হজ্জ ও উমরা
  -আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ



(পর্ব-১০)

(২) নখ কাটা : ইহরাম অবস্থায় হাত-পায়ের নখ কাটা বা তুলে ফেলা যাবে না। এটি নারী-পুরুষ সকলের জন্য একই হুকুম।

(৩) সুগন্ধি ব্যবহার করা : শরীরে বা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি ইহরাম অবস্থায় কেউ মারা গেলেও সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ  بِعَرَفَةَ إِذْ وَقَعَ مِنْ رَاحِلَتِهِ ….فَأَوْقَصَتْهُ …. فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَقَالَ‏ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ وَلاَ تُحَنِّطُوهُ وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ قَالَ أَيُّوبُ فَإِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا …. ‏”‏

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি আরাফার ময়দানে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অবস্থানরত ছিলেন। হঠাৎ তিনি বাহন থেকে নীচে পড়ে গেলে তার ঘাড় মটকে যায় এবং তিনি মারা যান। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, দুই কাপড় দিয়েই তার কাফনের ব্যবস্থা কর, তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথাও আবৃত কর না। (রাবী আইয়্যুব বলেন) কারণ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।[1] এ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।

তবে ইহরাম বাঁধার আগে শুধু শরীরে (কাপড়ে নয়) সুগন্ধি মেখে নেওয়া যাবে, যা ইহরাম অবস্থায় অব্যাহত থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।

عَنْ عَائِشَةَ i أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ.

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গায়ে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম।[2] এ হাদীছে প্রমাণিত হয়, ইহরামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।

(৪) মাথা ও মুখ ঢাকা : পুরুষদের কোন কিছু দিয়ে মাথা ও মুখ ঢাকা নিষেধ।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ أَوْ قَالَ مَا يَتْرُكُ الْمُحْرِمُ فَقَالَ لاَ يَلْبَسُ الْقَمِيصَ وَلاَ السَّرَاوِيلَ وَلاَ الْعِمَامَةَ وَلاَ الْخُفَّيْنِ إِلاَّ أَنْ لاَ يَجِدَ نَعْلَيْنِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ وَلاَ الْبُرْنُسَ وَلاَ شَيْئاً مِنَ الثِّيَابِ مَسَّهُ وَرْسٌ ولا زَعْفَرَانٌ.

ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম পুরুষ ব্যক্তি কোন ধরনের কাপড় পরতে পারবে বা কোন ধরনের কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে? রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, জামা, পায়জামা, পাগড়ি, ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে অর্থাৎ জুতা না পায়, তাহলে চামড়ার মোজা গিরার নিচে কেটে জুতার মতো করে পরতে পারে। আর টুপিযুক্ত জামাও পরবে না। অনুরূপভাবে জাফরান ও অরস (এক প্রকার উদ্ভিদের সুগন্ধি) লাগানো কোনো কাপড় পরিধান করবে না।[3]

(৫) পুরুষদের সেলাই করা কাপড় পরিধান করা : মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা,  টুপি, মোজা পরতে পারবে না। তবে কেউ যদি সেন্ডেল না পায়, তাহলে মোজাকে টাখনুর নিচ পর্যন্ত কেটে পরতে পারবে।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَنَّ رَجُلاً سَأَلَهُ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ فَقَالَ لاَ يَلْبَسِ الْقَمِيصَ وَلاَ الْعِمَامَةَ وَلاَ السَّرَاوِيلَ وَلاَ الْبُرْنُسَ وَلاَ ثَوْبًا مَسَّهُ الْوَرْسُ أَوِ الزَّعْفَرَانُ، فَإِنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا حَتَّى يَكُونَا تَحْتَ الْكَعْبَيْنِ.

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কোন ধরনের পোষাক পরবে? আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপি এবং জাফরান ও অরস (এক প্রকার ঘাসের সুগন্ধি) লাগানো কাপড় পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখনুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে।[4] উল্লেখ্য, মোজা টাখনুর নিচ পর্যন্ত কাটার বিষয়টি পরবর্তীতে রহিত হয়ে যায়।[5]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَهُوَ يَخْطُبُ يَقُولُ السَّرَاوِيلُ لِمَنْ لَمْ يَجِدِ الإِزَارَ.

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফার মাঠে খুৎবা দিলেন এবং বললেন, মুহরিম ব্যক্তি সেলাইবিহীন লুঙ্গি না পেলে সেলাই করা পায়জামা পরবে।[6]

উক্ত হাদীছসমূহ প্রমাণ করে, সেলাই করা কোনো কাপড় পরা যাবে না। যদি সেলাইবিহীন কাপড় না পায়, নিরুপায় হয়ে সেলাই করা কাপড় পরতে পারে।

মহিলারা সাধারণ ব্যবহার্য পোশাকেই ইহরাম বাঁধবে। তবে হাত মোজা এবং নেকাব পরবে না।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ النِّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لاَ تَنْتَقِبُ الْمَرْأَةُ الْمُحَرِّمَةُ وَلاَ تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ.

ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,  নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুহরিম মহিলা মুখের উপর নেকাব পরতে পারবে না এবং হাত মোজা পরিধান করতে পারবে না।[7] অবশ্য বেগানা পুরুষ সামনে পড়লে মুখ ঢাকা ভালো। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مُحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا إِلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ.

‘আমরা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ ইহরাম অবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে থাকতাম আর আরোহীগণ আমাদের পাশ দিয়ে যেত। তারা যখন আমাদের বরাবর এসে যেত, তখন আমরা মাথা থেকে উড়না ঝুলিয়ে চেহারা আড়াল করতাম এবং যখন আমাদের পাশ দিয়ে চলে যেত তখন মুখ খুলে ফেলতাম।[8] হাদীছটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে। এই হাদীছে বুঝা যায়, মুহরিম মহিলারা বেগানা পুরুষ না থাকলে মুখ খোলা রাখবে। আর বেগানা পুরুষ থাকলে মুখের উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবে, তবে নিকাব বাঁধবে না।

উক্ত ৫টি নিষিদ্ধ কর্ম ঘটে গেলে করণীয় হচ্ছে, এ সময় এমন ব্যক্তির তিনটি অবস্থা হতে পারে- (১) না জেনে অথবা ভুলবশত এসব কর্মে লিপ্ত হলে অবগত হওয়ার সাথে সাথে অথবা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বর্জন করলে কাফফারা দিতে হবে না। (২) কোনো প্রয়োজন ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হলে গুনাগার হবে এবং ফিদিয়া দিতে হবে। (৩) বিশেষ প্রয়োজন বা সমস্যার কারণে করতে হলে গুনাহগার হবে না তবে ফিদিয়া দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴾فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ﴿

‘তোমাদের মাঝে যদি কেউ অসুস্থ হয় অথবা মাথায় কোনো সমস্যার (কারণে নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হতে হলে) তাকে ফিদিয়াস্বরূপ ছিয়াম থাকতে হবে অথবা ফিদিয়া দিতে হবে’ (আল-বাক্বারা, ২/১৯৬)

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরার নিকট কূফার মসজিদে বসেছিলাম। তখন আমি তাকে ছিয়ামের ফিদিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমাকে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আনা হলো, তখন আমার মুখের উপর উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি তখন বললেন, সম্ভবত তোমার কষ্ট হচ্ছে? তুমি কি একটি ছাগল সংগ্রহ করতে পার? আমি বললাম না, তিনি বললেন, তুমি তিন দিন ছিয়াম পালন করো অথবা ছয় জন দরিদ্রকে খাদ্য দান করো এবং তোমার মাথার চুল ন্যাড়া করে ফেলো। তখন আমার ব্যাপারে বিশেষভাবে আয়াত অবতীর্ণ হয়। তবে তোমাদের সকলের জন্য এ হুকুম।[9] এই হাদীছ প্রমাণ করে, একজন দরিদ্রকে অর্ধ ছা‘ সমান চাল বা গম দিতে হবে।

(৬)  স্থলপ্রাণী শিকার করা : আল্লাহ তাআলা বলেন,﴿غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ﴾ ‘মুহরিম অবস্থায় তোমাদের জন্য স্থলপ্রাণী শিকার করা হারাম করা হয়েছে’ (আল-মায়েদা, ৫/১)। এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইহরাম অবস্থায় স্থলপ্রাণী শিকার করা যাবে না এবং শিকারে সহযোগিতা করা যাবে না। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার করে, তাহলে তার কাফফারা হলো- আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণী হত্যা করবে, তার কাফফারা হলো অনুরূপ গৃহপালিত প্রাণী কা‘বাতে কুরবানীর জন্য পাঠাতে হবে, যে ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণ দুইজন লোক ফয়সালা করে দিবে কিংবা তার কাফফারা হলো কয়েকজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে অথবা তিন দিন ছিয়াম পালন করতে হবে। এটা নিজ কর্মের পরিণাম হিসাবে’ (আল-মায়েদা, ৫/৯৫)। এই আয়াতে উল্লেখিত ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ শব্দ দ্বারা বুঝা যায়, ভুলবশত প্রাণী হত্যা করলে কাফফারা দিতে হবে না।

(৭) বিবাহ করা এবং বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া : ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করা, বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া এবং কারো বিবাহে ঘটকালি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করবে না। কারো বিবাহের ব্যবস্থা করবে না। এমনকি বিবাহের প্রস্তাবও দিবে না।[10] যদি কেউ বিবাহ করে ফেলে, তাহলে সেই বিবাহ সঠিক হবে না।

(৮+৯) স্বামী-স্ত্রী মিলন ও মিলন ছাড়া যৌনতৃপ্তি মিটানো : আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴾الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ﴿  

‘হজ্জের জন্য রয়েছে নির্ধারিত কয়েকটি মাস। অতএব, যে ব্যক্তি ওই মাসসমূহে হজ্জ পালন করবে, সে যেন যৌনকর্ম, অশ্লীলতা, অবাধ্যতা ও ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত না হয় (আল-বাক্বারা, ২/১৯৭)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ছাড়াও যৌনতৃপ্তি মিটানো নিষেধ। তবে এ অপরাধের কারণে হজ্জ-উমরার কিরূপ ক্ষতি হবে এবং কাফফারা কি অপরিহার্য হবে? এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে সরাসরি কোনো ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। অবশ্য প্রসিদ্ধ ছাহাবীগণ হতে ছহীহ বর্ণনা পাওয়া যায়, আমর ইবনে শুআইব নিজ পিতা হতে বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের কাছে আসলেন এবং ইহরাম অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলন হলে কী করণীয় এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এক মুহরিম ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সাথে মিলনে লিপ্ত হয়েছে। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন, এঁর কাছে যান এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেন। শুআইব বলেন, সে তাঁকে চিনে না। তখন আমি লোকটিকে ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে নিয়ে গেলাম। ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকটিকে বললেন, তোমার হজ্জ বাতিল হয়ে গেছে। লোকটি বলল, এখন আমি কী করতে পারি? ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি মানুষের সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকো এবং হাজীগণ যা করছেন, তা করতে থাকো এবং সামনের বছর বেঁচে থাকলে পুনরায় হজ্জ করো এবং কুরবানী করো। এরপর লোকটি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ফিরে গেল, তখন আমি তার সাথে ছিলাম। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করো। শুআইব বলেন, আমি তাকে নিয়ে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গেলাম। লোকটি ইবনু আব্বাস আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)কে জিজ্ঞেস করলেন। ইবনু আব্বাস আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাকে সেটাই বললেন, যা বলেছিলেন ইবনু উমার আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর। তারপর লোকটি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ফিরে গেলেন। সে সময় আমি তার সাথে ছিলাম। লোকটি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)কে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শুনালেন, তখন লোকটি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, আপনি এ ব্যাপারে কী বলছেন? তখন আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তারা দুই জন যা বলেছেন, আমার সিদ্ধান্তও তাই।[11]

উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী মিলন ঘটলে- (১) হজ্জ বাতিল হবে (২) হাজীগণের সাথে হজ্জরত অবস্থায় থাকতে হবে (৩) পরের বছর হজ্জ পালন করতে হবে (৪) দম দিতে হবে।

(চলবে)


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/১২৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১২০৬।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৩৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৮৯; মিশকাত, হা/২৬৫১।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭৭; নাসাঈ, হা/২৬৬৭।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৪২।

[5]. দ্রষ্টব্য: ছহীহ বুখারী, হা/১৮৪১; ফিক্বহুস সুন্নাহ, পৃ. ৬২১।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৪১, ১৮৪২, ১৮৪৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭৮; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৭৮১।

[7]. ছহীহ বুখারী, ১৮৩৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৯৩০; মিশকাত, হা/২৬৭৮।

[8]. আবূ দাঊদ, ১৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৬৭; মিশকাত, হা/২৬৯০।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৫১৭।

[10]. ইবনু মাজাহ, হা/১৯৬৬।

[11]. মুসতাদরাক হাকেম, হা/২৩৭৫।