প্রশ্ন (১) : যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর কুরবানীদাতা নখ, চুল কাটলে পাপ হবে কি?

আক্কাস আলী
 আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : হ্যাঁ, পাপ হবে। কারণ এটা রাসূল (ছা.)-এর নির্দেশ। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার ইচ্ছা রাখে, তারা যেন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হতে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হতে বিরত থাকে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৫; মিশকাত, হা/১৪৫৯)। তবে কোনো কুরবানীদাতা ভুলবশত বা অজ্ঞতার কারণে তা কাটে তাহলে পাপী হবেন না। কিন্তু নেকী থেকে বঞ্চিত হবেন। আর যদি ইচ্ছাপূর্বক তা করেন তাহলে আল্লাহর  নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন (২) : কুরবানীদাতা ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কি নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে পারে?

-হাবীবুল্লাহ
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ নখ, চুল কাটতে পারে। কেননা হাদীছে শুধুমাত্র কুরবানীদাতার কথা বলা হয়েছে। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করে, তারা যেন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হতে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন না করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৫; মিশকাত, হা/১৪৫৯)। উল্লেখ্য যে, যাদের কুরবানী নেই তারাও নখ, চুল কাটা থেকে বিরত থাকলে এবং কুরবানীর দিন কাটলে পূর্ণ নেকী পাবে’- মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ (আবুদাঊদ, হা/২৭৮৯; নাসাঈ, হা/৪৩৬৫; মিশকাত, হা/১৪৭৯)। উক্ত হাদীছের উপর আমল করা যাবে না।

প্রশ্ন (৩) : ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম, শিং ও খুর  উপস্থিত হবে। একথা কি ঠিক?

ছিবগাতুল্লাহ
আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফ তিরমিযী, হা/১৪৯৩; মিশকাত, হা/১৪৭০; সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫২৬, ২/১৪; যঈফ তারগীব, হা/৬৭১, ১/১৭০)। এছাড়া উক্ত হাদীছ কুরআনের আয়াতের বিরোধী। কেননা মহান আল্লাহ বলেন আল্লাহর নিকটে কুরবানীর গোশত ও রক্ত পৌঁছে না; বরং তোমাদের তাক্বওয়া তাঁর নিকট পৌঁছে’ (হজ্জ, ৩৭)।

প্রশ্ন (৪) : আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু হজ্জে যেতে অক্ষম এমন ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ করা যাবে কি?

আব্দুল্লাহ কাওছার
শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : হ্যাঁ, এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করা যাবে। তবে হজ্জ অদায়কারীকে নিজের হজ্জ পূর্বে আদায় করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছা.) জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, আমি শুবরোমার পক্ষ হতে হজ্জের নিয়্যত করছি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘শুবরোমা কে? সে বলল, আমার এক ভাই অথবা বলল, আমার এক আত্মীয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি নিজের হজ্জ করেছো? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘তুমি প্রথমে নিজের হজ্জ করো অতঃপর শুবরোমার হজ্জ করবে’ (মুসনাদুশ শাফেঈ, হা/১০০০; আবুদাঊদ, হা/১৮১১; ইবনে মাজাহ, হা/২৯০৩)। আবু রাযীন উকাইলী (রা.) হতে বর্ণিত, একদা তিনি নবী করীম (ছা.)-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, হজ্জ ও ওমরাহ করতে সক্ষম নয় এবং বাহনে বসতে পারেন না। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও ওমরাহ কর’ (তিরমিযী, হা/৯৩০; আবুদাঊদ, হা/১৮১০; নাসাঈ, হা/২৬২১; মিশকাত, হা/২৫২৮)। তবে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে শুধু ওমরাহ করা যাবে না এবং এক হজ্জের সাথে একাধিক ওমরাহও করা যাবে না। উল্লেখ্য যে, মৃতের জন্য ছালাত আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা ও কুরবানী করা জায়েয নয়। এ বিষয়ে বিশুদ্ধ কোনো দলীল নেই। কারণ মৃত ব্যক্তির বাকী ফরয হজ্জ, ওমরাহ ও মানতের ছিয়াম ব্যতীত অন্য কোনো আমল তার পক্ষ থেকে আদায় করা জায়েয নয়।

প্রশ্ন (৫) : কেউ বদলী হজ্জ করলে নিজের জন্য দু‘আ করতে পারবে কি? তাছাড়া তিনি কি পূর্ণ হজ্জের নেকী পাবেন?

আব্দুর রাজ্জাক
 হিমছড়ি, সিলেট।

উত্তর : বদলী হজ্জ সম্পাদনকারী নিজের জন্য এমনকি সকল মুসলিমের জন্যও দু‘আ করতে পারবে। কেননা হজ্জের জন্য দু‘আর বিষয়টি ব্যাপক। সাফওয়ান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়াতে এসে আবু দারদা (রা.)-এর বাড়ীতে গেলাম। কিন্তু সেখানে আবু দারদা (রা.)-কে পেলাম না বরং পেলাম উম্মু দারদা (রা.)-কে। উম্মু দারদা (রা.) বললেন, আপনি কি এ বছর হজ্জ পালনের ইচ্ছা করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে আমাদের মঙ্গলের জন্য দু‘আ করবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির দু‘আ তার ভাইয়ের জন্য অবশ্যই কবুল করা হয়ে থাকে যা তার অনুপস্থিতিতে করা হয়। তার মাথার পাশেই একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য দু‘আ করে তখনই নিযুক্ত ফেরেশতা বলে ‘আমীন’ এবং বলে তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩৩)। তবে অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ-ওমরাহ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তার পক্ষে নিয়্যত করে বাহ্যিক ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাত কর্মসমূহ আদায় করা (আবুদাঊদ, হা/১৮১১; মিশকাত, হা/২৫২৯)। বদলী হজ্জ সম্পাদনকারীও পূর্ণ হজ্জের নেকী পাবেন (ফাতাওয়া লাজনা আদ-দায়েমা, ১১/৭৮)।

প্রশ্ন (৬) : মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলা কাফেলার অন্যান্য প্রতিবেশী মহিলাদের সাথে মিলে পূর্ণ পর্দা সহকারে হজ্জ করতে পারে কি?

ফারহান ইবনে আমিন
কলাবাগান, ঢাকা।

উত্তর : মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের জন্য হজ্জ-ওমরাহ সহ যে কোনো ধরনের সফর করা বৈধ নয়। কারণ মহিলাদের উপর হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য মাহরাম শর্ত।  আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘কোনো মহিলা মাহরাম ব্যতীত এক দিনের সফর করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬২, ৩০০৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৮২৭, ১৩৩৮; মিশকাত, হা/২৫১৫ ও ২৫১৩)। সুতরাং হজ্জের সফরে স্বামী অথবা মাহরাম থাকা যরূরী। মাহরাম ছাড়া হজ্জ ফরয হবে না।

প্রশ্ন (৭) : ‘হাজারে আসওয়াদ’ স্পর্শ করলে পাপ মোচন হয় কি?

-আব্দুল কাদের
  শাহজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : হ্যাঁ, ‘হাজারে আসওয়াদ’ স্পর্শ করলে পাপ মোচন হয়। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, আল্লাহর কসম! ক্বিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ হাজারে আসওয়াদকে উঠাবেন, তখন তার দু’টি চোখ থাকবে যা দ্বারা সে দেখবে এবং তার একটি জিহ্বা হবে যা দ্বারা সে কথা বলবে এবং যে তাকে ঈমানের সাথে চুম্বন করেছে সে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে’ (তিরমিযী, হা/৯৬১, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৫৭৮)। তবে রাসূল (ছা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণের উদ্দেশ্যে পাথরকে চুম্বন করতে হবে। সাথে সাথে বিশ্বাস রাখতে হবে যে উক্ত পাথর উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। যেমনটি ওমর (রা.) বলেছিলেন, নিশ্চয় আমি অবগত আছি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র। তুমি ক্ষতিও করতে পারো না, আবার উপকারও করতে পারো না, যদি আমি রাসূল (ছা.)-কে না দেখতাম যে, তিনি তোমাকে চুম্বন করছেন, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭০)।

প্রশ্ন (৮) : ‘হাজারে আসওয়াদ’ সাদা ছিল। কিন্তু আদম সন্তানের পাপের কারণে তা কালো হয়েছে’ একথা সঠিক কি?

মাহফূয
বাঘা, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, একথা সঠিক। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,  রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘হাজারে আসওয়াদ যখন জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়, তখন দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা ছিল। পরে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দিয়েছে’ (তিরমিযী, হা/৭৮৮, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৫৭৭)।

প্রশ্ন (৯) : প্রতি বছর আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী?

-তাওহীদ
পীরগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর : আরাফার দিন তথা ৯ যিলহজ্জ ছিয়াম পালন করতে হবে এটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘আরাফা দিনের (يوم عرفة) ছিয়ামের ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে ছিয়াম পালনকারীর পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের পাপ মোচন করে দিবেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮০৩; মিশকাত, হা/২০৪৪)। সুতরাং হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যেদিন যে দেশে ৯ যিলহজ্জ হবে সেদিন সে দেশে আরাফার ছিয়াম পালন করবে। সঊদীর সাথে মিলিয়ে নয় (ফাতাওয়া ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতাওয়া নং ৪০৭২০; ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং ২২৭৯৫৩)।

প্রশ্ন (১০) : যার হজ্জ করার সামর্থ্য নেই সে যদি তার মায়ের দিকে সুনযরে তাকায়, তাহলে সে কবুল হজ্জের সমান নেকী পাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

তানভীর
মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল। এর সনদে নাহশাল ইবনু সাঈদ নামে একজন পরিচিত মিথ্যুক রাবী আছে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৭৮৫৬; সিলসিলা যঈফাহ, হা/৬২৭৩)।

প্রশ্ন (১১) : হজ্জ ও ওমরাহ পালন করলে পাপ মোচন হওয়ার পাশাপাশি অভাবও দূর হয়। উল্লিখিত বক্তব্য কি ছহীহ হাদীছ সম্মত?

আব্দুস সাত্তার
পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : উল্লিখিত বক্তব্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.)  বলেছেন, ‘তোমরা হজ্জ ও ওমরাহ আদায়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করো। কারণ এ দু’টি দরিদ্রতা এবং পাপ উভয়ই দূর করে, যেমন হাপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে। আর মাবরূর (কবুল) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত বৈ কিছুই নয়’ (তিরমিযী, হা/৮১০, ১/১৬৭; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৫১২; নাসাঈ, হা/২৬৩১, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (১২) : আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিকে যদি কেউ হজ্জ করার খরচ দিতে চায় তাহলে উক্ত টাকায় হজ্জ করা যাবে কি?

মাহবুবে যামিল
আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : কেউ স্বেচ্ছায় কোনো জিনিস দিলে তা গ্রহণ করা উত্তম। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী  করীম (ছা.) আমাকে (যাকাত উছূল করার বিনিময়ে) কিছু দিতে চাইলে আমি বললাম, আমার চেয়ে অধিক অভাবীকে দিন। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘এটা গ্রহণ করো এবং নিজ সম্পদে পরিণত করো। অতঃপর তুমি তা দান করো। যখন তোমার নিকট এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তুমি আগ্রহী নও এবং প্রার্থীও নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি আগ্রহী হবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৬৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৪৫; মিশকাত, হা/১৮৪৫)। অতএব, উক্ত টাকা দিয়ে হজ্জ করায় শারঈ কোনো বাধা নেই।

প্রশ্ন (১৩) : পশুর এক চোখ কানা হলে তা দ্বারা কুরবানী হবে কি?

আব্দুল হান্নান
কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : না, এমন পশু দ্বারা কুরবানী বৈধ হবে না। রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘চার ধরনের ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী বৈধ নয়- (১) স্পষ্ট অন্ধ (২) স্পষ্ট রোগা (৩) স্পষ্ট খঞ্জতা এবং (৪) অন্তিম বার্ধক্য/দুরারোগ্য ভগ্নপদ’ (মুওয়াত্তা, হা/১৭৫৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩১৪৪; তিরমিযী, হা/১৪৯৭; মিশকাত, হা/১৪৬৫)।

প্রশ্ন (১৪) : প্রতিবেশীকে কুরবানীর গরুর গোশত দিয়ে সমপরিমাণ অথবা কম কিংবা বেশি করে ছাগলের গোশত নেওয়া যাবে কি?

ছিদ্দীক্ব
 চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর।

উত্তর : এরূপ লেনদেনের ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের কোনো আমল পাওয়া যায় না। তাই কুরবানীর গোশতের ক্ষেত্রে এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক লেনদেন করা উচিত নয়। তবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে হাদিয়াস্বরূপ কিছু নেওয়া এবং তাদেরকে কিছু দেওয়া যায় (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৯৫)।

প্রশ্ন (১৫) : কুরবানীর পশু যবেহকারীকে পারিশ্রমিক হিসাবে গোশত দেওয়া যাবে কি?

রকীবুল ইসলাম
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানীর গোশত থেকে কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছু দেওয়া যাবে না।  আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) তাকে তার কুরবানীর পশুর পাশে দাঁড়াতে, এদের গোশত, চামড়া ও পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে এবং তা হতে কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছু না দিতে নির্দেশ দেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৭১৭)। তবে ঐ ব্যক্তি হক্বদার হলে হাদিয়াস্বরূপ কিছু দেওয়া যেতে পারে (মুগনী, ১১/১০পৃঃ)।

প্রশ্ন (১৬) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

আব্দুছ ছামাদ
ডুমুরিয়া, খুলনা।

উত্তর : মৃত ব্যক্তির নামে পৃথক কুরবানী দেওয়া শরী‘আতসম্মত নয়। কেননা তা রাসূল (ছা.)-এর বাণী বা কর্ম বা সম্মতি দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। রাসূল (ছা.)-এর জীবদ্দশাতেই ফাতেমা (রা.) ছাড়া তার সকল সন্তান, দুই স্ত্রী খাদীজা ও যায়নাব বিনতে খুযায়মা (রা.) এবং চাচা হামযাহ (রা.) প্রমুখ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অথচ তিনি তাদের কারো পক্ষ থেকেই কুরবানী করেননি। তাছাড়া রাসূল (ছা.)-এর জীবদ্দশায় কোনো ছাহাবী কাছের কিংবা দূরের কোনো মৃতের নামে কুরবানী করেছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায় না (মাজমূ‘ফাতাওয়া শায়খ উছায়মীন, ১৭/২৬৭)। কোনো কোনো বিদ্বান জায়েযের পক্ষে ফাতাওয়া দিলেও তার কোনো দলীল নেই।

প্রশ্ন (১৭) : হজ্জ থেকে বাড়ী ফেরার পর তিনদিন পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলা কিংবা বাড়ী থেকে বের হওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে গরু-খাসী যবেহ করে দাওয়াত খাওয়ানো কিংবা বাজারে কিছু কিনতে গেলে একদরে ক্রয় করা উচিত মর্মে সমাজে প্রচলিত আমলগুলো কি শরী‘আতসম্মত?

ইসরাঈল
 শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : এগুলো সব কুসংস্কার। ইসলামে এগুলোর কোনো স্থান নেই। বরং হজ্জ অথবা কোনো সফর থেকে ফিরে আসলে প্রথমে মসজিদে দুই রাক‘আত ছালাত আদায়ের পর মানুষের সাথে প্রয়োজনীয় কুশলাদি বিনিময় করে বাড়ীতে প্রবেশ করা সুন্নাত। কা‘ব ইবনু মালিক (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) কোনো সফর থেকে আসলে প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন। অতঃপর লোকদের সাথে বসতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৮৭ ও ২৬০৪)।

তবে হজ্জ সফর থেকে ফিরে এসে দাওয়াত খাওয়ানো যায়। রাসূল (ছা.) এক সফর থেকে ফিরে এসে খানাপিনার অনুষ্ঠান করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৮৯; মিশকাত, হা/৩৯০৫)। তবে হজ্জে যাওয়ার পূর্বে অনুষ্ঠান করে দাওয়াত খাওয়ানোর যে প্রথা সমাজে চালু আছে তার কোনো প্রমাণ শরী‘আতে নেই; বরং তা বিদ‘আত ও কুসংষ্কার।

প্রশ্ন (১৮) : কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

শামীম হোসেন
  নওগাঁ সদর, নওগাঁ।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৭; মিশকাত, হা/১৪৭৬)। এই সানাদে আয়িযুল্লাহ নমে একজন দুর্বল ও নাফি‘ আবুদাউদ নামে একজন পরিত্যাজ্য রাবী রয়েছে (তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং-৭২৩০; ৩১৩৩)।

প্রশ্ন (১৯) : একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি পশু কুরবানী করতে পারে?

তানভীরুল ইসলাম
 মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করাই যথেষ্ট। তবে সামর্থ্য অনুপাতে একাধিক পশু কুরবানী করতে পারে। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (ছা.) দু’টি শিংওয়ালা সাদা-কালো রঙের ভেড়া কুরবানী করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৬৪, ৫৫৬৫)। অপর বর্ণনায় আছে, রাসূল (ছা.) একসাথে একশোটি উট কুরবানী করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; ইবনু মাজাহ, হা/৩০৭৪)।

প্রশ্ন (২০) : পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী দিয়ে গোশত খাওয়ার আশায় গরুর ভাগায় অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

রফীক আহমাদ
 সাতমাথা, বগুড়া।

উত্তর :  গোশত খাওয়ার আশায় এই পদ্ধতিতে কুরবানী দেওয়া যাবে না। কেননা ইখলাছে ত্রুটি থাকলে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না (বাইয়্যেনাহ, ৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪)।

প্রশ্ন (২১) : ফিতরা কি যাকাতের মতো আট খাতে বণ্টন করা যাবে?

উত্তর : যাকাত এবং ফিতরা এক নয়। যাকাত আদায়ের জন্য ধনী হওয়ার শর্ত রয়েছে। যার জন্য নির্ধারিত মাপকাঠি বা নিসাব রয়েছে। অন্যদিকে ফিতরা ধনী-গরীব সকলকেই আদায় করতে হয়। যাকাতের জন্য পবিত্র কুরআনে আটটি খাতে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফিতরার ক্ষেত্রে ছহীহ হাদীছে শুধুমাত্র ফক্বীর-মিসকীনদের মাঝে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে (আবুদাঊদ, হা/১৬০৯)। সুতরাং ফিতরার খাদ্যদ্রব্য শুধুমাত্র ফক্বীর-মিসকীনকেই দিতে হবে এবং যে প্রতিষ্ঠানে ফক্বীর-মিসকীন বা ইয়াতীম লালিত-পালিত হয় সে প্রতিষ্ঠানে দেওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন (২২) : কুরবানীর নিয়তে ক্রয়কৃত পশু ত্রুটিযুক্ত হলে সেই পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

আহমাদ
কাটাখালী, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত সুস্থ পশু যদি রোগাক্রান্ত কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায় তাহলে উক্ত পশু দিয়ে কুরবানী করতে শারঈ কোনো বাধা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, তার কাছে হজ্জের কুরবানীর পশুসমূহের মধ্যে একটি কানা নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন, যদি পশুটি তোমাদের কেনার পরে কানা হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা তা কুরবানীতে চালিয়ে দাও। আর যদি তোমাদের কেনার আগে থেকেই কানা হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে অন্য একটি কুরবানী দাও’ (বায়হাক্বী, সুনানে ছুগরা, হা/১৭৭৪)। ইমাম নববী (রহি.) বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ (আল-মাজমূ‘, ৮/৩৬৩)।

প্রশ্ন (২৩) : কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার অছিয়ত করে গেলে তার অছিয়ত পূর্ণ করার বিধান কি?

আব্দুল আহাদ
 ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : অছিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা বাস্তবায়ন করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন (নিসা, ৭৯)। মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে কুরবানীর পশুর মূল্য পরিশোধযোগ্য হলে তার পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া যাবে। (ছহীহ বুখারী, হা/১২৯৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৮)।

প্রশ্ন (২৪) : কুরবানীর গোশত সমানভাবে তিন ভাগে ভাগ করা কি যরূরী? কুরআন-হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মিলন হুসাইন
রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কুরবানীর গোশত সমানভাবে তিন ভাগে ভাগ করার ব্যাপারে রাসূল (ছা.) হতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘…তোমরা তা থেকে খাও এবং মিসকীন ও ফক্বীরকে খাওয়াও’ (হজ্জ, ৩৬)। রাসূল (ছা.) প্রথমদিকে তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত জমা রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ছাহাবীগণ বললেন, আপনি তো তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন? তখন রাসূল (ছা.) বললেন, ‘গ্রাম থেকে অনেক অভাবী লোক আসার কারণে আমি সেই বছরে নিষেধ করেছিলাম। এখন যেহেতু সেই পরিস্থিতি নেই, অতএব তোমরা খাও, জমা রাখ এবং দান করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭১)। সংশ্লিষ্ট আয়াতে নিজে খাওয়া এবং দুই শ্রেণির মানুষকে খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। আর পরিস্থিতি অনুযায়ী হাদীছে দান করতে বলা হয়েছে। অতএব, এলাকায় অভাবীর সংখ্যা অতিরিক্ত হলে নিজে খাওয়ার তুলনায় দান করতে হবে বেশি। আর অভাবীর সংখ্যা কম হলে নিজের ইচ্ছামত খাওয়া বা দান করা যেতে পারে। তবে তিন ভাগে ভাগ করার বিষয়টি কিছু আছার থেকে বুঝা যায়।

প্রশ্ন (২৫) : মক্কায় হজ্জ সম্পাদনের সাথে সাথে সেখানে মৃত্যুর আশা করা যায় কি?

আব্দুর রহমান
  ঠাকুরগাঁও সদর।

উত্তর : হজ্জের সাথে এরকম নিয়্যতের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে হজ্জ পালনের সময় কোনো কারণে মদীনায় চলে গেলে সেখানে মৃত্যুর আশা করতে পারে। কেননা তাতে কল্যাণ আছে। ইবনু ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেন, ‘যারা মদীনায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের জন্য আমি সুপারিশ করব’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৪৩৭; তিরমিযী, হা/৩৯১৭; মিশকাত, হা/২৭৫০)। ওমর (রা.) নিম্নোরূপ দু‘আ করতেন,

اللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ شَهَادَةً فِى سَبِيْلِكَ وَاجْعَلْ مَوْتِىْ فِىْ بَلَدِ رَسُوْلِكَ

‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার পথে শাহাদাতবরণ করার তাওফীক্ব দান করুন এবং আপনার রাসূলের শহরে মৃত্যুদান কারুন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯০)।

প্রশ্ন (২৬) : সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কুরবানী করেনি, তাদেরকে গোশত দেওয়া যাবে কি?

আব্দুল হামীদ
তালা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : তাদেরকে কুরবানীর গোশত দেওয়া যাবে। কেননা সামর্থ্য থাকলেই কুরবানী করা যরূরী নয়। আবুবকর ও ওমর (রা.) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো কুরবানী করেননি (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৩৯, ৪/৩৫৪; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ৪/১৭৭)। আবু মাসঊদ আনছারী (রা.) বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকার পরও আমি কুরবানী দিই না এই আশঙ্কায় যে, আমার প্রতিবেশীগণ হয়ত মনে করবে কুরবানী দেওয়া আমার জন্য যরূরী’ (ইরওয়াউল গালীল, ৪/৩৫৫)।

প্রশ্ন (২৭) : যমযম কূপের পানির পৃথক কোনো গুণাগুণ বা ঔষধী গুণ আছে কি?

নূর মুহাম্মদ
সৈয়দপুর, নীলফামারী।

উত্তর :  যমযমের  পানিতে অনেক গুণাগুণ, ফযীলত ও রোগমুক্তি আছে। আবু যার (রা.) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ ‘এটি অতিশয় বরকতময়। এটি খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ’ (যা অন্যান্য খাবারের মতো পেট পূর্ণ করে দেয়) (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩৫৯)। আবুদাঊদ আত-ত্বায়ালাসী তার ‘মুসনাদ’-এ মুসলিমের সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন এবং তিনি নিম্নোক্ত বাক্যটি উল্লেখ করেন, وشِفاءُ سَقْمٍ ‘আর এটি রোগ-ব্যাধি নিরাময়কারী’ (মুসনাদে ত্বায়ালাসী, হা/৪৫৯; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৬২, সনদ ছহীহ)। যমযম পানির ফযীলত সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘ভূ-পৃষ্ঠের সেরা পানি হলো যমযমের পানি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর খাদ্য এবং রোগ হতে আরোগ্য’ (ত্বাবারানী মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৩৯১২; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৬১; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০৫৬, সনদ হাসান)। জাবের (রা.) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ ‘যমযম পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে, সে উদ্দেশ্যই পূরণ হবে’ (ইবনে মাজাহ, হা/৩০৬২; আল-মুসতাদরাক ‘আলাছ ছহীহাইন, হা/১৭৩৯; ইরওয়াউল গালীল, হা/১১২৩, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (২৮): একই ইমাম ঈদের জামা‘আতে একাধিক বার ইমামতি করতে পারে কি? ছাহাবায়ে কেরামের জীবনে এরূপ কোনো আমল আছে কি?

মীযানুর রহমান
 গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : একই ইমাম একাধিক বার একই ছালাত পড়িয়েছেন মর্মে রাসূল (ছা.) ও তার ছাহাবীগণের কোনো আমল পাওয়া যায় না। তবে একই ছালাত একাধিকবার পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত। মু‘আয বিন জাবাল (রা.) রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর পিছনে এশার ছালাত পড়তেন এবং নিজ স¤প্রদায়ে গিয়ে আবার তাদের ইমামতি করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৬৫; মিশকাত, হা/১১৫০)। এক্ষণে ইমামের অভাবে যদি এরূপ করতে হয়, তাহলে তা শরী‘আতে গ্রহণযোগ্য হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (২৯) : ঈদুল আযহার দিন ছালাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত ছওম থাকা ও কুরবানীর কলিজা দ্বারা ইফতারী করা কি সুন্নাত?

মিলন হুসাইন
রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈদুল ফিতরে খেয়ে ঈদের মাঠে যাওয়া এবং ঈদুল আযহাতে ঈদের মাঠ থেকে এসে খাওয়া সুন্নাত (তিরমিযী, হা/৫৪২; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫৬; মিশকাত, হা/১৪৪০)। অপর বর্ণনায় আছে, ‘…তিনি ঈদুল আযহার দিন খেতেন না (পশু) যবেহ না করা পর্যন্ত’ (ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪২৬; বায়হাক্বী, হা/৫৯৫৪; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৮৪৫, সনদ ছহীহ)। অবশ্য কুরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া উত্তম। কেননা রাসূল (ছা.) স্বীয় কুরবানীর গোশত হতে খেতেন (আহমাদ, হা/২৩০৩৪, সনদ হাসান; নায়লুল আওতার, ৪/২৪১)। বিদায় হজ্জের দিন তিনি ১০০টি উটের প্রতিটি থেকে একটু করে অংশ নিয়ে এক পাত্রে রান্না করে সেখান থেকে গোশত খেয়েছিলেন ও ঝোল পান করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩০৭৪; মিশকাত, হা/২৫৫৫)। তবে কলিজা খাওয়া মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল (সুবুলুস সালাম, ১/৪২৮; তা‘লীক্ব আলবানী, ২/২০০)। উল্লেখ্য যে, ঈদুল আযহার দিন না খেয়ে থাকাকে ছওম বলা এবং ঈদগাহ থেকে এসে খাওয়াকে ইফতারী বলার কোনো প্রমাণ শরী‘আতে পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (৩০) : ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম পালনে শারঈ নিষেধাজ্ঞা আছে কি?

মিলন হুসাইন
রহমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে ছিয়াম রাখা জায়েয নয়। আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.)  ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৭; মিশকাত, হা/২০৪৮)। একইভাবে ঈদুল আযহার পরবর্তী তিনদিনও ছিয়াম রাখা জায়েয নয়। নুবায়শা আল-হুযালী (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘তাশরীকের দিনগুলো (ঈদুল আযহার পরের তিন দিন) খানা-পিনা ও তাকবীর পাঠ করার দিন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪১; আবুদাঊদ, হা/২৮১৩; মিশকাত, হা/২৬৪৫)।

প্রশ্ন (৩১) : টাকা ধার নিয়ে কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

আব্দুল আলিম
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : কুরবানী আল্লাহর  নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। বছরে মাত্র একবার কুরবানী দেওয়ার সুযোগ আসে। তাই যথাসাধ্য কুরবানী দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। ঋণ ব্যতীত কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে এবং মাসিক বেতন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অল্প সময়ে ঋণ পরিশোধ করার উপায় থাকলে ঋণ করে কুরবানী করাতে শারঈ কোনো বাধা নেই (মাজমূঊল ফাতাওয়া লি-ইবনে তায়মিয়াহ, ২৬/৩০৫; ফাতাওয়া বিন বায, ১/৩৭)।

প্রশ্ন (৩২) : সামর্থ্যবান ব্যক্তি কুরবানী না দিলে তার কি কোনো পাপ হবে? তিনি কি ঈদগাহে ছালাত আদায় করতে পারবেন?

নূর আলম
গুরুদাসপুর, নাটোর।

উত্তর : কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তবে সামর্থ্য থাকলেই যে কুরবানী করা যরূরী বিধানটি এমন নয়। সুতরাং সামর্থ্যবান ব্যক্তি কুরবানী না দিলেও সে যেমন পাপী হবে না; তেমনি তার ঈদগাহে যাওয়া ও ছালাত আদায় করায় শারঈ কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কেননা আবুবকর ও ওমর (রা.) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো কুরবানী করতেন না (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৩৯, ৪/৩৫৪; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ৪/১৭৭)। উল্লেখ্য যে, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না দেওয়া ব্যক্তিকে ঈদের মাঠে যেতে নিষেধ করা হয়েছে’ মর্মে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীছটির বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে (ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৯০)। সাথে সাথে আবুবকর, ওমর ও আবু মাসঊদ আনছারী (রা.) সহ আরও অনেক ছাহাবী ইচ্ছা করে কুরবানী না দেওয়ার কারণে কি ঈদের মাঠে যেতেন না? অবশ্যই যেতেন। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তি বিনা ওযরে কুরবানী না দিলেও ঈদের মাঠে ছালাত আদায়ের জন্য যাবে।

প্রশ্ন (৩৩) : কুরবানীর জন্য একটি পশুতে সর্বোচ্চ কতজন অংশগ্রহণ করতে পারে? 

রাকিব হাসান
কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

উত্তর : একটি পশুতে একাধিক জনের অংশগ্রহণ সম্পর্কে যে হাদীছগুলো এসেছে, সেগুলো প্রায়ই সফরের সাথে সম্পৃক্ত। তবুও সেখানে সাত পরিবারের পক্ষ থেকে ভাগে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ নেই বরং সাতজনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি উট ও গরুতে সাতজন পর্যন্ত শরীক হতে পারে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (ছা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে’ (আবুদাঊদ, হা/২৮০৮; তিরমিযী, হা/৯০৪; মিশকাত, হা/১৪৫৮)। তবে উটে দশজনও শরীক হওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (ছা.) -এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তখন ঈদুল আযহা এসে পড়লে আমরা উটে দশজন এবং গরুতে সাতজন শরীক হলাম’ (ইবনে মাজাহ, হা/৩১৩১, সনদ ছহীহ)।

উল্লেখ্য যে, মুক্বীম অবস্থায় ভাগা কুরবানীর বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ১১/৩৯৫ পৃ. ও ৪০৫ পৃ.)। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বা একাধিক কুরবানী করাই উত্তম। এতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নাই।

প্রশ্ন (৩৪) : নিজ বাড়ীতে পশু লালন-পালন করে কুরবানী দেওয়া উত্তম? না-কি বাজার থেকে কিনে এনে কুরবানী দেওয়া উত্তম?

আবিদ হাসান
নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : নিজ বাড়ীতে পালন করা কিংবা বাজার থেকে ক্রয় করা পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়ার মাঝে কোন ফযীলত নেই। কুরবানীর ফযীলত নির্ভর করে অন্তরের তাক্বওয়া এবং পশু নিখুঁত হওয়ার উপরে (হজ্জ, ৩৭; নাসাঈ, হা/৪৩৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩১৪৪; মিশকাত, হা/১৪৬৫)। তাই যার যেটা সামর্থ্য হবে সে সেটা দিয়েই কুরবানী দিবে। হাবীলের নিজের পালন করা মেষ ছিল, তিনি সেটা দিয়ে কুরবানী দিয়েছিলেন। রাসূল (ছা.)-এর পালন করা কোনো পশু না থাকায় তিনি বাজার থেকে ক্রয় করা পশু দিয়ে কুরবানী দিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৪২; আবুদাঊদ, হা/৩৩৮৪; মিশকাত, হা/২৯৩২)। উল্লেখ্য যে, অপরের ফসল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে বেড়ে উঠা বাড়ীতে পালিত পশু কুরবানীর জন্য উপযুক্ত নয়। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ব্যতীত ছালাত কবুল হয় না এবং হারাম মালের দান কবুল হয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৪; তিরমিযী, হা/১; মিশকাত, হা/৩০১)।

প্রশ্ন (৩৫) : বর্তমান (করোনা) পরিস্থিতিতে ঈদের ছালাত মসজিদে আদায় করতে বলা হচ্ছে। সুতরাং ঈদের ছালাত আদায় করার জন্য মসজিদে প্রবেশ করলেও কি তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করতে হবে। নাকি ঈদের মাঠ মনে করে বসে যেতে হবে?

জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা না বসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৪)। তাই যে কোনো কারণে মসজিদে প্রবেশ করলে তার জন্য দুই রাক‘আত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ পড়তে হবে। এমনকি ঈদের ছালাতের জন্য প্রবেশ করলেও (মাজমূঊ ফাতাওয়া বিন বায, ১৩/১৬)। তবে সাধারণ জনগণ যেন এটাকে ঈদের পূর্বের সুন্নাত মনে না করে, সেজন্য খুৎবার মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করা যরূরী।

প্রশ্ন (৩৬) : করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ বা অন্যান্য ছালাত আদায়ের কথা বলা হচ্ছে। এভাবে জামা‘আতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? 

আব্দুল্লাহ
সিংড়া, নাটোর।

উত্তর : জামাআতে ছালাত আদায় করার সময় কাতার সোজা করে পায়ের সাথে পা ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শারঈ বিধান। আনাস (রা.) বলেন, ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হলে রাসূল (ছা.) আমাদের দিকে মুখ করে বলতেন, ‘কাতার সোজা করো এবং পরস্পরে মিলিত হয়ে দাঁড়াও। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক দিয়েও দেখি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৮, ৭১৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩৪; মিশকাত, হা/১০৮৬)। অপর বর্ণনায় আছে, (রাসূলের এ কথা শুনে) আমাদের লোকেরা একজন অপরজনের কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়াতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৫)। আবু মাসঊদ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) ছালাতে আমাদের বাহুমূলসমূহকে পরস্পরে মিলিয়ে দিতেন এবং বলতেন, ‘সোজা হয়ে দাঁড়াও এবং বিভিন্নরূপে দাঁড়িও না, তাতে তোমাদের অন্তরসমূহ বিভিন্ন হয়ে যাবে আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান, তারা যেন আমার নিকটে থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী তারা’। অতঃপর আবু মাসঊদ (রা.) বলেন, দুঃখের বিষয়, তোমরা আজ অত্যন্ত বিভিন্নমুখী (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩২; নাসাঈ, হা/৮০৭; ইবনু মাজাহ, হা/৯৭৫; মিশকাত, হা/১০৮৮)। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা করো। কেননা কাতার সোজা করা ছালাত প্রতিষ্ঠার শামিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩৩; মিশকাত, হা/১০৮৭)। মুসলিমের বর্ণনায় আছে, কাতার সোজা করা ছালাত পূর্ণ করার শামিল (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩৩; মিশকাত, হা/১০৮৭)। সুতরাং জামা‘আতবদ্ধভাবে ছালাত আদায় করলে ফাঁকা বন্ধ করে পায়ের সাথে পা মিলিয়ে প্রাচীরের মতো হয়ে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। সম্ভব না হলে একাই পড়বে। কোনো সমস্যার কারণে রাসূল (ছা.)-এর আদেশ অমান্য করা যাবে না।

প্রশ্ন (৩৭) : হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সময় মানুষ হাজরে আসওয়াদে চুমা দেয় কেন?

রিজাউল ইসলাম
রাজশাহী।

উত্তর : হজ্জ ও উমরাহ পালনের সময় মানুষ রাসূল (ছা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণের উদ্দেশ্যে পাথরকে চুম্বন করে থাকে। তবে সাথে সাথে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, উক্ত পাথর উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। যেমনটি ওমর (রা.) বলেছিলেন, নিশ্চয় আমি অবগত আছি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র। তুমি ক্ষতিও করতে পারো না, আবার উপকারও করতে পারো না, যদি আমি রাসূল (ছা.)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭০; তাহ্ক্বীক্ব মিশকাত, হা/২৫৮৯)।

প্রশ্ন (৩৮) : ঈদের ছালাতের পরে ও খুৎবার পূর্বে কুরবানী করা যাবে কি?

মিলন হুসাইন
রহমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : শারঈ পদ্ধতি হচ্ছে ঈদের ছালাত ও খুৎবার পরে ঈদগাহে কুরবানীর করা। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) ঈদগাহেই যবেহ করতেন বা নহর করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৫২; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪৫৭)। তবে যরূরী কারণে ঈদের ছালাত আদায়ের পর ও খুৎবার পূর্বে কুরবানী করতে পারে। কেননা ঈদের ছালাতের খুৎবা শ্রবণ করা যরূরী নয়। আব্দুল্লাহ বিন সাইব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর সাথে এক ঈদের ছালাতে উপস্থিত ছিলাম। ছালাত আদায়ের পর তিনি বলেন, ‘আমরা ঈদের ছালাত পূর্ণ করেছি। সুতরাং যার ইচ্ছা সে খুৎবা শ্রবণের জন্য বসে যাবে আর যার ইচ্ছা সে চলে যেতে পারে’ (ইবনে মাজাহ, ১/৩৮৭, হা/১০৭৩-১৩০৬, ‘ঈদের ছালাতের পর খুৎবার জন্য অপেক্ষা করা’ অনুচ্ছেদ)। তবে নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে খুৎবা শ্রবণ না করে চলে যাওয়া সুন্নাতবিরোধী। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছা.) সালামের পর মানুষের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াতেন এবং মুছল্লীগণ নিজ নিজ কাতারে বসে থাকতো। তিনি তাদের উপদেশ দিতেন, অছিয়ত করতেন এবং বিভিন্ন কাজের আদেশ দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬; মিশকাত, হা/১৪২৬)। এমনকি ঋতুবতী মহিলাদেরকেও ঈদের মাঠে উপস্থিত হয়ে খুৎবা শোনার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছা.) নির্দেশ দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; মিশকাত, হা/১৪৩১)।

উল্লেখ্য যে, কেউ ঈদুল আযহার ছালাতের পূর্বে কিংবা ছালাত চলাকালীন সময়ে কুরবানী করলে সেটি কুরবানী হবে না। বরং তাকে আরেকটি কুরবানী করতে হবে। জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর ঈদে আমি রাসূল (ছা.)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। (আমি দেখলাম) তিনি ছালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরিয়ে ছালাত হতে অবসর হওয়া ছাড়া আর কিছু করলেন না। এসময় তিনি কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা ছালাত আদায়ের পূর্বেই যবেহ করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি ছালাত আদায়ের আগে অথবা আমার ছালাত আদায়ের পূর্বে কুরবানীর পশু যবেহ করেছে সে যেন অন্য একটি কুরবানী করে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯৮৫, ৫৫০০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৬০; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪৭২)।

প্রশ্ন (৩৯) : এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কাটা যাবে কি?

মিনহাজ পারভেজ, হড়গ্রাম, রাজশাহী;
ও রহমতুল্লাহ, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এক মুষ্টি দাঁড়ি যেমন রাখা যাবে না; তেমনি এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কাটা বা ছাঁটাও শরী‘আত সম্মত নয়।  কেননা রাসূল (ছা.) দাঁড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনু ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.)বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাঁড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ ছোট করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; মিশকাত, হা/৪৪২১)। এক মুষ্টি দাঁড়ি রাখার যে কথা হাদীছে এসেছে তা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর ব্যক্তিগত আমল। যা হজ্জ ও ওমরার সাথে সম্পৃক্ত। ইবনে ওমর (রা.) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকতো তা কেটে ফেলতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২)। রাসূল (ছা.) থেকে দাঁড়ি ছোট করার ব্যাপারে কোনো বিশুদ্ধ হাদীছ বর্ণিত হয়নি। তাই রাসূল (ছা.)-এর আদর্শকেই প্রাধান্য দিতে হবে (আহযাব, ২১)।

প্রশ্ন (৪০) : দুনিয়ার স্ত্রীকে জান্নাতে পাওয়া যাবে কি?

নাঈম ইসলাম
 বাগেরহাট সদর।

উত্তর : জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তি তার ইচ্ছামত আল্লাহর  সকল নে‘মত ভোগ করবে। তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি জান্নাতী হয় ও একে অপরকে কাছে পেতে চায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা সে ব্যবস্থা করবেন ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং আমার নিকট রয়েছে তারও অধিক (আল্লাহর দর্শন)’ (ক্বাফ, ৩৫)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘এই দিন জান্নাতবাসীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে। তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ (সুশীতল) ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেথায় থাকবে তাদের জন্যে ফলমূল এবং তাদের জন্যে যা চাইবে তাই থাকবে’ (ইয়াসিন, ৫৫-৫৭)।

প্রশ্ন (৪১) : আহাদুল ইসলাম নাম রাখা কি শিরক?

আহাদুল ইসলাম
কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

উত্তর : আল্লাহ তা‘আলার একটি গুণবাচক নাম আল-আহাদ; যার অর্থ এক বা অদ্বিতীয়। তাই আল শব্দাংশটুকু বাদ দিয়ে আহাদুল ইসলাম নাম রাখা শিরক নয়। তবে নামটি ভাষাগত দিক থেকে সঠিক অর্থ বহন করে না। সুতরাং নামটি আব্দুল আহাদ রাখাটাই উত্তম।

প্রশ্ন (৪২) : বরই পাতা দিয়ে গরম করা পানি দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পক্ষে শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

রহমতুল্লাহ
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : বরই পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া সুন্নাত। রাসূূল (ছা.)-এর কন্যা যায়নাব (রা.) মৃত্যুবরণ করলে তিনি তাকে বরই পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। উম্মে আতিয়্যা (রা.)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) আমাদের নিকট পৌঁছলেন, তখন আমরা তার কন্যা (যায়নাব)-কে গোসল করাচ্ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, ‘তাকে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা তার চেয়ে অধিকবার গোসল করাও। যদি তোমরা মনে করো তাহলে বরই পাতার কশ দেওয়া পানি দিয়ে গোসল করাবে আর শেষবার কাফুর (কর্পূর) দিবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৫৩, ১২৫৪, ১২৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৯; মিশকাত, হা/১৬৩৪)। আর ব্যবহৃত পানি অধিক পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে উষ্ণ গরম করে নেওয়া যেতে পারে। তবে স্বাভাবিক পানিও ব্যবহার করা যাবে।

প্রশ্ন (৪৩) : শবেবরাত উদযাপনের শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

রহমতুল্লাহ
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,
ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : না, শবেবরাত উদযাপনের শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। বরং তা উদযাপন করা স্পষ্ট বিদ‘আত। কেননা রাসূল (ছা.) এবং ছাহাবীদের যুগে এটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং কেউ তা উদযাপনও করেননি। বরং এটি তাদের অনেক পরে ইসলামে নবউদ্ভাবিত একটি আমল যা রাসূল (ছা.), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম কর্তৃক স্বীকৃত নয়। রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)। উল্লেখ্য যে, শবেবরাত উদযাপনের সমর্থনে যে সমস্ত হাদীছ পেশ করা হয়, তার সবগুলোই যঈফ অথবা মাওযূ‘। এটি উদযাপনে যদি বিশেষ কোনো ফযীলত থাকতো, তাহলে রাসূল (ছা.) এবং তার ছাহাবীগণ অবশ্যই তা উদযাপন করতেন এবং ছহীহ সূত্রে তা বর্ণিত হতো। কেননা তারাই হচ্ছেন উম্মতের একমাত্র অনুকরণীয় ব্যক্তি।

প্রশ্ন (৪৪) : সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করলে তখনই সিজদা দিতে হবে, নাকি পরে দিলেও চলবে? এ আয়াত শ্রবণকারীদেরকেও সিজদা দিতে দেখা যায়। তার প্রমাণ কী?

রহমতুল্লাহ
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,
 ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : ছালাতের ভিতরে হোক অথবা বাহিরে হোক যখনই সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করবে তখনই সিজদা করা সুন্নাত। সাথে সাথে এ ধরনের আয়াত শ্রবণকারীদেরকেও সিজদা দিতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) সূরা নাজম পাঠ করলেন এবং তাতে সিজদা করলেন। তার নিকট যারা উপস্থিত ছিল তারাও সিজদা করল, তবে কুরাইশ বংশের এক বৃদ্ধ ব্যতীত। সে এক মুষ্টি পাথর অথবা মাটি নিলো এবং সেটাকে নিজ কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার পক্ষে এটাই যথেষ্ট। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, আমি এই বৃদ্ধকে পরবর্তীতে কাফের অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি (ছহীহ বুখারী, হা/১০৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭৬; মিশকাত, হা/১০৩৭)।

প্রশ্ন (৪৫) : ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার দাফন-কাফনে বাধা দিতে পারে কি?

রহমতুল্লাহ
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,
 ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : না, ঋণগ্রহীতার দাফন-কাফনে বাধা দেয়া উচিত নয়; বরং ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হলে ঋণদাতাকে অপেক্ষা করা উচিত। আর ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে তা দান করা কিংবা ক্ষমা করা উত্তম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি ঋণগ্রহিতা অভাবগ্রস্ত হয় তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। তবে তোমাদের জন্য দান করাই উত্তম’ (বাক্বারাহ, ২৮০)। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য উচিত মৃত্যু আসার পূর্বে ঋণ পরিশোধ করা এবং উপায় না থাকলে ওয়ারিছগণকে সে ব্যাপারে অছিয়ত করে যাওয়া। অন্যথা তার আত্মা ঝুলন্ত থাকবে (তিরমিযী, হা/১০৭৮, ‘জানাযা’ অধ্যায়)। এসব ব্যক্তির জানাযার ছালাত রাসূল (ছা.) পড়াননি। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নিকট ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গেছে কি? যদি বলা হত যে, ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গেছে, তবে তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করতেন। অন্যথা মুসলিমদেরকে বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার ছালাত পড়ে নাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৯৮, ৫৩৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬১৯; মিশকাত, হা/২৯১৩)। ঋণের ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি উপরিউক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে যায় তাহলে সে দায়ী থাকবে। পক্ষান্তরে ওয়ারিছগণ যদি তার ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে তারা অপরাধী হবে। কেননা মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ দিয়ে সর্বপ্রথমে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ঋণ পরিশোধ করতে হবে ও অছিয়ত পুরা করতে হবে। তবে অছিয়ত যেন এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের বেশি না হয়। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিছগণের মধ্যে তাদের অংশ মোতাবেক বণ্টন হবে।

প্রশ্ন (৪৬) : কত বছর বয়সে মেয়েদের পর্দা করা ফরয?

সানজিদা খাতুন
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,
রাজশাহী।

উত্তর : মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স্কা হলে তাদের উপর পর্দা ফরয হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সন্তান-সন্তুতি বয়োপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বয়োজ্যোষ্ঠরা; এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আর বৃদ্ধ নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য অপরাধ নেই, যদি তারা এমনভাবে বহির্বাস খুলে রাখে যাতে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না। তবে এটা হতে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (নূর, ৫৯-৬০)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, প্রাপ্ত বয়স্কা হলে মেয়েদের উপর পর্দা ফরয (ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃ. ২৬৫)।

প্রশ্ন (৪৭) : ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের বাড়ীগুলোকে কবরে পরিণত করো না’- এ কথার দ্বারা বাড়ীতে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে; না-কি বাড়ীর ভিতরে কবর দিতে নিষেধ করা হয়েছে?

আব্দুল্লাহ,
রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত হাদীছ দ্বারা বাড়ীতে নফল ছালাত আদায় করা, আল্লাহর  যিকির করা এবং কুরআন তেলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে। ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ঘরেও কিছু কিছু ছালাত আদায় করো এবং তাকে কবরে পরিণত করো না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২, ১১৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭৭; মিশকাত, হা/৭১৪)। রাসূল (ছা.) অপর একটি হাদীছে বলেন, ‘যে বাড়ীতে আল্লাহর  যিকির করা হয় আর যে বাড়ীতে আল্লাহর  যিকির করা হয় না, উভয়ের দৃষ্টান্ত জীবিত এবং মৃতের মতো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭৯)। তাই যে বাড়ীতে আল্লাহর  যিকির করা হয় না, তাতে মৃত লোকেরা বসবাস করে এবং তা কবরস্থানতুল্য (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৮/১৪৬)।

প্রশ্ন (৪৮) : জনৈক বক্তা বলেন, ‘মুহাম্মাদ ধ-এর এক হাতে জান্নাতী চল্লিশ জন পুরুষের শক্তি ছিল’। কথাটি সঠিক কি?

মাহফুয
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : না, কথাটি সঠিক নয়। কেননা এ মর্মে বিশুদ্ধ কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। বরং সঠিক কথা হচ্ছে নবী (ছা.)-কে ত্রিশ জন পুরুষের সমপরিমাণ শক্তি দেওয়া হয়েছিল (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৭)।

প্রশ্ন (৪৯) : ইক্বামত দেওয়ার সময় ‘ক্বাদ ক্বামাতিছ ছালাত’ বলা পর্যন্ত ইমাম ছাহেবকে মুছল্লীদের দিকে তাকিয়ে থাকা সুন্নাত। কথাটির শারঈ ভিত্তি আছে কি?

রহমতুল্লাহ
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এ কথার শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। বরং ছালাতের ইক্বামত শেষ হলে ইমাম ছাহেব মুসল্লিদের দিকে মুখ ফিরাবেন এবং ডানে-বামে তাকিয়ে কাতার সোজা করা, কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলানোর নির্দেশ দিয়ে ছালাত আরম্ভ করবেন। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হলো, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছা.) আমাদের দিকে চেহারা ফিরালেন ও বললেন, ‘তোমাদের কাতার সোজা করো এবং পরস্পরে মিলিত হয়ে দাঁড়াও। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক হতেও দেখি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৮, ৭১৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩৪; মিশকাত, হা/১০৮৬)।

প্রশ্ন (৫০) : বিতর ছালাতের পরে নির্দিষ্ট কোনো দু‘আ আছে কি?

আক্বীমুল ইসলাম
 জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও ।

উত্তর : হ্যাঁ, বিতর ছালাতের পরে নির্দিষ্টভাবে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া যায়। তা হলো, سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ ‘সুবহানাল মালিক্বিল কুদ্দূস’। এটি তিনবার পড়বে। তবে তৃতীয়বার পড়বে একটু উচ্চৈঃস্বরে। উবাই ইবনে কা‘ব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যখন বিতর ছালাতের সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন, ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দূস’ (আবুদাঊদ, হা/১৪৩০; নাসাঈ, হা/১১৬৯; মিশকাত, হা/১২৭৪)। নাসাঈর অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যখন (বিতরের) সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার বলতেন, ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দূস’ এবং তৃতীয়বার স্বর উঁচু করতেন (নাসাঈ, হা/১৭৩২; মিশকাত, হা/১২৭৫)।