প্রশ্ন (১) : ছালাতে প্রতি সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা কি যরূরী?

-রাসেল মাহমুদ (মনির)

দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : তেলাওয়াতের সূচনা যদি সূরার প্রথম থেকে হয় তাহলে ‘আঊযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ দু’টাই পড়তে হবে। কারণ একটি সূরা থেকে আর একটি সূরা পৃথক করার মাধ্যম হচ্ছে ‘বিসমিল্লাহ’ (আবুদাঊদ, হা/৭৮৮)। আর যদি তেলাওয়াত সূরার ভিতর থেকে আরম্ভ হয় তাহলে শুধু ‘আঊযুবিল্লাহ’ পড়তে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করবেন তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবেন’ (নাহল, ৯৮)।

প্রশ্ন (২) : কাদিয়ানী আক্বীদার অনুসারীদের সাথে আতত্মীয়তার সম্পর্ক রাখা যাবে কি ?

-তাওহীদুল ইসলাম

সাধনপুর, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : কাদিয়ানীরা যেহেতু নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) কে সর্বশেষ নবী হিসাবে স্বীকার করে না, সেহেতু তারা অমুসলিম। অমুসলিমদের সাথে যেমন সম্পর্ক রাখা যায় না, অনুরূপভাবে তাদের সাথেও সম্পর্ক রাখা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ কর না’ (নিসা, ১৪৪)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যারা তোমাদের পূর্বে কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি ও তামাশার বস্তু বানিয়ে নিয়েছে তাদেরকে ও কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ কর না। আর আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও’ (মায়িদাহ, ৫৭)। অতএব, যে তাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫১১৫; আবুদাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭)। তবে তাদের সাথে সাধারণভাবে সামাজিক সম্পর্ক থাকতে পারে।

প্রশ্ন (৩) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুর রহীম

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : না, যাবে না। কেননা একজন কুরআন পড়বে আর আরেকজনের নামে বখশিয়ে দিবে এমন আমল রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ থেকে প্রমাণিত নয়। অতএব এটি উজ্জ্বল শরী‘আতে স্পষ্ট বিদ‘আত। রাসূল (ছাঃ)  বলেন,

‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর আমার নির্দেশ নেই সেটি প্রত্যাখ্যাত’ (মুসলিম, হা/১৭১৮)। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করা ও ছাদাক্বা করা যাবে। আয়েশা ম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম ধ-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল ধ! আমার মা হঠাৎ মারা গিয়েছেন। আমার ধারণা, তিনি যদি কিছু বলার সুযোগ পেতেন কিছু দান করতেন। এখন আমি যদি তাঁর পক্ষ হতে দান করি, তিনি তার নেকি পাবেন কি? রাসূলুল্লাহ ধ বললেন, ‘হ্যাঁ’ (বুখারী, হা/১৩৮৮; মুসলিম, হা/১০০৪; মিশকাত, হা/১৯৫০; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/৩৯০)।

প্রশ্ন (৪) : কবর যিয়ারতের জন্য বিশেষ কোনো দো‘আ আছে কি?

-আল-আমীন তুষার

শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : বিশেষ কোনো দো‘আ নেই। ইসলামী শরী‘আতে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য হ’ল মৃত্যু ও আখেরাতকে স্মরণ করা এবং মৃতের জন্য আল্লাহর নিকট মাগফেরাত কামনা করা। তাই কবর যিয়ারতের সময় মৃতের জন্য নিম্নোক্ত দু‘আ করাই যথেষ্ট, যা রাসূল (ছাঃ) শিখিয়ে দিয়েছেন,

اَلسَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَيَرْحَمُ اللهُ الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِيْنَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلاَحِقُوْنَ نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ .

উচ্চারণ : ‘আসসালা-মু ‘আলা আহলিদ দিয়া-রি মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা; ওয়া ইন্না ইনশা-আল্লা-হু বিকুম লা লা-হেকূনা, নাসআলুল্লা-হা লানা ওয়া লাকুমুল ‘আ-ফিয়াতা’। অর্থ : ‘মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরা অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হ’তে যাচ্ছি। আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে মঙ্গল কামনা করছি’ (মুসলিম, হা/৯৭৪; মিশকাত, হা/১৭৬৪-৬৭)। উল্লেখ্য যে, এই দু‘আর সময় একাকী দু’হাত উঠানো যাবে, দলবদ্ধভাবে নয়। বাক্বী‘উল গারকাদ গোরস্থানে দীর্ঘক্ষণ একাকী  দু‘আ করার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিন বার হাত উঠিয়েছিলেন (মুসলিম, হা/৯৭৪)। তখন তিনি কোন ছাহাবীকে সাথে নিয়ে যাননি। অতএব, কবরস্থানে হাত তুলে দু‘আ করার বিষয়টি ব্যক্তিগত ব্যাপার।

প্রশ্ন (৫) : মৃত ব্যক্তির লাশ বহনের সময় উচ্চৈঃস্বরে কোনো দু‘আ বা যিকির-আযকার করা যাবে কি?

-আল-আমীন তুষার

শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : না, লাশ বহন করার সময় উচ্চৈঃস্বরে বা নিম্নস্বরে কোনো দু‘আ বা যিকির করা যাবে না। এমন আমল রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ থেকে প্রমাণিত নয়। এমন আমল কেউ করলে তা বিদ‘আত হবে। রাসূল (ছাঃ)  বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর আমার নির্দেশ নেই সেটি প্রত্যাখাত’ (মুসলিম, হা/১৭১৮)।

প্রশ্ন (৬) : হিন্দু ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া যাবে কি? হিন্দু শিক্ষককে কীভাবে সম্মান জানানো উচিত?

-সুজন আলী

মুন্সীপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কোন হিন্দু বা বিধর্মীদেরকে প্রথমে সালাম দেওয়া যাবে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ)  বলেছেন, ‘তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে প্রথমে সালাম দিও না’ (মুসলিম, হা/২১৬৭; মিশকাত, হা/৪৬৩৫)। তবে তারা যদি সালাম দেয় তাহলে শুধুমাত্র وَعَلَيْكُمْ ‘ওয়া আলায়কুম’ বলতে হবে। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানরা যখন তোমাদেরকে সালাম দিবে তখন তোমরা বলবে ‘ওয়া আলায়কুম’ (বুখারী, হা/৬২৫৮; মুসলিম, হা/২১৬৩; মিশকাত, হা/৪৬৩৭)। হিন্দু শিক্ষককে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে সম্মান জানানো যায়।

প্রশ্ন (৭) : টয়লেটে কমোড ব্যবহার করা যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন

কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : হাই কমোড বা ইংলিশ কমোড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে শরী‘আতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি লেগে না যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার কাপড় পরিষ্কার রাখ’ (মুদ্দাস্সির, ০৪)। পেশাব-পায়খানার ব্যাপারে শয়তানী ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য রাসূল (ছাঃ) সতর্ক করেছেন (আবুদাঊদ, হা/২৪)।

প্রশ্ন (৮) : মৃত্যুর পূর্বে কোন কোন দু‘আ বেশী উপকারে আসে?

-সাদিয়া, ফেনী।

উত্তর : মৃত্যুর পূর্বে সকল কল্যানের দু‘আ বেশি বেশি পাঠ করা উচিত। যেমন, শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থানা করা, মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাওয়া ইত্যাদি। রাসূল (ছাঃ)  মৃত্যু শয্যায় বলেছিলেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَأَلْحِقْنِى بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى ‘আল্লাহুম্মাগফির-লী ওয়ার হামনী ওয়া আল-হিক্বনী বির রফীক্বিল আ‘লা’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আর আমাকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিত কর (বুখারী, হা/৫৬৭৪)। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলতেন, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ইন্না লিল-মাওতে সাকারাতিন’ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন’ (বুখারী, হা/৪৪৪৯; মিশকাত, হা/৫৯৫৯)। তাছাড়া বিশেষভাবে মৃত যন্ত্রণায় নিপতিত ব্যক্তিকে কালিমার তালকিন দেওয়া যরূরী। ইয়াহইয়া ইবনু উমারাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা মুমূর্ষ ব্যক্তিকে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’র তালকীন দাও’ (মুসলিম, হা/৯১৬-১৭; মিশকাত, হা/১৬১৬)।

প্রশ্ন (৯) : টয়লেটে প্রবেশের সময় দু‘আ বলতে ভুলে গেলে করণীয় কী?

-সাকিব বিন সুলতান

গংগাচড়া, রংপুর।

উত্তর : টয়লেটে প্রবেশের সময় দু‘আ বলতে ভুলে গেলে তা স্বরণ হওয়ার সাথে সাথে মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়ে নিবে (ফাৎহুল বারী, ১/২৪০; আল-আওসাত্ব, ইবনুল মুনযির, ১/৩৬৬)।

প্রশ্ন (১০) : কবরের উপর গাছের চারা রোপন করা যাবে কি?

-রেযাউল করীম

আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গিপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : কবরের উপর গাছের চারা বা কোন ধরনের বৃক্ষ রোপন করা যাবে না। কেননা সেখানে বৃক্ষ রোপন করলে তার উপর দিয়ে যাতায়াত করা হবে এবং তাকে পদদলিত করা হবে। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কবরে চুনকাম করতে, তার উপর লিখতে এবং তাকে পদদলিত করতে নিষেধ করেছেন (তিরমিযী, হা/১০৫২; মিশকাত, হা/১৭০৯)। তবে কবর যদি ৬০-৭০ বছরের পুরাতন হয় এবং সেখানে মৃত ব্যক্তির হাড়সহ কোন চিহ্নই না থাকে, তাহলে সে স্থানকে চাষাবাদসহ প্রয়োজনে যে কোন উপকার গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা যাবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/৪৭২; আলবানী, তালখীছু আহকামিল জানায়েয, ৯১)।

প্রশ্ন (১১) : রোগ থেকে মুক্তির জন্য কড়ি, বালা বা অন্য কোন রিং পরা যাবে কি?

-জোবায়ের আব্দুল্লাহ

মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : এগুলো ব্যবহার করা শিরক। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কেউ রোগ মুক্ত করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি আল্লাহ তোমাকে কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা দূর করার কেউ নেই’ (আন‘আম, ১৭)। উকবা বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকাবে আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন এবং যে কড়ি লটকাবে আল্লাহ যেন তাকে আরোগ্য দান না করেন’ (আহমাদ, হা/৭৫০১, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (১২) : মসজিদে কেউ উচ্চৈঃস্বরে কথা বললে তাকে প্রহার করা উচিত হবে কি?

-জোবায়ের আব্দুল্লাহ

মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : মসজিদে কেউ উচ্চৈঃস্বরে কথা বললে তাকে মসজিদের আদব ভঙ্গ করার কারণে কঠোরভাবে সতর্ক ও সাবধান করতে হবে। সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে কংকর নিক্ষেপ করল। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেন, ঐ দু’ব্যক্তিকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি তাদেরকে তার নিকটে নিয়ে আসলাম। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা তায়েফের অধিবাসী? ওমর (রাঃ) বললেন, তোমরা যদি মদীনার লোক হতে তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূলধ-এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছো! (বুখারী, হা/৪৭০; সুনানূল কুবরা লিল বায়হাক্বী, হা/২০২৬৫)। অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, কোন বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা বা জানা না থাকা একটি গ্রহণযোগ্য অজুহাত। যে কারণে খলীফা ওমর (রাঃ) দন্ড প্রদান এড়িয়ে যান। অন্যথায় তিনি তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।

প্রশ্ন (১৩) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি?

-সৌরভ বাবু

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : ‘মুনাজাত’ অর্থ পরষ্পরে গোপনে কথা বলা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ছালাতে দন্ডায়মান হয়, তখন সে যেন তার সম্মুখের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ছালাতের স্থানে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে মুনাজাত করে অর্থাৎ গোপনে কথা বলে’ (বুখারী, হা/৪১৬; মিশকাত, হা/৭১০)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’ (মুমিন, ৬০)। রাসূল (ছাঃ)  বলেন, ‘দু‘আ হ’ল ইবাদত’ (মুসনাদে আহমাদ’ হা/১৮৩৭৮; আবুদাঊদ’ হা/১৪৭৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮২৮; মিশকাত’ হা/২২৩০,)। অতএব দু‘আ ইবাদত হিসাবে তার পদ্ধতি সুন্নাত মুতাবেক হ’তে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  কোন পদ্ধতিতে দু‘আ করেছেন, আমাদেরকে সে পদ্ধতিতেই দু‘আ করতে হবে। তার রেখে যাওয়া পদ্ধতি ছেড়ে অন্য কোন পদ্ধতিতে দু‘আ করলে তা কবুল হওয়ার বদলে গোনাহ হবে। ফরয ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর পরে ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ইমামের সরবে দু‘আ পাঠ ও মুক্তাদীর সশব্দে ‘আমীন, ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথাটি দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন সৃষ্টি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম হ’তে এর পক্ষে ছহীহ বা যঈফ সনদে কোন দলীল নেই (ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী, মাসিক ‘মুহাদ্দিছ’ (বেনারস জুন’৮২) পৃঃ ১৯-২৯)। তবে বিভিন্ন স্থানে হাত তুলে দু‘আ করার একাধিক ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায়। যেমন- সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময়, যুদ্ধ ক্ষেত্রে, বৃষ্টি প্রার্থনার সময়, একাকী কবর যিয়ারতের সময়, সফরে, কারো কোন ভুল-ত্রুটি দেখে, হজ্জ্বে পাথর নিক্ষেপের সময়, সাফা-মারওয়ায়, কবরের শাস্তির কথা শুনে ইত্যাদি।

প্রশ্ন (১৪) : লাশ দাফনের পর একাকী বা সম্মিলিত হাত তুলে দু‘আ করা যাবে কি?

-শামিম রেজা

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : লাশ দাফনের পর একাকী কিংবা সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু‘আ করা যাবে না। কেননা দাফন শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু‘আ করার কোন প্রমাণ নেই। তবে দাফন চলাকালীন সময়ে প্রত্যেকে দুই বা তিন বার করে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযুবিকা মিন আযা-বিল ক্বাবরি’ পড়তে পারে (তালখীছ, ৬৫)। অতঃপর দাফনের পরে মাইয়েতের ‘তাছবীত’ অর্থাৎ মুনকার নাকীর-এর প্রশ্নের জবাব দানের সময় যেন তিনি দৃঢ় থাকতে পারেন, সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে সকলে পড়বে, ‘আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়া ছাব্বিত-হু’ (আবুদাঊদ, হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩)।

প্রশ্ন (১৫) : কোন মুসলিম মহিলা হিন্দু বা কোন বিধর্মীকে বিবাহ করতে পারে কি?

-আরীফুল ইসলাম

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : কোন মুসলিম মহিলা হিন্দু কিংবা কোন বিধর্মীকে বিবাহ করতে পারে না। তার জন্য বিয়ে করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ব্যভিচারী, ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিকা নারীকে ব্যতীত বিয়ে করে না এবং ব্যভিচারিণীকে ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত কেউ বিয়ে করে না, মুমিনদের জন্য এটা হারাম করা হয়েছে’ (নূর, ৩)। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, ‘মুহাজির মহিলাদের সম্পর্কে যাচাই পরীক্ষার পর তোমরা যদি জানতে পার যে, তারা মুমিন তবে তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিও না। মুমিন নারীগণ কাফেরদের জন্য বৈধ নহে এবং কাফিরগণ মুমিন নারীদের জন্য বৈধ নহে’ (মুমতাহিনা, ১০)। তিনি আরোও বলেন, ‘ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সাথে তোমরা বিবাহ দিও না। মুশরিক পুরষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও মুমিন ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন’ (বাক্বারা, ২২১)। অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া মেয়ে নিজ ইচ্ছায় বিবাহ করতে পারে না। করলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ওয়ালী ব্যতীত কোন বিবাহ নেই’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৭৬১; তিরমিযী, হা/১১০১; আবুদাঊদ, হা/২০৮৬; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১; দারেমী, হা/২১৮৩; মিশকাত, হা/৩১৩০)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)  বলেছেন, ‘অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই যে মহিলা বিয়ে করবে, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল’। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ওয়ালী ছাড়া বিয়ে হবে না একথার উপর ছাহাবীগণের আমল রয়েছে (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৫১; তিরমিযী, হা/১১০২; আবুদাঊদ, হা/২০৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; দারেমী, হা/২১৮৪; মিশকাত, হা/৩১৩২)।

প্রশ্ন (১৬) : মুমিনগণ জান্নাতে আল্লাহকে দেখতে পারবে কি?

-আহসানুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : মুমিনগণ জান্নাতে আল্লাহকে দেখতে পাবেন। আর আল্লাহর দর্শনই হচ্ছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত। ছুহায়ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘জান্নাতবাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, তোমরা কি আরও কিছু চাও, যা আমি তোমাদেরকে অতিরিক্ত প্রদান করব? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের মুখমগুলিকে উজ্জ্বল করেননি? আপনি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং আপনি কি আমাদেরকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেননি? আপনার এত বড় বড় নে‘মতের পর আর কী অবশিষ্ট আছে, যা আমরা চাইব? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ও জান্নাতীদের মধ্যে হতে হিজাব বা পর্দা তুলে ফেলা হবে, ফলে তারা আল্লাহ তা‘আলার দীদার বা দর্শন লাভ করবে। তখন তারা বুঝতে পারবে বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলার দর্শনলাভ ও তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকা অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এ যাবৎ তাদেরকে প্রদান করা হয়নি’ (মুসলিম, হা/১৮১; মিশকাত, হা/৫৬৫৬)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কুরআনের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন, ‘যারা উত্তম কাজ করেছে তার প্রতিদান উত্তমই এবং তার উপর অতিরিক্ত আরো কিছু’ (ইউনুস, ২৬)।

প্রশ্ন (১৭) : পুরুষের সতরের সীমা কতটুকু? গোসলের সময় পুরুষরা বুক, পিঠ, পেট খোলা রাখতে পারবে কি?

-আহসানুল্লাহ

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : পুরুষের সতর নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। তবে ছালাত আদায়কালীন সময়ে তাদের সতরের সীমা হবে দুই কাঁধ ও নাভী হতে হাটু পর্যন্ত (বুখারী, হা/৩৫৯; মুসলিম, হা/৫১৬; মিশকাত, হা/৭৫৫)। অবশ্য গোসলের সময় পুরুষেরা উল্লেখিত অঙ্গ খোলা রাখতে পারে (বুখারী, হা/২৭৮)। তবে পর্দার আড়ালে গোসল করাই উত্তম। ইয়ালা ইবনু মুররা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খোলা স্থানে এক ব্যক্তিকে গোসল করতে দেখলেন। তিনি এই দৃশ্য দেখে মসজিদের মিম্বারে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারী। তিনি লজ্জা ও পর্দা করাকে ভালবাসেন। অতএব যখন তোমাদের কেউ গোসল করে, তখন সে যেন পর্দা করে’ (আবুদাঊদ, হা/৪০১২; নাসাঈ, হা/৪০৬; মিশকাত, হা/৪৪৭, হাদীছ ছহীহ)। জারহাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) (একদিন মসজিদে নববীতে) আমাদের নিকটে বসলেন। এমতাবস্থায় আমার উরু উন্মুক্ত ছিল। তখন তিনি বললেন, ‘জেনে রাখ যে, নিশ্চয় উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, হা/৪০১৪; তিরমিযী, হা/২৭৯৫)। তবে প্রয়োজনে হাঁটু বা উরু প্রকাশ করেও কাজ করতে পারে (বুখারী, হা/৩৭১)।

প্রশ্ন (১৮) : তারাবীহর ছালাত চলছে এমতাবস্থায় এশার ফরয ছালাতের নিয়ত করে তারাবীহর জামা‘আতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

-আফসানা বিন আজাদ

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : নফল ছালাত আদায়কারীর পিছনে ফরয ছালাত আদায় করা যাবে। এতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর সাথে এশার ছালাত আদায় করে নিজ গোত্রে গিয়ে ঐ একই ছালাতের ইমামতি করতেন এবং ওটা তার জন্য নফল ছালাত হিসাবে গণ্য হ’ত (মুসনাদ শাফেঈ, হা/২৩৯; বায়হাক্বী, হা/১৫৩৭; দারাকুৎনী, হা/১০৮৫; মিশকাত, হা/১১৫১)। অতএব এশার নিয়তে কেউ তারাবীহর জামা‘আতে শামিল হ’লে তার এশার ছালাত আদায় হয়ে যাবে।

প্রশ্ন (১৯) : পেশাব-পায়খানায় বসে কথা বলা যাবে কি?

-আবুল কালাম আজাদ

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : পেশাব-পায়খানায় বসে কথা বলা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) কে পেশাব-পায়খানা অবস্থায় জনৈক ছাহাবী সালাম দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার জওয়াব দেননি (মুসলিম, হা/৩৭০)। অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, পেশাব-পায়খানায় বসে কথা বলা যাবে না।

প্রশ্ন (২০) : ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি উঠানো যাবে কি?

-সৌরভ বিন শামসুল

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : যে কোন প্রাণীর ছবি উঠানো এবং তা সংরক্ষণ করা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। তা ক্যামেরা দ্বারা উঠানো হোক অথবা হাত দ্বারা আঁকানো হোক। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি, ‘প্রত্যেক ছবি অংকনকারী জাহান্নামী’ (মুসলিম, হা/২১১০; মিশকাত, হা/৪৪৯৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি, ‘ক্বিয়ামতের দিন ঐসব ব্যক্তিদের শাস্তি কঠোর করা হবে, যারা ছবি অংকন করে’ (বুখারী, হা/৫৯৫০; মুসলিম, হা/২১০৯; মিশকাত, হা/৪৪৯৭)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ঐ ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করবে না যে ঘরে ছবি থাকে’ (বুখারী, হা/৫১৮১; মুসলিম, হা/২১০৮; মিশকাত, হা/৪৪৯২)। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকারী কোন কাজের জন্য ছবি সংরক্ষণ করা যায়। যেমন, পাসপোর্ট, ভিসা, পরিচয়পত্র ইত্যাদি।

প্রশ্ন (২১) : ‘হজ্জ মানুষের পাপ ধুয়ে দেয় যেভাবে পানি ময়লাকে ধুয়ে দেয়’- এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

-শাহীন আলী

মুন্সীপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/১৫৯৪)। তবে নিম্নের হাদীছগুলো ছহীহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা হজ্জ ও ওমরা কর। হজ্জ-ওমরা মানুষের দরিদ্রতা দূর করে ও পাপ মিটিয়ে দেয়। যেভাবে হাপর সোনা-রূপা ও লোহার মরিচা দূর করে। আর কবুল হজ্জের একমাত্র প্রতিদান হ’ল জান্নাত’ (তিরমিযী, হা/৮১০; নাসাঈ, হা/২৬৩০; মিশকাত, হা/২৫২৪)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হজ্জ করবে এবং এ হজ্জের মধ্যে কোন অশ্লীল কথা ও কর্মে লিপ্ত হবে না, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল’ (বুখারী, হা/১৫২১, মুসলিম, হা/১৩৫০; মিশকাত, হা/২৫০৭)।

প্রশ্ন (২২) : মহিলাদের ইক্বামত দিয়ে ছালাত পড়তে হবে কি?

-সাগর আলী

মুন্সীপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : মহিলাদেরকে ইক্বামত দিয়েই ছালাত আদায় করতে হবে। হাফছা (রাঃ) যখন ছালাত আদায় করতেন তখন ইক্বামত দিতেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৩৩৮)। আয়েশা ম হতে বর্ণিত, নিশ্চয় তিনি আযান দিতেন, ইক্বামত দিতেন এবং মহিলাদের ইমামতি করতেন। এ সময় তিনি কাতারের মাঝে দাঁড়াতেন (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৫১৩৯, সনদ ছহীহ, আলবানী, তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ১৫৩)।

প্রশ্ন (২৩) : নিজের বোনের মেয়ের মেয়েকে বিয়ে করা যাবে কি?

-আহসানুল্লাহ

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : না, নিজের বোনের মেয়ের মেয়েকে বিয়ে করা যাবে না। কারণ সে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত (নিসা, ২৩;  ফিকহুস সুন্নাহ, ৩/৭২)। তাছাড়া বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন, তাদের কন্যা এবং এ ধারাগুলি যত নিম্নের হউক না কেন তাদের বিয়ে করা হারাম (তাফসীরে ফৎহুল ক্বাদীর, ১/৪৪৫ পৃঃ; কুরতুবী, ৫-৬/৭১ পৃঃ; ফৎহুল বারী, ৯/১৯২ পৃঃ)।

প্রশ্ন (২৪) : ইমাম ছাহেব ছালাত পড়াচ্ছেন সেই অবস্থায় সূরা ফাতিহার একেবারে শেষ মুহূর্তে চলে গেছেন, এই অবস্থায় ছালাতে শরীক হলে আমীন বলতে হবে নাকি সূরা ফাতিহা পাঠ করে আমীন বলতে হবে?

-সুজন আলী

মুন্সীপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : মুক্তাদী যে অবস্থাতেই জামা‘আতে শরীক হোক না কেন ইমাম আমীন বললে সেও আমীন বলবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ইমাম যখন আমীন বলবে তখন তোমরাও আমীন বল (বুখারী, হা/৭৮০; মুসলিম, হা/৪১০; মিশকাত, হা/৮২৫)। আলী ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কোন লোক যখন জামা‘আতের ছালাতে শরীক হওয়ার জন্য আসবে তখন ইমাম যে অবস্থায় থাকবে সে সে অবস্থাই গ্রহণ করবে’ (তিরমিযী, হা/৫৯১; আল-জামি‘, হা/২৬১; ত্বাবারানী, ২০/২৬৭ পৃঃ)।

প্রশ্ন (২৫) : আমার নামে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ! এমতাবস্থায় কি ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে খারিজ নেয়া যাবে?

-মাহফুজ

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : মিথ্যা মামলায় দন্ডিত ব্যক্তিরা মামলা খারিজের উদ্দেশ্যে ঘুষ দিলে তা ঘুষ বলে গণ্য হবে না। বরং তা হবে জালিমের জুলুম হতে বাঁচার পথমাত্র। এক্ষেত্রে ঘুষ দাতা পাপী হবে না। কেননা নিরূপায় হয়ে এমন পথ অবলম্বন করা যায় (বাক্বারা, ১৭৩)।

প্রশ্ন (২৬) : অমুসলিমদের দিয়ে মসজিদের কোন কাজ করিয়ে নেয়া যাবে কি? যদি যায় তাহলে সূরা তওবার ২৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা কী হবে?

-আব্দুল ওয়াদুদ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : প্রয়োজনে অমুসলিমদেরকে দিয়ে মসজিদের কাজ করিয়ে নেয়া যায়। কেননা মুসলিমরা অদ্যাবধি যে কা‘বায় ছালাত আদায় করছে তা অমুসলিমরা নির্মাণ করেছিল (বুখারী, হা/১৫৮২, ৩৮২৯; মুসলিম, হা/৩৪০)। সূরা তওবায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র সুতরাং এই বৎসরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে’ (তওবা, ২৮)। অত্র আয়াতে অপবিত্র বলতে অমুসলিমরা আল্লাহর সাথে শিরক করার কারণে সত্ত্বাগতভাবে অপবিত্র। তাই বলে তারা শারীরিকভাবে অপবিত্র এমনটা নয়। তাদের সাথে উঠা-বসা, লেন-দেন সবই জায়েয। এমন কি তারা যদি অনুমতি নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে তাতেও কোন বাধা নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ) মসজিদে অবস্থানকালীন তাঁর নিকট ওয়াফদে নাজরান, ওয়াফদে ছাক্বীফ ইত্যাদি বিধর্মী প্রতিনিধি দল ও ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছে, এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন সুমামা ইবনু উছালকে মসজিদের খুটিতে বেঁধে রাখা হয়েছিল (বুখারী, হা/৪৬২; মুসলিম, হা/১৭৬৪; মিশকাত, হা/৩৯৬৪)।

প্রশ্ন (২৭) : পেশাব-পায়খানার পরে ঢিলা-কুলুপ বা টিস্যু ব্যবহার করা যাবে কি?

-আব্দুল ওয়াদুদ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : পেশাব-পায়খানার পর পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করবে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) পায়খানা যেতেন আমি এবং অন্য এক (গোলাম) বালক পানির পাত্র ও বর্শাধারী একটি লাঠি নিয়ে যেতাম। সে পানি দিয়ে রাসূল (ছাঃ) শৌচকার্য সমাধান করতেন (বুখারী, হা/১৬১; মুসলিম, হা/২৩৭; মিশকাত, হা/৩৪১-৩৪২)। তবে পানি না পাওয়া গেলে ঢিলা-কুলুপ বা টিস্যু পেপার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ পায়খানায় যায়, তখন সে যেন তিনটা ঢিলা নিয়ে যায়, যেগুলো দ্বারা সে পবিত্রতা লাভ করবে। আর এটা তার পক্ষে যথেষ্ট হবে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫০৫৬; আবুদাঊদ, হা/৪০; নাসাঈ, হা/৪৪; দারেমী, হা/৬৭০; মিশকাত, হা/৩৪৯)।

প্রশ্ন (২৮) : সালাম ফিরানোর পরে মনে হল ছালাতে কম-বেশী হয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

রুহুল মিঞা

চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : সালাম ফিরানোর পর মনের মধ্যে যে সংখ্যার উপর তার দৃঢ়তা সৃষ্টি হয় তার ওপর নির্ভর করবে। যদি ছালাত কম হয় তাহলে ছালাত পূর্ণ করবে ও শেষে সালাম ফিরানোর আগে দু’টি সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবে (মুসলিম, হা/৫৭১; মিশকাত, হা/১০১৫)। আর যদি ছালাত বেশী হয়েছে বলে সন্দেহ হয় তাহলে বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবে (বুখারী, হা/১২৩২; মুসলিম, হা/৩৮৯; মিশকাত, হা/১০১৪)।

প্রশ্ন (২৯) : কুরআন হাত থেকে পড়ে গেলে তার কাফফারা কি?

-মারুফ

চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : কুরআন আল্লাহর কালাম। এর যথাযথ সম্মান করতে হবে। কেউ যদি কুরআন বা ইসলামের অন্য কোন বিষয় নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে সেজন্য অনুতপ্ত হতে হবে এবং এভাবে যেন না পড়ে তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থ (বুরূজ, ২২)। তবে তার কাফফারা হিসাবে কুরআনের ওযনে চাল দিতে হবে এ কথা সঠিক নয়।

প্রশ্ন (৩০) : ছালাত অবস্থায় মাথার টুপি পড়ে গেলে তা উঠিয়ে নেওয়া যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছালাত অবস্থায় টুপি পড়ে গেলে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা টুপি ছালাতের আবশ্যিক পোষাক নয়। তবে তা তুলে নেওয়াতেও দোষ নেই। কেননা ছালাত অবস্থায় খুশূ-খুযূ বিনষ্ট না করে ছোটখাট কাজ করা যায়। আবু ক্বাতাদা (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ) কে দেখেছি, তিনি ছালাতে ইমামতি করছিলেন, আর আবুল আছ (ছাঃ) এর মেয়ে উমামা তাঁর কাঁধে ছিল। তিনি যখন রুকূ‘ করতেন তখন বাচ্চাটি রেখে দিতেন, আর যখন সিজদা থেকে উঠতেন তখন পুনরায় কাঁধে করে নিতেন (বুখারী, হা/৫৫৩৭; মুসলিম, হা/৮৪৫; মিশকাত, হা/৯৮৪)।

প্রশ্ন (৩১) : জামা‘আতে শামিল হওয়ার জন্য দ্রুত পায়ে হেঁটে যাওয়ার বিধান কী?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : জামা‘আতে শামিল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে যাওয়া যাবে না। বরং স্বাভাবিক গতিতে গিয়ে জামা‘আতে শরীক হতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হবে তখন তোমরা তাড়াহুড়া করে ছালাতে এসো না। বরং তোমরা হেঁটে শান্তভাবে আসো। অতঃপর ছালাতের যে অংশটুকু পাও তা আদায় করো এবং যে অংশটুকু ছুটে যায় তা পূর্ণ করো’ (বুখারী, হা/৯০৮; মুসলিম, হা/৬০২; মিশকাত, হা/৬৮৬)।

প্রশ্ন (৩২) : শিশুরা শিরক করলে তার পাপ লিপিবদ্ধ করা হয় কি?

-আবুল হাশেম

কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : না, শিশুরা শিরক করলে তার পাপ লিপিবদ্ধ করা হয় না। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয় (২) শিশু যতক্ষণ না বালেগ হয় (৩) পাগল যতক্ষণ না বুদ্ধি ফিরে পায় হয় (আবুদাঊদ, হা/৪৩৯৮; তিরমিযী, হা/১৪২৩; ইবনু মাজাহ, হা/২০৪১; মিশকাত, হা/৩২৮৭)।

প্রশ্ন (৩৩) : হজ্জ করলে কাবীরা গোনাহ মাফ হবে কি?

-আবুল বাশার

তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : শুধু হজ্জ করলেই কাবীরা গোনাহ মাফ হবে না। বরং কাবীরা গোনাহ মাফের জন্য বিশেষভাবে তওবা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরক ব্যতীত অন্যান্য গোনাহ যাকে ইচ্ছা মাফ করে দিতে পারেন’ (নিসা ৪৮)। তিনি আরও বলেন, ‘হে নবী (ছাঃ) আপনি তাদের বলে দিন, যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার ৫৩)। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ মার্জনা করেন’ (শূরা ২৫)। উল্লেখ্য যে, কবীরা গোনাহ বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট হলে আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না ব্যক্তির নিকট থেকে ক্ষমা নেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের উপর তার সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে অত্যাচার করেছে, তবে সে যেন তার নিকট হতে তা মাফ করে নেয় ঐ দিনের পূর্বেই, যেদিন তার নিকট দিরহাম কিংবা দীনার কিছুই থাকবে না। আর যদি তার নিকট নেক আমল থাকে, তবে তার অত্যাচার পরিমাণ নেকী নেওয়া হবে, আর যদি তার কাছে নেকী না থাকে, তবে অত্যাচারিত ব্যক্তির গোনাহ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে’ (বুখারী, হা/২৪৪৯; মিশকাত হা/৫১২৬)।

প্রশ্ন (৩৪) : ‘মানুষের জন্ম যেদিন মৃত্যুও সেদিন’ এমন কথার শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

-আবুল বাশার

তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : না, এমন কথার শারঈ কোনো ভিত্তি নাই। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। তবে আদম (আঃ) কে মহান আল্লাহ শুক্রবারে সৃষ্টি করেছিলেন এবং সেদিনই তাকে মৃত্যুদান করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিনে তাকে যমীনে অবতরণ করিয়েছেন। এ দিনে তাকে মৃত্যুদান করেছেন (ইবনু মাজাহ, হা/১০৮৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৫১০; মিশকাত, হা/১৩৬৩)।

প্রশ্ন (৩৫) : কেউ শুক্রবারে মারা গেলে তার ক্ববরের শাস্তি ও হিসাব নেওয়া হবে কি?

-সাজ্জাদ হোসাইন

মাসিমপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি হলো, ‘কোনো মুসলমান যদি জুম‘আর দিনে বা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করেন’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৫৮২; তিরমিযী, হা/১০৭৪; মিশকাত, হা/১৩৬৭; ছহীহুল জামে‘, হা/৫৭৭৩)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এ দিনের বরকতে মুমিন ব্যক্তিদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে কবরের ফিৎনা বা আযাব থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ (মির‘আতুল মাফাতীহ, ৪/৪৪০ পৃঃ)। উক্ত হাদীছটির সনদের ব্যাপারে বিতর্ক থাকলেও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে ‘হাসান’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্ন (৩৬) : মেয়েরা প্লাজু পরিধান করতে পারে কি?

যুথিঁ আক্তার

ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : প্লাজু দ্বারা যদি মেয়েদের পায়ের নীচ পর্যন্ত ঢেকে থাকে তাহলে তারা তা পরিধান করতে পারে। অন্যথা তা পরিধান করতে পারবে না। কেননা মেয়েদের সতর হল, মাথা হতে পায়ের নীচ পর্যন্ত যা ঢেকে রাখা ফরয বা একান্ত যরূরী। এ ছাড়াও মেয়েদের এমন কোনো পোশাক পরিধান করা যাবে না যার মাধ্যমে তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে’ (নূর, ৩১)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা বাড়ীতে অবস্থান করো। জাহেলী যুগের নারীদের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না’ (আহযাব, ৩৩)।

প্রশ্ন (৩৭) : ফরয গোসল না করে মোবাইলে কুরআন পড়া যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : যে সকল অবস্থায় শরী‘আতের দৃষ্টিকোণ থেকে গোসল করা ওয়াজিব, তাকে জুনুবী অবস্থা বলে। যেমন : স্বপ্নদোষ, স্ত্রী মিলন, ঋতু, বাচ্চা প্রসব পরবর্তী অবস্থা ইত্যাদি। জুনুবী অবস্থায় মানুষ শারীরিকভাবে নাপাক বা অপবিত্র হয়ে যায় না। বরং শারঈ বিধান মতে তার উপর গোসল ফরয হয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মদীনার কোনো এক রাস্তায় আমার সাথে রাসূল (ছাঃ) সাক্ষাৎ করলেন, তখন আমি জুনুবী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন। আমি তার সাথে চলতে লাগলাম। এক জায়গায় তিনি বসে পড়লেন। তখন আমি সন্তর্পনে সরে পড়লাম। বাড়ী এসে গোসল করে তার কাছে আসলাম। তখন পর্যন্ত তিনি বসেই ছিলেন। তিনি বললেন, আবু র্হির (আবু হুরায়রা (রাঃ) এর উপাধি) তুমি কোথায় ছিলে? আমি তাকে ঘটনা বললাম। তখন তিনি বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! হে আবু র্হির! মুমিন কখনো অপবিত্র হয় না’ (বুখারী, হা/২৮৫; মিশকাত, হা/৪৫১)। অন্য বর্ণনায় আছে, আমি বললাম, আমি অপবিত্র অবস্থায় ছিলাম  তাই আপনার সাথে বসতে অপসন্দ করেছিলাম। তখন তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন কখনো অপবিত্র হয় না (বুখারী, হা/২৮৩; মুসলিম, হা/৩৭১; মিশকাত, হা/৪৫১)। তাই এ সকল অবস্থায় প্রয়োজনে স্পর্শ না করে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে। চাই তা মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার বা যে কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস থেকে হোক না কেন। তবে সময়-সুযোগ থাকলে গোসল করে পড়াই উত্তম।

প্রশ্ন (৩৮) : দু‘আ হিসাবে কুরআনের কিছু অংশ রুকূ ও সিজদায় পড়া যাবে কি?

-মাসঊদ

পাহাড়ভাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : দু‘আ হিসাবে কুরআনের কোনো আয়াত বা আয়াতাংশ রুকূ-সিজদায় পাঠ করা নিষেধ। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘শুনে রাখো! রুকূ ও সিজদা অবস্থায় আমাকে কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে’ (মুসলিম, হা/৪৭৯; মিশকাত, হা/৮৭৩)। তবে

رَبَّنَا آتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِى الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আয়াতটির পূর্বে اَللّٰهُمَّ  শব্দটি বসিয়ে পড়লে তা হাদীছে বর্ণিত দু‘আ হিসাবে গণ্য হবে (বুখারী, হা/৪৫২২)।

প্রশ্ন : (৩৯) কোন কোন পুরুষ থেকে মহিলাদের পর্দা করার প্রয়োজন নেই?

-দুলালুদ্দীন

সাধনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : একজন নারীর নিজ স্বামী ব্যতীত যে সকল পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম, তাদের সাথে তার পূর্ণ পর্দা করার প্রয়োজন নেই। তারা হল, পিতা, চাচা, মামা, দাদা, নানা, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, নাতি (ছেলের ছেলে), নাতি (মেয়ের ছেলে), শ^শুর, যৌন কামনাহীন পুরুষ এবং নারীর গোপনাঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ শিশু (নূর, ৩২)। এখানে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের দ্বারা শুধু নিজ রক্ত সম্পর্কের ব্যক্তিগণ উদ্দেশ্য। চাচাতো সম্পর্কের কেউ হারাম নয়। তাই আপন মামা মাহরাম হলেও চাচাতো মামা মাহরাম নয়। আপন দাদা মাহরাম হলেও চাচাতো দাদা মাহরাম নয়। সৎ পিতা মাহরামের মধ্যে গণ্য। বিধায় তার সাথে পর্দা করা লাগবে না (নিসা, ২৩)। বৈমাত্রেয় (মা ভিন্ন) ভাই এবং বৈপিত্রেয় (পিতা ভিন্ন) ভাইও মাহরামের মধ্যে গণ্য। কিন্তু পিতা-মাতা উভয়ই ভিন্ন হলে সেই ভাই মাহরাম নয়। এ ছাড়া বংশীয়সূত্রে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধ পানের সূত্রে তারা হারাম বলে গণ্য হবে (বুখারী, হা/২৬৪৫; মুসলিম, হা/১৪৪৫)। তাই তাদের সাথে পূর্ণ পর্দা করা লাগবে না। তারা হলো, দুধ পিতা, দুধ চাচা, দুধ মামা, দুধ দাদা, দুধ নানা, দুধ ভাই, দুধ ভাতিজা, দুধ ভাগিনা, দুধ নাতি (ছেলের ছেলে), দুধ নাতি (মেয়ের ছেলে)।

প্রশ্ন (৪০) : অনেক বুঝানোর পরেও আমার স্বামী ছালাত আদায় করে না। শুনেছি, স্বামী-স্ত্রীর একজন যদি ছালাত আদায় করে, অন্যজন না করে, তাহলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় এখন কি তার সাথে ঘর-সংসার করলে পাপ হবে?

-দুলালুদ্দীন

সাধনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : কেউ যদি ছালাতের ফারযিয়্যাতকে অস্বীকার করে তা পরিত্যাগ করে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি অলসতাবশত ছালাত আদায় না করে, তাহলে তার ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমাদের মাঝে এবং কাফিরদের মাঝে পার্থক্য হলো ছালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি ছালাত ছেড়ে দিল, সে ব্যক্তি কুফুরী করল’ (তিরমিযী, হা/২৬২১)। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মাঝে পার্থক্য হলো ছালাত’ (মুসলিম, হা/৮২)। তাই অভিভাবকের কর্তব্য হলো, বিয়ের পূর্বে পাত্র বা পাত্রী ছালাত আদায় করে কি-না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে দেওয়া। যেন কোনো ছালাত আদায়কারীর সাথে ছালাত পরিত্যাগকারীর বিয়ে না হয়। কিন্তু যদি এমনটা ঘটে গিয়ে থাকে, তাহলে সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে অপরজনকে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি তাতে কাজ না হয়, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীর সংসার ত্যাগ করাই উচিত।

প্রশ্ন (৪১) : জনৈক ব্যক্তি সামাজিক কাজ করতে গিয়ে কিছু টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে। বর্তমানে সে তার ঐ অপরাধের জন্য খুবই অনুতপ্ত। এখন তার করণীয় কী?

-মহিদুল ইসলাম

চারঘাট, বগুড়া।

উত্তর : এমন ব্যক্তি আত্মসাৎ করা টাকা-পয়সা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিকটে ফিরিয়ে দিবে। কেননা, তা জনগণের হক্ব। আর বিষেশভাবে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করার পরিণাম জাহান্নাম (বুখারী, হা/২৮৮৬; তিরমিযী, হা/২৫৪৮)।

প্রশ্ন (৪২) : জনৈক বক্তা বলেছেন যে, ‘হুজুরের সুপারিশে তার পরিবারের দশজনকে আল্লাহ জান্নাতে দিবেন’। কথাটির ভিত্তি আছে কি?

-রাজু, রংপুর।

উত্তর : হাদীছটি অত্যন্ত যঈফ। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, উক্ত হাদীছের সনদে হাফছ ইবনু সুলায়মান নামক একজন দুর্বল রাবী আছে (যঈফ তিরমিযী, হা/২৯০৫; ‘ফাযায়েলুল কুরআন’ অধ্যায়; মিশকাত, হা/২১৪১)। হাদীছটি হলো, আলী ইবনু আবু তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত করবে এবং তার হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম জ্ঞান করে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সেই সাথে তার পরিবারের এমন দশজন লোকের সুফারিশ কবুল করা হবে যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত’ (তিরমিযী, হা/২৯০৫; ইবনু মাজাহ, হা/২১৬; মিশকাত, হা/২১৪১)।

প্রশ্ন (৪৩) : স্বামী তার ভাইয়ের পরিবারের প্রতি কিছু আর্থিক ও আনুসঙ্গিক সহযোগিতা করেন। এতে স্ত্রীর আপত্তি থাকলে তিনি কি সে সহযোগিতা করতে পারেন?

-সাবিকুন নাহার

ফুলবাড়িয়া, দিনাজপুর।

উত্তর : স্বামীর উপার্জিত সম্পদের মালিকানা স্বামীরই। সে যেখানে ইচ্ছা, যতটুকু ইচ্ছা ব্যয় করতে পারে। স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব। মহান আল্লাহ বলেন, ‘স্বামীর দায়িত্ব হলো তাদের (স্ত্রীদের) ন্যায়সঙ্গতভাবে খাদ্য ও পরিধেয় বস্ত্র প্রদান করা’ (বাক্বারাহ, ২৩৩)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা যেমন গৃহে বাস করো, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরও তোমরা সেরূপ গৃহে বাস করাবে’ (ত্বালাক, ৬)। এ সকল চাহিদা পূরণ করার পর স্বামী যদি তার উপার্জিত সম্পদ সৎ পথে ন্যায়সঙ্গতভাবে খরচ করে তাহলে তাতে স্ত্রীর আপত্তি করার কোনো অধিকার নেই। বরং স্বামী অভাবীদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ালে স্ত্রীর উচিত স্বামীকে সমর্থন করা (মায়েদাহ, ২)। আর নিকটাত্মীয়দের দান সবচেয়ে উত্তম দান। রাসূল (ছাঃ)  আবু তালহা (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বলেন, আমি ভালো মনে করি, তুমি বাগানটি তোমার আত্মীয়দের মাঝে দান করে দাও। আবু তালহা (রাঃ) তখন সেটি তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মাঝে বণ্টন করে দেন’ (বুখারী, হা/১৪৬১; মুসলিম, হা/৯৯৮)।

প্রশ্ন (৪৪) : বিভিন্ন পরীক্ষায় মেয়েদের মুখমন্ডল ও কান খোলা রাখতে হয়। এটা করা যাবে কি?

-সাবিকুন নাহার

ফুলবাড়িয়া, দিনাজপুর।

উত্তর : প্রয়োজনে মেয়েরা মুখ খুলতে পারে (আবুদাঊদ, হা/৪১০৪; নূর, ৩১)। তবে তা ঢেকে রাখা ভালো। উল্লেখ্য যে, যদি নিরাপত্তা কিংবা দুর্নীতি প্রতিরোধের স্বার্থে মেয়েদের মুখমন্ডল ও কান দেখে আসল পরীক্ষার্থী, আবেদনকারী, অপরাধী কিংবা চলাচলকারী যাত্রীকে শনাক্ত করার প্রয়োজন হয় অথবা পরীক্ষা চলাকালীন পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে দায়িত্বশীলদের কর্তব্য হলো, সেই সকল স্থানে মহিলা দায়িত্বশীল বা কর্মী নিযুক্ত করা। যেন পর পুরুষের সামনে কোনো মহিলার মুখ খোলার প্রয়োজন না হয়। পরীক্ষার হলে মুখমন্ডল ও কান খোলা না রাখলে যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়, তাহলে সাধ্যমত দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করে মহিলা পরিদর্শকের মাধ্যমে শনাক্ত করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। যদি তাতে ফল না হয়, তাহলে সে পরিস্থিতিতে মুখমন্ডল ও কান খুলতে পারে, যদি উক্ত পরীক্ষার দ্বারা অর্জিত পেশার মাধ্যমে মুসলিম নারীদের কল্যাণ করা যায়। যেমন চিকিৎসা পেশা। কিন্তু উক্ত পেশাটি যদি নারীদের আবশ্যকীয় কোনো প্রয়োজনে না লাগে, তাহলে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্ন (৪৫) : প্রতি রাতে সূরা মুল্ক তেলাওয়াত করা যাবে কি? কমপক্ষে কতটি আয়াত পড়তে হবে এবং তার ফযীলত কী?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সূরা মুল্ক প্রতি রাতেই পড়া উচিত। জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) আলিফ-লাম-মীম তানযীল (সূরা সাজদাহ) ও তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুল্ক (সূরা মুল্ক) না পড়ে ঘুমাতেন না। এর ফযীলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, কুরআনের একটি সূরা আছে, যার আয়াত সংখ্যা ত্রিশটি। সূরাটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সূরাটি হলো, ‘তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুল্ক’ (আবুদাঊদ, হা/১৪০০; মিশকাত, হা/২১৫৩)। উক্ত ফযীলত পাওয়ার জন্য ত্রিশটি আয়াতই পড়তে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) পুরো সূরাই পড়তেন, উক্ত হাদীছদ্বয় থেকে সেটাই প্রমাণিত হয়।

প্রশ্ন (৪৬) :  বিড়ালে স্পর্শ করা পানি দিয়ে কি ওযূ করা যাবে?

-রিহাদ

কমলাপুর, ঢাকা।

উত্তর : বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পবিত্র। তাই রুচি হলে তা খাওয়া-পান করা যায় এবং ওযূ করাও যায়। কাবশা বিনতে কা‘ব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) (তার স্বামী) আসলে আমি তাকে ওযূর পানি এগিয়ে দিলাম। একটি বিড়াল এসে সেই পানি পান করতে লাগল। তখন তিনি পাত্রটি তার দিকে কাত করে ধরলেন, যেন ভালভাবে পান করতে পারে। কাবশা বলেন, তিনি আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখে বললেন, তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন বললেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, বিড়াল নাপাক নয়। সে তোমাদের মাঝে ঘোরাফেরা করা একটি প্রাণী’ (আবুদাঊদ, হা/৭৫, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (৪৭) :  ছালাত অবস্থায় মেয়েরা কি তাদের পায়ের পাতা ঢেকে রাখবে?

-আব্দুর রহমান

গেদিপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : একাকী বা পর্দার মধ্যে মহিলা পরিবেশে পায়ের পাতা ঢেকে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে যদি এমন কোনো স্থানে হয় যেখানে পরপুরুষের সমাগম রয়েছে তাহলে যথাসাধ্য ঢেকে রাখবে। আর এটাই হবে তাক্বওয়ার পরিচয়ক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় করো’ (তাগাবুন, ১৬)। কেননা দু’হাতের তালু ও চেহারা ব্যতীত মহিলাদের সর্বাঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত (আবুদাঊদ, হা/৩৫৮০; মিশকাত, হা/৪৩৭২)।

প্রশ্ন (৪৮) : স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর শরী‘আত অনুযায়ী সন্তানের অধিকারী কে হবেন?

-মিলন

 রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সন্তানের অধিকারী মূলত পিতা। তবে শৈশবে তার লালন-পালনের অধিকারী হলেন মা। কিন্তু মা অন্যত্র বিবাহ করলে তার সন্তান লালন-পালনের সে অধিকার আর থাকে না। তখন সন্তান পিতার পূর্ণ দায়িত্বে থাকবে। আমর ইবনুল আছ (রাঃ) বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার ছেলে। আমার পেট ছিল তার পাত্র, আমার স্তন ছিল তার মশক এবং আমার কোল ছিল তার দোলনা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে। সে এখন আমার ছেলে নিয়ে টানাটানি করছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘যতক্ষণ তুমি অন্যত্র বিবাহ না করবে, ততক্ষণ তুমিই তার অধিক হক্বদার’ (আবুদাঊদ, হা/১৯৩৮; মিশকাত, হা/৩৩৭৮)। তবে জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর সন্তান যার নিকটে ইচ্ছা থাকতে পারে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমার স্বামী আমার ছেলে নিয়ে যেতে চায়। অথচ ছেলে আমার উপকার করে। সে আমাকে কূয়া থেকে পানি এনে দেয়। এ সময় তার পিতা এলে নবী করীম (ছাঃ) ছেলেকে বললেন, ইনি তোমার পিতা আর ইনি তোমার মাতা। যাকে ইচ্ছা তুমি তার হাত ধরো। ছেলে তার মায়ের হাত ধরল। অতঃপর মা তাকে নিয়ে চলে গেল’ (আবুদাঊদ, হা/১৯৩৯; নাসাঈ, হা/৩৪৩৯; মিশকাত, হা/৩৩৮০, সনদ ছহীহ)। উল্লেখিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, সন্তানের ভাল-মন্দ বুঝার জ্ঞান হওয়ার পর যদি পিতা-মাতা সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেন, তাহলে সন্তানকে এখতিয়ার দেওয়াই শরী‘আতসম্মত’ (নায়লুল আওত্বার, ৮/১৬০ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, মা যদি কাফির হয়ে যায়, তাহলে মুসলিম সন্তানের উপরে তার কোনো হক্ব থাকবে না। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ কাফিরদের জন্য মুমিনদের উপরে কোনো অধিকার রাখেননি’ (নিসা, ১৪১)।

প্রশ্ন (৪৯) :  পবিত্র কুরআনের কোন কোন সূরা বা আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁক দিলে তা খাওয়া বা ব্যবহার করা যাবে?

-আব্দুল আলীম

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : আল্লাহ তা‘আলা সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদকে মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও আরোগ্য হিসাবে নাযিল করেছেন। তিনি বলেন, قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ ‘বলো, এ কুরআন মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও আরোগ্য’ (হা-মীম সাজদা, ৪৪)। তিনি আরও বলেন,وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلاَ يَزِيْدُ الظَّالِمِيْنَ إِلاَّ خَسَارًا ‘আমি কুরআন হতে (ক্রমশঃ) অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে (বানী ইসরাঈল, ৮২)। অতএব কুরআন হলো সকল মানসিক ও শারিরীক রোগ-ব্যাধি হতে আরোগ্যদানকারী। সুতরাং কুরআনের যেকোনো আয়াত বা সূরা পাঠ করে ঝাড়-ফুঁক করা ও পানিতে ফুঁক দিয়ে পান করা যায়। এ ছাড়াও হাদীছে বর্ণিত দু‘আ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা যায়। তবে ঝাড়-ফুঁক ও আসুখ-বিসুখের জন্য রাসূল (ছাঃ) সূরা নাস, ফালাক্ব দ্বারা ফুঁক দিতেন (বুখারী, হা/৫৭৩৫)।

প্রশ্ন (৫০) : ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়লে পাপ হবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ফাঁসি বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আত্মহত্যা করলে তার জানাযা পড়া যাবে। তবে মসজিদের ইমাম বা কোনো পরহেযগার বড় আলেম তার জানাযায় শরীক হবেন না। অন্যেরা ছালাত পড়াবেন। কারণ আত্মহত্যাকারীর জানাযা রাসূল (ছাঃ) পড়েননি (মুসলিম, হা/১৬২৪; নাসাঈ, হা/১৯৩৮)। আর এটি ছিল তাঁর পক্ষ হতে অন্যকে আদব শিখানোর জন্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৫১৫)।