হজ্জ ও ওমরাহ

আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ

(পর্ব-২)

عَنْ طَاوُسٍ عَنْ رَجُلٍ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا الطَّوَافُ صَلاَةٌ فَإِذَا طُفْتُمْ فَأَقِلُّوا الْكَلاَمَ

ত্বাঊস (রা.) একজন  ছাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী করীম (ছা.) -কে পেয়েছিলেন, নবী করীম (ছা.)  বলেছেন, ‘নিশ্চয় ত্বাওয়াফ হচ্ছে ছালাত। অতএব যখন তোমরা ত্বাওয়াফ করবে, তখন তোমরা কথা কম বলো’।[1]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ اللَّهُ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ» فَالطَّوَافُ قَبْلَ الصَّلَاةِ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ بِمَنْزِلَةِ الصَّلَاةِ، إِلَّا أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَلَّ فِيهِ الْمِنْطَقَ، فَمَنْ نَطَقَ فَلَا يَنْطِقْ إِلَّا بِخَيْرٍ»

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার নবী করীম (ছা.)-কে বলেছেন, ‘আমার ঘরকে ত্বাওয়াফকারীদের জন্য, ই‘তিকাফকারীদের জন্য এবং রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখুন। অতএব, ত্বাওয়াফ হবে ছালাতের পূর্বে’। রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘কা‘বা ঘরের ত্বাওয়াফ হচ্ছে ছালাতের স্থানে। তবে আল্লাহ ত্বাওয়াফের মধ্যে কথাকে বৈধ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে যেন ভালো কথা বলে’।[2]

عَنْ طَاوُسٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَقِلُّوا الْكَلاَمَ فِى الطَّوَافِ فَإِنَّمَا أَنْتُمْ فِى الصَّلاَةِ

ত্বাঊস (রা.) বলেন, আমি ইবনে ওমর (রা.)-কে বলতে  শুনেছি, ‘তোমরা ত্বাওয়াফে কথা কম বলো। নিশ্চয় তোমরা ছালাতের মধ্যে রয়েছো’।[3]

রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের ফযীলত :

ত্বাওয়াফকারী ত্বাওয়াফের সময় হাজারে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন,  إِنَّ مَسْحَهُمَا يَحُطَّانِ الْخَطِيئَةَ ‘নিশ্চয় এই কোণদ্বয় স্পর্শ করলে কোণদ্বয় মানুষের পাপকে মিটিয়ে দেয়’।[4]  অন্য বর্ণনায় এসেছে, إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا  ‘নিশ্চয় এই কোণদ্বয় স্পর্শ করলে পাপসমূহ মুছে যায়’।[5]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِى الْحَجَرِ «وَاللَّهِ لَيَبْعَثَنَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنِ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ».

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) হাজারে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম! ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ এই কালো পাথরকে পাঠাবেন। তখন তার দু’টি চোখ থাকবে, যা দ্বারা দেখতে থাকবে এবং তার একটি জিহ্বা হবে, যা দ্বারা কথা বলবে এবং যে তাকে ঈমানের সাথে চুম্বন দিয়েছে, তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে’।[6]  এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয়, আল্লাহ তা‘আলা হাজারে আসওয়াদকে বিচারের মাঠে উঠাবেন। তার চোখ হবে যা দ্বারা বিচারের মাঠের অবস্থা দেখতে পাবে, পরিস্থিতিতে কথা বলবে এবং যারা বৈধ পন্থায় হজ্জ করে, তাদের পক্ষে কথা বলবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «نَزَلَ الْحَجَرُ الأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِى آدَمَ».  

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘হাজারে আসওয়াদ যখন জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়, তখন তা দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা ছিল। পরে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দিয়েছে’।[7]  এই হাদীছে প্রমাণিত হয়, পাথরটি দুধের চেয়েও সাদা ছিল। আদম সন্তানের পাপের কারণে সেটি কালো হয়ে গেছে।

عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ طَمَسَ اللَّهُ نُورَهُمَا وَلَوْ لَمْ يَطْمِسْ نُورَهُمَا لأَضَاءَتَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ».

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘হাজারে আসওয়াদ এবং মাক্বামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকূত পাথরসমূহের দু’টি পাথর। আল্লাহ তার আলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। যদি পাথর দু’টির আলো আল্লাহ না মিটাতেন, তাহলে পূর্ব-পশ্চিমে যা কিছু আছে, সব আলোকিত হয়ে যেত’।[8]  এই হাদীছ থেকে বুঝা যায়, হাজারে আসওয়াদ জান্নাতের পাথর, যার আলো ছিল। আল্লাহ তার আলো মিটিয়ে দিয়েছেন।

যমযম পানির ফযীলত :

جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ».

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘যমযমের পানি যে নিয়্যতে পান করবে, তাই পাবে’।[9]  এই হাদীছে প্রমাণিত হয়, যমযমের পানি এমন পানি, যাতে সব ধরনের কল্যাণ রয়েছে। মানুষ যে নিয়্যতে যমযমের পানি পান করবে, আল্লাহ তার নিয়্যত পূর্ণ করবেন।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ، وَفِيهِ طَعَامٌ مِنَ الطُّعْمِ، وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘মাটির উপর সবচেয়ে উত্তম পানি হচ্ছে যমযমের পানি। যাতে রয়েছে ক্ষুধা নিবারণের খাদ্য এবং রোগ নিরাময়ের ওষুধ’।[10]  এই হাদীছে প্রমাণিত হয়, পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পানি হচ্ছে যমযমের পানি। আর যমযমের পানি শুধু পানি নয়, তা হচ্ছে খাদ্য। যমযমের পানি খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। যমযমের পানি মানুষ যে নিয়্যতে পান করবে, তার সে নিয়্যত পূর্ণ হবে।

عَنْ سُوَيْدٍ بْنِ سَعِيْدٍ قَالَ : رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الْمُبَارَكِ بِمَكَّةَ أَتَى زَمْزَمَ فَاسْتَقَى مِنْهُ شُرْبَةً ثُمَّ اسْتَقْبَلَ الْكَعْبَةَ ثُمَّ قَالَ: اَللهم إِنَّ ابْنَ أَبِىْ الْمَوَالِ حَدَّثَنَا عَنْ مُحَمَّدٍ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ : (مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ) وَهَذَا أَشْرَبُهُ لِعَطْشِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ شَرِبَهُ

সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারাককে মক্কায় দেখেছি, তিনি যমযমের পানির নিকট আসলেন এবং সেখানে থেকে পানি চাইলেন। অতঃপর তিনি কা‘বা ঘরের দিকে মুখ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবনে আবী মাওয়ালি আমাদেরকে হাদীছ বর্ণনা করেন, তিনি বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির হতে, ইবনে মুনকাদির হাদীছ বর্ণনা করেন,  জাবের (রা.) বলেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যমযমের পানি যে নিয়্যতে পান করা হবে, তা পূর্ণ হবে। অতএব আমি এই পানি পান করছি ক্বিয়ামতের দিনের পিপাসা নিবারণের জন্য। তারপর তিনি পান করলেন’।[11]

يَحْيَى بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: لَمَّا حَجَّ مُعَاوِيَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ حَجَجْنَا مَعَهُ، فَلَمَّا طَافَ بِالْبَيْتِ، وَصَلَّى عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ مَرَّ بِزَمْزَمَ وَهُوَ خَارِجٌ إِلَى الصَّفَا فَقَالَ: ” انْزِعْ لِي مِنْهَا دَلْوًا يَا غُلَامُ، قَالَ: فَنَزَعَ لَهُ مِنْهَا دَلْوًا، فَأَتَى بِهِ فَشَرِبَ مِنْهُ وَصَبَّ عَلَى وَجْهِهِ وَرَأْسِهِ، وَهُوَ يَقُولُ: ” زَمْزَمُ شِفَاءٌ، هِيَ لِمَا شُرِبَ لَهُ “

ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, আমরা মু‘আবিয়া (রা.)-এর সাথে হজ্জ করেছিলাম, যখন তিনি হজ্জ করেছিলেন, তিনি কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করলেন। তারপর মাক্বামে ইবরাহীমের পাশে দু‘রাক‘আত ছালাত আদায় করলেন। তারপর যমযমের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন তিনি ছাফা পাহাড়ের দিকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে গোলাম! তুমি আমার জন্য এক বালতি যমযমের পানি নিয়ে আসো। সে তার জন্য যমযমের কূপ হতে এক বালতি পানি উঠিয়ে নিয়ে আসল এবং তার নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি পান করলেন এবং তার মুখ ও মাথার উপর ঢাললেন। এ সময় তিনি বলছিলেন, যমযমের পানি রোগের জন্য নিরাময়। আর যমযমের পানি যে নিয়্যতে পান করবে, তা পূর্ণ হবে।[12]

উক্ত হাদীছে প্রমাণিত হয়, যমযমের পানি রোগের জন্য নিরাময়। যে নিয়্যতে পান করা হয়, তা পূর্ণ হয়। যমযমের পানি দিয়ে মুখ-হাত ধৌত করা যায় ও মাথায় ঢালা যায়।

عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّهَا كَانَتْ تَحْمِلُ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ وَتُخْبِرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَحْمِلُهُ. مَاءَ زَمْزَمَ  فِي الْأَدَاوِيْ وَالْقِرَبِ وَكَانَ يَصُبُّ عَلَى الْمَرْضَى وَيَسْقِيْهِمْ .

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি যমযমের পানি বহন করতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যমযমের পানি বহন করতেন পাত্রসমূহে এবং মশকসমূহে। তিনি অসুস্থ ব্যক্তিদের উপর যমযমের পানি ঢালতেন এবং তাদেরকে পান করাতেন।[13]

এই হাদীছে প্রমাণিত হয়, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যমযমের পানি বহন করে নিয়ে যেতেন, অসুস্থদের পান করাতেন এবং তাদের গায়ে ঢালতেন।

أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ : كُنَّا عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَتَحَدَّثْنَا فَحَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَقَامَ فَصَلَّى بِنَا فِى ثَوْبٍ وَاحِدٍ قَدْ تَلَبَّبَ بِهِ وَرِدَاؤُهُ مَوْضُوعٌ ثُمَّ أُتِىَ بِمَاءٍ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ فَشَرِبَ ثُمَّ شَرِبَ فَقَالُوا : مَا هَذَا؟ قَالَ : هَذَا مَاءُ زَمْزَمَ وَقَالَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :« مَاءُ زَمْزَمَ لَمَّا شُرِبَ لَهُ ». قَالَ : ثُمَّ أَرْسَلَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ قَبْلَ أَنْ تُفْتَحَ مَكَّةَ إِلَى سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو أَنِ أَهْدِ لَنَا مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ وَلاَ تَتِرُكْ قَالَ فَبَعَثَ إِلَيْهِ بِمَزَادَتَيْنِ.

আবু যুবায়ের (রা.) বলেন, আমরা জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর নিকটে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে হাদীছ শুনাচ্ছিলেন, ইতোমধ্যে আছরের ছালাতের সময় হয়ে গেলে তিনি একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে আমাদেরকে ছালাত আদায় করালেন। এ সময় তার চাদরটি পাশে রাখা ছিল। তারপর তিনি যমযমের পানির পাশে আসলেন এবং পানি পান করলেন। এরপর আবারো পানি পান করলেন। লোকেরা বলল, এটা কী? তিনি বললেন, এটা যমযমের পানি। যমযমের পানির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, যমযমের পানি যে নিয়্যতে পান করা হবে, তা পূর্ণ হবে। তারপর তিনি বললেন, নবী (ছা.) মদীনায় থাকাকালীন মক্কা বিজয়ের পূর্বে সুহাইল ইবনে আমরের কাছে লোক পাঠিয়েছিলেন। নবী (ছা.) বলেছিলেন, সুহাইল আমাদের জন্য যমযমের পানি হাদিয়া পাঠাও। জাবের  ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, সুহাইল ইবনে আমর দুই মশক পানি রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর কাছে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।[14]

উক্ত হাদীছে প্রমাণিত হয়, যমযমের পানি হাদিয়া পাঠানোর জন্য বলা যায়। যমযমের পানি হাদিয়া পাঠাতে হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে ছামেত (রা.) বলেন, আবু যার (রা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন,

مَتَى كُنْتَ هَا هُنَا. قَالَ قُلْتُ قَدْ كُنْتُ هَا هُنَا مُنْذُ ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ قَالَ فَمَنْ كَانَ يُطْعِمُكَ. قَالَ قُلْتُ مَا كَانَ لِى طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ . فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِى وَمَا أَجِدُ عَلَى كَبِدِى سُخْفَةَ جُوعٍ قَالَ  إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ.

আবু যার! তুমি কখন এখানে এসেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, ৩০ দিন থেকে এখানেই রয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, কে তোমাকে খাদ্য প্রদান করে থাকে? তিনি বলেন, আমি বললাম, যমযমের পানি ছাড়া আমার নিকট কোনো খাদ্য নেই। আমি মোটা হয়ে গেলাম। এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার দুর্বলতা বুঝি না। তখন নবী (ছা.) বললেন, নিশ্চয় যমযমের পানি মঙ্গলময় পানি। নিশ্চয় যমযমের পানি ক্ষুধা নিবারণের খাদ্য।[15] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয়, যমযমের পানি পান করে মানুষ জীবন ধারণ করতে পারে। যমযমের পানি কল্যাণময় পানি, যাতে সব ধরনের কল্যাণ রয়েছে। যমযমের পানি খাদ্য, যা দ্বারা মানুষ ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ، فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ».

ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ছা.)-এর নিকট এক বালতি যমযমের পানি নিয়ে আসলাম। তখন তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন।[16]  এই হাদীছে প্রমাণিত হয় যে, যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, যমযমের পানি ‘বিসবিমল্লাহ’ বলে পান করতে হবে। যমযমের পানি পান করার যে দু‘আটি রয়েছে, তার প্রমাণে হাদীছটি যঈফ।[17]

(চলবে)

[1]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৪৬১; ইরওয়াউল গালীল, ১/১৫৬।

[2]. ইরওয়াউল গালীল, ১/১৫৭।

[3]. ইরওয়াউল গালীল, ১/১৫৭।

[4]. নাসাঈ, হা/২৯১৯; জামেঊল উছূল , হা/১৪৪৬।

[5]. তিরমিযী, হা/৯৫৯; মিশকাত, হা/২৫৮০।

[6]. তিরমিযী, হা/৯৬১; মিশকাত, হা/২৫৭৮।

[7]. তিরমিযী, হা/৮৭৭; জামেঊল আহাদীছ, হা/২৪৭২৯।

[8].  তিরমিযী, হা/৮৭৮; জামেঊল আহাদীছ, হা/৬৩৭৩।

[9]. ইবনে মাজাহ, হা/৩০৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৯২।

[10]. সিলসিলা ছাহীহা, হা/১০৫৬; মু‘জামুল কাবীর, হা/১১১৬৭।

[11]. ছাহীহুল জামে‘, হা/৫৫০২; তারগীব, হা/১৬৯৮; ইরওয়া, ৪/৩২২।

[12]. ইরওয়া, ৪/৩২৩; আখবারু মক্কা, হা/১০৪২।

[13]. সিলসিলা ছহীহা, হা/৮৮৩; তিরমিযী, হা/৯৬৩।

[14]. ইরওয়া, ৪/৫৪৩; সিলসিলা ছহীহা, হা/৮৮৩।

[15]. মুসলমি, হা/৬৫১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৫৬৫।

[16]. বুখারী, হা/১৬৩৭; মুসলমি, হা/২০২৭; মিশকাত, হা/৪২৬৮।

[17]. তারগীব, হা/1697।