প্রশ্ন (১) : শাওয়ালের ছয়টি ছিয়ামের ফযীলত কী

-মনিরুল ইসলাম গোদাগাড়ী রাজশাহী।

উত্তর : রামাযানের ছিয়াম পালনের সাথে শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম পালন করলে পূর্ণ বছর ছিয়াম পালনের নেকী পাওয়া যায়। আবু আইয়ূব আনছারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ ‘যে ব্যক্তি রামাযানের ছিয়াম পালন করল অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম পালন করল, এটা (তার) পূর্ণ বছরের ছিয়ামের সমান হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; মিশকাত, হা/২০৪৭)।

 

প্রশ্ন (২) : কারো যদি রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম অবশিষ্ট থাকে তাহলে সে শাওয়ালের ছিয়াম আগে করবে না ক্বাযা ছিয়াম আগে করবে?

-মাহমূদা খাতুন লালপুর, নাটোর।

উত্তর : শাওয়াল মাস চলে গেলে আর শাওয়ালের ছিয়াম পালন করা যায় না। আর ক্বাযা ছিয়াম পালনের সময় থাকে পরের রামাযান পর্যন্ত। আয়েশা (রাঃ)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের রামযানের ছিয়াম বাকী থাকত, আমি তা (পরবর্তী) শা‘বান ব্যতীত পূর্ণ করতে পারতাম না (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬; মিশকাত, হা/২০৩০)। তাই শাওয়ালের ছিয়াম পালনের পর অন্য মাসে ক্বাযা ছিয়াম পালন করা যাবে। সাধ্য থাকলে শাওয়াল মাসের মধ্যেই ক্বাযা ছিয়ামগুলো পালন করে বাকী দিনগুলোতে শাওয়ালের ছিয়াম রাখতে পারে। উল্লেখ্য যে, মহিলাদের ঋতুর কারণে কোনো ছিয়াম ছুটে গেলে তা আগে করবে। তারপরে শাওয়ালের ছিয়াম করবে এমন বিবরণ ঠিক নয়।

 

প্রশ্ন (৩) : রামাযান মাসে ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই কি ৬০টি করে ১২০টি ছিয়াম রাখতে হবে? নাকি শুধু ৬০টি রাখতে হবেএছাড়া ছিয়াম পালনে অক্ষম হলে ৬০ জন মিসকীনকে এক সঙ্গে খাওয়াতে হবে না বারে বারে খাওয়াতে হবে?

-নাছিরুদ্দীন তালা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : স্বামীকে কাফফারাস্বরূপ একাধারে ৬০টি ছিয়াম পালন করতে হবে আর স্ত্রীকে শুধু একদিন ক্বাযা করতে হবে। ছিয়াম পালনে অক্ষম ব্যক্তিকে ৬০ জন মিসকীন খাওয়াতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  মিসকীনকে খাওয়ানোর ব্যাপারে

একসঙ্গে কথাটি বলেননি। যেমনভাবে তিনি একাধারে ছিয়াম পালনের কথা বলেছেন। সে হিসাবে সামর্থ্যানুসারে থেমে থেমে খাওয়ালেও হবে। তবে একসঙ্গে খাওয়ানোই উত্তম। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট বসে ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ)! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন, তোমাকে কিসে ধ্বংস করল? সে বলল, আমি রামাযানের ছিয়াম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি কি একটি দাস মুক্ত করার সামর্থ্য রাখ? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তাহলে তুমি কি ক্রমাগত দু’মাস ছিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  বললেন, ‘তুমি কি ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বললেন, ‘তুমি বসো’। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট খেজুর ভর্তি একটা পাত্র নিয়ে আসা হলো। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘এই পাত্রের খেজুরগুলো তুমি ছাদাক্বাহ করে দাও’। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি কি এগুলো আমার চেয়েও গরীবকে ছাদাক্বাহ করব? আল্লাহর  কসম! মদীনার উভয় প্রান্তে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা আমার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবী। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এমনভাবে হেসে উঠলেন, যাতে তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি এটা নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারের লোকদের খাওয়াও’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১১১; মিশকাত, হা/২০০৪)।

 

প্রশ্ন (৪) : মসজিদ নির্মাণের কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে কি?

-সাইফুল ইসলামو নরসিংদী সদর।

উত্তর : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাকাত বণ্টনের যেসব খাত উল্লেখ করেছেন, মসজিদ তার অন্তর্ভুক্ত নয় (তাওবা, ৬০)। সুতরাং মসজিদ নির্মাণের জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ‘যাকাত বণ্টন’ অধ্যায়, ১/৪৭০ পৃ.)।

 

প্রশ্ন (৫) : বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি মেয়ে পক্ষ জোরপূর্বক কিছু জিনিস-পত্র দেয়, তাহলে কি তা যৌতুক হবে?

-অনিক চৌধুরীو সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : কোনো প্রকার দাবি-দাওয়া ছাড়া কিংবা সামাজিক প্রথার কাছে যিম্মি না হয়ে কনে পক্ষ যদি বরকে কোনো কিছু প্রদান করে, তাহলে তা গ্রহণ করায় শারঈ কোনো বাধা নেই। কেননা কেউ স্বেচ্ছায় কোনো কিছু প্রদান করলে তা নেওয়া যায় (বুখারী, হা/৭১৬৩; মুসলিম, হা/১০৪৫; মিশকাত, হা/১৮৪৫)। তবুও বিবাহের সময় স্বেচ্ছায় দেওয়া হলেও কোনো কিছু না নেওয়াই উত্তম। কেননা তা প্রচলিত যৌতুককে প্রমাণ করে।

 

প্রশ্ন (৬) : টাখনুর নিচে চলে যায় এমন প্যান্ট যদি গ্রাহকের কথামত টেইলর বা দর্জিরা তৈরি করে দেয়, তাহলে কি তাদের পাপ হবে

-আব্দুল্লাহو তের রশিয়া, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা হারাম। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টি দিবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৪৩১১)। সুতরাং টাখনুর নিচে চলে যায় এমন প্যান্ট তৈরি করে দিলে দর্জিদের পাপ হবে। কেননা তাতে পাপকাজে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। অথচ যে কোনো পাপ কাজে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা নিষেধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা নেকী ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। পাপ ও আল্লাহদ্রোহিতার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে হেদায়াতের পথে আহবান করল, বিনিময়ে যত লোক তার অনুসরণ করবে, তাদের নেকীর সমপরিমাণ তার নেকী হবে। এতে তাদের (অনুসারীদের) বিন্দুমাত্রও নেকী কমে যাবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর পথে আহ্বান করল, বিনিময়ে যত লোক তার অনুসরণ করবে, তাদের পাপের সমপরিমাণ তার পাপ হবে। এতে তাদের (অনুসারীদের) বিন্দুমাত্রও পাপ কমে যাবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭৪; মিশকাত, হা/১৫৮)।

 

প্রশ্ন (৭) : মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালান্স বা টাকা ধার নেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল্লাহو তের রশিয়া, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : মোবাইলে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্স, লোন বা ধার নেয়ার দুটি দিক থাকতে পারে। ১. যত টাকা লোন নেওয়া হয় পরিশোধের সময় তত টাকাই কাটা হয়। এমনটি হলে মোবাইলে টাকা ধার বা লোন নেওয়াতে শারঈ কোন বাধা নেই এবং এতে কোনো দ্বিমতও নেই। কারণ স্বর্ণ, রৌপ্য, মুদ্রা (টাকা-পয়সা), কয়েক প্রকার খাদ্য সমানে সমান এবং নগদে পরিশোধ হলে তা সূদ হয় না (ছহীহ বুখারী, হা/২১৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪; মিশকাত, হা/২৮০৮)। ২. যদি পরিশোধের সময় কিছু বেশি টাকা কেটে নেয় তাহলে তা জায়েয হবে কি না, এক্ষেত্রে মতভেদ আছে। কেউ বলেছেন, এটা সূদ বলে গণ্য হবে। কারণ, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক যে ঋণ কিছু সুবিধা নিয়ে আসে সেটাই সূদ’ (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১২১২)। আবার কেউ বলেছেন, মোবাইল কোম্পানির সাথে আমাদের যে চুক্তি তা  ‘বায়ঊল মানফাআ’ বা উপকার ভাড়া নেওয়া। আমরা মোবাইল কোম্পানিকে টাকা দিয়ে যে ব্যালেন্স নেই তা কথা বলার সুবিধার বিনিময়ে এক প্রকার ভাড়া প্রদান করা। সুতরাং যতক্ষণ ব্যালেন্স প্রদান ও ব্যালেন্স কাটার বিষয়টি নির্ধারিত ও স্পষ্ট থাকে ততক্ষণ তা সূদ বলে গণ্য হবে না। তবে আমাদের উচিত সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা।

 

প্রশ্ন (৮) : আমীর নিযুক্ত না করলে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু হবে’- কথাটির সত্যতা কতটুকু?

-আনোয়ার হোসেন, কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিল, ক্বিয়ামতের দিন সে আল্লাহর  সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার কাছে কোনো দলীল বা প্রমাণ থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, তার কাঁধে কোনো বায়‘আত নেই, সে জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৫১; মিশকাত, হা/৩৬৭৪)। ‘তার কোনো দলীল থাকবে না’ এই কথার উদ্দেশ্য হলো, لَاحُجَّةَ لَهُ فِي فِعْلِهِ وَلَا عُذْرَ لَهُ يَنْفَعُهُ ‘তার আনুগত্য ত্যাগের কোনো দলীল থাকবে না এবং এমন কোনো অজুহাত পেশ করতে পারবে না, যা তার সামান্য উপকারে আসবে’ (শারহুন নববী, ১২/২৪০ পৃ.)

বর্তমানে এই হাদীছগুলোকে দলীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা হাদীছের অর্থের বিকৃতি। হাদীছগুলো মূলত মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় নেতা বা খলীফা বা কেন্দ্রীয় শাসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা মুসলমানদের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তারাই খারেজী তদেরই জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু হবে। যেমন শায়খ আলবানী  (রহিঃ) বলেন,

واعلم أن الوعيد المذكور إنما هو لمن لم يبايع خليفة المسلمين وخرج عنهم وليس كما يتوهم البعض أن يبايع كل شعب أو حزب رئيسه بل هذا هو التفرق المنهي عنه في القرآن الكريم.

জেনে রাখা দরকার, উক্ত হুঁশিয়ারী বাণী ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে মুসলিম খলীফার হাতে বায়‘আত করেনি এবং মুসলিম জামা‘আত থেকে বের হয়ে গিয়েছে। বিষয়টা তেমন নয়, যেমনটা অনেকেই মনে করে থাকে যে, প্রত্যেক দল-উপদল তাদের প্রধানের হাতে বায়‘আত করবে। বরং এটা (দল-উপদলের প্রধানের হাতে বায়‘আত করা) মুসলিম সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করার শামিল। যা কুরআনুল কারীমে নিষেধ করা হয়েছে’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৮৪, ২/৬৭৭ পৃ.)।

 

প্রশ্ন (৯) : আবুদাঊদের ৪৯৩২ নং হাদীছে বলা হয়েছে যে, আয়েশা (রাঃ)-এর দুইপাখা ওয়ালা একটি খেলনার ঘোড়া ছিলযা নিয়ে তিনি খেলতেনকিন্তু হাদীছে এসেছে কোনো প্রাণীর মূর্তি বা ছবি দিয়ে ঘর-বাড়ী সাজানো যাবে নাথাকলে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না? এর সমাধান কী?

-ফযলে মাহমূদ, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : পুতুল দিয়ে ঘর সাজানো, প্রিয়জনের স্মৃতি সংরক্ষণ কিংবা সম্মানের জন্য ঘরে যে কোনো ছবি-মূর্তি ও পুতুল রাখা সর্বাবস্থায় হারাম। আবু তালহা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যেই ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৬; মিশকাত, হা/৪৪৮৯)। তবে যে স্থানে ছবি দলিত-মথিত হয়, তাকে সম্মান-শ্রদ্ধা জানানো হয় না; সেখানে খণ্ডিত ছবি থাকলে অসুবিধা নেই। যেমন বিছানার চাদর, বালিশের কভার ইত্যাদি। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে বললেন, আমি গত রাতে আপনার নিকট এসেছিলাম, কিন্তু আমি ঘরে প্রবেশ করিনি। কারণ গৃহদ্বারে অনেকগুলো ছবি ছিল, ঘরের দরজায় একখানা পর্দা টাঙ্গানো ছিল যাতে অনেকগুলো প্রাণীর ছবি ছিল এবং ঘরের অভ্যন্তরে একটি কুকুর ছিল। সুতরাং ঐ সমস্ত ছবিগুলোর মাথা কেটে ফেলার আদেশ দিন, যা ঘরের দরজায় রয়েছে। অতঃপর তা কাটা হলে গাছের আকৃতি হয়ে যাবে। পর্দাটি সম্পর্কে আদেশ দিন তাকে কেটে দুটি গদি তৈরি করা হবে, যা বিছানা এবং পায়ের নিচে থাকবে। আর কুকুরটি সম্পর্কে আদেশ দিন, যেন তাকে ঘর থেকে বের করা হয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাই করলেন’ (তিরমিযী, হা/২৮০৬; আবুদাঊদ, হা/৪১৫৮; মিশকাত, হা/৪৫০১)।

আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে যে সকল পুতুল ছিল তা ছিল খেলনা পুতুল (ছহীহ বুখারী, হা/৬১৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৪০; মিশকাত, হা/৩২৪৩)। শিশুদের খেলনা জাতীয় পুতুল ঘরে রাখা যায়। তবে এটা জায়েয হওয়ার জন্য কয়েকটি মূলনীতি মনে রাখা যরূরী। ১. পুতুলগুলো কাপড় বা পশমের তৈরি হবে যাতে চোখ, কান, নাক, মুখ থাকবে না। আর আয়েশা (রাঃ)-এর নতুন পুতুলগুলো এরকমই ছিল। সেগুলো  প্লাস্টিক বা পিতলের ছিল না। কারণ আয়েশা (রাঃ)-এর পুতুলগুলো ছিল কাপড়ের তৈরি (আবুদাঊদ, হা/৪৯৩২; মিশকাত, হা/৩২৬৫)। ২. পুতুলের চোখ, মুখ, ঠোঁট, নাক ইত্যাদির ছাপ থাকবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) তার ঘরে থাকা কাপড়ের পূর্ণ ছবিগুলো ছিঁড়ে খণ্ড খণ্ড করে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন (আবুদাঊদ, হা/৪১৫৮; মিশকাত, হা/৪৫০১)। ৩. পুতুলগুলো ঘর সাজানোর উদ্দেশ্যে রাখা হবে না। বরং বাচ্চাদের খেলনার জন্য রাখতে হবে। কারণ আয়েশা (ছাঃ)-এর পুতুলগুলো খেলনার জন্য ছিল।

 

প্রশ্ন (১০) : এনজিও কর্তৃক পরিচালিত মসজিদে ইমামতি করা বৈধ হবে কি?

-আহমাদ সেলিম, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : এনজিও হলো আন্তর্জাতিক অলাভজনক কোনো বেসরকারি সংস্থা, যারা সরকারের অনুমতিক্রমে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে। সুতরাং যদি কোনো এনজিও সংস্থা শরী‘আত বহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডর সাথে জড়িত না থাকে, তাহলে তাদের অর্থায়নে পরিচালিত মসজিদে ইমামতি করাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কোনো এনজিও সংস্থা যদি শরী‘আত বহির্ভূত কর্মকাণ্ড; যেমন সূদ, পরিবার পরিকল্পনা, তরুণ-তরুণীর অবাধ মেলামেশা ও যৌনাচারে উৎসাহিত করার মতো কোনো কাজে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের পরিচালিত মসজিদে ইমামতি করা যাবে না। কারণ তাদের মসজিদে ইমামতি করার মাধ্যমে তাদের শরী‘আত বিরোধী কাজকেই সমর্থন করা হয়, যা নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাপ ও আল্লাহদ্রোহিতার কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)।

 

প্রশ্ন (১১) : কোনো নারী বা পুরুষ মারা গেলে কি অন্যান্য নারী-পুরষ তাকে দেখতে পারে?

-মুত্তালিব, গাবতলী, বগুড়া।

উত্তর : মৃত মানুষ জীবিত মানুষের মতোই সম্মানিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গার মতোই (অপরাধ)’ (আবুদাঊদ, হা/৩২০৭; মিশকাত, হা/১৭১৪)। তাই মৃত ব্যক্তি নারী হলে ঐ সকল পুরুষ তাদেরকে দেখা উচিত নয়, যাদের থেকে তাদের পর্দা করা ফরয ছিল। তবে মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে বেগানা নারীরা তাকে দেখতে পারে। কেননা জীবিত অবস্থায়ও তাদের দেখার অনুমতি ছিল। তবে শর্ত হচ্ছে অন্তরে কুমন্ত্রণা থাকা যাবে না (ছহীহ বুখারী, হা/৯৮৮; নাসাঈ, হা/১৫৯৫; মিশকাত, হা/৩২৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৫৭৭)।

 

প্রশ্ন (১২) : আমার বাবা মামার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাড়ী করেছেএই বাড়ী ভাড়ার টাকা দিয়ে আমরা সাংসারিক খরচ-খরচা করে থাকিএটি কি হালাল হবে?

-তামিম আহমেদ, নওগাঁ সদর।

উত্তর : যৌতুক একটি জঘণ্য সামাজিক ব্যাধি। যা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার শামিল। এ থেকে বিরত থাকা যরূরী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে-অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না। তবে উভয়ের সম্মতিতে ব্যবসায়ের মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা’ (নিসা, ২৯)। তাই যৌতুক নিয়ে বাড়ী নির্মাণ করার কাজটি জায়েয নয়। সুতরাং সন্তানদের জন্য এই হারাম উপার্জন থেকে উপকার গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

 

প্রশ্ন (১৩) : জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে পূর্বে অনেক গীবত করা হয়েছেতবে তিনি এখন বেঁচে নেইতার ব্যাপারে গীবত করার কারণে উক্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য বর্তমানে করণীয় কী?

-রবীউল ইসলাম, চাঁদমারী, পাবনা।

উত্তর : গীবত বান্দার সাথে জড়িত পাপ। বান্দার সাথে জড়িত পাপ বান্দার কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কেউ যদি কারও প্রতি যুলুম করে থাকে সম্মান কিংবা অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে, তাহলে সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তা মীমাংসা করে নেয়, সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন কোনো দীনার বা দিরহাম (স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রা) থাকবে না…’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৫৮০)। এখন যার গীবত করা হয়েছে, সে যদি মারা যায় তাহলে চেষ্টা করতে হবে, যেখানে বা যার কাছে তার গীবত করা হয়েছে সেখানে এবং সে ব্যক্তির কাছে ওই মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করবে। উদাহরণস্বরূপ- কেউ যদি ফেসবুকে কারো বিরুদ্ধে গীবত করে তাহলে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর সে তার প্রশংসা করে ফেসবুকে লিখতে পারে। পাশাপাশি ঐ লোকের নামে কিছু অথ-সম্পদ দান করবে। আশা করা যায় এসব পদ্ধতি অবলম্বন করলে ক্ষমা হতে পারে।

 

প্রশ্ন (১৪) : নামের পরে ভাই শব্দ ব্যবহার করে কাউকে ইবরাহীম ভাইবা ইসমাঈল ভাইইত্যাদি বলে ডাকা যাবে কি?      

-নিয়ামুল ইসলাম, মক্তবপাড়া, পাবনা।

উত্তর : সম্বোধিত ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়ার জন্য নামের শেষে ভাই, সাহেব ইত্যাদি যুক্ত করা যায়। এতে শারঈ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ ‘নিশ্চয় মুমিনেরা পরস্পর ভাই ভাই’ (হুজরাত, ১০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ ‘এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই’ (বুখারী, হা/২৪৪২ )।

 

প্রশ্ন (১৫) : তেলাওয়াতের সিজদা দেওয়ার সময় সিজদার দুআ পাঠ শেষে নিজের ভাষায় কোনো দুআ পড়া যাবে কি?

-আমিনা আক্তার, শেরপুর।

উত্তর : তেলাওয়াতের সিজদা দেওয়ার সময় সিজদার দু‘আ ব্যতীত নিজের ভাষায় কিংবা আরবীতে অন্য কোনো দু‘আ পড়া যাবে না। পড়লে তা বিদ‘আত হবে। কেননা এমন আমল রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত নয়। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)। সুতরাং সিজদার আয়াত পাঠ করলে সিজদায় যেয়ে শুধুমাত্র নিম্বের দু‘আটি পড়বে,

سَجَدَ وَجْهِى لِلَّذِىْ خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ.

‘সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাক্বাহূ ওয়া শাকক্বা সাম‘আহূ ওয়া বাছারাহূ বিহাওলিহী ওয়া কুওয়াতিহী, ফাতাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খা-লিক্বীন’ (আবুদাঊদ, হা/১৪১৪; তিরমিযী, হা/৫৮০; মিশকাত, হা/১০৩৫; সূরা মুমিনূন, ১৩; তামামুল মিন্নাহ, ২৬৯ পৃ.)।

 

প্রশ্ন (১৬) : সিজদা দেওয়ার সময় পায়ের গোড়ালি একত্রিত করে রাখার হাদীছ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন

-মনিরুল ইসলাম, দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : সিজদার সময় গোড়ালিসহ উভয় পা-কে একসঙ্গে মিলিয়ে ও পায়ের আঙ্গুলগুলোকে ক্বিবলামুখী করে রাখতে হবে। এমর্মে আয়েশা (রাঃ)-বলেন,فَقَدْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مَعِيْ عَلَى فِرَاشِي فَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا رَاصًّا عَقِبَيْهِ مُسْتَقْبِلاً بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ الْقِبْلَةَ ‘আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে একই বিছানায় ছিলাম। অতঃপর আমি তার গোড়ালি নিজের দিকে পেলাম এমতাবস্থায় তাঁর পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলার দিকে ছিল’ (ছহীহ হিব্বান, হা/১৯৩৩, সনদ ছহীহ; ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃ. ১২৪)।

 

প্রশ্ন (১৭) : পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমানো যাবে কি?

-হাসিনুর রহমান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ঘুমানোর সময় সুন্নাত হলো, দু‘আ পড়ে ডান কাতে শোয়া। বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন শয্যায় আশ্রয় নিতেন তখন ডান পার্শ্বের উপর শুইতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭১৪; মিশকাত, হা/২৩৮৪-৮৫)। তবে কোন দিকে পা বা মাথা থাকবে সে ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) কিছু বলেননি। অতএব, আরামের সুবিধার্থে যে কোনো দিকে মাথা ও পা রেখে ঘুমানো যায়। এতে শারঈ কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সমাজে প্রচলিত আছে যে, ‘পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমালে গুনাহ হবে’ এটি একটি ভুল কথা।

 

প্রশ্ন (১৮) : আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে পোশাকের পাশাপাশি নারী-পুরুষের ফটোগুলোও ডিজাইন করিএতে কি কোনো গুনাহ হবে?

-হাসিনুর রহমান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রাণীবিহীন যেকোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য বা তার ছবি অংকনে শারঈ কোনো বাধা নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমাকে একান্তই যদি তা (ছবি অংকন) করতে হয়, তাহলে গাছ এবং যার জীবন নেই, সে সব বস্তুর ছবি তৈরি করো (ছহীহ মুসলিম, হা/২১১০; মিশকাত, হা/৪৪৯৮)। কিন্তু নারী-পুরুষসহ যেকোনো প্রাণীর ছবি বা ফটো ডিজাইন করলে গুনাহ হবে এবং এ কারণে শাস্তি পেতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُوْرَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَيُعَذِّبُهُ فِيْ جَهَنَّمَ.  ‘প্রত্যেক ছবি অংকনকারী বা প্রস্তুতকারী জাহান্নামের অধিবাসী হবে। তার প্রস্তুতকৃত প্রতিটি ছবিকে জীবন দেওয়া হবে, সে সময় জাহান্নামে তাকে ঐগুলো শাস্তি দিতে থাকবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২২৫, ৫৯৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২১১০; মিশকাত, হা/৪৪৯৮)।  আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘ক্বিয়ামতের দিনে ছবি বা মূর্তি নির্মাতাদের সর্বাধিক কঠিন শাস্তি হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৬৫৯)।

 

প্রশ্ন (১৯) : এ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম বা সুগন্ধি ব্যবহার করে ছালাত আদায় করা বৈধ হবে কি?

-ইমরান, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : এ্যালকোহল তথা মাদকদ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য-পানীয় নিঃসন্দেহে হারাম (মায়েদাহ, ৯০-৯১)। তবে আহার্য ব্যতিরেকে বাহ্যিক ব্যবহার্য বস্তুতে মাদকের সংস্পর্শ থাকলে তা হারাম হবে কি না এ নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মতদ্বৈততা রয়েছে। যেহেতু সেন্টে বা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বস্তুতে মিশ্রণকৃত এ্যালকোহল শরীরের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, এজন্য একে সরাসরি হারাম বলা যায় না। তাই মিশ্রণের পরিমাণ স্বল্প হলে তা ব্যবহারে আপত্তি নেই। এটা মেখে ছালাত আদায় শুদ্ধ হবে। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম’ (ফাতাওয়া উছায়মীন, নং ২৮৭, ১২/৩৭০)।

উল্লেখ্য যে, পুরুষদের জন্য এমন পারফিউম বা সুগন্ধি বা কসমেটিকস ব্যবহার করা বৈধ নয় যা দৃশ্যমান। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘পুরুষের খুশবু হলো যার রং গোপন থাকবে আর সুগন্ধি প্রকাশ পাবে। আর মহিলাদের খুশবু হলো যার রং প্রকাশ পাবে এবং সুগন্ধি গোপন থাকবে’ (তিরমিযী, হা/২৭৮৭; নাসাঈ, হা/৫১১৭-১৮; মিশকাত, হা/৪৪৪৩, সনদ ছহীহ)।

 

প্রশ্ন (২০) : আযান চলাকালীন টয়লেটে যাওয়া যাবে কি?      

-হাফিযুর রহমান, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর : পেশাব-পায়খানার চাপ থাকলে শুধু আযান কেন ছালাত চলাকালীন সময়েও টয়লেটে যাওয়া যাবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘যখন ছালাতের তাকবীর হয়, তখন যদি তোমাদের কারও পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজন হয়, তাহলে সে যেন প্রথমে পায়খানা-পেশাব সেরে নেয়’ (তিরমিযী হা/১৪২; মিশকাত, হা/১০৬৯)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, খাবার এসে গেলে (তা রেখে দিয়ে) এবং পেশাব-পায়খানার বেগ হলে তা চেপে রেখে কেউ যেন ছালাত আদায় না করে (আবুদাঊদ, হা/৮৭)। অতএব, আযান চলাকালীন পেশাব-পায়খানার বেগ হলে আগে পেশাব-পায়খানার কাজ সারতে হবে।

 

প্রশ্ন (২১) : মোজায় পেশাব ভরেছিলকিন্তু ভুলে যাওয়ার কারণে উক্ত মোজা না খুলেই ছালাত আদায় করিবর্তমানে  করণীয় কী?

-হাফিযুর রহমান, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর : এমতাবস্থায় পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) অপবিত্র জুতা পরিহিত অবস্থায় ছালাতের কিছু অংশ আদায় করেন। পরে জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে জানতে পারলে তিনি জুতা খুলে ফেলেন। কিন্তু আদায়কৃত ছালাত পুনরায় আদায় করেননি। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর ছাহাবীগণকে নিয়ে ছালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তিনি তাঁর জুতা দুটি খুলে ফেললেন এবং সেগুলোকে বামদিকে রাখলেন। অতঃপর যখন লোকেরা এটা দেখল, তখন তারাও নিজেদের জুতাসমূহ খুলে রাখল। তারপর যখন তাঁর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, কেন তোমরা তোমাদের জুতাসমূহ খুলে রাখলে? তাঁরা বলল, আমরা আপনাকে আপনার জুতা খুলে রাখতে দেখেছি তাই আমরাও আমাদের জুতা খুলে রেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে খবর দিলেন যে, আমার জুতায় ময়লা রয়েছে’। অতঃপর তিনি বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসবে সে যেন দেখে। অতঃপর যদি তার জুতায় ময়লা অথবা কষ্টের কোনো কিছু দেখে, তাহলে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং জুতা সহকারেই ছালাত আদায় করে’ (আবুদাঊদ, হা/৬৫০; দারেমী, হা/১৩৭৮; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৮৪; মিশকাত, হা/৭৬৬)।

 

প্রশ্ন (২২) : সিজদায় আগে হাত রাখবে, না-কি হাঁটু রাখবে?

-মুহাম্মাদ, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে আগে হাত রাখতে হবে এবং পরে হাঁটু রাখতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ)   হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিজদা করে, তখন যেন উটের বসায় ন্যায় না বসে, বরং দুই হাতকে যেন হাঁটুর পূর্বে যমীনে রাখে’ (আবুদাঊদ, হা/৮৪০; নাসাঈ, হা/১০৯১; দারেমী, হা/১৩২১; মিশকাত, হা/৮৯৯)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে ছহীহ মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি সিজদা করতেন তখন হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে উভয় হাতকে যমীনে রাখতেন (ছহীহ বুখারী,  হা/৮০৩)।

 

প্রশ্ন (২৩) : খত্বীব সাহেব খুৎবা দেওয়ার পর তার স্থানে কোনো ক্বারী সাহেবকে ইমামতি করতে দিতে পারেন কি?

-হাবীবুর রহমান, পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : সুন্নাত হলো যিনি খুৎবা দিবেন তিনিই ছালাতের ইমামতি করবেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এটাই নিয়মিত করেছেন। তাঁর পরে খুলাফায়ে রাশেদীনও এমনটিই করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ছালাত আদায় করো অনুরূপভাবে যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭৬; মিশকাত, হা/৬৮৩)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো (আবুদাঊদ, হা/৪৬০৭; মিশকাত, হা/১৬৫)। উল্লেখ্য, একজন খুৎবা প্রদান ও অন্যজনের ইমামতিতে ছালাত হলেও তা খেলাফে সুন্নাত হবে। তবে কারণবশত অন্যজন ইমামতি করতে পারেন (শায়খ ইবনু বায, ফাতাওয়া হাইআতুল কিবারিল উলামা, ১/৩২৬ পৃ.)।

 

প্রশ্ন (২৪) : রাতে পশু-পাখি শিকার করা যাবে কি?

-মামুন, মিঞাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : রাতে বা দিনে যেকোনো সময় পশু-পাখি শিকার করা ও তা যবেহ করা যায়। এক্ষেত্রে শারঈ কোনো বিধি-নিষেধ নেই। উল্লেখ্য যে, ‘রাতে হাঁস-মুরগী বা কোনো প্রাণী যবেহ করা যায় না’-মর্মে সমাজে যে ধারণা প্রচলিত আছে তা আদৌ ঠিক নয়।

 

প্রশ্ন (২৫) : গোসলখানার মধ্যে বিবস্ত্র অবস্থায় ওযূ করে গোসল করা হলে সে ওযূতে ছালাত হবে কি? না-কি কাপড় পড়ে পুনরায় ওযূ করতে হবে?

-সাদিয়া, ফেনী।

উত্তর : গোসলের পূর্বে যে ওযূ করা হয় সে ওযূতেই ছালাত আদায় করা যায়। পুনরায় ওযূ করার প্রয়োজন নেই। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) গোসলের পর আর ওযূ করতেন না (আবুদাঊদ, হা/২৫০; তিরমিযী, হা/১০৭; নাসাঈ, হা/২৫২; ইবনু মাজাহ, হা/৫৭৯; মিশকাত, হা/৪৪৫)। তবে ওযূ করার পর বিবস্ত্র হলে তাতে ওযূ নষ্ট হবে না। কেননা বিবস্ত্র হওয়া ওযূ ভঙ্গের কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উল্লেখ্য যে, বিবস্ত্র বা নগ্ন হয়ে গোসল করা যায়। যেমন মূসা (আঃ) নগ্ন হয়ে গোসল করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৯)। আইঊব (আঃ) নগ্ন হয়ে গোসল করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৯; মিশকাত, হা/৫৭০৭)। তবে কাপড় পরে গোসল করাই উত্তম। বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, তার দাদা বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্যের সামনে নগ্ন হয়ো না। আমি বললাম, হে আল্লাহর  রাসূল! কোনো লোক একা থাকলেও কি নগ্ন হতে পারে না? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত’ (আহমাদ, হা/২০০৪৬; তিরমিযী, হা/৩০২৪; মিশকাত, হা/৩১১৭)। জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে  বিশ্বাস রাখে সে যেন কাপড় পড়ে গোসলখানায় প্রবেশ করে’ (নাসাঈ, হা/৪০১, সনদ ছহীহ)।

 

প্রশ্ন (২৬) : মহিলাদের কণ্ঠের কোনো পর্দা আছে কি?

-মুস্তাক্বীম বিল্লাহ, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ রয়েছে। তবে সর্বাধিক মত হলো, নারীদের কণ্ঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ একজন নারী পর্দার অন্তরাল থেকে প্রয়োজনে গায়রে মাহরাম পুরুষদের সাথে কথা বলতে পারে। অনুরূপ কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ যদি কোনো নারীর কণ্ঠ শুনে ফেলে তাতেও গুনাহ হবে না। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো নারীকে কথা বলার সময় আকর্ষণীয় ও আকৃষ্টকারী নরম কণ্ঠ ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা পরিহার করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবীপত্নীরা! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে (পরপুরুষের সাথে) মিষ্টি কন্ঠে এমনভাবে কথা বল না যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে, সে খারাপ ইচ্ছাপোষণ করে এবং তোমরা উত্তম কথা বলবে’ (আহযাব, ৩২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ’ (আহযাব, ৫৩)।

 

প্রশ্ন (২৭) : দুই সিজদার মাঝখানে ইমাম দেরী না করলে মুক্তাদীর করণীয় কী?

-হাফিযুর রহমান, গাবুয়া, পটুয়াখালী।

উত্তর : দুই সিজদার মাঝখানে তথা প্রথম সিজদা থেকে উঠে ‘দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দু‘আ’ পড়া পর্যন্ত সোজা হয়ে প্রশান্তির সাথে বসা প্রত্যেক ছালাত আদায়কারীর একান্ত কর্তব্য। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন সিজদা হতে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সোজা হয়ে না বসতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯৮; ইবনু মাজাহ, হা/৮৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৭৬; মিশকাত, হা/৭৯১)। কিন্তু যদি কোনো ইমাম তা ভঙ্গ করে দ্রুত সিজদায় চলে যায় তাহলে মুক্তাদীরা সংক্ষিপ্তভাবে رَبِّ اغْفِرْ لِيْ রাব্বী ইগফিরলী দু‘আটি পড়ে তার সাথে সাথে সিজদা দিতে পারে। কেননা নবী করীম (ছাঃ)  দু’সিজদার মাঝে কখনো কখনো উক্ত দু‘আটিও পড়তেন (নাসাঈ, হা/১১৪৫; দারেমী, হা/১৩২৪; মিশকাত, হা/৯০০)। তবে দ্রুত ছালাত আদায় করার কারণে ছালাতের খুশূ-খুযূ নষ্ট হলে ও ছালাতে ত্রুটি হলে ইমাম দায়ী হবেন, মুক্তাদীর ছালাত হয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ছালাত আদায় করাবে, তারা যদি ঠিকমত আদায় করায়, তাহলে তা তোমাদের সকলের পক্ষেই। আর বেঠিক আদায় করালে তা তোমাদের জন্য নেকী এবং তাদের জন্য গুনাহ’ (বুখারী, হা/৬৯৪; মিশকাত, হা/১১৩৩)।

 

প্রশ্ন (২৮) : রাসূল (ছাঃ)-এর প্রথম বিবাহ কে পড়িয়েছিলেন এবং তাতে তিনি কত মোহর নির্ধারণ করেছিলেন?      

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম, পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : রাসূল (রাঃ)-এর প্রথম বিবাহ হয়েছিল খাদীজাতুল কুবরা (রাঃ)-এর সাথে। এ বিবাহ পড়িয়েছিলেন তাঁর চাচা আবু তালিব। মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাকে বিবাহের মোহরানাস্বরূপ ২০টি উট প্রদান করেছিলে (ছীরাতে ইবনু হিশাম, ১/১৮৭ পৃ. ও ১/১৮৯-৯০ পৃ., টীকা নং-১; সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), (নবীদের কাহিনী-৩), পৃ. ৭৭)।

 

প্রশ্ন (২৯) : জীবন বীমাসহ আরো যে সকল বীমা রয়েছে তা কি বৈধ?

-মুহাম্মদ বিল্লাল, ওয়ারী, পুরান ঢাকা।

উত্তর : প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার কোনোটিই বৈধ নয়। কেননা প্রথমত, এখানে দাতাপক্ষের টাকা নিয়ে দ্বিগুণ বিনিময় দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারী পক্ষ লাভবান হয়। কিন্তু যদি বিনিয়োগকারী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দাতাপক্ষের সমস্ত টাকাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা এক প্রকার জুয়ার শামিল। আর ইসলামে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা কবীরা গুনাহ (মায়েদাহ, ৯০-৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৬)। দ্বিতীয়ত, এটি একটি সূদভিত্তিক লেনদেন। কেননা একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দাতাপক্ষ তার প্রদেয় টাকার দ্বিগুণ গ্রহণ করে থাকে, যা নিঃসন্দেহে হারাম (বাক্বারাহ, ২৭৫-২৭৬; ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৭৬)। তৃতীয়ত, এটি এক প্রকার ধোঁকা, কেননা দাতাপক্ষকে কী পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে তা সাধারণত তাকে জানানো হয় না। তাই এটা একটি অনির্দিষ্ট বস্তু প্রাপ্তির চুক্তি, যা নিষিদ্ধ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৮১, আবুদাঊদ, হা/৩৩৭৮; মিশকাত, হা/২৮৫৪)। চতুর্থত, জীবন বীমার মাধ্যমে অন্য পরিবারের যে ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়া হয়, এমনটি শারঈ বিধান নয়। কেননা সে পরিবার কীভাবে চলবে তা আল্লাহর  যিম্মাদারীতে রয়েছে।

 

প্রশ্ন (৩০) : একাধিকবার সিজারের কারণে সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে কি মহিলারা জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে?

-রবীউল ইসলাম, সাতমাথা, বগুড়া।

উত্তর : গুরুতর কারণ যেমন- অসুস্থতা, মৃত্যুর আশঙ্কা ইত্যাদি ছাড়া অধিক সন্তানের ভরণ-পোষণের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা শরী‘আত পরিপন্থী কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা খাদ্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তাদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবিকা প্রদান করে থাকি’ (বানী ইসরাঈল, ৩১)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক প্রেমানুরাগিণী, অধিক সন্তান জন্মদানকারিণী মহিলাকে বিয়ে করো। কারণ আমি ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব’ (আবুদাঊদ, হা/২০৫০; নাসাঈ, হা/৩২২৭; মিশকাত, হা/৩০৯১, সনদ ছহীহ)। তবে স্ত্রী ও সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীর সম্মতিক্রমে আযল বা সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যায় (ছহীহ বুখারী, হা/৫২০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৪০; মিশকাত, হা/৩১৮৪)।

 

প্রশ্ন (৩১) : ইসমে আযম কোনটি? এটি কি কোনো দু?

-শাফায়াত সোহাইল, বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : ইসমে আ‘যম একটি দু‘আ, যা নিম্বের হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।

عَن بُرَيْدَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ: «دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ

বুরায়দা (রাঃ)  বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) একজন লোককে বলতে শুনলেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ ‘হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট চাই এজন্য যে, তুমি আল্লাহ তুমি ছাড়া সত্য কোনো মা‘বূদ নেই। আল্লাহ একক, নিরপেক্ষ, মুখাপেক্ষীহীন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি; কারো থেকে জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ কেউ নেই। তারপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘লোকটি আল্লাহর বড় নামের মাধ্যমে বা ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করেছেন। যার মাধ্যমে চাওয়া হলে প্রদান করেন এবং প্রার্থনা করা হলে কবুল করেন (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত, হা/২২৮৯)।

 

প্রশ্ন (৩২) : আমি ও আমার খালাতো বোন ছোট থাকতে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিলকিন্তু বয়স হলে খালা-খালু তাকে অন্যত্র বিবাহ দেয়বিয়ের কয়েক মাস পরে সে তার স্বামীকে তালাক (খোলা) দিয়ে আমার কাছে চলে আসেফলে কোর্টে কাবিন করি এবং প্রায় তিন মাসে পরে ক্বাযীর মাধ্যমে আমাদের বিয়ে সম্পাদিত হয়এরই মধ্যে তার পূর্বের স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেবর্তমানে আমাদের ৩ বছর বয়সী একটি সন্তানও রয়েছেপরিতাপের বিষয় হলো, যখন থেকে দ্বীনের সঠিক পথে চলার ইচ্ছা করেছি তখন থেকে মনে হচ্ছে যেন আমি অন্যায় করছিপ্রশ্ন হলো, আমাদের এই বিবাহ কি বৈধ হয়েছে? না-কি তা বৈধ করার জন্য পূর্বের স্বামীর পক্ষ থেকে তিন তালাক নেওয়ার প্রয়োজন আছে?

-জুবায়রে ইসলাম (সবুজ), সিঙ্গাপুর।

উত্তর : খোলার নিয়ম হচ্ছে কোর্টে বা গ্রাম্য সালিশে অভিভাবকের উপস্থিতিতে মেয়ে ছেলের থেকে আলাদা হতে চাইবে। ছেলে সেটা গ্রহণ করে নিবে অথবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বা কোর্ট তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিবে। অতঃপর এক মাস ইদ্দত পালন করত মেয়ে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হতে পারবে। কোনো মেয়ে ক্বাযী বা অভিভাবক ছাড়াই নিজেই নিজের বিবাহের খোলা করতে পারে না (ছহীহ বুখরী, হা/৪৮৬৭)। কেননা কোনো মেয়েকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি (ইবনু মাজাহ, হা/২০৭২)। আর খোলা করার পরে পূর্বের স্বামীর প্রদত্ত জিনিস ফেরত দিতে হবে। এমতাবস্থায় প্রশ্নে উল্লেখিত মাসআলা আরো স্পষ্ট হতে হবে যে, স্বামী-স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতিতে খোলা সংঘঠিত হয়েছে কি-না? অথবা সালিশের মাধ্যমে খোলা সংঘটিত হয়েছে কি-না? অথবা ক্বাযীর মাধ্যমে খোলা সংঘটিত হয়েছে কিনা? যদি না হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তী বিবাহ বৈধ হয়নি। বরং পূর্বের স্বামীর থেকে তালাক নিতে হবে এবং ইদ্দত পূর্ণ করে পুনরায় নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। উল্লেখ্য যে, তিন বছর বয়সী মেয়েটি পিতা হিসাবে আপনার হেফাযতেই থাকবে।

 

প্রশ্ন (৩৩)  : কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ বৈধ হবে কি?   

-সাগর আলী, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ বৈধ হবে তবে শর্ত হলো কন্যার অভিভাবকের পূর্ব সম্মতি থাকতে হবে। অন্যথা বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। রাসূল (ছাঃ)-এরশাদ করেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৩১৩০)। অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘কোনো নারী অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করলে তা বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবুদাঊদ, হা/২০৮৩; মিশকাত, হা/৩১৩১)। অতএব, অভিভাবকের অগোচরে কোর্টে গিয়ে হোক অথবা অন্য যে কোনো মাধ্যমে হোক ছেলে-মেয়ের ইচ্ছানুযায়ী সংঘটিত বিবাহ বৈধ হবে না।

 

প্রশ্ন (৩৪) : আমাদের এলাকার ধানের আড়ৎদাররা অগ্রহায়ণ মাসের পূর্বেই অগ্রীম ধান ক্রয় করেনঅর্থাৎ বাজারে যখন মণ প্রতি ৭০০ টাকা বিক্রি হয় তখন তারা তা কিনেন ৬০০ টাকা দরেঅথচ যখন কৃষক ধান ঘরে উঠান তখন তা ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়এতে কৃষক প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েয?

-আবু তাহের, মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : কৃষক স্বীয় ইচ্ছায় ও প্রয়োজনের তাগিদে ফসল জমিতে থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট প্রকার, পরিমাণ, সময়সীমা ও মূল্যের কথা উল্লেখ করে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। এতে শারঈ কোনো বাধা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো নির্দিষ্টকালের জন্যে ঋণ আদান-প্রদান করবে, তখন তা লিখে নাও। আর কোনো একজন লেখক যেন ন্যায্যভাবে তোমাদের মধ্যে (ঐ আদান-প্রদানের দলীল) লিখে দেয়’ (বাক্বারাহ, ২৮২)। রাসূল (ছাঃ) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন তখন মদীনাবাসীরা তাদের খেজুর অগ্রীম মূল্যে দুই-তিন বছর মেয়াদে বিক্রয় করতেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে বললেন, ‘যদি কেউ অগ্রীম মূল্যে বিক্রি করতে চায়, সে যেন নির্দিষ্ট মাপে, নির্দিষ্ট ওযনে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে বিক্রি করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৪০; ছহীহ মুসলিম, হা/৪২০২)। আর এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনকে বায়‘য়ে সালাম বলে। অর্থাৎ মূল্য আগে বস্তু পরে। যা নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত মূল্যের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

 

প্রশ্ন (৩৫) : যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াক্বিআহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না’-মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

-মাজহারুল ইসলাম, শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর : না, একথা সঠিক নয়। কেননা ‘প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্বি‘আহ পাঠ করলে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়’- মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলো যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ, হা/২৮৯; ছহীহ ও যঈফ আল-জামেঊছ ছগীর, হা/১২৫৪৬; মিশকাত, হা/২১৮১)। ইমাম আহমাদ, আবু হাতেম, বায়হাক্বী (রহিঃ) প্রমুখ হাদীছ বিশারদগণের নিকটে চারটি কারণে হাদীছটি যঈফ। আর তা হল, (১) হাদীছটির একজন বর্ণনাকারীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, (২) বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা, (৩) সনদের বিচ্ছিন্নতা এবং (৪) হাদীছের মতনের অসামঞ্জস্যতা (মীযানুল ই‘তিদাল,  ৩/২৬৫ পৃ., আল- মুন্তাখাব লি-ইবনুল কুদামা, পৃ. ১১৬)।

 

প্রশ্ন (৩৬) : আল্লাহর  কাছে একান্তভাবে কোনোকিছু চাইলে, সেটা না পাওয়া গেলে, আল্লাহ ভালো কিছু রেখেছেন না-কি পাপের শাস্তি দিচ্ছেন সেটা বুঝার কোনো উপায় আছে কি?

-ড. মুহাম্মাদ নাজমুস সাকিব, কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : বিশ্বাস রাখতে হবে আল্লাহ তা‘আলা কারও প্রতি অবিচার করেন না। বরং বান্দার জন্য যেটা কল্যাণকর সেটাই করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে সৎ আমল করে সে নিজের কল্যাণের জন্যেই তা করে এবং কেউ মন্দ আমল করলে ওর প্রতিফল সেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের প্রতি কোনো যুলুম করেন না’ (ফুছছিলাত, ৪৬)। তাই দু‘আ কবুল না হওয়ার সমস্ত কারণ থেকে মুক্ত হয়ে বান্দাকে দু‘আ করতে হবে। দু‘আ করার পরে যদি অবস্থার পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে দু‘আ কবুল হয়েছে। আর অবস্থার পরিবর্তন না হলে বুঝতে হবে এর মধ্যে অন্য কোনো কল্যাণ আছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এরশাদ করেন, ‘মুসলিম যখন অন্য মুসলিমের জন্য দু‘আ করে যার মধ্যে কোনোরূপ গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা থাকে না, আল্লাহ তা‘আলা উক্ত দু‘আর বিনিময়ে তাকে তিনটির যেকোনো একটি দান করে থাকেন। (১) তার দু‘আ দ্রুত কবুল করেন অথবা (২) তার প্রতিদান আখিরাতে প্রদান করার জন্য রেখে দেন অথবা (৩) তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট দূর করে দেন’। একথা শুনে ছাহাবীগণ বললেন, তাহলে আমরা বেশি বেশি দু‘আ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দু‘আ কবুলকারী’ (আহমাদ, হা/১১১৪৯; মিশকাত, হা/২২৫৯; ছহীহ, তানক্বীহ, ২/৬৯ পৃ.; হিদায়াতুর রুআত, হা/২১৯৯)।

উল্লেখ্য, উক্ত হাদীছে বর্ণিত শর্তটির সাথে অন্যান্য ছহীহ হাদীছে আরও তিনটি শর্ত বর্ণিত হয়েছে। যথা- দু‘আকারীর খাদ্য, পানীয় ও পোশাক পবিত্র হওয়া (অর্থাৎ হারাম না হওয়া) এবং দু‘আ কবুল হওয়ার জন্য ব্যস্ত না হওয়া (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০; তানক্বীহুর রুয়াত ফী তাখরীজি আহাদীছিল মিশকাত; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃ. ১৩৯)।

 

প্রশ্ন (৩৭) : জমি বিক্রি করে কিংবা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সেই টাকা দিয়ে চাকুরি নেওয়া এবং সে চাকরির বেতন বৈধ হবে কি?

-নাহিদুল ইসলাম, সাতমাথা, বগুড়া।

উত্তর : জমি বিক্রি করে হোক কিংবা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে হোক কোনো অবস্থাতেই হক্বদারকে তার প্রাপ্য হক্ব থেকে বঞ্চিত করে ঘুষ দিয়ে চাকুরি নিলে তার উপার্জিত অর্থ বৈধ হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের প্রতি লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ, হা/৩৫৮০; ইবনু মাজাহ, হা/২৩১৩; মিশকাত, হা/৩৭৫৩)। তবে হক্বদার তার হক্ব রক্ষা করার জন্য কিছু ব্যয় করলে তা ঘুষ হবে না। তখন তিনি মাযলূম বলে গণ্য হবেন এবং তার চাকুরি ও বেতন উভয়ই  বৈধ হবে ইনশাআল্লাহ (হাশিয়া মিশকাত (দেওবন্দ ছাপা), উপরোক্ত হাদীছের আলোচনা দ্র.; বায়হাক্বী, হা/২০৯৮৬)।

 

প্রশ্ন (৩৮) : ফরয ছালাতে সিজদায় কি বাংলায় দুআ করা যাবে?

মুহাম্মাদ নাজমুস সাকিব, পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : ফরয-নফল যেকোনো ছালাতে মাসনূন আরবী দু‘আ ব্যতীত অন্য ভাষায় ক্বিরাআত, দু‘আ ও তাসবীহ পাঠ করা যাবে না। মু‘আবিয়া বিন হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই ছালাতের মধ্যে মানুষের কোনো কথা জায়েয নয়….’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩৭; বুলূগুল মারাম, হা/২১৭)। কিছুই না পারলে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ বলবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি কুরআনের কিছু শিখতে অক্ষম। অতএব আমাকে কিছু শিখিয়ে দেন, যা আমার জন্য যথেষ্ট হয়। রাসূল (ছাঃ) বললেন,

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

‘আল্লাহর  প্রবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর । আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা‘বূদ নেই, আল্লাহ অতি মহান এবং আল্লাহর  উপায় ও শক্তি ব্যতীত কারও কোনো উপায় বা শক্তি নাই’। এটা শুনে সে বলল, হে আল্লাহর  রাসূল (ছাঃ)! এটা তো আল্লাহর  জন্য হলো, আমার জন্য কী হলো? রাসূল (ছাঃ) বললেন,

اللَّهُمَّ ارْحَمِنِي ، وَعَافِنِي ، وَاهْدِنِي ، وَارْزُقْنِي

‘হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে স্বস্তি দান করো, আমাকে রিযিক্ব দাও’। তখন সে স্বীয় উভয় হাত দ্বারা ইশারা করল এবং ওটাকে বন্ধ করল। এটা দেখে রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘এই ব্যক্তি কল্যাণ দ্বারা উভয় হাত পূর্ণ করল’ (মিশকাত, হা/৮৫৪)।

 

প্রশ্ন (৩৯) : সূরা আত-তাওবার মাঝখান থেকে পড়লে কি বিসমিল্লাহবলতে হবে?

-শাহনেওয়াজ নাবিন, মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : সূরা তওবা সহ যেকোনো সূরার মাঝখান থেকে তেলাওয়াত করলে শুধুমাত্র ‘আঊযুবিল্লাহ’ পড়তে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যখন তোমরা কুরআন পড়বে তখন ‘আঊযুবিল্লাহ’ পড়ো! (নাহ্ল, ৯৮)। সূরার মাঝখান থেকে পড়লে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে না। কারণ এক সূরা থেকে অন্য সূরাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ‘বিসমিল্লাহ’ অবতীর্ণ হয়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূরা সমূহের মধ্যে পার্থক্য বুঝে উঠতে পারতেন না, যতক্ষণ না ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ নাযিল হত (আবুদাঊদ, হা/৭৮৮; মিশকাত, হা/২২১৮)। উল্লেখ্য যে, সূরা তওবা ব্যতীত অন্য সূরার শুরু থেকে তেলাওয়াত করলে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করবে। সূরার শুরুতে এটি পড়া সুন্নাত (আবুদাঊদ, ইরওয়া, হা/৩৪৩, মিশকাত, হা/২১৯৬)।

 

প্রশ্ন (৪০) : সাদ ইবনু মুআয (রাঃ)-এর মৃত্যুতে রহমান আল্লাহ তাআলার আরশ কেঁপে উঠেছিলউক্ত ঘটনাটি কেন ঘটেছিল? এর ব্যাখ্যা কী?

-মোহাম্মদ সিজান, শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান একজন ছাহাবী। খন্দক যুদ্ধে তিনি হাতের প্রধান ধমনীতে তীরবিদ্ধ হন। বনু কুরায়যার যুদ্ধের পরে তিনি মসজিদে নববীতে মৃত্যুবরণ করেন। জাবের (রাঃ)  বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘সা‘দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৮০৩; মিশকাত, হা/৬১৯৭)। আল্লাহর  আরশ কেঁপে উঠার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, اِهْتَزَّ الْعَرْشُ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاٍذ مِنْ فَرْحِ الرَّبِّ عَزَّ وَ جَلَّ ‘সা‘দের মৃত্যুতে (তার সাক্ষাৎ হওয়ার আনন্দে) মহান প্রতিপালকের খুশিতে আরশ কেঁপে উঠেছে’ (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১২৮৮, হাদীছ ছহীহ)।

 

প্রশ্ন (৪১) : ক্লাবে ফুটবল খেলে অর্থ  উপার্জন করা কি হালাল হবে? টাকার বিনিময়ে যে সকল খেলা অনুষ্ঠিত হয় তাতে কোনো পারিশ্রমিক বা অর্থ না নিয়ে শুধু অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

-মোহাম্মাদ রাব্বুল এহসান, মিরপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : যে সকল খেলায় অর্থ-সম্পদের হার-জিতের ব্যাপার থাকে, যে খেলায় এক পক্ষ লাভবান হয় ও অন্য পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে সকল খেলা জুয়া হিসাবে পরিগণিত। আর সকল ধরনের জুয়া খেলা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর হলো অপবিত্র। সুতরাং তোমরা তা থেকে বিরত থাকো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে’ (মায়িদাহ, ৯০)। যেহেতু ক্লাবে অনুষ্ঠিত সকল খেলাতে অর্থ-সম্পদ হার-জিতের ব্যাপার থাকে, তাই ক্লাবে ফুটবল খেলে টাকা উপার্জন করা হালাল হবে না। অনুরূপভাবে অর্থ-সম্পদ হার-জিতের খেলায় নিজে অর্থ গ্রহণ না করে কারো পক্ষ হয়ে খেলাও জায়েয হবে না। কেননা তা হারাম কাজে সহযোগিতার শামিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কল্যাণকর ও আল্লাহভীরুতার কাজে একে-অপরকে সহযোগিতা করো। অন্যায় ও আল্লাহদ্রোহিতার কাজে একে-অপরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়িদাহ, ২)।

 

প্রশ্ন (৪২) : স্বামীর ঋণ থাকলে ও অবিবাহিত বোন থাকলে স্ত্রী কি ওমরাহ করতে পারবে কি?

-নাজির ইসলাম, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : স্বামীর সম্পদের মালিকানা স্বামীর এবং স্ত্রীর সম্পদের মালিকানা স্ত্রীর। স্ত্রী তার নিজের সম্পদ বৈধ পন্থায় যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করতে পারে। তাই স্ত্রীর যদি ওমরাহ করার মতো আর্থিক সংগতি থাকে, তাহলে সফরে মাহরাম থাকার শর্তে সে ওমরাহ করতে পারে। কেননা মেয়েরা মাহরাম ব্যতীত সফর করতে পারবে না (বুখারী, হা/১৭২৯)। স্বামীর ঋণ থাকলে কিংবা অবিবাহিত বোন থাকলেও ওমরা করতে পারবে। তবে যদি স্বামীকে তার ঋণ পরিশোধ করতে ও বোনদের বিবাহ দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করে সেটা হবে প্রশস্ত অন্তর ও সহমর্মিতার পরিচায়ক।

 

প্রশ্ন (৪৩) : আমার বাবা-মা আগে শারঈ বিধান সম্পর্কে তেমন কিছু না জানার কারণে আমাদের আক্বীক্বা করেননিবর্তমানে তারা আমাদের আক্বীক্বা করতে চানএটা কি বৈধ হবে?

-লিমন সরকার, বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : শিশু জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীক্বা করতে হবে। এটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ)  বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘শিশু আক্বীকার সাথে আবদ্ধ থাকে। জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে পশু  যবেহ করা হবে, তার মাথা কামানো হবে এবং তার নাম রাখা হবে’ (আবুদাঊদ, হা/২৮৩৫; তিরমিযী, হা/১৫১৬; নাসাঈ, হা/৪২১৮; বুলূগুল মারাম, হা/১৩৬০; মিশকাত, হা/৪১৫৩, ৫৮)। সপ্তম দিনের পরে আক্বীক্বা করার ব্যাপারে যে হাদীছগুলো এসেছে এর সবগুলোই যঈফ ও জাল (বুলূগুল মারাম, হা/১৩৬০ -এর টীকা দ্র., ইতহাফুল কিরাম, পৃ. ৪০৭)। অতএব বর্তমানে তাদের আক্বীক্বা করার কোনো আবশ্যকতা নেই।

 

প্রশ্ন (৪৪) : যারা সূদ, ঘুষ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি হারাম উপায়ে অর্থ উপার্জন করে তাদের ইবাদত কি আল্লাহ কবুল করবেন? যদি কবুল না করেন তাহলে তাদের এসব ইবাদত করে আদৌ কোনো লাভ আছে কি?

-মাহদী হাসান পরশ, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : উপার্জন হারাম হলে আল্লাহ তা‘আলা ইবাদত কবুল করবেন না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণকে যে আদেশ দিয়েছেন মুমিনগণকেও সে আদেশ দিয়েছেন। যেমন রাসূলগণকে বলেছেন, ‘হে রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র হালাল রূযী খান এবং নেক আমল করুন’ (মুমিনূন, ১২)। মুমিনগণকে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আমার দেওয়া পবিত্র রিযিক হতে খাও’ (বাক্বারাহ, ১৭২)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  উল্লেখ করলেন, ‘এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে। তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলা-বালি, এমন অবস্থায় সে উভয় হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতর স্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং হারাম দ্বারাই বেষ্টিত। এই ব্যক্তির দু‘আ কিভাবে কবুল হতে পারে? (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)।

তবে হারাম পন্থায় উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না বলে ইবাদত করে কোনো লাভ নেই, একথা ঠিক নয়। কারণ এর মাধ্যমে যদিও তার নেকী হয় না, কিন্তু ফরয বিধান পালনের যে দায়িত্ব তার উপরে অর্পিত হয়েছে, তার যিম্মা থেকে সে মুক্ত হয়ে যায়। যদি সে তা আদায় না করে, তাহলে একদিকে যেমন হারাম উপার্জনের কারণে পাপী হয়, অন্যদিকে ফরয বিধান ছেড়ে দেওয়ার কারণেও সে পাপী হয়। অতএব হারাম উপার্জন করলেও তাকে ছালাত-ছিয়ামের মতো তার ফরয বিধান আদায় করতে হবে। তবে এই সমস্ত ইবাদতের সে কোনো নেকী পাবে না যতক্ষণ না সে তার হারাম উপার্জন থেকে তওবা করে ফিরে আসে।

 

প্রশ্ন (৪৫) : পিতার উপার্জিত সম্পদ ছাড়া সন্তানদের আর কোনো সম্পদ নেইএমতাবস্থায় পিতার হালাল-হারাম মিশ্রিত উপার্জিত ধন-সম্পদ কি সন্তানেরা ভোগ করতে পারবে

-মাহদী হাসান পরশ, মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : পিতার উপার্জিত হারাম সম্পদ সন্তানদের গ্রহণ করা জায়েয হবে না। বরং তা দুঃস্থ-দরিদ্রদের উন্নয়নমূলক কাজ যেমন রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ ও টয়লেট  ইত্যাদি নির্মাণে ব্যয় করে দেওয়া উচিত (শারহুল মুহাযযাব, ৯/৪২৭)।

 

প্রশ্ন (৪৬) : যিনায় লিপ্ত ব্যক্তির ইবাদত কবুল হবে কি?

-মাহদী হাসান পরশ, মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : যিনা কাবীরা গুনাহের অন্যতম। আল্লাহ তা‘আলা বার বার এই জঘণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (বানী ইসরাঈল, ৩২; নূর, ২)। যিনা বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। নিজের স্ত্রী বা দাসী ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করাকে যৌনাঙ্গের যিনা বলে। এছাড়া চোখের যিনা হচ্ছে দেখা, মুখের বা জিহ্বার যিনা হচ্ছে কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৪৩; মিশকাত, হা/৮৬)। যিনাকারীর শাস্তি হলো- অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং বিবাহিতের শাস্তি হচ্ছে রজম করা তথা কোমর পর্যন্ত পুতে পাথর মেরে হত্যা করা (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯০; ইবনু মাজাহ, হা/২৫৫০; মিশকাত, হা/২৫৫৮)। উল্লেখ্য, দেশের শাসক বা তার প্রতিনিধিই কেবল এই শাস্তি কার্যকর করবেন (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২২/৩৫ পৃ.)। যিনা-ব্যভিচার যেহেতু কাবীরা গুনাহ, সেহেতু তওবা ব্যতীত এ গুনাহ মাফ হয় না। ব্যভিচারী ব্যক্তি ঐ গর্হিত কর্ম থেকে ফিরে আসার জন্য অনুতপ্ত হয়ে খাছ অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ (তওবা, ৮২; ফুরকান, ৬৮-৭০)। তবে যিনার কারণে তার ইবাদত কবুল হবে না এই মর্মে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা শরী‘আতে পাওয়া যায় না। বরং ইবাদতই হবে তার তওবার মাধ্যম ও পাপ মোচনের পথ। সুতরাং তার উচিত তওবা ও পাপ মোচনের লক্ষ্যে বেশি বেশি ইবাদত করবে। আল্লাহ চাইলে তার তওবা কবুল করবেন এবং তার ইবাদতও কবুল করবেন।

 

প্রশ্ন (৪৭) : বিবাহের পূর্বে কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকলে সেটা কি স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে জানাতে পারে?

-মাহদী হাসান পরশ, মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : বিবাহপূর্ব নারী-পুরুষের যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক হারাম ও তা কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। সকলকে এ পাপ থেকে বিরত থাকা উচিত। শয়তানের প্ররোচনায় যদি এই ধরনের কাজ হয়েও যায়, তাহলে বিবাহের পরে স্বামী-স্ত্রী একে-অপরকে তা না জানানোই ভালো। কেননা নিজের কৃত পাপ অন্যের নিকট প্রকাশ করা ঠিক নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি পাপ কাজ করে গোপন রাখে তাহলে আল্লাহ তা‘আলাও তা গোপন রাখবেন। এর কারণে আল্লাহ তাকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা ক্ষমাও করতে পারেন (তিরমিযী, হা/২৬২৫, সনদ ছহীহ)। সুতরাং বিবাহের পর স্বামী বা স্ত্রী কেউ কারো পাপ অনুসন্ধান না করে বরং পূর্বের কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সংগোপনে মহান আল্লাহর  নিকট ক্ষমা চাইবে। তাহলে দাম্পত্য জীবন সুখের হবে। অন্যথা নিজেদের পাপ প্রকাশ করলে মহান আল্লাহ যেমন নাখোশ হবেন, তেমনি দাম্পত্য জীবনে পরস্পরের প্রতি অনাস্থা, সম্পর্কের অবনতি এমনকি সম্পর্ক বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটতে পারে।

 

প্রশ্ন (৪৮) : দুআ পাঠের সময় হাঁচি আসা দুআ কবুলের লক্ষণ (মুজামুল কাবীর, ২২/৩৩৬ পৃ., হা/৮৪৩)হাদীছটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানতে চাই?

-রোকনুযযামান, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।

উত্তর : এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (দুর্বল)। এর সনদে ‘আবু রুহ্ম আস সাম্ঈ’ নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তিনি মুরসাল সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। উক্ত বর্ণনাটিতে চার ধরনের শব্দ বর্ণিত হয়েছে। এর প্রত্যেকটি বর্ণনাই দুর্বল (সিলসিলা যঈফাহ, ৭/২০৪/৩২০৩; যঈফুল জামে‘, হা/১৯৮৬; আল-জামে’উছ ছগীর, হা/৪৭৯৬, ৮৩০০)।

 

প্রশ্ন (৪৯) : জনৈক আলেম বলেছেন, কারো একটি সন্তান যদি কুরআনের হাফেয হয় তাহলে সে তার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে দশজনকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে’-একথা সঠিক কি?

-আসিফ মাহমুদ, বীরজঙ্গ, দিনাজপুর।

উত্তর : একথা ঠিক নয়। কেননা এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি অত্যন্ত দুর্বল। এর সনদে হাফছ ইবনু সুলাইমান নামে একজন দুর্বল রাবী আছে। তাছাড়া ইমাম তিরমিযী (রহিঃ) নিজেই এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন। মিশকাতের মধ্যেও সেটা উল্লেখ করা আছে (তিরমিযী, হা/২৯০৫; ইবনু মাজাহ, হা/২১৬; মিশকাত, হা/২১৪১)।

 

প্রশ্ন (৫০) : বিতর ছালাতে কি প্রতিদিন হাত তুলে দুআ কুনূত পড়তে হবেনা-কি মাঝে-মধ্যে?

-ফযলে রাব্বী, আতানারায়নপুর, রাজশাহী।

উত্তর : দু‘আ কুনূত হাত তুলে পড়া যায় (বায়হাক্বী, ২/২১১-১২; মির‘আত, ৪/৩০০; তুহফা, ২/৫৬৬-৬৭)। আবার হাত না তুলে রুকূর পূর্বে ক্বিরাআতের সাথেও পড়া যায় (ইরওয়াউল গালীল, ২/৭১ পৃ.)। তবে বিতরের জন্য কুনূত ওয়াজিব নয়। বরং তা পড়া সুন্নাত। হাসান ইবনু আলী (রাঃ)  বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন যা আমি বিতর ছালাতে পাঠ করি (আবুদাঊদ, হা/১৪২৫)। সুতরাং দু‘আ কুনূত ছাড়াও বিতর ছালাত পড়া যায়। তাছাড়া নিয়মিত দু‘আ কুনূত পড়া বিদ‘আত। আবু মালেক আল-আশজাঈ (রহিঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রাসূল (ছাঃ), আবুবকর, ওমর, ওছমান (রাঃ) এবং এখানে কূফায় প্রায় পাঁচ বৎসরকাল আলী (রাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হে বৎস! এটা নতুন আবিষ্কৃত (তিরমিযী, হা/৪০২; নাসাঈ, হা/১০৮০; ইবনু মাজাহ, হা/১২৪১; মিশকাত, হা/১২১৯)।