সোলাইমানি হত্যাকান্ডঃ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ভাবনা ও যুব সমাজের উত্তেজনা

জুয়েল রানা

প্রথম কথাঃ

২০২০ সালের প্রারম্ভিক উত্তেজনাকর ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো কাজটি করা হলো ইরানের দুই নাম্বার ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আল-কুদস প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটানোর মধ্য দিয়ে নিজের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন বলে মনে হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও তার বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের সময় তাড়াহুড়ো করে ইরাকে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এবার ঘটনাটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের সে লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না সংশয় রয়েছে।

সোলাইমানি হত্যাকা- :

আমেরিকার সংবিধান অনুসারে, কোনো দেশের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হলে আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। ইরানের পাল্টা আঘাত এবং তার পরিণতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাতে মার্কিন সম্পৃক্ততার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জেনারেল সোলাইমানি মার্কিন স্বার্থে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সময়কালের পর কোনো স্বাধীন দেশের জেনারেলকে যুদ্ধ ছাড়াই এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে বিদেশ সফরকালে ড্রোন হামলায় হত্যার নতুন যে রেকর্ড স্থাপিত হলো, তাতে সব জেনারেলই আতঙ্কবোধ করতে পারেন।

সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডে ইসরাঈলের গোয়েন্দা সহায়তার কথা বলা হলেও এই অপারেশন প্রত্যক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছে। আমেরিকার রাজনৈতিক রাডারে সব সময় সোলাইমানিকে ফলো করা হতো। কেননা ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যে ভূ-রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রভাব তৈরি করতে চায়, সেটি রোধ করতে হলে সোলাইমানি ও কুদস ফোর্সের লাগাম টেনে ধরতে হবে আমেরিকাকে। কেননা, কুদস ফোর্সকে ‘সন্ত্রাসী’ বলার পর সোলাইমানি মিডিয়ায় বলেছিলেন, ‘এমন অনেক ট্রাম্পকে আমরা মাটিতে পুঁতেছি’। ইতঃপূর্বেও দেখা গেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশি সরব, তাদের হত্যা করা হয়েছে। আর সঊদী আরব এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছে বলে যে কথা উঠেছে, সেটিও প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। এসব কারণে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিলে ঝুঁকি নিতে হবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রকে। ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, ‘কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে যুদ্ধ থামাতে, আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে নয়’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প যে বিভিন্ন কারণে ইরানকে পসন্দ করেন না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সৃষ্টির আগেও তিনি পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন, ইরানের ওপর অত্যন্ত কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, ইরানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছেন। কিন্তু একেবারে যুদ্ধ শুরু হোক, সেটা তিনিও সম্ভবত চান না। তাই ইরানের পাল্টা হামলার পরও নতুন কোনো হামলা চালাননি অর্থাৎ এই লেখা তৈরির দেন পর্যন্তও কোনো পাল্টা হামলার খবর আমি পাইনি। তবে এই হত্যাকাণ্ড গোটা দুনিয়ায় যেন বিরাট ঝাঁকুনি সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ প্রশ্নও তুলেছেন, এ ঘটনাই কি বিশ্বকে এনে দাঁড় করিয়েছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুয়ার প্রান্তে? কারণ অনেকে এ ঘটনাকে মিলাতে চাইছেন বসনিয়ার সারায়েভোতে সেই অস্ট্রিয়ান ক্রাউন প্রিন্স ডিউক ফ্র্যাঞ্জ ফার্ডিন্যান্সের হত্যাকাণ্ডের সাথে, যা কার্যত ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পথ খুলে দিয়েছিল।

কে এই সোলাইমানি :

জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের আগে তার সম্পর্কে আমাদের দেশের আমজনতা খুব কমই জানতেন। কাসেম সোলাইমানি (জন্ম: ১১ মার্চ ১৯৫৭, মৃত্যু: ৩ জানুয়ারী ২০২০, বয়স: ৬২)। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন ইরানি মেজর ছিলেন এবং ১৯৯৯ সাল থেকে এর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। কুদস ফোর্স মূলত বহির্মুখী সামরিক বাহিনী ও গোপনীয়তার জন্য দায়বদ্ধ একটি বিভাগ। সোলাইমানি তার সামরিক জীবন শুরু করেছিলেন ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের শুরুতে, তিনি ৪১তম বিভাগের অধিনায়ক ছিলেন। পরে তিনি ঐচ্ছিক বেশ কিছু অভিযানের সাথে জড়িত ছিলেন, সাদ্দাম বিরোধী শী‘আ ও ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছেন। সোলাইমানি চলতি ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারী ইরাকের বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টার্গেট করা বিমান হামলায় নিহত হন। তার সাথে ফোর্সের আরও কিছু জনপ্রিয় সামরিক সদস্য নিহত হয়।

ইরান যে প্রভাববলয় সৃষ্টি করেছে তার ‘মূল কারিগর’ এই কাসেম সোলাইমানি। ইরাকে তেহরানের প্রভাব সৃষ্টি করা, সিরিয়া ও লেবাননে প্রভাব সৃষ্টি, ইয়ামানের বিদ্রোহী হুতিদের সাথে যোগাযোগ- সবই কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির কাজ। সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়ামানে যেসব অপারেশন পরিচালিত হয়েছে তার মাস্টারমাইন্ড মনে করা হয় এই কাসেম সোলাইমানিকে। এ চারটি দেশে অনেক সুন্নী মুসলিম রয়েছে, অথচ এখানেই সোলাইমানি আন্ডারগ্রাউন্ড অপারেশন করে সাফল্য লাভ করেছেন। ইরান পররাষ্ট্রনীতিতে কী পদক্ষেপ নেবে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে দিলেও শেষ কথা তিনিই বলতেন। তিনি জীবদ্দশাতেই ইরানের জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন এবং মিডিয়ায় তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে ফলাও করা হয়।

জেনারেল সোলাইমানির দায়িত্ব ছিল মূলত দুটি। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যেও শীআ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইরানের মতো ইসলামী বিপ্লবসংগঠিত করতে সহায়তা করা- যা স্পষ্ট ভাষায় শীআ বিপ্লব রফতানী। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশ এবং অঞ্চলের সুন্নী ইসলামীমিলিশিয়া বাহিনী এবং দলগুলোর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এর সব কিছুর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সঊদী প্রভাবকে ক্ষুণœ করে ইসলামী দুনিয়ায় ইরানকে নেতৃস্থানীয় আসনে প্রতিষ্ঠা করা

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ভাবনা :

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এর উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো কেবল ইসরাঈল ও এর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমেরিকার জেনে রাখা উচিত, এত বড় অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় তারা সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল করেছে এবং এত সহজে তারা এই ভুলের পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। উপযুক্ত সময়ে ও উপযুক্ত স্থানে আমেরিকার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে’। এরই মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাঈলের ৩৫টি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে। অন্যদিকে, ডোনাল ট্রাম্প ইরানের প্রতিশোধের ঘটনা ঘটলে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫২টি স্থানে আঘাত করার হুমকি দিয়েছেন। অবস্থাদৃষ্টে বুঝা যায়, ইরানের সাথে সংঘাতে সঊদী-আমিরাত বলয় ও ইসরাঈলকে সামনে নিয়ে আসার কথা বিবেচনা করতে পারে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সঙ্ঘাতমুখর অবস্থায় চীন বা রাশিয়াকে কোনোভাবেই হিসাব-নিকাশের বাইরে রাখা যাবে না। রাশিয়া সিরিয়াতে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় রাখার জন্য যে ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে, তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি নিতে পারে তেহরানের ইস্যুতে। এর কারণ, ইরান হলো এই অঞ্চলে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় মিত্র। যুক্তরাষ্ট্র এখানে ইরানের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত হলে ইরানের সহায়তাকারী হয়ে যেতে পারে রাশিয়া। এর ইঙ্গিত এ ঘটনার আগে চীন-রাশিয়া-ইরান ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়ায় দেখা গেছে।

উত্তেজনা যতই বাড়–ক না কেন, ইরান সম্ভবত চাইবে না যুদ্ধকে তার নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে। ফলে ধারণা করা যায় যে, ইরান প্রতিশোধ গ্রহণের কাজটি প্রক্সি শক্তির মাধ্যমে করার চেষ্টা করবে। আর সে ক্ষেত্রে যতটা না যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য হবে, তার চেয়ে বেশি হতে পারে ইসরাঈল-আমিরাত-সঊদীর মতো সহায়ক শক্তিগুলো। আর ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে প্রক্সি শক্তিগুলোর ওপর আঘাত হানার বিষয়কে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে পারে।

কেননা, সবারই প্রশ্ন হলো, ইরান কীভাবে সেই প্রতিশোধ নেবে? কারণ, দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা যায়। তুরস্কের জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েনি সাফাক পত্রিকার সম্পাদক ইবরাহীম কারাগুলের মতে, ইরান কখনো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাঈলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করবে না। এখন যে সঙ্কট বা উত্তেজনা, তা শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক হুমকির বাইরে খুব একটা যাবে না। ইবরাহীম কারাগুলের যে পর্যবেক্ষণ তা আংশিক সত্য হতে পারে। কেননা, ইরান যে ভেবে-চিন্তে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে, তাতে মনে হয়, সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ ইরাকের মাটিতেই নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান তাদের প্রভাব আরও বাড়ানোর জন্য সম্ভবত যুদ্ধকে ইরাকের মাটিতে বাড়িয়ে তুলেছে। আবার অনেকের মতে, আসলে এ সঙ্ঘাত ইরান এবং সঊদী আরবের মধ্যে সংঘটিত হতে পারে। কারণ আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হলো, মুসলিম বিশ্বে বিবদমান শক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে লালন করে যাওয়া। ফলে চূড়ান্ত কোনো লড়াই, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দু’পক্ষেরই বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে আমেরিকাও নামবে বলে মনে হয় না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ আরিফ বলেছেন, আমেরিকা যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে লালন করছে এই কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড তার আরও একটি উদাহরণ।

ওআইসির আত্মসমালোচনার সুযোগ :

সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে অনেকেই ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) ভূমিকার সমালোচনা করছেন। মুসলিম বিশ্ব বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে সঙ্ঘাত চলছে, তাতে আপাতদৃষ্টিতে মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন প্রকট আকার ধারণ করছে বলেও মনে হতে পারে। এই বিভাজন রোধ করতে ভূমিকা রাখতে পারছে না ওআইসি। তবে এই সংস্থা কোনো সুফল বয়ে আনেনি- এ কথা মানতে আমি নারায। কারণ এই সংস্থা অনেক আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব মিটিয়েছে। ওআইসির কারণেই আজ গাম্বিয়ার মতো দেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে এগিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। আফ্রিকার ছোট্ট একটি দেশ তাদের চেয়ে আয়তন ও সামরিক শক্তিতে বড় মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। আসলে আমাদের সমস্যা হলো আমরা সব সময় নেতিবাচক দিকগুলোকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করি। সফলতাগুলোকে আমরা তেমন আলোচনায় আনি না।

আগামী এপ্রিলে পাকিস্তানে ওআইসির যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এই সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন নেতারা। তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য আগামী ৫০ বছরের এজেন্ডা নির্ধারণ করতে পারেন। আজ প্রতিবেশী ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার যখন মুসলিমদের একঘরে করার চেষ্টা করছে, তখন সেখানকার অমুসলিমরাও মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে গেছে। এটা কিন্তু মানবতার জয়, মনুষ্যত্বের জয়। এখানেই ওআইসির একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, যা সচেতন পাঠক/পাঠিকা মাত্রই বুঝতে পেরেছেন। তাই বলা চলে- এগুলো ইতিবাচক লক্ষণ, যা উপেক্ষা করা বোকামি হবে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট মুসলিম বিশ্বের সামনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে সুযোগ তৈরি করেছে, তা ওআইসিকে তথা আমাদেরকে লুফে নিতে হবে। তাই বলা চলে, এখন ওআইসির সামনে আত্মসমালোচনার সুযোগ এসেছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে।

যুব সমাজের উত্তেজনা :

ইরাকে ইরানিদের প্রভাব অনেকেই ভালো চোখে দেখেনি। সেখানে সুন্নীরা বহুদিন ধরে নিপীড়িত। আমেরিকার চেয়ে শী‘আ বনাম সুন্নী বিরোধ ইরাককে বেশি ছিন্নি-ভিন্ন করে দিয়েছে। আজ অনেক যুবক কাসেম সোলাইমানিকে ‘শহীদ’ অ্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক, টুইটারে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। বড় আফসোস লাগে, ১/২ জন শী‘আ তথা কাফেরের মৃত্যুতে তাদেরকে মায়া কান্না করতে দেখা যায় অথচ ইয়ামানে লক্ষ লক্ষ সুন্নী হত্যাকা- তাদের চোখে পড়ে না। হায়রে যুব সমাজ!!!

আমাদের দেশের প্রায় চতুর্দিকে যেমন ভারত নামক দেশ রয়েছে, তেমনি তাওহীদের কেন্দ্রভূমি সঊদী আরবের চতুর্দিকে শী‘আরা ক্ষমতাসীন রয়েছে। যদি বিন সালমান ঘুরে না দাঁড়াতো, তাহলে শী‘আরা এতদিন মক্কা-মদীনা দখল করে প্রকৃত ইসলামকে ধ্বংস ও তছনছ করে দিত। অতএব, সঊদী বিদ্বেষীরা সাবধান হৌন!!! যারা আম্মাজান আয়িশা ম-কে গালি দেয়, আবুবকর-ওমর (রাঃ)-কে গালি দেয়, তারা কিসের মুসলিম???

শেষ কথা :

আজ যারা শী‘আ-সুন্নী বিরোধ নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, তারা ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস না জেনেই নিছক আবেগের ওপর ভর করেই মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ-বিসংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ইসলাম ও রাজনীতি এবং যুদ্ধনীতি সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান না থাকলে শী‘আ-সুন্নী সম্পর্কে মন্তব্য করা অন্ধের হাতি দেখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।