সাওয়াল জওয়াব


ঈমান-আক্বিদা


প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, ফিলিস্তিন হবে ক্বিয়ামতের মাঠ আর আমি শুনেছি আল্লাহ আরশ নিয়ে অবতরণ করবেন আরাফার মাঠে আর সেখানেই হবে হিসাব-নিকাশ এই তথ্য কি ঠিক?

-নাজমুল ইসলাম
শার্শা, যশোর।

উত্তর : আরাফার মাঠ ক্বিয়ামতের মাঠ হবে একথা ঠিক নয়। ক্বিয়ামতের মাঠ হবে শাম দেশ। তবে এই শাম (সিরিয়া) দেশে মানুষ দুইবার একত্রিত হবে। একবার শেষ যামানায় দুনিয়াতে আরেকবার পরকালে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘অচিরেই হাযরামাউতের দিক থেকে বা হাযরামাউত থেকে একটি আগুন বের হবে যা পৃথিবীর সকল মানুষকে একত্রি করবে। আমরা বললাম, আল্লাহর রাসূল! তাহলে আপনি আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, তোমরা তখন শামে চলে যাবে’ (তিরমিযী, হা/২২১৭; মিশকাত, হা/৬২৬৫)। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, الشَّامُ أَرْضُ الْمَحْشَرِ وَالْمَنْشَرِ ‘শামদেশ হবে হাশর-নাশরের মাঠ’ (মুসনাদে বাযযার, হা/৩৯৬৫; ছহীহুল জামে‘, হা/৩৭২৬)।


প্রশ্ন (২) : দ্বীনের ভিতরে ‘মধ্যমপন্থা’ বলতে কী বুঝায়?

শাহিনুর রহমান
নওগাঁ।

উত্তর : ‘মধ্যমপন্থা’ বলতে ‘হক্বের কিছু ছাড় দিয়ে বাতিলের কিছু মেনে নিয়ে সমন্বয় করে চলা’ সমাজে প্রচলিত এই অর্থ নিছক ধোঁকা ও সুকৌশলে মানুষের ঈমানকে ধ্বংস করার চক্রান্ত। “মধ্যমপন্থা” কুরআন ও হাদীছে যা বুঝানো হয়েছে তা নিম্নরূপ: মহান আল্লাহ কুরআনে উম্মতে মুহাম্মাদীকে মধ্যম জাতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অনুরূপ আমি তোমাদের মধ্যমপন্থী জাতি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষী হও মানুষের বিরুদ্ধে এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাক্ষী হোন তোমাদের পক্ষে (আল-বাক্বারা, ২/১৪৩)। মধ্যমপন্থার বেশ কিছু অর্থ রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা হল। ১. ইনছাফ-মধ্যমপন্থার যে সকল অর্থের সাথে এই জাতি বিশেষিত তার একটি হলো ইনছাফ যা একজন সাক্ষীর মধ্যে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য থাকা জরুরী। আর যার ভিতরে ইনছাফ থাকবে না তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং ন্যায়পরায়নতা সাক্ষদাতা ও অন্বেষনের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে মানুষ সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক পন্থায় রিযিক্ব অন্বেষণ করো। কেননা কোনো আত্মা তার রিযিক্ব পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে না যদিও তা ধীর বা স্বল্প গতিতে আসে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করে সঠিক পন্থায় রিযিক্ব অন্বেষণ করো। যা হালাল তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হারাম তা বর্জন কর (ইবনু মাজাহ, হা/২২৪৪)।


প্রশ্ন () : ছোঁয়াচে রোগ বিষয়ে কুরআন ও ছহীহ হাদীছগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

-আব্দুল্লাহিল কাফী
মালোশিয়া।

উত্তর : কুরআন এবং ছহীহ হাদীছ দ্বারা  ছোঁয়াচে রোগ প্রমাণিত নয়। এমর্মে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (১) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সংক্রামক ব্যধি ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে শুভ লক্ষণ মানা আমার নিকট পছন্দনীয়। লোকেরা বলল, শুভ লক্ষণ কী? তিনি বললেন, উত্তম বাক্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৭৬)। (২) আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত আছে যে, ‘এক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জঙ্গলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোনো একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়। তিনি বললেন, তাহলে প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?  (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭১৭)। (৩) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘রোগের কোনো সংক্রমণ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসেও কোনো অশুভ নেই। কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭০৭)। (৪) আমর ইবনু শারীদ তার পিতার বরাদ দিয়ে বলেন, ‘ছাক্বীফ গোত্রীয় প্রতিনিধি দলের মাঝে একজন কুষ্ঠরোগী ছিলেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে (সংবাদ) পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বায়’আত করে নিয়েছি। তুমি ফিরে যাও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩১)। (৫) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, রোগাক্রান্ত উটকে সুস্থ উটের সাথে রেখো না। অবশ্য সুস্থ উটকে যেখানে ইচ্ছা রাখতে পার। এরপর তাকে জিঙ্গাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এমনটি কেন করা হবে? তিনি বললেন, কারণ তা ক্ষতিকর’ (মুয়াত্ত্বা মালেক, ৫/১৩৮১)।

উল্লেখ্য যে, যে সকল হাদীছের বাহ্যিক অর্থ দ্বারা বুঝা যায় যে, সংক্রমণ রোগ আছে। মূলত তা সংক্রমণ রোগ নয়। বরং ইসলামের সঠিক বিশ্বাস হচ্ছে- কোনো রোগ নিজস্ব ক্ষমতায় অপরের মাঝে সংক্রমণ হতে পারে না। বরং তাক্বদীরে থাকলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা অপরের মাঝে সংক্রমণ হয়ে থাকে। অর্থাৎ রোগ সংক্রমণ হয় না বরং আল্লাহ চাইলে তা অপরের মাঝে ছড়ায়।


শিরক


প্রশ্ন () : কেউ যদি আমাকে শিরকের দিকে ডাকে অথচ সে জানে না যে, তা শিরক। সে ক্ষেত্রে আমি সেখানে না যাওয়ার জন্য কি মিথ্যা বলতে পারব?

-জুলকার
ঢাকা।

উত্তর : এমন অবস্থাতে প্রথমত যে কাজটি করতে হবে তা হলো- তাকে শিরকের ভয়াবহতা সর্ম্পকে জানাতে হবে যাতে সে শিরক সর্ম্পকে ভালোভাবে অবগত হতে পারে এবং বিরত থাকতে পারে। এরপর তাকে এমন সব জায়গাতে গেলে তার শিরক হয়ে যাবে সে বিষয়টিও উল্লেখ করতে হবে। তবে মিথ্যা কথা বলা হতে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ যেসব জায়গাতে মিথ্যা বলা বৈধ রয়েছে উক্ত বিষয়টি তার অন্তর্ভূক্ত নয়। উম্মে কুলসূম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক মানুষকে তিনটি বিষয়ে মিথ্যা কথা বলার অনুমতি দিয়েছেন তা শ্রবণ করেছি। আর তা হলো- (১) যুদ্ধের ক্ষেত্রে (২) মানুষের মাঝে মীমাংসার ক্ষেত্রে (৩) এবং স্বামী-স্ত্রীর কথা-বার্তার মাঝে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৫; মিশকাত, হা/৫০৩১)। ‍


প্রশ্ন (৫) : শুনেছি তা’বীয ব্যবহার করা শিরক এখন কোনো ব্যক্তি যদি তা’বীয দেয় তাহলে সে ঈমানদার থাকবে না-কি মুশরিক হয়ে যাবে?

-মিল্লাত
হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট।

উত্তর : তা‘বীয ব্যবহার করা শিরক। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তা’বীয লটকাল সে শিরক করল’ (মুসনাদে আহামাদ, হা/১৭৪৫৮)। আর যে ব্যক্তি তা‘বীযের ব্যবসা করে বা তা‘বীয দেয় এমন ব্যক্তিকে শিরককারী বলা যেতে পারে। কেননা অনেক মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করার পরেও শিরককারী হয়ে থাকে। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে’ (ইউসুফ, ১০৬)। সাথে সাথে তা’বীয দেওয়া অন্যায় কর্মে সহযোগিতার শামিল। আর অন্যায় কর্মে সহযোগিতা করা হারাম। ‘তোমরা ভালো এবং তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)।


শিরক- ছবি-মূর্তি


প্রশ্ন (৬) : আমি যতটুকু জানি ছবি তোলা ভিডিও করা জায়েয নয়। কিন্তু বর্তমানে আলেম সমাজ যেভাবে ছবি তোলে আর ভিডিও করে তা কতটুকু শরীয়াতসম্মত। কুরআন হাদীছের আলোকে জানতে চাই।

-নূর উদ্দিন
নোয়াখালী।

উত্তর : ছবি তোলা শরীয়তে স্বাভাবিকভাবে হারাম। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী, كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ ‘তথা প্রত্যেক ছবি অঙ্কনকারী জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (ছহীহ মুসলিম, ২১১০; মিশকাত, হা/৪৪৯৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৮১১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি শাস্তি প্রদান করা হবে সেই ব্যক্তিকে যে ছবি অঙ্কন করত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১০৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৮)। তবে যে ছবি তাৎক্ষনিকভাবে তোলা হয় ও বের করা হয় তা উক্ত হাদীছের অন্তর্ভূক্ত হবে না। আর এ ক্ষেত্রে দুইটি অবস্থা রয়েছে- (১) যদি তা কোনো বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে তা জায়েয হবে (২) আর যদি তা অবৈধ কাজের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে তা বৈধ হবে না (মাজমূউল ফতওয়া লি ইবনে উছাইমীন, ১২/৩৩০)। অনুরূপভাবে মানুষ যদি কোনো কাজের ক্ষেত্রে বাধ্য হয় এবং তা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই সে ক্ষেত্রেও বৈধ হবে। যেমন: ইলমি বৈঠকে অংশ গ্রহণ, গাড়ির ড্রাইভিংয়ের জন্য, কোনো কিছু সংরক্ষণ করা ইত্যাদি। অবশ্য সকল প্রকারের অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।


ইবাদত- পবিত্রতা-ওযূ


প্রশ্ন (৭) : মহিলাদের মাথার চুল খোপা বাঁধা অবস্থায় কি ওযূতে মাথা মাসাহ করতে পারবে, না-কি চুল ছেড়ে দিয়ে মাথা মাসাহ করতে হবে?

-আবুল কাশেম
জামালপুর।

উত্তর : নারী পুরুষ সকলের জন্য পূর্ণ মাথা মাসাহ করা ফরয। কেননা ওযূর ফরযসমূহের মধ্য হতে একটি ফরয হলো- পূর্ণ মাথা মাসাহ করা। মহান আল্লাহ বলেন, وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ ‘তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো’ (আল-মায়েদা, ৬)। আব্দুল্লাহ ইবনু যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাত দ্বারা মাথা মাসাহ করেছেন। উভয় হাতকে সামনে ও পিছনে নিয়েছেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে হাত দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে গেছেন। এরপর হাত দুটি আবার যে স্থান থেকে শুরু করেছিলেন সে স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তারপর তাঁর দুই পা ধৌত করেছেন (তিরমিযী, হা/৩২; ছহীহ বুখারী, ১৮৫; মিশকাত, হা/৩৯৩)। মহিলাদের ওযূর জন্য মাথার চুল খোলা জরুরী নয়। বরং চুল যেভাবে আছে সেভাবে রেখেই পূর্ণ মাথা মাসাহ করা যথেষ্ট। রুবাই’ বিনতু মু‘আব্বিয ইবনু ‘আফরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, একদা তাঁর সম্মুখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন। তিনি (ওযূতে) চুলের উপরিভাগ থেকে শুরু করে প্রত্যেক পাশে নিচের দিকে চুলের ভাজ অনুযায়ী এবং চুলকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে পুরো মাথা মাসাহ করলেন (আবূ দাউদ, হা/১২৮)।


ইবাদত- ছালাত


প্রশ্ন () : ইমামের আগে রুকূ’, সিজদা, ক্বিয়াম ইত্যাদি করার বিধান কী? অনেক মানুষকে দেখা যায় ইমাম সালাম ফেরানোর অনেকক্ষণ পর সালাম ফেরায়। আসলে ইমামের পিছনে সালাম ফেরানোর সঠিক সময়টি কখন?

-আব্দুল্লাহ
ঢাকা।

উত্তর : ইমামের আগে রুকূ, সিজদা, ক্বিয়াম ইত্যাদি করা হারাম। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘হে মানুষ সকল! নিশ্চয় আমি তোমাদের ইমাম। বিধায় তোমরা রুকূ’, সিজদা, ক্বিয়াম, বসা এবং সালাম আমার পূর্বে করো না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩২৩)। বরং এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কঠোরতা আরোপ করেছেন। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে তার মাথা ইমামের পূর্বেই উত্তোলন করে সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথাতে অথবা গাধার আকৃতিতে পরিনত করে দিবেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪২৭; আবূ দাঊদ, হা/৬২৩)। ইমামের পিছনে সালাম ফিরানোর সঠিক সময় হলো- ইমামের সালাম ফিরানোর পরপরই সালাম ফিরানো। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় কেবল তার পরিপূর্ণ অনুসরণ করার জন্য। অতএব ইমাম যখন তাকবীর দিবে তখন তোমরা তাকবীর দাও এবং যখন ইমাম রুকূ’ করে তখন তোমরা রুকূ’ কর…’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৭)। উক্ত হাদীছে বুঝা যায় যে, সালাম ফিরানোর ক্ষেত্রে বেশি দেরি করা যাবে না। বরং ইমামের সালাম ফিরানোর পরপরই ফিরাতে হবে।


প্রশ্ন (৯)  : ছালাতে দাঁড়ানোর পর কি চোখ বন্ধ করা যাবে, না-কি চোখ সিজদার স্থানে খোলা রাখতে হবে? চোখ বন্ধ থাকলে কি কোনো সমস্যা হবে?

-হৃদয় আহমেদ
ঢাকা।

উত্তর : ছালাতের মধ্যে চক্ষু খুলে রাখা বিধিবদ্ধ সুন্নাত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বা গৃহে প্রবেশ করার পর সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর দৃষ্টি সিজদার স্থান হতে সরাননি (মুসতাদরাক হাকেম, হা/১৭৬১; সুনানুছ-ছুগরা, হা/১৩৬৭)। ক্বিলাবা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুসলিম ইবনু ইয়াসারকে জিজ্ঞাসা করলাম। ছালাতে মুছল্লির দৃষ্টি কোথায় থাকবে? তিনি বললেন, তোমার সিজদার, স্থানে (মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৬৫৬২)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, একবার নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি নকশা করা চাদর পরে ছালাত আদায় করলেন। ছালাতের পরে তিনি বললেন, ‘এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে নিবিষ্ট করে রেখেছিল। এটি আবূ জাহমের কাছে নিয়ে যাও এবং এর পরিবর্তে একটি ‘আম্বিজানিয়্যা’ (নকশাহীন চাদর) নিয়ে এসো (ছহীহ বুখারী, হা/৭৫২)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর একটি পর্দা ছিল, যা দ্বারা তিনি ঘরের একদিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তোমার এ পর্দা সরিয়ে ফেল। কারণ তার ছবিসমূহ আমার ছালাতের মাঝে আমার চোখে পড়ে’। (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মিশকাত, হা/৭৫৮)| যদি ছালাতে চক্ষু বন্ধ করে রাখা শরীয়তসম্মত হত, তাহলে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই চক্ষু বন্ধ রাখতেন এবং সেই চিত্রগুলো তাকে অমনোযোগী করত না। (ফতওয়া লাজনা দায়েমা, ৫/৩৭৯ পৃ.)। অনেকে বলে থাকেন, ছালাতে খুশূ’-খুযূ সৃষ্টির জন্য চক্ষু বন্ধ করা যায়। তাদের এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।


প্রশ্ন (১০) : ছালাতে যে অঙ্গ ঢেকে রাখা ফরয, তার মাঝে যদি সামান্য ছিদ্র থাকে, তাহলে ছালাত শুদ্ধ হবে কি?

সদরুদ্দীন
ঢাকা।

উত্তর : নারী-পুরুষ সকলের জন্য ছালাতে সতর ঢেকে রাখা শর্ত এবং আবশ্যক (আল-মুগনী, ১/৩৩৭)। কেননা সতর খোলা অবস্থায় ছালাত কবুল হয় না। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ حَائِضٍ إِلاَّ بِخِمَارٍ ‘কোনো প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা ওড়না ছাড়া ছালাত আদায় করলে, আল্লাহ তার ছালাত কবুল করবেন না’ (ইবনু মাজাহ, হা/৬৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৮৭৬)। সুতরাং স্বেচ্ছায় কোনো ব্যক্তি সতর খোলা রেখে ছালাত আদায় করলে তার ছালাত বাতিল হবে। তাই এই ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে এবং সতর বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন পোষাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে। আর অজ্ঞতা বা ভুলক্রমে যদি সতরের কোনো অঙ্গ ছালাতে খুলে যায় তাহলে তার ছালাত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ বান্দার অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমা করে দিয়েছেন (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৫; মিশকাত, হা/৬২৮৪)। আর ছিদ্র যদি অতি সামান্য হয়ে থাকে যার কারণে সতর দেখা যায় না বা মানুষের নজরে পড়ে না, তাহলে এমন ছিদ্রের কারণে ছালাতের কোনো সমস্যা হবে না।


প্রশ্ন (১১) : ছালাতে সালাম ফিরার সময় কি দুই কাঁধের উপর দৃষ্টি দিতে হবে?

-মোশাররফ হোসাইন
ধানখোলা, মেহেরপুর।

উত্তর : সালাম ফিরানোর সময় কোথায় দৃষ্টি রাখতে হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিবরণ নেই। তবে ডানদিকে কিংবা বামদিকে তাকানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। জাবের ইবনু সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘…যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে, তখন তার পাশেরজনের দিকে তাকাবে, হাত দিয়ে ইশারা করবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩১)। নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডানদিকে সালাম ফিরানোর সময় বলতেন আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এমনকি তার ডান গালের শুভ্রতা দেখা যেত। আবার বামদিকে সালাম ফিরানোর সময় বলতেন আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এমনকি তার বাম গালের শুভ্রতা দেখা যেত’ (নাসাঈ, হা/১৩২৫; মিশকাত, হা/৯৫০)। ইবনু রাসলান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই হাদীছে ‘অধিক পরিমাণে ঘুরে তাকানোর প্রমাণ পাওয়া যায়’ (শারহু সুনান আবী দাঊদ লি ইবনি রাসলান, ৫/২৯০)। ইমাম ত্বীবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ডানদিকে কেউ থাকলে যেমন তার দিকে তাকিয়ে সালাম দেয়, সেভাবে ডানদিকে দৃষ্টি ফিরাবে’ (আওনুল মা‘বূদ, ৩/২০২)। তাই সালাম ফিরানোর সময় ডানে-বামে তাকিয়ে সালাম ফিরালেই হবে। কাঁধ কিংবা পাশের জনের দিকে তাকানো জরুরী নয়।


প্রশ্ন (১২) : ছালাতের পর কেউ যদি বুঝতে পারে যে, অসাবধানতাবশত কাপড় টাখনুর নিচে ছিল, তাহলে কি ছালাত আবার পড়তে হবে?

-শামীম
উত্তরা, সেক্টর-১০, ঢাকা।

উত্তর : টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা কাবীরা গুনাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘লুঙ্গির যে পরিমাণটুকু পায়ের গাঁটের নিচে যাবে, সে পরিমাণ জাহান্নামে যাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭; মিশকাত, হা/৪৩১৪)।  আবূ যার গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন শ্রেণির লোকের সাথে কথা বলবেন না; তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আবূ যার গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তাদের জন্য ধ্বংস! তারা কারা? তিনি বললেন, যে টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে, যে অনুগ্রহ বা উপকার করে খোঁটা দেয় এবং যে মিথ্যা কসম দ্বারা নিজের মাল চালু (বিক্রয়) করার চেষ্টা করে (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬; মিশকাত, হা/২৭৯৫)। তবে অজ্ঞতাবশত কিংবা অসর্তকতাবশত যদি এমন হয়ে যায় তাহলে ছালাত হয়ে যাবে। কেননা এমন অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃত এবং যার উপর তাকে বাধ্য করা হয়, তার পাপকে ক্ষমা করেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৫; মিশকাত, হা/৬২৮৪)।


প্রশ্ন (১৩) : দু‘আ কুনূত ছাড়া শুধু সূরা ফাতেহা পড়ে এক রাকা’আত বিতর ছালাত পড়া যাবে কি?

-আদনান
পটিয়া, চট্টগ্রাম।

উত্তর : শুধু সূরা ফাতেহা নয় বরং ছালাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা পড়া সুন্নাত। এক রাকা’আত বিতর পড়াই উত্তম। বিতর ছালাতে মাঝে মাঝে দু‘আ কুনূত পড়া সুন্নাহ আর মাঝে মাঝে ছেড়ে দেওয়া জরুরী। কেননা বিতর ছালাতে নিয়মিত কুনূত পড়া বিদ’আত। তাই বিতর ছালাতে দু‘আ কুনূত না পড়লেও বিতর ছালাত হয়ে যাবে। হাসান ইবনু আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي قُنُوتِ الْوَتْرِ  রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর ছালাতে পড়ার জন্য আমাকে কিছু বাক্য শিখিয়েছেন অর্থাৎ দু‘আয়ে কুনূত শিখিয়েছিলেন… (আবূ দাঊদ, হা/১৪৪৫; তিরমিযী, হা/৪৬৪; নাসাঈ, হা/১৭৪৫; মিশকাত, হা/১২৭৩)। আবূ মালেক আল আশজা‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে পিতা! আপনি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর, ‘উমার, ‘উসমান, আর ‘আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) -এর পেছনে কুফায় প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত ছালাত আদায় করেছেন। এসব মর্যাদাবান ব্যক্তিগণ কি ‘দু‘আ কুনূত’ পড়তেন? তিনি জবাব দিলেন, হে আমার পুত্র! দু‘আ কুনূত (নিয়মিত) পড়া বিদ‘আত (তিরমিযী, হা/৪০২; মিশকাত, হা/১২৯২)।


প্রশ্ন (১৪) : ছালাতের রুকন এবং ওয়াজিবসমূহ কী কী?

-মিনহায পারভেজ
হড়গ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : কুরআন ও ছহীহ হাদীছে সুস্পষ্টভাবে ছালাতের রুকন ও ওয়াজিব আলাদাভাবে বর্ণিত হয়নি। সুতরাং পৃথকভাবে রুকন ও ওয়াজিব বলা যায় না। তবে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে ছালাতের কিছু আমলকে ফরয বলা যায়। ১. দাঁড়ানো- সক্ষম ব্যক্তির দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা (আল-বাক্বারা, ২/২৩৮)। ২. তাকবীরে তাহরীমা- তাকবীরে তাহরীমা তথা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দুই হাত কাঁধ অথবা কান পর্যন্ত উঠানো। মহান বলেন, ‘তোমার প্রভুর জন্য তাকবীর দাও’ (আল-মুদ্দাছছির, ৭৪/৩)। ৩ ও ৪. রুকূ ও সিজদা করা (হজ্জ, ২২/৭৭)। ৫. ধীরস্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকা, ৬. সিজদা থেকে মাথা উঠানো, ৭. দুই সিজদার মাঝে বসা, ৮. ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা তথা প্রত্যেক রুকন ধীরস্থিরভাবে আদায় করা (ছহীহ বুখারী, হা/৭৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৭; মিশকাত, হা/৭৯০)। ইত্যাদি…


প্রশ্ন (১৫) : প্রত্যেক ছালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়তে হয়। এই আমল কি সুন্নাত বা নফল ছালাতের পর করা যাবে?

-মোসা. মানসুরা খাতুন
সাহাপাড়া, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : করা যায়। কেননা ছালাতের পরবর্তী তাসবীহ-তাহলীলগুলো ফরয ছালাতের পর পাঠ করার ব্যাপারে যেমন বর্ণনা পাওয়া যায় তদ্রূপ ব্যাপকতার হাদীছও পাওয়া যায়। যেখানে তিনি ফরয, সুন্নাত, নফলকে আলাদাভাবে বিভক্ত করেননি (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৭১; মিশকাত, হা/৯৭৩, ৯৪৯)। অতএব কেউ চাইলে সুন্নাত ছালাতের পরেও তা পড়তে পারে। আল্লাহ ভালো জানেন।


প্রশ্ন (১৬) : মাগরিবের আযানের আগ মুহুর্তে মসজিদে ঢুকে কি তাহিয়্যাতুল মসজিদের ছালাত আদায় করা যাবে?

-ফয়েজউল্লাহ
মিরপুর-১২।

উত্তর : ছালাত দুই ধরণের। ১. ছালাতে আছলী বা মৌলিক ছালাত ২. ছালাতে সাবাবী বা কারণভিত্তিক ছালাত। মৌলিক ছালাত বলতে বুঝায় ফরয ছালাত, ফরয ছালাতের আগের-পরের সুন্নাত ছালাত, তাহাজ্জুদের ছালাত ইত্যাদি। আর কারণভিত্তিক ছালাত হলো যা কোনো কারণের প্রেক্ষিতে আদায় করা হয়। যেমন : তাহিয়্যাতুল ওযূ; ওযূ করলে পড়তে হয়। তাহিয়্যাতুল মসজিদ; মসজিদে প্রবেশ করলে পড়তে হয়। মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকা’আত ছালাত; তওয়াফ করলে পড়তে হয় ইত্যাদি। যে সকল সময়ে ছালাত আদায় করা নিষিদ্ধ, তা মূলত ছালাতে আছলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর ছালাতে সাবাবীর কোনো সময়সীমা নেই। যখনই সাবাব তথা কারণ ঘটবে, তখনই সেই ছালাত আদায় করতে হবে। এজন্য রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন দুই রাকা’আত ছালাত না পড়ে যেন না বসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৪)। তাই সূর্যাস্তের সময়েও মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকা’আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে।


ইবাদত- জানাযা


প্রশ্ন (১৭) : জানাযার ছালাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মেলানোর দলিল জানতে চাই?

-জিনান বিন মইনুদ্দীন
গোয়ালডিহি খানসামা দিনাজপুর।

উত্তর : জানাযার ছালাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা পাঠ করা দলীল দ্বারা সাব্যস্ত। ত্বালহা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আওফ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি একদা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পিছনে জানাযার ছালাত আদায় করলাম। قَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ وَجَهَرَ حَتَّى أَسْمَعَنَا فَلَمَّا فَرَغَ أَخَذْتُ بِيَدِهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ سُنَّةٌ وَحَقٌّ তাতে তিনি সূরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। তিনি ক্বিরা’আত জোরে পড়ে আমাদের শুনালেন। তিনি যখন ছালাত শেষ করলেন তখন আমি তাকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা সুন্নাত এবং হক্ব (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩৫; নাসাঈ, হা/১৯৮৭; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩০৭১)।


ইবাদত- হজ্জউমরা


প্রশ্ন (১৮) : একই সফরে কতবার ওমরা পালন করা যায়?

-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : একই সফরে একবার উমরা পালন করাই শরীয়তসম্মত এবং তা সালাফগণ কর্তৃক প্রমাণিত। তবে যারা বলে থাকেন যে, মক্কা থেকে তানঈম নামক জায়গায় গিয়ে পুনরায় উমরা পালন করা যাবে। তা সঠিক নয়। কারণ তা ছিল আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জন্য খাস এবং তখন তিনি হায়েয অবস্থায় ছিলেন (যাদুল মা’আদ, ২/৮৯-৯০)। তবে এ ক্ষেত্রে আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জন্য নির্দিষ্টভাবে খাস না করে যেসব মহিলা হায়েযগ্রস্থ হবে তাদের জন্য খাস করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিঙ্গাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা একটি বিদ’আত যার ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর ছাহাবীরা কেউই উৎসাহ প্রদান করেননি এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয় করার সময় সেখানে ১৯ দিন থাকা সত্ত্বেও  পুনরায় তানঈমে গিয়ে উমরা পালন করেননি। বিধায় একই সফরে একাধিক উমরা পালন করা বিদ’আত হবে (লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ, ২৮/১২১)।


ইবাদত- যাকাত


প্রশ্ন (১৯) : যাকাত যাকে দেওয়া হবে তাকে কী জানানো জরুরী যে এটা যাকাত হতে তাকে দেওয়া হচ্ছে? না জানিয়ে দেওয়ার বিধান আছে কী?

-ফারুকুর  রহমান
সিরাজগঞ্জ সদর।

উত্তর :  (ক) যাকাতের অর্থ জানিয়ে দেওয়া ভালো। কেননা অনেকে যাকাতের হক্বদার হওয়া সত্ত্বেও আত্মমর্যাদার কারণে যাকাত গ্রহণ করতে চায় না। বরং পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে ভালোবাসে। আবার সবার জন্য যাকাত গ্রহণ করা জায়েযও নয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِىٍّ وَلاَ لِذِى مِرَّةٍ سَوِىٍّ ‘ধনী ব্যক্তি ও সুঠাম দেহের অধিকারী কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ (বা তাদের যাকাত প্রদান) বৈধ নয় (আবূ দাউদ, হা/১৬৩৪)। আত্বা ইবনু ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, পাঁচ শ্রেণির লোক ব্যতীত ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয় ১. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যোগদানকারী ২. যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী ৩. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ৪. কোন ধনী ব্যক্তির গরীবের প্রাপ্ত যাকাত স্বীয় অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা ৫. যার মিসকীন প্রতিবেশী নিজের প্রাপ্ত যাকাত তাকে উপঢৌকন হিসাবে দান করলে ধনী হওয়া সত্বেও তা গ্রহণ বৈধ (আবূ দাউদ, হা/১৬৩৫)। তবে যদি নিশ্চিত জানা থাকে যে ঐ ব্যক্তি দরিদ্র এবং তাকে অবগত করলে অভাবগ্রস্ত হলেও যাকাত গ্রহণ করবে না। তাহলে তাকে না জানিয়েও যাকাত দেওয়া যায় (আল-মুগনী ‘ইবনু কুদামা, ২/৫০৮ পৃ.)।


ইবাদত- মসজিদ নির্মাণ


 প্রশ্ন (২০) : জায়গা স্বল্পতার কারণে আমাদের এখানে একটি মসজিদ স্থানান্তর করা হয়েছে প্রশ্ন হলো- আগের মসজিদের জমি বিক্রি করে বর্তমান নবনির্মিত মসজিদে সেই টাকা লাগানো যাবে কি? মসজিদের জমি ক্রয় করে সেখানে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো বৈধ স্থাপনা তৈরি করা যাবে কি?

-মো. নাহিদ আলী
চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : জায়গা সংকুলান না হওয়ার ফলে অন্যত্র সুবিধা মতো মসজিদ স্থানান্তর করা যায় এবং আগের মসজিদের জমি বিক্রি করে তার মূল্য পরবর্তী মসজিদের নির্মাণ কাজে ব্যয় করাতে এবং সে স্থানে যেকোনো বৈধ স্থাপনা তৈরিতে শারঈ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে কূফার দায়িত্বশীল ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। একদা মসজিদ হতে বায়তুল মাল চুরি হলে সে ঘটনা উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জানানো হয়। তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে মসজিদ স্থানান্তরিত হয় এবং পূর্বের স্থান খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয় (ফতওয়া ইবনু তায়মিয়্যা, ৩১/২১৭ পৃ.)। একদা ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি মসজিদে স্থান সংকুলান না হয় এবং স্থানটি সংকীর্ণ হওয়ার কারণে তার চাইতে প্রশস্ত স্থানে মসজিদ স্থানান্তর করা হয়, অথবা মসজিদটি জীর্ণ ও বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঐ মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে অন্যত্র নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তা ব্যয় করতে হবে, যা আগের চাইতে অধিক কল্যাণকর হয়। এক্ষেত্রে ‘মাছলাহাত’-কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, ‘প্রয়োজন’-কে নয়, যা অনেক সময় নিষিদ্ধ বস্তুকে বৈধ করে। অতএব বাধ্য না হলেও অধিকতর কল্যাণ বিবেচনায় মসজিদ স্থানান্তর করা যাবে। যেমন সংকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকা থেকে মসজিদ সরিয়ে খোলা ও প্রশস্ত এবং রাস্তা সংলগ্ন স্থানে পুনঃস্থাপন করা। সেক্ষেত্রে পুরানো মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে নতুন মসজিদে লাগাবে। কারণ এর মধ্যেই ওয়াকফকারীর জন্য অধিক নেকী রয়েছে। এমতাবস্থায় বিক্রিত জমিতে যেকোনো বৈধ স্থাপনা করা যাবে (ফতওয়া ইবনু তায়মিয়্যা, ৩১/২১৬, ২২৪, ২২৭, ২৩৩ পৃ.)।


ইবাদত- যিকির-আযকার


প্রশ্ন (২১) : ফজরের পর কুরআন তেলাওয়াত করতে করতে সূর্য উঠার সময় বিরত থাকব, না-কি পড়ে যাব?

নিয়ামুল হাসান
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : তিন সময় ছালাত আদায় করা নিষিদ্ধ- ১. সূর্য উদিত হওয়ার সময়, ২. সূর্য ডোবার সময় ৩. সূর্য সরাসরি মাথার উপর অবস্থান করার সময় (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩১; মিশকাত, হা/১০৪০)। তবে কুরআন তেলওয়াতের জন্য নিষিদ্ধ কোনো সময় নেই। কেননা নিষিদ্ধের ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ মর্মে কোনো কিছুই বর্ণিত হয়নি। বরং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সূর্য উদিত হওয়ার সময় কুরআন তেলাওয়াতের পক্ষে আমল প্রমাণিত হয়েছে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামা’আতের সাথে ফজরের ছালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকির করবে এবং এরপর দুই রাকা’আত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের ছওয়াব হবে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ ছওয়াব হবে, পরিপূর্ণ ছওয়াব হবে, পরিপূর্ণ ছওয়াব হবে’ (তিরমিযী, হা/৫৮৬; মিশকাত, হা/৯৭১)।


বিদ’আত


প্রশ্ন (২২) : ইজতিহাদ আর বিদ’আতের মধ্যে পার্থক্য কি?

-ফাহিম মাহমুদ
গাইবান্ধা।

উত্তর : ইসলামী শরীয়তে বিদ’আত হলো প্রত্যাখ্যাত বিষয় আর ইজতিহাদ হলো সম্পূর্ণ শরীয়ত স্বীকৃত বৈধ বিষয়। বিদ’আত হলো- দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যা শরীয়া সমর্থিত নয়। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; মিশকাত, হা/১৪০)। আর দলীলসহকারে শরীয়তের সঠিক বিধানে পৌঁছার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করার নাম ইজতিহাদ। আমর ইবনুল আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, ‘যদি কোনো কোনো আলেম বা বিজ্ঞ বিচারক ফায়ছালা করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার চেষ্টা করে অতঃপর সঠিকতায় পৌঁছে, তাহলে সে দ্বিগুণ নেকি পাবে। আর যদি সে ফায়সালা করে সঠিক বিধানে পৌঁছার চেষ্টা করে অতঃপর ভুল করে বসে, তাহলে সে একটি নেকি পাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৬)।


বৈধঅবৈধ


প্রশ্ন (২৩) : ফেসবুক, মেসেঞ্জারে বিভিন্ন প্রাণির ছবিযুক্ত ইমোজি ব্যবহার করা হয়, তাতে কি গুনাহ হবে?

-মো. নাহিদ আলী
চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে যেসব ইমোজি ব্যবহার করা হয় তা মূলত ইয়াহূদী-খ্রিস্টানদের থেকে আসা কুসংস্কার ও সুকৌশলে মুসলিমদেরকে ছবি-মূর্তির মত ভয়াবহ পাপে যুক্ত করার এক চক্রান্ত। সুতরাং প্রাণির আকৃতি ও ছবিযুক্ত কোনো ইমোজি ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ সকল মানুষদের সব চাইতে বেশি শাস্তি দেওয়া হবে যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ কিছু তৈরি করত (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৫৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৭)।


প্রশ্ন (২৪) : আমার একটি ছাগলের খামার আছে। ছাগলের খাবারের জন্য ফসল উঠার সময়ে গম ও ভুট্টা কিনে রাখতে হয়। খামারের জন্য বছরে লাগে ২০ মণ। আমি যদি ১০০ মণ কিনে রাখি বাকি ৮০ মণ দাম বাড়লে বিক্রি করব। এতে কি পাপ হবে?

-মহিদুল ইসলাম
বিসমিল্লাহ গোট ফার্ম, যশোর।

উত্তর : বাজারে কৃত্রিম সংকট তথা সিন্ডিকেট তৈরি উদ্দেশ্য না হলে এবং বাজারে চাহিদা পরিমাণ পণ্য মজুদ থাকলে সাময়িকভাবে পণ্য গুদামজাত করণে কোনো সমস্যা নেই। বরং এমন গুদামজাতের ফলে খাদ্য সংকটের সময় মানুষ সহজে পণ্য হাতে পেয়ে থাকে। সুতরাং এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। (আল-মুগনী, ‘ইবনু ক্বুদামা’, ৬/৩১৭)। আর সাময়িকভাবে এক বছরের জন্য খাদ্য মজুদ করা যায়। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, كَانَ يَبِيعُ نَخْلَ بَنِى النَّضِيرِ ، وَيَحْبِسُ لأَهْلِهِ قُوتَ سَنَتِهِمْ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু নাযীরের খেজুর বিক্রি করতেন এবং তার পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য জোগাড় করে রাখতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৫৭)। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার উদ্দেশ্যে, পণ্যের মূল্য আকাশ চুম্বি করার লক্ষ্যে পণ্য গুদামজাত করা হারাম এবং অভিসাপের কাজ। সুতরাং এমন উদ্দেশ্যে খাদ্য গুদামজাত করা যাবে না। মা’মার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘গুনাহগার ছাড়া কেউ পণ্য গুদামজাত করে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫)।


প্রশ্ন (২৫) : বকেয়া টাকা উত্তোলনের জন্য হালখাতা করা যাবে কি?

-এহসানুল হক
কুলনিয়া, দোগাছি, পাবনা সদর।

উত্তর : হালখাতা ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠান নয় বরং ব্যবসার একটি কৌশল মাত্র। সুতরাং হালখাতা অনুষ্ঠান যদি কোনো দিন, মাস, বছর নির্দিষ্ট না করে নিছক ব্যবসায়ীক সুবিধার্থে করা হয় এবং তা সকল প্রকার গান-বাজনা, জুলুম, প্রতারণা ও শরীয়ত বিরোধী কর্ম-কাণ্ড মুক্ত হয়, তাহলে বকেয়া টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে হালখাতা করাতে শারঈ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কর্য পরিশোধের আশায় কর্য গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে কর্য পরিশোধ করার সুযোগ দান করেন। আর যে ব্যক্তি এই আশায় কর্য গ্রহণ করে না, আল্লাহ তার কর্য পরিশোধের সুযোগ করে দেন না’ (ছহীহ বুখারী,  হা/২৩৮৭; মিশকাত, হা/২৯১০)।


প্রশ্ন (২৬) : শখের বশে কুকুর পোষা বৈধ কি?

-আব্দুস সাত্তার
নোয়াখালী।

উত্তর : পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রভাবিত হয়ে শখের বশে বাড়িতে কুকুর পোষা বৈধ নয়। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং সে ঘরেও নয়, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮১৫; মিশকাত, হা/৪৪৮৯)। ‘যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে, যা শিকারের জন্য নয়, পশু রক্ষার জন্য নয় এবং ক্ষেত পাহারার জন্যও নয়, সে ব্যক্তির নেকি থেকে প্রত্যেক দিন (এক অথবা দুই ক্বীরাত পরিমাণ ছওয়াব কমে যায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৫)।


প্রশ্ন (২৭) :  মেয়েদের সামনের চুল কাটা যাবে কি?

-সুমাইয়া আক্তার মিম
দক্ষিণখান, ঢাকা।

উত্তর : প্রথমত: মেয়েদের শুধুমাত্র সামনের চুল কাটা যাবে না। কেননা চুল লম্বা রাখা মেয়েদের বৈশিষ্ট। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর যুগেও নারীদের চুল লম্বা ছিল। উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাথার বেনী তো খুবই মোটা এবং শক্ত। আমি কি জানাবাতের গোসলের জন্য তা খুলে ফেলব? তিনি বললেন, না। তোমার মাথায় কেবল তিন আজলা পানি ঢেলে দিলেই চলবে। এরপর তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢেলে দিবে। এ ভাবেই তুমি পবিত্রতা অর্জন করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩০; মিশকাত, হা/৪৩৮)। মৃত নারীদের কেশ লম্বা থাকার কারণে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত নারীদের চুল তিনভাগ করে পিছনে রেখে দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১২৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৯)।

দ্বিতীয়ত: বর্তমানে নারীদের চুল ছোট করার যে পদ্ধতি তা বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যশীল। আর বিধর্মীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি বিজাতীর সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১)। তবে চুল কাটতে চাইলে পিছন দিক থেকে সমানভাবে চুলের কিছু অংশ কাটতে পারে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩২০)।


হালাল-হারাম


প্রশ্ন (২৮) : আমার পিতা শুটকী কিনেছিলেন যার ৭০% টাকা হালাল, আর ৩০% টাকা হারাম। এখন ঐ পরিমাণ শুটকী যদি আমি তাদের অগোচরে কাওকো দান করে দেই, তাহলে এর কারণে আমি কি গুনাহগার হবো? (যেহেতু তাদেরকে হারামের কথা বললে রাগারাগি করবেন)আর দান করার কারণে বাকি শুটকীগুলো কি হালাল হবে?

-আমাতুল্লাহ
কবিরহাট, নোয়াখালী।

উত্তর : টাকার পরিমাণ বেশি হলে পিতার অনুমতি ব্যতীত কোনো ক্রমেই ছেলে দান করতে পারবে না। যদিও তা হালাল-হারাম মিশ্রিত হয়। বরং সে তার পিতাকে বুঝানোর চেষ্টা করবে  যদিও এতে তার পিতা রাগারাগি করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ন্যায়ের ব্যাপারে আদেশ কর এবং অন্যায় হতে বিরত রাখ’ (আল-ইমরান, ৩/১১০)। তবে পিতা যদি বারবার দাওয়াত দেওয়ার ভিত্তিতে ফিরে আসেন এবং হারাম অংশ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে হারাম অংশ দান করে দেন তাহলে সব হালাল হয়ে যাবে (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৬৪; মিশকাত, হা/৩৩৪২)। অতএব এমন অবস্থাতে ছেলের কর্তব্য হবে তার কাছে হালাল হারামের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র জিনিস ভক্ষণ করো এবং সৎ কর্ম করতে থাকো (আল-মুমিনূন, ২৩/৫১)। এরপর যদি পিতা হারাম অংশটুকু আলাদা করতে সক্ষম হন এবং জনসেবা মূলক কাজে ব্যয় করে দেন তাহলে বাকিটুকু পবিত্র হয়ে যাবে।


প্রশ্ন (২৯) : ছালাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি কি কুরবানির পশু যবেহ করতে পারবে? বা তিনি যবেহ করলে কি সেই পশুর গোশত হালাল হবে?

আব্দুল্লাহ
রাজশাহী।

উত্তর : ব্যক্তি যদি ছালাত আদায় করা যাবে না বিশ্বাস করে ছালাত ত্যাগকারী হয় অথবা ছালাতকে অস্বীকার করে ছালাত ত্যাগকারী হয়, তাহলে এমন ব্যক্তির যবেহ করা জীব-জন্তু খাওয়া যাবে না। কেননা এমন ব্যক্তি মুরতাদ ‘ইসলাম ত্যাগকারী’। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ كَفَرَ ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করল যে কুফুরী করল’ (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/১৪৬৩; কুবরা বায়হাক্বী, হা/৬৭৩৪)। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ ‘মু’মিন এবং কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হলো ছালাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮২; মিশকাত, হা/৫৬৯)। আর যদি অলসতার কারণে ছালাত ত্যাগকারী হয়, তাহলে এমন ব্যক্তির যবেহ করা পশু খাওয়া যায়।


চাকুরী-কর্মসংস্থান


প্রশ্ন (৩০) : সম্প্রতি জনৈক মুফতি বলেছেন, ট্যাক্স হারাম তাই ট্যাক্সের চাকুরীও হারাম। ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ইশতিয়াক আহমেদ
হবিগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ জেলা।

উত্তর : অসহায়-দরিদ্রদের সহযোগিতা, গৃহহীন ও বস্ত্রহীনদের গৃহ ও বস্ত্রের ব্যবস্থা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইসলামে রয়েছে যাকাত ব্যবস্থা। যা প্রত্যেক সম্পদশালী ব্যক্তির উপর ফযর। আর ট্যাক্স একটি সরকারী নীতিমালা। কেউ কোনো দেশে বসবাস করতে চাইলে, সে দেশের সুবিধা ভোগ করতে চাইলে, সে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি করতে চাইলে সে দেশের কিছু নীতিমালা ও শর্ত রয়েছে এবং সে নীতিমালা ও শর্তগুলো মেনে সে দেশের সুবিধা ভোগ করা যায়। সুতরাং বসবাসের স্বার্থে যে সমস্ত নিয়ম ও শর্ত ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, হারামকে হালালকারী নয় তা একজন বহিরাগত ব্যক্তির মান্য করা ভালো। তবে দেশীয় নাগরিকদের উপর ট্যাক্স আরোপ করা জুলুম। সুতরাং ট্যাক্সের চাকুরী থেকে বিরত থাকা ভালো। উল্লেখ্য যে, সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত ট্যাক্স প্রদান করলেও মুসলিমদেরকে সম্পদের যাকাত প্রদান করতে হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯)।


প্রশ্ন (৩১) : বাংলাদেশে যে ব্যাংকগুলোর শরীয়া বোর্ড আছে ঐ সকল ইসলামী ব্যাংকগুলোতে কি চাকুরী করা যাবে?

-আব্দুল্লাহ আল-মামুন
ঝিনাইদাহ, বদরগঞ্জ।

উত্তর : বাংলাদেশের সকল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে জড়িত। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সূদ নির্ভর। বিধায় যে সকল ব্যাংকগুলোর শরীয়া বোর্ড আছে বলে দাবী করে থাকে তবুও সেগুলো পরিপূর্ণভাবে সূদ মুক্ত নয়। তাই সে সকল ব্যাংকে চাকুরী করা হতে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জোরালোভাবে নিষেধ করেছেন। ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূদগ্রহনকারী ও প্রদাণকারী ও এর সাক্ষ্যদাতা ও লেখক সকলকেই লানত করেছেন’ (জামেউছ ছাগীর, হা/৯২২৫)। অতএব এ ক্ষেত্রে সকলের কর্তব্য হবে হারামের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না করে, হালাল পন্থায় রিযিক্ব অন্বেষণ করা।


প্রশ্ন (৩২) : মেয়েদের হসপিটালে মিডওয়াইফারি চাকুরী করা যাবে কি-না?

-তামিমা আক্তার
রামপাল, বাগেরহাট।

উত্তর : মিডওয়াইফারি অর্থ হচ্ছে ধাত্রীবিদ্যা বা প্রসূতিতন্ত্র। প্রসূতি নারীদের সেবা প্রদান করাকে মিডওয়াইফারি বলা হয়। বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নারী এই পেশায় যোগদান করে। তারা একজন মহিলাকে গর্ভ ধারন থেকে শুরু করে বাচ্চা প্রসব করার ৪২ দিন পর পর্যন্ত সার্বিক সেবা-শুশ্রূষা প্রদান করার পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারির জন্য কাজ করে থাকে। ইসলামে সংসারের সকল আর্থিক ইনকামের দায়-দায়িত্ব পুরুষের। তবে নারীর জন্য ইনকাম করা যেমন জরুরী নয় তদ্রূপ হারামও নয়। তাই নারীরা চাইলে বৈধ যেকোনো চাকুরী ইসলামের বিধি-বিধান মেনে করতে পারে। একজন নারী চাকুরী করার জন্য ইসলাম কিছু শর্ত দিয়েছে। ১. পূর্ণ পর্দা পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দিন- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ীর বাইরে যায়), এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে এবং তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ ‘তারা যেনো তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করে না বেড়ায়’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। ২. নারীর জন্য পৃথক কর্মসংস্থান থাকা। অর্থাৎ একজন নারী পুরুষের সহবস্থানে চাকুরী করতে পারবে না। কেননা বেগানা নারী-পুরুষের সহবস্থান হারাম। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ যখন কোনো স্ত্রী লোকের সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করে তখন তাদের মাঝে অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে থাকে শয়তান’ (তিরমিযী, হা/১১৭১; মিশকাত, হা/৩১১৮)। এই সকল বিধান মেনে মিডওয়াইফারিসহ যেকোনো  বৈধ চাকুরী নারীরা করতে পারে।


 পারিবারিক বিধান- বিবাহ


প্রশ্ন (৩৩) : আপন চাচাতো বোনের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে কি?

-আজিজুল
মালোশিয়া।

উত্তর : চাচাতো বোনের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে। কারণ সে মুহাররামাতের (যাদেরকে বিবাহ করা হারাম) অর্ন্তভুক্ত নয়। যাদেরকে বিবাহ করা হারাম তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাদেরকে, তোমাদের মেয়েদেরকে, তোমাদের বোনদেরকে, তোমাদের ফুফুদেরকে, তোমাদের খালাদেরকে, ভাতিজীদেরকে, ভাগ্নীদেরকে, তোমাদের সে সব মাতাকে যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে, তোমাদের দুধবোনদেরকে, তোমাদের শ্বাশুড়ীদেরকে, তোমরা যেসব স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছ সে সব স্ত্রীর অপর স্বামী থেকে যে সব কন্যা তোমাদের কোলে রয়েছে তাদেরকে, আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলিত না হয়ে থাক তবে তোমাদের উপর কোনো পাপ নেই এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীদেরকে এবং দুই বোনকে একত্র করা’ (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে) (আন-নিসা, ৪/২৩)।


প্রশ্ন (৩৪) : ফাতিমা ও যয়নব সহোদরা দুই বোন। যয়নব জীবিত থাকাবস্থায় তার স্বামী কি ফাতিমার মেয়ের মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে?

-আতাউল্লাহ
সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : স্ত্রীর বোনের মেয়েকে এবং তার মেয়ের মেয়েকে এভাবে অধঃস্তনের যে কাউকে বিয়ে করা হারাম (তাফসীরে কুরতুবী, ৫/১০৮; ফাতহুল ক্বাদীর, ২/১১২)।


পারিবারিক বিধান- পরিবারের ব্যয়ভার


প্রশ্ন (৩৫) : সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের চিকিৎসা খরচ বহন করতে কৃপণতা করেন, তাহলে তার ব্যাপারে শারঈ হুকুম কী?

-আব্দুল্লাহ
নিলফামারী।

উত্তর : সামর্থ্যবান পরিবার প্রধানের উপর স্বীয় পরিবারের সকল সদস্যের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যয়ভার বহন করা ওয়াজিব (তালাক, ৬৫/৬; আল-বাক্বারা, ২/২৩৩)। তাই উক্ত ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালনে কৃপণতা করলে নিঃসন্দেহে গুনাহগার হবেন। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘একজন ব্যক্তি পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে খানা-পিনার ক্ষেত্রে তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদেরকে যথাযথ দেখাশুনা করবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৯৬; আবূ দাঊদ, হা/১৬৯২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৪৯৫)। তবে অনেক সময় পরিবারের কোনো সদস্য অপ্রয়োজনীয় খরচকে প্রয়োজনীয় বলে কিছু দাবি করতে পারে, আর সে ক্ষেত্রে পরিবার প্রধানকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কেননা উহা অপচয় আর অপচয় করা হারাম (আল-ইসরা, ১৭/২৬; ছহীহ বুখারী, হা/১৪৭৭; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪৫৬০)।


মৃত্যু পরবর্তী করণীয়


প্রশ্ন (৩৬) : আপনজন বাড়িতে মারা যাওয়ার পর জীবিত আত্মীয়-স্বজনদের করণীয় কী? কুরআন তেলাওয়াত, দরূদ পাঠ ইত্যাদি করা কি শরীয়া সম্মত?

-রেজওয়ান ইসলাম
ঢাকা।

উত্তর : কেউ মারা গেলে তার আত্মীয়-স্বজনদের উপর কর্তব্য হলো, মৃতের পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা, তাদের সান্ত্বনা দেওয়া, বিলাপ না করা, মৃত ব্যক্তির জন্য দান-ছাদাক্বা ও দু‘আ করা। আসমা বিনতে উমায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, যখন জা’ফর মুতার যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শহীদ হলেন, তখন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরিবারের নিকট গেলেন এবং বললেন, ‘জা’ফরের পরিবার মর্মাহত, তোমরা তাদের জন্য খাবার তৈরি করো’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৬১১)। মুগীরা ইবনু শু’বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যার জন্য বিলাপ করে ক্রন্দন করা হয় ক্বিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৩; মিশকাতন, হা/১৭৪০)। উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃতের দাফন কার্য সম্পন্ন হলে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং অটল থাকার দু‘আ করো। কেননা, তাকে এখন কবরে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে (তিরমিযী, হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩)। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তেলাওয়াত করা, দরূদ পাঠ করা, কুলখানী-চল্লিশার অনুষ্ঠান করা এসবই বিদ‘আত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা তার মধ্যে নেই, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।


প্রশ্ন (৩৭) : স্বামী মারা গেলে স্ত্রী কতদিন বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না?

-মোনোয়ার হোসেন
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

উত্তর : স্বামী মারা গেলে স্ত্রী ৪ মাস ১০দিন বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষা করবে’ (আল-বাক্বারা, ২/২৩৪)। আর স্ত্রী গর্ভকালীন অবস্থায় স্বামী মারা গেলে সন্তান ভুমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে। (আত-তালাক, ৬৫/৬)। তবে জরুরী কারণে বাইরে যেতে পারে। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার খালাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি তার খেজুর বাগানে যেতে চাইলেন। পথে এক ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করল। তিনি রাসূলুল্লাহ a-এর নিকট গেলে, তিনি বললেন, ‘তুমি গিয়ে তোমার খেজুর নিয়ে এসো। হয়তো তুমি ছাদাক্বা করবে এবং মানুষের উপকারের জন্য দিয়ে দেবে (নাসাঈ, হা/৩৫৫০)।


ক্রয়-বিক্রয়


প্রশ্ন (৩৮) : কৃষি জমি হতে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের সবজি যেমন. আখ, কলা, রসুন, পিঁয়াজ, মুলা ইত্যাদি বিক্রয়ের যোগ্য হওয়ার পর কৃষক জমিতে থাকাবস্থায় ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করে দেয় পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা জমি থেকে উঠিয়ে বাজারে বিক্রয় করে এমন ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে কি?

-মো. নাহিদ আলী
চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : হ্যাঁ, বৈধ হবে। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফল-মূল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আনাস ইবনু মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং খেজুরগাছে খেজুর রেখে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ তা খাওয়ার উপযুক্ত না হয়। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, উপযুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন, লাল অথবা হলুদ বর্ণ ধারন করা (ছহীহ বুখারী, হ/২১৯৭)। এ হাদীছ থেকে বুঝা যায়, ফল-ফসল খাওয়ার উপযুক্ত হলে গাছে রেখে বিক্রি করা যায় এবং ব্যবসায়ী তার ইচ্ছামতো গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারে।


প্রশ্ন (৩৯) : বাকিতে বেশি দামে এবং নগদে কম দামে বিক্রি করা বৈধ হবে কি?

-এহসানুল হক
পাবনা সদর।

উত্তর : বাকিতে বেশি ও নগদে কম এ প্রকার ক্রয়-বিক্রয়কে بيع تقسيط বলা হয়। আর ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক নিয়ম হলো, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে পক্ষ সন্তুষ্ট থাকা। এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী, ‘তবে যদি তোমরা ব্যবসার ক্ষেত্রে পরস্পরে সন্তুষ্ট থাক’ (আন-নিসা, ৪/২৯)। অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, বাকিতে যদি বেশি নেওয়া হয় এবং তাতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এমন ক্রয়-বিক্রয় ছহীহ বলে বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে রাসূলের হাদীছ দ্বারাও প্রমাণিত হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আমরকে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করার ব্যাপারে আদেশ করেন। এরপর উট শেষ হয়ে গেলে তিনি ছাদাক্বার উট হতে দুইটি উটের বিনিময়ে একটি উট গ্রহন করেন (মুসতাদরাকে হাকেম, হা/২৩৪০; দারাকুৎনী, হা/৩০৯৬)। উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে بيع السلام এর প্রতি। যা بيع تقسيط এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যার হুকুমের ব্যাপারে চার ইমাম জায়েয বলেছেন (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/১০৮; ওয়াজিয লিল গাযালী, ১/৮৫; ‍ফতওয়া ইবনু তায়মিয়্যা, ২৯/৪৯৯; বাদায়িয়ুছ ছানায়ি‘, ৫/১৮৭)।


সূদ-ঘুষ


প্রশ্ন (৪০) : আমি যদি বিদেশে যাই তাহলে আমার পিতা সূদের উপর ঋণ নিয়ে আমাকে বিদেশ পাঠাবে। আবার আমি বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে ঋণ পরিশোধের জন্য আমার পিতা ঐ সূদযুক্ত ঋণ পরিশোধ করবে। আমার প্রশ্ন হলো এই কাজগুলো হলে আমার কি সূদের পাপ হবে না-কি শুধু আমার পিতার হবে? না-কি দুজনেরই হবে?

-আল আমিন
সাভার।

উত্তর : এই অবস্থায় পিতা-পুত্র দুজনেই পাপী হবে। এর মধ্যে পুত্রই মূলত আসল পাপী হবে। কারণ পিতা ঋণ করলেও তা মূলত পুত্রের জন্যই ঋণ নেওয়া। আর পিতা সহযোগিতার কারণে পাপী হবে। কারণ মন্দ কাজে সহযোগিতা করাও মন্দ (আল মায়েদা, ৫/২)। আর সূদের উপর টাকা নিয়ে বিদেশ না যাওয়ায় ভালো। দেশে অল্প আয়ের হালাল কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে জীবনধারণ করাই শ্রেয়।


প্রশ্ন (৪১) : আমি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে চাচ্ছি সেক্ষেত্রে আমি যদি ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের সঞ্চয়পত্র কিনি তাহলে, ৫ পছর পর আমি মুনাফা পাব ২৮৮০০ টাকা এবং সরকারী কর বাদে পাব ২৭৩৬০ টাকা আমার প্রশ্ন হলো, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সঞ্চয় পত্র কেনা কতটুকু শরীয়া সম্মত? এটা কি আমার জন্য হালাল হবে?

-মো. আমিনুল হক
ঢাকা।

উত্তর : না, হালাল হবে না। কেননা, এ ধরনের লেনদেন সূদের অন্তর্ভূক্ত। মহান আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সূদ হারাম করেছেন (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিমিয়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, জবের বিনিময়ে জব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময়ে লবন সমান সমান হাতে হাতে লেনদেন করা যায়। তবে যে ব্যক্তি বেশি দিল বা চাইল সে নিজেকে সূদের সাথে জড়িত করল। এ ক্ষেত্রে সূদ গ্রহীতা ও দাতা উভয়ে সমান অপরাধী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪)।


প্রশ্ন (৪২) : আমার ১৮ বছর মেয়াদী লাইফ ইন্সুরেন্সের বর্তমান মেয়াদ ৬ বছর। এই ইন্সুরেন্সের জন্য যাকাত দিতে হবে কি? উল্লেখ্য যে, লাইফ ইন্সুরেন্স যখন তখন ভাঙ্গা যায় না। আর অনেক ঝামেলা করে ভাঙ্গলেও পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। মূলধন থেকে অনেক টাকা কেটে রাখা হয়।  

-এনামুল হক্ব
মাটুঈল, ঢাকা।

উত্তর : কোনো লাইফ ইন্সুরেন্স সূদ মুক্ত নয়। তাই ইসলামী শরীয়তে লাইফ ইন্সুরেন্স বৈধ নয়। কেননা ইসলামে সরাসরি সূদী কারবার যেমন হারাম তদ্রূপ তার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাও হারাম। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ করেছেন, ‘সূদ গ্রহীতার উপর, সূদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান অপরাধী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮)। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। লাইফ ইন্সুরেন্সে রাখা টাকা যদি নেসাব পরিমাণ হয় এবং তাতে পূর্ণ এক বছর অতিক্রম হয়ে থাকে তাহলে, মালিককে সূদ বাদে মূল অর্থের যাকাত প্রদান করতে হবে’ (আবূ দাউদ, হা/১৫৭৩; মিশকাত, হা/১৭৮৭)।


শারঈ চিকিৎসা- ঝাড়ফুঁক


প্রশ্ন (৪৩) : জীনে ধরা ব্যক্তির চিকিৎসা করার শারঈ মাধ্যমগুলো কী?

-নাঈম ইসলাম
দুপচাচিয়া, বগুড়া।

উত্তর : জীনে ধরা ব্যক্তির চিকিৎসা ও জীনের ক্ষতি হতে বাঁচার জন্য রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো সুন্নাহ পদ্ধতিতে আমল করতে হবে এবং শেখানো দু’আগুলো পাঠ করতে হবে, তাহলে জীনের ক্ষতি হতে মুক্তি পাওয়া যাবে ইনশা-আল্লাহ। ১. রাত্রে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে সকাল পর্যন্ত শয়তানের অনিষ্ঠতা হতে রক্ষা করবেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৩১১; তিরমিযী, হা/২৮৮০; মিশকাত, হা/২১২০)। ২. সূরা ইখলাছ ও সূরা নাস বেশি বেশি পাঠ এবং প্রয়োজনে শরীরে ফুঁক দেওয়া (তিরমিযী, হা/২০৫৮;  মিশকাত, হা/৪৫৬৩)। ৩. সূরা ফাতেহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করা। ৪. বাড়িতে নিয়মিত সূরা বাক্বারা তেলাওয়াত করা। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাড়িগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করিওনা। নিশ্চয় ঐ বাড়ি হতে শয়তান পলায়ন করে, যে বাড়িতে সূরা বাক্বারা তেলাওয়াত করা হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৮০; মিশকাত, হা/২১১৯)। ৫. প্রতি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করবে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৪০০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৭)। ৬. প্রতি দিন একশতবার নিম্নোক্ত দু‘আটি পাঠ করা। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দু‘আটি প্রতিদিন একশতবার পাঠ করবে আল্লাহ তাকে একশত অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা করবেন এবং শয়তান হতে রক্ষা করবেন’। : مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ . (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৩৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯১)। এছাড়াও  শিরক নেই এমন জিনিস দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা যায়। আউফ ইবনু মালেক আল-আশজাঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেন, ‘তোমাদের ঝাড়ফুঁকের বাক্যগুলো আমার সামনে পেশ করো; তবে যেসব ঝাড়ফুঁক শির্কের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোনো দোষ নেই’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০০; মিশকাত, হা/৪৫৩০)।


স্বপ্ন-ব্যাখ্যা


প্রশ্ন (৪৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন , স্বপ্নে দুধ খেলে জ্ঞান বৃদ্ধি পায় (এ মর্মে তিনি রাসুল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্নে দুধ খাওয়ার একটি হাদিছ বলেছেন), স্বপ্নে কাক দেখলে খারাপ কিছুর ইঙ্গিত বুঝায়, ইত্যাদি। আসলেই কি কুরআন ও হাদিছেএ ধরনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা আছে?              

-সোহানুর রহমান
পার্বতীপুর, দিনাজপুর

উত্তর :  রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। যেমন: লম্বা জামার ব্যাখ্যা করেছেন দ্বীন, দুধ পানের ব্যাখ্যা করেছেন ইলম  ইত্যাদী (মিশকাত, হা/৬০৩০; ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৮১; মুসলিম, হা/২৩৯০)। মু’মিনের স্বপ্নকে নবুয়তের এক ছেচল্লিশ অংশ বলা হয়েছে। উবাদা ইবনু ছামেত (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ ‘মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৮৭)।  তবে ব্যক্তির স্বপ্ন শারঈ দলীল নয়। উল্লেখ্য যে, ভালো স্বপ্ন প্রিয় মানুষকে বলা যায়। তবে খারাপ স্বপ্ন কাওকো বলা যাবে না। বরং নিম্নোক্ত আমল করবে। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন ভীতিকর মন্দ স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে আর শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাহলে এরূপ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৯২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬১৭)। উল্লেখ্য যে, স্বপ্নে কাক দেখলে খারাপ কিছুর ইঙ্গিত বোঝায় এমন ঘটনা বানোট এবং ভিত্তিহীন।


পোষাক-পরিচ্ছদ


প্রশ্ন (৪৫) : পুরুষের জন্য কোন রঙের পোষাক পরিধান করা হারাম? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মো. মামুন মাহমুদ
শাজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : হলুদ কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে হলুদ রঙের দুটি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখলেন এবং বললেন, এগুলো হলো কাফেরদের পোশাক। অতএব তা পরিধান করো না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৭; মিশকাত, হা/৪৩২৭)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দুইটি হলুদ রঙের কাপড় পরা অবস্থায় দেখলেন এবং বললেন, তোমার মা কি তোমাকে এ কাপড় পরার আদেশ করেছেন? আমি বললাম, আমি ধুয়ে নিব। তিনি বললেন, না, বর; পুড়িয়ে ফেলো (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৭; মিশকাত, হা/৪৩২৭)। শুধু এক কালার/নিরেট লাল রঙের কাপড় না পরাই ভালো। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। আমি বলিনি, তিনি তোমাদের স্বর্ণের আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড় যা মিছরে তৈরী হয়, লাল-হলুদ মিশ্রিত কাপড় পরতে ও রুকূতে কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন (নাসাঈ, হা/৫১৭৩)। তবে হালকা  লাল রং মিশ্রিত কাপড় পরা যায়। হেলাল ইবনু আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিনার মাঠে খচ্চরের পিঠে চড়ে খুৎবা দিতে দেখেছি। তখন তার পরনে ছিল লাল রং মিশ্রিত একটি চাদর এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সামনে তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করছিলেন (আবূ দাঊদ, হা/৪০৭৩; মিশকাত, হা/৪৩৬৩)।


হাদীছের ব্যাখ্যা


প্রশ্ন (৪৬) : ছহীহুল জামে‘, হা/৩৯০৯-এর ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-গোলাম ছামদানী
নোয়াখালী।

উত্তর : প্রশ্নোল্লেখিত হাদীছটি হলো-‘একজনের খাবার দুইজনের এবং দুইজনের খাবার চারজনের জন্য এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যতেষ্ট’। উক্ত হাদীছ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- একজনের পরিতৃপ্ততা দুইজনের খাদ্যের সমান এবং দুইজনের পরিতৃপ্ততা চারজনের খাদ্যের সমান। সাথে সাথে হাদীছে এটাও প্রমাণ করে যে, দলবদ্ধভাবে খাওয়ার মাঝে বরকত রয়েছে (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৪৪৪ পৃ.; মিরকাতুল মাফাতীহ, ৭/২৬৯৯ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীছে খাবারের ব্যাপারে সহযোগিতার প্রতি উৎস প্রদান করা হয়েছে। যদিও তা অল্প হয়, যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য সাধিত হবে এবং খাবারে বরকত অর্জিত হবে যা উপস্থিত সকলকে অন্তর্ভূক্ত করবে (শারহুন নববী আলা মুসলিম, ১৪/২৩)।


প্রশ্ন (৪৭) : ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে মানসূখ বা রহিত হওয়া হাদীছ আছে কি? ২. যদি থেকে থাকে তাহলে, হাদীছ শাস্ত্রে রহিত বা মানসূখ হওয়া হাদীছের প্রয়োজনীয়তা কী?

-আব্দুল্লাহ হাসিব
বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : ছহীহ বুখারী, মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে মানসূখ বা রহিত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এ সকল গ্রন্থে রহিত হাদীছ বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা হচ্ছে- মানুষকে অবগত করানো যে অত্র হাদীছটি রহিত হয়ে গেছে। কেননা যদি তা উল্লেখ্য করা না হয় তাহলে, মানুষ বিভ্রান্তিতে পতিত হবে এবং আমলের ক্ষেত্রে বিবাদের সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত: পূর্বের বিধান রহিত করে নতুন বিধান দেওয়ার মধ্যে অনেক রহস্য নিহিত রয়েছে- (১) মুমিনদের উপর সহজতা আরোপ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এখন আল্লাহ তোমাদের থেকে (দায়িত্বভার) হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে’ (আল-আনফাল, ৮/৬৬)। (২) দায়িত্বপ্রাপ্তদের পরীক্ষা করা যে তারা তা বাস্তবায়ন করছে কি করছে না; যেমন কেবলা পরিবর্তনের ঘটনা। (৩) নিয়মের ব্যাপারে অবহেলাকারীদের প্রতি কঠোরতা আরোপ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইয়াহূদীদের বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণের জন্যে (এমন) অনেক পবিত্র জিনিসও আমি তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলাম যেটা তাদের জন্য আগে হালাল ছিল’ (আন-নিসা, ৪/১৬০)। (৪) বান্দাদের কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য করে। (৫) কঠোর বিধানের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে হালকা করা যেমন: মদ হারামের বিষয়টি।


প্রশ্ন (৪৮) : জনৈক আলেম থেকে শুনেছি, একদা একজন লোক এসে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বলল যে, তিনি তার স্ত্রীকে যেনা করতে দেখেছে, এখন সে কি করবে? তখন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে? তখন ঐ ব্যক্তি বলল, ঐ ব্যক্তিকে আমার স্ত্রীর সাথে যেনা করতে শুধু আমি দেখেছি। তখন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তা গোপন রাখতে বললেন প্রশ্ন হলো- আদৌ কি এমন কোনো হাদীছ আছে? হাদীছ নাম্বারসহ জানিয়ে বাধিত করবেন

-রাফিয়ান আব্দুল্লাহ
রাজবাড়ি সদর।

উত্তর : আমরা হুবুহু উল্লিখিত শব্দে হাদীছ অবগত হতে পারিনি। তবে এর সমর্থনে বর্ণিত দুটি হাদীছ নিম্নে উল্লেখ্য করা হলো- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِى رَجُلاً أَأُمْهِلُهُ حَتَّى آتِىَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ قَالَ « نَعَمْ ». আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ ইবনু উবাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কাউকে দেখতে পাই, তাহলে চারজন সাক্ষী যোগাড় করা পর্যন্ত আমি কি তাকে অবকাশ দেব? তিনি বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৯৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০০০৮; মুয়াত্ত্বা মালেক, হা/২৭৩০)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে বর্ণিত, একদা হিলাল ইবনু উমাইয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শারীক ইবনু সাহমা’র সাথে তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ করলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি প্রমাণ পেশ করো অন্যথায় তোমার পিঠে হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর হবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কিভাবে সম্ভব? এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে অবৈধ কাজে লিপ্ত দেখে সে সাক্ষীর খোঁজে বের হবে? নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবারও বললেন, তুমি সাক্ষী পেশ করো, অন্যথায় তোমার পিঠে হদ্দ কার্যকর হবে। হিলাল উবনু উমায়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন। আমি আমার দাবীতে অবশ্যই সত্যবাদী। নিশ্চয় আল্লাহ আমার বিষয়ে অবতীর্ণ করবেন। যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো- ‘এবং যারা নিজেদের স্ত্রীদের উপর যিনার অভিযোগ দেয় অথচ তাদের কাছে তারা ছাড়া অন্য কেউ সাক্ষী নেই…’ (আবূ দাউদ, হা/২২৫৪; ইবনু মাজাহ, হা/২০৬৭)। উল্লেখ্য যে, ‘আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বললেন’ এমন বাক্য কোনো হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে বিভিন্ন বর্ণনার ভিত্তিতে এমনটি বুঝা যায়।


ইতিহাস


প্রশ্ন (৪৯) : ইসলামের দুশমন আবূ লাহাবের মৃত্যু এবং কাফন-দাফন কিভাবে হয়ে ছিল?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : তার কাফন-দাফন কিভাবে হয়েছিল তা প্রমাণিত সূত্রে জানা যায় না। তবে ঐতিহাসিকগণ এইভাবে লিখেছেন: ইসলামের দুশমন আবূ লাহাব বদর যুদ্ধের প্রায় সাত দিন পরে ‘আদাসা’ নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে (তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক)। এরপর তাকে দুই বা তিন ‍দিন পর্যন্ত কাফন-দাফন না করা হলে দুর্গন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার প্রতি অসম্মানের দিকে লক্ষ্য করে একটি গর্ত খনন করে তাকে কাঠির সহযোগিতায় সেখানে ফেলে দেওয়া হয় এবং দূর থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এভাবেই তার কাফন-দাফন সমাপ্ত হয় (মাজমাউয-যাওয়ায়েদ, হা/১০০১৪; ত্ববারানী, ১/৩০৮ পৃ.)।


প্রশ্ন (৫০) : আমি ছোটবেলায় শুনেছি যে, ২ জন ইয়াহূদী রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লাশ চুরির চেষ্টা করে। এই কাহিনী কি সত্যি, না-কি নিছক এক কাহিনী?

-নিলুফার নার্গিস
সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লাশ চুরির ঘটনা বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে এর স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র পাওয়া যায় না।