সফলতার সূত্র

-আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক
এম. এ. (অধ্যয়নরত), উলূমুল হাদীছ বিভাগ,
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সালাফে ছালেহীনের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা ফজর পর ঘুমাতেন না। যদি সমগ্র রাতে ক্লান্তিকর কোনো সফর বা কাজ করে থাকেন, তবুও ফজর পর ঘুমাতেন না। বরং সূর্য উঠার অপেক্ষা করতেন। সূর্য উঠার পর বিশ্রামের জন্য ঘুমাতে যেতেন।  আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন,

مَنْ صَلَّى الغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ..

‘যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করবে, অতঃপর বসে থেকে মহান আল্লাহর যিকির করতে থাকবে সূর্য উঠা পর্যন্ত, সে একটি হজ্জ ও ওমরাহ করার সমান নেকী পাবে’।[2]  স্বয়ং রাসূল (ছা.) ও এই হাদীছের প্রতি আমল করতেন। তিনি নিজেও ফজর ছালাত পরে সূর্য উঠা পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণে মশগূল থাকতেন।[3]  ঘুমানো বা দুনিয়াবী কোনো কথা-কাজ থাকলে তা সূর্য উঠার পর শুরু  করতেন।

৪. রাতের ছালাত :

রাতের ছালাত এমন একটি সিক্রেট চাবি, যা মানুষকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা সে কোনো দিন কল্পনাও করেনি। মানুষ যদি নিজের আশা-ইচ্ছা ও চাওয়া-পাওয়া মহান আল্লাহর নিকট থেকে পূরণ করিয়ে নিতে চায়, তাহলে তার সবচেয়ে সহজ উপায় রাতের ছালাত। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছা.)  আজ যে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছেন, তারও মূল কারণ হচ্ছে রাতের ছালাত। তিনি যে শেষ নবী (ছা.)-এর গুরু দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছেন, মহান আল্লাহর অমীয় বাণী কুরআনের মতো বোঝা বহন করতে পেরেছেন, তারও মূল কারণ রাতের ছালাত। যেমন মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ – قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا – نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا – أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا – إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا – إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا

‘হে চাদর জড়িয়ে ঘুমন্ত ব্যক্তি! অল্প হলেও রাতে জাগো! অর্ধেক রাত অথবা তার চেয়ে কম হলেও জাগো! অথবা তার চেয়ে বেশি জাগো এবং কুরআন তিলাওয়াত করো তারতীল সহকারে! নিশ্চয় আমি তোমার উপর ভারী কিছু অবতীর্ণ করব! নিশ্চয় রাতে উঠা প্রবৃত্তি দমনে অধিক সহায়ক এবং বাকপটুতায় অধিক স্পষ্টকারী’ (মুযাম্মিল, ১-৬)। এই আয়াতে কারীমায় মহান আল্লাহ ভারী কিছু অবতীর্ণ করার প্রস্তুতিস্বরূপ নবী মুহাম্মাদ (ছা.)-কে রাত জেগে ছালাত আদায় করতে বলেছেন। কেননা পবিত্র কুরআনের মতো মহান বাণীর ভার বহন এবং শেষ নবীর গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যরূরী। আর রাতে জাগরিত হওয়া নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক। কেননা রাতে ঘুম থেকে ছালাত আদায় করতে উঠলে নিজের মনের বিরুদ্ধে চরম লড়াই করেই উঠতে হয়।

মহান আল্লাহ আরও বলেন,

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

‘আর অতিরিক্ত দায়িত্বস্বরূপ রাতে তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করো! আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন’ (ইসরা, ৭৯)। মাক্বামে মাহমূদ কিয়ামতের মাঠের সর্বোচ্চ মর্যাদার জায়গা, যা মহান আল্লাহ একমাত্র মুহাম্মাদ (ছা.)-কে দান করবেন। এইরূপ সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছার জন্যই মহান আল্লাহ তাকে রাতে উঠে ছালাত আদায় করতে বলেছেন। সুতরাং রাতে উঠে ছালাত আদায় করা সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছার অন্যতম মাধ্যম।

৫. ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন :

ব্যক্তিত্ব এমন মযবূত হওয়া, যাতে মানুষ তাকে ব্যবহার না করতে পারে। বরং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। যে যেদিকে ডাকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সবার ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিকে চলে যাওয়া চরম ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয়। প্রত্যেক বিষয়ে আপনার নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। মানুষের পরামর্শ নেওয়া ভালো, কিন্তু মানুষ দ্বারা চালিত হওয়া উচিত নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষকে না বলতে পারতে হবে। না বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক কাজে ও কথায় ‘হ্যাঁ’ বলা এবং পরবর্তীতে সেটা নিপুণতার সাথে করতে না পারা মানুষের ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে দেয়। সুতরাং নিজের জিহ্বার দাম রাখতে হবে।

উন্নত ব্যক্তিত্ব ছাড়া জীবনে সফল হওয়া অসম্ভব। ব্যক্তিত্ব হতে হবে প্রভাব বিস্তারকারী। যেই আপনার সংস্পর্শে আসুক না কেন, সে আপনার দ্বারা প্রভাবিত হবে। ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে কথাবার্তায় ও আচার-ব্যবহারে। আর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব জ্ঞানের ব্যক্তিত্ব। যারা  স্রোতের গতিতে গা ভাসিয়ে দেয়, যুগের তালে তাল মিলিয়ে নাচে, তারা ব্যক্তিত্বহীন।  স্রোকের বিপরীতে নিজের নীতি-নৈতিকতার উপর যারা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়, তারাই ব্যক্তিত্ববান। 

৬. ছবর :

ছবর শব্দের শাব্দিক অর্থ ধরে রাখা, বন্দি করে রাখা। যখন কোনো মুরগীকে খাচায় বন্দী করে রাখা হয়, তখন তার জন্য আরবীতে ছবর শব্দ ব্যবহৃত হয়। জীবনে সফল হতে ছবরের বিকল্প নেই। যে কয়জন নবীকে মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ পাঁচ জন নবী বলে গণ্য করেছেন, সেই পাঁচ জনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছবর। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوا الْعَزْمِ مِنْ الرُّسُلِ ‘তুমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নবীগণের মতো ধৈর্য ধারণ করো’ (আহকাফ, ৩৫)।

ছবর মূলত তিন প্রকার। যথা:

(ক) ভালো কাজে ছবর করা :

মনে করুন, কেউ প্রতিদিন সকালে কুরআনে তিলাওয়াত করতে চায়, কিন্তু দুই-একদিন তিলাওয়াত করার পর আর পারে না। কেউ হয়তো রাতে উঠে তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করতে চায়, কিন্তু দুই-একদিন আদায় করার পর আর পারে না; ছেড়ে দেয়। অধিকাংশ মানুষ এই সমস্যার অভিযোগ করে থাকেন। এই সমস্যার প্রকৃত কারণ মূলত তাদের ছবর নেই। নিজের মনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোনো কাজের উপর তারা টিকে থাকতে পারে না। নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। জীবনে সফল হতে হলে সবচেয়ে যরূরী জিনিস হচ্ছে এই প্রথম প্রকার ছবরের।

কোনো ভালো কাজ শুরু করলে সেটাকে ধরে রাখতে হবে, যত কষ্টই হোক, যত বাধাই আসুক। দৌঁড় প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, কতক্ষণ দৌঁড়ের উপর থাকা যাচ্ছে, কতক্ষণ যাবৎ দৌঁড়াতেই থাকতে পারা যাচ্ছে, এই দৌঁড়াতে থাকতে পারাটাই মূল। এই ধরে রাখতে পারাটাই প্রকৃত সফলতা। নিজের মধ্যে এই ছবরের চর্চা নিয়ে আসার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একদম ছোট থেকে অতি ছোট একটি আমল বেছে নিয়ে সেটা নিয়মিত করতে থাকা। যেমন ছবরের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত জামা‘আতে আদায় করা। এরপর হতে পারে অত্যধিক নফল ছিয়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা। এরপর হতে পারে রাতে ছালাত আদায় করা। কেননা নফল ছিয়াম ও রাতের ছালাত মানুষের মনকে প্রশিক্ষিত করে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করে। ছোট থেকে ছোট আমলের মধ্যে রাখা যায় খুব স্মরণ করে দিনে পাঁচ বার আযানের প্রতিউত্তর দেওয়া, ছালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পড়া, বাসায় নিয়মিত সালাম দিয়ে প্রবেশ করা ইত্যাদি। 

খ. মন্দ কাজে ছবর করা :

মহান আল্লাহর নিষেধাজ্ঞাগুলো থেকে মনকে বিরত রাখার যুদ্ধে ছবর করতে পারাটা প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। গান শুনব না, তাওবা করলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ পর আবার গান শুনছি। বিড়ি-সিগারেট খাব না বলে প্রতিজ্ঞা করলাম। বন্ধুর প্ররোচনায় পড়ে মাসখানেক পর আবার টানতে শুরু করলাম। এটাই হেরে যাওয়া; ছবর করতে না পারা। যারা সফলকাম, তারা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে কঠিনভাবে ছবর করতে পারে। নিজেকে ধরে রাখতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তের উপর টিকে থাকতে পারে। মনের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে। ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ নদীতে হাল ধরে থেকে যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ নৌকা চালাতে থাকাই সফলতা।

গ. বিপদে-আপদে ছবর করা :

মানুষের চলার পথ ফুলশয্যা নয়, বিপদ-আপদ থাকবেই; সেগুলোর সাথে সংগ্রাম করতে পারাই মূলত মানুষের জীবন। সফল মানুষরা বিপদে ভেঙে পড়ে না, মচকে যায় না; বরং বাউন্স ব্যাক করে। পূর্ণ উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ায়। আবারও চেষ্টা করে। বার বার হেরে গিয়ে বার বার ঘুরে দাঁড়ানোই সফলতা। মহান আল্লাহ বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো ছালাত ও ধৈর্যধারণের মাধ্যমে। নিশ্চয় মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলগণের সাথে আছেন’ (বাক্বারাহ, ১৫৩)। আর মহান আল্লাহ যাদের সাথে থাকবেন, তারা সফল না হলে কারা সফল হবে? তাইতো বলা হয়, ‘ছবরে মেওয়া ফলে’। ফলে তাড়াহুড়ো নয় বরং দাঁত কামড়ে মাটি আঁকড়ে ছবর করে কাজ করে যাওয়াই সফলতা। 

৭. সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক :

সৃষ্টিকর্তার সাথে নিবিড় সম্পর্ক মানুষকে জীবনে বড় হতে সহযোগিতা করে। সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হচ্ছে মনের প্রশান্তি। যেমন আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, আল্লাহর উপর ভরসা, আল্লাহর নিকট দু‘আ ও সাহায্য প্রার্থনা, আল্লাহর নিকট নিজের ভুলের ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি। এগুলো সবই দীর্ঘ জীবনের চলার পথে মনের খাদ্যস্বরূপ। মানুষের এই শরীরটা দুনিয়াতে তৈরি হলেও মানুষের অন্তর এসেছে আসমান থেকে ফেরেশতার মাধ্যমে। তাই এই অন্তরের খাদ্যস্বরূপ আসমানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা যরূরী। আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছাড়া অন্তর মারা যায়। মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষ সুখে থাকলে মহান আল্লাহকে ভুলে যায় এবং শুধু বিপদে পড়লে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন,

إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا – إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا – وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا

‘নিশ্চয় মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে অস্থির হয়ে যায়। আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়ে যায়’ (মা‘আরিজ, ১৯-২১)।

ক্ষমতা ও ধন-দৌলত থাকার পরও দাঊদ ও  সুলায়মান (আ.)  কোনো সময় অহঙ্কারী হননি। মহান আল্লাহ তাদেরকে যত নে‘মত দিয়েছেন, তারা মহান আল্লাহর দরবারে তত নত হয়েছেন। মহান আল্লাহর সামনে মানুষের এই নত হওয়া ও শুকরিয়া আদায় করা মানুষের উপর আল্লাহর দয়া ও রহমতকে স্থায়িত্ব দান করে। অন্যথা মানুষের অহঙ্কার তাকে ধ্বংস করে দেয়। 

৮. নিয়মিত জ্ঞান চর্চা করা :

অধিকাংশ মানুষ একটা জায়গায় গিয়ে ভুল করে থাকে। পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে যোগ দেওয়ার পর তারা আর পড়াশোনার প্রয়োজন বোধ করে না। জ্ঞান বাড়ানোটা তাদের কাছে তখন হয়ে যায় নস্যি। নিত্য নতুন বিষয় শেখার প্রতি থাকে না কোনো আগ্রহ। এভাবে ধীরে ধীরে সীমিত জ্ঞান নিয়ে বাকী জীবন চলার ফলে তারা প্রতিযোগিতার রাজপথ থেকে ছিটকে পড়ে যান। ডাইনোসরের মতো একসময় পৃথিবী থেকে তাদের নাম-নিশানা মিটে যায়। উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু করার যোগ্যতা তাদের থাকে না।

তাই সফল মানুষের সবচেয়ে বড় মূলনীতি হচ্ছে, প্রতিদিনই কিছু না কিছু শেখা। চাই আপনি শিক্ষক হোন, কৃষক হোন বা ব্যবসায়ী হোন, আপনার প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার রুটিন থাকতে হবে। কিছুই যদি নতুন কিছু শেখার না থাকে, তাহলে বাম হাতে ব্রাশ করা শিখতে হবে। বাম হাতে লেখার প্রাকটিস করতে হবে। তবুও প্রতিদিন ব্রেন শাণিত করতে হবে। নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান লাভের ফলে ব্রেন যত শাণিত হবে, তত বেশি আরও ক্ষমতা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারবে। প্রতিনিয়ত মেধাকে নতুন কিছু দিতেই হবে, না হলে মেধা অকেজো হয়ে যাবে। সুতরাং নতুন কিছু শেখার কোনো বিকল্প নেই।

[2]. তিরমিযী, হা/৫৮৬।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭০।