সূরা আন-নাবা : মানবজাতির জন্য হাদিয়া
হাফেয আব্দুল মতীন মাদানী*
(শেষ পর্ব)


(১১) তাওহীদ : সূরা আন-নাবাতে তিন প্রকার তাওহীদই রয়েছে। যথা-

(ক) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ : আল্লাহ তাআলা মানুষের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা, হায়াতদাতা, মৃত্যুদাতা, কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক, লালন-পালনকর্তা, সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান, তিনিই আসমান-যমীনের মালিক, সকল বিষয় তারই হাতে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الرَّحْمَنِ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا﴾ ‘যিনি প্রতিপালক আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও ওগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর, যিনি দয়াময়, তাঁর নিকট কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না’ (আন-নাবা, ৭৮/৩৭)। আয়াতটি তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ-এর প্রমাণ বহন করে। কারণ মহান আল্লাহই হলেন সকলের লালন-পালনকর্তা, যেটি ‘রব’ শব্দ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়। তিনিই আসমান-যমীন এবং এর মাঝে যা কিছু আছে, সবকিছুর প্রতিপালক।

(খ) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ বা তাওহীদুল ইবাদাহ : সকল প্রকার ইবাদত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা। যেমন ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্জ, যবেহ, কুরবানী, নযর-মানত, দু‘আ-প্রার্থনা, ভয়-ভীতি, আশা-ভরসা, চাওয়া-পাওয়াসহ সকল ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই করা। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّا أَنْذَرْنَاكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَالَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে নিকটতম শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, সেদিন মানুষ তার হাতের অর্জিত কৃতকর্মকে দেখবে আর কাফের বলতে থাকবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম! (আন-নাবা, ৭৮/৪০)। এই আয়াতটিতে প্রমাণিত হয়, প্রত্যেক ব্যক্তি যেসব কর্ম আগে প্রেরণ করেছে, সৎকর্ম নাকি পাপ কর্ম, সে অনুযায়ী সেই ব্যক্তি প্রতিদান পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ﴾  ‘আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার নিকটই সাহায্য চাই, (আল-ফাতেহা, ১/৪)। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِلَهِ النَّاسِ﴾   ‘যিনি মানবমণ্ডলীর প্রকৃত মা‘বূদ’ (আন-নাস, ১১৪/৩)

(গ) তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত : পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহতে আল্লাহ তাআলার যেসব উত্তম নাম ও গুণ রয়েছে, সেগুলোর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়া, পরিবর্ধন ছাড়া, কারো সাথে সাদৃশ্যতা স্থাপন করা ছাড়া এবং কেমন বা কীভাবে- এরূপ ধরন নির্ধারণ ছাড়া, সেগুলো অস্বীকার না করে হুবহু যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا لَا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَابًا﴾ ‘সেদিন রূহ (জিবরীল) ও দিবেন ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবেন, দয়াময় যাকে অনুমতি তিনি ব্যতীত অন্যেরা কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে’ (আন-নাবা, ৭৮/৩৮)। আয়াতে ‘আর-রহমান’ আল্লাহর একটি অন্যতম গুণবাচক নাম। তিনি করুণাময় ও দয়ালু। বিধায় তিনি আমাদের উপর করুণা ও দয়া করেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ﴿الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ﴾  ‘যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু’ (আল-ফাতেহা, ১/২)। তিনি আরো বলেন,﴿وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾ ‘আর আল্লাহর অসংখ্য উত্তম ও সুন্দর নাম রয়েছে। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নাম দ্বারা ডাকবে, আর তাদেরকে বর্জন করবে, যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, সত্বর তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৮০)। আল্লাহর উত্তম নাম ও গুণাবলিকে কোনো ধরনের বিকৃত করা যাবে না। যেমন তাঁর হাত রয়েছে। এটা প্রকৃত অর্থেই হাত বলতে হবে, কুদরতী ও নেয়ামতী হাত নয়। তিনি প্রকৃতভাবেই দেখেন, শুনেন ইত্যাদি। সাথে সাথে আল্লাহর গুণাবলিকে সাব্যস্ত করতে গিয়ে কোনো সৃষ্টির সাথে সেগুলো তুলনা করা যাবে না। এমন বলা যাবে না যে, আমার হাতের মতোই আল্লাহর হাত, আমার পায়ের মতোই আল্লাহর পা (নাঊযুবিল্লাহ)। বরং বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহর হাত, পা, দেখা-শুনা, কথা বলা, হাসা- এগুলো আল্লাহর জন্য যেভাবে প্রযোজ্য তেমনই রয়েছে। আর মানুষ মরণশীল, আজ সে জীবিত আছে কিন্তু এক সেকেন্ডের মধ্যে তার অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে। বিধায় মানুষের গুণাবলি মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। তেমনই আল্লাহর গুণাবলি একমাত্র আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। কোনো সৃষ্টির সাথে আল্লাহর কোনো গুণের তুলনা করা চলবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾ ‘কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (আশ-শূরা, ৪২/১১)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো! তিনিই আল্লাহ একক (ও অদ্বিতীয়)। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়’ (আল-ইখলাছ, ১১২/১-৪)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবারই প্রতিপালক। সুতরাং তুমি একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই ইবাদতে প্রতিষ্ঠিত থাকো, তুমি কি তাঁর সমনামসম্পন্ন (তাঁর সাদৃশ্য বা সমতুল্য) কাউকেও জানো? (মারইয়াম, ১৯/৬৫)। আয়াতটিতে তিন প্রকার তাওহীদের কথাই বলা হয়েছে। সমস্ত ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। প্রতিপালক, সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা, হায়াতদাতা, মৃত্যুদাতা, কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহই। সুতরাং স্রষ্টা ও প্রতিপালক হিসেবে তিনি একক। ‘সামিয়্যা’ শব্দটি থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলার সদৃশ কোনো কিছুই নেই। সুতরাং তাঁর সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করা যাবে না। যেমন আল্লাহকে ডাকেন এভাবে, يَا رَحْمَنُ  হে করুণাময়! আমার উপর করুণা করো, দয়া করো, يَا غَفُوْرُ  হে গফূর! বা মহা ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করো। এভাবে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ বুঝে তাঁকে ডাকতে হবে। আল্লাহ তাআলার করুণা এবং ক্ষমার সাথে অন্য কারো করুণা ও ক্ষমাকে তুলনা করা যাবে না। এভাবে মানব জীবনে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং শিরক ও বিদআতসহ অন্যান্য পাপকর্ম থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণ হবে ইনশাআল্লাহ। অতএব কেউ যদি বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে চায়, সে যেন তার জীবনে পরিপূর্ণভাবে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করে এবং সকল প্রকার শিরক-বিদআতসহ অন্যান্য পাপকাজ পরিত্যাগ করে।

মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ   مِنَ الْمُشْرِكِينَ﴾  ‘নিশ্চয়ই ইবরাহীম এক জাতি ছিলেন, যিনি আল্লাহর অনুগত ও একমুখী আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না’ (আন-নাহল, ১৬/১২০)। ইবরাহীম e ছিলেন, মানব জাতির উত্তম আদর্শের প্রতীক এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, তাঁকে আগুনে ফেলা হয়েছে কিন্তু তিনি আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাসী থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আবার সন্তানকে কুরবানী করার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং শিরকী কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বিপদ-মুছীবতে সর্বদায় আল্লাহর উপর অবিচল থেকে আল্লাহর আনুগত্য করতেন এবং শিরকী কাজ থেকে নিজেও দূরে থাকতেন, পাশাপাশি সন্তানদেরকেও দূরে রাখতেন। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ﴾ ‘আর যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না’ (আল-মুমিনূন, ২৩/৫৯)

(১২) মাটির মানুষ মাটিতেই যেতে হবে : আল্লাহ তাআলা মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন আবার তাকে মাটিতেই ফিরে যেতে হবে। মৃত্যুর হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আবার কবরে যেতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ﴾  ‘আমি তো মানুষকে মৃত্তিকার মূল উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১২)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ – ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ – ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ – ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾  ‘অতঃপর আমি ওকে শুক্ররূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আঁধারে। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে এবং রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি গোশতপিণ্ডে, গোশতপিণ্ডকে পরিণত করি হাড়সমূহে, অতঃপর হাড়সমূহকে ঢেকে দেই গোশত দ্বারা, অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১৩-১৬)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّا أَنْذَرْنَاكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ ‘সেদিন নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে নিকটতম শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম; সেদিন মানুষ তার হাতের অর্জিত কৃতকর্মকে দেখবে আর কাফের বলতে থাকবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম! (আন-নাবা, ৭৮/৪০)। সুতরাং মুসলিমদের উচিত, ইসলামের উপর, ঈমানের উপর অটল থাকা, যাতে করে পরকালীন জীবন সুখময় হয়। কারণ ইসলাম ব্যতীত সকল দ্বীন বাতিল। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي  الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾ ‘আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবনব্যবস্থা অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে-ইমরান, ৩/৮৫)। অতএব হে কাফের! ইসলামের ছায়াতলে এসো, নইলে নাজাত পাবে না।

হে মানুষ! কবরে তোমাকে যেতেই হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ﴾  ‘অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান এবং তাকে কবরস্থ করেন’ (আবাসা, ৮০/২১)। হে মানবজাতি! একবার চোখ বন্ধ করে দেখো। হে মানব জাতি! রাতের অন্ধকারে, গভীর রাতে কবরস্থানে যাও, কেমন মনে হবে? তুমি দুনিয়াতে একাই এসেছ আবার তোমাকে একাই যেতে হবে। অন্ধকার কবরে তোমার কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। শুধু তোমার আমলগুলো থাকবে। হাদীছে আছে, ‘মৃত ব্যক্তির সাথে তিনটি জিনিস যায়। দুটি জিনিস ফিরে আসে আর একটি জিনিস তার সাথে থেকে যায়। তার সাথে যায় তার পরিবারের সদস্য, সম্পদ ও তার আমল। তার পরিবারের সদস্য ও তার সম্পদ ফিরে আসে আর তার আমল তার সাথে থেকে যায়’।[1]

উছমান c হতে বর্ণিত, তিনি যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন তখন এমন কাঁদতেন যে, তার দাড়ি ভিজে যেত। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি জাহান্নামের এবং জান্নাতের কথা স্মরণ করেন, অথচ কাঁদেন না, আর কবর দেখলেই কাঁদেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, রাসূল a বলেন, ‘পরকালে (বিপজ্জনক) স্থানসমূহের মধ্যে কবর হচ্ছে প্রথম। যদি কেউ সেখানে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে তার পরের সব স্থানগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যদি কবরে মুক্তি লাভ করতে না পারে তাহলে পরের সব স্থানগুলো আরও কঠিন ও জটিল হয়ে যাবে’। অতঃপর তিনি বলেন, নবী করীম a-এটাও বলেছেন যে, ‘আমি এমন কোনো ভয়াবহ স্থান দেখিনি যা কবরের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে’।[2] আব্দুল্লাহ ইবনু উমার h বলেন, সা‘দ c মৃত্যুবরণ করলে রাসূল a বললেন, ‘সা‘দ এমন ব্যক্তি যার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপেছিল। তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং তার জানাযাতে ৭০ হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু এমন ব্যক্তির কবরও সংকীর্ণ করা হয়েছিল। অবশ্য পরে তা প্রশস্ত করা হয়েছিল’।[3]

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আপনার নিকট সর্বোচ্চ জান্নাত তথা জান্নাতুল ফেরদাউস পাওয়ার আশা করছি এবং বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়ার আশা করছি। আমীন!


*  পি.এইচ.ডি গবেষক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৬০।

[2]. তিরমিযী, হা/২৩০৮, হাদীছ হাসান; মিশকাত, হা/১৩২।

[3]. নাসাঈ, হা/২০৫৫, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/১৩৬।