প্রশ্ন (১) : সুবহানাল্লাহ’, আল-হামদুলিল্লাহ’, আল্লাহু আকবার’, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুএসব তাসবীহ কি সবসময় পাঠ করা যাবে? গেলে কতবার করে পাঠ করতে হবে?

-ফিরোজ আহমাদ

সাধনপুর, নাটোর।

উত্তর : উক্ত তাসবীহগুলো ছালাতের সালাম ফিরানোর পরে পাঠের ব্যাপারে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য সময়ে পাঠের ব্যাপারে কোনো সংখ্যা বা পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ছালাতের শেষে ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার পড়বে এবং একশত পূর্ণ করার জন্য একবার ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু-লা শারীকালাহু  লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহু ওয়া আলা কুল্লি শায়য়্যিন ক্বাদীর’ পড়বে তার সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমপরিমাণ হয় (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৯৭; মিশকাত, হা/৯৬৭)। অতএব, ছালাতের সালাম ফিরানোর পর ব্যতীত যে কোনো সময়ে তা গণনা ছাড়াই একাধিকবার পাঠ করতে পারে। আয়েশা ম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭৩)।

প্রশ্ন (২) : তাসবীহ কি উভয় হাতে গণনা করা যাবে?

-আব্দুর রহমান

গেদীপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : উভয় হাতে তাসবীহ গণনা করা যাবে না। বরং ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতে দেখেছি’ (আবুদাঊদ, হা/১৫০২)। তবে ডান হাতে গণনা করতে অক্ষম হলে বাম হাতে গণনা করতে পারে।

 

প্রশ্ন (৩) : জানাযার ছালাতে ইমাম যদি সরবে ক্বিরআত করেন ও দুআ-দরূদ পড়েন তাহলে মুক্তাদীরা কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে চুপ থাকবে; না-কি অন্যান্য দুআ-দরূদও পড়বে?

-রফীকুল ইসলাম

সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : জানাযার ছালাত সরবে হোক কিংবা নিরবে হোক সর্বাবস্থায় ইমাম-মুক্তাদী সকলকে সূরা ফাতিহাসহ সকল দু‘আ-দরূদ পড়তে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে মুসলিম মারা যায় আর তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক তার জানাযার ছালাতের জন্য দাঁড়ায়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার সম্পর্কে তাদের সুপারিশ কবুল করেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৪৮; মিশকাত, হা/১৬৬০)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মুক্তাদীদেরকেও মাইয়্যেতের জন্য আল্লাহ্র নিকট সুপারিশ করতে হবে।

 

প্রশ্ন (৪) : মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাঁকুরগাও।

উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করা যায়। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আবুবকর (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-কে মৃত অবস্থায় চুম্বন করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৫৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৪৫৭; মিশকাত, হা/১৬২৪)।

 

প্রশ্ন (৫) : নাভীর নিচে কাপড় পরিধান করা যাবে কি?

-কাবীরুল ইসলাম

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : পুরুষদের সতর হল নাভী হতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত (ছহীহ জামেঊছ ছাগীর, হা/৫৫৮৩; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৭১)। সর্বদা তা ঢেকে রাখা ওয়াজিব। আর ওয়াজিব পরিত্যাগ করলে গুনাহ হবে। তবে শরীরের জামা-পাঞ্জাবী দিয়ে যদি নাভি ঢেকে থাকে তাহেল পায়জামা বা প্যান্ট নাভির নীচে পরিধান করলেও সমস্যা নাই। সতর উন্মুক্ত না হলেই হল। তবে প্রয়োজনে হাঁটুর উপরে কাপড় উঠানো যেতে পারে। যেমন রাসূল (ছাঃ) একদিন হাঁটুর উপর কাপড় উঠিয়ে বসেছিলেন আবুবকর (রাঃ) তাঁর নিকটে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি তাকে প্রবেশের অনুমতি দেন। এরপর ওমর (রাঃ) তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকেও অনুমতি দেন। পরবর্তীতে ওছমান (রাঃ) তার নিকটে প্রবেশের অনুমতি চাইলে রাসূল (ছাঃ) তার কাপড় হাঁটুর নিচে নামিয়ে নেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৯৭)।

উল্লেখ্য যে, মহিলারা এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তাদের দুই হাতের কব্জি ও চেহারা ব্যতীত মাথা হতে পায়ের পাতা পর্যন্ত সর্বাঙ্গ সতর হিসাবে ঢেকে রাখবে। আয়েশা ম হতে বর্ণিত,…রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মহিলা যখন বালেগা হয়, তখন তার শরীরের কোনো অঙ্গ দেখা যাওয়া উচিত নয়। তবে কেবলমাত্র এটা এবং এটা ব্যতীত। একথা বলে তিনি তাঁর মুখ ও দুই হাতের কব্জির দিকে ইঙ্গিত করলেন’ (আবুদাঊদ, হা/৪১০৪; মিশকাত, হা/৪৩৭২; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/১২৫)।

 

প্রশ্ন (৬) : তালাক্বপ্রাপ্তা মহিলা তালাক্ব পাওয়ার এক মাস পরেই অন্যত্র বিবাহ করলে সে বিবাহ জায়েয হবে কি?

-গোলাম ছামদানী

সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

উত্তর : তালাক্বপ্রাপ্তা মহিলাকে যদি তার স্বামী সহবাসের পূর্বেই তালাক্ব দেয় তাহলে ইদ্দতের কোনো প্রয়োজন নেই (আহযাব, ৪৯)। আর যদি সহবাসের পরে তালাক্ব দেয় তাহলে তার ইদ্দত পালনের বিধান হল, (১) যদি মহিলা গর্ভবতী হয় তাহলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তার ইদ্দত (তালাক্ব, ৪)। (২) যদি গর্ভবতী না হয় তাহলে তার ইদ্দত হলো, তিন হায়েয বা মাসিক (বাক্বারাহ, ২২৮)। তথা স্বামী তালাক্ব দেওয়ার পর হায়েয হবে তারপর পবিত্র হবে। ২য় বার হায়েয হবে তারপর পবিত্র হবে। ৩য় বার হায়েয হবে ও পবিত্র হবে। অতঃপর সে অন্য কোথাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। (৩) যদি বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়ার কারণে অথবা, বার্ধক্য জনিত কারণে অথবা, অন্য কারণে মেয়ের হায়েয বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার ইদ্দত হলো তিন মাস (তালাক্ব, ৪)।

 

 

প্রশ্ন (৭) : ছালাতের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল হলে সাহু সিজদা দেওয়া যায়? কীভাবে এই সিজদা দিতে হবে?

-মাহমুদ

পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।

উত্তর : রাক‘আত কম হলে বা বেশি হলে অথবা, কত রাক‘আত হয়েছে তা নির্ণয় করতে না পারলে কিংবা তাশাহহুদ ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। রাক‘আত কম হলে তা পূর্ণ করার পর তাশাহহুদের বৈঠক শেষ করে দু’টি সিজদা দিতে হবে। রাক‘আত বেশি হলে সালাম ফিরানোর পরে হোক অথবা আগে হোক দু’টি সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাতে হবে। তাশাহুদ ছুটে গেলে সিজদা দেয়ার পর সালাম ফিরাতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১২৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৯, মিশকাত, হা/১০১৪, ১০১৫, ১০১৭, ১০১৮)। তবে ডাইনে একটি সালাম দিয়ে সাহু সিজদা করার প্রচলিত প্রথার কোনো ভিত্তি নেই। অমনিভাবে সাহু সিজদা করার পরে তাশাহহুদ পড়ারও কোনো ছহীহ হাদীছ নেই।

 

প্রশ্ন (৮) : বিয়ের সময় বরপক্ষ কনে পক্ষের বাড়ীতে পান, চুন, বাতাসা ইত্যাদি নিয়ে আসে। এগুলোর শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

-হাফিয শিশির

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : বিয়ের সময় কনে পক্ষের বাড়ীতে পান, চুন, বাতাসা ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া; বিবাহ অনুষ্ঠানে বর-কনের মালা বদল করা; শ্বাশুড়ীর জন্য কনের আঁচলে পান বাটা দেয়া, হলুদ শাড়ীতে চাউল বেঁধে দেয়া এসবের অধিকাংশ অমুসলিমদের অনুকরণ। তাই এসব আচার ও প্রথা সাধ্যপক্ষে এড়িয়ে চলাই মুমিনের কর্তব্য। কেননা এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই শিরক ও বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব থাকে। আর যে কোনো বিদ‘আতী প্রথা সর্বক্ষেত্রেই পরিত্যাজ্য (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।

 

প্রশ্ন (৯) : কাঠ ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা মিম্বার তৈরি করা যাবে কি?

-রাজিবুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কাঠ ব্যতীত টাইল্স বা ইট-সিমেন্ট বা অন্য কিছু দ্বারা মিম্বার তৈরি করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এ ধরনের মিম্বার ছিল না। বরং তিনি কাঠের মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তাই সুন্নাত হলো কাঠ দ্বারা মিম্বার তৈরি করা এবং মিম্বারের তিনটি স্তর হওয়া। সাহল ইবনু সা‘দ আস-সা‘আদী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জনৈক আনছারী মহিলার নিকট লোক পাঠান। তার নাম সাহল। এই মর্মে যে, তুমি তোমার কাঠমিস্ত্রী গোলামকে নির্দেশ দাও। সে যেন আমার জন্য একটি কাঠের আসন তৈরি করে। যার উপর বসে আমি জনগণের সাথে কথা বলব। ঐ মহিলা তার গোলামকে উক্ত মর্মে নির্দেশ দিলে সে ‘গাবার ঝাউ’ কাঠ দিয়ে তা তৈরি করে নিয়ে আসে। অতঃপর মহিলা তা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে এই স্থানে স্থাপন করার নির্দেশ দেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯১৭; মিশকাত, হা/১১১৩)। অতএব ইট, পাথর ও টাইলস দ্বারা তৈরি মিম্বার সুন্নাতের পরিপন্থী। ইমাম বুখারী (রহিঃ)ও সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা মিম্বারের তিন স্তরে উঠে তিনবার ‘আমীন’ বলেছিলেন মর্মেও ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (মুস্তাদরাক হাকেম, হা/৭২৫৬, সনদ ছহীহ)। অতএব মিম্বর তিন স্তরের বেশি করা সুন্নাতের বরখেলাফ (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৩৫, ১/৩৩৪ পৃঃ)। তাই ঐ সমস্ত আধুনিক মিম্বার ত্যাগ করে তিনস্তর বিশিষ্ট কাঠের মিম্বর তৈরি করে সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

 

প্রশ্ন (১০) :  কালেমায়ে ত্বাইয়্যেবা কোনটি?

– নাজনীন

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : যে কালেমাতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য থাকে তাকে বলে ‘কালেমা শাহাদাত’। আর যাতে শুধু আল্লাহর সাক্ষ্য থাকে তাকে বলে ‘কালেমা ত্বাইয়্যেবা’। আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলা-হা ইলাল্লাহ্’র তালক্বীন কর বা শিক্ষা দাও (ছহীহ মুসলিম, হা/৯১৬-৯১৭; মিশকাত, হা/১৬১৬)।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ঈমানের সত্তরটিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো (কালেমা তাইয়্যেবা) ‘লা ইলা-হা ইলাল্লাহ’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৫; মিশকাত, হা/৫)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ঈমানের ৭০টিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাধিক উত্তম হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৫; মিশকাত, হা/৫)। অতএব, প্রকৃতপক্ষে কালেমা ত্বাইয়্যেবা হচ্ছে, لَا إلهَ إلَّا اللهُ। সূরা ইবরাহীমের ২৪ নং আয়াতে উল্লেখিত ‘كَلِمَةً طَيِّبَةً’-এর ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস প বলেন, الْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ ‘কালেমা ত্বাইয়্যেবা হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (তাফসীর কুরতুবী, ৯/৩৫৯ পৃঃ; তাফসীর ইবনে কাছীর, ৪/৪২২ পৃঃ)।

উল্লেখ্য যে, দুই অংশ বিশিষ্ট কালেমা অর্থাৎ لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ মূলত কালেমায়ে শাহাদাত বা শাহাদাতাইনের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে মুসতাদরাকে হাকেমের ৪২২৮ নং হাদীছে لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ -কে কালেমা ত্বাইয়্যেবা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘জাল’ (মুখতাছারু তালখীছিয যাহাবী, ২/১০৬৭-১০৬৮ পৃঃ, হা/৪৫৩)।

 

প্রশ্ন (১১) : সমিতিতে জমাকৃত টাকায় প্রাপ্ত সূদের অংশ না নিয়ে মূল টাকা দিয়ে উক্ত সমিতির সদস্যদের সাথে ভ্রমণে যাওয়া যাবে কি?

-রাহিমা

নাটোরসদর, নাটোর।

উত্তর : প্রশ্নোল্লেখিত বিবরণে বুঝা যায়, সমিতিটি সূদের সাথে সম্পৃক্ত। আর সমিতি সূদের সাথে সম্পৃক্ত হলে তার সদস্য হওয়া যাবে না। কেননা সূদ হারাম। ইরশাদ হয়েছে, اَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আল্লাহ তা‘আলা ব্যবসাকে হালাল এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ, ২৭৫)। তবে সমিতি যদি সূদমুক্ত হয় এবং সমিতির টাকা সদস্যরাই খরচ করবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে সমিতির টাকা দিয়ে ভ্রমণে যেতে পারে। কিন্তু সমিতি যদি জনকল্যাণমূলক হয়ে থাকে তাহলে সদস্যরা তা দিয়ে ভ্রমণে যেতে পারবে না।

 

প্রশ্ন (১২) : কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে করণীয় কী? অনেকেই কুরআনের ওযনে চাউল দিয়ে থাকেন। এ আমল কি সঠিক?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : এ জন্য অনুতপ্ত হতে হবে এবং মুছীবত হিসাবে ‘ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ পড়া যেতে পারে (বাক্বারাহ, ১৫৬)। সেই সাথে সতর্ক থাকতে হবে যেন এমনটি পুনরায় আর না ঘটে। কারণ কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থ (বুরূজ, ২২)। তবে কুরআনের ওযনে চাউল দিতে হবে এ কথা সঠিক নয়।

 

প্রশ্ন (১৩) : মসজিদে প্রবেশের সময় যে সালাম দেওয়া হয় তা কাদের উদ্দেশ্যে?

-আব্দুল্লাহ

পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশের সময় মুছাল্লীদের উদ্দেশ্যে সালাম প্রদানের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে রাসূল (ছাঃ) নিজেই মসজিদে প্রবেশের সময় তার প্রতি সালাম প্রদানের কথা বলেছেন। আবু হুমাইদ অথবা আবু উসাইদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন নবী (ছাঃ)-এর প্রতি সালাম দেয়। অতঃপর সে যেন বলে আল্লাহুম্মাফতাহলী আব্ওয়াবা রহমাতিকা আর বের হওয়ার সময় বলবে, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন ফাযলিকা (আবুদাঊদ, হা/৪৬৫ ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/৭৭২)। এই হাদীছ প্রমাণ করে মসজিদে প্রবেশের সময় ‘আমভাবে সালাম দিয়ে প্রবেশ করা ভাল।

 

প্রশ্ন (১৪) : বর্তমানে ভুট্টা, সরিষা, আলু, বেগুন ইত্যাদির বিক্রয় মূল্যের তুলনায় আবাদী খরচ অনেক বেশি। এমতাবস্থায় এগুলোর ওশর বের করব কীভাবে

-মানিক মিঞা

পতিœতলা, নওগাঁ।

উত্তর : ভুট্টা ও সরিষা উৎপাদনে খরচ কম হোক বা বেশি হোক বিশ ভাগের এক ভাগ ওশর দিতে হবে। কেননা খরচের কারণেই তো বিশ ভাগের এক ভাগ ওশর দিতে হয়। অন্যথা ওশরের বিধান হলো, দশ ভাগের এক ভাগ। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত ফসল বা সেচ ব্যতীত উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের উপর (দশমাংশ) ‘উশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের উপর অর্ধ (বিশ ভাগের এক ভাগ) ‘উশর (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৩; মিশকাত, হা/১৯৯৭)।

আর আলু ও বেগুনের ওশর দিতে হবে না। কেননা তা শাক-সবজির অন্তর্ভুক্ত। আর শাক-সবজিতে কোন যাকাত (ওশর) নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لَيْسَ فِى الْخَضْرَوَاتِ زَكَاةٌ ‘শাক-সবজি বা কাঁচা মালে কোনো যাকাত (ওশর) নেই’ (ছহীহ জামেঊছ ছাগীর, হা/৫৪১১)। তাছাড়া যমীন থেকে উৎপাদিত যেসব খাদ্য-শস্য স্বাভাবিকভাবে এক বছর পর্যন্ত থাকে না বরং তার আগেই পচন দেখা দেয়, সেগুলোর ওশর নেই (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/৩৩৪-৩৬)। তবে এগুলোর বিক্রয়লব্ধ টাকা যদি এক বছর সঞ্চিত থাকে এবং নিছাব পরিমাণ হয়, তাহলে ৪০ ভাগের ১ ভাগ হিসাবে তার যাকাত দিতে হবে (আবুদাঊদ, হা/১৫৭৩-৭৪; মিশকাত, হা/১৭৯৯)।

 

প্রশ্ন (১৫) : যে সকল বাচ্চাদের প্রতি এখনো ছালাত ফরয হয়নি তাদেরকে মসজিদে আনলে অন্যদের ছালাতের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে। এমতাবস্থায় তাদেরকে মসজিদে আনা যাবে কি

-আহমাদুল্লাহ

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : যে সকল বাচ্চাদের প্রতি ছালাত ফরয হয়নি তাদেরকে মসজিদ নিয়ে যাওয়াতে শারঈ কোনো নিষেধ নেই। বরং ছালাতের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া উচিত। যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই মসজিদমুখী হয়। তবে অন্যদের ছালাতে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আবু ক্বাতাদা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যয়নাবের কন্যা উমামাকে কাঁধে নিয়ে ছালাত আদায় করতেন, সিজদায় গেলে নামিয়ে রাখতেন আবার দাঁড়ানোর সময় তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৪৩; আবুদাঊদ, হা/৯১৭; নাসাঈ, হা/৮২৮)। ইবনু খুযায়মার বর্ণনায় আছে, ছালাতটি ছিল ফরয ছালাত (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/৮৬৮)। তবে শিশুর বয়স সাত বছর হলে তাকে ছালাতের জন্য আদেশ করতে হবে এবং দশ বছর হলে ছালাত আদায়ের ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা পরিবারকে ছালাতের জন্য আদেশ করো এবং ছালাতের উপর অবিচলিত থাক’ (ত্বো-হা, ১৩২)। আমর ইবনু শু‘আইব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হবে তখন তাদেরকে ছালাতের নির্দেশ দাও, আর যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন ছালাতের জন্য প্রয়োজনে প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও’ (আবুদাঊদ, হা/৪৯৫; মিশকাত, হা/৫৭২)।

 

প্রশ্ন (১৬) : শ্বশুর যদি স্বেচ্ছায় জামাইকে টাকা-পয়সা বা গাড়ী-বাড়ী করে দেয় তাহলে কি সেটা যৌতুক হবে?

-খালিদ হাসান

চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : বিবাহ অনুষ্ঠানের সময় বর পক্ষ থেকে মেয়ে পক্ষের প্রতি চাপ দিয়ে যে টাকা-পয়সা বা অর্থ-সম্পদ নেওয়া হয় তাকে যৌতুক বলে। আর এই যৌতুক নেওয়া হারাম। কেননা মহান আল্লাহ তা‘আলা বরকে মোহর প্রদান করে বিবাহ করার আদেশ দিয়েছেন (সূরা নিসা, ২৫)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন ছিয়াম পালন করে। কেননা ছিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫, ৫০৬৫, ৫০৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০০; মিশকাত, হা/৩০৮০)। তবে মেয়ে-জামাইয়ের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় সুবিধা-অসুবিধা লক্ষ্য করে শ্বশুর জামাইকে কিছু দিতে পারে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা! আমার কাছে দুনিয়াবী ধন-সম্পদ হতে যা ইচ্ছা তাই চাইতে পার, কিন্তু আমি তোমাকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারব না (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৫৩; মিশকাত, হা/৫৩৭৩)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ফাতেমা ম নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট একটা চাকর চাইতে আসলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কথা বলব না, যা তোমার পক্ষে চাকর অপেক্ষা উত্তম হবে। আর তাহলো- প্রত্যেক ছালাতের সময় ও ঘুমানোর সময় ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ এবং ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭২৮; মিশকাত, হা/২৩৮৮)। তাছাড়া ইসলাম পরস্পরকে হাদিয়া দিতে উৎসাহিত করেছে। পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টিতে তা সহায়ক ভূমিকা রাখে (ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৯৪)। অতএব, হাদিয়া হিসাবে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী ও জামাইকে শ্বশুর বাড়ীর পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় কিছু দেয়া হলে তা অবশ্যই নেওয়া যাবে। এটা যৌতুক হবে না।

 

প্রশ্ন (১৭) : বিহাই ও বেহান পরস্পরে দেখা-সাক্ষাত করতে পারবে কি?

-জহুরুল ইসলাম

মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : বিহাই ও বেহান পরস্পরে গায়রে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। বিধায় তাদের পর্দাবিহীন সাক্ষাৎ করা শরী‘আত সম্মত নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যখন তাদের নিকটে (নারীদের) কিছু জিজ্ঞেস করবে, তখন পর্দার অন্তরাল হতে জিজ্ঞেস করো’ (সূরা আহযাব, ৫৩)। এই আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, গায়রে মাহরাম ব্যক্তি পর্দা রক্ষা করে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও লেনদেন করতে পারে। তবে পর্দাবিহীন সাক্ষাৎ করা নিষিদ্ধ (সূরা নূর, ৩১)।

 

প্রশ্ন (১৮) : প্রচণ্ড সর্দির কারণে রুকূ-সিজদায় গেলে নাক দিয়ে খুব ঘনঘন পানি বা সর্দি পড়ে মেঝে বা কার্পেট ভিজে যায়। এমতাবস্থায় বাড়ীতে ছালাত আদায় করতে পারবো কি?

-ফজলে আহমাদ

আতানারায়নপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এ ধরনের সাময়িক সমস্যার কারণে বাড়ীতে ছালাত আদায় করা যাবে না। বরং এমতাবস্থায় নাক দিয়ে সর্দি বা পানি কিংবা মুখ দিয়ে থুথু বা কফ বের হলে তা রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে ধরে নিতে হবে। অন্যথা পরনের কাপড়ই তার জন্য যথেষ্ট হবে। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কোনো একজন যখন ছালাত পড়ে আল্লাহ তা‘আলা তার সম্মুখে থাকেন। সুতরাং সম্মুখ পানে কখনো থুথু ফেলবে না। বরং তা যেন বাম পায়ের নিচে ফেলে। যদি চাপের দ্রুত সম্মুখীন হয় তবে সে তার কাপড়ে এরূপ করবে। অতঃপর তিনি নিজ কাপড়ে থুথু ফেলে এক অংশকে অপর অংশের সাথে ডলে দিলেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১২০৯; আবুদাঊদ, হা/৭৭৮)।

 

 

প্রশ্ন (১৯) : রাসূল (ছাঃ) পশু দ্বারা পশুকে পাল দেওয়ার বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেনসুতরাং বর্তমানে যারা গবাদী পশুর উন্নয়নের জন্য প্রজনন পদ্ধতি করিয়ে থাকে সেই সকল প্রজনন কর্মীর উপার্জন হালাল হবে কি?

-আব্দুস সুবহান

কালাই, জয়পুরহাট।

উত্তর : গবাদী পশুর উন্নয়নের জন্য সরকারী কিংবা বেসরকারী তত্ত্বাবধানে কোনো সংস্থা পদক্ষেপ নিলে অর্থের বিনিময়ে সেখানে প্রজনন করা যাবে এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিকও গ্রহণ করা যাবে। কারণ যিনি এ কাজ করে থাকেন তিনি একজন ডাক্তার হিসাবে অথবা এ সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসাবে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করেন।

উল্লেখ্য, ষাঁড় দেখানোর বিনিময়ে পয়সা গ্রহণ করা নিষেধ বলে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, সেটা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ অন্য হাদীছে এসেছে, কোনো ব্যক্তির নিকট ষাঁড় বা পাঠা থাকলে তার নিকট কোনো গাভী বা বকরী নিয়ে আসলে রাসূল (ছাঃ) তার বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তবে যদি কোনো প্রকার শর্ত ছাড়া হাদিয়া হিসাবে কিছু প্রদান করা হয় তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে (তিরমিযী, হা/১২৭৪; মিশকাত, হা/২৮৬৬)। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এরূপ ব্যবসাকে ইসলাম অপসন্দ করেছে। তবে সরকারী পর্যায়ে নয়।

 

প্রশ্ন (২০) : ক্বিরাআতে ভুল থাকলে ছালাত হবে না’-কথাটি কি সঠিক?

-আব্দুছ ছবুর বিন সেকেন্দার

গুরুদাসপুর, নাটোর।

উত্তর : কথাটি ঠিক নয়। বরং ছালাত হয়ে যাবে। তবে নেকী কম হবে। আম্মার ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এমন অনেক লোক আছে যারা ছালাত আদায় করে কিন্তু তাদের ছালাত পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ নেকী প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ দশ ভাগের এক ভাগ, কেউ নয় ভাগের এক ভাগ, কেউ আট ভাগের এক ভাগ, কেউ সাত ভাগের এক ভাগ, কেউ ছয় ভাগের এক ভাগ, কেউ পাঁচ ভাগের এক ভাগ, কেউ চার ভাগের এক ভাগ, কেউ তিনের একাংশ বা অর্ধাংশ নেকী প্রাপ্ত হয়ে থাকে (আবুদাঊদ, হা/৭৯৬)। অবশ্য যারা ভালো করার জন্য চেষ্টা করে তাদের জন্য দ্বিগুণ নেকী হবে। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত লেখক ফিরিশতাদের সাথে থাকবেন। আর যে কুরআন পড়ে কিন্তু আটকায় এবং কুরআন পড়া তার পক্ষে খুব কষ্টদায়ক হয়, তাহলে তার জন্য দুইগুণ নেকী রয়েছে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৯৮; মিশকাত, হা/২১১২)।

 

প্রশ্ন (২১) : বিয়ের সময় বর পক্ষের গাড়ি থামিয়ে মেয়ে পক্ষের লোকজন টাকা আদায় করে। এটা করা যাবে কি?

-আব্দুছ ছবুর বিন সেকেন্দার

গুরুদাসপুর, নাটোর।

উত্তর : না, বর বা মেয়ে পক্ষের গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করা যাবে না। এটা একটি সামাজিক কুসংস্কার। যা বিধর্মীদের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে। বরং তা পরিহার করা একান্ত কর্তব্য। কেননা, যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে ক্বিয়ামতের দিন তার হাশর সে জাতির সাথেই হবে। ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করল, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত (আবুদাঊদ, হা/৪০৩১)। তিনি আরো বলেন, বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাঁড়ি লম্বা করো ও গোঁফ ছোট করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; মিশকাত, হা/৪৪২১)।

 

প্রশ্ন (২২) : হিন্দুরা যদি বিসমিল্লাহবলে গরু-ছাগল যবেহ করে তাহলে কি তার গোশত খাওয়া যাবে?

-আব্দুছ ছবুর বিন সেকেন্দার

গুরুদাসপুর, নাটোর।

উত্তর : না, হিন্দুরা ‘বিসমিল্লাহ’ বলে গরু-ছাগল যবেহ করলেও তাদের যবেহকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না। কারণ তারা মুশরিক। আর মুশরিকরা অপবিত্র (সূরা তওবা, ২৮; সূরা ওয়াক্বি‘আহ, ৭৯)। তাছাড়া যবেহকৃত প্রাণীর গোশত হালাল হওয়ার জন্য শর্ত হলো যবেহকারী ঈমানদার হওয়া। কেননা যার অন্তরে ঈমান নেই সে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে প্রাণী যবেহ করলেও তাদ্বারা প্রাণীর গোশত হালাল হবে না (ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ২২/৪৩৫ পৃঃ)।

 

প্রশ্ন (২৩) : আমি একজন অবিবাহিত ছেলে। দুই বন্ধুর খপ্পরে পড়ে একজন বিবাহিত মেয়ের সাথে যেনা করেছি। তখন এর পাপ সম্পর্কে বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছি যে এটা করা আমার মহা অন্যায় হয়েছে। এখন এই পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার উপায় কী?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : উক্ত মহাপাপ থেকে মুক্তির জন্য খালেছ অন্তরে তাওবা করতে হবে। কেননা, পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ নেই যে পাপ জীবিত অবস্থায় মানুষ খালেছ অন্তরে একনিষ্ঠভাবে তওবা করলে মহান আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। এমর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো (পাপ করেছো) আল্লাহ্র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সূরা আয-যুমার, ৫৩)। সুতরাং, কেউ যদি অপরাধ করার পর আল্লাহর নিকট তওবা করে নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। যেমন নবী (ছাঃ)-এর যুগে একজন মহিলা যেনা করে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে তওবা করার কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেছিলেন। সেই মহিলা সম্পর্কে রাসুল (ছাঃ) বলেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! মহিলাটি এমন (খালেছ) তাওবা করেছে, যদি কোনো বড় যালেমও এই ধরনের তওবা করে, তারও পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ার আদেশ করলেন। অতঃপর তার জানাযা পড়লেন এবং তাকে দাফন করা হলো (ছহীহ মুসলিম, হা/৩২০৮)।

 

প্রশ্ন (২৪) : স্বামী নির্বাচনে মেয়েদের ভূমিকা কতটুকু? কী রকম স্বামী গ্রহণে অনুমতি দিলে তা শরীআতসম্মত হবে?

-বিউটি আক্তার

মেডিকা ডায়াগোনিস্টিক সেন্টার, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র/স্বামী নির্বাচনে (ছেলেদের মত) মেয়েদেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা অভিভাবকের মাধ্যমে বা তার অনুমতি সাপেক্ষে সৎ, চরিত্রবান ও দ্বীনদার ব্যক্তিকে স্বামী হিসাবে নির্বাচন করবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা যে ব্যক্তির দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছো তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না করো তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে (তিরমিযী, হা/১০০৪)। ইমাম বুখারী (রহিঃ) ‘সৎ লোকের কাছে কোনো নারীর নিজেই প্রস্তাব দেওয়া’ শীর্ষক পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন (অধ্যায় ৭৬)। সাবিত আল-বুনানী (রহিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তার কাছে তার কন্যাও ছিলেন। আনাস (রাঃ) বললেন, একজন মহিলা নবী (ছাঃ)-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে? এ কথা শুনে আনাস (রাঃ)-এর কন্যা বললেন, সে কতই না নির্লজ্জ, ছিঃ! লজ্জার কথা। আনাস (রাঃ) বললেন, সে তোমার চেয়েও উত্তম। কেননা সে নবী (ছাঃ)-এর সাহচর্য পেতে অনুরাগী হয়েছিল। এ কারণেই সে নিজেকে নবী (ছাঃ)-এর কাছে পেশ করেছে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭২৬)। সুতরাং মেয়েদের জীবনসঙ্গী নির্বাচনে ছেলের দ্বীনদারী ও সৎ চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

 

প্রশ্ন (২৫) : আমি একজন অবিবাহিত ছেলে। আমি ফজরের ছালাত নিয়মিত সঠিক সময়ে আদায় করি। অনেক চিকিৎসা সত্ত্বেও নিরাময় না হওয়ার কারণে হঠাৎ হঠাৎ বিছানায় প্রসাব হয়ে যায়। ফলে মাসে দুই/এক দিন ছালাত ক্বাযা করতে হয় বা তা যোহরের সময় আদায় করি। এক্ষেত্রে কি আমার পাপ হবে?

–নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : এমন পরিস্থিতিতে ছালাত কাযা করা যাবে না। বরং কাপড় পরিবর্তন করে সম্ভবপর পবিত্রতা অর্জন করে সময়ের মধ্যেই ছালাত আদায় করবে। যদি পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের সুযোগ ও আসবাবপত্র না থাকে তাহলে সে অবস্থাতেই ছালাত আদায় করবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়া, ২১/৪২৯ পৃঃ)। কেননা, দুই শ্রেণির মানুষ ব্যতীত সকলের জন্য সময়মত ছালাত আদায় করা ফরয। তারা হলো, (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি ও (২) ছালাতের কথা ভুলে গেছে এমন ব্যক্তি। আবু ক্বাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ছাহাবায়ে কেরাম হ নিদ্রাবস্থায় ছালাতের সময় তাদের ঘুমে থাকার বিষয়টি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, ঘুমে থাকার মধ্যে অবহেলা নেই। অবহেলা হয় জাগ্রত অবস্থায় (যথা সময়ে ছালাত আদায় না করলে)। সুতরাং যদি তোমাদের কেউ ছালাত ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তবে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়ে নেবে (নাসাঈ, হা/১৫৮২)। সুতরাং এই দুই অবস্থা ব্যতীত সকল অবস্থায় সময়মত ছালাত আদায় করা একান্ত অপরিহার্য।

 

প্রশ্ন (২৬) : আমি ফিজি নামক দেশে যাবো চাকুরি করতে। ফ্লাইট রাত ১২টায়। যেতে সময় লাগবে প্রায় ১২ ঘন্টা। দুদেশের মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় ৬ ঘন্টা। ফলে সেখানে পৌঁছাবো সন্ধ্যা প্রায় ৬ টায়। এমতাবস্থায় ফজর, যোহর ও আছরের ছালাত কখন ও কিভাবে আদায় করব?

আকিদুল বিন সিরাজ

মধুখালি, ফরিদপুর।

উত্তর : যে দেশের উপর দিয়ে বিমান যাচ্ছে সে দেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ছালাত আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই ছালাত বিশ্বাসীগণের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত’ (নিসা, ১০৩)। আর স্থানীয় সময়টি বিমান ক্রু বা বিমানবালাদের মাধ্যমে জেনে নিতে হবে।

 

প্রশ্ন (২৭) : আমার কাছে প্রায় চার লক্ষ টাকা আছে। আমার দুই ছেলে ও তাদের সংসার আছে। তবে তাদের আয়ের তেমন কোনো উৎস নেই। এমতাবস্থায় ছেলেদেরকে আয়ের জন্য কিছু করে দেবো? নাকি আমি হজ্জে যেতে পারবো?

-আলতাফ হুসাইন

ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : এমতাবস্থায় হজ্জ করা যরূরী। কেননা, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ্জ করা ফরজ (আলে ইমরান, ৯৭)। ছেলে যুবক হওয়ার পর তার জীবন যাপনের জন্য যা প্রয়োজন তা পিতার কোনো দায়িত্বে থাকে না। পিতা ছেলের জন্য যা করেন তা তার অনুগ্রহ মাত্র। যেহেতু পিতার হজ্জে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে সেহেতু তার হজ্জে যাওয়া একান্ত কর্তব্য (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩)।

 

প্রশ্ন (২৮) : ঘুমানোর পর রাতে যদি হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে কি পুনরায় ঘুমানোর দুআ পড়ে ঘুমাতে হবে?

-রাজিবুল ইসলাম

আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।

উত্তর : রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে পুনরায় দু‘আ পড়ে ঘুমানোর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমনকি নবী করীম (ছাঃ) ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর ছালাত আদায় করে পুনরায় ঘুমিয়েছেন কিন্তু দু‘আ পড়েছেন মর্মেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে সে নিজের প্রশান্তির জন্য ঘুমের দু‘আ পড়তে বা তাসবীহ-তাহলীল করতে পারে।

 

প্রশ্ন (২৯) : আমার দাদার পূর্বেই বাবা মারা যান। তখন বাড়ী করার জন্য দাদা আমাকে একটি জমি দেন। অতঃপর দাদা মারা যাওয়ার পর চাচারা আমাকে আরোও কয়েক শতক জমি দিয়েছেন। এই জমি ও দাদার দেওয়া জমি ভোগ করা কি আমার জন্য বৈধ হবে? উল্লেখ্য যে, বাবা মারা যাওয়ার পর দাদা যখন আমাকে জমি দেন তখন আমি জানতাম না যে, বাবা মারা গেলে নাতি তার দাদার সম্পত্তির অংশ পায় না।

-ডাঃ সেলিম রেজা

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

উত্তর : হ্যাঁ, বৈধ হবে। কেননা, যারা উত্তরাধিকারী সূত্রে সম্পদের ভাগ পায় না তাদেরকে দান করা যায়। আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বিদায় হজ্জের দিন বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হক্বদারের হক্ব প্রদান করেছেন। অতএব ওয়ারিছদের জন্য কোন অছীয়ত করা যাবে না (আবুদাঊদ, হা/২৮৭০; ইবনু মাজাহ, হা/২৭১৩; মিশকাত, হা/ ৩০৭৩)।

 

প্রশ্ন (৩০) : ফরয গোসল না করে ছালাতের জন্য আযান দেওয়া যাবে কি?

-আকিমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : পবিত্র অবস্থায় আযান দেওয়া মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয় (আল মুগনী, ১/৪৫৮ পৃঃ)। বিধায় ছোট নাপাকি কিংবা বড় নাপাকি হোক যেকোন অবস্থায় আযান দিলে আযান শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে উত্তম হল, উভয় নাপাকি থেকে মুক্ত হয়ে পবিত্র অবস্থায় আযান দেওয়া (ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৬/৬৭ পৃঃ)।

 

প্রশ্ন (৩১) : তায়েফে মানছূরা কারা?

-আব্দুর রহমান

ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : সঠিক আমল-আক্বীদা ও আদর্শের অনুসারীরাই হল, ‘তায়েফে মানছূরা’ বা সাহায্যপ্রাপ্ত দল। তারা একজন ব্যক্তিও হতে পারেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, জামা‘আত হল সেটা যা হক্ব বা সত্যের সাথে মিলে যায়। যদিও তুমি একাকী হও (আল-ওয়াজীজ ফী আক্বীদাতিস সালাফীস সালেহ, ১/২৫পৃঃ)। আর হক্বের মানদণ্ড হচ্ছে যার উপর ১৪০০ বছর পূর্বে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ও তার ছাহাবীরা ছিলেন (তিরমিযী, হা/২৬৪১)।

 

প্রশ্ন (৩২) : কচ্ছপ ও কুঁচে খাওয়া যাবে কি?

-আকিমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কচ্ছপ, কুঁচে এমনকি তার ডিমও রুচি হ’লে খাওয়া যায়। কারণ এগুলো পানিতে বসবাসকারী প্রাণী। আর পানির শিকার (যা হিংস্র নয়) হালাল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য সাগরের শিকার হালাল করা হয়েছে’ (মায়েদাহ, ৯৬)। হাসান (রহিঃ) কচ্ছপ খাওয়াকে দোষের মনে করতেন না (ছহীহ বুখারী, ‘৭২/১২. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণী : তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে….’)।

 

প্রশ্ন (৩৩) : মহিলাদের নাক ফোঁড়ানো কি যরূরী?

-শিমু খাতুন

সাধনপুর, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : মহিলাদের নাক ফোঁড়ানো যরূরী নয়। কেননা এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহতে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। তবে স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য তা ফোঁড়াতে পারে। অবশ্য মহিলা ছাহাবীদের কান ফোঁড়ানোর ব্যাপারে একাধিক প্রমাণ মিলে। হাদীছে এসেছে ঈদের দিনে রাসূল (ছাঃ) যখন মহিলাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নছীহত করেন ও তাদেরকে দান-ছাদাক্বা করতে উদ্বুদ্ধ করেন তখন তারা কানে ও গলায় হাত দিয়ে গহনা সমূহ খুলে বেলাল (রাঃ)-এর চাদরে প্রদান করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৪৯; আবুদাঊদ, হা/১১৪৬; মিশকাত, হা/১৪২৯)। অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, মহিলারা সৌন্দর্যের জন্য তাদের শরীরের অঙ্গ ফোঁড়াতে পারে।

 

প্রশ্ন (৩৪) : সূরা হিজরের ৮৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মিলন হোসাইন

রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সূরা হিজরের ৮৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর আমি তোমাকে ‘সাব‘আ মাছানী’ তথা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন দান করেছি’। হাফেয ইবনে কাছীর (রহিঃ) তার তাফসীরে ইবনে কাছীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘সাব‘আ মাছানী’র অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রথম মত : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, যাহহাক (রহিঃ) এবং আরও অনেকের মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সাতটি দীর্ঘ সূরা। অর্থাৎ সূরা বাক্বারাহ, আলে ইমরান, নিসা, মায়েদা, আন‘আম, আ‘রাফ এবং সূরা ইউনুস। এ ব্যাপারে ইবনে আব্বাস ও সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাঃ)-এর স্পষ্ট ভাষ্য আছে। ইবনে আবী হাতেম তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে আবী ওমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সূরা বাক্বারাহ, আলে ইমরান, নিসা, মায়েদা, আন‘আম, আ‘রাফ এবং সূরা আনফাল ও তাওবা (আনফাল ও তাওবাকে একটি সূরা হিসাব করে)।

দ্বিতীয় মত : ‘সাব‘আ মাছানী’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সূরা ফাতিহা। এই মতের পক্ষে গেছেন ওমর, আলী, ইবনে মাসঊদ, ইবনে আব্বাস (রাঃ)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘বিসমিল্লাহ’ হল এর সপ্তম নম্বর আয়াত। আল্লাহ এটা বিশেষভাবে তোমাদেরকে দান করেছেন। ক্বাতাদা (রহিঃ) বলেছেন, আমাদের নিকট আলোচনা করা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল সূরা ফাতিহা। কারণ তার আয়াতগুলো প্রত্যেক ক্বিরাআতে বারবার পড়া হয়। অন্য বর্ণনায় আছে, ফরয-নফল সকল ছালাতের প্রতি রাক‘আতে সেগুলো পাঠ করা হয়। ইবনে জারীর (রহিঃ) এই মতটি পসন্দ করেছেন এবং তার মতের স্বপক্ষে ছহীহ বুখারীর দু’টি হাদীছ দিয়ে দলীল পেশ করেছেন।

প্রথম হাদীছ : (হাদীছের সারাংশ হল), সাঈদ ইবনে মু‘আল্লা (রহিঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা শিখিয়ে দিব না? আমি বললাম, অবশ্যই। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) যখন মসজিদ থেকে বের হয়ে চলে যেতে উদ্যত হলেন, তখন আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। তখন তিনি বললেন, ‘সেটা হল اَلْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ এটাই হল ‘সাব‘আ মাছানী’। এটাই হল মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা আমাকে দেওয়া হয়েছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৭৪; মিশকাত, হা/২১১৮)। দ্বিতীয় হাদীছ : আবু হুরায়রা (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘উম্মুল কুরআনই হল ‘সাব‘আ মাছানী’ এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭০৪)। ‘সাব‘আ মাছানী’ দ্বারা যে সূরা ফাতিহাই উদ্দেশ্য, এটা তার সুস্পষ্ট প্রমাণ (ইবনে কাছীর, সূরা হিজর, আয়াত ৮৭-এর আলোচনা)।

 

প্রশ্ন (৩৫) : ইমাম ছাহেব অসুস্থ হওয়ায় তার পা কেটে ফেলা হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি কি বসে খুৎবা দিতে পারবেন?

-কবির হোসেন, পুঠিয়া, রাজশাহী।

ও শহীদ বিন আযহার, আদমদিঘি, বগুড়া।

উত্তর : এমতাবস্থায় সক্ষম ব্যক্তির কাছে খুৎবা প্রদানের দায়িত্ব সমর্পণ করতে হবে। তবে খুৎবা দেওয়ার মত কোন ব্যক্তি না থাকলে ওযর হিসাবে তিনি বসে খুৎবা দিতে পারেন। কারণ আল্লাহ মানুষের উপর সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন না (বাক্বারাহ, ২৮৬)।

 

প্রশ্ন (৩৬) : অনেকেই বলে, ‘ক্বিয়ামতের মাঠ হবে মক্কা-মদীনাতেএটা কি ঠিক?

-আকিমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : হাশরের মাঠ মক্কা, মদীনা কিংবা আরাফাতের ময়দানে হবে, এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং ছহীহ হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় হাশরের ময়দান হবে শামের ভূমিতে। আবু যার প হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ধ বলেছেন, لشَّامُ أَرْضُ الْمَحْشَرِ وَالْمَنْشَرِ ‘শাম হল হাশর-নাশরের ভূমি’ (মুসনাদে বাযযার, হা/৩৯৬৫; ছহীহুল জামে’, হা/৩৭২৬, ছহীহ)।

 

প্রশ্ন (৩৭) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের ছালাত শেষে ইমাম মুক্তাদীরকে নিয়ে কবরবাসীর কল্যাণের উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেন। এভাবে মুনাজাত করা যাবে কি? যদি না যায়, তাহলে তাদের জন্য দুআ করার সঠিক পদ্ধতি কী?

-আব্দুল্লাহ

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : জুম‘আ, ঈদায়েন কিংবা এ ধরনের বিশেষ কোন দিনকে কেন্দ্র করে সম্মিলিত মুনাজাত করা বিদ‘আত বা শরী‘আতের মধ্যে নতুন আবিষ্কার। এর সপক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এই আমল অবশ্য পরিত্যাজ্য। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,    مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ.. ‘যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭)। তাদের জন্য বিভিন্ন সময়ে দু‘আ করা যায়। যেমন, (এক) কবর যিয়ারতের সময় একাকী হাত তুলে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জন্য দু‘আ করা (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৪; নাসাঈ, হা/৩৯৬৪)। (দুই) গভীর রাতে উঠে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে তাদের জন্য হাত তুলে দু‘আ করা (আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৭৫৩; ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮)। (তিন) ফরয ছালাতের শেষ বৈঠকে মাসনূন দু‘আসমূহ পাঠ করার সময়ে তাদের জন্য দু‘আ করা (ছহীহ বুখারী, হা/৮৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৪০২)।

 

প্রশ্ন (৩৮) : কুড়িয়ে পাওয়া টাকা-পয়সা ব্যবহারের ব্যাপারে শারঈ বিধান কী?

-হাসিনুর রহমান

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের বিষয়ে হুকুম তিন ধরনের। প্রথমত, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুটি যদি গুরুত্বপূর্ণ ও দামী কোনো ধন-দৌলত না হয় তাহলে মালিকের খোঁজ করা ছাড়াই সে সেটা থেকে উপকার গ্রহণ করতে পারে (আবুদাঊদ, হা/১৭১৭)। চাইলে মসজিদ বা মাদরাসায় দানও করতে পারে। ভালো কাজ হিসাবে তাতে দু’জনই নেকী পাবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৭; মিশকাত, হা/২১০)।

দ্বিতীয়ত, যদি কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস পরিমাণ মতো হয় তবে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য এক বছর যাবৎ প্রচার করতে হবে। না পাওয়া গেলে নিজে ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারে (নাসাঈ, হা/২৪৯৪; মিশকাত, হা/৩০৩৬)।

তৃতীয়ত, যদি এমন কোনো প্রণী কুড়িয়ে পাওয়া যায় যে নিজের হিফাযত নিজেই করতে পারে। ছোট হিংস্র প্রাণী থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারে। যেমন উট ও ঘোড়া। তাহলে তাকে উঠিয়ে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যেতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। বরং তাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দিতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪২৮)।

 

প্রশ্ন (৩৯) : কয়েকজন ব্যক্তি একটি টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। কিন্তু গ্লাস একটি। এমতাবস্থায় গ্লাসটি বাম হাতে ধরে ডান হাত ঠেকিয়ে পানি পান করা যাবে কি?

-নাজনীন

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত পদ্ধতি সুন্নাত সম্মত নয়। সুন্নাত হচ্ছে ডান হাত দিয়ে খাওয়া এবং পান করা। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কিছু খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পান করে, তখন সে যেন ডান হাতে পান করে’ (মুসলিম হা/২০২০; মিশকাত হা/৪১৬২)। অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘সাবধান! তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে না খায় এবং পান না করে। কেননা শয়তান তার বাম হাতে খায় এবং সে হাতে পানও করে’ (মুসলিম হা/২০২০; মিশকাত হা/৪১৬৩)। রুচির সমস্যা হলে সে ভালোভাবে হাত চেটে খেয়ে টিস্যু ব্যবহার করে ডান হাতে খাওয়ার চেষ্টা করবে।

 

প্রশ্ন (৪০) : অনেকেই কুরআন তেলাওয়াত শেষে তাতে চুম্বন করে। এটা করা কি ঠিক?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কুরআন তেলাওয়াত শেষে তাতে চুম্বন করা ঠিক নয়। বরং কুরআন তেলাওয়াত শেষে নি¤েœাক্ত দু‘আটি পড়া যায়। তা হল, سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لآ إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ

উচ্চারণ : সুবহা-নাকা ওয়া বিহামদিকা, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা (সুনানুন নাসাঈল কুবরা, হা/১০১৪০; আমালুল ইয়াওমে ওয়াল লায়লে লিন নাসাঈ, হা/৩০৮)।

 

প্রশ্ন (৪১) : মেয়েরা কি কবরস্থানে যেতে ও কবর যিয়ারত করতে পারবে?

-জুলহাস উদ্দীন

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : মেয়েরা কবরস্থানে যেতে ও কবর যিয়ারত করতে পারে। একদা আয়েশা (রাঃ) তার ভাই আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর (রাঃ)-এর কবর যিয়ারত করেন। তাঁকে বলা হ’ল, রাসূল (ছাঃ) কি কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন, পরে তিনি অনুমতি দিয়েছেন (আলবানী, আহকামুল জানায়েয, ‘মহিলাদের কবর যিয়ারত’ বিষয়ক আলোচনা)। এছাড়া তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে কবর যিয়ারত করার দু‘আ শিক্ষা দিয়েছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৪; নাসাঈ, হা/২০৩৭; আহমাদ, হা/২৫৩২৭; মিশকাত, হা/১৭৬৭)। তবে কান্নাকাটি করলে যাওয়া যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) কবর যিয়ারতকারিনী মহিলাদের প্রতি লা‘নত করেছেন। কোন কোন মুহাদ্দিছ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মহিলাদের কবর যিয়ারত করাকে অপসন্দ করেছেন তাদের ধৈর্যের স্বল্পতা এবং অস্থিরতার আধিক্যের কারণে (তিরমিযী, হা/১০৫৬; মিশকাত, হা/১৭৭০)।

 

প্রশ্ন (৪২) : মুনাজাত শেষে আমীনবলার পর সুম্মা আমীনবলার পক্ষে কোন হাদীছ আছে কি?

-নাজমুল হক্ব

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : ‘সুম্মা আমীন’ অর্থ হচ্ছে অতঃপর আবারো আমীন! সুন্নাতী দু‘আ পাঠ করে অথবা শ্রবণ করে বান্দা আল্লাহর কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমীন’ বা ‘হে আল্লাহ তুমি কবুল করো’। আর আরবী ভাষার ব্যাকরণ মতে একটি শব্দ একাধিকবার বললে আধিক্য বা দৃঢ়তা বুঝায়। তাই ‘আমীন’ বলার পর ‘সুম্মা আমীন’ বললে আল্লাহর প্রতি বান্দার অধিক অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়।  যেটা দু‘আর উদ্দেশ্য ও শারঈ নির্দেশনা। এছাড়া আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন, আমীন ইয়া রাব্ব, আমীন ইয়া রাহমান ইত্যাদীও বলা যায়। তবে ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে মুছল্লী শুধু ‘আমীন’ বলবে। কেননা এক্ষেত্রে বাড়তি বা অতিরিক্ত কিছু বলার সুযোগ নেই (ছহীহ বুখারী, হা/৭৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১০; মিশকাত, হা/৮২৫)।

 

প্রশ্ন (৪৩) : দাওয়াত দিয়ে নিজ পরিবার-পরিজনকে গ্রহণ করাতে না পারলে কি বাহিরে দাওয়াতী কাজ করা যাবে?

-আমীনা আক্তার

শেরপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, যাবে। কেননা, রাসূল (ছাঃ) নিজ চাচা আবু তালেবকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। এতদসত্ত্বেও রাসূল (ছাঃ) রিসালাতের দাওয়াত অব্যাহত রেখেছিলেন এবং স্বীয় উম্মাতকে তা অব্যাহত রাখতে বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার পক্ষ হতে যদি একটি আয়াতও জানা থাকে, তাহলে তা পৌঁছে দাও। বনী ইসরাঈলের কাহিনী বর্ণনা কর, তাতে কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তাঁর বাসস্থান জাহান্নামে প্রস্তুত করে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১; মিশকাত, হা/১৯৮)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের মাঝে এমন একটি দল থাকা চাই যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, ভাল কাজের আদেশ করে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর তারাই সফলকাম’ (আলে-ইমরান, ১০৪)। এমনকি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হ’লে পরকালে প্রশ্নের সম্মুখীন হ’তে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৯; মিশকাত, হা/৩৬৮৫)।

 

প্রশ্ন (৪৪) : টাকা-পয়সা ছাড়া স্বর্ণ বা অন্য কোন সম্পদ দ্বারা মোহরানা আদায় করা যাবে কি

-হাবীবুর রহমান

আদমদিঘি, বগুড়া।

উত্তর : হ্যাঁ, টাকা-পয়সা ছাড়াও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির যে কোন বস্তু দিয়ে মোহরানা প্রদান করা যায়। সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। এরপর এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে তাহ’লে তাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দিয়ে দেন। তখন তিনি বললেন, ‘মোহরানা স্বরূপ তোমার নিকট কিছু আছে কি? তখন সে বলল, আমার নিকট এ লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেন, ‘যদি একটি লোহার আংটিও হয় তাহ’লে তা দিয়ে মোহরানা দিয়ে দাও’। লোকটি লোহার অংটিও দিতে না পারায় আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) পবিত্র কুরআনের কিছু সূরা শিখানোকে মোহর হিসাবে ধরে বিবাহ পড়িয়ে দিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২৫; মিশকাত, হা/৩২০২)। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এক মুষ্টি খাদ্য দিয়েও মোহরানা প্রদান করতাম (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/২১১০)। ছাবেত ইবনু কায়েস (রাঃ) তার স্ত্রীকে মোহরানা স্বরূপ একটি বাগান প্রদান করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭৩; মিশকাত, হা/৩২৭৪)।

 

প্রশ্ন (৪৫) : মসজিদের পিলার বা খুঁটির ভিতর দিয়ে কাতার দেওয়া যাবে কি?

-শহীদ বিন আযহার

আদমদিঘি, বগুড়া।

উত্তর : না, কাতারের মাঝে পিলার বা খুঁটি থাকলে সেখানে ছালাত আদায় করা যাবে না। মু‘আবিয়া ইবনে কুররা (রাঃ)-এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে আমাদেরকে দুই খুঁটির মাঝখানে কাতারবদ্ধ হতে নিষেধ করা হত এবং এ থেকে আমাদেরকে কঠোরভাবে বিরত রাখা হত (ইবনে মাজাহ, হা/১০০২)। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে আমরা (এভাবে দাঁড়ানো থেকে) এড়িয়ে যেতাম (ছহীহ তিরমিযী, হা/২২৯, সনদ ছহীহ)। তবে লোক সমাগম বেশী হওয়ার কারণে স্থান সংকুলান না হলে বাধ্য হয়ে দাঁড়ানো যেতে পারে। অনুরূপ পিলারের মাঝে কেউ একাকী ছালাত আদায় করলে অথবা ইমাম একা দাঁড়ালে কোন সমস্যা নেই।

 

প্রশ্ন (৪৬) : কবরস্থানে ওয়ায-মাহফিল করা যাবে কি?

-আবু যায়েদ

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : না, কবরস্থানে ওয়ায-মাহফিল করা যাবে না। এমনকি সেখানে বসাও যাবে না। আবু মারছাদ গানাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কবরের উপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে ছালাত আদায় কর না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২; মিশকাত, হা/১৬৯৮)। তবে কবরস্থানের যে সকল জায়গায় কবর দেয়া হয়নি সে সকল জায়গায় নিম্ববর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে ওয়ায-মাহফিল করা বা দ্বীনী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, কবরবাসীরা বক্তৃতা শুনতে পাবে; তাদের শাস্তি মাফ হবে; তারা মাহফিলের নেকী পাবে ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ধারণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে।

 

প্রশ্ন (৪৭) : কবরস্থানের উন্নয়নকল্পে কি দান করা যাবে? মাযারস্থ কবরে দান করলে কি গোনাহ হবে?

-আবু যায়েদ

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : কবরস্থানের উন্নয়নকল্পে দান করা যাবে। কেননা, তা ভাল কাজে অংশ গ্রহণকেই শামিল করে। তবে মাযারস্থ কবরে দান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, সেখানে দানকৃত অর্থ-সম্পদ শিরকী ও বিদ‘আতী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরষ্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)।

 

প্রশ্ন (৪৮) : সম্মানিত ব্যক্তিদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা যাবে কি?

-আবুল হাসান

গিন্দগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : কোন ব্যক্তিরই পায়ে সালাম করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে সমাজে কদমবুচি নামে পদ চুম্বনের যে প্রথা দেখা যায় সেটাও বিধর্মী প্রথা। কোন কোন ছাহাবী জাহেলিয়াতের পুরাতন স্বভাব অনুযায়ী কখনো কখনো ভালবাসার আতিশয্যে নবী করীম (ছাঃ)-এর হাত, পা, কটিদেশ ইত্যাদি চুম্বন করতে চেয়েছেন। কিন্তু সাধারণভাবে সকল ছাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের যুগে মুসলিম সমাজে কোথাও এ রেওয়াজ ছিল না। অতএব, দ্বীন ইসলামের মধ্যে যেকোন সৃষ্ট রীতি প্রত্যাখ্যাত ও বিদ‘আত। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন রীতি সৃষ্টি করল, যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)। অতএব, পিতা-মাতা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শ্বশুর-শাশুড়ি বা কোন মুরব্বীর পায়ে সালাম করা শরী‘আত সম্মত নয়।

প্রশ্ন (৪৯) : মহিলারা ঋতুবতী অবস্থায় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দুআ-দরূদ পড়তে পারবে কি?

-আফসানা মারিয়া

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : হ্যাঁ, মহিলারা ঋতুবতী অবস্থায় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দু‘আ-দরূদ পড়তে পারবে। উম্মু আত্বীয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ঈদের দিনে ঋতুবতী ও পর্দানশীন মহিলাদেরকে ঈদের মাঠে বের করার জন্য আমাদের আদেশ করা হয়েছে। তবে ঋতুবতী মহিলারা মুছাল্লা থেকে পৃথক থাকবে এবং মুসলিমদের জামা‘আতে ও দু‘আতে শরীক হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০; মিশকাত, হা/১৪৩১)।

 

প্রশ্ন (৫০) : ইক্বামত দেওয়ার সময় ডানে ও বামে ঘাড় ঘুরাতে হবে কি?

-আবুল হাসান

গিন্দগঞ্জ, চাঁপাইনবানগগঞ্জ।

উত্তর : ইক্বামতের সময় ডানে ও বামে মুখ বা ঘাড় ঘুরানোর পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে আযান দেওয়ার সময় মুয়াযযিনকে ‘হাইয়া আলাছ ছালাহ’ বলার সময় ডানে এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার সময় বামে মুখ ঘুরাতে হবে। আবু যুহায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বেলাল (রাঃ)-কে আযানের সময় দেখেছি, তিনি ‘হাইয়া আলাছ ছালাহ ও ফালাহ’ বলার সময় যথাক্রমে ডানে ও বামে মুখ ফিরাতেন (তিরমিযী, হা/১৯৭; ছহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ, ২/২৮৫ পৃঃ; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩০)।