসীরের বইটি আপত্তি থেকে খালি নয়। তাই এমন তাফসীর পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন (৪৭) : কুরআন ও হাদীছের ব্যাখ্যানুসারে তওবা কাকে বলে?

-ফারুক, রাজশাহী।

উত্তর: তওবা শব্দের আবিধানিক অর্থ হলো: প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। আর শরীআতের পরিভাষায় তওবা হলো: গুনাহ ছেড়ে দিয়ে নেকীর কাজের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাও, আর অনুশোচনাভরে তাঁর দিকেই ফিরে এসো (হূদ, ১১/৩)। তিনি আরো বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, খাঁটি তওবা’ (আত-তাহরীম, ৫৫/৮)। উল্লেখিত আয়াত ও অন্যান্য হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যে, তওবা কবূলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে- ১. পাপ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা ২. পূর্বকৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া ৩. ঐ পাপ দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সংকল্প করা। সুতরাং কেউ একনিষ্ট চিত্তে অনুশোচনাভরে কোনো পাপ বর্জন করে আল্লাহর নিকট যদি তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। ইনশা-আল্লাহ!


প্রশ্ন (৪৮) : পর্যায়ক্রমিক সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্তে সহবাসের সময় কি কনডম বা এই জাতীয় কোনো নিরোধ ব্যবহার করা যাবে? ইসলামে আযল পদ্ধতি কি জায়েয?

-সালাউদ্দীন

ভাসানটেক, ঢাকা।

উত্তর: গুরুতর কারণ যেমন- অসুস্থতা, মৃত্যুর আশঙ্কা ইত্যাদি ছাড়া অধিক সন্তানের ভরণ-পোষণের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা শরীআত পরিপন্থী কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা খাদ্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তাদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবিকা প্রদান করে থাকি’ (বানী ইসরাঈল, ১৭/৩১)। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘তোমরা অধিক প্রেমানুরাগিণী, অধিক সন্তান জন্মদানকারিণী মহিলাকে বিয়ে করো। কারণ আমি ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব’ (আবু দাঊদ, হা/২০৫০; নাসাঈ, হা/৩২২৭; মিশকাত, হা/৩০৯১, সনদ ছহীহ)। তবে স্ত্রী ও সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীর সম্মতিক্রমে আযল বা সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যায়। (ফৎহুল বারী নবম খন্ড হা/৫২০৯; শারহে মুসলিম হা/১৪৪০ ব্যাখ্যা দ্র.ব্য)। জাবের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কুরআন মাজীদ নাযিল হচ্ছিল তখন আমরা আযল করতাম (ছহীহ বুখারী, হা/৫২০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৪০; মিশকাত, হা/৩১৮৪)।


প্রশ্ন (৪৯) : যদি ভুল করে কেউ আমার মোবাইলে রিচার্জ করে দেয়, আর কোনো ভাবেই জানা না যায় যে কে রিচার্জ করে দিয়েছে, তাহলে এমন অবস্থায় আমার করণীয় কি?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: এমতাবস্থায় মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। খুঁজে পাওয়া না গেলে নিজে ব্যবহার করবে অথবা দান করে দিবে। (আশ-শারহুল মুমতে‘ ‘উছায়মীন’, ১০/৩৮৮; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ, ১১/২২৬; ইবনু তাইমিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৯/৩২১)। তবে, পরবর্তীতে যদি কখনো সে ব্যক্তি ফিরে আসে এবং তার পাওনা দাবী করে তাহলে, তাকে তা ফিরিয়ে দিতে হবে (লাজনা দায়েমা, ১৪/৪১)।


প্রশ্ন (৫০) : ব্যাংকের এলসি (LETTER OF CREDIT) কেনা-বেচা জায়েয কি?

-সাইদুর রহমান
কল্যাণপুর, ঢাকা।

উত্তর: আমদানিকারকের পক্ষে এবং রপ্তানিকারকের অনুকূলে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে আমদানিকারকের ব্যাংক যে পত্র ইস্যু করে তাকে এলসি বা LETTER OF CREDIT (প্রত্যয়পত্র) বলে। আমদানি-রপ্তানিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করার কারণে উভয়ের মধ্যে একটা আশংকা বিরাজ করে। ক্রেতা ভয় পায় পণ্য ঠিকঠাক মতো বুঝে পাবে কিনা আর বিক্রেতার ভয় থাকে মূল্য পাবে কিনা। এক্ষেত্রে ব্যাংক প্রদত্ত এই প্রত্যয়পত্র এমন এক গ্যারান্টি যার মাধ্যমে রপ্তানিকারক নিশ্চিত হতে পারে যে সে তার পণ্যের মূল্য পাবে। আবার আমদানিকারকও নিশ্চিত হতে পারে যে তার হাতে পণ্য না আসা পর্যন্ত কোনো লেনদেন সম্পন্ন হবে না। প্রত্যয়পত্র সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আমদানিকারকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ আদায় করে থাকে। তবে হারাম কোনো মালের ক্ষেত্রে এলসি কেনা জায়েয হবে না।


প্রশ্ন (৫১) : হোমিও ওষুধ খাওয়া যাবে কি? আমি একটা ওষুধ কিনেছি (NUX VOME 200) ওষুধটিতে ALCOHOL এর পরিমাণ ৯০ ভাগ। দয়া করে জানাবেন।

-মো. মহিদুল ইসলাম

বিসমিল্লাহ গোট ফার্ম, যশোর।

উত্তর: এই বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতের ভিন্নতা রয়েছে। কেননা অ্যালকোহল মূলত মদ। যা নিশ্চিতভাবে হারাম। তারেক ইবনু সুওয়াইদ আল জু‘ফী রাসূল a-কে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে তা ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করেন। তখন তিনি বললেন, আমরা তো এটা ঔষুধ হিসেবে করে থাকি? তিনি বললেন, এটা ঔষুধ নয়। বরং তা অসুখ’ (মুসলিম, হা/১৯৮৪)। তাছাড়া হারাম বস্তুর মধ্যে আল্লাহ কোনো আরোগ্য রাখেননি (ছহীহ বুখারী, তরজমাতুল বাব, ৭/১১০; সিলসিলা ছহীহা, ৪/১৭৫)। তাই হোমিও চিকিৎসা থেকে বিরত থাকাই ভালো। তবে যেহেতু এর মধ্যে অ্যালকোহলের পরিমাণ খুবই সামান্য থাকে, যা সেবনে নেশা সৃষ্টি হয় না, বিধায় অনেক বিদ্বান এটাকে জায়েয বলেছেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ১/২২/১১০)।