প্রশ্ন (১) : দু‘আ করার সময় হাত কীভাবে রাখতে হবে?

-হাফিযুর রহমান
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর : দু‘আর বিষয় ও ক্ষেত্রভেদে হস্তদ্বয়কে কীভাবে ও কী পরিমাণ উঁচুতে রাখবে সে ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ছালাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টি প্রার্থনার ছালাতে দু‘আ করার  সময় স্বীয় হস্তদ্বয়কে উল্টিয়ে তথা দুই হাতের তালুকে মাটির দিকে এবং অপর পিঠকে আকাশের দিকে করে বগলের  শুভ্রতা প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করবে। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) ইসতিসকা ছালাত (দু‘আ) ছাড়া অন্য কোন দু‘আয় হাত উঠাতেন না। এ দু‘আয় তিনি এতো উপরে হাত উঠাতেন যে, তার বগলের শুভ্র উজ্জ্বলতা দেখা যেতো (ছহীহ বুখারী, হা/১০৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯৫-৯৬; মিশকাত, হা/১৪৯৮)। অপর বর্ণনায় আছে, নবী করীম (ছা.) একবার আল্লাহর নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করলেন এবং হস্তদ্বয়ের পিঠ আসমানের দিকে করে রাখলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৬; মিশকাত, হা/১৪৯৯)। আর সাধারণ দু‘আর ক্ষেত্রে হস্তদ্বয় কাঁধ বরাবর সম্প্রসারিত করে তালুকে আকাশের দিকে করে রাখবে। ইবতেহাল বা বিশেষ মিনতি সহকারে দু‘আ করলে হস্তদ্বয়কে পূর্ণ সম্প্রসারিত করবে। ইকরিমা (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর  নিকট কিছু চাওয়ার নিয়ম হলো, তুমি তোমার দুই হাতকে কাঁধ পর্যন্ত অথবা তার কাছাকাছি উঠাবে, ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার নিয়ম হলো তুমি তোমার একটি আঙ্গুল (শাহাদত অঙ্গুলী) দ্বারা ইশারা করবে এবং বেশি মিনতি সহকারে ফরিয়াদ করার নিয়ম হলো তুমি তোমার পূর্ণ হাত সম্প্রসারিত করবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, ফরিয়াদ করা হলো এরূপ, অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত উপরের দিকে উঠালেন এবং হাতের ভিতর দিককে তাঁর চেহারার দিকে রাখলেন (আবুদাঊদ, হা/১৪৮৯ ও ১৪৯০; মিশকাত, হা/২২৫৬)।

 

প্রশ্ন (২) : বিক্রয়ের জন্য দোকানে প্রাণী ও মানুষের ছবি সংযুক্ত বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী আছে। অপর দিকে এই দোকান থেকে বেশ অনেক দূরে একটি মসজিদ আছে। মসজিদের এরিয়ার মধ্যে একটি কবর আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই দোকানে ছালাত আদায় করা উত্তম? না-কি কবর সংযুক্ত ঐ মসজিদে ছালাত আদায় করা উত্তম?

-রাজু আহমাদ
রানীরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : প্রাণীর ছবিযুক্ত স্থানে ও কবর সংযুক্ত মসজিদে ছালাত আদায় না করে বরং অন্য যে কোনো ছবি ও কবর মুক্ত পবিত্র জায়গায় ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা প্রাণীর ছবি প্রদর্শিত স্থানে ছালাত আদায়ের সময় সেগুলো চোখে পড়লে ছালাতের একাগ্রতা নষ্ট হয়। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছা.) নকশাখচিত একটি চাদরে ছালাত আদায় করেন। চাদরটির নকশার দিকে তার দৃষ্টি পতিত হলে ছালাত শেষে তিনি বললেন, ‘আমার এ চাদরটি এর প্রদানকারী আবু জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং তার ‘আম্বেজানিয়া’ চাদর নিয়ে এসো। কেননা এখনই এ চাদর ছালাতে আমার একাগ্রতা নষ্ট করেছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৫৬; মিশকাত, হা/৭৫৭)। আনাস (রা.) বলেন, আয়েশা (রা.)-এর একটি পর্দা ছিল, যা দিয়ে তিনি ঘরের একদিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী করীম (ছা.) বললেন, ‘তোমার এ পর্দা সরিয়ে ফেলো। কারণ তার ছবিসমূহ ছালাতের মাঝে আমার চোখে পড়ে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মিশকাত, হা/৭৫৮)। এছাড়া যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেনা। (ছহীহ মুসলিম, হা/৪০৪৫)

অপর দিকে সীমানার মধ্যে কবর যুক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয নয়। চাই সে কবর ক্বিবলার সামনে, পিছনে, ডানে বা বামে  যেদিকেই থাকে না কেন (আস-সামারুল মুস্তাত্বাবু ফী ফিক্বহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব, পৃ. ৩৫৭)। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ছা.) কবরের উপরে, কবরকে সামনে রেখে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৯৫; নাসাঈ, হা/৭৬০; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০১৬)। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি কবরের মাঝে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/১৬৯৮, ২৩১৫, ২৩২২, সনদ ছহীহ)।

 

প্রশ্ন (৩) : মাযহাবী মসজিদে ছহীহ তরীকায় ছালাত আদায় করতে গেলে দ্বন্দ্ব/বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এমতাবস্থায় বাড়ীতে ছালাত আদায় করা যাবে কি

-নাঈম ইসলাম
 পোওতা বাজার, জয়পুরহাট।

উত্তর : এমন পরিস্থিতিতে ফিৎনার আশঙ্কামুক্ত দূরবর্তী কোন মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। সেটাও সম্ভব না হলে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে বাড়িতে কিংবা পবিত্র কোনো স্থানে জামা‘আতসহ ছালাত আদায় করবে। এতে শারঈ কোনো বাঁধা নেই। আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে গ্রামে তিনজন মানুষ বসবাস করবে, সে স্থানে জামা‘আতে ছালাত আদায় করা না হলে তাদের উপর শয়তান বিজয়ী হয়। অতএব, তুমি জামা‘আতকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কারণ দলচ্যুত ছাগলকে নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৫৫৪; আবুদাঊদ, হা/৫৪৭; নাসাঈ, হা/৮৪৭; মিশকাত, হা/১০৬৭)।  রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘যমীন সর্বত্রই মসজিদ; কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত’ (আবুদাঊদ, হা/৪৯২; তিরমিযী, হা/৩১৭; মিশকাত, হা/৭৩৭)। অতএব ফিতনার আশঙ্কা থাকলে মসজিদে না গিয়ে জামা‘আতসহ বাড়ীতে বা কোনো পবিত্র স্থানে ছালাত আদায় করাই উত্তম হবে।

 

প্রশ্ন (৪) : মৃত ব্যক্তির কবর খননকারীদের জন্য চল্লিশা ব্যতীত ভিন্ন কোনো দিনে খানাপিনার আয়োজন করা যাবে কি?

-নিয়ামতুল্লাহ
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এ ধরনের খানাপিনার আয়োজন করার পক্ষে শারঈ কোন দিকনির্দেশনা নেই। বরং তা অজ্ঞতার যুগের প্রথা। জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রা.) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট একত্রিত হওয়া এবং দাফনের পরে এ উপলক্ষ্যে খানাপিনার আয়োজন করাকে জাহেলী যুগের ক্রন্দন বা বিলাপ হিসাবে গণ্য করতাম (আহমাদ, হা/৬৮৬৬; ইবনু মাজাহ, হা/১৬১২)। সুতরাং সামাজিকতা রক্ষার নামে এ ধরনের খানাপিনার আয়োজন করা বিদ‘আত ও অপচয়, যা পরিত্যাজ্য। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে যা শরী‘আতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।

 

প্রশ্ন (৫) : মসজিদের মেহরাবের সামনে পৃথক দেয়াল দিয়ে টয়লেট বা প্রসাবখানা তৈরি করা যাবে কি?

-ফযলে মাহমুদ
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদের মেহরাবের সামনে পৃথক দেয়াল দিয়ে টয়লেট বা প্রসাবখানা তৈরিতে শারঈ কোন বাধা নেই। কেননা টয়লেটের মধ্যে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। টয়লেটের পার্শ্ব, ছাদ কিংবা ট্যাংকি এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘আমাদের জন্য সমগ্র যমীনকে সিজদার স্থান এবং মাটিকে পবিত্র করে দেওয়া হয়েছে…’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫২২; মিশকাত, হা/৫২৬; ছহীহ আবুদাঊদ, হা/৪৮৯)। আবু সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত পৃথিবীর সর্বত্রই মসজিদ’ (আবুদাঊদ, হা/৪৯২; তিরমিযী, হা/৩১৭; ইবনু মাজাহ, হা/৭৪৫; দারেমী, হা/১৩৯০)।

 

প্রশ্ন (৬) : আল্লাহর আরশ প্রথমে পানির উপরে ছিল। একথা কি ঠিক? যদি তাই হয় তাহলে কি আল্লাহ প্রথমে পানি সৃষ্টি করেছেন?

-ইদ্রিস আলী
পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : ‘আল্লাহর আরশ প্রথমে পানির উপরে ছিল’-একথা  সঠিক। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘আসমানসমূহ এবং যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিকুলের তাক্বদীরসমূহ লিখে রেখেছেন’। তিনি বলেন, ‘আর ঐ সময় তার আরশ ছিল পানির উপরে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৩; মিশকাত, হা/৭৯)। তবে ‘প্রথমে পানি সৃষ্টি করেছেন’-একথা প্রমাণিত নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম  আদম (আ.)-কে এবং বস্তু জগতের মধ্যে সর্বপ্রথম কলমকে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি মাটি হতে মানুষ (আদমকে) সৃষ্টি করব’ (ছোয়াদ, ৭১)। উবাদা বিন ছামিত (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন’ (তিরমিযী, হা/৩৩১৯)।

 

প্রশ্ন (৭) : হাদীছে বর্ণিত সবধরনের ছহীহ দু‘আ কি সালাম ফিরানোর পূর্বে ছালাতে পড়া যাবে?

-ফযলে মাহমুদ
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, মুছল্লী ইচ্ছা করলে হাদীছে বর্ণিত সবধরনের ছহীহ দু‘আ সালাম ফিরানোর পূর্বে পড়তে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম (ছা.)-এর সাথে ছালাত আদায় করতাম তখন এ দু‘আ পাঠ করতাম, আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক তার বান্দাদের পূর্বে, জিবরীলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, মিকাঈলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং অমুক অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। নবী করীম (ছা.) যখন ছালাত শেষ করলেন তখন বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক’ বলো না। কেননা আল্লাহ স্বয়ং শান্তিদাতা। যখন তোমাদের কেউ ছালাতের মধ্যে বসে, তখন সে যেন বলে, ‘সমস্ত সম্মান, ইবাদত এবং সমস্ত পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি আল্লাহর শান্তি, অনুগ্রহ ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক এবং আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক’। যখন সে এরূপ বলবে আসমান ও যমীনের প্রত্যেক নেক বান্দার প্রতি তা পৌঁছ যাবে। (অতঃপর সে যেন বলে) ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর দু‘আ সমূহের মধ্যে যে দু‘আ পসন্দ করে সে দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৩৫, ৬২৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/৪০২; মিশকাত, হা/৯০৯)।

 

প্রশ্ন (৮) : জর্দা ছাড়া চুন, সুপারি ও মসলা দিয়ে পান খাওয়া যাবে কি?

-জাকির
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : চুন, সুপারি ও হালাল মসলা খাওয়া যায়। তবে এগুলো থেকে বিরত থাকা ভালো। কেননা তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অপচয়। পান, সুপারি ও চুনে মুখে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ’ (বনী ইসরাঈল, ২৮)।

 

প্রশ্ন (৯) : হানাফী মাযহাবের মতো করে ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-ফাহিম আহমাদ
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কোনো মাযহাবের অনুসরণে নয় বরং রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণে ছালাত আদায় করতে হবে। সুতরাং বিজোড় শব্দে ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করবে। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বেলাল (রা.)-কে দুইবার করে আযান ও একবার করে ইক্বামত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাবী ইসমাঈল বলেন, আমি ইক্বামত সম্পর্কে আইয়ূবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাত’ ব্যতীত (২ বার বলতে হবে) (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৩, ৩৪৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭৮; মিশকাত, হা/৬৪১)। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর যামানায় আযান দুইবার ও ইক্বামত একবার করে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল, ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ’ দুইবার ব্যতীত (আবুদাঊদ, হা/৫১০; নাসাঈ, হা/৬২৮; দারেমী, হা/১১৯৩; মিশকাত, হা/৬৪৩)।

 

প্রশ্ন (১০) : আছর ও এশার ছালাতের পূর্বে সুন্নাত আদায় করা যাবে কি? যদি যায় তাহলে কি নিয়মিত আদায় করতে হবে?

-নাজনীন পারভীন
জয়পুরহাট সদর।

উত্তর : আছরের পূর্বে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন ঐ ব্যক্তির প্রতি যে আছরের পূর্বে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৯৮০; তিরমিযী, হা/৪৩০; আবুদাঊদ, হা/১২৭১; মিশকাত, হা/১১৭০)। আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) আছরের পূর্বে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন তবে ফেরেশতাগণ ও তাঁদের অনুসারী মুমিন-মুসলিমগণের মধ্যে নৈকট্য অর্জনকারীকে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে পৃথক করতেন। অনুরূপ এশার পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করা যায়। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আযান এবং ইক্বামতের মাঝে দুই রাক‘আত ছালাত আছে’। তবে তিনি বলেন, ‘যে চায় তার জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩৮; মিশকাত, হা/৬৬২)।

 

প্রশ্ন (১১) : মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুম‘আর দিন মসজিদে ক্ষীর, খুরমা, বাতাসা বিতরণ করা যাবে কি? 

-সাকিবুল ইসলাম
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কেউ যদি মসজিদের মুছল্লীদের খাওয়ানোর জন্য মানত করে থাকে তাহলে তা বিতরণ করা যাবে এবং সকলেই খেতে পারবে। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যমূলক কোনো কাজের মানত করে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে তার অবাধ্যতামূলক কাজের মানত করে সে যেন তা পূর্ণ না করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭০০; মিশকাত হা/৩৪২৭)। আর কোনো কল্যাণের আশায় ছাদাক্বা হিসাবেও তা বিতরণ করা বা দান করা যাবে তবে তা সবাই খেতে পারবে না। বরং তা ফকীর, মিসকীন, দরিদ্র বা অসহায় ব্যক্তিরা খাবে। আর যদি মুসলিম ভাইদের জন্য কেউ হাদিয়া হিসাবে খাওয়ায় তাহলে সবাই খেতে পারবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নিকট যখন কোনো খাদ্য আনা হতো তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ‘এটা হাদিয়া না ছাদাক্বাহ? যখন বলা হতো, এটা ছাদাক্বাহ। তখন তিনি না খেয়ে তাঁর সহচরদেরকে বলতেন, ‘তোমরা খাও’। আর যখন বলা হতো হাদিয়া, তখন তিনি তাতে হাত দিতেন এবং তাদের সাথে খেতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৭৬; মিশকাত, হা/১৮২৪)। রাসূলুল্লাহ (ছা.) আরো বলেন, ‘যারা উপার্জন করে খেতে পারে তাদের জন্য ছাদাক্বাহ খাওয়া জায়েয নয়’ (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/১৬৩৩; নাসাঈ, হা/২৫৯৮; মিশকাত, হা/১৮৩২)। উল্লেখ্য যে, জুম‘আর পরে খাওয়া ও খাওয়ানোর স্থায়ী প্রচলন ঘটানো নতুন বিদ‘আতের জন্ম দিতে পারে তাই সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

 

প্রশ্ন (১২) : ঘুমের দু‘আ পড়ে ঘুমানোর পর যদি কেউ কোনো কারণবশত জেগে উঠে পুনরায় ঘুমাতে যায় তাহলে কি তাকে আবার দু‘আ পড়ে ঘুমাতে হবে?

-মুহাম্মাদ হাফিয
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর : এ মর্মে স্পষ্ট কোনো দলীল পাওয়া যায় না। তবে ঘুমানোর পূর্বে দু‘আ পড়ার যে হাদীছগুলো রয়েছে তার সারমর্মের দিকে লক্ষ্য করে কেউ চাইলে ঘুম ভাঙ্গার পর যতোবারই ঘুমাবে ততোবারই দু‘আ পড়ে ঘুমানো উত্তম। কেননা ঘুমানোর সময় নিজেকে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সমর্পণ করা হয়। হুযায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) যখন রাত্রিতে শয্যাগ্রহণ করতেন, তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মৃত্যুবরণ করি ও জীবিত হই এবং যখন (ঘুম হতে) উঠতেন তখন বলতেন, ‘আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আহ্ইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর’ অর্থাৎ ‘যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবিত করলেন, আর প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১২)।

 

প্রশ্ন (১৩) : সুরেলা কণ্ঠে বক্তৃতা করা যাবে কি?

-মুহাম্মাদ হাফিয
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

উত্তর : সুরেলা কণ্ঠে নয়; বরং জনসাধারণকে দ্বীনের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও আকৃষ্ট করার জন্য পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের যথাযথ দলীল উল্লেখ করে স্বাভাবিক ও জোরালো কণ্ঠে বক্তৃতা করবে। রাসূল (ছা.) যখন খুৎবা দিতেন তখন তার চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠ উঁচু হয়ে যেত এবং রাগ বেড়ে যেত যেন তিনি কোনো সৈন্যদলকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭)।

 

প্রশ্ন (১৪) : মাকে পর্দাসহ শরী‘আতের অন্যান্য বিধি-বিধান মেনে চলতে বললে তিনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হন। এতে কি আমার পাপ হবে?

-হাসিনুর রহামান
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : যথাযথ সদ্ব্যবহার ও সদাচরণ বজায় রেখে পিতা-মাতাকে দ্বীনের দাওয়াত দিলে তাতে কোনো পাপ হবে না। কেননা পরস্পরকে হক্ব ও সৎকাজের দাওয়াত দেয়া নৈতিক দায়িত্ব এবং পাপ থেকে মুক্তিলাভের অন্যতম মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল করে এবং পরস্পরকে হক্বের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করে’ (আছর, ২-৩)। তিনি আরো বলেন, ‘আর মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করে, আর ছালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় সম্মানিত ও মহাজ্ঞানী’ (তাওবা, ৭১)। তবে তারা শরী‘আতের বিধান অনুসরণ করুক আর না করুক কোনো অবস্থাতেই তাদের সাথে অসদাচরণ করা যাবে না। আসমা বিনতে আবুবকর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশদের সাথে মুসলিমদের সন্ধির সময় আমার মা মুশরিকা অবস্থায় আমার কাছে আসলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর  রাসূল (ছা.)! আমার মা আমার কাছে এসেছেন, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণে অনাগ্রহী। এমতাবস্থায় আমি কি তার সাথে সদাচরণ করবো? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তার সাথে সদাচরণ করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩১৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩; মিশকাত, হা/৪৯১৩)।

 

প্রশ্ন (১৫) : নবী কারীম (ছা.) কি গায়েব জানতেন?

-রফীকুল ইসলাম
চাঁদপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছা.) গায়েব জানতেন না। কারণ একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ গায়েব জানে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘গায়েবের চাবিকাঠি তাঁর কাছে। তিনি ব্যতীত উহা কেউ জানে না’ (আন‘আম, ৫৯)। অপর আয়াতে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর বক্তব্য এসেছে, ‘যদি আমি গায়েব জানতাম তাহলে আমি অনেক কল্যাণের অধিকারী হতাম এবং অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করতো না’ (আ‘রাফ, ১৮৮)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে রাসূল! আপনি বলুন, আমি তোমাদের এ কথা বলি না যে, আল্লাহর ভাণ্ডার আমার নিকট আছে। আমি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ও অবগত আছি’ (আন‘আম, ৫০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আপনি বলুন! আল্লাহ ব্যতীত আসমান এবং যমীনের অদৃশ্যের খবর কেউ জানে না’ (নামল, ৬৫)।

 

প্রশ্ন (১৬) : হায়েয হতে পবিত্র হওয়ার পর ৪০ দিনের মধ্যে নাভির নিচের লোম পরিষ্কার না করলে পাপ হবে কি? তাছাড়া এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি?      

-রবীউল ইসলাম
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ৪০ দিনের মধ্যে নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তবে ৪০ দিনের মধ্যে লোম পরিষ্কার না করলে ছালাত হবে না এমনটা নয়। উল্লেখ্য যে, ৪০ দিনের মধ্যে নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার অর্থ এই নয় যে, তা ৪০ দিন পর্যন্ত রাখতে হবে। বরং ৪০ দিন হওয়ার পূর্বেই পরিষ্কার করতে হবে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা। আমরা যেন ৪০ দিনের বেশী ছেড়ে না দিই (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫, সনদ ছহীহ; নায়লুল আওত্বার, ১/১৬৮ পৃ.)।

রাসূল (ছা.) আরো বলেন, ‘ফিৎরাত বা স্বভাব হলো পাঁচটি। যথা- খাৎনা করা, নাভীর নীচের লোম চেঁছে ফেলা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭; আবুদাঊদ, হা/৪১৯৮, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/৪৪২০)।

 

প্রশ্ন (১৭) : আমাদের এলাকায় লাশ কবরে দাফন করে কবরের পাশে আযান দেয়া হয়। এটা কি জায়েজ?

-সজীব হোসেন
জিন্দাবাজার, সিলেট।

উত্তর : না, লাশ কবরে দাফন করে কবরের পাশে আযান দেওয়া জায়েয নয়। কেননা তারা আযান শুনতে পায় না এবং এতে তার কোনো উপকারও হবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মৃতকে তো তুমি শুনাতে পারবে না, বধিরকেও আহ্বান শুনাতে পারবে না…’ (নামল, ৮০)। বরং এটা শরী‘আতে নব আবিষ্কৃত একটি আমল যা স্পষ্ট বিদ‘আত। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে যা শরী‘আতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। তবে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ওছমান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) যখন মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ সম্পন্ন করতেন, তখন সেখানে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার জন্য দু‘আ করো। কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে (আবুদাঊদ, হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩)।

 

প্রশ্ন (১৮) : আমাদের জানা মতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয হয়েছে মি‘রাজ রজনীতে। তাহলে মি‘রাজে যাওয়ার সময় রাসূল (ছা.) অন্যান্য নবীদের নিয়ে বায়তুল মাক্বদিসে যে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করলেন তার বিধান কখন ও কিভাবে এসেছিল?

-বদরুযযামান
রূপসা, খুলনা।

উত্তর : প্রথমত, উক্ত দুই রাক‘আত ছালাত কোনো ওয়াক্তের ছালাত ছিল না। বরং তা ছিল নবীদের জন্য নির্দিষ্ট। উম্মতের জন্য নয়। দ্বিতীয়ত, উক্ত ছালাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বা মসজিদে প্রবেশের আদব রক্ষার্থেও আদায় করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

 

প্রশ্ন (১৯) : স্মামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া চলার এক পর্যায়ে স্ত্রী রাগের মাথায় স্বামীকে বলে, ‘তোকে তালাক দিলাম তালাক, তালাক, তালাক’। স্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত্ব উক্ত তালাক কার্যকর হবে কি?

-সালাহউদ্দীন
পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : স্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত তালাক কার্যকার হবে না। কেননা স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক প্রদান করা যায় না বরং খোলা তালাক প্রার্থনার বিধান আছে। সুতরাং দাম্পত্য জীবন সুখের না হলে স্ত্রী ইচ্ছে করলে সমাজের দায়িত্বশীল অথবা কাজীর মাধ্যমে খোলা তালাক প্রার্থনা করবে। যেমন ছাবিত ইবনে কায়স (রা.)-এর স্ত্রী করেছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, ছাবিত ইবনু কায়স (রা.)-এর স্ত্রী নবী করীম (ছা.)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! ছাবিত ইবনে কায়স (রা.)-এর ব্যবহার ও দ্বীনদারী সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু ইসলামের ছায়ায় থেকে আমার দ্বারা স্বামীর অবাধ্যতা পসন্দ করি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘তবে কি তুমি তার বাগান তাকে ফেরত দিবে? সে বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘তুমি তোমার বাগান গ্রহণ করো এবং তাকে এক তালাক দিয়ে দাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭৩; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/৩২৭৪)।

 

প্রশ্ন (২০) : কোন আমল করলে জিহাদের নেকী পাওয়া যায়?

-রাশিদুল ইসলাম
গাবতলী, বগুড়া।

উত্তর : সরাসরি জিহাদে অংশগ্রহণ না করলেও এমন কিছু আমল রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়ন করলে জিহাদের ন্যায় নেকী পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো- (১) পিতা-মাতার খিদমত করা। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নিকট এসে জিহাদে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুমতি চাইল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার পিতা-মাতা জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, ‘যাও তাদের (সেবার) মধ্যে জিহাদ করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৪৯; আবুদাঊদ, হা/২৫২৯; নাসাঈ, হা/৩১০৩; তিরমিযী, হা/১৬৭১; মিশকাত, হা/৩৮১৭)। (২) জিহাদের জন্য সম্পদ দান করা। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘গাযী তাঁর জিহাদের পূর্ণ ছওয়াব লাভ করবে আর জিহাদের জন্য সম্পদ দানকারী সম্পদ প্রদান ও জিহাদ উভয়টির ছওয়াব লাভ করবে’ (আবুদাঊদ, হা/২৫২৬; মিশকাত, হা/৩৮৪২)। (৩) যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের নেক আমল। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘(বছরের) যে কোনো দিনের সৎ আমলের চেয়ে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল মহান আল্লাহর নিকটে অধিকতর প্রিয়’। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও। তবে সেই ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে তার জান-মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কোনো একটিও নিয়ে ফিরে আসেনি (সে শহীদ হয়ে যায়)’  (আবুদাঊদ, হা/২৪৩৮; তিরমিযী, হ/৭৫৭; ইবনু মাজাহ, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/১৪৬০, সনদ ছহীহ)। (৪) আওয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার নবী করীম (ছা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকটে সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘সময়মত ছালাত আদায় করা’। রাবী বলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘তারপর পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা’। ইবনে মাসঊদ (রা.) বললেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫; তিরমিযী, হা/১৮৯৮; নাসাঈ, হা/৬১০; মিশকাত, হা/৫৬৮) (৫) এক ছালাতের পর অপর ছালাতের জন্য অপেক্ষমান থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘এক ছালাতের পরে আরেক ছালাতের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি সেই অশ্বারোহী সৈনিকের মতো আল্লাহর পথে যার কোমরে ঘোড়ার লাগাম শক্ত করে বাধা আছে। ফেরেশতাম-লী তার জন্য রহমত প্রার্থনা করতে থাকেন, যতক্ষণ না তার ওযূ টুটে যায় অথবা মুছাল্লা ছেড়ে উঠে পড়ে আর সে যেন সীমান্ত প্রহরার মহান কাজে নিয়োজিত’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬২৫; তাবারানী, মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৮১৪৪, সনদ হাসান)। (৬) বিধবা ও মিসকীনদের সহযোগিতা করা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘বিধবা ও মিসকীনদের ভরণ-পোষণের জন্য চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ অথবা সারাদিন ছিয়াম পালনকারী ও সারারাত (তাহাজ্জুদ) ছালাত আদায়কারীর সমান ছওয়াবের অধিকারী’ (তিরমিযী, হা/১৯৬৯; নাসাঈ, হা/২৫৭৭; ইবনু মাজাহ, হা/২১৪০, সনদ ছহীহ)। (৭) যাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকা। রাফে‘ ইবনে খাদীজ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘সততার সাথে যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর পথের গাযী সৈনিকের মতো মর্যাদাসম্পন্ন, যতক্ষণ না সে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে’ (আবুদাঊদ, হা/২৯৩৬; তিরমিযী, হা/৬৪৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৮০৯; ছহীহুল জামে‘, হা/৪১১৭; মিশকাত, হা/১৭৮৫, ছহীহ হাদীছ)। (৮) দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে বেরিয়ে পড়ে, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে’ (ছহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৮, সনদ হাসান লি-গায়রিহী)। (৯) হজ্জ ও ওমরাহ করা। শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ছা.)-এর কাছে এসে বলল, আমি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই। তখন তিনি (ছা.) বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এমন এক জিহাদের সন্ধান দেব, যাতে কোনো কষ্ট নেই? আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা’ (তাবারানী, মু‘জামুল কাবীর, হা/৭৯২; ছহীহুল জামে, হা/২৬১১)। (১০) ফিতনার সময় সুন্নাতকে আঁকড়ে থাকা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পরবর্তীতে এমন এক ধৈর্য্যরে যুগ আসবে, যে ব্যক্তি সেই মুহূর্তে আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে থাকবে, সে পঞ্চাশজন শহীদের মর্যাদা লাভ করবে’। তখন ওমর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! আমাদের মধ্যকার নাকি তাদের মধ্যকার (পঞ্চাশজন শহীদের মর্যাদা লাভ করবে)? রাসূল (ছা.) বললেন, ‘তোমাদের মধ্যকার (৫০ জন) শহীদের মর্যাদা লাভ করবে’ (তাবারানী, মু‘জামুল কাবীর, হা/১০৩৯৪; ছহীহুল জামে, হা/২২৩৪; সিলসিলা ছহীহা, হা/৪৯৪)। (১১) স্বৈরাচারী এবং অত্যাচারী শাসকের সামনে হক্ব কথা বলা। জাবের (রা.) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘শহীদগণের সর্দার হলো হামযা ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব (রা.) এবং সেই ব্যক্তি, যে কোনো অত্যাচারী শাসকের কাছে গিয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে। ফলে তাকে হত্যা করা হয়’ (মুসতাদরাক হাকেম, হা/৪৮৮৪; ছহীহুত তারগীব, হা/২৩০৮; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৭৪; ছহীহুল জামে, হা/৩৬৭৫)। (১২) প্রত্যেক ফরয ছালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পড়া (ছহীহ বুখারী, হা/৮৪৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৯৫)। (১৩) একশত বার আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করা (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/১০৬১৩; ছহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৫৩; সনদ হাসান)। (১৪) সবসময় শহীদী মৃত্যু কামনা করা। সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে শাহাদত প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে’ (ছহীহ মুসলিম,  হা/১৯০৯; আবুদাঊদ, হা/১৫২০; তিরমিযী, হা/১৬৫৩; ইবনু মাজাহ, হা/২৭৯৭; মিশকাত, হা/৩৮০৮)। (১৫) শহীদের মর্যাদা প্রদানকারী বিপদ ও রোগ। জাবের ইবনে আতীক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি ছাড়াও আরও সাত শ্রেণীর শহীদ রয়েছে। তারা হলো- ১. মহামারীতে মৃত (মুমিন) ব্যক্তি ২. পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি ৩. ‘যাতুল জাম্ব’ নামক কঠিন রোগে মৃত ব্যক্তি ৪. (কলেরা, ডায়রিয়া বা অনুরূপ) পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি ৫. আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি ৬. ধ্বসে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি ও ৭. গর্ভাবস্থায় মৃত মহিলা’ (আবুদাঊদ, হা/৩১১১; মিশকাত, হা/১৫৬১, সনদ ছহীহ)। ইত্যাদি।

 

প্রশ্ন (২১) : আমি যে ছাত্রাবাসে থাকি তার পার্শ্বেই মসজিদ। তবে সেখানে ফজরের জামা‘আত হয় অনেক দেরীতে। সুতরাং আমি আউয়াল ওয়াক্তে রুমেই একাকী ছালাত আদায় করবো না-কি ঐ জামা‘আতে শরীক হবো?

-নাহিদুল ইসলাম
রাজ ছাত্রাবাস, বগুড়া।

উত্তর : আউয়াল ওয়াক্তে রুমে বন্ধু-বান্ধব বা আশে-পাশের কাউকে নিয়ে জামা‘আত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে হবে। যাতে করে জামা‘আতের নেকী ও আউয়াল ওয়াক্তের নেকী দু‘টিই পাওয়া যায়। আবু যার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) আমাকে বলেন, ‘যখন তোমার শাসকগণ ছালাতকে মেরে ফেলবে অথবা তার নির্ধারিত সময় হতে বিলম্ব করবে, তখন তুমি কী করবে? আমি বললাম, আপনি আমাকে কী হুকুম দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ‘ছালাতকে তার নির্ধারিত সময়েই আদায় করবে। আর যদি তাদের জামা‘আত পাও, তবে তাদের সাথেও ছালাত পড়ে নিবে। তবে তা নফল হিসাবে গণ্য হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৮; মিশকাত, হা/৬০০)। ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ছা.)-এর সাথে তাঁর বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলাম। আমি তাঁর সাথে মসজিদে খায়ফে ফজরের ছালাত আদায় করলাম। যখন তিনি তাঁর ছালাত সম্পন্ন করে পিছনে ফিরলেন, তখন দুই জন লোক জনগণের শেষ প্রান্তে আছে, যারা তাঁর সাথে ছালাত আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘তাদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো’। তাদেরকে নিয়ে আসা হলো। এ সময় ভয়ে তাদের শরীর কাঁপছিল। রাসূলুল্লাহ (ছা.) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমাদের সাথে ছালাত আদায় করতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! আমরা আমাদের বাসায় ছালাত আদায় করে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘এরূপ করবে না। তোমরা যখন তোমাদের বাসায় ছালাত আদায় করবে, অতঃপর জামা‘আত চলা অবস্থায় মসজিদে উপস্থিত হবে, তখন তাদের সাথে ছালাত আদায় করবে। কেননা এটা তোমাদের জন্য নফল হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৫৯০-৫৯১; তিরমিযী, হা/২১৯; নাসাঈ, হা/৮৫৮; মিশকাত, হা/১১৫২)।

 

প্রশ্ন (২২) : চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে ছালাত আদায়ের কোন ফযীলত আছে কি?

-সোহাগ
রানীরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : এতে দুই ধরনের ফযীলত আছে। যথা- (১) জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও (২) মুনাফিক্বী থেকে মুক্তি। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাকবীরে উলা বা তাহরীমাসহ আল্লাহর জন্যে জামা‘আতে ছালাত আদায় করে তার জন্য দুই প্রকার মুক্তি বরাদ্দ করা হয়। তা হলো, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও মুনাফিক্বী থেকে মুক্তি (তিরমিযী, হা/২৪১; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৯৭৯; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৪০৯; ছহীহ আল জামি, হা/৬৩৬৫)।

 

প্রশ্ন (২৩) : মাসবূক বা কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ছালাতে যোগদানকারী ব্যক্তির সাথে ছালাত আদায় করলে জামা‘আতের পূর্ণ নেকী পাওয়া যাবে কি?

-নিয়ামতুল্লাহ
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশ করে যদি কেউ দেখে যে, মুছল্লীগণ ছালাত আদায় করে নিয়েছে এবং মাসবূক তার বাকী ছালাত পূরণ করছে, তখন সে জামা‘আতের নেকীর প্রত্যাশায় মাসবূককে ইমাম করতে পারে। অনুরূপ কাউকে একাকী ছালাত আদায় করতে দেখলে জামা‘আতের নেকীর আশায় তাকেও ইমাম হিসাবে গ্রহণ করা যায়। একদা রাসূলুল্লাহ (ছা.) ছালাত শেষ হওয়ার পর এক ব্যক্তিকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখে বললেন, ‘কেউ আছে কি যে এই লোকটিকে ছাদাক্বা করবে অর্থাৎ তার সাথে ছালাত আদায় করবে? অতঃপর একজন দাঁড়ালো এবং তার সাথে ছালাত আদায় করলো (আবুদাঊদ, হা/৫৭৪; মিশকাত, হা/১১৪৬, সনদ ছহীহ)। এখানে ছালাত আদায় করা ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছা.) তার সাথী করে দিলেন এবং জামা‘আতের নেকী প্রাপ্তির উপর উদ্বুদ্ধ করলেন।

তবে উক্ত অবস্থায় একাকীও ছালাত আদায় করতে পারে (ফাতাওয়া উছায়মীন, ১৫/১৭৩ পৃ.)। আর যদি একাধিক মুছল্লী হয় তাহলে পৃথক জামা‘আত করে ছালাত আদায় করবে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘একাকী ছালাত আদায় করা অপেক্ষা জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করলে সাতাশ গুণ নেকী বেশি হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫০; মিশকাত, হা/১০৫২)।

 

প্রশ্ন (২৪) : অনেক মসজিদে মুছল্লীদের জুতা-স্যান্ডেল পরিবর্তন হয়ে গেলে তা মিলিয়ে নেয়ার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। এভাবে ঘোষণা দেওয়া কি জায়েয?

-ইউনুস
কানসাট, মেবারকপুর।

উত্তর : এ ধরনের ঘোষণা মূলত হারানো বিজ্ঞপ্তির অন্তর্ভুক্ত। বিধায় মসজিদের মাইকে এমন ঘোষণা দেওয়া যাবে না। কেননা তা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে মসজিদে এসে কোন হারানো বস্তু তালাশ করতে শুনে, সে যেন বলে, আল্লাহ তোমাকে তা ফিরিয়ে না দিন। কেননা মসজিদসমূহ এই জন্য নির্মিত হয়নি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৬৮; মিশকাত, হা/৭০৬)। তবে ব্যক্তিগতভাবে পরস্পরকে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে তালাশ করা বা মিলিয়ে নিতে বলাতে শারঈ কোন বাঁধা নেই।

 

প্রশ্ন (২৫) : জিনেরা যেহেতু আগুনের তৈরি সেহেতু জাহান্নামে তাদেরকে কিভাবে শাস্তি দেয়া হবে?

-জাহিদ বিন আনোয়ার
ঈশ্বরদী, পাবনা।

উত্তর : আগুনের সৃষ্টি জিন জাতির মধ্যে পাপিষ্ঠ জিন অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে (আ‘রাফ, ১২-১৮; হিজর, ৩২-৪৪; ছোয়াদ, ৮৪-৮৫; জিন, ১৪-১৫)। এক্ষেত্রে তারা আগুনের সৃষ্টি বলে আগুনে পুড়বে না কথাটি ঠিক নয়। যেমন মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি হলেও মাটির ঢেলা দিয়ে আঘাত করলে সে ব্যাথা পায়। কবরের মাটি দ্বারা চাপ দিয়ে শাস্তি দেয়া হলে সে ব্যাথা পায়। তেমনি আগুনের সৃষ্টি পাপিষ্ঠ জিনকে জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেয়া আল্লাহর নিকটে অসম্ভব কিছুই নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান’ (আনকাবূত, ২০)। তাছাড়া জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চাইতে ৭০ গুণ অধিক দহনশক্তি সম্পন্ন। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ব্যবহৃত আগুনের উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ’। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! জাহান্নামীদের শাস্তি প্রদানের জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ঠ ছিল। তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার আগুনের উপর তার সমপরিমাণ তাপসম্পন্ন জাহান্নামের আগুন আরো ঊনসত্তর গুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৪৩; মিশকাত, হা/৫৬৬৫)।

 

প্রশ্ন (২৬) : দুই বছর পূর্বে আমার বোনের বিবাহ হয়েছে। বাবা-মা উভয়েই জীবিত আছেন। এমতাবস্থায় বোনের প্রাপ্য অংশ কি তাকে লিখে বা বণ্টন করে দেওয়া যাবে?

-সাঈদুল ইসলাম
রশিদপুর, জামালপুর।

উত্তর : জীবিত অবস্থায় সম্পদ বণ্টন না করাই উত্তম। কারণ সম্পদ বণ্টন হয় মালিকের মৃত্যুর পরে। তবে বোনের প্রাপ্য অংশ যদি তাকে লিখে বা বণ্টন করে দিতে চায় তাহলে তা সকল সন্তানকেও ইনছাফের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অংশ হারে বণ্টন করে দিতে হবে। নু‘মান ইবনু বশীর (রা.) হতে বর্ণিত, তার বাবা তাকে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, আমার এই সন্তানকে আমি একটি গোলাম দান করেছি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তবে তুমি তা ফেরত নাও। অপর বর্ণনায় আছে, তুমি কি চাও যে, তারা সকলে তোমার সাথে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তবে এরূপ জায়েয হবে না। অপর বর্ণনায় আছে, নু‘মান (রা.) বলেছেন, আমার বাবা আমাকে কিছু দান করলেন। তখন আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা বললেন, আমি এটাতে রাযী না, যতক্ষণ না আপনি এটাতে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে সাক্ষী না রাখেন। সুতরাং আমার বাবা রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমি আমরাহ বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার এই সন্তানকে একটি উপহার প্রদান করেছি, কিন্তু আমরাহ আমাকে বলেছে, আপনাকে যেন সাক্ষী রাখি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন  রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সকল সন্তানের মধ্যে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করো। নু‘মান (রা.) বলেন, সুতরাং তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন এবং স্বীয় দান ফিরিয়ে নিলেন। অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, আমি অন্যায়ের উপর সাক্ষী হই না (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৩; মিশকাত হা/৩০১৯)।

 

প্রশ্ন (২৭) : আমাদের এলাকায় মৃত ব্যক্তিকে যখন দাফন করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তখন সাথে কিছু চাল, বিস্কুট ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া হয়। দাফনের পরে সেগুলো কোনো গরীব মানুষকে দিয়ে দেওয়া হয়। এটা করা কি জায়েয?

-জাবেদ
গাইবান্ধা।

উত্তর : এগুলো শরীআ‘তসম্মত নয়। এতে মৃত ব্যক্তির কোনো উপকার হয় না। বরং মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতাই বিদ‘আত এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ মাত্র। রাসূল (ছা.) বিজাতীয় রীতি-নীতির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৬৪৯)। জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট একত্রিত হওয়া এবং দাফনের পরে এ উপলক্ষে খানাপিনার আয়োজন করাকে জাহেলী যুগের ক্রন্দন বা বিলাপ হিসাবে গণ্য করতাম (আহমাদ, হা/৬৮৬৬; ইবনু মাজাহ, হা/১৬১২)।

 

প্রশ্ন (২৮) : ছাগল খাসি করা যাবে কি?

-ইয়াসীন আলী
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : অধিক মোটাতাজা ও গোশত সুস্বাদু করার উদ্দেশ্যে ছাগল, গরু, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি হালাল পশুকে তুলনামূলক কম কষ্ট দিয়ে খাসি করা যায়। রাসূল (ছা.) যে ভেড়া কুরবানী করেছিলেন তা খাসি করা ছিল। তাছাড়া রাসূল (ছা.) অ-কোষ বের করা দু’টি সাদা-কালো দুম্বা কুরবানী করেছিলেন (ইবনে মাজাহ, হা/৩১২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৪৮৩; ইরওয়াউল গালীল, ৪/৩৬০; মুখতাছার ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৬৭)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, ছাগল খাসি করা বৈধ।

 

প্রশ্ন (২৯) : সরকারের বিভিন্ন অন্যায় বা শরী‘আত বিরোধী কর্মকা-ের সমালোচনা করা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে কি?

-মুস্তাফিজুর রহমান
সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : সরকারের সমালোচনা আমভাবে করা জায়েয নয়। তবে যেখানে বললে সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে বলা যাবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৫; মিশকাত, হা/৫০৩১)। আর সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত ছালাত আদায় করে। তবে সরকারের নির্দেশের কারণে ফৎওয়া পরিবর্তন করা যাবে না। সরকার কোনো হালালকে হারাম করলে বা কোনো হারামকে হালাল করলে আলেম-ওলামাকে নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখে সঠিক ফৎওয়াই প্রদান করতে হবে। উম্মু সালামা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, অচিরেই তোমাদের ওপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে। তোমরা তাদেরকে বুঝতে পারবে এবং অপসন্দও করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার মন্দ কাজের প্রতিবাদ করবে, সে ব্যক্তি তার দায়িত্ব হতে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি শাসকের এ মন্দ কাজকে অন্তর থেকে ঘৃণা করবে, সে ব্যক্তিও নিরাপদে থাকবে। কিন্তু যে ব্যক্তি উক্ত কাজের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে এবং উক্ত কাজে শাসকের আনুগত্য করবে (সে গোনাহগার হবে)। তখন ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর  রাসূল (ছা.)! এমতাবস্থায় আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, না। যতদিন পর্যন্ত তারা ছালাত আদায় করবে ততদিন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না। আবার বললেন, যতদিন পর্যন্ত তারা ছালাত আদায় করবে ততদিন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না। অথবা যে ব্যক্তি অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে ও অগ্রাহ্য করে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৫৪; মিশকাত, হা/৩৬৭১)।

 

প্রশ্ন (৩০) : বিতর ছালাতে পঠিতব্য সঠিক দু‘আ কুনূত কোনটি?

-গোলাম ছামদানী
সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

উত্তর : বিতর ছালাতে সর্বাধিক পঠিত ও বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, দু‘আ কুনূত হলো,

اَللّٰہُمَّ اهْدِنِىْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِىْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِىْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِىْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَاِنَّكَ تَقْضِىْ وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ إِنَّهٗ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ (وَصَلَّى اللہُ  عَلَى النَّبِىِّ).

উচ্চারণ : আল্ল-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইত, ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমাং তাওয়াল্লাইত, ওয়া বা-রিকলী ফীমা আ‘ত্বইত, ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বযাইত। ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইউক্বযা ‘আলাইক, ইন্নাহূ লা ইয়াযিল্লু মাওঁ ওালাইত, তাবা-রকতা রব্বানা ওয়াতা‘আ-লায়ত (ওয়া ছাল্লাল্ল-হু ‘আলান্নাবিইয়ি) (আবুদাউদ, হা/১৪২৫, সনদ ছহীহ; তিরমিযী, হা/৪৬৪; নাসাঈ, হা/১৭৪৫; মিশকাত, হা/১২৭৩; ইরওয়াউল গালীল, ২/১৭৭; তামামুল মিন্নাহ, পৃ. ২৪৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/১৪৭)।

 

প্রশ্ন (৩১) : আক্বীদা ভ্রষ্ট ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? (যেমন তিনি বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মাদ (ছা.) নূরের তৈরি; তিনি গায়েব জানতেন ইত্যাদি)।

-তরীকুল ইসলাম
বৃ-কুষ্টিয়া, বগুড়া।

উত্তর : ‘মুহাম্মাদ (ছা.) গায়েব জানতেন’ এমন আক্বীদা পোষণকারী ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কেউ গায়েব জানে না (আন‘আম, ৫৯)। তাছাড়া এটি বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত মহাপাপ। তবে আক্বীদা যদি এমন হয় যা বিদ‘আতী বা ফাসেক্বী আক্বীদা প্রমাণ করে তাহলে তার পিছনে সাময়িকভাবে ছালাত আদায় করা যেতে পারে। কেননা এমন আক্বীদা পোষণ করার কারণে ইমাম গোনাহগার হবেন। কিন্তু মুক্তাদীর ছালাত হয়ে যাবে। রাসূল (ছা.) বলেন, ‘অনেকেই তোমাদেরকে ছালাত আদায় করায়। তারা যদি ঠিক করে তাহলে তোমাদের জন্য নেকী রয়েছে। আর তারা যদি ভুল করে, তাতে তোমাদের নেকী হবে আর তাদের গোনাহ হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৪; মিশকাত, হা/১১৩৩)। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের ইমামদের সংশোধনের জন্য বলতে হবে। সংশোধিত না হলে ইমাম পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়।

 

প্রশ্ন (৩২) : ধর্ষকের শাস্তির বিধান কী?

-ইমদাদুল হক
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর : ধর্ষণের মাধ্যমে যদি যেনা সাব্যস্ত হয় এবং ধর্ষক বিবাহিত পুরুষ হয়, তাহলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।

ওমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) পাথর দিয়ে হত্যা করেছেন। তারপর আমরাও রজম করেছি। আর রজমের বিধান আল্লাহর  কিতাবের মাঝে অপরিহার্য সত্য, ঐ সমস্ত পুরুষ ও নারীর উপর যারা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যেনা করে। আর যখন তা প্রমাণ সাপেক্ষ হয় অথবা গর্ভধারিণী হয় অথবা স্বীকাররোক্তি দেয় (বুখারী, হা/৬৮৩০; মুসলিম, হা/১৬১৯; মিশকাত, হা/৩৫৫৭; ফারামী, হা/২৩৬৮; তিরমিযী, হা/১৪৩২; ইবনে মাজাহ, হা/২৫৫৩; ইবফ, ২৩৩৮)।

আর ধর্ষক অবিবাহিত হলে তার ব্যাপারে শারঈ বিধান হলো, একশ’ বেত্রাঘাত করা (নূর, ২) ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করা। যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ছা.)-কে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে একশ’ বেত্রাঘাত করার ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করার আদেশ দিতে শুনেছি, যে অবিবাহিত অবস্থায় যেনা করেছে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৩১; মিশকাত, হা/৩৫৫৬)। উল্লেখ্য যে, ধর্ষণের কারণে মেয়ের উপরে শাস্তি প্রযোজ্য হবে না। তবে এক্ষেত্রে মেয়ের সম্মতি থাকলে তার উপরেও ঐ একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। তবে এ দণ্ডবিধি সরকার কার্যকর করবে।

 

প্রশ্ন (৩৩) : সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে অন্য দেশ থেকে মোবাইল এনে বাংলাদেশে বিক্রয় করা হচ্ছে। এ ধরনের (চোরাই ব্যবসা) হালাল হবে কি?

-আব্দুল মালেক বিন ইদ্রিস
চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সদর)।

উত্তর : সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে অন্য দেশ থেকে চোরাই পথে মোবাইল এনে ব্যবসা করলে তা হালাল হবে না। কেননা তা আমানতের খেয়ানত। তাছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষীকে ঘুষ দিয়েও এ সকল পণ্যসামগ্রী আমদানী করা হয়। ঘুষ একটি জঘন্য অপরাধ। রাসূলুল্লাহ (ছা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ, হা/৩৫৮০; ইবনু মাজাহ, হা/২৩১৩; মিশকাত, হা/৩৭৫৩)। তাছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয়, অন্যায়ের সহযোগিতা করা হয়। এমন সকল কাজ ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা কল্যাণ ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)।

 

প্রশ্ন (৩৪) : আমি বিদেশ আসার সময় সূদ দেওয়ার শর্তে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলাম। বর্তমানে তা পরিশোধ করে ফেলেছি। প্রশ্ন হলো, বিদেশে আমার এই উপার্জন কি হালাল হচ্ছে?

-আসাদুযযামান
কুয়েত প্রবাসী।

উত্তর : শরী‘আতে ‘সূদ’ বা সূদভিত্তিক সকল লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম (বাক্বারাহ, ২৭৫)। জাবের (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) সূদ গ্রহীতা, দাতা, তার লেখক ও সাক্ষ্যদাতার প্রতি লা‘নত করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; মিশকাত, হা/২৮০৭)। তাই এসব অন্যায় ও অপকর্মের জন্য খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে। আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন এবং আপনার উপার্জনকেও হালাল করতে পারেন ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে; আল্লাহ তাদের পাপ পরিবর্তন করে দিবেন পুণ্যের দ্বারা; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (ফুরক্বান, ৭০)। তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ (তারা) আল্লাহর  রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার, ৫৩)। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান ভুলকারী আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা তওবা করে’ (তিরমিযী, হা/২৪৯৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫১; দারেমী, হা/২৭২৭; মিশকাত, হা/২৩৪১)।

 

প্রশ্ন (৩৫) : অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছালাত জমা ও ক্বছর করা যাবে কি?

-মাহফুজ সরদার
চাদমারী, পাবনা।

উত্তর : অসুস্থ ব্যক্তিকে বাড়িতে সময়মত ছালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। কেননা সময়মত ছালাত আদায় করতে আল্লাহ নির্দেশ করেছেন (নিসা, ১০৩)। তবে কোনো সময় সম্ভব না হলে জমা করতে পারে। ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) ভয় ও বৃষ্টিজনিত কারণ ছাড়াই মদীনাতে যোহর ও আছরের ছালাত একত্রে এবং মাগরিব ও এশার ছালাত একত্রে আদায় করেছেন (আবুদাঊদ, হা/১২১১; তিরমিযী, হা/১৮৭; নাসাঈ, হা/৬০২)। তবে অসুস্থ ব্যক্তি বাড়িতে ক্বছর করতে পারবে না। কেননা ক্বছর শুধুমাত্র মুসাফিরের জন্য নির্দিষ্ট।

 

প্রশ্ন (৩৬) : নাভীর নিচে হাত বাঁধা সম্পর্কে মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বার ৩৯৬৩ নং হাদীছটির তাহক্বীক্ব জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মাহমূদ বিন খালেদ
মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : আবু মেজলায নামক একজন তাবেঈ থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদীছটি মাক্বতূ‘ (সূত্র বিচ্ছিন্ন) পর্যায়ের, যার উপর আমল করা যাবে না। সুনানে আবুদাঊদের ব্যাখ্যা গ্রন্থ আওনুল মা‘বুদের লেখক বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ আযীমাবাদী বলেন, হাদীছটি মাক্বতূ‘ (সূত্র বিচ্ছিন্ন) পর্যায়ের, কেননা বর্ণনাকারী আবু মেজলায তাবেঈ। আর মাক্বতূ‘ হাদীছ দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না (আওনুল মা‘বুদ, ১/২৭৫)।

 

প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক শায়েখ বলেছেন, ‘কোনো মসজিদে যদি রাফঊল ইয়াদায়েন করতে ও জোরে আমীন বলতে না দেয় তবে প্রয়োজনে ঘরে ছালাত আদায় করবে’। অথচ, রাফঊল ইয়াদায়েন ও জোরে আমীন বলা সুন্নাত; আর জামা‘আতে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব। অতএব, সুন্নাতের জন্য ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হবে?

-হারিস মুহাম্মাদ বাবলু
আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : ছালাতে রাফঊল ইয়াদায়েন করা ও সূরা ফাতিহা শেষে জোরে আমীন বলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সুন্নাত। প্রত্যেক মুছাল্লীকে ছালাতের পূর্ণ বিধান অনুসরণ করে উক্ত সুন্নাতকে পরিপূর্ণভাবে আদায়ের মাধ্যমেই ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা কেউ যদি ছালাতের বিধান পরিপূর্ণভাবে আদায় না করে তাহলে তার ছালাত অসম্পূর্ণ থেকে যায়। (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫৩৭)। রাসূল (ছা.) বলেন, مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে আমার সুন্নাতকে বর্জন করল, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়’ (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/১৯৭ ও ২০২৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২১৩০)। এমতাবস্থায় মানুষকে রাসূলের সুন্নাতের উপর আমল করার সুযোগ দেওয়া প্রত্যেক মসজিদ কমিটির জন্য যরূরী। এ বিষয়ে সরকারের ইনছাফপূর্ণ পদক্ষেপ থাকা উচিত। তবে যদি কোনোভাবেই সুযোগ না পাওয়া যায় এবং সুন্নাতের উপর আমলের কারণে বিভিন্ন সমস্যা নেমে আসে তাহলে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামা‘আত করে ছালাত আদয় করবে।

 

প্রশ্ন (৩৮) : ছেলেকে যৌতুক না দিলে জনৈক ইয়াতীম মেয়ের বিবাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করলে পাপ হবে কি?

-জাহিদ বিন আনোয়ার
সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : এমতাবস্থায় বরপক্ষকে সংশোধন করার চেষ্টা করতে হবে এবং এমন ছেলে খুঁজতে হবে, যে যৌতুকের মতো হারাম পন্থা অবলম্বন করবে না। তবে কোনোমতেই সম্ভব নাহলে কনে পক্ষ মাযলূম বলে গণ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (ছা.) মাযলূমকে সাহায্য করতে বলেছেন। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর  রাসূল (ছা.)! অত্যাচারিতকে তো সাহয্য করব, কিন্তু অত্যাচারীকে কীভাবে সাহয্য করব? তিনি বললেন, তাকে অত্যাচার করা হতে বিরত রাখো। ইহাই হলো তার প্রতি তোমার সাহায্য (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৪; মিশকাত, হা/৪৯৫৭)। সুতরাং কেউ তাকে সাহায্য করলে পাপ হবে না। বরং সাহায্য করার কারণে নেকী হবে।

 

প্রশ্ন (৩৯) : অতিরিক্ত সীমালঙ্ঘন করার ফলে আল্লাহ কি ঐ সময় ইবলীস ব্যতীত সব জিনকে ধ্বংস করে দেন; না-কি তাদের বনে-জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন?

-মাহফূয বিন মিনহাজ
মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

উত্তর : সকল জিনকে ধ্বংস করা হয়নি। বরং পরস্পরে বিপর্যয় সৃষ্টি, হত্যাকাণ্ড, রক্তপাত ইত্যাদি অপরাধ সংঘটিত করার কারণে ইবলীস ও তার সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে জিন জাতির অধিকাংশকে হত্যা করা হয় এবং অনেকেই বনে-জঙ্গলে বিতাড়িত হয়। এমর্মে ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম জিনেরা বসবাস করত। অতঃপর তারা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করা, রক্তপাত ঘটানো এবং পরস্পরকে হত্যা করা শুরু করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাছে ইবলীসকে প্রেরণ করেন। ইবলীস ও তার সৈন্যবাহিনী তাদেরকে হত্যা করে এবং সমুদ্রের উপদ্বীপ ও পাহাড়-পর্বতের পাদদেশে বিতাড়িত করে (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৭৪, সূরা বাক্বারাহ, ৩০ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্র.)। তখন থেকে তারা সাধারণত উপদ্বীপ এবং পাহাড়-পর্বতে বসবাস করে। তবে এরা বিভিন্ন সময়ে পায়খানা, পেশাবখানা, গোসলখানা প্রভৃতি অপবিত্র স্থানেও অবস্থান করে। যায়েদ ইবনু আরক্বাম (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘পায়খানার স্থানসমূহ হচ্ছে জিন ও শয়তানের উপস্থিতির স্থান। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যাবে তখন সে যেন বলে, أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ ‘আমি আপনার নিকট নর ও নারী শয়তানসমূহের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ (আবুদাঊদ, হা/৬; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/৫০; মিশকাত, হা/৩৫৭, সনদ ছহীহ)। এছাড়া কিছু কিছু জিন সাপের আকৃতি ধারণ করে মানুষের গৃহেও বসবাস করে। এ সকল জিনকে রাসূলুল্লাহ (ছা.) তিন দিনের মধ্যে চলে যাওয়ার অনুমতি প্রদান ব্যতীত হত্যা করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, ২/২৩৪-৩৫, ‘সাপ ও অন্যান্য জীব-জন্তু হত্যা করা’ অনুচ্ছেদ)।

 

প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি নিজের বোনের নাতনীকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তাদের ৫টি সন্তানও হয়েছে। প্রশ্ন হলো, উক্ত বিবাহ কি বৈধ হবে? যদি বৈধ না হয় তাহলে বর্তমানে করণীয় কী?

-জাহাঙ্গীর
ফুলবাড়ী, দিনাজুপুর।

উত্তর : বোনের নাতনীকে বিবাহ করা হারাম। কারণ সে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত (নিসা, ২৩)। এছাড়া সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন, তাদের কন্যা এবং এ ধারাগুলো যত নিম্নের হোক না কেন তাদের বিয়ে করা হারাম (তাফসীর ফতহুল ক্বাদীর, ১/৪৪৫; কুরতুবী, ৫-৬/৭১; ফতহুল বারী, ৯/১৯২)। অজ্ঞতাবশত এরূপ করে থাকলে উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ হবে। এ ক্ষেত্রে মেয়েটি মোহর পাবে। সন্তানগুলো পুরুষটির সন্তান বলে গণ্য হবে। যদি তারা জেনে বুঝে এরূপ কাজ করে থাকে, তাহলে তাদের সন্তানরা জারজ সন্তান এবং অপরাধটিও হত্যাযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বারা ইবনু আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, যার হাতে একটি পতাকা ছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) আমাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে পাঠাচ্ছেন, যে তার সৎ মাকে বিয়ে করেছে। তিনি আমাকে তার শিরশ্ছেদ করতে এবং তার ধন-সম্পদ নিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন (আবুদাঊদ, হা/৪৪৫৭; নাসাঈ, হা/৩৩৩২)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মাহরাম মহিলার সাথে বিবাহ করা হারাম ও হত্যাযোগ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় জানার সাথে সাথে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮)। আর অপরাধের জন্য খালেছ অন্তরে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

 

প্রশ্ন (৪১) : কিস্তিতে পণ্য সামগ্রী বিক্রয় করা হয় এমন কোম্পানীতে চাকুরী করা বৈধ হবে কি?

-নাজমুল
শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : হ্যাঁ, এমন কোম্পানীতে চাকুরী করা যায়। কেননা কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। আয়েশা (রা.) বারীরাকে মুক্ত করেছিলেন কিস্তির ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩৬)। রাসূল (ছা.) থেকে এটি বৈধ হওয়ার পক্ষে দলীলও পাওয়া যায়। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রা.)-কে সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করার আদেশ করেছিলেন। ফলে তিনি বাকীতে দু’টি উটের বিনিময়ে একটি উট ক্রয় করেছিলেন’ (শারহুস সুন্নাহ, ৮/৭৪; হা/২০৬৫)। তবে কিস্তির ক্রয়-বিক্রয় যখন যুলুমের পর্যায়ে যাবে তখন তা জায়েয হবে না। তাছাড়া যদি এরূপ শর্ত থাকে যে, নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে টাকার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে তাহলে সেখানে চাকুরী করা যাবে না। কেননা একে বলা হয় একের মধ্যে দুই বিক্রয়, যা সুস্পষ্ট হারাম। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) একই বিক্রির মধ্যে দু’রকমের বিক্রয় হতে নিষেধ করেছেন (মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/২৪৪৪; তিরমিযী, হা/১২৩১; নাসাঈ, হা/৪৬৩২; মিশকাত, হা/২৮৬৮; বুলূগুল মারাম, হা/৭৮৬)।

 

প্রশ্ন (৪২) : তালাক দেওয়ার জন্য কি সাক্ষী রাখা যরূরী?

-আব্দুল জব্বার
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : তালাক দেওয়ার সময় সাক্ষী রাখা যরূরী নয়। বরং ‘তালাক দিলাম’ বলার সাথে সাথে তালাক সংঘটিত হয়ে যাবে। হোক সেটা অন্তর থেকে কিংবা হাসি-ঠাট্টার ছলে। অথবা হোক সেটা স্ত্রীর উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতে। রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘তিনটি কাজের চূড়ান্তও চূড়ান্ত, হাসি-তামাশাও চূড়ান্ত। বিবাহ, তালাক ও তালাক দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া’ (আবুদাঊদ, হা/২১৯৪; ইবনু মাজাহ, হা/২০৩৯, সনদ হাসান)। তাই সাক্ষী না রাখলেও তালাক হয়ে যাবে। তবে স্বামী-স্ত্রীর কেউ যেন পরবর্তীতে অস্বীকার করার সুযোগ না পায়, সেজন্য সাক্ষী রাখা ভালো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তাদের উত্তম পন্থায় (নিজের কাছে) রেখে দাও অথবা, উত্তম পন্থায় তালাক দিয়ে দাও। আর তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখো’ (তালাক, ২)। ছাহাবী ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে আবার তার সাথে মিলিত হয়েছে। কিন্তু তালাক কিংবা ফিরিয়ে নেওয়া কোনটারই সাক্ষী রাখেনি। তখন তিনি বললেন, ‘তুমি রীতি লঙ্ঘন করে তালাক দিয়েছো, আবার ফিরিয়েও নিয়েছো রীতি লঙ্ঘন করে। তালাক দেওয়া কিংবা ফিরিয়ে নেওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সাক্ষী রাখো’ (আবুদাঊদ, হা/২১৮৬; ইবনে মাজাহ, হা/২০২৫, হাদীছ ছহীহ)। উক্ত আয়াত ও আছারে যে সাক্ষী রাখার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ‘ইসতিহ্বাব’ তথা ‘উত্তম পন্থা’ বুঝানোর জন্য। আবশ্যকতা বুঝানোর জন্য নয়।

 

প্রশ্ন (৪৩) : মনে মনে কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি? তাতে কি নেকী হবে?

-বিলাল
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : না, মনে মনে কুরআন তিলাওয়াত করলে তাতে নির্ধারিত নেকী পাওয়া যাবে না। কেননা, তিলাওয়াত বলা হয় যা মুখে উচ্চারণ করে পড়া হয়। পক্ষান্তরে মনে মনে বুদ্ধিমত্তার আলোকে গবেষণালব্ধ যা হয় তাকে ‘তাযাক্কুর’ ও ‘তাদাব্বুর’ বলা হয়। সুতরাং কুরআন তেলাওয়াত ও গবেষণা ভিন্ন বিষয়। তবে এই জাতীয় তাদাব্বুরেরও নেকী  রয়েছে কেননা এটিও একটি ভালো আমল। কিন্তু কুরআন তিলাওয়াতের জন্য যে নির্ধারিত নেকী রয়েছে তা শুধু কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। অতএব, মনে মনে নয় বরং মুখে উচ্চারণ করে এমনভাবে পড়তে হবে যাতে করে ঠোঁট বা দাড়ির নড়াচড়া প্রকাশ পায়। আবু মা‘মার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (ছা.) কি যোহর ও আছরের ছালাতে ক্বিরআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা বললাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৬)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ তেলাওয়াত করবে তার জন্য একটি নেকী রয়েছে। আর এ একটি নেকী হবে দশটি নেকীর সমান। আমি বলছি না যে, ‘আলিম লাম মীম’ একটি হরফ। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ ও ‘মীম’ একটি হরফ (তিরমিযী, হা/২৯১০; সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২১৩৭)।

 

প্রশ্ন (৪৪) : পিতা-মাতা যদি যথেষ্ট পরিমাণ নেক আমল না করে মারা যায় তবুও কি সন্তানের দু‘আ তাদের জন্য উপকারে আসবে?

-আব্দুল আযীয
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : পিতা-মাতার জন্য সন্তানের দু‘আ উপকারে আসার ক্ষেত্রে তাদের নেক আমলের পরিমাণ বিবেচ্য বিষয় নয়। বিবেচ্য বিষয় হলো, তারা মুসলিম কি-না। যদি মুসলিম হয় এবং সন্তানটি সুসন্তান হয় তাহলে তাদের আমল যত কমই হোক না কেন ঐ সুসন্তানের দু‘আ তাদের উপকারে আসবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি আমল ব্যতীত। যথা: ১. ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ ২. এমন ইলম, যার দ্বারা উপকার সাধিত হয় এবং ৩. এমন সুসন্তান, যে তার জন্য দু‘আ করে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩১; আবুদাঊদ, হা/২৮৮০; মিশকাত, হা/২০৩)। কিন্তু পিতা-মাতা যদি অমুসলিম হয়, তাহলে নবী হলেও তার দু‘আ তাদের উপকারে আসবে না। যেমন, ইবরাহীম (আ.) -এর দু‘আ কাজে আসবে না (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৫০)।

 

প্রশ্ন (৪৫) : ছালাতের বাইরে বুকে হাত বেঁধে কুরআন তেলাওয়াত করার পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি?

-আশরাফ হুসাইন
সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : না, ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করার সময় বুকে হাত বাঁধার পক্ষে শারঈ কোনো দলীল পাওয়া যায় না।

 

প্রশ্ন (৪৬) : অনুষ্ঠান-আনুষ্ঠানিকতায় বা খেলাধুলার জয়-পরাজয়ে হাত তালি দেওয়ার বিধান কী?

-ইউসুফ
দেবীদ্বার, কুমিল্লা।

উত্তর : হাত তালি দেওয়া একটি জাহেলী প্রথা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কাবাগৃহে তাদের ছালাত বলতে ছিল শুধু শিস দেওয়া ও হাত তালি দেওয়া’ (আনফাল, ৩৫)। সুতরাং শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রেই নয়; বরং ইবাদতের বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা কিংবা আনন্দদায়ক কোনোকিছু দেখে হাত তালি দেওয়া জায়েয নয়। কারণ এতে জাহেলী যুগের মুশরিক ও বর্তমান যুগের অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হয়। যা বর্জন করা আবশ্যক। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫১১৫; আবুদাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭)।

 

প্রশ্ন (৪৭) : একজন ডায়াবেটিসের রুগী গোসলের শুরুতে ওযূ করে গায়ে পানি ঢালার পর প্রস্রাবের বেগ আসে এবং প্রস্রাবের বের হয়ে আসে। এই আবস্থায় কি তাকে আবার ওযূ করে নিতে হবে না গোসল শেষ করলেই হবে?

-অখতারুযযামান
ফুলবাড়ী, দিনাজপুর।

উত্তর : এমতাবস্থায় গোসল শেষে আবার নতুনভাবে ওযূ  করতে হবে। কেননা, গোসলের শুরুতে যে ওযূ করেছিল প্রস্রাব বের হওয়ার কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে (মায়েদাহ, ৬)। অতএব, পুনরায় ওযূ না করলে পূর্বের ওযূ দিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে না। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘যার ওযূ ভঙ্গ হয়েছে ওযূ না করা পর্যন্ত তার ছালাত কবুল হয় না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৫; মিশকাত, হা/৩০০)। আমর ইবনু আমের আল-আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস বিন মালেক (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী মুহাম্মাদ (ছা.) প্রত্যেক ছালাতের জন্য ওযূ করতেন (তিরমিযী, হা/৫৪)।

 

প্রশ্ন (৪৮) : প্রায় ১০ বছর আগে হাতে একটা উল্কি করেছিলাম। যা এখনো আছে। তখন শারঈ নিয়ম-ক্বানূন বুঝতাম না বা আমল করারও চেষ্টা করতাম না। তবে ৪/৫ বছর পূর্ব থেকে ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলার চেষ্টা করছি। ঐ উল্কির জন্য বর্তমানে আমার করণীয় কী?

-নাফিস
লালপুর, নাটোর।

উত্তর : শরীরে উল্কি অঙ্কন করা হারাম। ইবনু ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা সেই সকল নারীর উপর অভিশাপ করেছেন, যারা নিজে পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদেরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়। যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উলকি আঁকে এবং অন্যকে আঁকিয়ে দেয় (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২১২২; মিশকাত, হা/৪৪৩০)। তাছাড়া এটি অমুসলিমদের সংস্কৃতি। যা মুসলিমদের জন্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তবে, যদি কেউ না বুঝে কিংবা, শয়তানের চক্রান্তে শরীরের কোথাও উল্কি (ট্যাটু) এঁকে ফেলে তাহলে তা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য উক্ত কাজকে বর্জন করবে ও আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে তাওবা করবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের পাপকে পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (ফুরক্বান, ৭০)। তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ (তারা) আল্লাহর  রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার, ৫৩)। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান ভুলকারী আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা তওবা করে’ (তিরমিযী, হা/২৪৯৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫১; দারেমী, হা/২৭২৭; মিশকাত, হা/২৩৪১)।

 

প্রশ্ন (৪৯) : তাবীয ব্যবহার শিরক; জানা সত্ত্বেও একজন অসুস্থ মহিলা জিনের আছর থেকে মুক্তির জন্য তাবীয ব্যবহার করেন। এমতাবস্থায় তিনি মারা গেলে পরিণাম কী হবে? উল্লেখ্য যে, তিনি তাবীয ব্যবহারকালীন সময়ে সুস্থ থাকেন কিন্তু যখনই তা খুলে রাখেন তার দু-একদিন পরেই জিনেরা তাকে আছর করে এবং চরমভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

-আব্দুছ ছামাদ
পীরগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর : কোনো অবস্থাতেই তাবীয ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তাবীয কোনো ঔষধ নয়, বরং আক্বীদাগত কারণে তাবীয ব্যবহার করা শিরক। কখনো কখনো শিরকী কর্ম করার দ্বারা মানুষের ধারণা মতে সাময়িক উপকার হতে পারে। কিন্তু তা স্থায়ীভাবে ক্ষতি করে। তাবীয থাকার কারণে রাসূল (ছা.) এক ছাহাবীর বায়‘আত নেননি। সে তা কেটে ফেলে দিলে তিনি তার বায়‘আত গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শিরক করল’ (আহমাদ, হা/১৬৯৬৯; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৩৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৪৯২)। সুতরাং তাবীয ব্যবহারকারী তওবা না করে মারা গেলে সে মুশরিক অবস্থায় মারা যাবে। আর মুশরিকের পরিণাম জাহান্নাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর  সাথে (অন্য কাউকে) অংশীদার স্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী হবে না (মায়েদাহ, ৭২)।

জিনের আছর বা প্রভাব হতে পরিত্রাণের জন্য সকাল সন্ধ্যার দু‘আ বা যিকিরগুলো (যেমন, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব, নাস, বাক্বারার শেষ দুই আয়াত) নিয়মিত পাঠ করুন। তাহলে জিন বা শয়তান হতে স্থায়ীভাবে নিরাপদে থাকবেন ইনশাআল্লাহ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৯৮, ৩৮৬৭, ৩৮৬৯, তিরমিযী, হা/৩৪৬৮)। এছাড়া শয়তান থেকে নিরাপদে থাকার জন্য হাদীছে বিভিন্ন দু‘আ রয়েছে, সেগুলোও পড়ুন।

 

প্রশ্ন (৫০) : ‘ওয়াহশী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করার পরও রাসূলুল্লাহ (ছা.) তাকে তাঁর সামনে আসতে নিষেধ করেছিলেন’- এর কারণ ও ঘটনাটি কী ছিল?

-আব্দুল কাদের
নকলা, শেরপুর।

উত্তর : ওয়াহশী (রা.) ইসলাম গ্রহণের পরও রাসূলুল্লাহ (ছা.) তাকে তাঁর সামনে আসতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ বদর যুদ্ধে রাসূল (ছা.)-এর আপন চাচা হামযাহ (রা.)-এর হাতে ত্বুআয়মাহ ইবনে আদি ইবনে আল-খিয়ার নিহত হন। অতঃপর ওয়াহশীর মুনিব যুবায়ের ইবনে মুতঈম তাকে বললেন, তুমি যদি আমার চাচার বিনিময়ে হামযাহকে হত্যা করতে পার, তাহলে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিব। ওয়াহশী মুনিবের কথা শুনে বদর যুদ্ধে হামযাহ (রা.)-কে শহীদ করে দেন। মক্কা বিজয়ের পর যখন ওয়াহশী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করল তখন রাসূল (ছা.) তাকে তাঁর সামনে আসতে নিষেধ করেন। কেননা, ওয়াহশী (রা.)-কে দেখলে তাঁর (ছা.)  চাচার কথা স্মরণ হত এবং তাতে তিনি খুব কষ্ট অনুভব করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৬৪; মুসনাদে ত্বয়লিছী হা/১৩১৪)।