ঈমানআক্বীদা


প্রশ্ন () : আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম কতটি এবং সেগুলোর ফযীলত কী?

-মোস্তাফিজুর রহমান
নাটোর।

উত্তর : আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহ ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর গুণবাচক নাম অসংখ্য আর এর ফযীলত হলো জান্নাত লাভ। কেউ কেউ একটি হাদীছ থেকে প্রমাণ করেন যে, আল্লাহ তাআলার নামের সংখ্যা শুধুমাত্র ৯৯টি, যেখানে রাসূল a বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার এক কম ১০০ (তথা) নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি তা মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩৬,৭৩৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৭; মিশকাত, হা/২২৮৭)। অথচ হাদীছের বর্ণনা থেকে এমনটি বুঝা যায় না। বরং এ ৯৯টি নাম ছাড়াও আল্লাহ তাআলার অনেক নাম রয়েছে যা অন্য হাদীছ থেকে প্রমাণিত। সেটি হলো, রাসূলুল্লাহ a তার এক দু‘আতে বলতেন, أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِى كِتَابِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِىْ عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ ‘আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি আপনার সে সকল নামের অসীলায়, যা দ্বারা আপনি নিজেকে অভিহিত করেছেন অথবা আপনি আপনার সৃষ্টির কাউকে তা শিক্ষা দিয়েছেন অথবা আপনি আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা আপনি গায়েবের পর্দায় তা আপনার নিকট গোপন রেখেছেন’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৭১২; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৯৭২)। সুতরাং তিনি যা তার ইলমে গায়েবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা কারো পক্ষে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। অতএব হাদীছটির অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নামের মধ্যে থেকে এ ৯৯টি নামের মর্যাদা হলো, ‘যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে, হেফাযত করবে এবং নামের দাবী মোতাবেক আমল করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়্যাহ, ৬/৩৮০)।


 প্রশ্ন () : হাদীছে আছে, এই উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো, যারা ঝাড়ফুঁক এর আশ্রয় গ্রহণ করে না। কিন্তু আমরা জানি, রাসূল a নিজেই ঝাড়ফুঁক করেছেন। তাহলে এই হাদীছের ব্যাখ্যা কী?  

-মুরাদ হোসেন
সাভার, ঢাকা।

উত্তর : ছহীহ মুসলিমের ২২০ নম্বর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, এই উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তার এক শ্রেণী হলো, الَّذِينَ ‌لَا ‌يَرْقُونَ ‌وَلَا ‌يَسْتَرْقُونَ অর্থাৎ যারা ঝাড়ফুঁক করে না ও অন্যের কাছে ঝাড়ফুঁক চায় না। এই হাদীছটি ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত হলেও, আসলে প্রথম অংশটি শায, যা কোনো রাবীর ভ্রম হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে (সিলসিলা ছহীহা, ১/৪৯০, ১/৮৪৪, ৮/১৬৯; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়্যাহ, ১/১৮২)। আসলে সঠিক বর্ণনা হলো যা অন্য এক বর্ণনাতে এসেছে, সেটি হলো, وَلَا يَسْتَرْقُونَ، ‌وَلَا ‌يَكْتَوُونَ ‘তারা অন্যের কাছে ঝাড়ফুঁক চায় না, আগুনের সেক দেয় না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৮)। সুতরাং যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে তারা অন্যের কাছে ঝাড়ফুঁক চায় না। কেননা তার পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করে। সুতরাং এই বর্ণনার সাথে রাসূল a নিজেই ঝাড়ফুঁক করেছেন সেই বর্ণনার কোনো বিরোধ নেই।


প্রশ্ন () : জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করার পরে যেসব তাওহীদপন্থী বান্দাগণ জান্নাতে যাবে তারা কি আল্লাহকে দেখতে পাবে?

-আব্দুল কাদের
পাটনা, ভারত।

উত্তর : হ্যাঁ, দেখতে পাবে। কুরআন ও সুন্নাহ প্রমাণ করে যে, জান্নাতীরা আল্লাহ তাআলাকে দেখবে। যেটি হলো জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তবে সেসব দলীলগুলোতে বিশেষ কিছু মানুষদের জন্য আল্লাহর দর্শনকে নির্দিষ্ট করা হয়নি। বরং আমভাবে সকল জান্নাতীদের জন্য তা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন কোনো কোনো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে’ (আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫/২২-২৩)। জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী a-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছো, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার পূর্বের ছালাত আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৪, ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩৩)। সুহায়ব c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَة ‘যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক’ (ইউনুস ১০/২৬)। অতঃপর তিনি a বলেন, ‘জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পর এক ঘোষণাকারী ডেকে বলবে, হে জান্নাতবাসীগণ! নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি এখন পূর্ণ করবেন। তারা বলবে, তা কী? আল্লাহ তাআলা কি আমাদের (সৎকর্মের) পাল্লা ভারী করেননি, আমাদের চেহারাগুলো আলোকিত করেননি, আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘তখন আল্লাহ তাআলা আবরণ উন্মুক্ত করবেন এবং তারা তাঁর দিকে তাকাবে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাদেরকে তার দর্শনের চেয়ে অধিক প্রিয় ও নয়নপ্রীতিকর আর কিছু দান করেননি’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭, মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৯৪১)। এই হাদীছদ্বয়ে সকল জান্নাতীদেরকে উদ্দেশ্য করে সেই ঘোষণা দিয়ে কথাগুলো বলা হয়েছে, যাতে বিশেষ কোনো ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়নি। সুতরাং জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করার পরে যেসব তাওহীদপন্থী বান্দাগণ জান্নাতে যাবে তারাও আল্লাহকে দেখতে পাবে।


প্রশ্ন (৪) : অধিক সন্তান না নেওয়ার জন্য আযল করা অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

-আব্দুল্লাহ ফারুক
ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

উত্তর: দরিদ্রতার ভয়ে আযল করা অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘দরিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি’ (আল ইসরা, ১৭/৩১)। রাসূল a এমন নারীকে বিবাহ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন যে নারী বেশি বেশি সন্তান দিতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানদায়িনী নারীকে বিবাহ করো। কারণ আমার উম্মতের সংখ্যা বেশি হওয়া আমার গৌরবের কারণ’  (আবূ দাঊদ, হা/২০৫০, নাসাঈ, হা/৩২২৭)। তবে স্ত্রী ও সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীর অনুমতিক্রমে আযল বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যায় (ইবনু মাজাহ, হা/১৯২৮)। কিন্তু স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা আদৌ বৈধ নয় (আদর্শ পরিবার, ১২১ পৃ.)।


প্রশ্ন (৫) : স্বামীর পাজরের হাড় থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা কি ঠিক?

-আরিফুজ্জামান
দিনাজপুর।

উত্তর : না, কথাটি সঠিক নয়। বরং হাওয়া e-কে আদম e-এর পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘তোমরা নারীদেরকে উত্তম নছীহত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে নছীহত করতে থাক’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৩১, ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৮)। এখানে মহিলাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে মর্মে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে আসলে সেটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আদম e-এর পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া e-কে সৃষ্টি করা, সকল মহিলাদের সৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি। এই হাদীছে মহিলাদের প্রতি দয়া ও ইহসান করা, তাদের বাকা আচরণে ধৈর্যধারণ করা এবং তাদের দুর্বল বিবেককে সহ্য করার বিষয়টি প্রমাণ করে (ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ৬/৩৬৮, শারহুন নাবাবী আলা মুসলিম, ১০/৫৭)।


প্রশ্ন (৬) : ‘বন্দে মাতরম’ বলা বৈধ কি?

উত্তর: বৈধ নয়। কেননা ‘বন্দে মাতরম’ মানে দেশ মাতাকে বন্দনা করি বা প্রণাম করি। বন্দনা বা বন্দেগী মানে বান্দার কাজ, ইবাদত ও দাসত্ব করা। মুসলিম একমাত্র আল্লাহর দাস হয়। সে কেবল তারই দাসত্ব করে। সুতরাং সে অন্য কারো বন্দেগী বা দাসত্ব করার ঘোষণা দিতে পারে না। সে ঘোষণা করে,

}قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ – لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ {

‘নিশ্চয়ই আমার ছালাত, আমার উপাসনা (কুরবানী) আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তার কোনো অংশীদার নেই এবং আমি এ সম্বন্ধেই আদিষ্ট হয়েছি। আত্মসমর্পণকারীদের (মুসলিম) মধ্যে আমিই প্রথম’ (আল-আনআম, ৬/১৬২-১৬৩)।


প্রশ্ন (৭) : মুসলিম দেশে মানবরচিত আইন দ্বারা পরিচালিত মুসলিম শাসককে সরিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কীভাবে ক্বায়েম হবে?

উত্তর : ইসলামী রাষ্ট্র ক্বায়েম হবে মুসলিম গণজাগরণের মাধ্যমে। মুসলিমরা যখন আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, আক্বীদা পরিশুদ্ধ করবে, নিজের পরিবার-পরিজনকে সঠিক ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন শিক্ষা দেবে, তবেই ইসলাম ক্বায়েম হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ﴾ ‘নিশ্চয় আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে’ (আর-রা‘দ, ১৩/১১)। উলামাগণ বলেন, তোমরা তোমাদের হৃদয়ে হৃদয়ে ইসলাম ক্বায়েম করো, তোমাদের রাষ্ট্রে ইসলাম ক্বায়েম হয়ে যাবে। অন্যথা সন্ত্রাস, পশ্চিমা গণতন্ত্র ইত্যাদি মাধ্যম ইসলামী রাষ্ট্র ক্বায়েম করার শারঈ পদ্ধতি নয়।


প্রশ্ন () : আমি মাঝে মাঝে অনেক খারাপ চিন্তাভাবনা করি। এমনকি কখনো কখনো শয়তান আমার আক্বীদাতেও সন্দেহ ঢুকাতে চেষ্টা করে। আমার প্রশ্ন হলো, এগুলোরও কি হিসাব নেওয়া হবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
রংপুর।

উত্তর : শয়তান মনের মধ্যে যে ওয়াসওয়াসা দেয়, সেটি অবহ্যত রাখা যাবে না। বরং এরকম চিন্তা ভাবনা আসলেই আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাইবেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (আল-আরাফ, ৭/২০০)। যদি এই ওয়াসওয়াসা অনুযায়ী আমল করা না হয় অথবা এটি মুখে উচ্চারণ করা না হয় তাহলে এতে গুণাহ হবে না এবং হিসাব নেওয়াও হবে না। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ঐ সকল ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬৬৪, ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭)।


প্রশ্ন () : জনৈক বক্তা বলেন, ক্বদরের রাতে মানুষের বার্ষিক রিযিক, হায়াত, মউত ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
জামালপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, উক্ত বক্তব্য সঠিক। ক্বদরের রাতে মানুষের আগামী এক বছরের রিযিক, হায়াত, মউত ইত্যাদি বণ্টন করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমরা একে (কুরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমরা সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়’ (সূরা আদ-দুখান, ৪৪/৩-৪)। এখানে প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় বলতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের হায়াত, রিযিক ইত্যাদি নির্ধারণ উদ্দেশ্য (তাফসীর ইবনু কাছীর, ৭/২২৬)।


বিদআত


প্রশ্ন (১০) : ফরয ছালাতের পর মাথায় হাত দিয়ে ইয়া কাবিয়্যুবলে ৭ বার কেউ কেউ দু‘আ পড়েন, এই আমলটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত?

-মোস্তফা মনোয়ার
রংপুর।

উত্তর : উক্ত আমলটি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত নয়। তাই এই আমল বর্জন করতে হবে। কেননা রাসূল বলেছেন, ‘কেউ যদি এমন আমল করে যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই তাহলে সেটি বর্জনীয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।


পবিত্রতা


প্রশ্ন (১১) : প্রস্রাব করার পর ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে, এমতাবস্থায় আমি কি ছালাত আদায় করতে পারব আর যদি তা না পারি তাহলে এর বিধান কী?

-ইমরান আলী
গাইবান্ধা।

উত্তর : চিকিৎসা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি না হলে ছালাতের কোনো ক্ষতি হবে না। মুস্তাহাযা মহিলা (মাসিকের নির্ধারিত সময়ের পর যাদের ঋতুস্রাব হয়) কিংবা ফোঁটা ফোঁটা পেশাব অথবা বায়ু নির্গত হয় এমন নারী-পুরুষ প্রত্যেক ছালাতের জন্য ওযূ করে নিলেই যথেষ্ট হবে (আবূ দাঊদ, হা/২৮৬, মিশকাত, হা/৫৫৮)।


প্রশ্ন (১২) : আমার প্রশ্ন হলো গোসল করতে গিয়ে ওযূর সময় পরনে কাপড় না থাকলে কি ওযূ হবে?

-সুজন মিয়া
গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

উত্তর : জরুরী কোনো প্রয়োজন না হলে উলঙ্গ হওয়া উচিত নয়। বরং সর্বদাই পরনে কাপড় রাখা উচিত। মুয়াবিয়া আল-কুশায়রী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থানের কতখানি ঢেকে রাখব আর কতখানি খুলে রাখব? তিনি বলেন, ‘তোমার লজ্জাস্থান নিজের স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যদের থেকে হেফাযত করবে’। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী যে, লোকেরা যদি একত্রে বসবাস করে? তিনি বলেন, ‘যদি তুমি তা কাউকে না দেখিয়ে পার, তবে অবশ্যই তা দেখাবে না’। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি নির্জন থাকে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ অধিক অগ্রগণ্য যে, মানুষের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি লজ্জাশীল হতে হবে’ (ইবনে মাজাহ, হা/১৯২০)। তবে পরনে কাপড় থাকা ওযূর শর্তগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে পরনে কাপড় না রেখেই ওযূ করে তাহলে তার সেই ওযূ ছহীহ হবে এবং এতে তার ওযূও নষ্ট হবে না (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/১০১)।


ছালাত


প্রশ্ন (১৩) : একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় আমাকে অংশগ্রহণ করতে হয়। পরীক্ষার সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যে, দেড়টা থেকে সন্ধ্যা পাঁচটা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আছরের ওয়াক্ত প্রায় ১৫-২০ মিনিটের মতো অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু বাসায় ফিরতে ফিরতেই মাগরিবের ওয়াক্ত হয়ে যায়। একারণে যোহর ও আছরের ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত আসার পূর্বেই আমি যোহর এবং আছরের ছালাত একত্রে অগ্রিম জমা করে পড়তে পারব কি?

-মো. মোবিনুল ইসলাম মুন
বগুড়া।

উত্তর : হ্যাঁ; পারবেন। জরুরী কোনো প্রয়োজনে যোহর-আছর এবং মাগরিব-ইশাকে জমা করা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a ভীতিকর অবস্থা কিংবা সফররত অবস্থা ছাড়াই যোহর এবং আছরের ছালাত একসাথে এবং মাগরিব ও এশার ছালাত একসাথে আদায় করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৭০৫)। একদা ইবনু উমার h-এর মুয়াযযিন ‘আছ-ছালাত’ বললে তিনি বলেন, চলো, এগিয়ে চলো! ইতিমধ্যে লালিমা দূরীভূত হওয়ার সময় হলে তিনি (বাহন থেকে) নেমে মাগরিবের ছালাত আদায় করলেন। অতঃপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লালিমা দূরীভূত হওয়ার পর ইশার ছালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ a কোনো সফরে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে এরূপ করতেন, যেরূপ আমি করলাম। অতঃপর তিনি সেই দিন ও রাতের সফরে তিন দিনের পথ অতিক্রম করেন (আবূ দাঊদ, হা/১২১২)।


প্রশ্ন (১৪) : আমাদের মসজিদে ইমাম আরবী দিয়ে খুৎবা দেয়, আমি তো আরবী বুঝি না এইজন্য খুৎবার সময় আমি মনে মনে তাসবীহ, তাহলীল, যিকির, দু‘আ পড়তে পারব কি? নাকি আরবী খুৎবাটাই মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে?

-নাঈম ইসলাম
বগুড়া।

উত্তর : ভাষা না বুঝলেও ইমামের খুৎবা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে, এই সময়ে তাসবীহ তাহলীল করা যাবে না। একাধিক আয়াত ও ছহীহ হাদীছের দাবী হলো মুছল্লীদের নিজের ভাষায় খুৎবা দিতে হবে। রাসূল a বলেন, ‘জুমআর দিন ইমাম খুৎবারত অবস্থায় যদি তুমি তোমার পাশের মুছল্লীকে ‘চুপ করো’ বলো, তাহলে তুমি অনর্থক কথা বললে’ (ছহীহ বুখারী হা/৯৩৪; মিশকাত, হা/১৩৮৫)। কিন্তু দঃখজনক হলেও সত্য পৃথিবীর বহু মসজিদে কুরআন হাদীছকে উপেক্ষা করে ও সুন্নাত অনুসরণের নাম দিয়ে আরবী ভাষায় খুৎবা দেওয়া হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমরা প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (ইবরাহীম, ১৪/৪)। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ c হতে বর্ণিত আছে যে, নবী a দাঁড়িয়ে প্রথমে ছালাত আদায় করলেন এবং পরে লোকদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন। যখন নবী a খুৎবা শেষ করলেন, তিনি (মিম্বর হতে) নেমে মহিলাগণের (কাতারের) নিকট আসলেন এবং তাঁদের নছীহত করলেন। তখন তিনি বেলাল c-এর হাতে ভর করেছিলেন এবং বেলাল c তাঁর কাপড় ছড়িয়ে ধরলে, নারীরা এতে ছাদাক্বার বস্তু ফেলতে লাগলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯৬১, ছহীহ মুসলিম, হা/৮৮৪)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মানুষেদেরকে তাদের নিজের ভাষাতেই খুৎবা দিতে হবে। অন্যথা এই হাদীছের অবমাননা করা হবে।


প্রশ্ন (১৫) : আমাদের মেস থেকে মসজিদ ৫ মিনিটের পথ। দৈনিক ৫ বার মসজিদে ছালাত আদায় করতে যাওয়া একটু কষ্টকর। তাই আমরা মেসেই জামাআতে ছালাত আদায় করি। আমাদের ছালাত আদায় হবে কি?

-রাকিব হাসান
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : অলসতার কারণে মসজিদে না গিয়ে বাড়ীতে ছালাত আদায় করা গর্হিত কাজ। কারণ রাসূল a এই অভ্যাসের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ কোনো ওযর ছাড়াই মসজিদে আসল না তার ছালাত হবে না’ (ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩, সনদ ছহীহ)। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল a এই শ্রেণির লোকদের ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন (বুখারী হা/৬৪৪; মিশকাত হা/১০৫৩)। তাছাড়া তিনি অন্ধ ব্যক্তিকেও বাড়ীতে ছালাত আদায় করার অনুমতি দেননি (মুসলিম হা/১৫১৮; মিশকাত হা/১০৫৪)। ইবনু মাসঊদ c বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদ ছেড়ে বাড়ীতে ছালাত আদায় করল সে রাসূল a-এর সুন্নাত পরিত্যাগ করল। আর যে ব্যক্তি নবীর সুন্নাত পরিত্যাগ করল সে পথভ্রষ্ট হলো’ (আবূ দাঊদ হা/৫৫০)।


প্রশ্ন (১৬) : আমি যোহরের ১ রাকাআত ছালাত পাইনি। এখন কথা হচ্ছে- ইমাম সালাম ফিরানোর আগে আমি কি শুধু তাশাহহুদ পড়ব না দরূদসহ সকল দু‘আ পড়ব?

-হুমায়ুন আহমেদ
পশ্চিম রামনগর সদর, দিনাজপুর।

উত্তর : মাসবূক ইমামের অনুসরণ করবে। সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত ইমাম যা করবে মাসবূককে তাই করতে হবে অর্থাৎ তাশাহহুদসহ অন্যান্য দু‘আ পড়তে থাকবে। পরে ইমাম সালাম ফিরালে মাসবূক দাড়িয়ে ছুটে যাওয়া এক রাকআত পড়ে তাশাহহুদসহ অন্যান্য দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাবে। রাসূল a বলেন,  إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ ‘ইমামকে নিযুক্ত করা হয়েছে তার অনুসরণ করার জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৯, ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৪)।


প্রশ্ন (১৭) : আমরা জানি যে, জুমআর দিন যে ব্যক্তি মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করে তাকে উট কুরবানীর ছওয়াব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো সময়টা কখন থেকে শুরু হয়? জুমআর আযানের পর থেকে? নাকি জুমআর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে?

-এস এম হাম্মাদ
চট্রগ্রাম।

উত্তর: আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন জানাবাতের গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং ছালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেওয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতাগণ যিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮১, ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫০)। সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে পথম পর্যায়ের শুরু হয়। সূর্য উদয় হওয়া থেকে জুমআর আযান হওয়া পর্যন্ত এই সময়টাকে পাঁচভাগে ভাগ করবে। এর প্রথম ভাগটি হাদীছে বর্ণিত প্রথম পর্যায়, দ্বিতীয় ভাগটি হাদীছে বর্ণিত দ্বিতীয় পর্যায় (যাদুল মা‘আদ, ১/৩৮৬-৩৮৯)।


প্রশ্ন (১৮) : যে ইমামের সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত শুদ্ধ নয়, তার পিছনে কি ছালাত শুদ্ধ হবে? যদি না হয় তাহলে কি মুক্তাদীদেরকে পুনরায় আবার ছালাত আদায় করতে হবে।

-আব্দুর রহমান
রাজশাহী।

উত্তর: ক্বিরাআতের মধ্যে ভুলের কারণে এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না এ কথা ঠিক নয়। কেননা কুরআন সাত ভাষায় অবতীর্ণ করা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/২৪১৯)। তবে ক্বিরাআত সুন্দর করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি কুরআনকে তার যথাযথ নিয়মে সুন্দর করে তেলাওয়াত করুন’ (আল-মুযযাম্মিল, ৪)।


প্রশ্ন (১৯) : কোনো কোনো মুছল্লীকে দেখি যে, রুকূ পেলেই রাকাআত গণনা করছে। এটা কি সঠিক যে, রুকূ পেলেই রাকাআত পাওয়া যাবে?

-হাসিবুর শেখ
মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর: রুকূ পেলে রাকাআত গণ্য হবে কিনা এতে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে প্রাধান্যযোগ্য মত হলো, রুকূ পেলে রাকাআত গণ্য হবে। আবূ বাকরাহ c হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী a-এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছলেন যে, নবী a তখন রুকূতে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই তিনি রুকূতে চলে যান। এ ঘটনা নবী a-এর নিকট ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না (ছহীহ বুখারী, হা/৭৮৩, আবূ দাঊদ, হা/৬৮৪)। এখানে নবী a তাকে আবার এক রাকাআত আদায় করতে বললেন না। সুতরাং এতে বুঝা যায় যে, রুকূ পেলে সেই রাকাআতকে গণ্য করা হবে (জামিউ তুরাছিল আলবানী ফিল ফিকহ, ৫/২৯৩)।


প্রশ্ন (২০) : রমাযানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিগুলোতে তারাবীহর ছালাত পড়ার পর ছালাতুত তাসবীহ পড়ার কোনো ভিত্তি আছে কি?

-কাউছার আলী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।

উত্তর : প্রত্যেক মুসলিম তার দৈনন্দিন ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বদা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিশুদ্ধ দলীল দ্বারা ইবাদত করবে- এটাই শারঈ বিধান। কিন্তু ছালাতুত তাসবীহ একটি বিতর্কিত, সন্দেহযুক্ত ও দুর্বল ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত ইবাদত। কেননা এ ছালাত সংক্রান্ত স্পষ্ট কোনো ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি। বরং আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস h থেকে বর্ণিত এ সম্পর্কিত হাদীছকে কেউ ‘মুরসাল’ কেউ ‘মাওকূফ’ কেউ ‘যঈফ’ আবার কেউ ‘মাওযূ‘’ বা জাল বলেছেন এবং তার ভিত্তিতে ইমাম আহমাদ, ইমাম নববী, ইমাম ইবনু তাইমিয়াসহ অনেকেই এই ছালাতকে ইনকার করেছেন (মুগনী, ১/৪৩৮; শারহুল মুহাযযাব, ৩/৫৪৭; মাজমূউ ফাতাওয়া ১১/৫৭৯)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফতওয়া কমিটি ‘লাজনা দায়েমাহ’ এ ছালাতকে বিদ‘আত বলেছেন, صَلَاةُ التَّسْبِيْحِ بِدْعَةٌ، وَحَدِيْثُهَا لَيْسَ بِثَابِتٍ، بَلْ هُوَ مُنْكَرٌ। অতএব এরূপ বিতর্কিত, সন্দেহযুক্ত ও দুর্বল ভিত্তির উপরে কোনো ইবাদত বিশেষ করে ছালাত প্রতিষ্ঠা করা ঠিক নয়।

আর রমাযানে ছালাতুত তাসবীহ আদায় করার বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে ছহীহ কোনো প্রমাণ নেই। তাই সেই আমল করা যাবে না। রাসূল a বলেছেন, ‘কেউ যদি এমন আমল করে যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/ ১৭১৮)।


প্রশ্ন (২১) : জামাআতে ছালাত আদায় করানোর সময় ইমাম ছাহেব নিজে ইক্বামত দিয়ে কি ছালাত আদায় করাতে পারবেন?

-দেলোয়ার হোসেন
রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ পারবেন। ইমাম ছাহেব নিজে ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করানোতে শরীআতে কোনো বাধা নেই। সফরের সময় রাসূল a একজনকে আযান দিতে বলেছেন। আর তাদের মধ্যে যিনি বড় তাকে ইমামতি করতে বলেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৮, ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭৪)। অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, যদি বড় ব্যক্তিই আযান দিয়ে থাকে তাহলেও তিনিই ইমামতি করবেন। আর আযান দাতাকেই ইক্বামত দিতে হবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী, হা/১৯৯; মিশকাত, হা/৬৪৮; যঈফাহ, হা/৩৫)


পারিবারিক বিধান/তালাক


প্রশ্ন () : স্ত্রীর খালাকে বিবাহ করাতে কি শরীআতে বাধা আছে?  

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নাটোর।

উত্তর : স্ত্রীর বর্তমানে তার খালা বা ফুফুকে বিবাহ করা হারাম। জাবের c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, ‘কোনো মহিলার আপন ফুফু বা খালা কোনো পুরুষের স্ত্রী হলে ঐ মহিলা যেন উক্ত পুরুষকে বিয়ে না করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫১০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০৮)। তবে স্ত্রী মারা গেলে বা তার সাথে তালাক হয়ে গেলে স্ত্রীর খালাকে বিবাহ করাতে শরীআতে কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন (২৩) : আমি অনেক বড় ভুল করেছি। ৫ বছর ধরে একটি মেয়ের সাথে আমার অবৈধ সম্পর্ক। আমি শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের বক্তব্য শুনে তওবা করে নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করছি এবং মেয়েটির সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। কিন্তু বর্তমানে মেয়েটি মাকে বিয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে চাপ দিচ্ছে। অপর দিকে আমার অভিভাবকগণ ঐ মেয়ের সাথে কোনভাবেই বিয়ে দিতে রাজি নয়। কিন্তু মেয়েটি একটি  বক্তব্যের কিছু অংশ আমার কাছে পাঠিয়েছে। যেখানে বলা আছে- যার সাথে যেনা হয়েছে সে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ছেলে-মেয়ে যেনায় লিপ্ত হওয়ার পর যদি দুইজনের একজন বিবাহ করতে সম্মত না হয় তাহলেও কি পরস্পর বিবাহ করতে বাধ্য?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : বিবাহের পূর্বে নারী-পুরুষের সকল সম্পর্ক হারাম। সুতরাং তাদের উপর হদ্দ (যেনার নির্ধারিত শাস্তি) প্রয়োগ করতে হবে (আন-নূর, ২৪/২)। আর এই শাস্তি কার্যকরের দায়িত্ব সরকারের। অভিভাবকের সম্মতিতে তাদের মাঝে বিবাহ দেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিকা নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে’ (আন-নূর, ২৪/৩)। তবে তাদের মাঝে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া যাবে না। উবায়দুল্লাহ ইবনু ইয়াযিদ p তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, একজন ছেলে একজন মেয়ের সাথে অপকর্ম করল। অতঃপর উমার c যখন মক্কায় আগমন করলেন তখন তার সামনে এই মামলাটি পেশ করা হলো। তিনি তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসা করলেন, তারা দুইজন এই অপকর্মের স্বীকারক্তি প্রদান করল। তিনি তাদের দুইজনকে (যেনার শাস্তি) বেত্রাঘাত করলেন এবং তাদেরকে একত্রিত করার (বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার) আশা ব্যক্ত করলেন। ছেলেটি তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন (মুসনাদ আশ-শাফেঈ, হা/১৩৮৬; সুনানুল কুবরা, হা/১৩৬৫৩)।


প্রশ্ন (২৪) : একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারবে এই কথা কি ঠিক? নাকি একই সঙ্গে সর্বোচ্চ চারটির বেশি স্ত্রী রাখতে পারবে না এ কথা ঠিক?

-ইলিয়াস হোসেন
কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : একজন পুরুষ একই সঙ্গে চারের অধিক স্ত্রী রাখতে পারবে না এ কথাই ঠিক। তবে কোনো স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিয়ে দিলে নতুনভাবে আরেক জনকে বিবাহ করতে পারে। অর্থাৎ একই সাথে যেন চারের অধিক স্ত্রী না থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই, তিন কিংবা চার জনকে বিবাহ করো, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে’ (আন-নিসা-৪/৪)।


প্রশ্ন (২৫) : স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে কতদিন তার খরচ দিতে হবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
ঢাকা।

উত্তর : স্বামী স্ত্রীকে রাজঈ তালাক (প্রথম ও দ্বিতীয় তালাক) দিলে ইদ্দতকাল পর্যন্ত খোরপোষ দিবে (নাসাঈ, হা/৩৪০৩; ছহীহাহ, হা/১৭১১)। আর তৃতীয় তালাক হয়ে গেলে তাকে কোনো খোরপোষ দিতে হবে না (মুসলিম, হা/১৪৮০; মিশকাত, হা/৩৩২৪)। তবে স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত স্বামীকে তার খোরপোষের ব্যবস্থা করতে হবে ও দুধ পান করালে তাকে উপযুক্ত মজুরী দিতে হবে (আত-ত্বালাক, ৬৫/৪)। অপর দিকে যে নারী খোলা করে নিয়েছে সে কোনো খোরপোষ পাবে না (ইবনু আবী শায়বাহ, হা/১৮৮১৪, ১৮৪৯৭)।


প্রশ্ন (২৬) : আমার বিয়ের ১ মাস পরে আমার সাথে আমার স্ত্রীর মনোমালিন্য হয় এবং সে রাগ করে আমার সাথে থাকবে না জানায়। তারপরে সালিসের মাধ্যমে সে আমাকে খোলা তালাক দেয় এবং সে এখন তার ভুল বুঝতে পেরে আসতে চায় এখন আমি কী করতে পারি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর : খোলা তালাকের মতো নয়। তালাকের পরে স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করা ছাড়াই দুই বার ফিরিয়ে নেওয়া গেলেও খোলার মাধ্যমে সেটি হয় না। বরং খোলার মাধ্যমে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খোলা হওয়ার পরেও সেই মহিলার সাথে আবার সংসার করা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে নতুন মোহর দিয়ে আবার নতুনভাবে বিবাহ করতে হবে। তাহলেই সেই মহিলা তার প্রথম স্বামীর কাছে ফেরত আসতে পারবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়্যাহ, ৩২/৩০৬, যাদুল মা‘আদ, ৫/১৮০-১৮১)।


প্রশ্ন (২৭) : আমার মা মারা যাওয়ার পর আমার বাবা আমার বোনের শ্বাশুড়িকে বিবাহ করেন। বিবাহের সময় তার ছেলে উপস্থিত ছিলেন না কিন্তু পরে সে এই বিবাহে স্বীকৃতি দেয়। তাহলে তার এই বিবাহ ঠিক হয়েছে কি?

-জুয়েল রানা
ধামরাই, ঢাকা।

উত্তর : কোনো নারী বিবাহের অভিভাবক হতে পারবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘কোনো নারী অন্য কোনো নারীকে বিবাহ দিতে পারে না এবং কোনো নারী নিজেও বিবাহ করতে পারে না। যে নারী নিজে বিবাহ করে সে ব্যভিচারিণী’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮২; মিশকাত,  হা/৩১৩৭)। অভিভাবক ছাড়াই যেহেতু এই বিবাহ হয়েছে তাই এটি শরীআতসম্মত হয়নি। আবূ মূসা আশআরী c নবী করীম a হতে বর্ণনা করেন যে, অভিভাবক ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ হবে না (তিরমিযী, হা/১১০১; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১, আহমাদ, হা/১৯৭৪৬; মিশকাত, হা/৩১৩০)। রাসূলুল্লাহ আরও বলেছেন, ‘অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোনো মহিলা বিয়ে করলে তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩, তিরমিযী, হা/১১০২)। অতএব এক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতিতে সেই বিয়ে আবার নতুনভাবে দিতে হবে।


হালাল হারাম


প্রশ্ন (২৮) : অমুসলিমদের প্রদত্ত ইফতার গ্রহণ করা যাবে কি?

-শারুফ আহমেদ
শিবগঞ্জ, চাপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : অমুসলিমদের প্রদত্ত ইফতার খাওয়া জায়েয। রাসূল a অমুসলিমদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন এবং তাদের উপহার গ্রহণ করেছেন (বুখারী, হা/২৬১৫-১৮, আবূদাঊদ, হা/৪৫১০)। তবে তার যবেহ করা প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না।


প্রশ্ন (২৯) : কেউ যদি এমন পাপ করে যার কারণে ঐ ব্যক্তি সরাসরি হত্যার যোগ্য হয়। এমন ব্যক্তির তওবার সুযোগ আছে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর : অবশ্যই তওবা করার সুযোগ আছে। আল্লাহ তাআলা খালেছ তওবার মাধ্যমে শিরকের মতো ধ্বংসাত্মক, হত্যার মতো মারাত্মক ও ব্যভিচারের মতো জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন (আল-ফুরকান, ২৫/৬৮-৭০)। আল্লাহ তাআলা  বলেন,  বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (আয-যুমার, ৩৯/৫৩)। রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, اَلتَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ‏ ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তি তুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০)। তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যেমন, (১) পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে, (২) কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে এবং (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও বিলুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুলের জন্য আরো একটি শর্ত আছে। তা হলো অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, সেটাও ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছালিহীন, পৃ. ১৪-২২ ‘তওবা’ অনুচ্ছেদ)। যেহেতু আমাদের দেশে ইসলামী শাসক নেই। তাই হদ্দ (দণ্ড বা শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট একনিষ্ঠভাবে তওবাহ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে। তাহলে ইনশা-আল্লাহ এমন ব্যক্তিকেও ক্ষমা করবেন।


প্রশ্ন (৩০) : আমার এক ছোট ভাই খ্রিষ্টানদের পরিচালিত এক কলেজে অধ্যয়ন করছে। কলেজের নিয়ম অনুযায়ী সকলকে তাদের ধর্মের ক্রুশযুক্ত নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে কলেজে যেতে হয়। এমতাবস্থায় এ পোশাক পরিধান করা ইসলামী শরীআত সম্মত কি-না এবং আমার করণীয় কী অনুগ্রহ পূর্বক জানাবেন ।

-নূর হাসান
ময়মনসিংহ।

উত্তর : ক্রুশ প্রতীক খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় নিদর্শন। এটি ব্যবহার করা মুসলিমদের জন্য জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা লোকদের থেকে কুরআনের আয়াত সমূহে অবিশ্বাস ও বিদ্রূপ শুনবে, তখন তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় লিপ্ত হয়। নইলে তোমরাও তাদের সদৃশ গণ্য হবে। আল্লাহ মুনাফিক ও কাফেরদের জাহান্নামে একত্রিত করবেন (আন-নিসা, ৪/১৪০)। রাসূল a বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১;  মিশকাত, হা/৪৩৪৭)। অতএব একজন মুসলিম হিসাবে এমন প্রতিষ্ঠান পরিহার করা কর্তব্য।


প্রশ্ন (৩১) : শুধু সার্টিফিকেট পাওয়া অথবা চাকরি করার উদ্দেশ্যে দ্বীনের জ্ঞানার্জন করা কতটুকু শরীআতসম্মত?

-নাঈম ইসলাম
বগুড়া।

উত্তর : আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন, নিজের অজ্ঞতা দূরীকরণ এবং মুসলিমদের উপকার করার নিয়্যতের সাথে সাথে কেউ যদি সার্টিফিকেট বা চাকরি পাওয়ার ইচ্ছা রাখে তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আল্লাহ নৈকট্য অর্জনের নিয়্যত না রেখে দ্বীনের জ্ঞানার্জনের দ্বারা শুধু দুনিয়া অর্জনের নিয়্যত রাখে তাহলে সেটি জায়েয নয়। আবূ হুরায়রা c বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘যে ইলমের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা যায়, কোনো লোক যদি দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের জন্য তা শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধি পাবে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/২৫২)।


প্রশ্ন (৩২) : পুরুষের জন্য কোন রং এর পোশাক পরিধান করা হারাম ?

-জিল্লুর রহমান
মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : পুরুষদের জন্য সকল রং এর পোশাক পরিধান করা বৈধ। তবে হলুদ রঙের কাপড় পরা পুরুষদের জন্য অবৈধ। আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আছ c বলেন, রাসূল a আমার পরিহিত হলুদ রঙের দুটি পোশাক দেখে বললেন, ‘এগুলো কাফেরদের পোশাক। তুমি এসব পরবে না’ (মুসলিম, হা/২০৭৭; মিশকাত, হা/৪৩২৭)। আনাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a পুরুষের জন্য জা‘ফরান রং ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন (বুখারী, হা/৫৮৪৬; মুসলিম, হা/২১০১; মিশকাত, হা/৪৪৩৪)। লাল রং এর পোশাক জায়েয হলেও তা থেকে বেঁচে থাকাই ভালো। আলী ইবনু আবূ ত্বালেব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বন্ধু আমাকে তিনটি কাজ হতে বারণ করেছেন। আমি বলি না যে, লোকদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাকে নিষেধ করেছেন সোনার আংটি পরিধান করতে, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রঙের কাপড় এবং গাঢ় লাল রঙের কাপড় পরিধান করতে। আর আমি যেন রুকূ এবং সিজদা অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত না করি (নাসাঈ, হা/১১১৮)। তবে লাল ও হলুদের সাথে অন্য রং মিশ্রিত থাকলে উক্ত পোশাক পরিধানে কোনো বাধা নেই (আল-মাজমূউ ইমাম নববী, ৪/৩৩৭)।


প্রশ্ন (৩৩) : বগলের লোম তুলে ফেলতে হয়। কেটে ফেললে কি গুনাহ হবে?

-সাকিলা জাহান
সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : সুন্নাত হলো বগলের লোম তুলে ফেলা। রাসূল a বলেন, ‘দশটি কাজ নবীগণের ফিত্বরাত বা স্বভাবসুলভ- (১) গোঁফ কাটা, (২) দাড়ি ছেড়ে দেয়া, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, (৫) নখ কাটা, (৬) আঙ্গুলের জোড়াসমূহ ধোয়া, (৭) বগলের পশম তুলে ফেলা, (৮) নাভির নিচের পশম চেঁছে ফেলা, (৯) পানি দিয়ে ইসতেঞ্জা করা। মুসআব বলেন, দশম কাজটি আমি ভুলে গেছি। সম্ভবত সেটি হলো, কুলি করা (আবূ দাঊদ, হা/৫৩)। তবে যদি বগলের লোম তুলে ফেলা না যায় তাহলে নিরূপায় হয়ে তা কেটে ফেলা যায়।


প্রশ্ন (৩৪) : আমরা দুই ভাই বিদেশ থাকি, দুই ভাই একসাথে বাসায় টাকা পাঠাই এখন আমার বাবা এবং ভাই মিলে তারা জমি বন্ধক রাখে। আমি শুনেছি বন্ধক রাখা জায়েয নয়, আমি তাদের মানা করেছি কিন্তু তারা শোনে না। এখন আমি কি ঐ গুনাহের অংশীদার হব?

-ঝিকরগাছা, যশোর
মো. সাহিদ হাসান।

উত্তর : আমাদের দেশে যে বন্ধক প্রথা প্রচলিত আছে তাতে জমির মূল মালিক নির্দিষ্ট একটি টাকার বিনিময়ে টাকা দাতাকে জমি ভোগ করার সুযোগ দেয়। যতদিন জমির মূল মালিক টাকা ফেরত না দিচ্ছে ততদিন টাকা প্রদানকারী জমিটি ভোগ করতে পারবে। প্রশ্নে উল্লিখিত বন্ধক যদি অনুরূপই হয় তাহলে তা হারাম। সেক্ষেত্রে তাদেরকে বুঝাতে হবে যে, জমি বন্ধক নেওয়া ইসলামী শরীআতে বৈধ নয়। যদি না শোনে তাহলে এই কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করা যাবে না, বরং সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ পাপ কাজে সহযোগিতাকারী সেই পাপের অংশীদার হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নেককাজ ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)।


প্রশ্ন (৩৫) : পর্দা করে না, ছালাত আদায় করে না, এমন ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে কি?

-মোস্তাফিজুর রহমান
মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

উত্তর : এ ধরনের লোকদের বাড়ীতে দাওয়াত গ্রহণ না করাই ভালো। কেননা এগুলো চরম গর্হিত কাজ। আর গর্হিত কিছু দেখলে সে বাড়ীতে দাওয়াত খাওয়া যাবে না। ইমাম বুখারী অধ্যায় রচনা করেছেন, যদি কোনো অনুষ্ঠানে দ্বীনের খেলাফ বা অপছন্দনীয় কোনো কিছু নযরে আসে তাহলে ফিরে আসবে কি? ইবনু মাসঊদ c কোনো এক বাড়িতে (প্রাণির) ছবি দেখে ফিরে এলেন। ইবনু উমার c আবূ আয়্যূব c কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর ইবনু উমার c এ ব্যাপারে বললেন, মহিলারা আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আবূ আয়্যূব c বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশঙ্কা করেছিলাম, তাতে আপনার ব্যাপারে আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম! আমি আপনার ঘরে কোনো খাদ্য খাব না। এরপর তিনি চলে গেলেন (বুখারী, হা/৫১৮১; নাসাঈ, হা/৫৩৫১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৩৫৯)। তবে তাদেরকে উপদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে।


প্রশ্ন (৩৬) : খেলার সামগ্রীর (ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি) দোকান দিয়ে ইনকাম করা কি হালাল হবে?

-আমির হামজা
ঢাকা।

উত্তর : যে সকল খেলাধুলা সরাসরি হারাম, তার আসবাবপত্র বিক্রয় করাও হারাম। যেমন- তাস, দাবা, ক্যারাম বোর্ড, লুডু ইত্যাদি। তবে ক্রিকেট-ফুটবল খেলা যদি শরীর চর্চার জন্য হয়ে থাকে এবং তাতে যদি শরীআতের নীতি লঙ্ঘিত না হয়, তাহলে সেগুলোর সামগ্রী বিক্রি করাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জুয়া হিসাবে এসব খেলার আয়োজন করা হলে সেখানে এই সামগ্রী বিক্রয় করা যাবে না। কেননা যে খেলা মানুষকে হারামের দিকে নিয়ে যায়, সে জাতীয় খেলার সামগ্রী বিক্রয় করা সে হারামে সহযোগিতার নামান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরস্পর নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করো; অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদাহ, ৫/২)।


প্রশ্ন (৩৭) : কোনো মেয়ে কি তার দাদা, দাদি অথবা নানা, নানির ভাইদের সাথে দেখা করতে পারবে নাকি তাকে তাদের থেকে পর্দা করতে হবে?

-আবূল কাশেম, জামালপুর।

উত্তর : কোনো মেয়ে তার দাদা, দাদি অথবা নানা, নানির ভাইদের সাথে দেখা করতে পারবে। কুরআনে এসেছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ী ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছ তার আগের স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত মেয়ে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের সাথে সংগত না হয়ে থাক, তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই। আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী ও দুই বোনকে একত্র করা, আগে যা হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আন-নিসা, ৪/২৩)। এমন মেয়ে তার দাদা, দাদি অথবা নানা, নানির ভাইদের ক্ষেত্রে ভাইয়ের মেয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদের সাথে দেখা করাতে কোনো সমস্যা নেই। উল্লেখ্য যে, অবশ্যই এই ভাই আপন বা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হবে।


প্রশ্ন (৩৮) : বিকাশ, রকেট এবং ফ্লেক্সিলোড এর ব্যবসা করা যাবে কি? কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জানাবেন।

-সাদিকুল ইসলাম
দিনাজপুর।

উত্তর : এ ধরনের ব্যবসা করা থেকে সম্ভবপর বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। কেননা এগুলো সূদী প্রতিষ্ঠান। আর আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন (আল-বাক্বারাহ, ২/২৭৫-২৭৯)। এছাড়া সূদখোরদের প্রতি আল্লাহর রাসূল a অভিশাপ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। আবূ হুরায়রা c সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন কেউই সূদ খাওয়া ছাড়া থাকবে না। যদি কেউ সূদ না খায় তবুও তার ধোঁয়া তাকে স্পর্শ করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৩৩১)।


প্রশ্ন (৩৯) : তাবীয ব্যবহার শিরক জানা সত্ত্বেও একজন অসুস্থ মহিলা জিনের আছর থেকে মুক্তির জন্য তাবীয ব্যবহার করেন। এমতাবস্থায় তিনি মারা গেলে পরিণাম কী হবে? উল্লেখ্য যে, তিনি তাবীয ব্যবহারকালীন সময়ে সুস্থ থাকেন কিন্তু যখনই তা খুলে রাখেন তার দু-একদিন পরেই জিনেরা তাকে আছর করে এবং চরমভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

-আব্দুছ ছামাদ, পীরগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর : কোনো অবস্থাতেই তাবীয ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তাবীয কোনো ঔষধ নয়, বরং আক্বীদাগত কারণে তাবীয ব্যবহার করা শিরক। কখনো কখনো শিরকী কর্ম করার দ্বারা মানুষের ধারণা মতে সাময়িক উপকার হতে পারে। কিন্তু তা স্থায়ীভাবে ক্ষতি করে। তাবীয থাকার কারণে রাসূল a এক ছাহাবীর বায়আত নেননি। সে তা কেটে ফেলে দিলে তিনি তার বায়আত গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শিরক করল’ (আহমাদ, হা/১৬৯৬৯; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৩৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৪৯২)। সুতরাং তাবীয ব্যবহারকারী তওবা না করে মারা গেলে সে মুশরিক অবস্থায় মারা যাবে। আর মুশরিকের পরিণাম জাহান্নাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর  সাথে (অন্য কাউকে) অংশীদার স্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী হবে না’ (আল-মায়েদাহ, ৫/৭২)। এমতাবস্থায় কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় অথবা যারা রুকিয়্যা পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে তাদের কাছে যাওয়া যায়।


প্রশ্ন (৪০) : সহশিক্ষা আছে এমন কলেজে পর্দা করে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারবে কি? যেমন- মেডিকেল কলেজ। আবার নারী পুরুষ একসাথে চাকরি করে এমন স্থানে মেয়েরা পর্দা করে চাকরি করতে পারবে কি?

-শরীফ
ফরিদপুর।

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একসাথে পড়াশুনা বা চাকরি করা সম্পূর্ণরূপে শরীআতবিরোধী কাজ। এছাড়াও এটি মানুষের স্বভাব ধর্মের বিরোধী এবং পারস্পরিক নীতিবোধের জন্য চরম ক্ষতিকর। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো প্রচলিত সহশিক্ষা ব্যবস্থা। অতএব সর্বতোভাবে একে পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। আর ছেলে মেয়েদের আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান করার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ ‘তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করো’ (আত-তাগাবুন, ৬৪/১৬)।


প্রশ্ন (৪১) : আমার বাবা বিভিন্ন ধরনের বক পাখি শিকার করে এবং আমরা সবাই সেই পাখির গোশত খাই। আমি জানি যে, পাখি খাওয়া হালাল। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে, এখন পাখিদের বাচ্চা আছে সেই পাখির বাচ্চা নাকি অভিশাপ করবে তাই পাখি শিকার করা এবং খাওয়া হারাম হবে। দয়া করে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলবেন।

-আহসান হাবীব বেলাল
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : পাখির বাচ্চারা অভিশাপ করবে মর্মে বর্ণিত বক্তব্যটি সঠিক নয়। বরং যে পাখিগুলোর গোশত খাওয়া হালাল সেগুলো শিকার করাতে শরীআতে কোনো বাধা নেই। ইমাম বুখারী যবেহ ও শিকার করা নিয়ে একটি অধ্যায়ই রচনা করেছেন আর তাতে তিনি অনেকগুলো হাদীছ বর্ণনা করেছেন। যেমন, আবূ ছা‘লাবা আল-খুশানী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী a! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এলাকায় বসবাস করি। আমরা কি তাদের থালায় খেতে পারি? তাছাড়া আমরা শিকারের অঞ্চলে থাকি। তীর-ধনুকের সাহায্যে শিকার করি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দিয়ে শিকার করে থাকি। এমতাবস্থায় আমার জন্য কোনটি বৈধ হবে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তুমি যে সকল আহলে কিতাবের কথা উল্লেখ করলে তাতে বিধান হলো যদি অন্য পাত্র পাও তাদের পাত্রে খাবে না। আর যদি না পাও, তাহলে তাদের পাত্রগুলো ধুয়ে নিয়ে তাতে আহার করো। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার তীর-ধনুকের সাহায্যে শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ সেটি খাও। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের দ্বারা শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ সেটি খাও। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দ্বারা শিকার করেছ, সেটি যদি যবেহ করতে পার তবে তা খেতে পার’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৭৮)। এছাড়াও আরো হাদীছ প্রমাণ করে যে, পাখি শিকার জায়েয, যদিও তার বাচ্চা থাকে।


প্রশ্ন (৪২) : গরু/ছাগল দ্বারা শস্যের ক্ষতি করলে জরিমানা নেওয়া যাবে কি?

-আমিনুল ইসলাম
বগুড়া।

উত্তর : পশু যদি দিনের বেলাতে শস্য খেয়ে নেয় তাহলে এতে জমির মালিক দায়ী। আর যদি রাতের বেলা শস্য খেয়ে নেয় তাহলে পশুর মালিক দায়ী। বারা ইবনু আযেব c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a (নিম্নরূপ) ফায়ছালা প্রদান করেছিলেন, বাগ-বাগিচার দেখাশোনার দায়িত্ব দিনের বেলা তার মালিকের উপর (দিনের বেলা লোকসানের জন্য মালিক দায়ী থাকবে)। গৃহপালিত জন্তুর রাতের বেলায় দেখাশোনার দায়িত্ব তার মালিকের উপর ন্যস্ত। রাত্রিবেলায় গৃহপালিত পশুর ক্ষতির জন্য পশুর মালিক দায়ী থাকবে (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৬৯, ইবনু মাজাহ, হা/২৩৩২)। সুতরাং এক্ষেত্রে পশুর মালিকের থেকে জরিমানা নেওয়া যাবে।


প্রশ্ন (৪৩) : শীতের দিনে আমরা শরীরে লোশন ব্যবহার করে থাকি। অনেকেই বলে থাকেন লোশনে শুকরের তেল ব্যবহার করা হয়। অযূ করে লোশন দেয়া অবস্থায় ছালাত হবে না। এমনকি শরীরে লোশন দিলে শরীর নাপাকি অবস্থায় থাকে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

-হাসিন রায়হান আকাশ, বগুড়া।

উত্তর : ইবাদত ছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলোতে আসল হলো সেগুলো হালাল, যতক্ষণ কুরআন ও হাদীছ থেকে হারাম হওয়ার দলীল পাওয়া না যাবে। রাসূলুল্লাহ a বলেন, ‘হালাল স্পষ্ট হারামও স্পষ্ট’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২)। এই লোশনগুলোর ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানা যায় না যে, সেগুলোতে শুকরের তেল ব্যবহার করা হয়। তাই মূলনীতি অনুযায়ী এই লোশন ব্যবহারে শরীআতে কোনো বাধা নেই। তাই ওযূ করে লোশন দিলে ছালাত হবে না কিংবা শরীর নাপাক থাকবে এগুলো সঠিক কথা নয়। তবে যদি স্পষ্টভাবে জানা থাকে যে, তাতে শুকরের তেল ব্যবহার করা হয়েছে তাহলে সেটি ব্যবহার করা হারাম হবে।


প্রশ্ন (৪৪) : শিক্ষক, পিতা-মাতা বা কোনো সম্মানিত ব্যক্তির কদমবুচি করা যাবে কি?

 –জহিরুল ইসলাম
বাসাইল, টাঙ্গাইল।

উত্তর : শিক্ষক পিতা-মাতাসহ যেকোনো সম্মানিত ব্যক্তির কদমবুচি করা যাবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন মুহাম্মাদ a। কোনো ছাহাবী কিংবা তার আদরের কন্যা ফাতেমা g তাঁর এগার জন স্ত্রীর কেউ তাঁর কদমবুচি করেছেন এর কোনো প্রমাণ নেই। রাসূল a তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান করাকে অপছন্দ করতেন। আনাস c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছাহাবীদের কাছে রাসূলুল্লাহ a-এর চেয়েও প্রিয় কোনো ব্যক্তি ছিল না। কিন্তু তাঁকে দেখেও তারা দাঁড়াতেন না। কেননা, তাঁরা জানতেন যে, তিনি দাঁড়ানো পছন্দ করেন না’ (মিশকাত, হা/৪৬৯৮; তিরমিযী, হা/২৭৫৪; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৫৮)।


আক্বীক্বা


প্রশ্ন (৪৫) : আক্বীক্বার দিনে শিশু কন্যার মাথা মুণ্ডন করার হুকুম কী? নিচের দু‘আটি কি সঠিক? ‘আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া-লাকা আক্বীক্বাতু ফুলানিন’।

আহিজুদ্দীন
আসাম, ভারত।

উত্তর : (ক) : আক্বীক্বার দিন নবজাতক শিশুর মাথা মুণ্ডন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। এ ক্ষেত্রে কন্যা ও পুত্র সন্তানের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আমের আদ-দাব্বী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ a-কে বলতে শুনেছি, ‘শিশুর জন্মের সাথে আক্বীক্বা (অঙ্গাঙ্গিভাবে) জড়িত। সুতরাং তার পক্ষ হতে তোমরা রক্ত প্রবাহিত (যবেহ) করো। আর তার শরীর হতে ময়লা দূর করে দাও’ (অর্থাৎ মাথার চুল মুণ্ডন করে দাও) (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৭; তিরমিযী, হা/১৫১৫; আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৯)। (খ) বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করা যথেষ্ট। তবে প্রশ্নোল্লিখিত দু‘আটি আক্বীক্বার সময় পাঠ করা যায়। ক্বাতাদা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর পশু যবেহর সময় যেভাবে নাম উল্লেখ করা হয় তদ্রূপ আক্বীক্বার ক্ষেত্রেও যেন উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ এইভাবে যেন বলা হয় بِسْمِ اللهِ ، عَقِيقَةُ فُلاَنٍ ‘বিসমিল্লাহি আক্বীক্বাতু ফলানিন’ (মূছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৪৭৫৩)।  অপর বর্ণনায় দু‘আটি এইভাবে বর্ণিত হয়েছে- اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ ، عَقِيقَةُ فُلاَنٍ ، بِسْمِ اللهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ  ‘আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া-লাকা আক্বীক্বাতু ফুলানিন’ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৪৭৫৪; ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ৯/৫৯৪, নায়লুল আওতার, ৫/১৫১)। উল্লেখ্য যে, ফুলানিন শব্দের স্থানে শিশুর নাম ‍উল্লেখ করবে।


চুরির বিধান


প্রশ্ন (৪৬) : কোনো কোনো সরকারি চাকরিজীবী সরকারি মাল (তেল, ওষুধ, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি) লুকিয়ে বিক্রি করে। সরকারি মাল চুরি করে বিক্রি করা কি বৈধ? সেই মাল কিনে নেওয়া কি বৈধ?

-আব্দুর রহমান
নওগাঁ সদর।

উত্তর : অবশ্যই তাদের এমন আমানতে খেয়ানত করা বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

}يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ{

‘হে বিশ্বাসীগণ! জেনে শুনে আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত (গচ্ছিত দ্রব্য) সম্পর্কেও খেয়ানত করো না’ (আল-আনফাল, ৮/২৭)।

দ্বিতীয়ত, এ কাজ অসদুপায়ে অপরের মাল ভক্ষণের শামিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,

}يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ{

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে তোমাদের পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে তা বৈধ)’ (আন-নিসা, ৪/২৯)। আর চুরির এমন মাল জেনে শুনে ক্রয় করা বৈধ নয়, বিনামূল্যে নেওয়াও বৈধ নয়। যেহেতু তা চুরির মাল।


অন্যান্য


প্রশ্ন (৪৭) : মূসা e একবার আল্লাহ তাআলাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! জান্নাতে আমার সাথে কে থাকবে? জবাবে আল্লাহ বললেন, একজন কসাই! কসাইয়ের নাম শুনে তিনি খুবই আশ্চর্য হলেন। অনেক খোঁজ করার পর বাজারে গিয়ে দেখলেন, কসাই গোশত বিক্রিতে ব্যস্ত! সবশেষে কসাই এক টুকরো গোশত একটি কাপড়ে মুড়িয়ে নিলেন। অতঃপর বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। মূসা e তাঁর সম্পর্কে আরো জানার জন্য পিছুপিছু তাঁর বাড়ি গেলেন। কসাই বাড়ি পৌঁছে গোশত রান্না করলেন। অতঃপর রুটি বানিয়ে তা গোশতের ঝোলে মেখে নরম করলেন। তারপর ঘরের ভিতরের কামরায় প্রবেশ করে শয়নরত এক বৃদ্ধাকে উঠিয়ে বসালেন। তারপর তার মুখে টুকরো টুকরো রুটি পুরে দিতে লাগলেন। খাওয়ার পর বৃদ্ধা কি যেন কানেকানে বললেন। অমনি কসাই মুচকি হাসলেন। দূর থেকে মূসা e সবই দেখছিলেন। কিন্তু, কিছুই বুঝলেন না। মূসা e বৃদ্ধার পরিচয় এবং মুচকি হাসার বিষয়টি কসাইকে জিজ্ঞেস করলেন। কসাই বললেন, উনি আমার মা, আমি বাজার থেকে আসার পর সর্বপ্রথম আমার মাকে রান্না করে খাওয়াই। আর মা খাওয়ার পর খুশি হয়ে আমার কানের কাছে এসে আল্লাহ তাআলার কাছে এই বলে দু‘আ করেন, আল্লাহ তাআলা তোমাকে জান্নাত দান করুক এবং মূসা e-এর সাথে রাখুকআমি এই দু‘আ শুনে এই ভেবে মুচকি হাসি যে, কোথায় মূসা e আল্লাহর নবী, আর কোথায় আমি একজন কসাই!! তখন মূসা e ভাবলেন একারণেই তুমি আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। উক্ত ঘটনা কি সত্য?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত ঘটনা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।


প্রশ্ন (৪৮) : এমন কোনো দু‘আ, সূরা বা আয়াত আছে কি যা পাঠ করলে পুলসিরাত পার হওয়া যাবে হাশরের মাঠে, মিযানের পাল্লা ভারী হবে ও হিসাব-নিকাশে মুক্তি পাওয়া যাবে?

-আমিনুল ইসলাম
কমলগঞ্জ, আদমপুর বাজার, মৌলভীবাজার।

উত্তর : পুলসিরাত পারাপার সহজ হওয়ার জন্য আমল করার মতো কোনো দু‘আ কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়নি। তবে একথা স্পষ্ট যে, মুমিন-মুত্তাক্বীরাই পুলসিরাত পার হতে সক্ষম হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সে দিন আপনি দেখবেন মুমিন নর-নারীর সামনে পিছনে তাদের নূর চলতেছে’ (আল-হাদীদ, ৫৭/১২)। আর সৎ আমলের তারতম্য অনুসারে সে দিন কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ বা পাখি উড়ার গতিতে পুলসিরাত পার হবে। আর আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক এই দুইটি বিষয় বান্দার কাছে পাঠানো হবে। তারা পুলসিরাতের দুই পাশ ডান ও বামে এসে দাড়াবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হা/৮৭৫১; মিশকাত, হা/৫৫৭৬)। তাই দ্রুত পুলসিরাত পার হওয়ার জন্য মুমিন বান্দার উচিত হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে তাক্বওয়া অবলম্বন করা, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, সুন্নাতের পাবন্দী হওয়া, আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা।

ক্বিয়ামতের মাঠে মুক্তি পাওয়ার দু‘আ : বনু কেনানা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমি নবী করীম a-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছি। অতঃপর আমি তাকে পড়তে শুনেছি,

اللهم لَا تُخْزِنِيْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا تُخْزِنِيْ يَوْمَ الْبَأْسِ

‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্বিয়ামতের দিন ও কঠিন বিপদের দিন অপমানিত করবেন না’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮০৮৫; মু‘জামুল কাবীর, হা/২৫২৪)

হিসাবনিকাশ সহজের দু‘আ :

اللهم حَاسِبْنِيْ حَسَابًا يَسِيْرًا

‘হে আল্লাহ! তুমি আমার সহজ হিসাব গ্রহণ করো’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৬১; মিশকাত, হা/৫৫৬২)। মিযানের পাল্লা ভারী হওয়ার দু‘আ : আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘দুইটি বাক্য আছে এমন যা উচ্চারণে সহজ, মিযানের পাল্লায় ভারি হবে, দয়াময় আল্লাহর কাছে অতীব প্রিয় সেই দুইটি বাক্য হচ্ছে,

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ

‘আমি মহান আল্লাহর তাসবীহ বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসা সহকারে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬৮২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৪; তিরমিযী, হা/৩৪৬৭)।


প্রশ্ন (৪৯) : দরিদ্র মুহাজিরগণ ধনীদের পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে যাবে মর্মে বক্তব্য কি সঠিক?

-আতাউর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আবূ সাঈদ খুদরী c থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, ‘দরিদ্র মুহাজিরগণ তাদের বিত্তবানদের তুলনায় পাঁচশত বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪১২৩)।


প্রশ্ন (৫০) : সূরা ইউসুফ এর ১০৮ নং আয়াতের কোনো ফযীলত আছে কি?
-আব্দুল্লাহ ইবনুল মুছত্বফা

দাম্মাম, সঊদী আরব।

উত্তর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন! এটাই আমার পথ, আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি ডাকি জেনে-বুঝে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আল্লাহ কতই না পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (ইউসুফ, ১২/১০৮)। এখানে নবী রাসূলের দাওয়াতের একটি বিশেষ পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই আয়াতের বিশেষ কোনো ফযীলত কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি।