اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ

যাবতীয় নেশাদার দ্রব্য নিষিদ্ধের ইসলামী আইন বলবৎ রাখুন


৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে কার্যকর হওয়া মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত নতুন বিধিমালা দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়েছি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ থেকে ‘অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২’ জারি করা হয়েছে। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর আওতায় বিধিমালাটি করা হয়েছে। বিধিমালা মতে, ‘মদ কেনাবেচা, পান, পরিবহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স, পারমিট ও পাস নিতে হবে। কোথাও কমপক্ষে ১০০ জন মদের পারমিটধারী থাকলে ওই এলাকায় অ্যালকোহল বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। আর ২০০ জন হলে দেওয়া হবে বারের লাইসেন্স। ২১ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি মদপানের অনুমতি পাবেন না। মদপানের অনুমতি আছে এমন ব্যক্তিরা এখন থেকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং দুই তারকা হোটেল থেকে শুরু করে ক্লাব, পর্যটনকেন্দ্র, অ্যামিউজমেন্ট পার্কে মদ কিনে পান করতে পারবেন’।

ইন্না-লিল্লাহ! কীভাবে একটি মুসলিমদেশে মদ উৎপাদন-প্রক্রিয়াজাতকরণ, মদপান, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রফতানি, বিপণন, সরবরাহ ইত্যাদির অনুমতি মিলতে পারে! মদের এ অনুমোদন আমাদের রাসূল a-এর ভবিষ্যদ্বাণীর কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই অবশ্যই এমন কিছু মানুষের সৃষ্টি হবে, যারা যেনা, রেশমি কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল করে নিবে’ (বুখারী, হা/৫৫৯০)। আমরা বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে চাই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন নয়; বরং মাদকদ্রব্য বন্ধের ইসলামী আইন প্রয়োগ করুন। মদসহ যে কোনো নেশাদার দ্রব্য বন্ধের নতুন কোনো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের কোনোই দরকার নেই। বরং এক্ষেত্রে ইসলামী আইনই যথেষ্ট। ইসলামী আইনে সর্বপ্রকার নেশাদার দ্রব্য হারাম (বুখারী, হা/৪৩৪৩; মুসলিম, হা/১৭৩৩)। কারণ নেশাদার দ্রব্য সকল কু-কর্মের চাবি (বনু মাজাহ, হা/৩৩৭১), সর্বপ্রকার অনিষ্টের মূল (নাসাঈ, হা/৫৬৬৭)। ইসলামী আইনে নেশাদার দ্রব্য সম্পর্কিত দু’টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হচ্ছে, (১) যার বেশি পরিমাণ গ্রহণে নেশা আসে, তার অল্পও হারাম (সুনানে আরবা‘আহ)। (২) নেশাদার দ্রব্য যে নামেই চলুক কেন, তা হারাম (ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৮৫)। সুতরাং এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় নেওয়ার দুঃসাহস যেন কেউ না দেখায়। পবিত্র কুরআন মদকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নাপাক ও শয়তানের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে আর শয়তান যে এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ায় এবং আল্লাহর যিকির ও ছালাত থেকে মানুষকে বাধাগ্রস্ত করে, তাও স্পষ্ট বলেছে (আল-মায়েদা, /৯০-৯১)। মদপানের অপরাধে এই উম্মতের জন্য ভূমিধ্বস, চেহারা বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের আযাব অপেক্ষমান (তিরমিযী, হা/২২১২)। মদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিশাপ করা হয়েছে। রাসূল a-এর চূড়ান্ত ঘোষণা, ‘আল্লাহর অভিশাপ মদের উপর, পানকারী, পরিবেশনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, প্রস্তুতকারী, প্রস্তুতের নির্দেশদাতা, বহনকারী ও যার উদ্দেশ্যে বহন করা হয়, তার উপর’ (আবু দাঊদ, হা/৩৬৭৪)। মদের যাবতীয় ব্যবসা এবং এপথে উপার্জিত সমুদয় অর্থ হারাম (বুখারী, হা/২২২৬; আবু দাঊদ, হা/৩৪৮৫)। আর হারাম অর্থ ভোগকারীর ইবাদত কবুল হবে না (মুসলিম, হা/১০১৫)। মদপানকারীর ৪০ দিন ছালাত কবুল হয় না (নাসাঈ, হা/৫৬৬৪)। মদপানকারী মূর্তিপূজকের ন্যায় (ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৭৫)। মদপানকারীর জন্য জান্নাত হারাম (আহমাদ, হা/৫৩৭২)। মদপানকারীকে জাহান্নামে জাহান্নামীদের ঘাম, রক্ত, পুঁজ পান করানো হবে (মুসলিম, হা/২০০২)

এছাড়া ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষতিসহ নেশাদার দ্রব্যের রয়েছে আরো অনেক ক্ষতি। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তাগত কোন্‌ ক্ষতি নেই নেশাদার দ্রব্যে? নেশাখোর শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক স্বাস্থঝুঁকিতে থাকে। প্রতি বছর নেশাদার দ্রব্য গ্রহণ করার কারণে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ ও জনগণ। নেশাদার দ্রব্য গ্রহণ করার কারণে মারামারি, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠন ইত্যাদি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। ফলে মারাত্মকভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এর মাধ্যমে একটি অসুস্থ, মাতাল ও বেকার প্রজন্ম তৈরি হয়।

রাসূল a মদপানকারীকে লাঠিপেটা ও জুতাপেটা করতেন (মুসলিম, হা/১৭০৬)। মদপানকারীকে ৮০ বেত্রাঘাত করতে হবে (ঐ)। অতএব, আমরা সরকারকে বলব, খবরদার! কুরআন-হাদীছের বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন না। নেশাদার দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন নয়; বরং যাবতীয় নেশাদার দ্রব্য নিষিদ্ধ করুন। এর সাথে জড়িতদের শক্তহস্তে দমন করুন। তাহলে দেশ-জাতি সুখে থাকবে। ইহকাল ও পরকাল মঙ্গলময় হবে। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!