اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ

সাবধান! ফুটবলজ্বরে আক্রান্ত হবেন না


২১ নভেম্বর বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২-এর পর্দা উঠতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের প্রথা ভেঙে জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে এবার বিশ্বকাপ মাঠে গড়াচ্ছে চলতি নভেম্বরেই। চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ‘ফিফা’-এর ‍উদ্যোগে তৎকালীন ফিফা সভাপতি জুলে রিমের পরামর্শে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত প্রতি ৪ বছর পরপর প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঝখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে এই প্রতিযোগিতা স্থগিত ছিল।
২১ আসর এবং ৯২ বছর পর প্রথমবারের মতো মরুর বুকে বসছে বিশ্বকাপের আসর। বিভিন্ন দেশ ঘুরে এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ আসরটি। ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনে রেকর্ড খরচ করছে কাতার। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাতটি ফুটবল বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে যা খরচ হয়েছে, তার চার গুণেরও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে শুধু একটি বিশ্বকাপ আয়োজনেই। কাতারের ব্যয় ২২০ বিলিয়ন ডলার, টাকায় যা প্রায় ১৮ লাখ ৯৭ হাজার কোটি। সে তুলনায় গেলো বিশ্বকাপ আয়োজনে রাশিয়ার খরচ হয়েছিলো মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার। এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতারে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৬৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, যাদের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্বকাপ আসরের ক্ষতির শেষ নেই। যেমন- (১) এর মাধ্যমে দুনিয়াজুড়ে জুয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়। অথচ ইসলাম জুয়াকে শয়তানের কর্ম হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এর নানাবিধ ক্ষতি উল্লেখ করে একে বর্জন করতে বলেছে (দ্র. আল-মায়েদাহ, ৫/৯০)। (২) নাচ-গান-বাজনার দুয়ার উন্মোচিত হয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম (দ্র. লুক্বমান, ৩১/৬; বুখারী, হা/৫৫৯০)। (৩) এ ধরনের আয়োজনে নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ তো ডাল-ভাতের মতো হয়ে থাকে। অথচ ইসলামে নেশাজাতীয় দ্রব্যকে পাপের জননী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে (দ্র. নাসাঈ, হা/৫৬৬৬)। (৪) এর কারণে অনেক সময় ছালাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত নষ্ট হয়। অথচ কেউ ছালাত নষ্ট করলে তার জন্য জাহান্নামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (দ্র. মারইয়াম, ১৯/৫৯)। (৫) বিশ্বময় প্রচুর অর্থ বিনষ্ট হয়। আর অর্থ নষ্ট করা তো দূরের কথা, অপচয় করাও ইসলামে গর্হিত কাজ। অপচয়কারীকে ইসলাম শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যা দিয়েছে (দ্র. আল-ইসরা, ১৭/২৭)। (৬) মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময় ও কর্মঘণ্টার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। অথচ মহান আল্লাহ সময়ের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বার বার এর কসম করেছেন (দ্র. আল-আছর, ১০৩/১; আয-যুহা, ৯৩/১-২ ইত্যাদি)। (৭) অবাধে নারী-পুরুষের একাকার হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যা ফেতনার কারণ এবং ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (আল-আহযাব, ৩৩/৫৩; বুখারী, হা/৭৯৩)। (৮) সতর আলগা করে খেলা হয়, যার মাধ্যমে শরী‘আতের আইন লঙ্ঘিত হয় এবং ফেতনা ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য ইসলাম কারো সতরের দিকে তাকাকে নিষেধ করেছে (দ্র. মুসলিম, হা/৩৩৮)। (৯) এর মাধ্যমে অনেক মুসলিম খেলোয়াড়দের মডেল মনে করে এবং তাদের অনুসরণ-অনুকরণের চেষ্টা করে। অথচ রাসূল a-এর হুঁশিয়ারি হচ্ছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বিবেচিত হবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১)। (১০) ইহকাল বা পরকালে উপকার করতে পারে- এমন বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে ব্রেনকে অন্য জায়গায় লাগানো হয়, যা মোটেও ঠিক নয়। সেজন্য একজন ভালো মুসলিমের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে রাসূল a বলেছেন, ‘অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করা কোনো ব্যক্তির সুন্দর ইসলামের পরিচায়ক’ (তিরমিযী, হা/২৩১৭)। (১১) এছাড়া খেলার জের ধরে সমাজে কত যে বিশৃঙ্খলা, ঝগড়াঝাটি, মারামারি, হানাহানি সংঘটিত হয়, তার হিসাব কে রাখে। এসব ক্ষতি যে শুধু ফুটবল বিশ্বকাপেই হয় তা কিন্তু নয়; বরং এ ধরনের ক্ষতি ক্রিকেটেও হয়ে থাকে।
কাতার বিশ্বকাপ ঘিরেও এ ক্ষতিগুলো হবে। এর ঢেউ আশেপাশের অন্যান্য আরবদেশেও আছড়ে পড়বে। ফলে বলাই যায়, কাতারসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিশ্বকাপের একটা সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে কারো জন্যই এধরনের খেলাধুলার প্রতি আসক্ত হওয়া এবং দেখা মোটেও সমীচীন নয়। বিশ্বের বড় বড় আলেম-উলামা এবং বিখ্যাত সব ফতওয়া বোর্ড এসব খেলাধুলা দেখার বিপক্ষে ফতওয়া দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে যাবতীয় অনর্থক বিষয় বর্জন করে কেবল ইহকাল ও পরকালে উপকারী কাজকর্ম করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!