ঈমান-আক্বীদা


প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি একটি ঘরে বসবাস শুরু করার পর থেকেই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্ত হয়েছে আরো বড় বড় কয়েকটি মুছীবতে, যার কারণে সে এই ঘরে বসবাস করাকে অমঙ্গলের কারণ হিসাবে মনে করছে। তার জন্য কি ঘর ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছে?

-মুহাম্মাদ বিল্লাহ
ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো ব্যক্তির উপর কখনো কোনো বিপদ/মুছীবত আসে না। আল্লাহ বিভিন্ন সময় অনেক রকমের মুছীবত দ্বারা মুমিন বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ’ (আত-তাগাবূন, ৬৪/১১)। তিনি আরো বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’। (আল-বাকারা, ২/১৫৫-৫৬)। আয়াতদ্বয় দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, বিপদাপদ, বালা-মুছীবত একমাত্র আল্লাহর আদেশে এসে থাকে। আর এটি বান্দার জন্য একটি পরীক্ষা। কোনো বাড়ি, গাড়ি, নারী ইত্যাদির মাঝে অমঙ্গল, অকল্যাণ নেই। সায়েদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু উখতে নামির থেকে মারফূ‘সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূল a বলেছেন, ‘সংক্রামক ব্যধি বলতে কিছু নেই, ছফর মাসে অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেঁচার ডাকে কোনো অশুভ লক্ষণ নেই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৯১৯)। সুতরাং এ ঘরে বসবাস করার জন্য মুছীবতে পতিত হয়েছি এমনটি মনে করে ঘর ছাড়া যাবে না। কেননা এতে আক্বীদায় ত্রুটি হবে। তবে, সূরা বাক্বারা বা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়লে জিন ক্ষতি করতে পারবে না।

প্রশ্ন (২) : অনেকে কোনো বিপদে কিংবা কষ্টের মধ্যে পতিত হলে বলে থাকে যে, ‘আমার তাক্বদীর ভালো আছে, শুধু সময়টা খারাপ যাচ্ছে’ এরূপ কথা বলা যাবে কি?

-মুহাম্মদ বিল্লাল
ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: এরূপ কথা বলা যাবে না। কেননা, যার তাক্বদীরে যা লিখা আছে তা তার জীবনে ঘটবেই। ভাগ্যের ভালো মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের একটি রুকন। তা প্রতিহত করার কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘তোমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। আর তোমার জীবনে যা কিছু হাত ছাড়া হয়েছে তা তোমাদের জীবনে ঘটবার ছিল না’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৬৫১)। অতএব জীবনে যত বিপদাপদ আসবে তার জন্য বিচলিত না হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। আর ঘাবড়ে গিয়ে সময়কে গালমন্দ করা যাবে না। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, নবী করীম a বলেছেন, ‘তোমরা সময়কে গালমন্দ করো না। কেননা, আমিই সময় (তথা আমি সময়ের মালিক, আমি সময় পরিচালনা করি), আমি রাত ও দিন পরিবর্তন করি, (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৪৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯১২৬)।

প্রশ্ন (৩) : বর্তমানে ফেসবুক টুইটারসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে। যেখানে পাঁচ তারকা বা পাক-পাঞ্জাতন নামে একটি টুপি দেখানো হচ্ছে আর বলা হচ্ছে- সমস্ত ইসলামকে টুপির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাথে অন্যান্য ফযীলতের কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি কুরআন সুন্নাহর আলোকে জানতে চাই।

-মো. নোমান, রাজশাহী।

উত্তর: পাক-পাঞ্জাতন একটি ফারসী শব্দ। যার অর্থ পাঁচজন পবিত্র ব্যক্তি। এ শব্দটি ভ্রান্ত দল শিয়াদের আবিস্কৃত শব্দ। কুরআন হাদীছে এমন শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে মাজারপূজারী ভণ্ডরা একটি টুপি আবিস্কার করেছে। যার নাম দিয়েছে পাঁচ-তারকা টুপি। যে টুপির একপ্রান্তে একটি চাঁদ আছে আর চাঁদের সম্মুখে চারটি তারকা রয়েছে। তারা বুঝাতে চায়ছে যে, চাঁদটি হলো নবী, আর তারকাগুলো পর্যায়ক্রমে আলী, ফাতেমা, হাসান, হুসাইন n। তারা বিভিন্ন বক্তব্যে এই টুপি কেনার জন্য মানুষকে উদবুদ্ধ করছে। এমন কোনো টুপির নকশা রাসূল, ছাহাবী, তাবেঈ থেকে পূর্বের কোনো বিদ্বান থেকে পাওয়া যায় না। বরং এটি নিছক নবউদ্ভাবিত একটি বিষয়। যার মাধ্যমে সুকৌশলে মানুষের মাঝে ভ্রান্ত শিয়া আক্বীদার প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে। মানুষকে ঈমান হারা করা হচ্ছে। সুতরাং এমন টুপি ক্রয়-বিক্রয় করা থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী।

প্রশ্ন () : ফেসবুকে লাল-গাভী নিয়ে খুব পোস্ট করা হচ্ছে। এটা নাকি দাজ্জাল আগমনের আলামত। এ কথার সত্যতা কতটুকু?

-আফীফ রহমান, ঝালোকাঠি।

উত্তর: ইয়াহুদীদের ধর্মগ্রন্থের ভাষ্যমতে, কিয়ামতের পূর্বে একটি লাল-গাভীর জন্ম হবে। গাভীটির বয়স ৩ বছর হলে ইয়াহুদীরা সেই গাভীকে আগুনে জ্বালিয়ে সেই ছাই মেখে নিজেদেরকে পবিত্র করবে। অন্যথায় তারা পবিত্র হতে পারবে না। তাদের দাবী সে গাভী নাকি আমেরিকার একটি গো খামারে পাওয়া গেছে। তবে, ইসলামে একথার কোনো ভিত্তি নেই। কিয়ামতের পূর্বে এমন কোনো আলামত কুরআন-হাদীছে বর্ণিত হয়নি। অতএব এসব দাবী ও ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট।


পবিত্রতার বিধান


প্রশ্ন () : ওযূর অঙ্গসমূহ ধৌত করার সময় পরবর্তী অঙ্গ পূর্বে ধৌত করলে, পূনরায় নতুন করে ওযূ করতে হবে কি? যেমন হাত না ধৌত করে আগে পা ধৌত করা।

-তামিম আল-আমিন
টঙ্গি, গাজীপুর।

উত্তর: ওযূর অঙ্গসমূহ ধৌত করার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ তাআলা ওযূর অঙ্গ ধৌত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! যখন তোমরা ছালাতের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন (ছালাতের পূর্বে) তোমাদের মুখমন্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলিকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসাহ কর এবং পাগুলিকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল… (আল-মায়েদা, ৫/৬)। হাদীছ দ্বারাও ওযূর অঙ্গ ধৌত করার ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। যতো সংখ্যক ছাহাবী ওযূর হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাতে কোনো ছাহাবী ওযূর ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করেননি। আর রাসূলুল্লাহ a ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করেছেন এ মর্মে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব ওযূর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে ওযূ বাতিল হবে। এমন ওযূ দ্বারা ছালাত আদায় করে থাকলে, সে ছালাত পুনরায় পড়তে হবে।

প্রশ্ন (৬) : মনে হচ্ছে স্ত্রীর হায়েয শেষ হয়ে গেছে। এখন যদি সহবাস করার পর আবার রক্ত বা হায়েয দেখা যায়, তাহলে করণীয় কী?

-না প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর: ঋতুর নির্ধারিত সময় যা সাধারণত প্রথমবার ঋতুর পর ঘটে থাকে, তা থেকে পবিত্র হওয়ার দু’একদিন পর যদি আবার রক্ত দেখা যায়, তাহলে সেটা রোগজনিত কিংবা বাতিল রক্ত। হায়েযের রক্ত নয়। তাই এই রক্ত ধুয়ে ফেলে ছালাত, ছিয়াম, বায়তুল্লাহর তওয়াফ, স্ত্রী সহবাসসহ সকল কাজ করতে পারবে (লাজনা দায়েমা, ৫/৩৮৮)। তবে, স্বাভাবিক সময় পার না হওয়ার আগে স্ত্রী সহবাস করে থাকলে, কাফফারা দিতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস h হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে, তাহলে সে যেনো অর্ধ দ্বীনার ছাদাক্বা করে’ (তিরমিযী, হা/১৩৬; ইবনু মাজাহ, হা/৬৪০)। সুতরাং এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।


ছালাত


প্রশ্ন (৭) : ছালাতের জন্য কখন আযান দিতে হবে? ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেও নাকি আযান দিলে তা যথেষ্ট হবে?

-আবূ তাহের
বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর: ছালাতের সময় হলে আযান দিতে হবে। সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া যাবে না। কেননা ছালাতের সময় যেমন নির্ধারিত তদ্রূপ আযানের সময়ও নির্ধারিত। যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের পূর্বে আযান দেয় তাহলে সে আযান যথেষ্ট হবে না। বরং পুনরায় আযান দিতে হবে (আল মাজমূ‘ লিন-নববী, ৩/৮৯; আল-মুগনী, ১/২৯৭)। মালেক ইবনু হুয়াইরিছ c থেকে বর্ণিত, রাসূল a তাকে এবং তার সাথীদেরকে বললেন, ‘যখন ছালাতের সময় হবে তখন তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮১৮)। অত্র হাদীছ থেকে বুঝা গেল যে, সময় হলে আযান দিতে হবে। সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন (৮) : দুই সিজদার মাঝখানে যে দুআ পড়া হয়, সেটি ওয়াজিব, না-কি সুন্নাত?

-আব্দুল্লাহ, রাজশাহী।

উত্তর: দুই সিজদার মাঝে হাদীছে বর্ণিত দুআটি পড়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। ইবনু আব্বাস h বর্ণনা করেন যে, রাসূল a দুই সিজদার মাঝে বলতেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي ‘হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন, আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন’ (তিরমিযী, হা/২৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৪৫)। অন্য বর্ণনায় দুআটি এইভাবে রয়েছে رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاجْبُرْنِي، وَارْزُقْنِي، ‌وَارْفَعْنِي (ইবনু মাজাহ, হা/৮৯৮)।

প্রশ্ন (৯) : দুই সিজদার মাঝখানের দুআ পড়েছি কি পড়িনি এরূপ সন্দেহ হলে অথবা পড়তে ভুলে গেলে করণীয় কী, সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

-আব্দুল্লাহ, রাজশাহী।

উত্তর: দুই সিজদার মাঝের দুআ রাসূল a ছাহাবী n থেকে শুরু করে পরবর্তী ইমামগণ পাঠ করতেন। তাই গুরুত্ব সহকারে এই দুআ পাঠ করা উচিত। তবে কারণবসতঃ পড়তে না পারলে কিংবা ভুলবসতঃ ছুটে গেলে সাহু সিজদা লাগবে না। কেননা রাসূল a যেসকল কারণে সাহু সিজদা করেছেন এটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়। সাধারণত যে কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় তা হচ্ছে- ১. ছালাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সালাম ফেরালে ২. তাশাহহুদ ছুটে গেলে ৩. রাকআতে কম-বেশি হলে ৪. ছালাতের মাঝে সন্দেহ হলে (যাদুল মা‘আদ, ১/১৬৯ পৃ.)।

প্রশ্ন (১০) : আমি যে এলাকায় থাকি সে এলাকার অধিকাংশ মানুষ হানাফী মাযহাবের অনুসারী তাদের মসজিদে শুক্রবারে আযানের অনেক পর জুমআর খুতবা শুরু হয়। প্রশ্ন হলো- শুক্রবারে মসজিদে আগে যাবার যে ফযীলত, হানাফী মসজিদে কোন সময় গেলে আমি তা অর্জন করতে পারব?

-সুমন আহমেদ
হলুদ ঘর, নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর: বিশুদ্ধ হাদীছে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যারা সকাল সকাল মসজিদে গমন করে তাদের জন্য কুরবানীর নেকীর কথা বর্ণিত হয়েছে। (ছহীহ বুখারী, হা/৯২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫০; মিশকাত, হা/১৩৮৪)। তবে উক্ত বর্ণনায় সে সময়টি কখন থেকে শুরু আর কোন সময় থেকে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে কে কী কুরবানী করার নেকী পাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে উক্ত বর্ণনায় সময়ের নির্দিষ্ট ভাগ বুঝানো হয়েছে। সুতরাং প্রথম সময়ের মধ্যে যতজন প্রবেশ করবে, সবাই উট কুরবানীর ছওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় সময়ে যতজন প্রবেশ করবে, সবাই গরু কুরবানীর ছওয়াবের অধিকারী হবে। অন্যান্যগুলোর ক্ষেত্রে একই কথা। তবে এই সময়টা কীভাবে নির্ধারিত হবে, এ ব্যাপারে সঠিক কথা হল, সূর্যোদয় থেকে শুরু করে আযান পর্যন্ত এই সময়টুকুকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে যা হয়, তার প্রথম ভাগ হবে প্রথম সময়, দ্বিতীয় ভাগ হবে দ্বিতীয় সময়। এভাবে চলতে থাকবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল লি-ইবন উছায়মীন, ১৬/১৪০ পৃ.)। সুতরাং কেউ যদি সময় মতো মসজিদে যায় তাহলে সে এ ফযীলত পাবে যদিও তা হানাফী মসজিদ হয়।

প্রশ্ন (১১) : ছালাতের প্রথম বৈঠকে ভুলে দরূদ ও দুআ মাসূরা পাঠ করলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

-অভি সরদার, ঈশ্বরদী-পাবনা⁠।

উত্তর: সাধারণত যে কারণে সাহু সিজদা দিতে তা হচ্ছে- ১. ছালাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সালাম ফেরালে (অর্থাৎ কোনো কিছু ছুটে গেলে )ছহীহ বুখারী, হা/৪৬৮(। ২. তাশাহহুদ ছুটে গেলে )ছহীহ বুখারী, হা/৭৯৫( ৩. ছালাত কম-বেশি হলে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৮) ৪. ছালাতের মাঝে প্রবল ধারণামূলক সন্দেহ হলে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৯২; যাদুল মা‘আদ, ১/১৬৯ পৃ.; মাজমূউ‘ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ১৪/১পৃ.)। সুতরাং কেউ যদি ভুলে প্রথম বৈঠকে দরূদ, দুআ মাসূরা পাঠ করে ফেলে তাহলে তাকে এর জন্য সাহু সিজদা দিতে হবে না। উল্লেখ্য যে, প্রথম বৈঠকে দরূদ পাঠের বর্ণনাও হাদীছে পাওয়া যায়।

প্রশ্ন (১২) : টি শার্ট পরে ছালাত পড়া মাকরূহ অনুরূপ গুল খাওয়া, বিড়ি খাওয়া। আসলে মাকরূহ শব্দের অর্থ কি? আল-কুরআনে কিংবা ছহীহ হাদীছে এমন শব্দ আছে কি?

-বদরুদ্দোজা
কাজুলিয়া, গোপালগঞ্জ।

উত্তর: প্রথমত: টি শার্ট/গেঞ্জি পরে ছালাত আদায় করা মাকরূহ নয়। যদিও গলদেশের কিছু অংশ বের হয়ে থাকে। তবে এমন কোনো কাপড় পরে ছালাত আদায় করা যাবে না, যা পরিধান করলে কাঁধ খোলা থাকে। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘কাঁধ খোলা রেখে এক কাপড়ে তোমাদের কেউ যেন ছালাত আদায় না করে’। আর তিনি নিজেও এক কাপড়ে ছালাত আদায় করার সময় তা শরীরে এমনভাবে জড়িয়ে নিতেন যে, কাপড়ের দুই দিক তাঁর দুই কাঁধের উপর থাকত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫১৭; মিশকাত, হা/৭৫৪)। দ্বিতীয়ত: গুল, তামাক, বিড়ি খাওয়াও মাকরূহ নয় বরং তা স্পষ্ট হারাম। কেননা এসব নেশাদার দ্রব্য। আর সকল প্রকারের নেশাদার দ্রব্য হারাম। রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘প্রত্যেক নেশাদার বস্তুই হারাম’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৮৭; মিশকাত, হা/৩৬৫২)। উল্লেখ্য যে, মাকরূহ শব্দটি কুরআন ও হাদীছে একেক স্থানে একেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো হারাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে আবার কখনো অপছন্দনীয়, মন্দ ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন সূরা আল-ইসরা ৩৮ নং আয়াতে হারাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে অধিকাংশ সময় হারাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়েদ ‘ইবনুল ক্বায়্যুম’ ৪/৬ পৃ.)।

প্রশ্ন (১৩) : আমরা জানি যে, দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নাত। কিন্তু জনৈক আলেমকে এক সম্মেলনে বসে খুতবা দিতে দেখলাম। এটা শরীআতসম্মত কি?

-নাজমুল ইসলাম
জামতলা, শার্শা, যশোর।

উত্তর: দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে হবে। বসে খুতবা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। রাসূল a দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। মাঝে বসে দুই খুতবার মাঝে পার্থক্য করতেন। জুমআর সম্পূর্ণ খুতবা তিনি কখনো বসে দেননি। জাবের ইবনু সামুরা c হতে বর্নিত, রাসূল a প্রথমে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এরপর বসতেন। এরপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। অতএব যে তোমাকে সংবাদ দিবে যে, তিনি বসে খুতবা দিতেন সে মিথ্যা বলেছে (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬২)। আবূ ক্বাতাদা c হতে বর্ণিত, নবী কারীম a, আবূ বকর, উমার ও উছমান n তাঁরা সবাই জুমআর দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এমনকি উছমান c-এর উপর দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়লে তিনি (কিছু সময়) বসার পর আবারো দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর মুআবিয়া c প্রথম খুতবা বসে দিতেন এবং দিতীয় খুতবা দাঁড়িয়ে। এই হাদীছ থেকে সম্পূর্ণ খুতবা বসে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং অপারগতা জনিত কারণে কিছুক্ষণ বসেছেন এমনটি বুঝা যায়। (ফাতহুল বারী লি ইবনি হাজার, ২/৪০১)। সুতরাং দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে হবে এটিই বিধিবদ্ধ সুন্নাত। ছহীহ হাদীছের সামনে এমন অজুহাত চলে না।

প্রশ্ন (১৪) : কেউ যদি যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার ছালাত যথা সময়ে জামা‘আতে আদায় করে কিন্তু ফজরের ছালাতে নিয়মিত জামাআত ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে যোহরের আগে অথবা পরে অথবা অন্য কোনো সময়ে তা আদায় করে নেয়; তবে তার বিধান কি হবে?

-মুহাম্মাদ আল ইমরান
সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা।

উত্তর : অলসতা বসত ওয়াক্তে ছালাত আদায় না করে ক্বাযা করা নিঃসন্দেহে কাবীরা গুনাহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব সেই ছালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজদের ছালাতে অমনোযোগী’ (আল-মাউন, ১০৭/৪-৫)। হাদীছে ফজরের ছালাত সময়মতো আদায় না করাকে মুনাফিকের আলামত বলা হয়েছে। রাসূল a বলেন, ‘নিশ্চয় মুনাফিক্বের জন্য সবচেয়ে ভারী ছালাত হলো, এশা এবং ফজরের ছালাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫২)। সুতরাং এমন ব্যক্তি কাবীরা গুনাহগার। তাকে তওবা করে ছালাতে মনযোগী হতে হবে এবং এমন অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।

প্রশ্ন (১৫) : পরে পড়ব ভেবে বিতর ছালাত রেখে দেওয়ার পর আদায়ের আগে মাসিক আরম্ভ হলে করণীয় কী? মাসিক শেষে কি ক্বাযা আদায় করতে হবে। ক্বাযা করতে হলে পদ্ধতি কী?

-আব্দুন নূর
সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর: রক্তস্রাব তথা মাসিকের রক্ত দেখা গেলে ছালাত পড়া নিষেধ। মাসিকের পূর্বের কোনো ছালাত যদি ক্বাযা থেকে থাকে, তাহলে তা মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর আদায় করতে হবে। রাসূল a বিতর ছালাতের ক্বাযা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই হায়েযের শেষে পবিত্র হয়ে বিতর ছালাত আদায় করা উত্তম। আবূ সাঈদ খুদরী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিদ্রা বা ভুলের কারণে বিতরের ছালাত আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয় (আবূ দাউদ, হা/১৪৩১; সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী, হা/৪৫৯৩)। আয়েশা g বলেন, ’যখন রাসূলুল্লাহ a-এর রাতের ছালাত (তাহাজ্জুদ) কোনো ব্যথা-বেদনা অথবা অন্য কোন কারণে ছুটে যেত, তখন তিনি দিনে বার রাকআত ছালাত পড়ে নিতেন’ (ইবনু হিব্বান, হা/৭৩১৪; শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী, হা/৯৮৭)। অত্র হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, ‍সুন্নাত ছালাতেরও ক্বাযা আদায় করা যায়।


মসজিদ


প্রশ্ন (১) : মসজিদে মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: আনুগত্যমূলক কাজের ক্ষেত্রে মসজিদেও মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। যেমন: কুরআন ও যিকির-আযকার পড়ার জন্য। তবে যদি কোনো নাফরমানীমূলক ক্ষেত্রে হয় তাহলে অবশ্যই মোবাইল চালানো হতে বিরত থাকতে হবে। কারণ রাসূল a বলেছেন, ‘মসজিদসমূহ শুধু আল্লাহর যিকির, ছালাত ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্যই সিমাবদ্ধ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৭)।

প্রশ্ন (১৭) : মেহরাববিশিষ্ট মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?

-মোস্তফা কামাল

উত্তর: মেহরাববিশিষ্ট মসজিদে ছালাত আদায় করাতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা ছালাত হবে না মর্মে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। যদিও মসজিদে মেহরাব করা যাবে কিনা এ নিয়ে বিদ্বানগণের মাঝে মতোভেদ রয়েছে (লাজনা দায়েমা, ৬/২৫২-৫৩ পৃ. মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, প্রশ্ন নং, ৩২৬)।

বিবাহতালাক

প্রশ্ন (১৮) : মোহরানার টাকা বিবাহের সময় কার কাছে দিতে হবে এবং কখন দিতে হবে?

-সাজু

রংপুর।

উত্তর: মোহরানার অর্থের হকদার স্ত্রী। সুতরাং স্ত্রীকে দিতে হবে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদেরকে মোহরানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহরানা দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও’ (আন-নিসা, ৪/৪)। উকবা ইবনু আমের c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘শর্তাবলীর মধ্যে যা পূরণ করার অধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছো’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৭২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১৮)। স্ত্রী তার ইচ্ছেমতো সে টাকা থেকে স্বামীকে কিছু ছাড় দিতে পারে, দান-ছাদাক্বা করতে পারে, সংসারের কাজে খরচ করতে পারে (প্রাগুক্ত আয়াত)। উল্লেখ্য যে, বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী যখন একাকীত্ত্বে যাবে তখন স্বামী তার স্ত্রীকে মোহরানার টাকা বুঝিয়ে দিবে। সমাজে প্রচলিত বিবাহের সময় যে মোহরানা দেওয়া হয় সেটিও করা যায়।

প্রশ্ন (১৯) : যে পুরুষের স্ত্রী নেই সে হল, মিসকিন আর যে নারীর স্বামী নেই সে হল, মিসকিনা এ হাদীছটি কি ছহীহ?

-আব্দুর রহমান

ওয়েস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া।

উত্তর: এ কথা মিথ্যা ও বানোয়াট। কেননা হাদীছ শাস্ত্রে এমন কোনো হাদীছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং এটি লোক মুখে প্রচলিত একটি কথা মাত্র (আহাদীছুল ক্বছাছ, ‘ইবনু তাইমিয়্যা’ ৩১-৩০ পৃ.)।

প্রশ্ন (২০) : এক ব্যক্তি বড় বোনকে বিবাহ করার এক বছর পর স্ত্রীর ছোট বোনকে বিবাহ করে। তাহলে বড় বোন কি অটোমেটিক তালাক হয়ে যাবে, না-কি ছোট বোন তালাক হবে?

-ফয়সাল আহমেদ

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর: এমন দুইজন নারীকে এক সাথে একজন পুরুষ বিবাহ করতে পারবে না; যাদের একজনকে পুরুষ অপরজনকে নারী ধরে তাদের মাঝে বিবাহ বৈধ হয় না। যেমন: ২জন আপন বোনকে এক সাথে বিবাহ করা। কেননা তাদের একজনকে পুরষ ধরে নেওয়া হলে, তারা ভাই-বোন হয়ে যায়। সুতরাং আপন দুইবোনকে একসাথে একজন পুরুষ বিবাহ করতে পারবে না। এটি হারাম। মহান আল্লাহ একত্রে দুই বোনকে (বৈবাহিক সম্পর্ক রাখাকে একজন পুরুষের জন্য হারাম করেছেন (আন-নিসা, ৪/২৩)। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত আছে, কোন মহিলাকে তার ফুফুর সাথে অথবা ফুফুকে তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে অথবা কোন মহিলাকে তার খালার সাথে অথবা খালাকে তার বোনের মেয়ের সাথে এবং ছোট বোনের সাথে বড় বোনকে এবং বড় বোনের সাথে ছোট বোনকে একত্রে (সতীনরূপে) বিয়ে করতে রাসূলুল্লাহ a নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী, হা/১১২৬; আবূ দাউদ, হা/২০৬৫; নাসায়ী, হা/৩২৯৮)। অতএব বড় বোন বিবাহ বন্ধনে থাকাকালীন সময়ে যে ছোট বোনকে বিবাহ করা হয়েছে তা বিবাহ হয়নি। বরং বড় বোন এখনো বিবাহ বন্ধনে রয়েছে। দ্রূত ছোট বোনের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। আর যা হয়েছে তাতে ছোট বোনের সাথে যেনার সম্পর্ক হয়েছে।

প্রশ্ন (২১) : মেয়ের বাবার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিন্তু মেয়ের বাবা ছেলের অভিভাবক ছাড়া বিবাহ দিতে রাজি হচ্ছে না। আবার ছেলের অভিভাবকও ছেলেকে এই সময়ে বিয়ে দিতে চাচ্ছে না, তাদের অজুহাত হলো, ছেলের ইনকাম কম, বিবাহের বয়স হয়নি, পড়াশুনা শেষ করে তারপর বিবাহ করাবে ইত্যাদি। যদিও ছেলে বিবাহের উপযুক্ত (বয়স ২৩+) এবং আর্থিকভাবে কিছুটা হলেও সামর্থ্যবান, ভাল ইনকামের চেষ্টা করছে। আমরা জানি, মেয়ের অভিভাবক ছাড়া বিবাহ বিশুদ্ধ হয় না। এরকম অবস্থায় ঐ ছেলের করণীয় কি হতে পারে? এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে কিভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে?

 -মো. রেজাউল ইসলাম রানা

কাশিমপুর,গাজীপুর।

উত্তর: ছেলের বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি থাকা ভালো তবে জরুরি নয়। ছেলে সাবালক হলে অভিভাবক ছাড়াও বিবাহ করতে পারে। তবে মেয়ের জন্য অভিভাবক আবশ্যক। অভিভাবক ছাড়া মেয়ে বিবাহ করলে তার বিবাহ বাতিল হবে। আয়েশা g বলেন, রাসূল a বলেছেন, কোন মহিলা যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিবাহ করে, তাহলে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল (তিরমিযী, হা/১১০২; মিশকাত, হা/৩১৩১)। সুতরাং মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি নিয়েই বিবাহ করতে হবে। সম্মতি না হলে অন্য কোনো দ্বীনদার মেয়েকে খুঁজতে হবে।

প্রশ্ন (২২) : নতুন বউ দেখতে এসে টাকা দেওয়ার বিধান কি?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: বিয়ের আগে কনেকে দেখে নেওয়া বিধেয়। যাতে পছন্দ-অপছন্দ করার মতো সুযোগ হাতছাড়া না হয়ে যায়। প্রিয় নবী a বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো রমণীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে, তবে তা দূষণীয় নয়, যদিও ঐ রমণী তা জানতে না পারে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৬৫০; সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৭)। অত্র হাদীছে বিবাহের পূর্বে পাত্রি দেখার বৈধতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তাকে দেখতে এসে টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এভাবে টাকা দেওয়া ঠিক নয়। না দিলে আবার অনেকে সমালোচনা করে থাকে এটিও ঠিক নয়। এটা একটি সামাজিক কুসংস্কার। যা বিধর্মীদের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে। সুতরাং এমন আমল পরিহার করা একান্ত কর্তব্য।

প্রশ্ন (২৩) : জনৈক ব্য‌ক্তির বিবা‌হের সময় না বুঝার কার‌ণে সা‌ধ্যের চে‌য়ে অনেক বে‌শি মোহরানা ধার্য করে। আজও তি‌নি ওই মোহরানা প‌রি‌শোধ কর‌তে পা‌রেননি। এখন স্বামী-স্ত্রীর সম্ম‌তিতে উক্ত মোহরানার প‌রিমাণ কম করা যাবে কি? যা‌তে স্বামী তা প‌রিশোধ কর‌তে সক্ষম হয়।

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর: বিবাহের ক্ষেত্রে অল্প মোহরানা ধার্য করাই উত্তম (মুসতাদরাকে হাকেম, হা/২৭৪২; সুনানুল কুবরা, হা/১৪৩৩২)। তবে কেউ যদি না বুঝার কারণে বিবাহতে বেশি মোহরানা ধার্য করে ফেলে এবং তা পরিশোধ করতে সক্ষম না হয়। এমন ক্ষেত্রে তার স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে তার মহর কমাতে রাযি হয় তাহলে, এতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ বলেন, ‘…তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা সম্ভোগ করেছো, তাদেরকে তাদের ধার্যকৃত মোহর প্রদান কর। তোমাদের প্রতি কোনো গুনাহ নেই মোহর ধার্যের পরও তোমরা উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে মোহরের পরিমাণে হেরফের করলে, নিশ্চয় আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত ও পরম কুশলী’ (আন-নিসা, ৪/২৪)।

প্রশ্ন (২৪) : এমন কিছু কথা আছে যেগুলো বিবাহের আগে বললে নাকি বিবাহের পর স্ত্রী এমনিতেই তালাক হয়ে যায়। অর্থাৎ কেউ যদি বলে, আমি যতবার বিবাহ করব প্রত্যেকবার আমার বউ তালাক। এক্ষেত্রে কি বিবাহ করার সাথে সাথে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?

-সুমাইয়া খাতুন

কাজিপুর গান্ধাইল, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর: এভাবে শর্ত করে বিবাহ করা জায়েয নয়। আর বিবাহের পূর্বে তালাক দেওয়ার বিধান ইসলামী শরীআতে নেই। রাসূল a বলেন, ‘বিয়ের আগে তালাক নেই’ (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৮; মিশকাত হা/৩২৮১; ইরওয়া হা/২০৬৮, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, ‘যে বস্ত্ত স্বীয় মালিকানায় নেই সেই বস্ত্ততে আদম সন্তানের মানত হয় না। যে (দাস) স্বীয় মালিকানায় নেই তাকে আযাদ করা যায় না। যে (স্ত্রীলোক) স্বীয় অধিকারে নেই তাকে তালাক দেওয়া যায় না’ (তিরমিযী হা/১১৮১; মিশকাত হা/৩২৮২; ছহীহাহ হা/২১৮৪)। এ ব্যাপারে আলী c-সহ প্রায় ২৫ জন ছাহাবী ও তাবেঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বিয়ের পূর্বে তালাক বর্তায় না’ (ছহীহ বুখারী ১৭/৪২৭; মুগনী ৯/৫২৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২০/১৯১)। সুতরাং বিবাহের পূর্বে যতবার বলুক আর যেভাবেই বলুক পূর্বের তালাকের কারণে বিবাহের পর স্ত্রী তালাক হবে না।

উল্লেখ্য যে, মুয়াত্ত্বা মালেকে বর্ণিত ইবনু মাসঊদ c-এর উক্তি ‘বিবাহের পূর্বে কারো নাম বা গোত্রের নাম উল্লেখ করে কেউ যদি বলে অমুক তালাক তাহলে বিবাহের পর তালাক হয়ে যাবে’ মর্মের বর্ণনাটি মুনকাতে‘ (যঈফ) হওয়ায় আমলযোগ্য নয় (মুয়াত্ত্বা মালেক হা/১২১৫, ১২৭৫; জামেঊল উছূল ফী আহাদীছির রাসূল, তাহকীক আব্দুল কাদের আরনাউত হা/৫৭৭০)।

হালাল-হারাম

প্রশ্ন (২৫) : কোম্পানিতে প্রভিডেন্ড ফাণ্ডের যে টাকা দেওয়া হয়। তা মূলত বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেটে নেওয়া টাকাসহ তার সমপরিমাণ টাকা অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হয়। এ টাকা নেওয়া যাবে কি?

-মো. আহমেদ

কালিয়াকৈর, গাজিপুর।

উত্তর: চাকুরীর ক্ষেত্র যেমন: কোনো ফ্যাক্টরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোনো কোম্পানি ইত্যাদি যদি সূদমুক্ত লেনদেন করে থাকে এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে কর্মচারীদের সম্মতিতে মাসিক বেতনের একটি নির্দিষ্ট পার্সেন্ট কেটে রেখে দেয় এবং চাকুরী সমাপ্তির সময় তার সাথে ঐ কোম্পানি নিজের পক্ষ থেকে সে পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয় তা গ্রহণ করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এই অর্থকে যদি চক্রবৃদ্ধিহারে সূদে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয়, তাহলে মূল টাকা ব্যতীত অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা যাবে না। কেননা তা স্পষ্ট সূদ। ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। তাই এই সূদ থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী।

প্রশ্ন (২৬) : অনলাইনে খ্রিস্টধর্মের বই লিখে আয় করা কি হালাল হবে?

-মো. আব্দুর রউফ মন্ডল

কালাই, জয়পুরহাট।

উত্তর: না, হালাল হবে না। কেননা ইসলামের আগমনের পর বাকি সকল ধর্ম রহিত এবং বাতিল হয়ে গেছে। আর তারা তাদের ধর্মকে বিকৃত করেছে এবং তারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী। মহান আল্লাহ বলেন, ইয়াহুদীরা বলে, উযায়ের আল্লাহর পুত্র, আর খ্রিষ্টানরা বলে, মাসিহ (ঈসা) আল্লাহর পুত্র। এসবই তাদের মুখের বানানো কথা…(আত-তওবা, ৯/৩০)। আর ইসলাম আসার পর পূর্বের সকল ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং বর্তমান ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের প্রচার-প্রসারে সহযোগিতা করা যাবে না। শুধু ইসলামের দিকেই জাতিকে ডাকতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। জাবের c হতে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব c তাওরাতের একটি নুসখা/কপি নিয়ে রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটি তাওরাতের একটি নুসখা। তখন (একথা শুনে) তিনি চুপ করে থাকলেন। তখন উমার c তা পাঠ করতে শুরু করলেন এবং এতে রাসূলুল্লাহ a-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তখন (তা দেখে) আবূ বকর c বললেন, সন্তানহারা শোক তোমাকে আচ্ছন্ন করুক! তুমি কি রাসূলুল্লাহ a-এর চেহারার দিকে তাকাওনি? তখন উমার c রাসূলুল্লাহ a-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি আল্লাহর নিকট আল্লাহর গযব ও তাঁর রাসূলের ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে ও মুহাম্মদ a-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ a বললেন, ‘যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, সেই সত্তার কসম! আজ যদি মূসাও প্রকাশিত হতেন আর তোমরা তাকে অনুসরণ করতে এবং আমাকে পরিত্যাগ করতে, তবে অবশ্যই তোমরা সরল-সোজা পথ হতে বিচ্যুত হতে। আর যদি তিনি জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুয়তী সময় পেতেন, তবে তিনি অবশ্যই আমার অনুসরণ করতেন’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৬৪৬১)। অত্র আয়াত ও হাদীছ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, ইসলামের আগমণের পর অন্য সকল ধর্ম বাতিল। সর্বপরি অন্য ধর্মের প্রচার-প্রসার অন্যায় কাজে সহযোগিতার শামিল যা স্পষ্ট হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরস্পর কল্যাণ ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করো, পাপ ও সিমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না (আল-মায়েদা, ৫/২)।

প্রশ্ন (২৭) : আমি এক ঠিকাদার থেকে কাজ চুক্তিতে নিয়েছি। আমাদের চুক্তি পত্র করা আছে। কিন্তু আমার লাভ বেশি হলে তিনি দেন না। এই রকম অবস্থায় আমি কি যেকোনো উপায়ে খরচ বেশি দেখিয়ে নিতে পারব? এটা কি আমার জন্য হালাল হবে?

-মো. আল-আমিন

ভবানীপুর, গাজিপুর সদর, গাজিপুর।

উত্তর: চুক্তিপত্র অনুযায়ী যে শর্ত করা হয়েছে তা অবশ্যই পুরণ করতে হবে। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘মুসলিমরা নিজেদের (চুক্তিপত্রের) শর্তসমূহ পালন করতে বাধ্য (আবূ দাউদ, হা/৩৫৯৪; বায়হাক্বী ছুগরা, হা/২১০৬)। সুতরাং লাভ বেশি হলে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করা চুক্তি ভঙ্গের শামিল। এক্ষেত্রে ঠিকাদার দায়ি হবে এবং কাবীরা গুনাহের ভাগিদার হবে। এমন চুক্তি ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আবার এমন পরিস্থিতিতে গোপন উপায়ে খরচ বেশি দেখিয়ে টাকা বেশি নেওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না। কেননা এমন কর্ম মিথ্যা ও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত যা স্পষ্ট হারাম। ইবনু উমার এবং আবূ হুরায়রা n থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, …‘আর যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১; ইবনু মাজাহ, হা/২২২৫)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। আর ধোঁকাবাজ ও চালবাজ জাহান্নামে যাবে (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/২৬৮৪; আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/১০২৩৪)।

প্রশ্ন (২৮) : আমি পুজায় যাই না; তবে প্রতিবেশী হিন্দুরা তাদের পুজা উপলক্ষে তৈরিকৃত নাড়ু বা মিষ্টান্ন বাসায় দিয়ে যায়। এসব খাদ্যবস্তু কি হালাল?

-আরমান আবীর

চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর: হিন্দুদের পুজা উপলক্ষ্যে যে সকল খাবার তৈরি করা হয় তা খাওয়া যাবে না। কেননা এর মাধ্যমে শিরকের কাজে সহযোগিতা করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। তবে হিন্দুদের অন্যান্য হাদিয়া গ্রহণ করা যায়। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূল ছা.-কে ছাগলের গোস্ত হাদিয়া দেওয়া হয়ে ছিল যার মধ্যে বিষ মেশানো ছিল। বিশিষ্ট ছাহাবী আবূ হুমায়েদ c বলেন, আয়লার শাসক রাসূল ছা.-কে একটি সাদা খচ্চর হাদিয়া দিলেন আর আল্লাহর রাসূল a তাকে চাদর দান করলেন এবং এলাকা তারই জন্য লিখে দিলেন (ছহীহ বুখারী, অধ্যায়-২৭)। এছাড়াও রাসূল a একজন মুশরিকা নারীর চামড়ার তৈরি পাত্রে পানি নিয়ে ওযূ করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৫)।

প্রশ্ন (২৯) : কবরস্থানে জন্মানো গাছ থেকে কিছু খাওয়া যাবে কি? কবরস্থানে বসবাস করে এমন প্রাণী খাওয়া যাবে কি? যেহেতু এসব খাদ্যের মূল উৎস মৃত মানুষ।

-মুহাম্মদ বিল্লাল

ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: কবরস্থানে জন্মানো গাছের ফল, শাক-সবজি খাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই; যদি তা হালাল হয়। কারণ রাসূল a মদিনায় গিয়ে যখন মসজিদে নববী তৈরি করেন তখন সেখানে মুশরিকদের কবর, খেজুর গাছ ও ধ্বংসস্তূপ ছিল। অতপর কবরগুলো খনন করে স্থানান্তরিত করা হয়, খেজুর গাছগুলোকে কেটে মসজিদের কেবলা বানানো হয় এবং ধ্বংসস্তুপগুলোকে সমান করা হয় (নাসাঈ, হা/৭১০)। উক্ত হাদীছে বুঝা যায় যে, মৃতের হাড়-হাড্ডি অপবিত্র হলেও কবরের মাটি পবিত্র। তাই আল্লাহর রাসূল a সেখানে মসজিদ স্থাপন করেছেন। অনুরূপভাবে কবরের মাটিতে উৎপাদিত গাছ, ষাক-সবজি হতে ফল খাওয়া এবং হালাল প্রাণী বসবাস করলে তার গোস্ত ভক্ষণ করা বৈধ হবে। তবে তাতে কোনো ধরনের কল্যাণ-অকল্যাণের ধারণা ও বরকতের আশা করা যাবে না। তবে, সরকারী কবরস্থান হলে, ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে পারবে না।

প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তির পিতার সূদী ব্যাংকে ৩৯ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। পিতার মৃত্যুর পর তার সন্তান এই টাকার মালিক হবে। পিতার মৃত্যুর পর এই টাকা সন্তানের জন্য শরীআতের দৃষ্টিতে ভোগ করা জায়েয হবে কি?

-মো. মিনহাজ পারভেজ

হড়গ্ৰাম, রাজশাহী।

উত্তর: জী, তার পিতার অর্জিত যে পরিমাণ টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় রয়েছে; সে তার মৃত্যুর পর ওয়ারিছ সূত্রে গ্রহণ করতে পারে। কারণ তা তার প্রাপ্য অধিকার। রাসূল a বলেন, আমি মুমিনদের অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং কেউ মৃত্যুবরণ করার সময় পরিশোধ করার মতো কোন সম্পদ যদি সে না রেখে যায় তাহলে, তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার উপর। আর যদি সম্পদ রেখে মৃত্যুবরণ করে তাহলে, সে সম্পদ তার ওয়ারিছদের জন্য (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৫০)। তবে তার পিতার সঞ্চয়কৃত টাকার উপর যে পরিমাণ সূদ হিসেবে বর্ধিত হয়েছে তা গ্রহণ করতে পারবে না। কেননা তা স্পষ্ট হারাম। তাই সঞ্চয়িত টাকার অতিরিক্ত টাকা ছওয়াবের নিয়্যত ছাড়া ফক্বীর-মিসকীনকে দিয়ে দিবে অথবা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দিবে (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১৯/২৬৮ পৃ.)।

কুরআন সংক্রান্ত বিষয়াবলী

প্রশ্ন (৩১) : কুরআনুল কারীমে কি মানসূখ বা রহিত হওয়া আয়াত আছে? রহিত বা মানসূখ হওয়া আয়াত থাকলে সেগুলো বাদ দিয়ে কেন কুরআনুল কারীম সংকলন করা হয়নি? আর এই আয়াতগুলো কোন সূরার কত নং আয়াত?

-আব্দুল্লাহ হাসিব

বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর: মানসূখ অর্থ হলো- পরবর্তী হুকুম দ্বারা পূর্বের কোনো হুকুমকে তুলে নেওয়া। যে হুকুম তুলে নেওয়া হয়েছে, তৎসংশ্লিষ্ট আয়াতকে কুরআনে বলবৎ রেখে দেওয়ার হিকমত হচ্ছে, প্রথমত, কুরআনের উদ্দেশ্য যেমন তার হুকুম-আহকাম জেনে তার প্রতি আমল করা, তদ্রূপ তা তেলাওয়াত করার মাধ্যমে নেকী অর্জন করাও কুরআনের একটি উদ্দেশ্য। তাই মানসূখ আয়াতগুলো রেখে দেওয়ার মাধ্যমে তেলাওয়াতের ফযীলত পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মানসূখের মাধ্যমে সাধারণত পূর্বের কঠিন হুকুমকে হালকা করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি আল্লাহর যে করুণা ও দয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, মানুষ যেন তা স্মরণ করে সে কারণে আয়াতগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে (দেখুন, আল বুরহান ফী উলূমিল কুরআন, ২/৩৯)। আবার কখনো হালকা থেকে কঠিন বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমনটা মদপানের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এক্ষেত্রে রহিত আয়াতগুলো রেখে দেওয়ার হিকমত হলো, কোনো কঠিন বিধান দেওয়ার সময় ক্ষেত্রবিশেষে ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে হয়, এ কথা মানুষকে শিখিয়ে দেওয়া। রহিত আয়াতগুলোর কয়েকটি উল্লেখ্য করা হল- ১. সূরা আল-বাক্বারা, ১০৯, ২. সূরা আন-নিসা, ৪৩ ইত্যাদি।

প্রশ্ন (৩২) : আল-কুরআনে মুহকাম ও মুতাশাবিহ আয়াত বলতে কি বুঝায়?

-মুহাম্মদ বিল্লাল

ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো দুই ধরনের। ১. محكم স্পষ্ট অর্থবোধক আয়াত, ২. متشابه অস্পষ্ট অর্ধবোধক আয়াত (যার অর্থ মানুষ বোঝে না)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সে সত্ত্বা যিনি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন। (এ কিতাবে দু ধরনের আয়াত রয়েছে), এর কিছু হচ্ছে (সুস্পষ্ট) দ্ব্যর্থহীন আয়াত, সেগুলো কিতাবের মৌলিক অংশ, বাকি আয়াতগুলো হলো অস্পষ্ট… (আলে ইমরান, ৩/১)। যে আয়াতের ব্যাখ্যা এবং অর্থ স্পষ্ট তাকে আয়াতে মুহকাম বলে। আর যে আয়াতের জ্ঞান কারো জানার উপায় থাকে না তাকে আয়াতে মুতাশাবেহ বলা হয়। যেমন: কিয়ামত কবে হবে, ইয়াযুয-মাযুয ও দাজ্জাল কবে আত্মপ্রকাশ করবে, ঈসা e কবে দুনিয়ায় অবতরণ করবে, হরফে মুকাত্বআতের অর্থ ইত্যাদী বিষয়গুলো অস্পষ্ট (তাফসীরে কুরতুবী, আলে ইমরান, ৩/৭ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)।

হাদীছ সংক্রান্ত বিষয়াবলী

প্রশ্ন (৩৩) : আবূ দাঊদে বর্ণিত এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে কুরআনকে মধুর সূরে পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-মুহাম্মদ বিল্লাল

ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীছের ইবারত হলো-

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ «لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ».

অর্থ আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে কুরআন ‍সুললিত কণ্ঠে পাঠ করে না’ (আবূ দাউদ, হা/১৪৬৯)। এ হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী এবং খাত্বাবী q বলেন, এর দুটি ব্যাখ্যা আছে, ১. সুন্দর কণ্ঠে তেলাওয়াত করা, ২. অন্যকে তেলাওয়াত শুনানো (শরহুন নববী, ৬/৭৯ পৃ.; আওনুল মা‘বূদ, ৪/২৪১ পৃ.)। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী তার মিরকাত নামক গ্রন্থে ‘সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ -এর ব্যাখ্যায় বলেন, সে আমাদের সুন্নাতের পূর্ণ অনুসারী নয় (মিরকাতুল মাফাতীহ, হা/২১৯৪, ৪/১৪৯৮)। সুতরাং এই হাদীছের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ হলো, সে ব্যক্তি আমাদের সুন্নাতের পূর্ণ অনুসারী নয় যে কুরআন সুন্দর কণ্ঠে ও অন্যকে শুনিয়ে তেলাওয়াত করে না।

প্রশ্ন (৩৪) : ইমাম আবূ হানীফা p নাকি ১০ লক্ষ হাদীস মুখস্ত করেছেন এটা কতটুকু সঠিক?

-বাক্বী বিল্লাহ

কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর: আবূ হানীফা p একজন প্রসিদ্ধ ইমাম। ফিক্বহের ক্ষেত্রে তার পাণ্ডিত্ব্য অনেক বেশি ছিল। ইমাম শাফেঈ p বলেন, ‌النَّاسُ ‌عِيالٌ ‌فِي ‌الْفِقهِ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ ‘ফিক্বহের ক্ষেত্রে মানুষ আবূ হানীফার মুখাপেক্ষী’ (তাযকেরাতুল হুফফায, ১/১৬৮)। কিন্তু তিনি হাদীছের চেয়ে রায় তথা যুক্তি দিয়ে সমাধান বেশি সমাধান করতেন। যার কারণে তার অনেক মাসআলা ছহীহ হাদীছের উল্টো হয়ে যায়। তবে তিনি ১০ লক্ষ হাদীছের হাফেয ছিলেন এই কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর হাদীছের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। ইমাম ইবনুল মুবারক হাদীছের ক্ষেত্রে তাঁকে মিসকীন বলে অভিহিত করেছেন (ইবনু আবী হাতেম, আল জারহু ওয়াত তা‘দীল, ৮/৪৫০)।

সালামের বিধিবিধান

প্রশ্ন (৩৫) : কিছু লোক রয়েছে যাদের সালাম দেওয়া হলে তারা সালাম নিয়ে আবার সালাম দেয়। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আর এই অবস্থায় আমার করণীয় কি? আমি কি তার সালামের জবাব দেব নাকি চুপ থাকব?

-সিয়াম

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর: সালাম দেওয়ার মাঝে সমাজে প্রচলিত অনেক ভুল লক্ষ করা যায়। যেমন: মুসাফাহার পর বুকে হাত দেওয়া, দুই হাতে মুসাফাহা করা, কোনো কিছু বলার পর সালাম দেওয়া ইত্যাদি। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, কেউ আগে সালাম দেওয়ার পর তার সালামের জবাব দেওয়ার পর তাকে পুনরায় সালাম দেওয়া। যেখানে কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেয়াই জরুরী। উত্তর দিয়ে পুনরার সালাম দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এভাবে পুনরায় কেউ সালাম দিলে পুনরায় তার উত্তর দিতে হবে না। এমন আমল অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কেননা আয়েশা g বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরীআতে এমন কিছুর নবউদ্ভাবন করল, যে ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)। বরং সর্বদা আগে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কেননা রাসূল a আগে সালাম প্রদানকারী ব্যক্তিকে উত্তম বলেছেন। আবূ উমামা c সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৫১৯৭; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৩৮২)। আর যে সালাম দিবে না তাকে রাসূল ছা. সবচেয়ে বড় কৃপণ বলেছেন (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/২৬৬৩; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হা/৬৬৪৯)।

প্রশ্ন (৩৬) : একটি লোক সে আগে অমুসলিম ছিল, বর্তমানে সে পাগল। কিন্তু তাকে সালাম দিলে সে উত্তর দেয়। তাহলে কি তাকে সালাম দেওয়া যাবে?

-শেখ বায়েজিদ হোসেন

মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট।

উত্তর: যেহেতু লোকটি সুস্থ অবস্থায় অমুসলিম ছিল সেহেতু সে বিধানগতভাবে অমুসলিম। আর অমুসলিমকে সালাম দেওয়া যাবে না। আর পাগলকেও সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে সে কী উত্তর দিবে তা জানা ও বুঝা অসম্ভব। আর এমন ব্যক্তি থেকে শরীআতের হুকুম-আহকাম তুলে নেওয়া হয়েছে। আয়েশা g থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে- ‘ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৯৪; ছহীহ উবনু খুযায়মা, হা/১০০৩)।

প্রশ্ন (৩৭) : হিন্দুদের আস-সালামু আলাইকুম বলে সালাম দেওয়া বা আদাব বলা যাবে কি? তারা যদি আস-সালামু আলাইকুম বলে সালাম দেয় এক্ষেত্রে সালামের জবাব কি হবে?

-আরমান আবীর

চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর: হিন্দু বা কোনো অমুসলিমকে সালাম দেওয়া যাবে না। এ মর্মে রাসূল a বলেছেন, ইয়াহুদি ও নাসাদেরকে প্রথমে সালাম দিও না। তাদের সাথে পথে দেখা হলে সংকীর্ণতার প্রতি বাধ্য কর। (মুসলিম, হা/২১৬৭; মিশকাত হা/৪৬৩৫)। তবে, তারা যদি সালাম দেয় তাহলে, শুধু “ওয়ালাইকুম” বলে উত্তর দিতে হবে। আনাস c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘যখন কোনো আহলে কিতাব তোমাদেরকে সালাম দিবে তখন তোমরা বল “ওয়ালাইকুম” (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯০৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৬৩)।

ঋণ সংক্রান্ত বিষয়াবলী

প্রশ্ন (৩৮) : ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ গ্রহিতা যদি ঋণদাতার কাছে মাফ চায়, তাহলে তাকে মাফ করা যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন

কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর: সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে মাফ করা বা না করা আপনার ইচ্ছাধীন। তবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করে পাওনা আদায় করে নেওয়া আপনার অধিকার রয়েছে। ঋণ পরিশোধ করা ঋণ গ্রহীতার উপর একটি জরুরী বিষয়। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা- আজ দিব না, কাল দিব, মাফ করে দেন ইত্যাদি কথা বলা বা এ ধরনের আচরণ করা যুলুমের শামিল। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘ঋণ পরিশোধে ধনী ব্যক্তির টালবাহানা করা যুলুম’… (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৪)। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রম হানী বা অন্য কোন বিষয়ে (ঋণ ইত্যাদি) যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করায়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোনো দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোনো সৎকর্ম থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেওয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। সুতরাং ঋণ পরিশোধে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত হবে তাকে ঋণ দিয়ে ঋণদাতা যে অনুগ্রহ করেছে তার বদলে ঋনদাতার সাথে ভালো আচরণ করা। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হলে ঋণদাতার কাছে আরো সময় চেয়ে নেওয়া এবং তা পরিশোধের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমশি করা এক প্রকার যুলুম। তাই যতদ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করে ঋণের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলা। অন্যথায় পরকালে ঋণের ঘানি টানতে গিয়ে নিজের সৎ আমলের ছওয়াব ঋণদাতাকে দিয়ে নিশ্চিত দেওলিয়া হতে হবে।

মৃতের বিধান

প্রশ্ন (৩৯) : নারীর লাশের গোসলের সময় নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত ঢাকলে হবে না পুরো শরীর ঢাকতে হবে?

-জাকির

হোসেন নগর, রংপুর।

উত্তর: মাইয়্যেত নারী হোক কিংবা পুরুষ তাকে গোসল দেওয়ার সময় পর্দার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা খোলা জায়গায় গোসল করানো দৃষ্টিকটু এবং অপ্রীতিকর। এবং গোসল করানোর সময় নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া ভালো যাতে গোসলদানকারীর নিকট তা দৃষ্টিকটু না হয়। অতঃপর পুরুষ পুরুষকে এবং মহিলা মহিলাকে গোসল করাবে। তবে মহিলাগণ শিশুদেরকে গোসল করাতে পারবে (ফিক্বহুস-সুন্নাহ, ১/২৬৮)। স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে বিনা দ্বিধায় গোসল করাতে পারে (বায়হাক্বী, ৩/৩৯৭; দারাকুৎনী, হা/১৮৩৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৪৬৫)।

প্রশ্ন (৪০) : জরুরি কারণে অথবা লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় লাশকে দাফনের সময় সরাসরি হাত দ্বারা মাটি দেওয়ার পরিবর্তে ডালিতে বা কোনো পাত্রে কিছু লোক মাটি দিয়ে সেই মাটি কবরে রাখলে পূর্ণ ছওয়াব পাওয়া যাবে কি? বা এটা করা যাবে কি?

-তাসলিম শেখ

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : যেকোনো অজুহাতে ডালিতে মাটি নিয়ে মাটি দেওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে মাটি দেওয়ার যে ছওয়াব রয়েছে তা সে পাবে না। কেউ দিলে তা বিদআত হবে। কারণ এমন কোনো প্রমাণ ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, শুধু জানাযা পড়ে ফিরে আসলে এক ক্বিরাত নেকী পাওয়া যায়। আর দাফন সম্পন্ন করে ফিরলে দুই ক্বিরাত নেকী পাওয়া যায় (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭; মিশকাত, হা/১৬১৫)। আর এ নেকী পাওয়ার জন্য স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে মাটি দিতে হবে। একান্ত কোনো কারণে দাফন কাজে অংশ নিতে না পারলে জানাযা পড়ে ফিরে আসবে।

চাকুরী ও ব্যবসা-বাণিজ্য

প্রশ্ন (৪১) : ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কি চাকুরী করা যাবে?

-জিল্লুর রহমান

গাজীপুর, ঢাকা।

উত্তর: ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (সংক্ষেপে বিএটিবি) হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি। এর ব্যবসা হলো তামাক পণ্য বিক্রি করা। তামাক নেশাদার হারাম বস্তু। যা ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয নয়। এমনকি হারাম সংশ্লিষ্ট কাজে কোনো প্রকার সাহায্য করাও জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না’ (আল মায়েদা, ৫/২)। তাই এই কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরী করা যাবে না।

প্রশ্ন (৪২) : আমার একটি ছাগলের খামার আছে। ছাগলের খাবারের জন্য ফসল উঠার সময়ে গম ও ভুট্টা কিনে রাখতে হয়। খামারের জন্য বছরে লাগে ২০ মণ। আমি যদি ১০০ মণ কিনে রাখি। বাকি ৮০ মণ দাম বাড়লে বিক্রি করব। এতে কি পাপ হবে?

-মাহিদুল ইসলাম

বিসমিল্লাহ গোট ফার্ম, যশোর।

উত্তর: বাজারে কৃত্রিম সংকট তথা সিন্ডিকেট তৈরির উদ্দেশ্য না হলে এবং বাজারে চাহিদা পরিমাণ পণ্য মজুদ থাকলে সাময়িকভাবে পণ্য কিনে রাখার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। বরং এর ফলে খাদ্য সংকটের সময় মানুষ সহজে পণ্য হাতে পেয়ে থাকে। সুতরাং এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। (আল-মুগনী, ‘ইবনু ক্বুদামা’, ৬/৩১৭)। আর সাময়িকভাবে এক বছরের জন্য খাদ্য মজুদ করা যায়। উমার c হতে বর্ণিত, كَانَ يَبِيعُ نَخْلَ بَنِى النَّضِيرِ ، وَيَحْبِسُ لأَهْلِهِ قُوتَ سَنَتِهِمْ নবী a বনু নাযীর থেকে প্রাপ্ত খেজুর বিক্রি করতেন এবং তার পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য জোগাড় করে রাখতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৫৭)। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পণ্য গুদামজাত করা হারাম এবং অভিশাপের কাজ। সুতরাং এমন উদ্দেশ্যে খাদ্য গুদামজাত করা যাবে না। মা’মার c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘গুনাহগার ছাড়া কেউ পণ্য গুদামজাত করে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫)।

যিকির-আযকার

প্রশ্ন (৪৩) : যে ব্যক্তি ‘লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওআতা ইল্লা বিল্লাহ’ পাঠ করবে, তার যাবতীয় বিপদ-আপদ দূর করা হবেযার সর্বনিম্ন হলো দরিদ্র্যতা মোচন করা’ (তিরমিযী, ৩/১৮৬)। এই হাদীছটি কি ছহীহ?

-আব্দুর রহমান

মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর: পূর্ণ হাদীছটি হচ্ছে, আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, রাসূল a আমাকে বলেছেন, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ দুআটি বেশি করে পাঠ করবে, কেননা এটি হল জান্নাতের সঞ্চয়-ভান্ডার হতে একটি সঞ্চয় ভান্ডার। হাদীছটির এই অংশটুকু ছহীহ। তবে পরের অংশটুকু ছহীহ নয়। তা হচ্ছে, মাকহুল p বলেন,যে ব্যক্তি ‘লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওআতা ইল্লা বিল্লাহ’ পাঠ করবে, তার যাবতীয় বিপদ-আপদ দূর করা হবে’ যার সর্বনিম্ন হলো দরিদ্র্যতা মোচন করা’। হাদীছ বিশারদগণ বলেছেন, মাকহুলের এই কথাটুকু অবিচ্ছন্ন সূত্রে রাসূল a থেকে প্রমাণিত নয়। কেননা মাকহুল একথা আবূ হুরায়রা c থেকে শুনেনি (তিরমিযী, হা/৩৬০১)।

প্রশ্ন (৪৪) : সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় গর্ভবতীদের করণীয় কী?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদেরসহ সকলের যেসব জিনিস পালন করা উচিত হবে, তা হলো- (১) বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা (২) দুআ করা (৩) তাকবীর পাঠ করা (৪) ইস্তেগফার পড়া (৫) ছাদাকা করা (৬) দাস মুক্ত করা (৭) ছালাত আদায় করা (ছহীহ বুখারী, হা/১০৫৯, ১০৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৯০১)। উল্লেখ্য যে, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণকে কেন্দ্র করে সমাজে গর্ভবতীর জন্য বিভিন্ন বাধা-নিষেধ, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয় যার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সবার মতো তারাও স্বাভাবিক থাকবে এবং উল্লেখিত আমলগুলো করবে।

শিক্ষা-সংস্কৃতি

প্রশ্ন (৪৫) : বাংলাদেশের সকল পাবলিক ভার্সিটিতে সহশিক্ষা চালু আছে। আর এখানে পর্দা পালন করতে বাধা দেওয়া হয়। আরও অনেক সমস্যা আছে। তাই সঊদী আরবের ভার্সিটিতে মাহরাম ছাড়া পড়া যাবে কি?

-রুকাইয়া শান্তা

উত্তর: নারীদের জন্য মাহরাম ব্যতীত একদিন-একরাতের বেশি দূরত্বে সফর করা হারাম। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘যে নারী আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে তার জন্য একদিন-একরাতের দূরত্বে মাহরাম ব্যতীত সফর করা হালাল নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৯; ছহীহ বুখারী, হা/১০৮৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস h থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘মহিলারা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না এবং পুরুষরাও যেন কোনো মহিলার কাছে মাহরাম ব্যতিরেকে প্রবেশ না করে (ছহীহ বুখারী, হা/১৭৬৩)। তাই অবাধ ঘোরাফেরার সুযোগ আছে এমন পরিবেশে মেয়েদের রেখে পড়ালেখা করানো জায়েয নয়। তবে যে সকল প্রতিষ্ঠান মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সাথে মেয়েদের যাতায়াতের সময় মাহরাম সাথে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে, মাহরাম ছাড়া মেয়েরা থাকতে পারে। আদি ইবনু হাতেম c থেকে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, [হে আদি ইবনু হাতেম!] ‘তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও তবে দেখবে একজন উষ্ট্রারোহী হাওদানশীল মহিলা হীরা হতে রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে যাবে। এতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪০০; কুবরা বায়হাক্বী, হা/১০১৩১)। সুতরাং সে সকল ভার্সিটিতে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে, যাতায়াতের সময় মাহরামের ব্যবস্থা থাকলে পড়ালেখা করতে পারে (লাজনা দায়েমা, ১২/১৭৮)।

দানছাদাক্বা

প্রশ্ন (৪৬) : আমার স্বামী সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে। আমাকে হাত খরচের যে টাকা দেয় তা থেকে দান করলে আমার কি ছওয়াব হবে অথবা অন্যান্য ইবাদত কি কবুল হবে? আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু সে এ চাকুরী ছাড়বে না। আমার করণীয় কি?

-লুৎফা আক্তার

মীরের বেতকা, টাংগাইল।

উত্তর: স্বামীর সম্পদ স্ত্রীর নিকট আমানত। সে যদি তাতে সীমালঙ্ঘন করে, তাহলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। রাসূল a বলেছেন, ‘নারী তার স্বামীর বাড়ির দায়িত্বশীল তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৫৩)। তবে, স্ত্রী স্বামীকে না বলে পরিমাণ মত দান করতে পারে। আয়েশা g হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল a বলেছেন, ‘স্ত্রী তার স্বামীর খাদ্য সামগ্রী হতে বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যতীত ছাদাক্বা করলে সে ছাদাক্বা করার ছওয়াব পাবে, উপার্জন করার কারণে স্বামীও এর ছওয়াব পাবে…(ছহীহ বুখারী, হা/১৪৩৭)। তবে, সম্পদ হারাম হলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হবে না। রাসূল a বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র আর পবিত্র ছাড়া তিনি কবুল করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫০০)। এক্ষণে স্ত্রীর কর্তব্য হল স্বামীকে বোঝানো। যদি সে না বোঝে তাহলে এর জন্য স্বামী পাপী হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কেউ কারও পাপের বোঝা বহন করবে না’ (আল-আনআম, ৬/১৬৪)।

জ্ঞান অর্জন

প্রশ্ন (৪৭) : একজন সাধারণ মুসলিমের কতটুকু ইলম/জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য আবশ্যক বা যথেষ্ট?

-মুহাম্মদ বিল্লাল

ওয়ারী, ঢাকা।

উত্তর: ইসলামের উপর চলতে গেলে যে যেই বিধানের সম্মুখিন হবে তার উপর সে বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা জরুরী। সুতরাং সাধারণ মানুষের কোনো বিষয় জানার প্রয়োজন হলে বিজ্ঞ আলেমদের থেকে জেনে আমল করবে। যেমন ধরুন, কেউ ছালাত আদায় করবে, তাহলে তাকে ছালাত বিষয়ে জানতে হবে, কেউ যাকাত দিবে তাকে যাকাত বিষয়ে জানতে হবে, কেউ ব্যবসা করবে তাকে ব্যবসার হালাল-হারাম সম্পর্কে জানতে হবে, কেউ বিবাহ করবে তাকে বিয়ের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জানতে হবে। আনাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘প্রতিটি মুসলিমের উপর জ্ঞান অন্বেষন করা ফজর’ (ইবনু মাজাহ, হা/২২৪; মিশকাত, হা/২১৮)। এ হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাবী p বলেন, যে ইবাদত পালন করা শরীআ বান্দার উপর আবশ্যক করে দিয়েছে সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা বান্দার উপর ফরজ। যেমন: যাকাত প্রসঙ্গে জ্ঞান অর্জন করা যদি নিছাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, হজ্জ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরয, হজ্জে যাওয়া সামর্থ্য হলে (শারহুস সুন্নাহ, ১/২৯০ পৃ.)।

বিবিধ

প্রশ্ন (৪৮) : বজ্রপাত সম্পর্কে ইসলামিক ব্যাখ্যা কী এবং বজ্রপাতের সময় আমাদের করণীয় কী?

-মো. রোকনুজ্জামান

শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর: মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন হলো তিনি মেঘের মাঝে বিদ্যুৎ চমকান। আর এ বিদ্যুতের মাঝে আশা ও নিরাশা দুটোই বিদ্যমান। কেননা, এই বজ্রপাতের মাধ্যমে অনেক বনী আদম ‍দুনিয়া ত্যাগ করে। আবার অনেক মানুষ বিদ্যুৎ চমকে আশার আলো দেখতে পায়, তারা মনে করে, এই তো বুঝি রহমতের ঝর্ণা ধারা বয়ে যাবে এবং সিক্ত হবে খরতাপে চৌচির হওয়া পৃথিবী। গাছ-গাছালী, তরুলতা ও ঘাস ফিরে পাবে নতুন জীবন। ফুলে-ফলে ভরে উঠবে কৃষকের জমিন। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। উৎকট ও ভ্যাপসা গরম থেকে রক্ষা পাবে সকল মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সেই সত্ত্বা যিনি ভয় দেখানোর জন্য ও আশা সঞ্চারের জন্য মেঘের মাঝে তোমাদের বিদ্যুৎ চমক দেখান, তিনি ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন। মেঘের গর্জন ও ফেরেশতারা প্রশংসাসহ তাঁর ভয়ে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে, তিনি বজ্রপাত করান, অতঃপর যাকে চান তাকে বজ্রাঘাত করেন, অথচ তারা (কাফেররা) আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তিনি তার কৌশলে ও মাহাত্ম্যে অনেক বড়’ (আর-রা‘দ, ১৩/১২-১৩)। বিপদাপদে নিম্নের দু‘আ পাঠ করা যায়। যথা-

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত মা‘বূদ নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম (আম্মিয়া, ২১/৮৭)।

রাসূল a বজ্রপাতের সময় বিশেষভাবে এই দুআটি পাঠ করতেন- ‌سُبْحَانَ ‌الَّذِي ‌يُسَبِّحُ ‌الرَّعْدُ ‌بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

নবী করীম a-এর স্ত্রী আয়েশা g থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ঝড়ো হাওয়া বইতো, তখন নবী করীম a এই দু‘আ পাঠ করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণ, এতে নিহিত কল্যাণ ও প্রেরিত কল্যাণ কামনা করছি। আমি আপনার নিকট এর অনিষ্ট, এতে নিহিত অনিষ্ট ও প্রেরিত অনিষ্ট হতে আশ্রয় গ্রহন করছি। আশেয়া g বলেন, আর যখন তিনি আকাশে মেঘ দেখতে পেতেন, তখন তার চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত, আর ঘর হতে বের হতেন ও ঘরে প্রবেশ করতেন। বৃষ্টিপাত হলে, তাঁর সকল চিন্তা দূর হয়ে যেত… (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯৯)।

প্রশ্ন (৪৯) : ফরয ও ওয়াজিবের মাঝে পার্থক্য কি?

-বদরুদ্দোজা

কাজুলিয়া, গোপালগঞ্জ।

উত্তর: জমহূর ফক্বীহদের মতে ওয়াজিব ও ফরযের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তাদের মতে এ দুটি সমার্থক শব্দ। (মুযাক্কিরাতুন ফী উছূলিল ফিক্বহ, ১/১২)। অনুরূপভাবে সুন্নাত ও নফলও একই জিনিস।

তবে সুন্নাতের মাঝে কিছু সুন্নাত এমন আছে, যা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর কিছু এমন আছে, যার গুরুত্ব তুলনামূলক কম। যেমন সুন্নাত ছালাতের মধ্যে ফজরের পূর্বের দুই রাকআত, বিতরের ছালাত অন্যান্য সুন্নাত ছালাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব রাখে।

প্রশ্ন (৫০) : আদম e-এর বয়স কত ছিল?

-আল আমিন

নওগাঁ।

উত্তর: আদম আ.-এর বয়স ছিল ১০০০ বছর। রাসূলুল্লাহ ছা. বলেন, আদম e -এর নিকট মালাকুল মাউত এসে হাজির হলে তিনি তাকে বললেন, আমার ধার্যকৃত বয়স হলো এক হাজার বছর। যথাসময়ের আগেই তুমি এসেছো। মালাকুল মাউত বললেন, হ্যাঁ; তবে আপনি আপনার বয়স হতে ষাট বছর আপনার বংশধর দাউদ e-কে দান করেছিলেন। আদম e তা ভুলে গিয়ে অস্বীকার করে বসলেন (তিরমিযী, হা/৩৩৬৮; মিশকাত, হা/৪৬৬২ ‘হাসান হাদীছ’)।