হজ্জ ও ওমরাহ

আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

الحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنْ لَا نَبِيَّ بَعْدَهُ

হজ্জ ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের নাম হজ্জ। মহান আল্লাহর নিকট থেকে গোনাহ মাফ করিয়ে নিজেকে নিষ্পাপ শিশুর মতো মা‘ছূম করে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এই হজ্জের মাধ্যমেই।

হজ্জের অভিধানিক অর্থ :

হজ্জ (حج)-এর আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা পোষণ করা। পারিভাষিক অর্থ- আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার আশায় বছরের একটি নির্ধারিত সময়ে ও নির্ধারিত স্থানে বিশেষ ইবাদতের নাম হজ্জ।

ওমরাহ (عمرة)-এর আভিধানিক অর্থ- বসতিপূর্ণ স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা করা, যিয়ারত করা। পরিভাষায়- আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় বছরের যে কোনো সময় নির্ধারিত নিয়মে মক্কায় গিয়ে আল্লাহর ঘর যিয়ারত করাকে ওমরাহ বলে।

হজ্জ একটি ফরয বিধান :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ‘আর সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয’ (আলে ইমরান, ৯৭)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় যে, হজ্জ একটি আল্লাহর ফরয বিধান। আল্লাহ অন্যত্র বলেন,  

وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ

‘আর লোকদেরকে হজ্জ করার জন্য আদেশ করুন। তারা আপনার নিকট দূর-দূরান্ত হতে পায়ে হেঁটে ও উটের উপর সওয়ার হয়ে আসবে’ (হজ্জ, ২৭)। এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা হজ্জ করার জন্য মানুষকে আদেশ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণভাবে আদায় করো’ (বাক্বারাহ, ১৯৬)।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فُرِضَ عَلَيْكُمُ الْحَجُّ فَحُجُّوا..

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিলেন এবং বললেন, ‘হে জনগণ! তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করা হয়েছে। অতএব তোমরা হজ্জ পালন করো’।[1]  এই হাদীছে বুঝা যায় যে, হজ্জ ফরয যা পালন করার জন্য রাসূল (ছা.) আদেশ করেছেন।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها قَالَتِ اسْتَأْذَنْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الْجِهَادِ . فَقَالَ جِهَادُكُنَّ الْحَجُّ

আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি একদা নবী করীম (ছা.)-এর নিকট জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন, নবী করীম (ছা.) বললেন, ‘তোমাদের জিহাদ হলো হজ্জ’।[2]   এই হাদীছে প্রমাণ হয় যে, মেয়েদের উপর জিহাদ ফরয নয়। তবে হজ্জ ফরয। হজ্জ অনেক বড় সফর, বড় ঝামেলা ও কষ্টের সফর; এরপরও নারীদের উপর ফরয।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ . فَقَامَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَقَالَ: أَفِي كُلِّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: ” لَوْ قُلْتُهَا: نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَعْمَلُوا بِهَا وَلَمْ تَسْتَطِيعُوا وَالْحَجُّ مَرَّةٌ فَمَنْ زَادَ فَتَطَوُّعٌ

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘হে জনগণ! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন’। এ সময় আকরা ইবনে হাবেস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! হজ্জ কি প্রত্যেক বছর ফরয? রাসূল (ছা.) বললেন, ‘যদি আমি বলতাম, হ্যাঁ, তবে ফরয হয়ে যেতো আর ফরয হয়ে গেলে তোমরা তা সম্পাদন করতে না এবং করতেও পারতে না। হজ্জ একবার ফরয। কেউ অধিক হজ্জ করলে তা নফল হবে’।[3]  হাদীছে বুঝা যায় যে, হজ্জ ফরয। হজ্জ জীবনে একবার ফরয। মানুষ একাধিক হজ্জ করতে পারে, তবে তা নফল হবে।

হজ্জ ও ওমরাহর ফযীলত :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ حَجَّ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّه

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি হজ্জ করল এবং স্ত্রী সহবাসসহ যাবতীয় অশ্লীল কর্ম ও গালমন্দ থেকে বিরত থাকল, সে ঐ দিনের মতো হয়ে গেল, যে দিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে’।[4]

عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ.

আমর ইবনুল আছ (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন,  ‘নিশ্চয়ই হজ্জ তার আগের সমস্ত গুনাহকে মিটিয়ে দেয়’।[5]

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, ‘এক ওমরাহ হতে আরেক ওমরাহর মধ্যেকার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান হলো জান্নাত’।[6]

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلَّا الْجَنَّةَ.

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ্জ ও ওমরাহর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখো। কেননা এই দুইটি মানুষের দরিদ্রতা দূর করে এবং গুনাহ মিটিয়ে দেয়। যেমন হাপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান হলো জান্নাত’।[7]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ حَجٌّ مبرورٌ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সবচেয়ে উত্তম কাজ কোনটি? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ এবং তার রাসূল (ছা.)-এর প্রতি ঈমান আনা’। তাকে বলা হয়েছিল, এরপর কী? তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা’। তারপর জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তারপর কী? তিনি বলেছিলেন, ‘কবুল হজ্জ’।[8]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عُمْرَةً فِىْ رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় রামাযান মাসের একটি ওমরাহ একটি হজ্জের সমতুল্য’।[9]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما قَالَ لَمَّا رَجَعَ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حَجَّتِهِ قَالَ لأُمِّ سِنَانٍ الأَنْصَارِيَّةِ مَا مَنَعَكِ مِنَ الْحَجِّ قَالَتْ أَبُو فُلاَنٍ تَعْنِى زَوْجَهَا كَانَ لَهُ نَاضِحَانِ ، حَجَّ عَلَى أَحَدِهِمَا ، وَالآخَرُ يَسْقِى أَرْضًا لَنَا . قَالَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِى رَمَضَانَ تَقْضِى حَجَّةً مَعِى

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) হজ্জ হতে ফিরে এসে উম্মে সিনান নামে এক আনছারী মহিলাকে বললেন, ‘হজ্জ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, ওমুকের আব্বা অর্থাৎ তার স্বামী। কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দুইটি উট আছে। একটিতে সওয়ার হয়ে তিনি হজ্জ আদায় করতে গেছেন আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সেঁচের কাজ করছে। নবী (ছা.) বললেন, ‘রামাযান মাসে একটি ওমরাহ আদায় করা একটি ফরয হজ্জ আদায় করার সমান’ অথবা বলেছেন, ‘আমার সাথে একটি হজ্জ আদায় করার সমান’। [10]

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ قَالَ لاَ ، لَكِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ

মুমিনগণের মা আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছা.)! জিহাদকে আমরা সবচেয়ে উত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করব না? রাসূল (ছা.) বললেন, ‘না, বরং তোমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হলো কবুল হজ্জ’।[11]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْغَازِى فِى سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে ফিরে আসে, তারা গাযী এবং হজ্জ  ও ওমরাহ পালনকারী আল্লাহর মেহমান। তারা দু‘আ করলে তাদের দু‘আ কবুল করা হয়। তারা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাদেরকে প্রদান করেন’।[12]

ত্বাওয়াফের ফযীলত :

পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানিত ঘর কা‘বা। কা‘বা ঘরের চতুর্দিকে ঘোরাকে ত্বাওয়াফ বলে। কা‘বা ঘরকে ত্বাওয়াফ করা অত্যন্ত ফযীলতের কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ‘তারা যেন প্রাচীন ঘর কা‘বাকে ত্বাওয়াফ করে’ (হজ্জ, ২৯)। ত্বাওয়াফের ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ আছে। যেমন-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করল এবং দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করল, সে একজন গোলাম আযাদের নেকী পেলো’।[13]

عَن عُبيدِ بنِ عُمَيرٍ: أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُزَاحِمُ عَلَيْهِ قَالَ: إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا. وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ. وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلا حطَّ اللَّهُ عنهُ بهَا خَطِيئَة وكتبَ لهُ بهَا حَسَنَة

ওবায়েদ ইবনে  ওমায়ের (রহি.) হতে বর্ণিত, ইবনে ওমর (রা.) দুই রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী) উপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তেন, রাসূল (ছা.)-এর অন্য কোনো ছাহাবীকে আমি এমন ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখিনি। তিনি (রা.) বললেন, যদি আমি এরূপ করি, তাহলে সঠিকই করেছি। কেননা নিশ্চয়ই আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয় দুইটি রুকনকে স্পর্শ করা পাপসমূহের জন্য কাফফারা’। আমি রাসূল (ছা.)-কে আরও বলতে শুনেছি, ‘কেউ যদি বায়তুল্লাহ সাতবার ত্বাওয়াফ করে এবং গণনা করে রাখে, তাহলে সে গোলাম আযাদের নেকী পাবে’। আমি রাসূল (ছা.) আরও বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি ত্বাওয়াফের সময় যতো বার পা উঠাবে বা নামাবে, ততো বার আল্লাহ একটি গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং একটি নেকী লিখে দিবেন’।[14]

আব্দুল্লাহ ইবনে ওবায়েদ ইবনে  ওমায়ের (রহি.) হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন, তার পিতা ইবনে ওমর (রা.)-কে বলেছিলেন, আমার কী হলো যে, আপনাকে একমাত্র হাজারে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করতে দেখি। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, যদি আমি এটা করি, তাহলে ঠিকই করেছি। কারণ আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয় সে দুইটিকে স্পর্শ করলে পাপসমূহ মিটে যায়’। ইবনে ওমর (রা.) বলেন,  আমি রাসূল (ছা.)-কে আরও বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি গুনে সাতবার ত্বাওয়াফ করে তারপর দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তাহলে সে গোলাম আযাদের নেকী পাবে’। ইবনে ওমর (রা.) আরও বলেন, আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করতে যেয়ে যতো বার পা উঠায় বা নামায় ততো বার দশ নেকী লিখা হয়, দশটি পাপ মিটে যায় এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়’।[15]

عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا بَنِى عَبْدِ مَنَافٍ لاَ تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ

যুবায়ের ইবনে মুত্ব‘ইম (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, ‘হে বনী আবদে মানাফ! যে ব্যক্তি এই ঘরের ত্বাওয়াফ করতে চায় এবং রাত-দিনের যে কোনো সময় ছালাত আদায় করতে চায়, তাকে তোমরা বাধা দিয়ো না’।[16]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الطَّوَافُ حَوْلَ الْبَيْتِ مِثْلُ الصَّلاَةِ إِلاَّ أَنَّكُمْ تَتَكَلَّمُونَ فِيهِ فَمَنْ تَكَلَّمَ فِيهِ فَلاَ يَتَكَلَّمَنَّ إِلاَّ بِخَيْرٍ

ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, ‘কা‘বা ঘরের চতুর্দিকে ত্বাওয়াফ করা হলো ছালাত। তবে তোমরা ত্বাওয়াফের সময় কথা বলতে পারো। অতএব, কেউ যদি সেখানে কথা বলতে চায়, সে যেন কল্যাণের কথা বলে’।[17]

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ صَلَاةٌ، إِلَّا أَنَّ اللهَ أَحَلَّ لَكُمْ فِيهِ الْكَلامَ

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, ‘কা‘বা ঘরের ত্বাওয়াফ হচ্ছে ছালাত। তবে আল্লাহ তা‘আলা সেখানে কথা বলাকে বৈধ করেছেন’।[18]

 (চলবে)

[1]. ছহীহ মুসলিম,হা/১৩৩৭; মিশকাত, হা/২৫০৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৩৯১।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৭৫; মিশকাত, হা/২৫১৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৪০০।

[3]. নাসাঈ, হা/২৬২০; মিশকাত, হা/২৫২০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৪০৬।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৫০; মিশকাত, হা/২৫০৭।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১; মিশকাত, হা/২৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৬।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৯; মিশকাত, হা/২৫০৮।

[7]. তিরমিযী, হা/৮১০; নাসাঈ, হা/২৬৩১; মিশকাত, হা/২৫২৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৪১০।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩; মিশকাত, হা/২৫০৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৩৯২।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৮২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৬; মিশকাত, হা/২৫০৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৩৯৫।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬৩।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২০।

[12]. ইবনে মাজাহ, হা/২৮৯৩।

[13]. ইবনে মাজাহ, হা/২৯৫৬।

[14]. তিরমিযী, হা/৯৫৯; মিশকাত, হা/২৫৮০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৪৬৫।

[15]. আহমাদ, তারগীব, হা/১৬৪৮, পৃ. ৪৭০।

[16]. তিরমিযী, হা/৮৬৮; ইবনে মাজাহ, হা/১২৫৪।

[17]. তিরমিযী, হা/৯৬০।

[18].  শাফেঈ, ইওয়াউল গালীল, হা/১২১।