সবচেয়ে ভালো মানুষ কারা?


-মো. দেলোয়ার হোসেন*


আমরা সকলেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই। হতে চাই সবচেয়ে ভালো মানুষ। কত সেলেব্রিটি, কত মোটিভেশনাল স্পিকার আমাদের ভালো মানুষ হওয়ার পথ বাতলে দেয়। সেই পথ ধরে চলতে চলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে আমরা বুঝতে পারি আসলে এগুলো ভালো মানুষ হওয়ার উপায় ছিল না মোটেই, বরং অমানুষ হওয়ার ফাঁদ ছিল। কেমন হয় যদি ভালো মানুষ হওয়ার উপায় বাতলে দেয় স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিংবা রাসূলুল্লাহ a? আলোচ‍্য প্রবন্ধে এই বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করা হলো—

সবচেয়ে ভালো মানুষ :

১. ঈমানদার ব্যক্তি : ঈমানদার ব্যক্তি  হচ্ছে সবচেয়ে ভালো মানুষ। পক্ষান্তরে কাফের-মুশরিক হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ – إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ﴾

‘নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট। নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ’ (আল-বায়‍্যিনাহ, ৯৮/৬-৭)

২. আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী : যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে, তারাই সবচেয়ে ভালো মানুষ। খোদ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিচ্ছেন,

﴿وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ﴾

‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি অবশ্যই মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’ (ফুচ্ছিলাত, ৪১/৩৩)

৩. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী : সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী হচ্ছে সর্বোত্তম ব‍্যক্তি। আল্লাহ বলেন,

﴿كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ﴾

‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি। মানবমণ্ডলীর জন্য তোমাদের অভ্যুত্থান হয়েছে, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে, অসৎকাজ (করা থেকে) নিষেধ করবে, আর আল্লাহকে বিশ্বাস করবে’ (আলে ইমরান, ৩/১১০)

৪. মুত্তাক্বী : মুত্তাক্বী তথা যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। আল্লাহ বলেন,

﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ﴾

‘হে মানুষ! তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই লোক অধিক সম্মানীয়, যে অধিক মুত্তাক্বী তথা আল্লাহকে ভয় করে। আর নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী সর্বজ্ঞ’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১৩)

৫. জ্ঞান অর্জনকারী : যারা কুরআন-হাদীছের জ্ঞান অর্জন করে, তারা সর্বোত্তম। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,

النَّاسُ مَعَادِنُ كَمَعَادِنِ الْفِضَّةِ وَالذَّهَبِ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوا

‘সোনা-রূপার খনির ন্যায় মানবজাতিও খনিবিশেষ। যারা জাহিলিয়্যাতের (অন্ধকারের) যুগে উত্তম ছিল, দ্বীনের জ্ঞান লাভ করার কারণে তারা ইসলামের যুগেও উত্তম’।[1]  

৬. আল্লাহর পথে জিহাদকারী : আল্লাহর  পথে জিহাদকারী ব্যক্তি হচ্ছে সর্বোত্তম ব্যক্তি। হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِعِنَانِ فَرَسِه فِي سَبِيلِ اللّهِ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالَّذِىْ يَتْلُوهُ رَجُلٌ مُعْتَزِلٌ فِىْ غُنَيْمَةٍ لَه يُؤَدِّىْ حَقَّ اللّهِ فِيهَا أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِشَرِّ النَّاسِ رَجُلٌ يُسْأَلُ بِاللّهِ وَلَا يُعْطِىْ بِه .

ইবনু আব্বাস c হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, আমি কি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম মানুষ কে, তা বলব না? সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কি তোমাদের ঐ ব্যক্তির মর্যাদার কাছাকাছি লোকের কথা জানাব? সেও ঐ ব্যক্তি, যে তার কিছু বকরী নিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে আল্লাহর হক্ব আদায় করতে থাকে। আমি কি তোমাদের খারাপ লোক সম্পর্কে জানাব? সে ঐ ব্যক্তি, যার কাছে আল্লাহর কসম দিয়ে চাওয়া হয়। কিন্তু সে তাকে কিছুই দেয় না।[2]

৭. কুরআন শিক্ষাকারী ও শিক্ষাদানকারী : যারা নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়, রাসূলুল্লাহ a তাদেরকে সর্বোত্তম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। উছমান ইবনু আফফান c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ ‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়’।[3]

৮. যার অনিষ্ট থেকে অপর মুসলিম নিরাপদ : এ প্রসঙ্গে হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو k قَالَ إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ أَيُّ الْمُسْلِمِيْنَ خَيْرٌ قَالَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِه وَيَدِه.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর h হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি নবী a-কে প্রশ্ন করলেন, মুসলিমদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত (’র অনিষ্ট) হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদে থাকে’।[4]

৯. যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে উত্তম : যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে উত্তম, তাকে সর্বোত্তম ব্যক্তি বলে রাসূলুল্লাহ a ঘোষণা দিয়েছেন।  আবূ হুরায়রা c বলেন, নবী a বলেছেন,أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ ‘ঈমানের দিক থেকে সর্বোত্তম মুমিন তারাই, যারা চরিত্রের বিচারে উত্তম। আর তোমাদের মধ্যে যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, সেই উত্তম।[5]

১০. যে ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে উত্তম : যে ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে উত্তম, সেই সর্বোত্তম মানুষ। আমাদের প্রিয় নবী a নিজে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম ছিলেন। আয়েশা g বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِه وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِىْ ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে স্বীয় পরিবারের নিকট উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম’।[6]

১১. যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম : এই মর্মে হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর h বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট সঙ্গীদের মাঝে উত্তম সঙ্গী হলো সে ব্যক্তি, যে তার নিজ সঙ্গীর নিকট উত্তম। আল্লাহর দৃষ্টিতে প্রতিবেশীদের মাঝে উত্তম ব্যক্তি হলো সে, যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম’।[7]

১২. উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধকারী : যারা উত্তমভাবে মানুষের ঋণ পরিশোধ করে, তারাই সবচেয়ে ভালো মানুষ। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,إِنَّ خَيْرَكُمْ أَوْ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحَاسِنُكُمْ قَضَاءً ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে’।[8]

১৩. প্রথমে সালাম প্রদানকারী : যারা মানুষকে প্রথমে সালাম দেয়, তারা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। আবূ উমামা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَ السَّلَام ‘আল্লাহ তাআলার নিকট অগ্রগণ্য সে ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়’।[9]

১৪. উত্তম চরিত্রের অধিকারী : উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিই সবচেয়ে ভালো মানুষ। এ প্রসঙ্গে অনেকগুলো হাদীছ এসেছে। যেমন—

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর h বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, إِنْ مَنْ أَحَبِّكُمْ إِلَىَّ أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আমার কাছে খুব প্রিয় ব্যক্তি, যার চরিত্র ভালো’।[10]

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর h বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنُكُمْ أَخْلَاقًا ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আমার কাছে খুব প্রিয়, যার চরিত্র ভালো’।[11]

আবূ হুরায়রা c বলেন রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,

أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِخِيَارِكُمْ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ خِيَارُكُمْ أَطْوَلُكُمْ أَعْمَاراً وَأَحْسَنُكُمْ أَخْلاَقاً

‘আমি কি বলে দেব না যে, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি কে? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যার বয়স বেশি এবং যার চরিত্র ভালো’।[12]

১৫. যার কাছ থেকে ভালো কাজের আশা করা যায় : এ মর্মে হাদীছে এসেছে,

 عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَقَفَ عَلَى أُنَاسٍ جُلُوسٍ فَقَالَ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِكُمْ مِنْ شَرِّكُمْ قَالَ فَسَكَتُوا فَقَالَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ رَجُلٌ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنَا بِخَيْرِنَا مِنْ شَرِّنَا قَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ يُرْجَى خَيْرُهُ وَيُؤْمَنُ شَرُّهُ وَشَرُّكُمْ مَنْ لاَ يُرْجَى خَيْرُهُ وَلاَ يُؤْمَنُ شَرُّهُ.

আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a উপবিষ্ট কতিপয় ছাহাবীর নিকট এসে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের অবহিত করব না, তোমাদের মধ্যে কে ভালো লোক এবং কে খারাপ লোক? রাবী বলেন, এটা শুনে ছাহাবায়ে কেরাম চুপ রইলেন। রাসূলুল্লাহ a এ কথাটি তিন বার বললেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ভালো লোকেদেরকে খারাপ লোক থেকে পৃথক করে দেখিয়ে দিন। তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে ভালো সে ব্যক্তি, যার ভালো কাজের আশা করা যায় এবং যার মন্দ থেকে নিরাপত্তা আশা করা যায়। আর তোমাদের মধ্যে খারাপ সে ব্যক্তি, যার ভালো কাজের আশা করা যায় না, তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপত্তার আশা করা যায় না’।[13]

১৬. যে ব্যক্তি বয়সে বেশি এবং কর্মে ভালো : যে ব্যক্তির বয়স বেশি এবং পাশাপাশি সৎকর্মে অগ্রগামী এমন ব‍্যক্তিকে সর্বোত্তম বলে রাসূলুল্লাহ a সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِىٌّ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ فَقَالَ طُوبٰى لِمَنْ طَالَ عُمْرُه وَحَسُنَ عَمَلُه قَالَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أَىُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ اَنْ تُفَارِقَ الدُّنْيَا وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِنْ ذِكْرِ اللّٰهِ.

আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর c বলেন, একবার এক বেদুঈন নবী a-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি a বললেন, সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি, যে দীর্ঘ হায়াত পেয়েছে এবং যার আমল নেক হয়েছে। সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেস, হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি a বললেন, তুমি যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে, তখন তোমার মুখ আল্লাহর যিকিররত থাকবে।[14]

১৭. যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয় : আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা সেই, যাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। উবাদা ইবনু ছামেত c কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,

إِنَّ خِيَارَ أُمَّتِي الَّذِينَ إِذَا رُءُوا ذُكِرَ اللهُ وَإِنَّ شِرَارَ أُمَّتِي الْمَشَّاءُونَ بِالنَّمِيمَةِ الْمُفَرِّقُونَ بَيْنَ الأَحِبَّةِ الْبَاغُونَ الْبُرَّاءَ الْعَنَتَ

‘আমার উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর আমার উম্মতের সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো তারা, যারা চোগলখোরি করে বেড়ায়, বন্ধুদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ঘটায় এবং নির্দোষ লোকদের মাঝে দোষ খুঁজে বেড়ায়’।[15]

১৮. যার অন্তর পরিচ্ছন্ন এবং যে সত্যবাদী : যার অন্তর পরিচ্ছন্ন এবং যে মুখে সত্যবাদী, এমন ব্যক্তিই সবচেয়ে ভালো মানুষ। হাদীছে এসেছে,

 عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَىُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ كُلُّ مَخْمُومِ الْقَلْبِ وَصَدُوقِ اللِّسَانِ‏ قَالُوا صَدُوقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ قَالَ هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لاَ إِثْمَ فِيهِ وَلاَ بَغْىَ وَلاَ غِلَّ وَلاَ حَسَدَ‏.‏

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর h থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a-কে বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী ও সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার কোনো গুনাহ নাই, নাই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মোহমিকা ও কপটতা’।[16] এখানে গুনাহ নেই দ্বারা উদ্দেশ্য, গুনাহ করে ফেললে তওবা করে। কেননা রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لاَ ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’।[17]

আল্লাহ তাআলা আমাদের উক্ত গুণগুলো অর্জন করার তাওফীক্ব দান করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের তার প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করুন- আমীন!


* আলিম ২য় বর্ষ, চরবাটা ইসমাঈলিয়া আলিম মাদরাসা, সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৩৮; মিশকাত, হা/২০১।

[2]. তিরমিযী, হা/১৬৫২, হাদীছ ছহীহ; নাসাঈ, হা/২৫৬৯; মিশকাত, হা/১৯৪১।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০২৭; তিরমিযী, হা/২৯০৭; আবূ দাঊদ, হা/১৪৫২; ইবনু মাজাহ, হা/২১১।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪০; মিশকাত, হা/৬।

[5]. তিরমিযী, হা/১১৬২, হাদীছ হাসান ছহীহ;  মিশকাত, হা/৩২৬৪।

[6]. ইবনু মাজাহ, ১৯৭৭, হাদীছ ছহীহ; তিরমিযী, হা/৩৮৯৫; মিশকাত, হা/৩২৫২।

[7]. তিরমিযী, হা/১৯৪৪, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/৪৯২৭।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০১; তিরমিযী, হা/১৩১৬; নাসাঈ, হা/৪৬১৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৪২৩।

[9]. আবূ দাঊদ, হা/৫১৯৭, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/৪৬৪৬।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৫৯;  মিশকাত, হা/৫০৭৪।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৬৯; মিশকাত, হা/৫০৭৫।

[12]. আহমাদ, হা/৯২২৪; মিশকাত, হা/৫১০০।

[13]. তিরমিযী, হা/২২৬৩, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/৪৯৯৩।

[14]. তিরমিযী, হা/২৩২৯, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/২২৭০।

[15]. আহমাদ, হা/১৭৯৯৩; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৮৪৯।

[16]. ইবনু মাজাহ, হা/৪২১৬, হাদীছ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৪৮; ছহীহুল জামে‘, হা/৩২৯১।

[17]. ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০; মিশকাত, হা/২৩৬৩।