হজ্জ ও উমরা
আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ


(পর্ব-৫)

মক্কার ফযীলত :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ لاَ هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا وَقَالَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ إِنَّ هَذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فَهْوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ الْقِتَالُ فِيهِ لأَحَدٍ قَبْلِى، وَلَمْ يَحِلَّ لِى إِلاَّ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، فَهْوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لاَ يُعْضَدُ شَوْكُهُ وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ وَلاَ يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلاَّ مَنْ عَرَّفَهَا وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهُ فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللهِ إِلاَّ الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ قَالَ إِلاَّ الإِذْخِرَ.

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আজ থেকে মক্কা হতে আর হিজরত নেই। তবে জিহাদ এবং জিহাদের নিয়্যত বাকী আছে। যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য বের হতে বলা হবে, তখন তোমরা বের হয়ে পড়বে। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন আরও বললেন, যে দিন হতে আল্লাহ আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন হতে এ মক্কা শহরকে সম্মানিত করেছেন। অতএব মক্কা শহর ক্বিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত থাকবে। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে যুদ্ধ করা হালাল ছিল না। আর আমার জন্য এক দিনের কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। তারপর মক্কা ক্বিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত থাকবে। সেখানে অবস্থিত কাঁটাগাছ কাটা যাবে না। সেখানকার শিকারযোগ্য প্রাণী তাড়ানো যাবে না। সেখানে পড়ে থাকা জিনিস কেউ কুড়াতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি প্রচার করবে, সে কুড়াতে পারবে। মক্কার ঘাসও কাটা যাবে না। এ সময় আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তবে ইযখির ঘাস; এ ঘাস কর্মকারের প্রয়োজন হয় এবং ঘরের জন্য প্রয়োজন হয়।

রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তবে ইযখির ঘাস ব্যতীত।[1] এই হাদীছ দ্বারা মক্কার অনেক ফযীলত প্রমাণিত হয়।

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَقُولُ لاَ يَحِلُّ لأَحَدِكُمْ أَنْ يَحْمِلَ بِمَكَّةَ السِّلاَحَ.

জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কারও জন্য মক্কা শহরে অস্ত্র বহন করা হালাল নয়।[2] এই হাদীছে প্রমাণিত হয় যে, মক্কায় জিহাদ চির দিনের জন্য হারাম।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لِمَكَّةَ مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ وَأَحَبَّكِ إِلَىَّ وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمِى أَخْرَجُونِى مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ.

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কাকে লক্ষ্য করে বললেন, কী উত্তম শহর তুমি! তোমাকে আমি কত ভালোবাসি! যদি আমার সম্প্রদায় আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তাহলে আমি কখনোই তোমায় ছেড়ে অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।[3] 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَدِىِّ بْنِ حَمْرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَاقِفًا عَلَى الْحَزْوَرَةِ فَقَالَ وَاللهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللهِ إِلَى اللهِ وَلَوْلاَ أَنِّى أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ.

আব্দুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে হামরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি হাযওয়ারা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, আল্লাহর কসম! হে মক্কার যমীন, তুমি সবচেয়ে উত্তম যমীন। আল্লাহর নিকট তুমি সবচেয়ে প্রিয় যমীন। যদি আমাকে তোমার নিকট হতে বের না করা হত, তাহলে কখনোই আমি তোমার নিকট হতে বের হতাম না।[4] এই হাদীছ দ্বারা বুঝা যায়, মক্কা মদীনার চেয়ে উত্তম।

মদীনার ফযীলত :

عَنْ سَعْد رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَابَتَيِ الْمَدِينَةِ أَنْ يُقْطَعَ عِضَاهُهَا أَوْ يُقْتَلَ صَيْدُهَا وَقَالَ الْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ وَلَا يَدَعُهَا أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَبْدَلَ اللَّهُ بِهَا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ وَلَا يَثْبُتُ أَحَدٌ عَلَى لَأْوَائِهَا وَجَهْدِهَا إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি মদীনার দুই কালো পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম করেছি। মদীনার গাছ কাটা যাবে না। সেখানে কোনো প্রাণী শিকার করা যাবে না। তারপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মদীনা তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা (মদীনার মর্যাদা) বুঝতে পারত। যে ব্যক্তি মদীনার প্রতি অনীহা করে মদীনা ত্যাগ করবে, সেখানে তার স্থানে আল্লাহ তা‘আলা তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে স্থান দিবেন। আর যে ব্যক্তি মদীনার অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যের সাথে টিকে থাকবে, আমি ক্বিয়ামতের মাঠে তার জন্য সুপারিশকারী বা সাক্ষী হবো।[5] এই হাদীছ দ্বারা মদীনার অনেক ফযীলত প্রমাণিত হয়। তার একটি বড় ফযীলত হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি অনীহা করে মদীনা ত্যাগ করলে তার স্থানে আল্লাহ তার চেয়ে ভালো মানুষকে স্থান দান করবেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرَةِ جَاءُوا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَإِذَا أَخَذَهُ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ثُمَّ قَالَ يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيدٍ لَهُ فَيُعْطِيهِ ذَلِكَ الثَّمَرَ.

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের গাছের নতুন ফল দেখত, তখন তারা সে ফল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসত। তিনি তা গ্রহণ করে বলতেন, আল্লাহ! তুমি আমাদের ফলে বরকত দাও। আমাদের এ শহরে বরকত দাও। আমাদের পরিমাপের পাত্র ছা‘-এর মধ্যে বরকত দাও। আমাদের পরিমাপের পাত্র মুদ-এর মধ্যে বরকত দাও। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তোমার বান্দা, তোমার দোস্ত, তোমার নবী এবং আমিও তোমার বান্দা এবং আমিও তোমার নবী। তিনি তোমার নিকট মক্কার জন্য দু‘আ করেছেন, আর আমি তোমার নিকট মদীনার জন্য দু‘আ করছি। যেরূপ দু‘আ তিনি তোমার নিকট মক্কার জন্য করেছিলেন। অতঃপর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলেকে ডাকতেন এবং ঐ ফল তাকে দিতেন।[6] এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার জন্য বিশেষ দু‘আ করেছেন। তিনি দু‘আ করার সময় বলেন, আমি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর দু‘আর মতো দু‘আ করি। তিনি যেভাবে মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন, আমি সেভাবে মদীনার জন্য দু‘আ করি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أُمِرْتُ بِقَرْيَةٍ تَأْكُلُ الْقُرَى يَقُولُونَ يَثْرِبَ وَهْىَ الْمَدِينَةُ تَنْفِى النَّاسَ كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমাকে এমন এক গ্রামে হিজরত করার জন্য আদেশ করা হয়েছে, যে গ্রাম অন্য সব গ্রামসমূহকে খেয়ে ফেলবে। লোকে বলে সেটি হলো ইয়াছরেব। আর সেটাই হলো মদীনা। মদীনা মানুষকে বিশুদ্ধ করে, যেমন হাপর লোহার ময়লা-মরিচাকে দূর করে’।[7] হাদীছটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মদীনার নাম ছিল ইয়াছরেব। ইয়াছরেব অর্থ- তিরস্কার। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখেন মদীনা, অর্থ- মহানগরী। তার আর একটি নাম হচ্ছে ত্বাবা, অর্থ- পবিত্র।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِىَ الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামত ততদিন পর্যন্ত সঙ্ঘটিত হবে না, যতদিন পর্যন্ত মদীনা তার মন্দ লোকদেরকে বের না করে দিবে। যেভাবে দূর করে হাপর লোহার মরিচা-ময়লাকে।[8] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মদীনা এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো খারাপ লোক থাকবে না।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ.

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘মদীনার রাস্তাসমূহে ফেরেশতাগণ পাহারায় রয়েছেন। অতএব মহামারী ও দাজ্জাল মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না’।[9] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মদীনা এমন একটি জায়গা, যেখানে মহামারী এবং দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।

عَنْ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لَا يَكِيدُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَحَدٌ إِلَّا انْمَاعَ كَمَا يَنْمَاعُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ.

সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে কোনো ব্যক্তি মদীনাবাসীদের সাথে প্রতারণা করবে, সে গলে (ধ্বংস) যাবে, যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়’।[10] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মদীনাবাসীদের সাথে প্রতারণা করা মহাপাপ। যারা এমন কাজ করবে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ فَنَظَرَ إِلَى جُدُرَاتِ الْمَدِينَةِ أَوْضَعَ رَاحِلَتَهُ وَإِنْ كَانَ عَلَى دَابَّةٍ حَرَّكَهَا مِنْ حُبِّهَا.

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সফর হতে আসতেন, তখন মাদীনার প্রাচীর দেখামাত্র নিজ সওয়ারীকে জোরে তাড়াতেন সওয়ারী খচ্চর হলে নাড়া দিতেন। আর তিনি এসব করতেন মদীনার ভালোবাসার তাড়নায়।[11] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাকে এত ভালোবাসতেন যে, কোনো সফর থেকে ফিরে আসার সময় মাদীনা দেখতে পাওয়ার সাথে সাথে মাদীনায় পৌঁছার তাড়নায় ঘোড়া তাড়িয়ে আসতেন।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ طَلَعَ لَهُ أُحُدٌ فَقَالَ هَذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَإِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا.

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, একদা উহুদ পাহাড় নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নযরে পড়ে। তখন তিনি বলেন, এই পাহাড় আমাদেরকে ভালোবাসে আর আমরাও তাকে ভালোবাসি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে সম্মানিত করেছেন, আর আমি মদীনার দুই কালো প্রস্তরময় স্থানের মধ্যবর্তী স্থানকে সম্মান দান করলাম।[12] হাদীছের প্রথম অংশে যা প্রমাণিত হয়, তার সম্মান মানুষ জানে না আর তা হচ্ছে আমরা উহুদকে ভালোবাসি আর উহুদ আমাদেরকে ভালোবাসে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَىْ مَا جَعَلْتَ بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَةِ.

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! মক্কায় তুমি যা বরকত দান করেছ, মদীনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করো’।[13]

(চলবে)


[1]. বুখারী, হা/৩১৮৯; মুসলিম, হা/৩৩৬৮; মিশকাত, হা/২৭১৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৫৯৬।

[2]. মুসলিম, হা/৩৩৭৩; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৯৩৮; মিশকাত, হা/২৫৯৭।

[3]. তিরমিযী, হা/৩৯২৬, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৭২৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬০৪।

[4]. তিরমিযী, হা/৩৯২৫, হাদীছ ছহীহ; ইবনে মাজাহ, হা/৩১০৮; মিশকাত, হা/২৭২৫।

[5]. মুসলিম, হা/৩৩৮৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৭৩; মিশকাত, হা/২৭২৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬০৪।

[6]. মুসলিম, হা/৩৪০০; মিশকাত, হা/২৭৩১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬১১।

[7]. বুখারী, হা/১৮৭১; মুসলিম, হা/৩৪১৯; মিশকাত, হা/২৭৩৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬১৭।

[8]. মুসলিম, হা/৩৪১৮; মিশকাত, হা/২৭৪০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬২০।

[9]. বুখারী, হা/৭১৩৩; মুসলিম, হা/৩৪১৬; মিশকাত, হা/২৭৪১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬২১।

[10]. বুখারী, হা/১৮৭৭; মিশকাত, হা/২৭৪৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬২৩।

[11]. বুখারী, হা/১৮৮৬; মিশকাত হা/২৭৪৪।

[12]. বুখারী, হা/৭৩৩৩; মুসলিম, হা/৩৩৮৭; মিশকাত হা/২৭৪৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬২৫।

[13]. বুখারী, হা/১৮৮৫; মুসলিম, হা/৩৩৯২; মিশকাত হা/২৭৫৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬৩৪।