সাওয়াল-জওয়াব

ফাতাওয়া বোর্ড, আল-জামি’আহ আস-সালাফিয়্যাহ

প্রশ্ন (১) : বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রে মুসলিমদের উপর বিধর্মীরা নির্যাতন চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় কোন এলাকার মুসলিম ব্যক্তি তার পাশে বসবাসরত বিধর্মীদেরকে বায়তুলমালের অংশ বা কুরবানীর গোশত প্রদান করতে পারে কি?

-রূহুল মিঞা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : বায়তুলমাল বা যাকাতের একটা অংশ অমুসলিমদেরকে দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন। আর তা হচ্ছে তাদেরকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য (তওবা, ৬০)। সুতরাং প্রতিবেশী অমুসলিমদের বিষয়টি যদি অনুরূপ হয়ে থাকে তাহলে যাকাতের একটা অংশ তাদেরকে দেওয়াই উত্তম। সরাসরি যাকাতের অংশ অমুসলিমদেরকে দেয়ার ব্যাপারে কোন বিধান শরী‘আতে নেই। তবে যেকোন ব্যক্তি চাইতে আসলে তাকে সাহায্য করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের সম্পদে নির্ধারিত হক্ব আছে। ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের’ (মা‘আরিজ, ২৪-২৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর ভিক্ষুককে ধমক দিও না’ (যুহা, ১০)। অনুরূপ কুরবানীর গোশত তাদের দেয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন (২) : কোন পরিবারের কর্তা যদি হারাম উপার্জন করে তাহলে ঐ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ইবাদত কবুল হবে কি?

-যুথিঁ আক্তার

ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা সদস্যগণ জেনে-শুনে উক্ত হারাম উপার্জন থেকে ভক্ষণ করলে গোনাহগার হবে এবং তাদেরও ইবাদত কবুল হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না (মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। তাছাড়া এতে অন্যায়ের সমর্থন করা হবে। যা করতে মহান আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অন্যায় ও পাপ কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ, ২)। তবে সদস্যরা  অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে এবং উপার্জনক্ষম না হলে উক্ত উপার্জন হতে ভক্ষণ করা বৈধ হবে। কেননা তারা শরী‘আতের মুকাল্লাফ নয়। তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব পিতা-মাতার। সুতরাং পিতার হারাম উপার্জনের জন্য সন্তান দায়ী হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না’ (নাজম, ৩৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন প্রাণ অপরের অপরাধের কারণে দন্ডিত হবে না’ (নাসাঈ, হা/৪৮৪৯, ৪৮৫০, ৪৮৫১; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩০৩)।

প্রশ্ন (৩) : পিতা-মাতাকে ছালাত আদায়ের কথা বললেও তারা গুরুত্ব দেননা। এক্ষেত্রে সন্তানের করণীয় কী?

-যুথিঁ আক্তার

ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : ছালাত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে সাধ্যানুসারে বুঝানোর চেষ্টা করবে। সৎ কাজের আদেশ দিবে। তবে তাদের সাথে কোন প্রকার দুর্ব্যবহার বা চাপ প্রয়োগ করবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) তাঁর চাচার সাথে ভাল ব্যবহার করেছেন কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করেননি। পিতা-মাতা কাফের বা মুশরিক হলেও মহান আল্লাহ তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন (লুক্বমান, ১৫)। আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশদের সাথে মুসলিমদের সন্ধির সময় আমার মা মুশরিকা অবস্থায় আমার কাছে আসলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার মা আমার কাছে এসেছেন, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণে অনাগ্রহী। এমতাবস্থায় আমি কি তার সাথে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তার সাথে সদ্ব্যবহার এবং সদাচরণ কর (ছহীহ বুখারী, হা/৩১৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩; মিশকাত হা/৪৯১৩)।

প্রশ্ন (৪) : ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকেরা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে গিয়ে কয়েক দিনের জন্য অবস্থান করে। এমতাবস্থায় তারা ছালাত ক্বছর করতে পারে কি?

-আব্দুল আহাদ

নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : হ্যাঁ, এমতাবস্থায় তারা ছালাত ক্বছর করতে পারবে।  কেননা সফরের জন্য কোন কর্ম নির্ধারণ নেই। যেকোন প্রয়োজনে মানুষ সফরে বের হলে ছালাত ক্বছর করবে। আল্লাহ তা‘আল বলেন, ‘যখন তোমরা সফর কর, তখন তোমাদের ছালাতে ক্বছর করার কোন দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (নিসা, ১০১)। আনাস (রাঃ) বলতেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাক‘আত পড়েছি। আর যুল হুলাইফা গিয়ে আছরের ছালাত দুই রাক‘আত পড়েছি (ছহীহ বুখারী, হা/১০৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯০; মিশকাত, হা/১৩৩৩)। রাসূল (ছাঃ) একটানা ১৯ দিন ক্বছর করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৪০০, ১০৮১; মিশকাত, হা/১৩৩৭; তিরমিযী, হা/৫৪৯)। অর্থাৎ

যতদিন তিনি অবস্থান করেছেন ততদিন কছর করেছেন, তাই স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত ছালাত ক্বছর ও জমা করে পড়া যাবে। অনেক ছাহাবী দীর্ঘ দিন সফরে থাকলেও ক্বছর করতেন (মিরকাত, ৩/২২১ পৃঃ; ফিকহুস সুন্নাহ, ১/২১৩-১৪ পৃঃ)।

প্রশ্ন (৫) : বিতর ছালাতের পরে তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আল-আমিন হোসেন

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, বিতর ছালাত আদায়ের পরেও শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়া যাবে। রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাত আদায়ের পরও দু’রাক‘আত ছালাত পড়তেন (তিরমিযী, হা/৪৭১; মিশকাত, হা/১২৮৪)। তবে পরে আর বিতর পড়তে হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক রাতে দু’বিতর নেই’ (ছহীহ তিরমিযী, হা/৪৭০; ছহীহ আবুদাঊদ, হা/১৪৩৯)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, বিতরের পরে নফল ছালাত আদায় করা যায়। অতএব, রাতে উঠে ছালাত আদায় করলে তাকে আর বিতর পড়তে হবে না। তবে যিনি তাহাজ্জুদের ছালাত নিয়মিত আদায় করেন তিনি প্রথম রাতে বিতর আদায় না করে তাহাজ্জুদ শেষে বিতর আদায় করবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৫; মিশকাত, হা/১২৬০)।

প্রশ্ন (৬) : মৃত ব্যক্তির নখ, চুল ইত্যাদি কাটা বৈধ হবে কি?

-আমজাদ হোসেন

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটার বিষয়টি জীবিত থাকা অবস্থায় বাস্তবায়ন করতে হবে। মৃত ব্যক্তির উপরে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। রাসূল (ছাঃ) মৃত ব্যক্তিকে ওযূ দিয়ে গোসল দিতে বলেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১২৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৯; মিশকাত, হা/১৬৩৪)। অতএব, ওযূ-গোসল ব্যতীত অন্য কিছু করলে তা কুসংস্কার ও বিদ‘আত বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য যে, মৃত ব্যক্তির নখ, চুল ইত্যাদি কর্তন করার পক্ষে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/৪২৩৫; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ৩/২৪৭ পৃঃ)।

প্রশ্ন (৭) : নিজের রক্ত বিক্রয় করা কিংবা বিনামূল্যে অন্যকে দেওয়া জায়েয হবে কি?

-আল-আমিন তুষার

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : রক্ত বিক্রয় করা যাবে না। তবে যেকোন মানুষের উপকারার্থে বিনামূল্যে রক্ত দেওয়া ও নেওয়া যায়। এর মধ্যে কল্যাণ বা ছওয়াব রয়েছে। কারণ এটা মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য এবং দয়া করার শামিল। জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩১৯; মিশকাত, হা/৪৯৪৭)। শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহঃ) বলেন, কোন মানুষ যদি অসুস্থ হয় এবং রক্ত প্রদান ব্যতীত জীবন রক্ষার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে রক্ত প্রদানে কোন ক্ষতি নেই, উভয়ের দ্বীন (ধর্ম) ভিন্ন হলেও (ফাতাওয়া হাইয়াতুল কিবারিল ওলামা, ২/৮৯৯ পৃঃ)।

প্রশ্ন (৮) : ‘তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিবাহ করলে সে তালাক হয়ে যাবে’। কোন মেয়ের সাথে এমন ওয়াদা করার পর একজন পুরুষ যদি অন্য কোন মেয়েকে বিবাহ করে তাহলে কি সে তালাকপ্রাপ্তা হিসাবে গণ্য হবে?

-আল-আমিন তুষার

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : প্রথমত, এমন ওয়াদা করা জায়েয নয়। কেননা যরূরী প্রয়োজন ছাড়া কোন বেগানা নারীর সাথে কথা বলা জায়েয নয়। দ্বিতীয়ত, সে তালাকপ্রাপ্তা হিসাবে গণ্য হবে না। কেননা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পূর্বে তালাক সাব্যস্ত হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মালিকানা বা বিবাহ বন্ধন ব্যতীত তালাক নেই’ (তিরমিযী, হা/১১৮১; মিশকাত, হা/৩২৮২; আবুদাঊদ, হা/২১৯০; আহমাদ, হা/৬৭৬৯)।

প্রশ্ন (৯) : শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি লাভের জন্য কুরআনের সূরা মুমিনুন-এর ৯৭ ও ৯৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِوَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ এতদ্বসত্ত্বেও আমরা কেন أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ বলি?

-রফীকুল ইসলাম (বাবু)

কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে বাঁচার জন্য এই আয়াতটি একটি দু‘আ। তাছাড়া তার কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য অনেকগুলো দু‘আ বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে ‘আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রজীম’ও একটি। সুলায়মান ইবনু ছুরাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট দুই ব্যক্তি একে অন্যকে গালি দিতে লাগল, তখন আমরা তাঁর নিকট বসেছিলাম। এদের মধ্যে এক ব্যক্তি খুব রাগান্বিত অবস্থায় তার সাথীকে গালি দিচ্ছিল, যাতে তার চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি সে তা বলে, তবে তার রাগ চলে যাবে। তাহলো, أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ  ‘আমি আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই’। তখন ছাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, তুমি কি শুনছ না, নবী করীম (ছাঃ) কী বলছেন? সে বলল, আমি পাগল নই (ছহীহ বুখারী, হা/৬১১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২০১৪; মিশকাত, হা/২৪১৮)।

প্রশ্ন (১০) : সূরা নাহল-এর ৩২ এবং যুমার-এর ৭৩ নং আয়াতে মুমিন ব্যক্তিদের সাথে সালাম বিনিময়ের ভাষা বা শব্দ হিসাবে বলা হয়েছে سَلَامٌ عَلَيْكُمْ। সুতরাং কেন আমরা السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ বলি?

-আজমল হোসেন

কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ বলতে হবে। কেননা এটা মুমিন ব্যক্তিদের সাথে সালাম বিনিময়ের ভাষা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন, যাও! ফেরেশতাদের ঐ দলটিকে সালাম কর। আর তারা তোমার সালামের কী উত্তর দেয় তা শ্রবণ কর। কেননা তা তোমার ও তোমার সন্তানদের অভিবাদন হবে। তখন তিনি গেলেন অতঃপর বললেন, ‘আস-সালামু ‘আলাইকুম’। তারা বলল, ‘আস-সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, তারা ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ অংশটি বৃদ্ধি করলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬২২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৪১; মিশকাত, হা/৪৬২৮) । উল্লেখ্য যে, سَلَامٌ عَلَيْكُمْ হল জান্নাতের ভাষা। তবে তা দুনিয়াতেও ব্যবহার করা যায় (ইবনু হিববান, হা/৪৯৩; ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৭১২)।

প্রশ্ন (১১) : জোরপূর্বক ইমামতি করা যাবে কি?

-সাইফুল ইসলাম

কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : না, জোরপূর্বক ইমামতি করা যাবে না। কেননা যারা জোরপূর্বক ইমামতি করে বা ছালাত আদায় করায় তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির ছালাত তাদের কানের সীমা অতিক্রম করে না (অর্থাৎ কবুল হয় না)। (১) পলাতক দাস, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে (২) ঐ মহিলা যে তার স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে রাত্রি যাপন করে এবং (৩) ঐ ইমাম যাকে তার জাতি অপসন্দ করে’ (তিরমীযী, হা/৩৬০; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৪৮৭; ছহীহ আল-জামে‘, হা/৩০৫৭)। উল্লেখ্য যে, ইমাম যদি সঠিক আক্বীদায় চলার কারণে মুক্তাদীরা তার বিরোধীতা করে তাহলে তাদের কথা গণ্য হবে না।

প্রশ্ন (১২) : মানুষ মারা গেলে তৎক্ষণাৎ তার পাশে অবস্থান করে কোন কোন দু‘আ পড়তে হবে?

-আফরোজা

মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : এমর্মে নির্ধারিত কোন দু‘আ নেই। তবে তার জন্য যেকোন কল্যাণের দু‘আ পড়া যাবে। আবু সালামা (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের (মাইয়্যেতের) কল্যাণের জন্য দু‘আ কর। কারণ তোমরা যা বল তার উপর ফেরেশতাগণ আমীন বলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯২০; মিশকাত, হা/১৬১৯)। তবে তাকে দাফনের পর اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَ ثَبِّتْهُ (আল্লাহুম্মাগফির লাহূ ওয়া ছাব্বিতহু) এবং জানাযার অন্যান্য দু‘আগুলোও ব্যক্তিগতভাবে পড়া যায় (আবুদাউদ, হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩)। উল্লেখ্য যে, দাফনের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু‘আ করা বিদ‘আত এবং বহুল প্রচলিত মাটি দেয়ার দু‘আটি নিতান্তই যঈফ যা পরিত্যাজ্য। দু‘আটি নিম্নরূপ,

مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرى

প্রশ্ন (১৩) : মানতকারী কি তার মানতকৃত পশুর গোশত খেতে পারবে?

-আব্দুল্লাহ আল-মামুন

সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : মানতকৃত পশুর গোশত খাওয়া ও না খাওয়ার বিষয়টি তার নিয়তের উপরে নির্ভরশীল। যদি ফক্বীর-মিসকীনকে খাওয়ানোর নিয়ত করে থাকে তাহলে সে এবং তার পরিবারের কেউ খেতে পারবে না। আর যদি এরূপ নিয়ত না করে থাকে তাহলে সকলেই খেতে পারবে (হাইয়াতু কিবারিল ওলামা)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিয়তের উপরই সমস্ত কাজ নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১; মিশকাত, হা/১)।

প্রশ্ন (১৪) : ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সূদের ৭০০০ টাকা দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের নিয়ত করেছি। তবে কেউ যদি পূর্বেই আমার থেকে ২০০০ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে অসক্ষম হয়। তাহলে কি ঐ ২০০০ টাকাকে মাফ করে দিয়ে আর ৫০০০ টাকা বিতরণ করলে তা বৈধ হবে?

-রবিউল ইসলাম

কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।

উত্তর : না, সূদের টাকাকে প্রদত্ত ঋণের টাকার মধ্যে গণ্য করা ঠিক হবে না। কেননা ঋণ দেওয়ার মধ্যে যেমন নেকী রয়েছে তেমনি তা পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিলেও তার জন্য বিরাট নেকী রয়েছে। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই কামনা করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট হতে মুক্তি দিবেন, সে যেন অক্ষম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সহজ ব্যবস্থা করে অথবা ঋণ মওকূফ করে দেয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২৯০২)। অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে (হাশরের মাঠে) তাঁর ছায়া দান করবেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২৯০৩/৪ ‘দেউলিয়া হওয়া এবং ঋণ গ্রহীতাকে অবকাশ দান’ অনুচ্ছেদ)। সুতরাং অক্ষম ঋণ-গ্রহীতাকে ক্ষমা করে দিয়ে সূদের সকল অর্থ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। তবে শর্ত হল, নেকীর আশা থাকবে না। বরং তা কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই দিতে হবে (ফিক্বহুল ইসলামী, পৃঃ ৭০৪)।

প্রশ্ন (১৫) : ‘আখিরাতে মানুষ জিনদেরকে দেখতে পাবে কিন্তু তারা মানুষদেরকে দেখতে পাবে না’। কথাটি কি সত্য?

-আব্দুর রহীম

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ক্বিয়ামতের মাঠে জিন-ইনসান সকলেরই বিচার হবে এবং উভয়েই জান্নাতে বা জাহান্নামে যাবে। তবে তাদের পরস্পরের মাঝে দেখা হবে কি-না এ ব্যাপারে কোন বিধান পাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

প্রশ্ন (১৬) : পবিত্র কুরআনে কতজন ফেরেশতার নাম উল্লেখ আছে? আল্লাহর আরশ বহনকারী ৮ জন ফেরেশতার নাম কী? 

-এম.এহসান আলী

ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : পবিত্র কুরআনে মাত্র তিনজন ফেরেশতার নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন, ‘জিবরীল (আঃ) ও মিকাঈল (আঃ)’ (বাক্বারাহ ৯২) এবং রা‘দ (রা‘দ, ১৩)। আর আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতার সংখ্যা ৮ জন (হা-ক্কাহ, ১৭)। তবে তাদের নাম সম্পর্কে কুরআন-হাদীছে কোন বিবরণ পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (১৭) : বিপদে পড়লে মিথ্যা বলা যাবে কি?

-মুরসালিন

বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : সাধারণ কোন বিপদাপদে মিথ্যা বলা যাবে না। কেননা মিথ্যা বলা যায় তিনটি স্থানে। যথা, (১) মীমাংসার জন্য, (২) যুদ্ধক্ষেত্রে, (৩) স্ত্রী-স্বামী পরস্পরের নিকট (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/৪৯২১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৫,২৬০৫; মিশকাত, হা/৫০৩১ ও ৫০৩৩)। এছাড়া কল্যাণকর কাজের স্বার্থেও সাময়িকভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যায়। যেমন ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেন, ‘আমি পীড়িত’ (ছাফফাত, ৮৯)। মূর্তি ভাঙ্গার পরে তিনি বড় মূর্তিকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, ‘এই বড়টাই তো একাজ করেছে। অতএব তাকে জিজ্ঞেস কর’ (আম্বিয়া, ৬৩)। ইউসুফ  (আঃ) ভাইদের রসদপত্রের মধ্যে পানপাত্র লুকিয়ে রেখে ঘোষককে দিয়ে বলেছিলেন, হে কাফেলার লোকজন! তোমরা অবশ্যই চোর’ (ইউসুফ, ৭০)। উল্লেখ্য, এগুলো প্রকৃত অর্থে মিথ্যা নয়; বরং ‘তাওরিয়াহ’। যা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই করা হয়ে থাকে। তবে বিপদে প্রাণ নাশের আশঙ্কা থাকলে মিথ্যা বলা যেতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কর না’ (বাক্বারাহ, ২/১৯৫)।

প্রশ্ন (১৮) : মহিলারা কি তাদের পাকা চুলে কলপ করতে পারে?

-সুলতানা

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : মহিলা হোক বা পুরুষ হোক কারো জন্যই চুলে কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ নয়। জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা সাদা চুল কালো করা থেকে বিরত থাক’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১০২; মিশকাত, হা/৪৪২৪)। তিনি বলেন, ‘আখেরী যামানায় কিছু লোক হবে, যারা কবুতরের বক্ষের ন্যায় কালো রঙয়ের খেযাব দিয়ে চুল কালো করবে। এরা জান্নাতের সুবাতাসও পাবে না’ (আবুদাঊদ, হা/৪২১২; নাসাঈ, হা/৫০৭৫; মিশকাত, হা/৪৪৫২, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (১৯) : দ্বিতীয় বিবাহ করার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন আছে কি?

-শিমুল

সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীর।

উত্তর : দ্বিতীয় বিবাহের প্রয়োজন হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করতে পারবে, এতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সকল মুসলিম ব্যক্তিকেই দু’জন, তিনজন, চারজন বিবাহ করার জন্য শর্তহীনভাবে ইখতিয়ার দিয়েছেন (নিসা, ৩)। তবে বিবাহ করার চেয়ে স্ত্রীদের মাঝে ইনছাফ করার বিষয়টি বেশী যরূরী ও কঠিন। এজন্য দু’জন, তিনজন বিবাহ করার আগে ইনছাফের বিষয়টি ভাবতে হবে। কারণ ইনছাফ না করতে পারলে ক্বিয়ামতের  মাঠে ঐ স্বামীকে অর্ধাঙ্গ করে উঠানো হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যক্তির কাছে দু’জন স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার না করে, তাহলে ক্বিয়ামতের দিন সে এক অঙ্গহীন অবস্থায় উঠবে’ (তিরমিযী, হা/১১৪১; আবুদাঊদ, হা/২১৩৩; নাসাঈ, হা/৩৯৪২; ইবনু মাজাহ, হা/১৯৬৯; দারেমী, হা/২২০৬; মিশকাত, হা/৩২৩৬)।

প্রশ্ন (২০) : স্ত্রী মারা গেলে তার খালাকে বিবাহ করা যাবে কি?

-জাহিদুল ইসলাম

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : হ্যাঁ, স্ত্রী মারা গেলে কিংবা বিচ্ছিন্নতা ঘটে গেলে খালাকে বিবাহ করা যাবে। কেননা ফুফুর বর্তমানে ভাতিজীকে এবং খালার বর্তমানে ভাগ্নীকে বিয়ে করা নিষেধ। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ যেন ফুফু ও তার ভাতিজীকে এবং খালা ও তার বোনঝিকে একত্রে বিবাহ না করে (ছহীহ বুখারী, হা/৫১০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০৮)।

প্রশ্ন (২১) : জনৈক ব্যক্তি বিয়ের সময় স্ত্রীর জন্য ৭০,০০০/= (সত্তর হাজার) টাকা মোহর নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু এখনও তা পরিশোধ করেননি। বর্তমানে তার তিন কন্যা ও ৫ বিঘা জমি আছে। তিনি কি ঐ জমি মোহর পরিশোধের জন্য তার স্ত্রীর নামে লিখে দিতে পারেন। নাকি শুধুমাত্র ঐ টাকার সমপরিমাণ জমি লিখে দিবেন?

-তানযিলা, নারায়নগঞ্জ।

উত্তর :  না, কোন ব্যক্তি তার সমুদয় অর্থ-সম্পদ স্ত্রীকে মোহরের জন্য লিখে দিতে পারবে না। বরং স্ত্রীর মোহর সমপরিমাণ সম্পদ লিখে দিতে হবে। কেননা, স্ত্রী যেমন স্বামীর নিকটে মোহরানা প্রাপ্যের অধিকার রাখে তদ্রম্নপ সন্তানরাও পিতার সম্পদে অধিকার রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন,  পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে (নিসা, ১১)।

প্রশ্ন (২২) : অমুসলিম লেখকদের বই পড়া যাবে কি?

-মিলন হোসাইন

রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : অমুসলিমদের বই পড়া যাবে কিনা তা নির্ভর করে সেগুলোর বিষয়বস্তুর উপর। বিষয়বস্তু যদি ইসলামীক আক্বীদা ও নীতিমালার সাথে কোনভাবে সাংঘর্ষিক হয়, তাতে চরিত্র ও আমল-আক্বীদা নষ্ট হয় কিংবা, নাস্তিকতার প্রতি ধাবিত করে তবে, তা পড়া ও লেখা জায়েয হবে না। ওমর (রাঃ) একদা তাওরাত লেখা এক টুকরা কাগজ পড়ছিলেন তখন রাসূল (ছাঃ)-এর চেহারা রাগে লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাছে একটি অতি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দ্বীন নিয়ে এসেছি। মূসা (আঃ)ও যদি আজ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতেন, আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁর পক্ষে অন্য কোন উপায় ছিল না (আহমাদ, হা/১৫১৯৫; বায়হাক্বী-শু‘আবুল ঈমান, হা/১৭৪; মিশকাত, হা/১৭৭)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মানুষদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে অর্থহীন ও বেহুদা গল্প-কাহিনী খরীদ করে যাতে করে সে অজ্ঞতার ভিত্তিতে আল্লাহ তা‘আলার পথ হতে দূরে রাখতে পারে; সে একে হাসি, বিদ্রম্নপ, তামাশা হিসাবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য অপমানকর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে’ (লুক্বমান, ৬)। সুতরাং মুসলিমদের একান্ত আবশ্যক যে কুরআন ও ছহীহ-সুন্নাহভিত্তিক সংকলিত বই-পুস্তক পাঠ করা। উল্লেখ্য যে, ইসলামকে নিয়ে অমুসলিমদের ষড়যন্ত্র, মুসলিমদের তা থেকে সতর্ক করার জন্য তাদের বই পুস্তক পড়া যেতে পারে।

প্রশ্ন (২৩) :  ভুলবশত ইমামের পূর্বেই সূরা ফাতিহা পড়া হয়ে গেলে করণীয় কী?

-উত্তর রামপুর উন্মুক্ত ইসলামী পাঠাগার

পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণের জন্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৪; মিশকাত, হা/৮৫৭)। সুতরাং ইচ্ছা করে ইমামের পূর্বে কোন কাজ করা বৈধ নয়। আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আমি এখন ভারী হয়ে গেছি। অতএব আমি যখন রুকূ করি, তোমরাও তখন রুকূ কর এবং আমি যখন মাথা উঠাই, তোমরাও তখন মাথা উঠাও। আমি যখন সাজদাহ করি, তোমরাও তখন সাজদাহ করো। আমি যেন কোন ব্যাক্তিকে আমার আগে রুকূ ও সাজদায় যেতে না দেখি (ইবনে মাজাহ, হা/৯৫২)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তা‘আলা তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫০)। উল্লেখিত হাদীছসমূহ থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, ইমামের পূর্বে কোন কাজ করলে ইমামের অনুসরণ করা হয় না। তবে যদি ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকে তাহলে ছালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের ভুল করা ও ভুলে যাওয়াকে মাফ করে দিয়েছেন এবং সে কাজটিও মাফ করে দিয়েছেন, যে কাজটি তাদের দ্বারা জবরদস্তিমূলক করানো হয়’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৫; বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/১৪৮৭১; মিশকাত, হ/৬২৮৪)।

প্রশ্ন (২৪) : গল্প-উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি?

-মিলন হোসাইন

রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : মানুষের চরিত্র ও আক্বীদা বিনষ্টকারী কোন গল্প-উপন্যাস লেখা যাবে না। তাছাড়া মিথ্যা তাফসীর ও কল্পকাহিনী বর্ণনার দ্বারা গল্প-উপন্যাস লেখা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ হতে (মানুষকে) বিচ্যুত করার জন্যে অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় (সংগ্রহ) করে এবং এই পথটিকেই ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে; তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি’ (লুক্বমান, ৬)। বরং পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধ তাফসীর ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে মানুষের আমল ও আক্বীদার সংশোধনমূলক ইসলামী গল্প-উপন্যাস লিখতে হবে। যার মাধ্যমে ইসলামের তাহজীব-তামাদ্দুনের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। যদি এমনটি না হয় তাহলে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হবে, যা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ, ২)।

প্রশ্ন (২৫) : আক্বীক্বার গোশত কি সমাজের মানুষকে দেয়া যরূরী?

-মুজিবর রহমান

পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : আক্বীক্বার গোশত বণ্টনের ব্যাপারে শরী‘আতে নির্দিষ্টভাবে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। আক্বীক্বা পিতার জিম্মাদারী। এ গোশত নিজেরা ও প্রতিবেশীরা খেতে পারে এবং ফক্বীর-মিসকীন ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছায়মীন, ২৫/২০২, ২১৪ পৃঃ)।

প্রশ্ন (২৬) : আমার স্বামী ব্যবসার জন্য একটি এনজিও বা ঋণদাতা সংস্থা থেকে ঋণ নেয়। সেখানে সাক্ষী হিসাবে আমাকে স্বাক্ষর দিতে হয়। স্বাক্ষর না দিলে স্বামী মানসিক অত্যাচার করে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

-রুমা আক্তার

ফুলপুর, ময়মনসিংহ।

উত্তর : এনজিও মূলত সূদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এমন সূদী কারবারে সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর দেয়া যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অন্যায় ও পাপ কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ, ২)। জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূদদাতা, সূদ গ্রহীতা, সূদের হিসাব লেখক এবং সূদদাতা-গ্রহীতার সাক্ষীর উপর লা‘নত করেছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাপের দিক দিয়ে তারা সকলেই সমান (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; মিশকাত, হা/২৮০৭)। সুতরাং স্বামীকে বুঝাবার চেষ্টা করতে হবে। সে সংশোধন না হলে খোলা করার (স্বামীকে পরিত্যাগ করার) ইখতিয়ার রয়েছে। তবে মাযলূম হিসাবে তার সাথে বসবাস করলে আল্লাহ পাকড়াও করবেন না।

প্রশ্ন (২৭) : কারো মনে আঘাতদানকারী ক্ষমা চাওয়ার পরেও যদি আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে ক্ষমা না করে তাহলে কি সে (আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি) গুনাহগার হবে?

-নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করাই উচিত (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। এতে যদি সে ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। তখন সে মুক্তি পাবে বলে আশা করা যায়।

প্রশ্ন (২৮) : তাসবীহ পাঠের সময় ডান হাতের কোন আঙ্গুল থেকে শুরু করতে হবে?

-আমিনা আক্তার, শেরপুর।

উত্তর : ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতে দেখেছি (বায়হাক্বী ২/১৮৭; আবুদাঊদ, হা/১৫০২)। কিন্তু ডান হাতের কোন আঙ্গুল দ্বারা শুরু করতে হবে তার স্পষ্ট বর্ণনা নেই। তবে রাসুল (ছাঃ) সকল ভালকাজ ডান দিক থেকে করতে পসন্দ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪০৬, ৪৯৬১)। সে কারণে ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা নিজ সুবিধামতো তাসবীহ পাঠ করতে হবে।

প্রশ্ন (২৯) : আহলেহাদীছ ও আহলেকিতাব-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

-আব্দুল্লাহ

কল্যানপুর, ঢাকা।

উত্তর : আহলেহাদীছ ও আহলেকিতাব-এর মধ্যকার কতিপয় পার্থক্য নিম্নরুপ : (১) আহলেহাদীছগণ মুসলিম পক্ষান্তরে আহলেকিতাবগণ কাফের। মহান আল্লাহ বলেন, আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা ও মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম (বায়্যেনাহ, ৬)। (২) আহলেহাদীছগণ শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বিশ্বাস করেন, পক্ষান্তরে আহলেকিতাবগণ তাঁকে শেষ নবী হিসেবে মানে না ও বিশ্বাস করে না। (৩) আহলেহাদীছগণ কুরআনকে আল্লাহর বাণী হিসাবে মানেন ও তদনুযায়ী আমল করেন। পক্ষান্তরে আহলে কিতাবরা আল্লাহর বাণী কুরআনকে অস্বীকার করে। (৪) আহলেহাদীছগণের আক্বীদা হল, সমস্ত নবী ও রাসূল ছিলেন নিষ্পাপ। আর এজন্যই তাঁদের আনীত শরী‘আতের বিধি-বিধানসমূহের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমু‘আ ফাতাওয়া, ১০/২৮৯-৯৩ পৃঃ)। পক্ষান্তরে আহলে কিতাবগণ নবীগণের নিষ্পাপত্বের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে। যেমন ইয়াহূদীরা নবীদের উপর জঘন্য অপবাদসমূহ আরোপ করেছে। পক্ষান্তরে খ্রীস্টানরা নবীদের মাঝে একমাত্র ঈসা মসীহ (আঃ)-কেই নিষ্পাপ মনে করে। তাদের মতে, আদম (আঃ)-এর পাপের কারণে পাপিষ্ঠ মানবজাতিকে ঈসা (আঃ) তাঁর আত্মদানের মাধ্যমে পাপমুক্ত করে গেছেন। এই অন্যায় আক্বীদার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের উপর লা‘নত করেছেন (নিসা, ১৫৫-১৫৭; মায়েদাহ, ৭০,৭৮-৮১; তওবাহ, ৩০-৩১)।

প্রশ্ন (৩০) : হাঁটতে হাঁটতে মোবাইলে কুরআন তেলাওয়াত শোনা যাবে কি?

-আব্দুর রহমান

গেদীপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : কুরআন তেলাওয়াত শুনতে হয় নির্জন নিরিবিলি অবস্থায় মনোযোগ সহকারে‌। সুতরাং শোরগোলমুক্ত নির্জন ও নিরিবিলি পরিবেশ হলে, হাঁটতে হাঁটতে মোবাইলে কুরআন তেলাওয়াত শোনাতে কোন সমস্যা নেই। আর যদি শোরগোলযুক্ত এমন এলাকা হয় যেখানে কুরআন তেলাওয়াত করতে এবং তার অর্থ বা মর্মার্থ অনুধাবনে মনোযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমস্যা পরিলক্ষিত হয় তাহলে, সেখানে কুরআন তেলাওয়াত শোনা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে ও নীরব থাকবে। হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা হবে (আ‘রাফ, ২০৪)।

প্রশ্ন (৩১) : মেয়েদের চুল দিয়ে শিশুদের খেলনা ক্রয় করা যাবে কি?

-রানা

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করেছেন (ইসরা, ৭০)। তাই তার মাথার চুলও সম্মানিত বস্তু। মানুষের চুলকে অপস্থানে ব্যবহার করা স্বয়ং মানুষকে অপমান করার শামিল। অতএব, মেয়েদের মাথার চুল দিয়ে শিশুদের জন্য খেলনা বা যে কোন কিছু ক্রয় করা যাবে না। কারণ উক্ত চুল সাধারণত পরচুলা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) মু‘আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান (রাঃ)-কে হজ্জ্ব করতে গিয়ে মিম্বারের উপর বলতে শোনেন, তিনি তখন একজন প্রহরীর হাতে থাকা এক গোছা চুল নিয়ে বলেন, হে মদীনার অধিবাসীগণ! তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রাসূল (ছাঃ)-কে এই পরচুলা ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি (ছাঃ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মহিলারা যখন এসব ব্যবহার শুরু করে তখনই তারা ধ্বংস হয়ে গেছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/২১২৭)। মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, সাঈদ ইবনুল মুছায়্যিব (রাঃ) বলেন, মু‘আবিয়া (রাঃ) মদীনায় এসে আমাদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক গোছা চুল বের করে বললেন, ইয়াহূদী ছাড়া অন্য কাউকে আমি এই পরচুলা ব্যবহার করতে দেখিনি। রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এই চুল নিয়ে যাওয়া হলে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘মিথ্যা’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১২৭)।

প্রশ্ন (৩২) : ‘হে আল্লাহ আমাকে আমার দৃষ্টিতে ছোট এবং মানুষের দৃষ্টিতে বড় বানিয়ে দিন’-এমন কোন ছহীহ দু‘আ আছে কি?

-আব্দুর রহমান

মোল্লাহাট, বাগেরহাট।

উত্তর : উক্ত দু‘আটি ইমাম হায়ছামী তার মাজমাউয যাওয়ায়িদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/১৮১ পৃঃ)। এছাড়া ইমাম বাযযার (রাহঃ) তার কাশফুল আসতার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীছের সনদে উক্ববা ইবনু আব্দিল্লাহ আল-আছাম (রাঃ) রয়েছেন। তিনি একজন দূর্বল রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রাহঃ) বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। হাসান আল-বাসরী (রাহঃ) ও ‘আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি ছিলেন দুর্বল, দুর্বল হাদীছ বর্ণনাকারী এবং হাদীছের হাফেয নন (মুখতাছার আল-কামেল ফিয যু‘আফাহ, ১/৫৮০ পৃঃ)। এসব কারণের উপর ভিত্তি করে হাদীছটিকে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহঃ) মুনকার বলেছেন (সিলসিলা যঈফাহ, /৯১১)।

প্রশ্ন (৩৩) : সিজদায় চোখ বন্ধ রাখা যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন

কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : সিজদায় বা ছালাতের যে কোন স্থানে চোখ বন্ধ রাখা ঠিক নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) সিজদার স্থানে তাকিয়েই ছালাত আদায় করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এমন একটি চাদরে ছালাত আদায় করেন যাতে নকশা ছিল। তিনি তার নকশার দিকে একবার নযর করলেন। তিনি ছালাত শেষে বললেন, ‘আমার এ চাদরটি তার প্রদানকারী আবু জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং আমার জন্য তার ‘আম্বেজানিয়া’ চাদর নিয়ে আসো। কেননা এখনই এ চাদর আমার ছালাতের একাগ্রতা নষ্ট করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৫৬; মিশকাত, হা/৭৫৭)। আনাস (রাঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর একটি পর্দা ছিল, যা দ্বারা তিনি ঘরের একদিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘তোমার এ পর্দা সরিয়ে ফেল। কারণ তার ছবিসমূহ আমার ছালাতের মাঝে আমার চোখে পড়ে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মিশকাত, হা/৭৫৮)। যদি ছালাতে চোখ বন্ধ করে রাখা শরী‘আত সম্মত হতো, তাহলে রাসূল (ছাঃ) অবশ্যই চোখ বন্ধ রাখতেন এবং সেই চিত্রগুলো তাকে অমনোযোগী করত না (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, ৫/৩৭৯ পৃঃ)।

প্রশ্ন (৩৪) : তাহাজ্জুদের ছালাত সর্বনিম্ন কত রাক‘আত পড়া যায়?

-মিলন হোসেন

রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : তাহাজ্জুদের ছালাত ৮ রাক‘আত। দুই রাক‘আত আদায় করলে তা তাহাজ্জুদের ছালাত হবে না। তবে যারা রাতে আল্লাহকে ডাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন কোন ব্যক্তি তার পরিবারকে জাগায় এবং দু’জন মিলে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তখন তাদেরকে আল্লাহর স্মরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়’ (আবুদাঊদ, হা/১৩০৯)।

প্রশ্ন (৩৫) : সন্তানকে স্কুলে বা বাহিরে কোথাও পাঠানোর সময় সূরা নাস, ফালাক ও আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁক দেয়া যাবে কি?

-হাসিনুর রহমান

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সন্তানকে স্কুলে বা বাহিরে কোথাও পাঠানোর সময় সূরা নাস, ফালাক ও আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁক দেয়ার কোন প্রমাণ নেই। বরং বের হওয়ার সময় بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি’ বলতে হবে (তিরমিযী, হা/৩৪২৬; মিশকাত, হা/২৪৪২)। আর বদনযর থেকে রক্ষার জন্য সন্তানের মাথার সম্মুখভাগ ধরে নিম্নের দু‘আ পড়বে।

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ.

উচ্চারণ : আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিং কুল্লি শাইত্ব-নিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিং কুল্লি ‘আইনিল লা-ম্মাহ। অর্থ : প্রত্যেক শয়তান হতে আল্লাহর পূর্ণ কালেমা দ্বারা (তোমার জন্য) পরিত্রাণ চাচ্ছি। আর পরিত্রাণ চাচ্ছি প্রত্যেক বিষাক্ত কীট হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চক্ষু হতে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭১; মিশকাত, হা/১৫৩৫)।

প্রশ্ন (৩৬) : প্রতিনিয়ত তাহাজ্জুদ পড়া কষ্টসাধ্য হলে সপ্তাহে ১/২ দিন পড়া যাবে কি?

-আনোয়ার হোসেন

কাশিমপুর, গাজীপুর।

উত্তর : তাহাজ্জুদের ছালাত নিয়মিত আদায় করা উচিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি অমুকের মত হইও না, যে আগে তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করত তারপরে তাহাজ্জুদের ছালাত ছেড়ে দিয়েছে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯; মিশকাত, হা/১২৩৪)। তবে নিয়মিত আদায় করতে না পারলে গুনাহগার হবে না। কেননা এটি নফল ছালাত। আর যদি শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত আদায় করতে না পারে তবুও সে তাহাজ্জুদ ছালাতের পূর্ণ নেকী পাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে যায়, তখন সুস্থ এবং বাড়িতে থাকাকালীন সে যে আমল করত, সেই পরিমাণ নেকী তার আমলনামায় লিখে দেয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৯৬; মিশকাত, হা/১৫২৯)।

প্রশ্ন (৩৭) : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের দুই বছর পর থেকে মূল বেতনের ৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই জমাকৃত টাকার উপর প্রতি বছর চক্রবৃদ্ধিহারে সূদ হিসাব করে তা অবসর গ্রহণকালে ফেরত দেওয়া হয়। তবে কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী চাইলে জমাকৃত টাকা সূদমুক্ত রাখার জন্যও আবেদন করতে পারেন। প্রশ্ন হল, প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা উক্ত টাকার উপর কোন ধরণের সূদ নেয়া যাবে কি?

-আব্দুল আজিজ ভূঁঞা

ইনচার্জ অফিসার,  জোনাল সেটেলম্যান্ট অফিস,  ময়মনসিংহ।

উত্তর : সকল প্রকার সূদ হারাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ, ২৭৫)। সরকারি চাকুরিজীবীদের মূল বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫% এবং ঐচ্ছিকভাবে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। এই অর্থকে চক্রবৃদ্ধিকারে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয়। যা স্পষ্ট সূদ। তাই এই সূদ থেকে বেঁচে থাকা একান্ত যরূরী। উল্লেখ্য যে, অনেকেই বলে থাকেন, এটা যেহেতু বাধ্যতামূলকভাবে কেটে রেখে দেয়া হয় এবং হাতে আসার আগ পর্যন্ত কর্মচারী উক্ত টাকার মালিকই হতে পারে না, তাই এই টাকা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সূদ বলে গণ্য হবে না। বরং যখন কর্মচারী উক্ত টাকার মালিক হয়ে যাবে, তারপরে যদি সূদের কাজে লাগায়, তাহলে তখন তা সূদ বলে গণ্য হবে। এই বক্তব্য কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। কারণ- ১. সরকারিভাবে ৫% প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখা বাধ্যতামূলক। বাকি ২০% ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছায় রাখতে পারে ২. অবসর গ্রহণকালে টাকা ফেরত দেয়ার সময় কত টাকা মূলধন এবং কত টাকা সূদ, তা বলে দেয়া হয়। তাই ব্যক্তি চাইলে উক্ত সূদ থেকে বাঁচতে পারে ৩. সর্বোপরি কর্মচারী চাইলে তার এ্যাকাউন্টকে পুরোপুরি সূদমুক্ত রাখার আবেদনও করতে পারে। বিধায় ইচ্ছা করলে সে সূদের একটি টাকাও ভক্ষণ করতে বাধ্য নয়। তাই কোন যুক্তিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সূদকে হালাল বলার উপায় নেই।

প্রশ্ন (৩৮) : ওযূ করে ছালাতের জন্যে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসলে এক কদমে একটি পাপ ক্ষমা হয় এবং অপর কদমে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬৬)। প্রশ্ন হল, যদি কেউ বাড়িতে ওযূ না করে মসজিদে এসে ওযূ করে, তাহলে কি সেই মর্যাদার অধিকারী হবে?

-রুস্তম আলী

রামপুরা, ঢাকা।

উত্তর : না, মসজিদে এসে ওযূ সম্পাদনকারী উক্ত নেকীর  অধিকারী হবে না। কেননা হাদীছে নিজ বাড়িতে পবিত্রতা অর্জন করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আল্লাহর কোন ফরয বিধান পালন করার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে আল্লাহর ঘরসমূহের কোন ঘরের দিকে যাবে। তার প্রতি দুই কদমের এক কদমে একটি পাপ মোচন হবে এবং অপর কদমে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬৬)। অতএব, উক্ত ছওয়াব পেতে হলে বাড়িতেই ওযূ করে মসজিদে আসতে হবে।

প্রশ্ন (৩৯) : জুমু‘আর খুতবায় সূরা ক্বাফ পড়ার বিধান কী?

-মুসতাকীম

দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর পর মানুষ যে সকল সুন্নাত ছেড়ে দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল জুমু‘আর খুতবায় সূরা ক্বাফ তিলাওয়াত করা। আমরা বিনতে আব্দুর রহমান (রাঃ) আমরার এক বোন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি সূরা ক্বফ মুখস্থ করেছি রাসূল (ছাঃ)-এর মুখ থেকে জুমু‘আর দিনে। তিনি প্রতি জুমু‘আয় মিম্বরের উপর তা তিলাওয়াত করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৭২; মিশকাত, হা/১৪০৯)। তবে তিনি সূরা ক্বাফ পুরোটাই তেলাওয়াত করতেন নাকি কিছু অংশ করতেন; সারা জীবন ধরে তেলাওয়াত করেছেন নাকি কিছু সময় ধরে পড়েছেন, তারপরে পড়া বাদ দিয়েছেন, তার স্পষ্ট কোন প্রমাণ নেই। তবে বিবরণে বুঝা যায় যে, আংশিক পড়তেন। অতএব কিছু পড়া ভালো।

প্রশ্ন (৪০) : ছহীহ মুসলিমে এসেছে, ‘ছালাতকে দীর্ঘ করা এবং খুতবাকে সংক্ষিপ্ত করা ব্যক্তির প্রজ্ঞার পরিচায়ক’। তাহলে খুতবা এবং ছালাতের সময়ের আনুপাতিক পার্থক্য কতটুকু হবে? 

-মুখলেছুর রহমান

সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : জুমু‘আর ছালাত মধ্যম অর্থাৎ ছালাত অনুযায়ী মধ্যম; জুম‘আর খুৎবা মধ্যম অর্থাৎ খুৎবা অনুযায়ী মধ্যম। মধ্যম অর্থ এই নয় যে, জুমু‘আর ছালাতের সময় বেশী আর জুমু‘আর খুৎবার সময় কম। এ অর্থ বুঝলে ভুল হবে (বিস্তারিত দেখুন, মিরআতুল মাফাতীহ, ৪/৪৯ পৃঃ, হা/১৪১৯)।

 

প্রশ্ন (৫২) : এক লক্ষ টাকা যামানতের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য দোকান ভাড়া নিয়েছি। দোকানের মালিক যামানতের উক্ত টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে পারে কি? যদি তিনি ব্যবসা করেন তাহলে তার লভ্যাংশ কার প্রাপ্য হবে?

-এমদাদুল হক

সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : দোকানের ভাড়ার হক্বদার মালিক। কিন্তু যামানতের টাকা মূলত ভাড়াটিয়ার। সুতরাং মালিক উক্ত টাকা দিয়ে ব্যবসা করলে টাকা বিনিময়ের কারণে ভাড়াটিয়া অর্ধেক পাবে আর পরিশ্রম করার কারণে মালিক অর্ধেক পাবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অংশ বণ্টনহারে চাষাবাদ বা ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খায়বারের বাগান ও যমীন সেখানকার ইয়াহূদীদেরকে দিয়েছিলেন। তারা নিজেদের অর্থে তাতে চাষাবাদ করবে। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার ফল ও ফসলের অর্ধেক পাবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৫১; মিশকাত, হা/২৯৭২)। ছহীহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খায়বারকে ইয়াহূদীদের দিয়েছিলেন। তারা তাতে পরিশ্রম করবে ও শস্য ফলাবে এবং সেখানে যা উৎপাদিত হবে, তারা তার অর্ধেক পাবে (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৫)। আসলে যামানতের পদ্ধতি শরী‘আতে নেই।

প্রশ্ন (৪২) : ছালাতের তৃতীয় রাক‘আতের শুরুতে পুনরায় রাফঊল ইয়াদায়েন করার হাদীছটি কি ছহীহ?

-রাসেল মাহমূদ (মনির)

দূর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ছালাতে দ্বিতীয় রাক‘আত থেকে উঠার সময় বুকে হাত বাঁধার পূর্বে রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে মর্মে হাদীছটি অকাট্যভাবে ছহীহ। আবু হুমাইদ আস-সায়েদী (রাঃ)-এর দীর্ঘ হাদীছে এসেছে, অতঃপর যখন তিনি দুই রাক‘আত পড়ে উঠলেন, তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দুই হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করলেন। যেভাবে তাকবীরে তাহরীমার সময় উঠিয়েছিলেন (আবুদাঊদ, হা/৭৩০)। শায়খ আলবানী (রাহঃ) হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। নাফে‘ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) যখন ছালাত শুরু করতেন, তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং দুই হাত উত্তোলন করতেন। আবার যখন রুকূ করতেন তখন দুই হাত উত্তোলন করতেন। আবার যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন তখন দুই হাত উত্তোলন করতেন। আর যখন দুই রাক‘আত পড়ে উঠতেন, তখন দুই হাত উত্তোলন করতেন। উক্ত হাদীছটি ইবনু উমার (রাঃ) রাসূল (ছাঃ) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৯)।

প্রশ্ন (৪৩) : গোসল ফরয হয়েছে। কিন্তু গোসল করলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় শুধু ওযূ করে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : অসুখ বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে ওযূ নয় বরং তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করবে। কারণ তায়াম্মুম ওযূ-গোসল উভয়েরই স্থলাভিষিক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যদি তোমরা পীড়িত হও। কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা হতে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ কর (স্ত্রী সহবাস কর), অতঃপর পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও’ (মায়েদাহ, ৬)। আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) এক শীতের রাতে নাপাক অবস্থায় তায়াম্মুম করেন ও তাঁর সাথীদের ছালাতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি দলীল হিসাবে আল্লাহর বাণী পাঠ করেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রতি দয়াবান’ (নিসা, ২৯; ছহীহ বুখারী, ১/৪৯ পৃঃ; আবুদাঊদ, হা/৩৩৪)। ‘আত্বা ইবনু আবু রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এক ব্যক্তি আহত হয়। ঐ অবস্থায় তার স্বপ্নদোষ হলে তাকে গোসল করার নির্দেশ দেয়া হয়। অতঃপর সে গোসল করলে তার মৃত্যু হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, এরা লোকটিকে হত্যা করেছে। আল্লাহ যেন এদের ধ্বংস করেন! অজ্ঞতার প্রতিষেধক জিজ্ঞেস করা নয় কী? (আবুদাঊদ, হা/৩৩৭, সনদ হাসান)।

প্রশ্ন (৪৪) : আমার একটি বড় সাইজের নাকফুল ছিল। সেটা স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে গিয়ে তার সমান ওযনের দু’টি ছোট নাকফুল নিই। কিন্তু স্বর্ণকার দু’টি নাকফুল বানানোর মজুরি দাবি করে। আমি তা দিয়েও দিয়েছি। এই অতিরিক্ত মজুরি দেয়া কি জায়েয হয়েছে? যদি জায়েয না হয়, তাহলে এখন আমার করণীয় কী? 

-যয়নাব নূর

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতিতে যে মূল্য নির্ধারণ হবে তাই গ্রহণযোগ্য হবে।

প্রশ্ন (৪৫) : আযানের সময় কুকুর ডাকার কারণ কি?

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : শয়তান দেখলে কুকুর ডাকাডাকি করে থাকে। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষ নিরব হয়ে যাওয়ার পর (রাতের বেলা) তোমরা বাইরে কম বের হও। কারণ আল্লাহর অনেক জীব-জন্তু আছে, যাদের তিনি ছেড়ে দেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুকুরের ডাক বা গাধার চিৎকার শুনবে সে যেন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। কারণ তারা যা দেখে, তোমরা তা দেখ না’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/১২৩৩)। আর আযানের সময় শয়তান পালাতে থাকে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ছালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, শয়তান তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পলায়ন করে, যেন আযানের শব্দ তার কানে না যায়। অতঃপর যখন আযান শেষ হয়, তখন আবার ফিরে আসে’। (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৯)। তাই হতে পারে, আযানের সময় পলায়নরত শয়তানকে দেখে কুকুর ডাকাডাকি করে। অথবা হতে পারে উক্ত কুকুরটি নিজেই শয়তান। যার কারণে আযান শুনে সে ডাকতে থাকে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কালো কুকুর হল শয়তান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫১০)।

প্রশ্ন (৪৬) : ছালাতের পূর্ব মুহুর্ত ব্যতীত অন্য সময়ে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া যাবে কি?

-উত্তর রামপুর উন্মুক্ত ইসলামী পাঠাগার

পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : পেঁয়াজ, রসুন, মুলা বা এই ধরনের গন্ধযুক্ত উদ্ভিদসমূহ খাওয়া বৈধ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৫৩; মিশকাত, হা/৪১৯৬)। তবে খাওয়ার পরে মুখে গন্ধ থাকলে সেই অবস্থায় মসজিদে নিকটবর্তী হতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই উদ্ভিদ (রসুন) খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৫৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৬২-৬৪; মিশকাত, হা/৭০৭)। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘সে যেন আমাদের সাথে ছালাত না আদায় করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৫৬)। ছালাতে যাওয়ার আগে গন্ধ দূর করা সম্ভব হলে কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন খাওয়াতে কোন বাধা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই সবজি (রসুন) খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়, যতক্ষণ না তার দূর হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৬১)।

প্রশ্ন (৪৭) : মসজিদের ভিতরে সুৎরার বিধি-বিধান কি?

-উত্তর রামপুর উন্মুক্ত ইসলামী পাঠাগার

পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : সামনে সুৎরা রেখে ছালাত আদায় করা সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ছালাত আদায় করবে, তখন যেন সুৎরা সামনে রেখে ছালাত আদায় করে এবং তার কাছাকাছি দাঁড়ায়’ (আবুদাঊদ, হা/৬৯৮, সনদ ছহীহ)। উন্মুক্ত প্রান্তরে রাসূল (ছাঃ) সামনে বর্শা গেঁড়ে দিয়ে ছালাত আদায় করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৩)। তবে মসজিদের ভিতরে সুৎরা দেয়ার ব্যাপারে ছাহাবী ও তাবেঈদের থেকে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং তারা ক্বিবলার দিকের দেয়াল কিংবা খুঁটির পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়ের চেষ্টা করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর বড় বড় ছাহাবীদেরকে দেখেছি, তারা মাগরিবের সময়ে খুঁটির পিছনে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৩)। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, মসজিদে খুঁটির সংখ্যা অতি অল্প থাকা সত্ত্বেও তারা কখনো মসজিদের ভিতরে অতিরিক্ত সুৎরা রেখেছেন, এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই মসজিদের ভিতরে সুৎরা রাখা ঠিক নয় (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, ৭/৭৬)। তাছাড়া সুৎরা নেয়া সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। রাসূল (ছাঃ) ফাঁকা ময়দানে সুৎরা ছাড়াও ছালাত আদায় করেছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৬, ৪৯৩)। বিধায় সুৎরা দিয়ে মসজিদ ভরে ফেলা এবং সেই সুৎরা এক মুছল্লীর সামনে থেকে টেনে আরেকজনের সামনে দিয়ে পার হয়ে যাওয়া, এই ধরনের ভিত্তিহীন বিদ‘আতী আমল থেকে বিরত থাকা যরূরী। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যে ব্যাপারে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।

প্রশ্ন (৪৮) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে বসার নিয়ম কী?

-আমিনা আক্তার

শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের দ্বিতীয় রাক‘আতে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর নিতম্ব রাখবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে। আয়েশা g থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) ছালাত শুরু করতেন আল্লাহু আকবার দিয়ে আর তিনি প্রতি দুই রাক‘আতে বলতেন, আত-তাহিয়্যাতু… এবং তিনি বাম পা বিছিয়ে দিতেন ও ডান পা খাড়া রাখতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯৮; আবুদাঊদ, হা/৭৮৩)। ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলামুখী হয়ে থাকবে। আবু হুমায়দ আস-সায়েদী (রাঃ) বলেন, ‘যখন তিনি সিজদাহ দিতেন, তখন তার দুই পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগকে ক্বিবলামুখী করে রাখতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮; মিশকাত, হা/৭৯২)। ডান হাতকে ডান উরু বা হাঁটুর উপর ও বাম হাতকে বাম উরু বা হাঁটুর উপর রাখবে এবং বৃদ্ধা আঙ্গুলকে মধ্যমা আঙ্গুলের উপর রেখে তর্জনি আঙ্গুলি দিয়ে ইশারা করবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭৯, ৫৮০; মিশকাত, হা/৯০৬-৯০৭)। তবে যেখানে সালামের বৈঠক আছে সেখানেই এভাবে বসতে হবে।

প্রশ্ন (৪৯) : গাছের নীচে পড়ে থাকা ফল মালিককে না বলে খাওয়া যাবে কি?

-আরীফুল ইসলাম

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল খাওয়া যাবে। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘একদা নবী (ছাঃ) রাস্তায় পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি খেজুরটি নিয়ে বললেন, আমি ছাদাকার খেজুর বলে আশঙ্কা না করলে খেয়ে নিতাম (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭১)। অপর বর্ণনায় নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় (ক্ষুধার্ত হ’লে) ফল খাও, তবে বেঁধে নিয়ে যেয়ো না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩০১)।

প্রশ্ন (৫০) : আমার মায়ের বয়স চল্লিশ বছর। তার কোমরে দারুণ ব্যাথা। তিনি কি চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারবেন?

-তানযিলা, নারায়নগঞ্জ।

উত্তর : ক্বিয়াম (দাঁড়ানো), ক্বিরাআত, রুকূ ও সিজদা ছালাতের রুকন। যা ইচ্ছাকৃত পরিত্যাগ করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায়। তবে যদি কোন ওযর থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমার অর্শ রোগ ছিল। তাই আমি কীভাবে ছালাত আদায় করব, সে সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় কর। যদি তাতে সক্ষম না হও, তাহলে বসে আদায় কর। যদি তাতেও সক্ষম না হও, তাহলে শুয়ে শুয়ে আদায় কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১১৭)। তাই অসুস্থতার খাতিরে মাটিতে, বিছানায় কিংবা চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারে। তবে শর্ত হল, রুকন কিংবা ওয়াজিব সমূহের মধ্যে যেটা যেটা পালন করতে অক্ষম শুধু সেটা সেটা মাফ হবে (মাজমূউল ফাতাওয়া লি ইবন তায়মিয়্যাহ, ৮/৪৩৮ পৃঃ)। সুতরাং কেউ যদি দাঁড়াতে অক্ষম হয় কিন্তু রুকূ-সিজদা ঠিকমত করতে সক্ষম হয়, তাহলে ক্বিয়ামের (দাঁড়ানোর) সময়ে চেয়ারে বসে থাকবে। আর রুকূ-সিজদা নিয়ম মত আদায় করবে। আবার যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় কিন্তু রুকূ-সিজদা করতে অক্ষম হয়, তাহলে দাঁড়ানোর সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। রুকূ-সিজদার সময় হলে বসে যাবে (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, ২৪/৪০৯; মাজমূউল ফাতাওয়া লি ইবন বায, ১২/২৪২)।

5 মন্তব্য

  1. প্রশ্নঃ আমরা অনেক সময় মক্কায়-মদিনায় গেলে দেখতে পাই যে, কিছু কিছু লোক পথিমধ্যে বা খাবার দোকানের সামনে পথের আসা যাওয়া লোকদেরকে খাবার দিয়ে থাকে। পরে জানতে পারলাম যে এ খাবার গুলো বেশির ভাগই সাদাকা হিসাবে দিয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, সাদাকা করার খাবার কি সবাই খেতে পারে? যদি না খেতে পারে এবং খেয়ে থাকলে তার জন্য করনীয় কি?